Main menu

এডিটোরিয়াল: বাকশালি ডিসিশান নাগরিকের এজেন্সিরেই আরেকবার বাইপাস করে মূলত

মজলুমের পক্ষে প্রত্যেকটা এক্টরে আনরিমার্কেবল প্রমাণ কইরা, ইনসিগনিফিকেন্ট তকমা দিয়া আপনে যতই জালিমের বিরোধিতা করেন না কেন, আদতে ওইভাবে জালিমের এক্টরে লেজিটিমাইজই করতে থাকেন ধাপে ধাপে।

পারভেজ আলম এই কাম করতেছেন ধারাবাহিকভাবে। তিনি মোদি আসার প্রতিবাদে গরু জবাই করারে ভিলিফাই করছেন। গরু জবাইকারিদের সাইকো সাব্যস্ত করতে চাইছেন। কেন মোদি বিরোধিতায় গরু জবাই করা যাবে না? সেই প্রসঙ্গে উনি যেইসব কথা বলছেন, তাতে বাংলাদেশে গরু জবাই করাই ইলেজিটিমেট হইয়া যায়। কইছিলাম ওই সময়, গরু জবাই যদি থাকে বাংলাদেশে মোদি বিরোধিতায় গরু জবাই না থাকতে পারার কোন এক্সক্লুসিভ কারণ নাই।

মাদ্রাসার ছাত্র খুন করার পর, উনিও কইতে থাকলেন হেফাজতের ইউজ করার কথা। ওই কর্মসূচি হেফাজতের ছিল না। মাদ্রাসার ছাত্রদের যে কোন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদরেও যখন ওই ইউজ করার নেরেটিভ দিয়া বোঝা লাগে, তখন আসলে ওই ছাত্রদের যে কোন সময় খুন করার রাইটই সরকারি বাহিনীর হাতে তুইলা দেওয়া হয়। মাদ্রাসার স্টুডেন্টদের খুনের প্রতিবিধানে কার্যত আর কোন পথই খোলা থাকে না এর পর। ওই নেরেটিভ এতটাই উবিকুইটাস।

আর এখন উনি, ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ দিয়া যে কোন লাভই নাই, ইসরায়েলের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার যে কোন মানেই নাই, সেই তত্ত্ব উৎপাদনে হাত দিছেন। প্রশ্নটা হইতেছে যেমনে সিভিল সমাজের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিছে বাকশালি জোচ্চোরগুলি সেইটা নেয়া যায় কিনা। এই প্রশ্ন টপকায়ে যখন- ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ রাইখা কোন লাভই নাই- এমন আলাপের অবতারণা ঘটে, তখন তখনই তার মধ্য দিয়া সরকারি ওই চোরা ডিসিশানের হালালিফিকেশন শুরু হয়। পারভেজ আলমের এই এপ্রোচ র‍্যান্ডম নয়; ধারাবাহিক। ফলেই সন্দেহজনক।

আর যদি আপনে লাভের কথাই চিন্তা করেন, মিডল ইস্টের ইসরায়েল-ফিলিস্তিনে কি হইতেছে না হইতেছে বাংলাদেশে বইসা বাংলাদেশের পিপল তাতে কখনোই প্রভাব ফেলতে পারবে না, পারে নাই; পারভেজেরা সত্তর-আশির দশকের কথা কন, আসলে ওই সময়ও এর কোন সিগনিফিকেন্স ছিলো না। ওই কনক্রিট সিগনিফিকেন্স দিয়া মাপার এইখানে কোন বেসিসই নাই। এর সিগনিফিকেন্স সব সময়ই সিম্বোলিক। এবং এই সিগনিফিকেন্স এখন আরও বেশি, যখন মিডলইস্টেও ইসরায়েলি জুলুমের একটা সার্বিক নর্মালাইজেশন শুরু হইছে, তখনও এর বিপক্ষে নীতিগত অবস্থান ধইরা রাখার বাংলাদেশী সিটিজেনদের যে কসম, সেইটা বিডির সিটিজেনদের এজেন্সিরে প্রিজার্ভ করার কসম মূলত। সেইখানে ইসরায়েলের লগে সম্পর্ক ঠিক করার বাকশালি ডিসিশান(কার্যত) নাগরিকের এজেন্সিরেই আরেকবার বাইপাস করতে চায়। পারভেজেরা বুইঝা হউক বা, না বুইঝা তারেই আবার নর্মালাইজ করতে লাগছে।

এই নর্মালাইজেশন দুইটা কাম করেঃ এক বাকশালের যে ‘দরমুজ টাইপ’ ডিসিশান নেয়ার স্ট্রাটেজি তারে কবুল কইরা লয়, এবং দুই সিটিজেনদের ন্যায় ও অন্যায়ের ফারাক করতে পারার যে অর্গানিক এবিলিটি তারে ধীরে এনিস্থেটাইজ করতে থাকে। দীর্ঘাবসারে এই দুইটার কোনটাই কাম্য হইতে পারে না যদি না কেউ নিঝুম মজুমদারবৎ ঘোর বাকশালি হইয়া থাকে। বাকশালিরা দেশের ‘মুসুলমান’দের ব্যাপারে খোলামেলাভাবেই দরমুজ টাইপ ডিসিশান নেয়ার পক্ষপাতি এখন। উনারা ইসরায়েলরে সাপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রেও ন্যায্যতার জায়গা নিয়া ভাবতে চায় না আর। এই লাইনে যেকোনো ভাবনারে আমাদের তাই রিচেক-রিভিউয়ের ভেতর রাখা দরকার, তা পারভেজ আলম, মানে দৃশ্যত নন-বাকশালি কেউ, ভাবলেও।

Continue reading

মারজুক রাসেলের কবিতা

………………………

।। চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো ।। অরণ্যভ্রমণ ।। মারজুক শা’র মাজার ।। হ্যান্ডিক্র্যাফট ।। মুরুব্বিরা ইন-লক পছন্দ করেন না ।। চিতাইপিঠা ।। মেয়েদের জিনিস ।। অল্টারনেটিভ ।। সেমি-ডাবল-লাইফ ।। বালিশ নিক্ষেপ ।। খরগোশ, সহনশীল উচ্চতা থেকে ।। ভাগ্যবান নামের একজন স্লিপ-ওয়াকার আমারে বলেছিল এইগুলো লিখে রাখতে ।। বৈবাহিক অবস্থা: □ অবিবাহিত □√ বিবাহিত ।।
………………………..

 

চাঁদের বুড়ির বয়স যখন ষোলো

আমি ইশকুলকে নাইনে পড়াই। লাইন (প্রেম!) করার চেষ্টা বলে ‘চালিয়ে যাও’… চালাতে গিয়ে বন্ধুকে দাঁড় করিয়ে তার সাইকেল, সাইকেল-আরোহণ, লক্ষ্য রিকশা, রিকশার মেয়েটা, মেয়েটার ইশকুল, ইশকুলের গেট থেকে দারোয়ানের তেল-চকচকে লাঠি আর রাগী চোখ দেখে ফিরে আসা। লুকিয়ে ধুমপান। পয়সা অনুকূল টাকায় উত্তীর্ণ হলে সিনেমা-হল, ফারুক-ববিতা। সেলুন দেখলেই ঢুকে পড়া, চুলসহ নিজেকে আঁচড়ে নেয়া। ‘প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ নোটিশের পুস্তিকা দেরত দিতে যাওয়া সন্ধ্যা, সন্ধ্যামালতী। টেক্কা-সাহেব-বিবি-গোলামের ব্যবহার শেখানো বয়োজ্যেষ্ঠদের পেছনে লেগে-থাকা রাত্রি, টুয়েন্টি নাইন, কলব্রিজ, ব্রিজ… । বাকি চাইবার আগে দোকানের বেড়ায় টাঙ্গানো ‘বাকী দেয়া বড় কষ্ট, বাকিতে বন্ধুত্ব নষ্ট’- লেখাটাকে মনেমনে আবজর্না-পর্যায়ে ছুঁড়ে ফেলা। বাবার পকেট, পকেট থেকে দুচারখানা ছোট নোট সরানো, ধরা পড়ে যাওয়া, আমার উপস্থিতিতে মাকে শুনিয়ে বাবার (বড় হলে চোর হবে) ভবিষ্যদ্বাণী । … কোন বাড়ির একতলা-দোতলা-তেতলা-চারতলা-পাঁচতলার বারান্দায় দিকটায় শুকোতে দেয়া যাবতীয় নারীপোশাকে দৃষ্টি আটকানো আমার ১৭, আমার অন্যায়…

মুরব্বিস্থানীয় নিকটজনেরা বয়সকে দোষ দেয়। বয়স আমাকে পুনরায় প্রশ্রয় দিয়ে বোঝায়- ‘চাঁদ ও তার বুড়ি, দুইজনেই কলঙ্কের সমান অংশিদার।’

 

অরণ্যভ্রমণ

মোটামুটি এক প্রবেশপথের
মুখে একটা ময়ূরী দেখে
ফিরে আসলাম বিভূতিভূষণ।

 

মারজুক শা’র মাজার

দম।
দমে মুক্তি, দমে পুণ্য
‘শূন্য আকাশ আকাশ শূন্য…’
জিকির বাড়বে আকাশ আকাশ,
তাহলেই সবুজসুমতি মৃতপ্রায় ঘাস।
দানবাক্স অক্সিজেন, প্রেম ছাড়া কিছুই গ্রহণ করে না।
হে-এএএই, অন্ধকারে কে যাচ্ছ? দাঁড়াও;
মারজুক শা’র মাজার সামনে-
‘শূন্য আকাশ আকাশ শূন্য…’ জিকিরটা বাড়াও।

 

হ্যান্ডিক্র্যাফট

‘যার কেউ নাই তার ‘হাত’ আছে’ –
এই বাক্য নিউজপ্রিন্টে
নীল কালিতে লেখার পরে
ঘি-রং আঠায় কে লাগালো
থুড়থুড়ে বটগাছে?
যার কেউ নাই তার হাত আছে!
‘যার হাত নাই, তার?’
সন্ত বলল, “আহাহহাহা…।’

Continue reading

তর্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কাজী নজরুল ইসলাম-প্রমথ চৌধুরী

এইরকমের একটা ধারণা তো এখনো আছে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যে ‘কাল্পনিক’ ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করেন বাংলাদেশের ‘সাম্প্রদায়িক মুসলমানরা’। কিন্তু উনারা দুইজনেই তো ছিলেন ‘অসাম্প্রদায়িক’, অ্যাজ ইফ উনাদের মধ্যে সাহিত্যিক কোন ডিফরেন্সও নাই! তো, এইটা আসলে সত্যি কথা না। একটা সময়ের মানুশ হিসাবে, একই এলাকার এবং একই ইন্টারেস্টের মানুশ হইলে পারসোনাল যোগাযোগ, ভক্তি-শ্রদ্ধা-সম্মান এইসব থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এইটা কখনোই না যে, উনারা একই আইডিওলজির লোক! রবীন্দ্রনাথ এবং কাজী নজরুল ইসলাম নিয়া এই ভুল ধারণা বাজারে এখনো কম-বেশি চালু আছে।

তো, এই তর্কের জায়গাটা দিয়া কিছুটা খেয়াল করা যাইতে পারে, উনাদের ডিফরেন্সের জায়গাটা কই ছিল, বা আছে? পয়লা কথা হইতেছে, এইটা খালি সংস্কৃত-শব্দ আর আরবী-ফার্সি শব্দের মামলা না, যেইটা প্রমথ চৌধুরী পরে বুঝাইতে চাইতেছেন, বরং ঘটনা’টা হইতেছে “পাবলিকের ফর-এ” আর “পাবলিকের এগেনেস্টে”। নজরুলরে রবীন্দ্রনাথ কইছেন, “… তোমাকে জনসাধারণ একেবারে খানায় নিয়ে ফেলবে” মানে, পাবলিকের লাইগা লেইখো না! পাবলিকরে কেয়ার কইরো না! পাবলিক তো ‘সাহিত্য’ বুঝে না! এইরকম। রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরীদের এই মত এখনো ডমিনেন্ট যে, ‘সাহিত্য’ করতে চাইলে পাবলিকের চিন্তা বাদ দিতে হবে। এখন এর এগেনেস্টে কাজী নজরুল ইসলাম যে ‘পাবলিক যা খায়’ সেই সাহিত্য করছেন বা করার কথা বলছেন – তা না; কিন্তু উনি ধরে নিছেন, সমাজে মানুশ আছে, মানুশ কবিতা পড়ে, গান শুনে, কবি হিসাবে সমাজের বাইরের মানুশ না উনি। মানুশ যেমনে কথা কয়, যেই জিনিস ভাবে, সেইগুলা আমার সাহিত্যে আসতে পারে, আসলে ভালো। এইরকম। এইটা হইতেছে বেসিক ডিফরেন্সের জায়গা।

সেকেন্ড হইতেছে, ‘সামাজিকতার ঘটনা’টা। সোশ্যাল পজিশনের ঘটনাগুলা আছে সমাজে এবং ‘কবি হওয়া’ ব্যাপারটাও এর বাইরে না। খালি নজরুলের গরিবি নিয়াই রবীন্দ্রনাথ আর উনার এলিট সঙ্গপাঙ্গরা ‘মৃদুহাস্য’ নামে টিটকারি মারছেন – তা না, খুঁজলে এইরকম টিটকারির নমুনা আরো পাওয়া যাবে। মানে, মিনিমাম একটা সোশ্যাল স্ট্যাটাস মেইনটেইন না কইরা ‘কবি’ ‘সাহিত্যিক’ তো হইতে পারবেন না আপনি সমাজে! হইলেও, অইগুলা আপনারে মাইনা নিতে হবে। জগদীশ গুপ্ত’র লগে আলাপেও এই জিনিস পাইবেন, আল মাহমুদের অটোবায়োগ্রাফিতেও এইসব রবীন্দ্র-বান্দরদের দেখা পাইবেন। যে, ‘কবি’ হিসাবে একটা এলিট ক্লাসের (মধ্যবিত্ত সমাজের) লোক আপনারে হইতে হবে, না হইলে অই ক্লাসের ‘রুচি’ মাইনা আপনারে চলতে হবে। কাজী নজরুল ইসলাম যে সেইটা করতে চান নাই – তা না, কিন্তু উনি ঘাড়-তেড়ামি করছেন। কারণ উনি জানেন, কলকাতার এই সাহিত্য-সমাজ উনারে কবি বানায় নাই, পাবলিকের কাছে উনি কবি হইছেন। এতে কইরা উনার কবিতা ভালো হইছে কি খারাপ হইছে – সেইটা ঘটনা না, কিন্তু উনার সিগনিফিকেন্সের জায়গাটা অইখানে। এই যে, সাহিত্য-সমাজ’রে ‘ছোট’ কইরা ফেলা – এইটা উনারা সহজে নিতে পারার কথা না, নেনও নাই উনারা। কাজী নজরুল ইসলামের এগেনেস্টে প্রপাগান্ডাগুলা এই সোশ্যাল পজিশনের জায়গা থিকাই আসছে বেশিরভাগ সময়।

থার্ড বা লাস্ট জিনিসটা হইতেছে যে, এর কোন সরাসরি দাবি আপনি পাইবেন না। বলা হবে, ছন্দ তো মিলে না! শুনতে তো ভালো লাগে না! নিয়ম তো নাই! এইরকম। মানে, ভিতরে ভিতরে, সাবভারসিভ লেবেলে এইটা চালু আছে, থাকতেছে সবসময়। কথা কইতে গেলে, বলা হবে, কই, এইরকম কিছু বলছি নাকি আমরা! বললেও এমনভাবে বলা হবে, যেন লজিক্যাল কিছু বলা হইতেছে, না-মাইনা কোন উপায় নাই, মানুশ যেন বাঁইচা আছে, কিছু নিয়ম মানার লাইগাই। এইরকম ভঙ্গিমাগুলার ভিতর দিয়া বরং বেশি টের পাওয়া যায় অপ্রেশনগুলা। আর যেহেতু কোন ‘প্রমাণ’ নাই বা গোপন কইরা ফেলা হয়, তখন বলাটা সহজ হয় যে, এইগুলা হইতেছে ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাবের’ ঘটনা। 

এইটা যে তা না, বাংলা-সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের যে আলাদা আলাদা ক্লেইম আছে, এই জায়গাটা এই তর্কের ভিতর দিয়া কিছুটা হইলেও ক্লিয়ার হইতে পারবে বইলা আমরা মনে করি। আর এইটা উনাদের পারসোনাল ভালো-সম্পর্ক বা খারাপ-সম্পর্কের কোন ঘটনা না, বরং সাহিত্যিক পজিশনের ঘটনা। 

আসেন, তিনটা লেখাই পড়ি!

ই.হা.

………………………

কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রবীন্দ্র-পরিষদের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ওয়াজ করেন। পরে সাপ্তাহিক “বাঙ্গলার কথা” পত্রিকাতে ২০ শে ডিসেম্বর ১৯২৭ (পৌষ ৪, ১৩৩৪) সালে এই লেখাটা ছাপা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অতি-আধুনিক বাঙ্‌লা সাহিত্য

এই পরিষদে কবির অভ্যর্থনা পূর্বেই হয়ে গেছে। সেই কবি বৈদেহিক; সে বাণীমূর্তিতে ভাবরূপে সম্পূর্ণ। দেহের মধ্যে তার প্রকাশ সংকীর্ণ এবং নানা অপ্রাসঙ্গিক উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত।

আমার বন্ধু এইমাত্র যমের সঙ্গে কবির তুলনা ক’রে বলেছেন, যমরাজ আর কবিরাজ দুটি বিপরীত পদার্থ। বোধহয় তিনি বলতে চান, যমরাজ নাশ করে আর কবিরাজ সৃষ্টি করে। কিন্তু, এরা উভয়েই যে এক দলের লোক, একই ব্যবসায়ে নিযুক্ত, সে কথা অমন ক’রে চাপা দিলে চলবে কেন।

নাটকসৃষ্টির সর্বপ্রধান অংশ তার পঞ্চম অঙ্কে। নাটকের মধ্যে যা-কিছু চঞ্চল তা ঝরে পড়ে গিয়ে তার যেটুকু স্থায়ী সেইটুকুই পঞ্চম অঙ্কের চরম তিরস্করণীর ভিতর দিয়ে হৃদয়ের মধ্যে এসে প্রবেশ করে। বিশ্বনাট্যসৃষ্টিতেও পঞ্চম অঙ্কের প্রাধান্য ঋষিরা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন– সেইজন্য সৃষ্টিলীলায় অগ্নি, সূর্য, বৃষ্টিধারা, বায়ুর নাট্যনৈপুণ্য স্বীকার ক’রে সব শেষে বলেছেন, মৃত্যুর্ধাবতি পঞ্চমঃ। ইনি না থাকলে যা-কিছু ক্ষণকালের তাই জমে উঠে যেটি চিরকালের তাকে আচ্ছন্ন ক’রে দেয়। যেটা স্থূল, সেটাকে ঠেলে ফেলবার কাজে মৃত্যু নিয়ত ধাবমান। যেটা স্থাবর,

ভয়াদস্যারিস্তপতি ভয়াত্তপতি সূর্যঃ। ভয়াদিদ্ৰশ্চ বায়ুশ্চ মৃত্যুৰ্ধাবতি পঞ্চমঃ॥

এই যদি হয় যমরাজের কাজ, তবে কবির কাজের সঙ্গে এর মিল আছে বৈকি। ক্ষণকালের তুচ্ছতা থেকে, জীর্ণতা থেকে, নিত্যকালের আনন্দরূপকে আবরণমুক্ত ক’রে দেখাবার ভার কবির। সংসারে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ অঙ্কে নানাপ্রকার কাজের লোক নানাপ্রকার প্রয়োজনসাধনে প্রবেশ করেন; কিন্তু কবি আসেন “পঞ্চমঃ’; আশু প্রয়োজনের সদ্যঃপাতী আয়োজনের যবনিকা সরিয়ে ফেলে অহৈতুকের রসস্বরূপকে বিশুদ্ধ ক’রে দেখাতে। Continue reading

তপু’র কবিতা

।। মোরালিটি বাঁচুক ।। কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতি ।। আমি আছি ।। ইতি ‘মোমেন্টাম’ ।। নয়া পারফিউমের গ্রান ।। শিলাবৃষ্টি ।। যেন একটা জীবন্ত লাশ না হইয়া যান ।।

……………….

 

মোরালিটি বাঁচুক

মোরালিটি কোনও বস্তু না,
মোরালিটি ডমিন্যান্ট ডিসকোর্সের
প্রভাবশালী চাকর।
একটা রাষ্ট্রের মোরালিটি বাচেঁ
মিডিয়ার কল্যানে।
একটা সরকার মানে
একটা ডমিন্যান্ট ডিসকোর্স।
মিডিয়া মানে মোরালিটি,
আমাদের সরকার
মিডিয়ারে চাকর বানাইয়া রাখে।
যেন মিডিয়া এক
প্রভাবশালী চাকর।
লাগে যেন তারা সরকারের দাস।
আর যারা দাস না
সরকার তাদের গলা ঠিইপা ধরে।
দাস বানায়।
যেন মিডিয়া;
সরকারের কেনা গোলাম।
মিডিয়ার না কত পাওয়ার?
কিন্তু দেখেন!
দিনশেষে তারা সরকারের চাকর-ই।
তাই আমাদের একটা মিডিয়া দরকার
যারা মোরালিটি’র যত্ন নিবে।
এবং কয়েকটা জার্নালিস্ট;
মিডিয়া এবং শমাজ’রে
উদ্ধার করবে।
তাই মোরালিটি ফিরা আসুক
জার্নালিস্ট-মিডিয়াদের উছিলায়।
মোরালিটি ফিরা আসুক
জীবন-মরণের তাগিদে।
যেন আমরা মোরালিটিরে বাঁচাইয়া রাখতে পারি।
তাই মোরালিটি বাঁচুক।

 

কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতি

শরীরে আমার মধ্যাহ্নের ঘ্রাণ,
নক করতেছি গাঁওয়ের প্রত্যেকটা দরজায় দরজায়
খুঁজতেছি কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতি
কৃষ্ণবর্ণ মেঘ আর তীব্র বিদ‍্যুৎরেখায়
আধো আলোছায়া মাখা গাঁওটা জাইগা উঠে,
ভাইসা ওঠে যাপনচিত্র।
কিন্তু খোঁজাই সার,
ভাঙা সাইকেল, বিয়ারিং-গাড়ি, অফুরন্ত চোখের জল,
কার্ণিসে চোঁয়ানো বৃষ্টি, আধিরাইতের বাঁশির সুর।
হায়! সব হারাইতেছি,
খুঁজতে খুঁজতে প্রায় স্তব্ধতা।
দুপুর গড়াইয়া সন্ধা নামে।
কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতি জোড়া দিতে দিতে
আমি নিবিড় ভালবাসার শিকড়ে পা জড়াইতেছি।
খুঁজতেছি পরম আশ্বাসে ভরা সূর্যাস্তের মেঠো চেনা পথ।
গাঢ় মমতায় জাইগা থাকা রাত আমায় শুশ্রূষার আশ্বাস দেয়।
রুগ্ন দুইহাতে খুঁজতেছি কয়েকটা ভিন্ন ভিন্ন স্মৃতি,
যেখানে আমার জন‍্য অপেক্ষায় মুঠোভরা আলো,
আর আশ্চর্য আনন্দের ইশারা।

Continue reading

রাখে আল্লাহ মারে কে? – ভাসানীর বাণী (১৯৭২)।

সাপ্তাহিক হক-কথা পত্রিকায় “ভাসানীর বাণী” নামে একটা কলাম ছাপা হইতো। এই লেখাটা হক-কথা পত্রিকার ২৯শ তম সংখ্যায়, ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখে ছাপা হইছিল। লেখাটা উনার জবানেই লেখা। হইতে পারে, উনি বলছিলেন, বলার পরে অন্য কেউ লেইখা রাখছিলেন। মানে, এইটারে মওলানা ভাসানীর লেখা বইলাই আমরা নিতে চাইতেছি। 

এই লেখাতে মাওলানার ক্লেইম মেইনলি দুইটা। এক হইতেছে, দেশের অবস্থা নিয়া বলা। আরেকটা হইতেছে, নিজের পলিটিক্যাল পজিশন নিয়া বলা। মুক্তিযুদ্ধের তখনো ৯ মাস পার হয় নাই। মওলানা বলতেছেন, বৃটিশরা যেইরকম শোষণ করছে, পশ্চিম পাকিস্তান যেইরকম শোষণ করছে, এইরকম শোষণ করতেছে ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়ার তাঁবেদারি ঠেকাইতে হবে। এখন উনি যেহেতু এই কথা কন, উনারে বানানো হইছে, চায়নার দালাল। এই অপবাদ দিতেছেন মনি সিং আর প্রফেসর মোজাফফর। মওলানা নিজেরে কমিউনিস্ট না বইলা বলতেছেন মুসলমান। এই মুসলমানরে তখনো কমিউনিস্টরা নিতে পারে নাই, এখনো যেই ‘বিপ্লবী’ পরিচয় দিতে চায়, সেইখানেও অনেক ‘তবু’ কিন্তু’ ‘তারপরও’ আছে। মওলানারে আগে নেয়া যাইতো না, আর এখন একটা ‘বিপ্লবী সম্ভাবনা’ হিসাবে কনজিউম করা সম্ভব হয়, চে গুয়েভারার মতো।

তো, ভাসানী’র এই স্টেটম্যান্ট ইম্পর্টেন্ট একটা পলিটিক্যাল ডকুমেন্ট। পক্ষ-বিপক্ষের বাইরে, আজকে ৫০ বছর পরে আইসা আরেকবার পড়াটা দরকার আমাদের। পড়েন!   

ই.হা.

…………………….

সোনার বাংলাকে শ্মশান করিয়াছে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ সরকার ও পশ্চিম পাকিস্তানের জালেম ও শাসক গোষ্ঠি সরকার। কিন্তু, গত ৯ মাসে বন্ধুত্বের নামে হিন্দুস্তানের সৈন্যগণ ও আন্তার্জাতিক খ্যাতনামা মাড়োয়ারী এবং অন্যান্য শ্রেণীর চোরাকারবারীগণ বাংলাদেশের সোনা-রূপা, রেডিও-টেলিভিশন, মূল্যবান পাট, সরিষা, কলাই, তিল কালজিরা, মাছ, তরীতরকারী, স্কুল-কলেজের লাইব্রেরীর বই পুস্তক, বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণামূলক দুলর্ভ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান আসবাবপত্র, পিতল, তামা কাসার তৈলসপত্র, ভেড়া-বকরীর চামড়া ইত্যাদি এবং বাংলাদেশে যুদ্ধের জন্য যে সমস্ত মূল্যবান সমরাস্ত্র ছিল তাহার মোট মূল্য আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না হইলেও পাকিস্তানের শোষক গোষ্ঠী গত ২৩ বসরে বাঙ্গালীদিগকে শোষণ করিয়া যেই পরিমাণ ধন-সম্পত্তি পশ্চিম পাকিস্তানে লইয়া গিয়াছিল তাহার চেয়ে শত শত গুণ বেশী নিয়াছে ইহা বলিলে মোটেই সত্যের অপলাপ হইবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে যে ভয়াবহ খাদ্য ও অর্থ-সংকট দেখা দিয়াছে তাহার নজির বাংলার ইতিহাসে মোটেই পাওয়া যাইবে না। বৃটিশ সরকারের আমলে চাউল ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মূল্য যাহা ছিল পাকিস্তান সরকারের আমলে তাহার চেয়ে তিন চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা বাংলাদেশে আপামর জন সাধারণ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সভা সমিতি, ভুখা-মিছিল, ধর্মঘট ইত্যাদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে করিয়াছে। ইহার দরুন পাকিস্তান সরকার ক্ষিপ্ত হইয়া কখনও কখনও জন নিরাপত্তা আইনের নামে পুলিশী জুলুমের দ্বারা হাজার হাজার ছাত্র-যুবক-কৃষক-শ্রমিককে বিনা বিচারে কারাগারে রাখিয়া কষ্ট দিয়াছে। কিন্তু বড়ই দুঃখের ও পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের ও আওয়ামী লীগ সরকারের বহু কর্মকর্তাগণ পাকিস্তানের সরকারের নির্মম অত্যাচার ভোগ করা সত্বেও বর্তমানে তাহারাই বিরোধী দলকে ভুয়া আইনের দোহাই দিয়া এবং বাংলার স্বাধীনতার মহা শত্রু বলিয়া বিরোধীদেরকে জনসাধারণের নিকট হেয়-প্রতিপন্ন করিবার জন্য দিবারাত্রি মিথ্যা প্রচার চালাইয়া যাইতেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু নিরপরাধ মানুষকে আহত-নিহত করিয়াছে। কালিহাতী থানার ভুখা মিছিলের উপর অতর্কিতে গুন্ডা লেলাইয়া দিয়া কাগমারীর মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের ছাত্র খলিলুর রহমানকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করিয়াছে। অন্যান্য স্থানেও অনুরূপ আক্রমণ হইতেছে এবং ভবিষ্যতে বিরোধী দলকে সম্পূর্ণ নির্মূল করিয়া ফেলিবে বলিয়া ভয় প্রদর্শন করিতেছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠান ও সরকার প্রচার করিয়া বেড়াইতেছে যে, বাংলাদেশে তাহারা খাঁটি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করিয়া কিছুতেই ছাড়িবে না। তাঁহাদের কথা ও কাজের ভিতর আসমান ও জমিন পাথর্ক্য ইহা আজ বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগের লুটপাট সমিতির মন্ত্রী-মেম্বর যাহার গত ৯ মাসে রিলিফের মালামাল ও অবাঙ্গালীদের পরিত্যাক্ত সম্পত্তি আত্মসাৎ করিয়া লক্ষ টাকার মালিক সাজিয়াছেন তাহার ব্যতিত সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিবে। আওয়ামী সরকার ও প্রতিষ্ঠান বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ সরকার, পাকিস্তানের স্বৈরাচারী কনভেনশন মুসলিম লীগ সরকার প্রভৃতি ভূতপূর্ব সরকার সমুহের চেয়ে অনেক বেশী স্বজন-প্রীতি, দুর্নীতি, চোরাকারবারী ইত্যাদি সমাজ বিরোধী কাজে উন্নতি লাভ করিয়াছে। বিশেষ করিয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দেশের আপামর জনতার বাক স্বাধীনতা হরণ করিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছে। সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেহ কিছু বলিলে তাহাকে চিরকালের জন্য দুনিয়া হইতে বিদায় করিয়া দেওয়া হইবে বলিয়া লুটপাট সমিতির মেম্বর সাহেবানেরা ভয় প্রদর্শন করিয়া বেড়াইতেছে।

এখন সময় থাকিতে আওয়ামী লীগ সরকার রাশিয়া, হিন্দুস্থান, আমেরিকা প্রভৃতি বিদেশী রাষ্ট্র যাহাদিগকে আপনারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলিয়া মনে করেন, তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব করিতে থাকুন তাহাতে আমাদের কোনই আপত্তি নাই। কিন্তু বন্ধুত্বের নামে বাংলাদেশে স্থায়ী প্রভুত্ব কায়েমের জন্য যে ভাবে শোষণের যাতাকলে পিষিয়া আমাদিগকে মৃত্যুর স্থলে উপস্থিত করিয়াছেন তাহা উপলব্ধি করিয়া সত্বর বিদেশীদের প্রভুত্বকে অস্বীকার করিয়া স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করিতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করুন। অন্যথায় বাংলাদেশের কৃষক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, মাঝী, তাঁতী ঐক্যবদ্ধ হইয়া বিদেশী শত্রু ও চোরাকারবারীদিগকে চিরকালের অন্য বাংলার মাটি হইতে উৎখাত করিবেই–করিবে।

বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের রাজত্বে সূর্য অস্ত যাইত না বলিয়া প্রবাদ ছিল। এ সরকারকেও বাংলার মাটি হইতে উৎখাত করিতে বাঙ্গালীরাই প্রথম জেহাদ আরম্ভ করিয়াছিল। জনগণ বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বন্দুক ও কামানের ভয়ে ভীত হইয়া কখনও স্বাধীনতার আন্দোলন পরিত্যাগ করে নাই। হিন্দুস্থান, রাশিয়া, আমেরিকার শক্তির উপর নির্ভর করিয়া বর্তমান বাংলাদেশ সরকার যতই হুঙ্কার দিক না কেন ইনশাল্লাহ বাঙ্গালীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করিতে কোন কিছুতেই ভয় পাইবে না। হিন্দুস্তান ও অন্যান্য দেশের একচেটিয়া বাজার বাংলাদেশকে কিছুতেই হইতে দিবে না। হিন্দুস্তান অথবা অন্য কোন দেশের একজন সৈন্যকেও বাঙ্গালিরা বাংলাদেশের মাটিতে স্থান দিবে না। 

এক শ্রেণীর স্বার্থপর লোক যাহারা লুটপাট করিয়া গত ৯ মাসে সোনার বাংলাকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত করিয়াছে তাহারই বলিয়া বেড়াইতেছে ‘ভুখা মিছিল করে যারা স্বাধীনতার শত্রু তারা’, ‘ভুঘা মিছিল করে যারা চীনের দালাল তারা’। 

চীনের সঙ্গে আমার, আমার কৃষক সমিতি ও ন্যাপ পার্টির কোন সংশ্রব নাই। আমি বারবার বলিয়াছি চীন সবার ভেটো দিয়া বাংলার জনমতকে অস্বীকার করিয়াছে। আমি ইহার জন্য সংবাদপত্রেও তীব্র প্রতিবাদ করিয়াছি। চীন দেশে অতি প্রথম শেখ মুজিবর রহমান, আতাউর রহমান খান, মানিক মিঞা ভ্রমণ করিতে যায়। আমি তখন ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে আবদ্ধ ছিলাম। তাহারা ফিরিয়া আসিয়া ‘চীনে কি দেখে এলাম” বলে যে বর্ণনা – সংবাদপত্রে দিয়াছিল তাহাই পাঠ করিয়া প্রথম চীন সম্পর্কে অবগত হই। দ্বিতীয়বার যখন মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চীনে যান এবং সেখান হইতে ফিরিয়া চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইকে স্বাগতম জানাইয়া ঢাকার পল্টন ময়দানে যে ঐতিহাসিক সত্য কলেন তাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিঃ শহীদ সোহরাওয়ার্দী চীৎকার করিয়া শ্লোগান দিয়েছিলেন চৌ এন লাই জিন্দাবাদ, চীন পাকিস্তান ভাই ভাই। 

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →