Main menu

সেল্ফ-রেসপেক্ট: এইটার সোর্স, এইটার পাওয়ার – জোয়ান ডিডিওন

কোন এক শুকনা মৌসুমে, একটা নোটবুকের দুই পাতা জুড়ে বড় বড় অক্ষরে আমি একবার লিখছিলাম যে, নিজেরে পছন্দ করার ভুল ধারণা থেকে যখন একজন বের হয়া আসে, তার ইনোন্সেন্স তখন ওইখানেই শেষ হয়া যায়। অবশ্য এখন কয়েক বছর পর আমি অবাক হয়া ভাবি, একটা ব্রেইন, যে কীনা নিজের সাথেই ক্যাচাল করতেছে, তার তো খেয়াল কইরা প্রত্যেকটা নড়াচড়ার রেকর্ড রাখা উচিত। আমি লজ্জার সাথে এই বিশেষ অংশগুলার কথা স্পষ্ট কইরা মনে করি। এইটা একটা মিসপ্লেসড আত্মসম্মানের ব্যাপার ছিল।

আমারে ‘ফাই বেটা কাপা’তে (ইউনিভার্সিটির সরোরিটি হাউজ) নেওয়া হয় নাই। এই না নেওয়ার ব্যাপারটা আসলে খুবই প্রেডিক্টেবল ছিল (আমার অত ভালো গ্রেড ছিল না), কিন্তু তাতে আমার তেমন কিছু একটা যায় আসে নাই। আমি নিজেরে এক ধরণের অ্যাকাডেমিক রাসকলনিকভ (ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট নভেলের চরিত্র) মনে করতাম, যে কীনা মানুষের জন্য খারাপ এমন কজ-ইফেক্ট সম্পর্কগুলা থেকে অদ্ভূতভাবে ছাড় পাইয়া যাইত। যদিও সিচুয়েশনটা একটু হইলেও স্কট ফিটজেরাল্ডের প্রিন্সটন ট্রায়াংগেল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট না হইতে পারার ট্র্যাজেডির ধারে কাছে গেছিল, তবুও, যেই দিন আমি ফাই বেটা কাপাতে ঢুকতে পারি নাই ওইদিন কিছু একটা শেষ হয়া গেছিল- মনে হয় আমার ইনোসেন্স। আমার যে আশা ছিল যে আমার জন্য লাইটগুলা সব সবুজ হয়া যাবে, ছোট থাকতে যেইসব ছোটখাট গুণ আমারে প্রশংসা জুটাইত, আমি শিওর ছিলাম ওইসব গুণ দিয়া আমি শুধু ফাই বেটা কাপাই না- সুখ, সম্মান আর একজন ভালো মানুষের ভালোবাসা পাইতাম (ক্যাসাব্ল্যাংকা এর হামফ্রি বোগার্ট আর প্রক্সি ফাইটের জন্য বিখ্যাত মার্চিসন ভাইদের একজনের ক্রস হইলে ভালো হইত)। ভালো ম্যানার, পরিষ্কার চুল, স্ট্যানফর্ড-বিনেট স্কেলে (আইকিউ টেস্ট) ভালো রেজাল্ট করা- এইসবের উপর আমার যে বিশ্বাস ছিল, সব উইঠা গেল। আমার সেল্ফ-রেস্পেক্ট এত নাইমা গেল যে সেইদিন আমার নিজেরে ওই মানুষটার মত হতবাক লাগল, যে সামনে ভ্যাম্পায়ার দেখছে কিন্তু নিজেরে বাঁচানোর জন্য তার কাছে কোন রসুনের মালা নাই।

যদিও নিজেরে পিছে সরায়া নেয়া একটা আনইজি ব্যাপার- যেন কেউ ধার করা পাসপোর্ট দিয়া বর্ডার ক্রস করার চেষ্টা করতেছে- অবশ্য আমার কাছে এখন মনে হয় আসল সেল্ফ-রেস্পেক্টের সব শুরুওয়াতের জন্য নিজেরে সরায়া নেয়ার শর্তটা জরুরি। আমাদের সব ক্লিশে কথার পরেও নিজের সাথে ধোঁকাবাজিটাই সবচেয়ে কঠিন ধোঁকাবাজি রয়ে যায়। অন্যদের উপর যেই চার্মগুলা কাজ করে এইগুলা নিজের আন্ধার মনের আঁধারের অলিগলিতে চলে না – এইখানে কোন হাসি দেখে মন গলে না, সুন্দর করে লিখা ভালো নিয়তের লিস্টও পাত্তা পায় না। ব্যাট মাস্টারসনরে (প্রফেশনাল জুয়াড়ি) গেইমে জয়েন করতে দেখে একজন চোরা ফ্যারো ডিলারের (এক ধরণের কার্ড গেম) শাফল করার স্পিডের মতই, একজন খুব দেখায়ে দেখায়ে শাফল করবে, কিন্তু তার কার্ডগুলা সব চিটিংয়ের জন্য মার্ক করা। ভুল জিনিসের প্রতি দয়া দেখানো, একটা জিত যেইটার পিছে কোন কষ্ট করা হয় নাই, কাউরে লজ্জা দিয়া তারে দিয়া কোন ভালো কাজ করানো। কষ্টের কথা হইলো, সেল্ফ-রেস্পেক্টের সাথে অন্যের অ্যাপ্রুভালের কোন সম্পর্ক নাই। অন্যদের তো আখেরে খুব সহজেই ধোঁকা দেওয়া যায়। সেল্ফ-রেস্পেক্টের সাথে রেপুটেশনেরও সম্পর্ক নাই – রেপুটেশন নিয়া রেট বাটলার স্কারলেট ও’হারা (গন উইথ দা উইন্ড এর চরিত্র) কে বলছিল যে সাহসী মানুষদের এইটা লাগে না।

অন্যদিকে, যার সেল্ফ-রেস্পেক্ট নাই, সে হইলো একটা ননস্টপ হোম মুভির একজন অনিচ্ছুক অডিয়েন্স। এই মুভি একজনের আসল আর কল্পনার ব্যর্থতার উপর বানানো- আর যতবারই দেখানো হয়, প্রত্যেকবার নতুন কইরা ফ্রেশ ফুটেজ যোগ হয়। ওইযে, ওই গ্লাসটা তুমি রাগ কইরা ভাইঙ্গা ফেলছিলা, ওইযে অমুকের চেহারায় কষ্ট, এখনই দেখ, নেক্সট সিনে তমুক হিউস্টন থেকে ফেরত আসছিল, দেখ, কেমনে তুমি সবকিছু নষ্ট করছিলা। সেল্ফ-রেস্পেক্ট ছাড়া থাকা মানে কোন এক রাতে গরম দুধ, ফেনোবারবিটাল (ঘুমের ঔষধ) ছাড়া শুয়ে থাকা, কাঁথার উপর ঝিম ধরা হাত- ইচ্ছা-অনিচ্ছা থেকে করা পাপগুলা, যে ভরসাগুলা ভাংছিলেন, যে প্রমিজগুলা রাখেন নাই, যে গিফটগুলা আইলসামি, কেয়ারলেস হওয়ার কারণে নষ্ট করছিলেন, এইগুলার হিসাব করা। আমরা যতই এই ব্যাপারটাতে দেরি করি, একসময় না একসময় ওই কুখ্যাত নিজের গুছানো আনকম্ফোর্টেবল বিছানাটায় একা শুই। এইটাতে আমরা ঘুমাইতে পারি কি না সেইটা নির্ভর করে আমরা নিজেদের রেস্পেক্ট করি কি না সেইটার উপর।

আপনারা বলতে পারেন, তাও তো সেল্ফ-রেস্পেক্ট ছাড়া কিছু অসম্ভব কিসিমের মানুষ দেখা যায় যারা খুব প্যারা ছাড়াই আরামে ঘুমাইতে পারে। এইটা বলা মানে মূল পয়েন্টটাই মিস করা। আপনি যদি ভাবেন যে কারো আন্ডারওয়্যারে সেফটি পিন না থাকার সাথে সেল্ফ-রেস্পেক্ট রিলেটেড, এইটাও একইভাবে মূল পয়েন্ট মিস করে। একটা কমন কুসংস্কার আছে যে “সেল্ফ-রেস্পেক্ট” এক ধরণের সাপুড়ের বাঁশি, যেইটা থাকলে একটা বেহেস্তি ভাব ফিল হয়, অপছন্দের বাতচিত আর বিপদ-আপদ থেকে বাঁচা যায়। এইসব একদমই হয় না। জিনিসপাতির চেহারার সাথে এইটার লেনদেন নাই। এইটা একটা আলাদা ধরণের শান্তি, একটা প্রাইভেট রিইউনিয়ন। যদিও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইন সামারা এর কেয়ারলেস, সুইসাইডাল জুলিয়ান ইংলিশ, আর দা গ্রেট গ্যাটসবি এর কেয়ারলেস, অসৎ জর্ডান বেকার দুইজনরেই সেল্ফ-রেস্পেক্টের অসম্ভব ক্যান্ডিডেট লাগতে পারে- এই সেল্ফ-রেস্পেক্ট কেবল জর্ডান বেকারের ছিল, জুলিয়ান ইংলিশের ছিল না। মানায়া নেয়ার যে ক্ষমতা পুরুষের চেয়ে বেশিরভাগ নারীর মধ্যে দেখা যায়, ওইটা দিয়া জর্ডান নিজেই নিজেরে বুইঝা নিছিল, নিজের সাথে আপোষ করছিল। যেই থ্রেটগুলা সেই আপোষরে নষ্ট করতে আসছিল, সেইগুলারে অ্যাভোয়েড করত। ও নিক ক্যারাওয়ে রে কইছিল, “আমি কেয়ারলেস মানুষজনরে হেইট করি। এক হাতে তালি বাজে না।” Continue reading

অবিচুয়ারি

কিম কি দুক

ডিসেম্বর ১১, ২০২০

কিম কি দুকে’র আরিরাং সিনেমাটা ভাল্লাগছিলো। অটো-বায়োগ্রাফিক্যাল ডকুমেন্টারি। তখন লিখছিলাম, মানুশ নিজেরে তার আশ-পাশ দিয়াই বুঝার ট্রাই করে।

“স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার… অ্যান্ড স্প্রিং” ভাল্লাগে নাই, কারণ কোন লাইফই কোন আইডিয়ারে রি-প্রডিউস করে না বা কনফার্ম করে না, বরং কোন আর্ট যদি আইডিয়ার ভিতর দিয়া লাইফরে দেখার অভ্যাস করাইতে চায় সেইটা যে ‘বাজে আর্ট’ এইটা মানতে উনি পুরাপুরি রাজি হইতে পারেন নাই। হেসিটেট করছেন, কিন্তু এর বাইরে না যাইতে পারার হাঁসফাঁসটা মেবি এড়াইতে পারেন নাই। কিন্তু ব্যাপারটা তো বাজেই, অস্বস্তিকর অর্থে না, একটা রিডিউসিং ফর্ম হিসাবেই।

ব্রেথ সিনেমাটার কথা মনে আছে। উইয়ার্ড ব্যাপারটা তো উনার মধ্যে খুবই ইন-বিল্ড একটা জিনিস। যেইটা লোকজন এপ্রিশিয়েটও করে। যেই জিনিসটা ভাবছি, দুয়েকজনরে হয়তো বলছিও, কিন্তু ‘লিখিত’ করা হয় নাই, সেইটা হইতেছে, সাউথ কোরিয়ার ইকনোমিক গ্রোথের প্রেশারের সাথে এই দমবন্ধ অবস্থার একটা রিলেশন থাকার কথা। মানে, যে কোন আর্টই সোসাইটির বাইরের কোন ঘটনা না, বরং কেমনে কানেক্ট করতেছে, কোন জায়গাগুলারে রিলিভেন্ট কইরা তুলতেছে, সেই ব্যাপারগুলা আছে বা থাকে। কিন্তু অইটুকই আর্ট না আর কি!

কিম কি দুকের প্যাশনটাই উনার স্ট্রেংথের জায়গা। বোবা একটা প্যাশন। আওয়াজ বেশি, কিন্তু কথা কম। মানে, ডায়ালগ তো মোটামুটি নাই-ই উনার সিনেমায়।

যা-ই হোক, উনার বোবার ঘূর্ণিতে উনি যে দুনিয়ারে বান্ধছিলেন, সেইটাতে কয়েক জেনারেশনের লোকজন নিজেদের বোবা-প্যাশনগুলা নিয়া যে জড়ো হইতে পারছে বা পারবে, সেইটা নিয়া উনি খুশি না হইলেও বেজার না মনেহয়।…

রেস্ট ইন পিস ইন ইউর ইটারনাল এগনি (agony)!

অ্যানিইগং (annyeong)!

Continue reading

রাবিয়া সাহিন হকের কবিতা

প্রিন্টের শাড়ি
~

বিষ্টির পরে এতটাই নরম হয়ে আছে মন
যেন ধান রোয়া যাবে এখন….
তোমারে ডাকার মতন স্বর জেঁকে আছে চাতকের গলায়।
মেঘ মেঘ করা এইসব দিনে
তোমার ঘুম হয়ে থেকে যাই আমি
ঘুম নাই যার জানলায় মুখ—

জানি না জন্ডিস হইছে কি না
চুনগলা পানিতে কখনো বামনী এসে ঘষলো না ত গা।
কত রছম যে আছে গেরামে—
বুবুরে,
হলুদ পানি কি কখনো গা বেয়ে নামবে না পায়ে?
দেশী মুরকা যেরকম বাড়ির কিনারেকানারে খুঁটে খুঁটে বিছরাইতে থাকে আদার, আমিও তারে—
যেন জীবনটাই এক শবে কদরের রাইত।
যেন আঙুলের কড়ে কড়ে বেজোড় অংকের ভিতরেই আমরা চক্কর মারতেছি।

অন্ধকার গায়ে মেখে
আড়াআড়ি পার হয়ে যাইতে যাইতে কখন যে একটা ধাড়ি বোনা হয়ে যায়—
যা বিছায়ে ব্যাঙের মতন বসে থাকা যায় উঠানে
যেখানে পানি জমে না বরং ছামারা ছড়ায়ে ছিটায়ে গায়ে জড়ায়ে থাকে—
যেন বুবুর গায়ে থাকা প্রিন্টের শাড়ি।


হুদহুদ পাখি

~
তোমার লগে
কথা কইতে নিলে
ভিতরে এমন
বাতাস বাতাস করে
আমার ইমোশানগুলা
গোলাপি গোলাপি
অর্মতলের ফুলের মতন
ঝরঝরায়ে পড়ে…
ঘনজঙ্গলে
সন্ধ্যার মতন তুমি
আমি হুদহুদ পাখি এক
মিথ না কী!
বুয়াজিদের মনে
যেন শোক হয়েই থাকি…


মেহেদীর রঙ

~
চোখেমুখে এমন অন্ধকার—
তবু অসংখ্য তারা যেন বুলেটের মতন ফুটে আছে গায়ে
যেন চানরাইত, চাঁদ না দেখেও ঈদ আসে যেমন—

ঈদ ভেবে ভেবে
আইসক্রিমের মতন গলতে থাকা উত্তাপে
একটু কি হাসবো আমি?
একটু কান্দন—?
রইদ আর বিষ্টির মিশেলে যে ঝড় আসে জৈষ্ঠে তেমন—
ছুটাছুটি আর
উড়তে থাকা ওড়না বারবার তুলতে থাকা মাথায়
খোঁপা খুলে কে যেন মমতায়
শ্যাম্পুর ঘ্রাণ ছড়ালো কাঁঠালতলায়…

আম্মার ফোন বাজতে বাজতে সানাই হয়ে গেলো!

নতুন কাপড়ের ভাঁজ খুলতে খুলতে দেখি,
এমন ছলছল একটা মুখ
যেন কোলে কোন শিশু শুয়ে আছে!

দুয়ারে বসে কে যেন মোড়া বানায়
গাইশ্যা ছোলে দরুদের সুরে

কুটুম পাখির ডাকে
আমতা বানায়ে তুলে তুলে রাখে

অচ্ছুৎ স্নেহেই—পাতার মত এমন ঘন হয়ে থাকে কাছে
ও খোদা! দূরে গেলেও ওরা মিশে থাকে যেন—
যেমন মিশে থাকে নখে মেহেদীর রঙ…

Continue reading

কাফকা’র গল্প

[সবগুলা গল্পই নেয়া হইছে কাফকার “Betrachtung” বইটা থেইকা। Betrachtung মানে Contemplation / Meditation / ধ্যান। গল্পগুলা Willa and Edwin Muir এর ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হইসে।]

 

আচানক হাঁটতে বাইর হওয়া

যখন এইটা ক্লিয়ারকাট বুঝা যাইতেছে যে আজকের সন্ধ্যাটা আপনে ঘরের মধ্যেই কাটাইবেন, যখন ঘরের ড্রেস আপনে অলরেডি গায়ে দিয়া দিছেন, আর প্যাটে কিছু খাওয়াদাওয়া যাওয়ার পরে টেবিলে বাতি জ্বালাইয়া ঐ কাজটা বা খেলাটা নিয়া বসছেন – ঘুমাইবার আগে যেইটা নিয়া ইউজুয়ালি বসেন, বাইরের ওয়েদারও খুবেকটা সুবিধার না হওয়াতে ঘরে থাকাটাই নেচারাল, এবং আপনে টেবিলে বসার পরে অলরেডি এতক্ষণ হইয়া গেছে যে এখন আপনের ঘর থেইকা বাইর হওয়াটা ঘরের সবার কাছে একটা তাইজ্জব ব্যাপারই মনে হবে, তার উপর সিঁড়ির লাইটগুলাও বন্ধ করা হই গেছে, সামনের গেটও তালামারা, এবং এই সব সত্ত্বেও আচানক যদি চাগাড় দিয়া উইঠা পড়েন, কাপড় বদলাইয়া রাস্তায় নামার জন্য নিজেরে রেডি করেন, বাসার লোকেদের জানান যে আপনের এখন বাইর হইতে হবে মাস্ট, কাঁটাকাঁটা কথায় সংক্ষেপে “যাইতেছি” ধরনের কথাটথা বইলা দ্রুত বাইর হইয়া পড়েন, পিছনে দরজাটারে এত জোরে ধরাম কইরা লাগাইয়া আইসা পড়েন যা – আপনে যতটা বিরক্তি পিছনে থুইয়া যাইতেছেন তার লগে সমানুপাতিক, তারপরে যখন নিজেরে রাস্তায় আবিষ্কার করেন এবং আপনের হাত – ঠ্যাং গুলা এই আচানক মুক্তির আনন্দে হালকা হইয়া আসে আর দোলনার মতো দুলাদুলি করে, এইরকম একটা ডিসাইসিভ একশান নিতে পাইরা আপনে ফিল করতে পারেন – আপনের ভিতরে জমা আছে ডিসাইসিভ একশান নিতে পারার সমস্ত ক্ষমতা, যখন নরমাল সময়ের চাইতে অনেকবেশি জোরালো বিশ্বাসে আপনে জানেন যে দ্রুততম কোনো বদল ঘটাইয়া ফেলা আর সেইটার সাথে খাপ খাইয়া নেয়ার শক্তিসামর্থ্য আপনের আছে যতটা দরকার তারচেয়েও বেশি পরিমাণে, যখন এইরকম চমৎকার একটা মানসিক দশা নিয়া আপনে ছুটে যাইতেছেন লম্বা রাস্তাটা ধরে – তখন, অন্তত একটা সন্ধ্যার জন্য আপনে কমপ্লিটলি মুক্ত হইতে পারলেন ফ্যামিলির প্যারাগুলা থেকে – ঐগুলা এখন ফেইড হইতে হইতে চলে যাইতেছে আনরিয়েল এর ভিতর, আর আপনে নিজে লাভ করতেছেন নিজের আসল শেইপ আর সাইজ, এখন আপনে একটা পরিষ্কার কৃষ্ণ রঙের ছায়ামূর্তি, নিজের থাইয়ের উপর একটা থাপ্পড় মাইরা যে আবার নতুন উদ্যমে সামনে আগাই যাইতেছে।

এবং, আরো দারুণ ব্যাপার হবে যদি এই রাতে কোনো বন্ধুরে খুঁইজা বাইর করেন, আর তার দিনকাল কেমন যাইতেছে সেইসবের খোঁজখবর নেন।

 

শপথনামা

বিশ্রি এই কুয়ার ভিত্রে থেইকা নিজের মনটারে টাইনা বাইর কইরা আনাটা, এমনকি খালি ইচ্ছার শক্তির দ্বারাই যদি তা করা লাগে, তাও অত কঠিন কিছু না। এইযে আমি নিজেরে এক ঝটকায় টাইনা তুললাম চেয়ারটা থেইকা, দ্রুত বেগে টেবিলটারে চক্কর দিলাম, মাথাটারে আর ঘাড়টারে এক্সেসাইজ করাইলাম, চোখগুলারে জ্বলজ্বলে কইরা রাখলাম, আর চোখের লগের মাসলগুলারে টানটান করলাম। নিজের সব ফিলিংসরে চুপ করাইয়া আমি ‘ক’ রে ওয়েলকাম করলাম, নিজের রুমে ‘খ’ রে সইজ্জ করতে স্টার্ট করলাম, ‘গ’ এর যাবতীয় কথাবার্তারে – যত যন্ত্রণা আর পেরেশানিই লাগুক না কেন – লম্বা ঢোক দিয়া গিলতে লাগলাম।

কিন্তু এইসব ঠিকঠাক মতন করতে পারার পরেও, সিঙেল একটা ভুল – কোনো না কোনো ভুল আমার হবেই – জাস্ট সিঙেল কোনো একটা ভুলের কারণে – পুরা প্রোসেসটাই, তা সহজ কোনো প্রোসেস হোক বা প্যারার, পুরা প্রোসেসটাই ঐ ভুলের কারণে বাঁশ খাইয়া যাবে। এবং তখন আমি পুনরায় নিজেরে ফেরত নিয়া আসবো নিজের পার্সোনাল গণ্ডির ভিতরে।

এই কারণেই, আমার মনে হয়, সবচাইতে কাজের কাজ হইলো – কোনোকিছুরেই পার্সোনালি না নেয়া, নিজেরে একটা জড়বস্তু বানাইয়া তুলা, এবং যদি এমন ফিল হয় যে নিজের উপ্রে থেইকা কন্ট্রোল হারাইতেছি তাইলে তখনই শক্ত হই যাওয়া – যাতে কোনো উসকানিতেই, আর একটাও আজাইরা কদম না ফালাই। মানুষরে দেখা দরকার একটা জন্তুর চোখ দিয়া। এবং এইসব কোনোকিছু নিয়াই কোনো রিগ্রেট ফিল করা উচিত না। এক কথায় যদি বলি, যা করা দরকার তা হইলো, এই ভূতের-মতো-লাইফ এর যাবতীয় এলিমেন্ট নিজের হাতের মুঠায় স্কুইজ করে শেষ করে দিয়ে তারপর, শান্তির-মতো-কবর এর শ্যাষ শান্তিটারে বাড়াইয়া তুলা, আর এর বাইরের আর কিছুর লগেই – কোনো লেনাদেনায় না থাকা।

এইরকম অবস্থায় যাইতে পারার পর আপনে যেই কাজগুলা করতে পারেন, তার মধ্যে একটা হইলো – কাইন্যা আঙুল দিয়া নিজের ভুরু ডলতে থাকা।

Continue reading

সুলতানার স্বপ্ন – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

This entry is part 2 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সুলতানা’স ড্রিম হইতেছে একটা ওয়ার্ল্ড ক্ল্যাসিক। ১৯০৫ সালে উনি ইংলিশেই লেখছিলেন এইটা। দ্য ইন্ডিয়ান লেডিস পত্রিকা’তে ছাপা হইছিল। পরে ১৯০৮ সালে বই হিসাবেও ছাপা হয়। অই সময়টাতে ধারণা করা যায়, রোকেয়াও উনার লিটারারি এডভেঞ্চারের জায়গাটাতে ছিলেন। ১৮৯৮ টু ১৯০৯, উনার কনজুগাল লাইফের সময় জামাইয়ের অনেক সার্পোট পাইছেন, যার ফলে উনার পড়াশোনা, চিন্তা-ভাবনায় ডর-ভয়ের জায়গাগুলারে এড়াইতে পারছিলেন। মানে, এইরকম ভাবা যাইতে পারে যে, সুলতানা’স ড্রিম হইতেছে উনার ফ্রি লাইফের একটা আউটকাম। পরে ১৯২২ সালে উনার মতিচূর (২য় খন্ড) বইয়ে বাংলায় ছাপাইছিলেন। তো, সেই হিসাবে লেখাটার ৯৯ বছর পার হইতে যাইতেছে এখন। এই জিনিসগুলা “মাস্ট রিড” হিসাবে আমাদের পড়ার লিস্টে থাকতে পারে। তো, পড়েন!

এডিটর, বাছবিচার

………………….

একদা আমার শয়নকক্ষে আরাম কেদারায় বসিয়া ভারতললনার জীবন সম্বন্ধে চিন্তা করিতেছিলাম, – আমাদের দ্বারা কি দেশের কোন ভাল কাজ হইতে পারে না?—এই সব ভাবিতেছিলাম । সে সময় মেঘমুক্ত আকাশে শারদীয় পূর্ণিমার শশধর পূর্ণগৌরবে শোভমান ছিল ; কোটীলক্ষ তারকা শশীকে বেষ্টন করিয়া হীরক-প্রভায় দেদীপ্যমান ছিল। মুক্ত বাতায়ন হইতে কৌমুদীস্নাত উদ্যানটী স্পষ্টই আমার দৃষ্টিগোচর হইতেছিল। এক একবার মৃদুস্নিগ্ধ সমীরণ শেফালিসৌরভ বহিয়া আনিয়া ঘরখানি আমোদিত করিয়া দিতেছিল। দেখিলাম, সুধাকরের পূর্ণ কান্তি, কুসুমের সুমিষ্ট সৌরভ, সমীরণের সুমন্দ হিল্লোল, রজতচন্দ্রিকা – ইহারা সকলে মিলিয়া আমার সাধের উদ্যানে এক অনির্বচনীয় স্বপ্নরাজ্য রচনা করিয়া ফেলিয়াছ। তদ্দর্শনে আমি আনন্দে আত্মহারা ইলাম, যেন জাগিয়াই স্বপ্ন দেখিতে লাগিলাম ! ঠিক বলিতে পারি না আমি তন্দ্রাভিভূত হইয়াছিলাম কি না ; – কিন্তু যতদূর মনে পড়ে, আমার বিশ্বাস আমি জাগ্রত ছিলাম।

সহসা আমার পার্শ্বে একটি ইউরোপীয়া রমণীকে দণ্ডায়মানা দেখিয়া বিস্মিত হইলাম। তিনি কি প্রকারে আসিলেন, বুঝিতে পারিলাম না। তাঁহাকে আমার পরিচিতা ‘ভগিনী সারা’ (Sister Sara) বলিয়া বোধ হইল। ভগিনী সারা “সুপ্রভাত” বলিয়া আমাকে অভিবাদন করিলেন! আমি মনে মনে হাসিলাম,—এমন শুভ্র জ্যোৎসা-প্লাবিত রজনীতে তিনি বলিলেন, “সুপ্রভাত !” তাঁহার দৃষ্টিশক্তি কেমন? যাহা হউক, প্রকাশ্যে আমি প্রত্যুত্তরে বলিলাম, –

“আপনি কেমন আছেন?”

“আমি ভাল আছি, ধন্যবাদ। আপনি একবার আমাদের বাগানে বেড়াইতে আসিবেন কি?”

আমি মুক্তবাতায়ন হইতে আবার পূর্ণিমা-চন্দ্রের প্রতি চাহিলাম, ভাবিলাম, এসময় যাইতে আপত্তি কি? চাকরেরা এখন গভীর নিদ্রামগ্ন ; এই অবসরে ভগিনী সারার সমভিব্যাহারে বেড়াইয়া বেশ একটু আনন্দ উপভোগ করা যাইবে।

দার্জিলিং অবস্থানকালে আমি সর্ব্বদাই ভগিনী সারার সহিত ভ্রমণ করিতাম। কত দিন উদ্ভিদকাননে (বোটানিকাল গার্ডেনে) বেড়াইতে বেড়াইতে উভয়ে লতাপাতা সম্বন্ধে—ফুলের লিঙ্গ নির্ণয় সম্বন্ধে কত তর্ক-বিতর্ক করিয়াছি, সে সব কথা মনে পড়িল। ভগিনী সারা সম্ভবতঃ আমাকে তদ্রূপ কোন উদ্যানে লইয়া যাইবার নিমিত্ত আসিয়াছেন: আমি বিনা বাক্যব্যয়ে তাঁহার সহিত বাহির হইলাম।

ভ্রমণকালে দেখি কি –এত সে জ্যোৎস্নাময়ী রজনী নহে! এযে দিব্য প্রভাত ! নগরের লোকেরা জাগিয়া উঠিয়াছে, রাজপথে লোকে লোকারণ্য ! কি বিপদ ! আমি দিনের বেলায় এভাবে পথে বেড়াইতেছি ভাবিয়া লজ্জায় জড়সড় হইলাম—যদিও পথে একজনও পুরুষ দেখিতে পাই নাই।

পথিকা স্ত্রীলোকেরা আমার দিকে চাহিয়া হাস্য পরিহাস করিতেছিল। আমি তাহাদের ভাষা না বুঝিলেও ইহা স্পষ্ট বুঝিলাম, যে তাহাদের উপহাসের লক্ষ্য বেচারী আমিই। সঙ্গিনীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, –

“উহারা কি বলিতেছে ?”

উত্তর পাইলাম, –“উহারা বলে, যে আপনি অনেকটা পুরুষ ভাবাপন্ন।” “পুরুষভাবাপন্ন। ইহার মানে কি?”

“ইহার অর্থ এই, যে আপনাকে পুরুষের মত ভীরু ও লজ্জানম্র দেখায় !”

‘পুরুষের মত লজ্জানম্র!” এমন ঠাট্টা! এরূপ উপহাস ত কখন শুনি নাই! ক্রমে বুঝিতে পারিলাম, আমার সঙ্গিনী সে দার্জিলিংবাসিনী ভগিনী সারা নহেন,—ইহাকে আর কখনও দেখি নাই! ওহো! আমি কেমন বোকা একজন অপরিচিতার সহিত হঠাৎ চলিয়া আসিলাম! কেমন একটু বিস্ময়ে ও ভয়ে অভিভূত হইলাম। আমার সর্ব্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত ও ঈষৎ কম্পিত হইল। তাঁহার হাত ধরিয়া চলিতেছিলাম কি না, তিনি আমার হস্তকম্পন অনুভব করিয়া সস্নেহে বলিলেন,—

“আপনার কি হইয়াছে? আপনি কাঁপিতেছেন যে !”

এরূপে ধরা পড়ায় আমি লজ্জিত হইলাম। ইতস্ততঃ করিয়া বলিলাম, “আমার কেমন একটু সঙ্কোচ বোধ হইতেছে; আমরা পদার্নশীন স্ত্রীলোক, আমাদের বিনা অবগুণ্ঠনে বাহির হইবার অভ্যাস নাই।”

“আপনার ভয় নাই—এখানে আপনি কোন পুরুষের সম্মুখে পড়িবেন না। এ দেশের নাম ‘নারীস্থান’ এখানে স্বয়ং পুণ্য নারীবেশে রাজত্ব করেন।” Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →