সেল্ফ-রেসপেক্ট: এইটার সোর্স, এইটার পাওয়ার – জোয়ান ডিডিওন
কোন এক শুকনা মৌসুমে, একটা নোটবুকের দুই পাতা জুড়ে বড় বড় অক্ষরে আমি একবার লিখছিলাম যে, নিজেরে পছন্দ করার ভুল ধারণা থেকে যখন একজন বের হয়া আসে, তার ইনোন্সেন্স তখন ওইখানেই শেষ হয়া যায়। অবশ্য এখন কয়েক বছর পর আমি অবাক হয়া ভাবি, একটা ব্রেইন, যে কীনা নিজের সাথেই ক্যাচাল করতেছে, তার তো খেয়াল কইরা প্রত্যেকটা নড়াচড়ার রেকর্ড রাখা উচিত। আমি লজ্জার সাথে এই বিশেষ অংশগুলার কথা স্পষ্ট কইরা মনে করি। এইটা একটা মিসপ্লেসড আত্মসম্মানের ব্যাপার ছিল।
আমারে ‘ফাই বেটা কাপা’তে (ইউনিভার্সিটির সরোরিটি হাউজ) নেওয়া হয় নাই। এই না নেওয়ার ব্যাপারটা আসলে খুবই প্রেডিক্টেবল ছিল (আমার অত ভালো গ্রেড ছিল না), কিন্তু তাতে আমার তেমন কিছু একটা যায় আসে নাই। আমি নিজেরে এক ধরণের অ্যাকাডেমিক রাসকলনিকভ (ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট নভেলের চরিত্র) মনে করতাম, যে কীনা মানুষের জন্য খারাপ এমন কজ-ইফেক্ট সম্পর্কগুলা থেকে অদ্ভূতভাবে ছাড় পাইয়া যাইত। যদিও সিচুয়েশনটা একটু হইলেও স্কট ফিটজেরাল্ডের প্রিন্সটন ট্রায়াংগেল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট না হইতে পারার ট্র্যাজেডির ধারে কাছে গেছিল, তবুও, যেই দিন আমি ফাই বেটা কাপাতে ঢুকতে পারি নাই ওইদিন কিছু একটা শেষ হয়া গেছিল- মনে হয় আমার ইনোসেন্স। আমার যে আশা ছিল যে আমার জন্য লাইটগুলা সব সবুজ হয়া যাবে, ছোট থাকতে যেইসব ছোটখাট গুণ আমারে প্রশংসা জুটাইত, আমি শিওর ছিলাম ওইসব গুণ দিয়া আমি শুধু ফাই বেটা কাপাই না- সুখ, সম্মান আর একজন ভালো মানুষের ভালোবাসা পাইতাম (ক্যাসাব্ল্যাংকা এর হামফ্রি বোগার্ট আর প্রক্সি ফাইটের জন্য বিখ্যাত মার্চিসন ভাইদের একজনের ক্রস হইলে ভালো হইত)। ভালো ম্যানার, পরিষ্কার চুল, স্ট্যানফর্ড-বিনেট স্কেলে (আইকিউ টেস্ট) ভালো রেজাল্ট করা- এইসবের উপর আমার যে বিশ্বাস ছিল, সব উইঠা গেল। আমার সেল্ফ-রেস্পেক্ট এত নাইমা গেল যে সেইদিন আমার নিজেরে ওই মানুষটার মত হতবাক লাগল, যে সামনে ভ্যাম্পায়ার দেখছে কিন্তু নিজেরে বাঁচানোর জন্য তার কাছে কোন রসুনের মালা নাই।
যদিও নিজেরে পিছে সরায়া নেয়া একটা আনইজি ব্যাপার- যেন কেউ ধার করা পাসপোর্ট দিয়া বর্ডার ক্রস করার চেষ্টা করতেছে- অবশ্য আমার কাছে এখন মনে হয় আসল সেল্ফ-রেস্পেক্টের সব শুরুওয়াতের জন্য নিজেরে সরায়া নেয়ার শর্তটা জরুরি। আমাদের সব ক্লিশে কথার পরেও নিজের সাথে ধোঁকাবাজিটাই সবচেয়ে কঠিন ধোঁকাবাজি রয়ে যায়। অন্যদের উপর যেই চার্মগুলা কাজ করে এইগুলা নিজের আন্ধার মনের আঁধারের অলিগলিতে চলে না – এইখানে কোন হাসি দেখে মন গলে না, সুন্দর করে লিখা ভালো নিয়তের লিস্টও পাত্তা পায় না। ব্যাট মাস্টারসনরে (প্রফেশনাল জুয়াড়ি) গেইমে জয়েন করতে দেখে একজন চোরা ফ্যারো ডিলারের (এক ধরণের কার্ড গেম) শাফল করার স্পিডের মতই, একজন খুব দেখায়ে দেখায়ে শাফল করবে, কিন্তু তার কার্ডগুলা সব চিটিংয়ের জন্য মার্ক করা। ভুল জিনিসের প্রতি দয়া দেখানো, একটা জিত যেইটার পিছে কোন কষ্ট করা হয় নাই, কাউরে লজ্জা দিয়া তারে দিয়া কোন ভালো কাজ করানো। কষ্টের কথা হইলো, সেল্ফ-রেস্পেক্টের সাথে অন্যের অ্যাপ্রুভালের কোন সম্পর্ক নাই। অন্যদের তো আখেরে খুব সহজেই ধোঁকা দেওয়া যায়। সেল্ফ-রেস্পেক্টের সাথে রেপুটেশনেরও সম্পর্ক নাই – রেপুটেশন নিয়া রেট বাটলার স্কারলেট ও’হারা (গন উইথ দা উইন্ড এর চরিত্র) কে বলছিল যে সাহসী মানুষদের এইটা লাগে না।
অন্যদিকে, যার সেল্ফ-রেস্পেক্ট নাই, সে হইলো একটা ননস্টপ হোম মুভির একজন অনিচ্ছুক অডিয়েন্স। এই মুভি একজনের আসল আর কল্পনার ব্যর্থতার উপর বানানো- আর যতবারই দেখানো হয়, প্রত্যেকবার নতুন কইরা ফ্রেশ ফুটেজ যোগ হয়। ওইযে, ওই গ্লাসটা তুমি রাগ কইরা ভাইঙ্গা ফেলছিলা, ওইযে অমুকের চেহারায় কষ্ট, এখনই দেখ, নেক্সট সিনে তমুক হিউস্টন থেকে ফেরত আসছিল, দেখ, কেমনে তুমি সবকিছু নষ্ট করছিলা। সেল্ফ-রেস্পেক্ট ছাড়া থাকা মানে কোন এক রাতে গরম দুধ, ফেনোবারবিটাল (ঘুমের ঔষধ) ছাড়া শুয়ে থাকা, কাঁথার উপর ঝিম ধরা হাত- ইচ্ছা-অনিচ্ছা থেকে করা পাপগুলা, যে ভরসাগুলা ভাংছিলেন, যে প্রমিজগুলা রাখেন নাই, যে গিফটগুলা আইলসামি, কেয়ারলেস হওয়ার কারণে নষ্ট করছিলেন, এইগুলার হিসাব করা। আমরা যতই এই ব্যাপারটাতে দেরি করি, একসময় না একসময় ওই কুখ্যাত নিজের গুছানো আনকম্ফোর্টেবল বিছানাটায় একা শুই। এইটাতে আমরা ঘুমাইতে পারি কি না সেইটা নির্ভর করে আমরা নিজেদের রেস্পেক্ট করি কি না সেইটার উপর।
আপনারা বলতে পারেন, তাও তো সেল্ফ-রেস্পেক্ট ছাড়া কিছু অসম্ভব কিসিমের মানুষ দেখা যায় যারা খুব প্যারা ছাড়াই আরামে ঘুমাইতে পারে। এইটা বলা মানে মূল পয়েন্টটাই মিস করা। আপনি যদি ভাবেন যে কারো আন্ডারওয়্যারে সেফটি পিন না থাকার সাথে সেল্ফ-রেস্পেক্ট রিলেটেড, এইটাও একইভাবে মূল পয়েন্ট মিস করে। একটা কমন কুসংস্কার আছে যে “সেল্ফ-রেস্পেক্ট” এক ধরণের সাপুড়ের বাঁশি, যেইটা থাকলে একটা বেহেস্তি ভাব ফিল হয়, অপছন্দের বাতচিত আর বিপদ-আপদ থেকে বাঁচা যায়। এইসব একদমই হয় না। জিনিসপাতির চেহারার সাথে এইটার লেনদেন নাই। এইটা একটা আলাদা ধরণের শান্তি, একটা প্রাইভেট রিইউনিয়ন। যদিও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইন সামারা এর কেয়ারলেস, সুইসাইডাল জুলিয়ান ইংলিশ, আর দা গ্রেট গ্যাটসবি এর কেয়ারলেস, অসৎ জর্ডান বেকার দুইজনরেই সেল্ফ-রেস্পেক্টের অসম্ভব ক্যান্ডিডেট লাগতে পারে- এই সেল্ফ-রেস্পেক্ট কেবল জর্ডান বেকারের ছিল, জুলিয়ান ইংলিশের ছিল না। মানায়া নেয়ার যে ক্ষমতা পুরুষের চেয়ে বেশিরভাগ নারীর মধ্যে দেখা যায়, ওইটা দিয়া জর্ডান নিজেই নিজেরে বুইঝা নিছিল, নিজের সাথে আপোষ করছিল। যেই থ্রেটগুলা সেই আপোষরে নষ্ট করতে আসছিল, সেইগুলারে অ্যাভোয়েড করত। ও নিক ক্যারাওয়ে রে কইছিল, “আমি কেয়ারলেস মানুষজনরে হেইট করি। এক হাতে তালি বাজে না।” Continue reading