গণ-ফ্যাসিজম (Ur-Fascism) – উমবের্তো একো [লাস্ট পার্ট]
………..
এইখানে আমরা আমার কথার সেকেন্ড পার্টে আসি। এইখানে একটামাত্র নাজীজম আছে, ফ্রাঙ্কো’র আলট্রা-ক্যাথলিক ফ্যালগানিজমরে আমরা নাজীজম বলতে পারি না, এইটা ধইরা নিয়া যে নাজীজম হইতেছে ফান্ডামেন্টালি প্যাগান, বহুইশ্বরবাদী, আর এন্টি-ক্রিশ্চিয়ান, আর তা নাইলে এইটা নাজীজম না। অন্য দিক দিয়া, আপনি নানানভাবে ফ্যাসিজমের গেইমটা খেলতে পারেন, গেইমের নাম এতে কইরা চেইঞ্জ হয় না। ভিনগেনস্টাইনের মতে, ‘ফ্যাসিজম’র নোটেশন নিয়া যা ঘটে ‘খেলা’র নোটেশন নিয়াও একই ঘটনাই ঘটে। একটা গেইম কম্পিটিটিভ হইতে হবে বা তার বাইরে কিছু, এইখানে একজন বা তার বেশি লোক থাকতে হবে, এইটাতে কিছু পার্টিকুলার স্কিল লাগতে পারে অথবা কিছুই না, এইখানে টাকা-পয়সা জড়িত থাকতে পারে অথবা না। গেইম হইতেছে নানান ধরণের কাজের একটা সিরিজ যেইটা কিছু একটা ‘পারিবারিক মিলের’ জায়গারে ফুটায়া তোলে।
আসেন ধইরা নেই যে এইখানে অনেকগুলা পলিটিক্যাল গ্রুপ আছে। গ্রুপ ১’র হইতেছে কখগ জিনিসগুলা আছে, গ্রুপ ২ এর খগঘ, আর এইরকম। ২ এর লগে ১ এর দুইটা জায়গাতে মিল আছে। ৩-ও ২’র মতো আর ৪-ও ৩’র মতো একইভাবে দুইটা জায়গাতে। দেখেন ৩-ও ১’র মতন (অদের একটা জায়গাতে মিল আছে গ)। সবচে অদ্ভুত কেইসটা হইলো ৪ এর, অবশ্যই ৩ আর ২ এর লগে মিল আছে কিন্তু ১ এর লগে কোন কারেক্টারে মিল নাই। তারপরেও, মিল কমতে থাকা একটা চলতে-থাকা সিরিজের কারণে ১ আর ৪ এর মাঝখানে একটা ইল্যুশনারি রূপান্তরের কারণে, ৪ আর ১ এর মধ্যে একটা আত্মীয়তা আছে বইলা মনেহয়।
১
কখগ
২
খগঘ
৩
গঘঙ
৪
ঘঙচ
‘ফ্যাসিজম’ টার্মটা সবগুলার সাথে ফিট করে কারণ একটা ফ্যাসিস্ট শাসন থিকা একটা বা দুইটা জিনিস বাদ দেয়া যায় আর তারপরেও এইটারে ফ্যাসিস্ট বইলা চিনা যায়। ফ্যাসিজম থিকা সাম্রাজ্যবাদী ডাইমেনশনটা বাদ দেন আপনি পাইবেন ফ্রাঙ্কো বা সালজার’রে; কলোনিয়াল ডাইমেনশনটারে বাদ দেন, আর আপনি পাইবেন বলকান ফ্যাসিজম। ইতালিয়ান ফ্যাসিজমের লগে একটা ড্যাশ দিয়া রেডিক্যাল এন্টি-ক্যাপিটালিজম নেন (যেইটা কখনোই মুসোলিনির ভাল্লাগে নাই), আর আপনি পাইবেন এজরা পাউন্ডরে। কেলটিক মিথোলজি’র কাল্ট আর গ্রেইলের মিস্টিটিজমরে যোগ করেন (যেইটা অফিসিয়াল ফ্যাসিজমের বাইরের ব্যাপার), আর আপনি পাইবেন ফ্যাসিজমের সবচে রেসপেক্টেড গুরু, Julius Evola’ রে।
এইসব কনফিউশনের পরেও, আমি মনে করি একটা লিস্ট করা সম্ভব সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলার যেইগুলারে আমি বলতে চাইতেছি ‘গণ-ফ্যাসিজম’ (Ur-Fascism) বা ‘অমর ফ্যাসিজম’ (eternal Fascism)। এই বৈশিষ্ট্যগুলারে একটা সিস্টেমের মধ্যে রেজিমেন্টেড অবস্থায় পাবো না আমরা; অনেকগুলা পারস্পরিক একচেটিয়াভাবে থাকতে পারে স্বৈরাচারীতা এবং ধর্মান্ধতার মধ্যে। কিন্তু আপনার যা দরকার যখন এইগুলার কোন একটা উপস্থিত থাকবে, তখন বুঝতে পারা যে একটা ফ্যাসিস্ট নীহারিকা জমাট বাঁধতে শুরু করবে।
১. গণ-ফ্যাসিজমের পয়লা বৈশিষ্ট্য হইতেছে ঐহিত্য পূজা। ট্রাডশনালিজম হইতেছে ফ্যাসিজমের চাইতেও পুরানা। এইটা খালি সনাতন ক্যাথলিক কাউন্টার রেভিউলেশনারি চিন্তা না যেইটা ফরাসি বিপ্লবের পরে আসছিল, বরং এইটা হেলেনিক পিরিয়ডের শেষের দিকের কথা গ্রীক ক্ল্যাসিক্যাল রেশনালিজমের রি-অ্যাকশনে জন্মাইছিল।
ভূমধ্যসাগরের অববাহিকায়, নানান ধর্মের লোকজন (সবাইরে রোমান প্যানথনে তেমন খেয়াল না কইরাই নেয়া হইছিল) হিউম্যান হিস্ট্রির যেন একটা মুক্তির দিশা পাইতেছে, এইরকম একটা স্বপ্নের মধ্যে ছিল। এই মুক্তির দিশা অনেক দিন ধইরা লুকায়া রাখা ছিল একটা ভাষার পর্দার আড়ালে, যা এখন আমরা ভুলে গেছি। এইটা পাহারা দেয়া ছিল মিশরিয়ান হায়রোগ্লাফিকস, কেলটিক রানস, আর ধার্মিক লেখালেখিগুলা দিয়া, যেইটা এখনো অজানা, এশিয়াটিক ধর্মগুলা নিয়া।
এই নতুন কালচারটা ছিল সিনক্রেটিক । ‘সিনক্রেটিসিজম’ মানে অইটা না, যেইটা ডিকশনারিগুলা বলে যে, নানান ধরণের বিশ্বাস বা প্রাকটিসের কম্বিনেশন। এইরকমের একটা কম্বিনেশনরে অবশ্যই সব ধরণের কন্ট্রাডিকশনরে সহ্য করতে হবে। সব অরিজিনাল মেসেজেই উইজডমের একটা দানা থাকে, আর যখন মনেহয় অরা নানান ধরণের বেখাপ্পা জিনিস নিয়া কথা কইতেছে মনেহয় অরা সবকিছুতেই ইঙ্গিত দিতেছে, রূপকের ভিতর দিয়া, কোন একটা অরিজিনাল সত্যের।
এর ফলশ্রুতিতে, এইখানে জানা-বোঝার কোন অগ্রগতি হইতে পারে না। সত্য’টা একবার এবং সবসময়ের জন্য ঘোষণা করা হয়া গেছে, আর এখন যেইটা করতে পারি আমরা এর অস্পষ্ট মেসেজটারে ব্যাখ্যা কইরা যাইতে পারি। সবগুলা ফ্যাসিস্ট মুভমেন্টের সিলেবাসের দিকে যদি তাকান, আপনি প্রধান ট্রাডিশন্যালিস্ট থিঙ্কারদেরকে পাইবেন। নাজী জ্ঞানকান্ড ভরা ছিল ঐতিহ্যপূর্ণ, সিনক্রিয়েটিক, আর অকাল্ট জিনিসপত্র দিয়া। নতুন ইতালিয়ান ডানপন্থীদের সবচে ইম্পর্টেন্ট থিওরিস্ট, Julius Evola, গ্রেইলের (Grail) লগে জীয়নের প্রবীণদের আদিলেখাগুলারে, আর এলকেমির লগে হোলি রোমান এম্পায়াররে মিলাইছেন। আসল কথা হইতেছে, এর মুক্তমণা অবস্থাটা দেখানোর লাইগা, ইতালিয়ান ডানপন্থীদের একটা অংশ এর সিলেবাসরে চওড়া করছে De Maistre, Guenon আর Gramsci’রে একসাথে রাখার ভিতর দিয়া, সিনক্রোটিসজমের চটকদার প্রমাণ হিসাবে।
আপনি যদি আম্রিকান বইয়ের দোকানগুলাতে নিউ এইজ সেকশনে ব্রাউজ করেন, আপনি সেইখানে সেন্ট অগাস্টিনরে পাইবেন, যিনি, আমার জানামতে, একজন ফ্যাসিস্ট ছিলেন না। কিন্তু Saint Augustine Stonehenge’রে অই একলগে রাখাটা হইতেছে গণ-ফ্যাসিজমের (Ur-Fascism) এখনকার একটা লক্ষণ।