তাগুদি শাশন
ভাশা এবং অর্থের ইতিহাশ দিয়া ভাবলে মাফিল মানে জে কোন মশলিশই হইতে পারতো, একটা জমায়েতে জে কোন ব্যাপারে বয়ান করতেছেন কেউ, তারেই আমরা মাফিল কইতে পারতাম। কিন্তু বাংলাদেশে মাফিলের অর্থ এখন খাড়াইছে– ছেরেফ ইছলামি বয়ানের জমায়েত! শব্দের ভাব বা অর্থ বাংলায় এমনই ছোট হইয়া গেছে গজলের। গজল ব্যাপারটা জেই লিটারারি টেডিশন থিকা আশছে, তাতে গজল মানে বেক্তির একান্ত মনের ভাবের পোয়েটিক বিস্তার, একটু উদাশ, বিরহ-পিরিতের পেরায়ই, কখনো বা জিন্দেগির গভির মারেফতি আছান; কিন্তু বাংলায় এখন গজল মানে ছেরেফ ইছলামি গান।
কি আর করা, ভাশা তো এমনই; তো, ঐ মাফিলে আমার অতি পছন্দের একটা জিনিশ হইলো, বয়াতি/ওয়াজিন জখন কোন একটা ব্যাপারে তার বয়ান পেশ করার পরে হাজেরানে মশলিশকে জিগায়, ‘ঠিক কিনা? কথা কন না কেন!’। হাজেরানে মজলিশ চিল্লাইয়া ওঠে, ‘ঠিক ঠিক’!
চোখা নজরে একটু খেয়াল করলেই আমরা বুঝবো জে, ঐ ঘটনার ভিতর দিয়া আশলে কন্ঠভোটের একটা ইলেকশন হইয়া গেল, একটা জেনারেল ডেমোক্রেটিক পার্লামেন্টে জেমন হয়! এমন একটা ইলেকশনে জয়েন কইরা ঐ বয়াতি আশলে পেরায় ২৫০০ বছরের একটা বাহাছে নিজের পক্ষ বাইছা নিলেন। বাহাছটা এখনো চলতেছে এবং বাহাছটা এমন: এলেম বা টুরুথ বনাম পপুলার ভোটের পছিবল ঝগড়া-ফ্যাছাদ কেমনে ফয়ছালা করবো আমরা? ঐ মাফিলে বয়াতি শাহেব কি তাইলে পপুলার ভোটের পক্ষে চইলা গেলেন? হাজেরানে মজলিশ জদি ‘ভুল, ভুল’ কইয়া চিৎকার কইরা উঠতো, তাতে কি টুরুথ বা এলেম মিছা হইয়া জাইতো? এই মুশকিলে শবচে বেশি পড়বেন ধার্মিক লোকেরা; কেননা, তাদের কাছে টুরুথ/এলেম একটা খোদায়ি ব্যাপার, তাতে মানুশ ভোট দিলো কি দিলো না, শেইটা কোন ব্যাপার না; কেননা, খোদা মানুশ বা মানুশের ভোটের আগেই হইয়া থাকা টুরুথ, দুনিয়া ফানা হইয়া জাবে, কেবল খোদা এবং তার এলেম খোদ টাইমের শুরুর আগে থিকা টাইম খতম হবার পর তক শাচ/টুরু/শত্ত! তিনি হইয়া আছেন আগেই–আগেই মানে খোদ টাইম শুরু হবার আগে, বাকি শব তার হুকুমে/মারফতে হয়, থাকে বা নাই হইয়া জায়; কুন ফায়া কুন।
তাইলে ঐ বয়াতি কি করলেন, উনি কি এলেম/টুরুথ/খোদাকে রিলেটিভ বানাইয়া দিলেন?
আশলে না। বরং উনি নিজেরে মানুশ হিশাবে মাইনা নিলেন, এলেম বা টুরুথকে এমনই এক খোদায়ি ব্যাপার হিশাবে মাইনা নিলেন, জেইখানে মানুশের ১০০% পৌছাইতে পারার কথা না, তেমন দাবি করলে নিজেরে খোদার বরাবর বানাইয়া তোলা হয়, উনি শেই শেরেকি থিকা বাইচা রইলেন!
টুরুথ বা এলেম রিলেটিভ না, কিন্তু মানুশের জানার দৌড় রিলেটিভ, তাই মানুশ জারে টুরুথ/এলেম বইলা শাব্যস্ত করে, শেইটা রিলেটিভ হইয়া ওঠে; ফলে কোন একটা হিস্ট্রিকেল মোমেন্টে মানুশ কোন টুরুথ/এলেমকে মাইনা নিয়া কাজকাম করবে, শেইটাও রিলেটিভ। তাইলে কোন একটা শমাজ বা রাশ্টো কোন টুরুথ/এলেমকে টুরুথ/এলেম হিশাবে মাইনা নেবে, শেইটা কেমনে বাছাই করবে, উপায় কি?
কোনটাই জখন চুড়ান্ত/এবছলুট না, অন্তত দাবি করা জাইতেছে না, আমরা জানি না, কিন্তু একটারে বাইছা নিতে হবে, নাইলে আমাদের জিন্দেগি চলবে না–তখন আমাদের একটা পোছেছ, একটা মেথডোলজি লাগবে, বাইছা নেবার। এবং শেইখানে এলেমদারির পরিচয় হইতে পারে এইটা জে, জেইটারে বাইছা নিলে শবচে কম মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবে, শেইটা বাইছা নিবো আমরা–শেইটাই তখন আমাদের কাজকামের পলিছি হবে। আবার জেইটারে বাইছা নিলাম, শেইটারে পলিছি মাইনা জখন কাজকাম শুরু করলাম, তখন দেখা জাইতে পারে জে, হিশাব ভুল ছিলো আমাদের, আশলে বেশিরভাগ মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হইতেছে! ভুলের এই শম্ভাবনার কারনেই, আমরা শবজান্তা খোদা না বইলাই, শেরেকি করবো না বইলাই, পলিছি জিনিশটা শর্টটাইম/মেয়াদি হওয়া দরকার!
তাইলে মানুশের এলেম লিমিটেড হবার কারনে এবছলুট পলিছি (শেরেকি) বানাবার বদলে একটা মেয়াদি পলিছি বানাবার পোছেছের নামই ইলেকশন; ইলেকশন–কেননা, ইলেকশনের ভিতর দিয়াই আমরা হিশাব করতে পারবো জে, কোন পলিছিতে শবচে কম মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবার শম্ভাবনা! এই কারনেই ৫০%’র চাইতে কম ভোট পাইলেও শেই পলিছি ইলেকটেড হইতে পারে, কেননা, বাকি পলিছিগুলাতে আরো বেশি মানুশ নেগেটিভলি এফেক্টেড হবার শম্ভাবনা। ইলেকটেড লোকের ব্যাপারে পেরায়ই একটা অবজেকশন দেখি আমরা জে, বেশির ভাগ লোকই তারে চায় না, অথচ শে হইতেছে শাশক! হইতেছে, কারন, আর জারা আছে, তাদেরকে আরো বেশি মানুশ চায় না! তাই ইলেকটেড হওয়া মানে বেশিরভাগ লোকের চাওয়া না, বরং শবচে কম লোকের না চাওয়া! Continue reading