ফিকশন: একদিন তোর হইবো রে মরণ – ৪
কিস্তি ১।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।।
৫.০ সোহানার সানি লিওন সিনড্রোম
‘না পারলে তো হইবো না, পয়দা করো।’ বুইড়া রমজান খেইপা যান প্রডাকশন ম্যানেজার বোমকেশ বক্সী’র উপ্রে। ‘আরে ভাই, একটা সেট রেডি করতে দুইদিন লাগলে কেমনে? কলকাতা থিকা আপনারে আনছি বলিউডের লেভেলে যাওয়ার লাইগা; এখন এই এতগুলা আর্টিস্টরে আইনা আমি বসাইয়া রাখবো নাকি!’ এইরকম ঝাড়ি শুইনা বোম্বের বাঙালি অভিনেতা অমিত আর লাবণ্য দুইজনেই থতমত খায়া যান। সেটের মধ্যে এইরকম চিল্লা-পাল্লা করলে শ্যুটিংয়ের অ্যাম্বিয়েন্সটাই তো নষ্ট হয়া যাবে। তখন শেষের কবিতা বাদ দিয়া নষ্টনীড় না বানানো লাগে!
এইসব কিছু যে হবে না, এইটা রমজানও জানেন। কিন্তু মেজাজ কন্ট্রোল করতে পারেন না টাইমলি সবকিছু না হইলে। এই একটা দোষ উনার। এইদিকে আবার মরার উপর খাড়া ঘাঁ হইলো সোহানা। রাহাত খানের স্পেশাল রিকোয়েস্টে মেয়েটারে নিতে হইছে। পুরা একটা ফৃক। মাথার কোন ঠিক নাই। তারপরও এই মেয়েটাই একটু কাজের। চন্দ্রমুখীর মতোই একটু পাগলা। এইজন্য মায়া লাগে উনার। ক্যামেরার সামনে গেলে পুরা অন্যরকম। আর বাকিগুলা একটার চাইতে আরেকটা বড় বলদ। ডাইনে কইলে বামে যায় আর বাম কইলে যাইতেই থাকে; ঠিকমতো কাজই করতে জানে না, ক্রিয়েটিভিটি চুদাইতে আসছে। মনে করে অফ-ট্র্যাক একটাকিছু করতে পারলেই আর্ট হইছে আর কি। আরে ভাই, আর্ট এত শস্তা জিনিস নাকি! আবার সবগুলা হইতেছে ফকিন্নি’র পোলা, এখন এইগুলা তো মুখে বলাও যায় না। ঝাড়ি-টাড়ি দিয়া রমজান দেখেন যে, সোহানা বেতের চেয়ারে দুই পা তুইলা বইসা আছে, একটা কোণায়।
মেয়েটা সারাক্ষণ একলা একলাই বইসা থাকে। তেমন একটা কথা-বার্তা বলে না। অবশ্য কথা কইলে খুবই ফানি, সবাই কথা কইতে চায় ওর সাথে, কিন্তু মুড অফ থাকলে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। কোন একটা সদমা পার হয়া আসছে হয়তো সে, রমজান ভাবেন। মানে কোন সদমা পার না হইলে মানুষ কি আর মানুষ হইতে পারে!
রমজান জানেন যে, সোহানা টিভি নাটকে অভিনয় করতো। মাঝখানে কিছু ঝামেলা হইছিল এখন একটা ব্রেক কাটাইয়া আবার অভিনয়ে ফিরতে চাইতেছে। মাসুদ রানা আইনা দিয়া গেছে। এই ছেলেটারেও পছন্দ করেন তিনি। এই বয়সের ছেলেদের মধ্যে এইরকম ম্যাচুরিটি দেখা যায় না। সিনেমার লাইনে এইরকম ট্যালেন্টেড পুলাপাইন যে ক্যান আসে না!
সোহানারে একদিন উনি জিগাইলেন, সমস্যা’টা কি হইছিলো? সোহানাও যে খুব ক্লিয়ারলি বলতে পারছিলো সেইটা না। বা হয়তো বলাও যায় না আসলে পুরাটা। ভাষায় আসতে গিয়া কতকিছুই তো হারাইয়া যায়। মানে, আমরা তো নিজেদেরকে বলতে পারি না, ভাষাটা আইসা আমাদের মধ্যে দিয়া তার কথাটাই বইলা যায়।
সোহানাও বলতেছিল যে শে জানে না। শে বুঝতে পারতেছিলো না কি ঘটতেছে। এইটুক শে ফিল করতেছিলো যে শি কুডন্ট মেইক ইট। এই সেলিব্রেটি হওয়াটা। তারপরও জান-প্রাণ দিয়া ট্রাই কইরা যাইতেছিলো। শে ভাবছিলো যে, টিভি-ক্যামেরা’র সামনে যেমনে হাসতো শে মেক-আপ রুমে ফোরপ্লে করার সময়ও একইভাবে হাসতে হবে। কিন্তু চুন্নিলাল আঙ্কেল তারে কইলো যে, ‘সানি লিওনের মতো সাক করো! আমি গোসলের সাবান হইয়া তোমার সারা শরীরের গ্লানি মুইছা দিবো!’ শি ওয়াজ কমপ্লিটলি পাজলড – সাবানের রোমাণ্টিকতা কেন! আর তাইলে ক্যামেরার সামনে কেন শে ইনোসেন্টলি হাসবে সুচিত্রা সেনের মতো? ফেইসবুকের ওয়ালে একরকমের ডিসট্যান্ট আর ইনবক্সে আরেক রকমের ক্লোজ? যতই পাবলিক দূরত্ব বাড়বে, ততই গভীর হবে সেক্স? নাকি যতই পুরান হবে ততই মধু? সুচিত্রা সেনের মতো হাসতে পারলে সে সানি লিওন হিসাবে আরো ডিজায়ারেবল হইতে পারবে? ইজ সেক্স অ্যা টাইম ট্রাভেলিং অফ পাবলিক ইমেজেস অ্যান্ড ফ্যাণ্টাসিস? এইটা শে নিতেই পারতেছিলো না।
শ্যুটিংয়ের সময় একদিন শে সবার সামনে চুন্নিলালরে সে বইলা বসে, আংকেল, সানি লিওনের মতো পোজ দেই। আঙ্কেল কয়, এই মাইয়া তো ক্রাক। কি না কি কয়, ইয়াবা খাইয়া আইছে শ্যুটিং করতে!
আসলেই তো, যে পাবলিক প্রাইভেট বুঝে না, ক্যামেরার পিছনের কথা যে ক্যামেরার সামনে কইতে চায় সে ইয়াবা খাইবো না তো কে খাইবো? বাংলাদেশের তরুণ ফিল্মমেকার’রা? কলকাতার সিনেমার সেক্স সিন দেখতে দেখতেই যাদের মাল আউট হয়া যায় আর যখনই খাড়ায় লাগাইবার লাইগা খালি রবীন্দ্রনাথের পুটকিই খুঁইজা বেড়ায়? নাউ শি ইজ বিকামিং ট্রু সানি লিওন ইন হার অউন টেক্সট।
এইসব সিমটম দেইখা বাড়ির লোকজন তারে গাজীপুর একটা রিহ্যাব সেন্টারে পাঠাইয়া দিছে। যে কিছুদিন এইসব থিকা বাইরে থাকুক, একটু ঠিক হইবো নে। ওইটা আরেকটা আজিব জায়গা। দুনিয়া ভরা শালা গে আর লেসবিয়ানে। এইগুলার ভিত্রে আর কয়দিন থাকা যায়। পাগল ঠিকাছে, কিন্তু শে তো আর এতো বড় পাগল না। ওয়ান উইক পরেই শে অইখান থিকা মাসুদ রানারে ফোন দেয়। বুড়া গার্ডরে একটা লিপকিসের বিনিময়ে এই ফোন কল শে অ্যাচিভ করছিলো। দুনিয়াতে সবকিছুই কতো চিপ! তাই না? তারপরও টাকা কামানোর ধান্দাতেই মানুষ তার লাইফের পুরা সময়টা শেষ করে। মাসুদ রানা তখন রাহাত খানরে দিয়া তারে এই শ্যুটিং স্পটে অ্যাসালাইম দিছে। ছোটখাট পার্ট তার এই সিনেমায়। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার আছে। আর মাসুদ রানা তো আজাইরা তারে এইখানে আইনা ফালায় নাই। কি কারণ? – সেইটা সোহানারে বলেই নাই, আর রমজানের তো কোন ধারণাই নাই। শালা মাসুদ রানা হইতেছে একটা ভিলেন! সোহানা ভাবে মাসুদ রানা’র কথা বলতে বলতেই।
এইদিকে, এইসব শুইনা রমজান দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। নিমফোম্যানিয়াক সিনেমার বুইড়াটার কথা ভাবেন। কেন তারে নায়িকাটা খুন করে, শেষে! সেই পাজলসহ-ই উনি সোহানারে বলেন, “আমরা তো আসলে একটা পর্ণগ্রাফিক রিয়ালিতেই বাঁইচা থাকি। এইটা নিয়া বেশি টেনশন নিও না!” সোহানাও হাসে শুইনা, বলে, “ঠিক আছে, সমস্ত সম্পর্ক-ই যৌন, তাই বইলা শারীরিক হইতে হইবো, এইরকম তো কোন কথা নাই, কি বলেন?” বইলা একটা চোখ টিপ দেয়। ফাজিল মেয়ে কোথাকার! এরে সিম্প্যাথি দেখানোও আরেকটা পেইন! Continue reading