Main menu

এডিটোরিয়াল: জৌন বাজার

মাঝে মাঝে নিজে নিজেই একটা পোশ্নের জবাব তালাশ করি, জৌন বাজারে আমার দাম কেমন?

খুব একটা আরাম লাগার মতো জবাব পাই না 🙁 ! বয়শ তো হইছে ভালোই, পেমে পড়তে উতলা মাইয়ারা তো আমার চাইতে ১৫/২০ বছর ছোট পোলাদের উপরই নজর দেবে! চেহারা ছুরতও ভালো না আমার, ১৫/১৬ বছর বয়শে তো পুরাই কুকড়ে থাকতাম নিজের ছুরত লইয়া, এখন অন্তত নিজের চেহারা ভুইলা থাকতে শিখছি! তার উপর আমি তো বিয়াতো পোলা, গরিব, দুইটা মাইয়াও আছে আমার!

কিন্তু এগুলা শব ছাপাইয়া আরেকটা বেপার মনে ভাশে আমার! আমারে বেশ গাইয়া, আনএস্মার্ট ভাবে মনে হয় মাইয়ারা! এইটার বড়ো কারন হয়তো, আমার বুলি! মানে, ঐ জেমন ধরেন, নিজের বেপারে কইলাম জে, আমি ‘বিয়াতো’, এইটা এস্মার্ট হয় নাই, ‘ম্যারিড’ কইতে হইতো, অন্তত বিবাহিত!

ঢাকায় ১৯৮০-৯০ জামানায় কলিকাতাই বাংলায় কথা না কইলে, আপনের এলাকার টান আপনের কথায় আইশা পড়লে, নিজের গেরামটারে ঠিকঠাক লুকাইতে না পারলে ঢাকার জৌন বাজারে দাম পাবার উপায় আছিলো না; এরশাদ খেদাইতে পারার পরে পরে ঐ বাংলার জোশ ধিরে কমতে থাকে, নয়া ঢাকাইয়া একটা বাংলা শিক্ষিতদের ভিতর জইমা উঠতে থাকে, এখন ঐটারই জোশ চলতেছে। কিন্তু খেয়াল করার বেপার হইলো, কেলাশের বেপারটা মোটামুটি একই থাইকা গেল, আরবার-রুরাল ভাগাভাগিটাও। ভাশার বেলায় এইটার মানে খাড়াইলো এমন: আপনে উপার্জন কইবেন না ঠিকাছে, কিন্তু কামাই কইলেই পইড়া গেলেই কেলাশের ফুটা দিয়া, অন্তত ইনকাম কইবেন। ‘দাসত্ত (দাসত্ব)’ কইবেন, গোলামি কইলে ছোটলোক এবং গাইয়া হইয়া পড়লেন কিন্তু। ইংরাজি থিকা আশা শব্দগুলার বেপারে হুশিয়ার থাকতে হবে খুব, গ্লাস কইবেন, গেলাশ জেন না হয়, রিকশা কইবেন, নট রিশকা, মাস্ক-রিস্কের বদলে জেন মাক্স-রিক্স কইয়া না বশেন! ‘কইয়া’ কইবেন না, ‘বইলা’ কইবেন অন্তত। স্মার্ট লেখা দেখলেই আপনার পড়তে পারতে হবে ‘এস্মার্ট’, না পারলে কিলিয়ার হইলো জে, ইংরাজির কেতা একটুও জানেন না আপনে। মানে হইলো, ঢাকাইয়া হইবেন, কিন্তু ছোটলোক হইবেন না, অশিক্ষিতের বা ৭০/৮০{855ff4e32ca5c8db0719e8f837cd158afce0d103a8821dfb7d995472b79aa6d7} বাংগালির শব্দগুলা আপনারে ছোটলোক বানাইয়া ফেলবে। নামের বেপারেও হুশিয়ার হবার দরকার আছে; আয়েজদ্দি হাওলাদার থাইকেন না, ‘হাওলা আদ্দিজ’ নামে লেইখেন কবিতা; মাইয়ার নাম মর্জিনা রাখলে কিন্তু ধরা খাইবেন, অন্তত ‘মারজানা’ রাখেন।

আমি ঢাকা আইছিলাম ১৯৯৪ শালে, আইশা ঢাকার শবচে নামি কলেজে ভর্তি হইতে পারছিলাম; তখন নিজের অনেক কিছুই লুকাইতে চাইতাম, কেননা, ঐগুলা তো এস্মার্ট না; ২/৩ বছরের ভিতরই ঐগুলা একটু একটু বোঝা শুরু করি, আরো ভালো বুঝতে আরো অনেক বছর লাগছে। কিন্তু ফেল টেল কইরা কোন মতে একটা পাবলিক ভার্ছিটিতে ভর্তি হইতে পারছিলাম! শেইখানে আমার এক কেলাশমেট, হলিক্রস কলেজের এক মাইয়া, শে একদমই একিন করতে পারে নাই জে, আমি নটরডেমের ছাইন্সে পড়া পোলা, এমন আনএস্মার্ট লাগছে আমারে, নটরডেমের পোলারা নাকি অন্য রকম!

শেই ‘অন্য রকম’ হইতে আমার জে কখনো লোভ হয় নাই, তা না, কিন্তু চাইলেও পারতাম না! ১ নাম্বার কারন, আমি গরিব, শত্যই গরিব! মানে, মনে হইতো, জামা-জুতা কেনা দরকার দুই-চারটা, একবারে শব কিনতে চাইতাম, পারতাম না, এখনো পারি না; পুরাটা পারতাম না বইলা কিছুই করতাম না 🙂 ।

আরো আরো বোঝার পরে আরো অনেক কিছু ছাইড়া দিছি। এস্পেশালি বুলি/ভাশার বেপারে; খাশ বাংলায় কই কথা, টান ইত্যাদি লুকাই না, শব্দের বেপারে শমাজে শবচে বেশি জেই শব্দটা আছে, জেই ভংগিমাটা আছে, তারেই লই, লইতে চাইছি, একদম পাক্কা ডিছিশন! আর আমার গলাও বেশ চিকন, এক উবার-ডাইভার একবার ফোনে কয়, কই জাইবেন মেডাম?

তো, এইভাবে জৌন বাজারে আমার দাম একদমই নাই বইলা মালুম হয়! তাতে আফছোস হইলেও এইটাই আমি, এমন হওয়া উচিত বইলা হইছি, থাকতেছি, পাক্কা পলিটিটিকেল ডিছিশন একদম।

ওদিকে, এখন তো লিখি কত কি, কবিতাও লিখি মাঝে মাঝেই। কিন্তু মার্কেটে বেইল নাই, অনেক অনেক কঠিন শব কেতাবের নাম থাকে না আমার লেখায়, পড়িও তো না! চাকরিও করি না ভালো, ভালো তো দুর, চাকরিই নাই, কামাইও নাই পেরায়।

জৌন বাজারের কিছু কানুন আছে, খুবই অটো, বেখেয়ালে ঘটতে থাকে। জৌন বাজারে জদি আপনে আনএস্মার্ট হন, তাইলে দাম থাকবে না; আবার পোলা হিশাবে মাইয়াদের ভিতর জদি আপনের দাম না থাকে, অন্য পোলারাও আপনার লাইনে হাটবে না, আপনের মতো হইতে চাইবে না কেউ। আখেরে আপনের বেইল থাকবে না!

হিশাবগুলা খুবই শোজা। আপনের দিকে একটা এস্মার্ট মাইয়া ইন্টারেস্ট দেখাইলে অন্য পোলারা অটোমেটিক বুইঝা ফেলে জে, তার কেমন হওয়া দরকার! এস্মার্ট মাইয়াদের কাছে হট কি কি? এস্মার্ট মাইয়া অবশ্য হরেক কিছিমের! আলাপের শুবিধার জন্য একটা লোকেশন ঠিক করি: দুই চারটা বাংলা লিটারেচার পড়া মাইয়ারা, পাবলিক ভার্ছিটির মাইয়ারা, এনজিও-মিডিয়ায় চাকরি করা মাইয়াদের ধরলাম লোকেশন, হালকা ছায়ানটি, হালকা হিন্দি-ইংরাজি-কোরিয়ান-ইরানি ছিনামা দেখা মাইয়ারাও।

এমন মাইয়াদের কাছে হট পোলা কারা? ভাশা-পয়শা-গায়ের রঙ বাদেও দুই চারটা বেপার আছে; একটিভিজম জেমন একটা (এইটাও নাই আমার 🙁 ) । বহু রেফারেন্স দিতে পারা, বিদেশি ভাবুকদের নাম-কোটেশন বেশ হট, একটু বাম/পোগতিশিল, গ্লোবাল ওয়ার্মিং লইয়া হয়রান একটু, একটু ফেমিনিজমেরও বেশ কাটতি আছে জৌন বাজারে। মাইয়ারা জে এগুলারে হট ভাবে, টার্ন অন ঘটে, তা পোলারা আলগোছে বুঝতে পারে, একদম অটোমেটিক! তাই এগুলাই পোলাদের এস্মার্টনেস; তাই পোলারা অমন হইতে চায়, হইয়া নিজেরে জৌন বাজারে হাজির করে।

এখন, ওগুলা তো হবার দরকার নাই আশলে, ফিচার হিশাবে নিজের ভিতর রাখতে পারলেই হইলো! মানে, দেখাবার মামলা কেবল!

পেমে পড়ার বেলায় মানুশ মনে হয় দেখে কম, শোনে বেশি; বা দেখলেও এক্ট দেখার বদলে এক্টিভিজম দেখে বেশি! পোবলেম হইলো, এইটা পোলাদের জন্য খুব একটা বড়ো ঘটনা না, মাইয়াদের বেলায় জতো বড়, অন্তত আমাদের দেশে/শমাজে!

আমার দেখা বেশিরভাগ মাইয়ার কথা ভাবলে মন খারাপ হয় আমার! একটা পোলার পেম হইলে তার আগের দোস্তদের লগে খাতির কমে না মোটেই, কখনো বা বাড়ে! তার পেমিকা জোগ হয় পোলার ছার্কেলে, দোস্তরা তারে আরো বেশি পাত্তা দেওয়া শুরু করে পেরায়ই! কিন্তু বহু মাইয়ারে দেখছি, পেম হইলে পরে তার নাগরই তার দুনিয়া হইয়া ওঠে! নিজের আগের ছার্কেল-দোস্তদের লগে আর খাতির রাখে না ততো, টাইম দেয় না! এর আলটিমেট ভিকটিম হয় ঐ মাইয়াই! আবার বিয়াও একটা মাইয়ার জিন্দেগিতে জতো বড়ো ঘটনা, একটা পোলার জন্য ততো না! পেমের হবার পরেও বেশিরভাগ পোলা জৌন বাজার থাইকা জায়, মাঝে মাঝেই নিজের দাম জাচাই করে, কিন্তু বেশিরভাগ মাইয়া জৌন বাজার থিকা বাইরাইয়া জায়!

তাই একটা পেম/বিয়া ভাংলে একটা পোলার তেমন পোবলেম হয় না (অতি ফলেন হইলে তো এই হিশাব মিলবে না), কিন্তু একটা মাইয়ার জন্য পেরায়ই পুরা ওলটপালট হইয়া জায়, জিন্দেগি মেছমার হইয়া জায় পেরায়ই, ধাক্কা শামলাইতে পারে না পেরায়ই!

ফেছবুকে এখন এক এক্টিভিস্ট কাপলের পেমের ভাংগন লইয়া আলোচনা চলতেছে। একটা এস্মার্ট পোলার ফিচার হিশাবে জেইগুলা কইলাম উপরে, তার অনেকগুলাই আছে ঐ পোলার। তাই পেমে পড়া মনে হয় কঠিন হয় নাই মাইয়ার!
Continue reading

মঈন উদ্দিনের কবিতা

ইগো

পালিত তিতির মোরগ হাতে
পা তছর দিয়া বান্ধা

রানি বিলকিস চাওয়ামাত্র
কয়েকটা আসছে কলতলায়
সেমাইয়ের থালি হাতে
দুয়েকজনকে গ্রেফতার করেন
বইলা চইলা গেলেন উনি।
শাহিদা, মোছাঃ ইরানি
আর জাফির খানম
বাকিগুলার নামও এনলিস্টেড
বালামখাতা অল্প খোলা
শিঙা হাতে ঠোঁট ছেদার কাছাকাছি রাইখা
খেদ নিয়া গোল কইরা ফুঁ দিতে গিয়া
শুকনা কমলার খোসা কুচি
পানের খিলিতে যায়।
তুলা ধুনে রেদোয়ান
ঠোলে ভইরা গিট দেয়
অনতিদূরে লেইকের পাড়ে
টুলের উপরে প্যানাসনিক ক্যাসেটে
হাই বীটে বাজে
জিয়াউল হক।

সেফটিফিন এলো যে সন্ধ্যায়
এক্স-রে ফিল্মে।

ঔষধ কোম্পানির গাড়ি
লাইনচ্যুত হয়া
ক্র‍্যাক খাইছে।
সার্কেল জুইড়া
সিদ্ধ ছোলার ঘ্রাণে
শাহিদা আক্তার বলে
ফেইসে ব্লাশ নিয়া
সাত নম্বর ল্যাম্পের পোস্ট
ফালায়া বামে মোড় নিয়া
তেরো নম্বর বাসায় গিয়া
দরজা নক কইরা বলেন
আপনার ইজি চেয়ার
ইজ আন্ডার এরেস্ট।

 

প্রসিডিওর

রেড়ির তেল ব্রাশ কইরা
তাতে প্যারাফিন ওয়াক্স দেন।
আটত্রিশ লিংকের চেইন বান্ধেন
পরে প্যাডেল মারেন আস্তে।
আপনার মাছ মরা
তার উপরে ডুলা ভাঙা
মিহি মতন সিলভার চূর্ণ
হামানদিস্তায় ভাজেন।
বেনেমসলার দোকানে গেছেন
বিলাইর লোম থিকা আপনার
এলার্জি হইছে
শরীরে গা-বান্ধার যত
পুরাতন তাবিজের ঠোল আছে
চেঞ্জ কইরা ফালান।
বইতে পড়ছেন রাজা
আর ভিখারি দুইজনরেই
একদিন মরতে হবে
রেড়ির তেল ব্রাশ কইরা
তাতে প্যারাফিন ওয়াক্স দেন।
আটত্রিশ লিংকের চেইন বান্ধেন
পরে প্যাডেল মারেন আস্তে আস্তে।

 

পটাশ পারমেঙ্গেনামে স্নান

(আঁইশশূন্য মাছ মাগুর ও শিঙ্গীকে — )

কেইস:
সর্পাঘাতে স্তব্ধ মিল্লাতের ওয়াইফ

ডায়াগনসিস:
বিশাখা গাইডলাইন দেয়
মুনির উট কিংবা ঘোড়ারে
সাসপেক্ট কইরা আগায়।

সর্পদষ্টরে ধুইয়া পুছে ফেলে
বাবলা গাছের কচি ডাল কুটে
একটা কাঁচা মরিচ খায়া
বলে ঝাল নাই।

দষ্টস্থানে রুলিং মিলের
কুল এন্ড ক্লিন রড আইনা
হালকা টাচ কইরা বলে
স্যরি, ধুপধুনার ব্যবস্থা করেন।

Continue reading

বাঙ্গালী মুসলমানের সাহিত্য-সমস্যা: কাজী আবদুল ওদুদ

কাজী আবদুল ওদুদের এই লেখাটা ছাপা হইছিল ‘শিখা’ পত্রিকার ফার্স্ট সংখ্যায়, ১৯২৭ সালে। ‘শিখা’ পত্রিকা ছিল ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’র পত্রিকা, বছরে একবার ছাপা হইতো; ১৯২৭ টু ১৯৩১ – এই কয় বছরে ৫টা সংখ্যা ছাপা হইছিল। যদিও ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ঢাকায় গঠন করা হইছিল ১৯২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারিতে আর চালু ছিল ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত।

‘শিখা’ পত্রিকারে ‘সেক্যুলার মুসলিম’ একটা ঘটনা হিসাবে দেখার রেওয়াজ এখনো আছে, কিন্তু আমার ধারণা, এইভাবে দেখার ঘটনাটা খালি ভুলই না, এর সিগনিফেকেন্সের জায়গাটা বরং এড়ায়া যাওয়া হয়। 

অই সময়ে নবাব আবদুল লতিফ ‘মুসলিম লিটারারি সোসাইটি’ বানাইছিলেন যখন আবুল হুসেন-কাজী আবদুল ওদুদ ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বানাইছিলেন; নবাবদের’টা ছিল ইংরেজি ভাষায়, আর উনাদেরটা ছিল বাংলা-ভাষায়। কিন্তু উনারা কলোনিয়াল বাংলাতেই লিখতেন, মানে, অইটাই তো তখন ‘বাংলা-ভাষা’। বাংলা-ভাষা জানা লোকজন, মানে ‘শিক্ষিত’ লোকজনের নিয়াই সভা-টভা করতেন, পত্রিকা ছাপাইতেন। কলকাতার এলিটের বিপরীতে ঢাকার এলিট হইতে চাইতেছিলেন – এইরকম না ভাবলেও, কম-বেশি ‘শিক্ষিত বাঙ্গালীদের’কেই রিপ্রেজেন্ট করতে চাইছেন। (এই লেখাটাতে দেখবেন, এখন ‘লোক-সাহিত্য’  বইলা যে জিনিসটা আছে, সেইটারে উনি লিটারেচার হিসাবে কন্সিডার করতে পারেন নাই।…) ‘মুসলিম’ বলতেছি না কারণ উনাদের ফোকাসটা ‘বাঙালি’ বিষয়ের উপ্রেই ছিল এবং এই বাঙালিদের মধ্যে একটা ‘আধুনিক’ মুসলমান সমাজ তৈরি করতে হবে যারা সমাজের নানানদিক নিয়া আলাপ-আলোচনা করবেন, ইন্টেলেকচুয়াল দিশা দিবেন। বাঙালিদের মধ্যে মুসলিম সমাজের জায়গাটারে পোক্ত করবেন – এইরকম। 

মানে, মুসলমানরা বাঙালি না – এইটা কোন মুসলমান ইন্টেলেকচুয়ালের ক্লেইম তো না! এই কথা কইলে ‘সেক্যুলার’ হইতে হবে কেনো! বরং ‘মুসলমানরাও বাঙালি’ – এইটা হইতেছে একটা হিন্দুত্ববাদী ক্লেইম, যার ফলে কোন মুসলমান ইন্টেলেকচুয়াল যদি নিজেরে ‘বাঙালি’ সমাজের লোক ধইরা নিয়া কথা শুরু করেন, তারে ধইরা নেয়া হয় – ‘সেক্যুলার’। এইটা হইতেছে শত বছরের হিন্দুত্ববাদী প্রপাগান্ডার রেজাল্ট। ভুল।

তো,  ‘মুসলিম-সাহিত্য সমাজ’ তথা ‘শিখা’ পত্রিকার সিগনিফিকেন্স বেশ কয়েকটা জায়গায়; এক, উনারা একটা ‘সমাজ’ তৈরি করতে চাইতেছেন – এইটা খুবই বড় একটা উদ্দেশ্য, খালি সাহিত্য করার ঘটনা না এইটা, সাহিত্য তো করতেই চাইতেছেন, কিন্তু সাহিত্য করার ভিতর দিয়া একটা ‘সমাজ’ গঠনের দিকে উনারা আগাইতে চাইতেছেন; সেকেন্ড জিনিস হইলো, নামে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ হইলেও হিন্দু-লেখকরা এইখানে নিষিদ্ধ না, বরং মুসলমান এবং হিন্দু যে দুইটা আইডেন্টিটি – এর রিকগনিশনের জায়গা এইটা, সাবজেক্ট হিসাবে ‘মুসলমান’ হইতেছে ঘটনাটা, সাহিত্যে একটা ‘অস্পৃশ্য’ ‘অদৃশ্য’ কমিউনিটিরে সামনে নিয়া আসা…; থার্ড এর জিওগ্রাফিক্যাল সেন্টার হইতেছে, ‘ঢাকা’, কলকাতা না (মনে রাইখেন সালটা ১৯২৭-৩১), এই জায়গাটারে মনে হইতে পারে এখনকার চিটাগাং, সিলেটের মতন ব্যাপার ঢাকার এগেনেস্টে, কিন্তু পরবর্তী হিস্ট্রির কারণে ব্যাপারটা ঠিক ‘আঞ্চলিক’ হয়া থাকে নাই, আর ক্লেইমটাও ঠিক ‘আঞ্চলিক’ হয়া উঠার না, বরং ঢাকা’রে একটা সেন্টার হিসাবে গইড়া তোলারই; ফোর্থ হইলো, মুসলমান-সমাজের সাহিত্যে যে কোন কন্ট্রিবিউশন নাই – তা না; ‘গরিব’ ও ‘গ্রামের’ মুসলমানদের গান, সংস্কৃতি বরং অনেক পাওয়ারফুল – এই আন্দাজ উনাদের আছে, কিন্তু ‘শিক্ষিত’ মুসলমানদেরই বরং কোন সাহিত্য-সংস্কৃতি নাই, নাই কেন? – এই জিনিসটা উনারা ইনকোয়ারি কইরা বুঝতে চাইতেছেন এবং কিছু করতে চাইতেছেন; তো, ক্লাস-কনশাসনেসের জায়গাটারে উনারা এড়ায়া গেছেন – ব্যাপারটা এইরকম না, উনারা মনে করতেছেন এই ‘শিক্ষিত’ মুসলমানরা তাদের সমাজের প্রতি দায়িত্বটা পালন করতেছেন না, এনগেইজ হইতেছেন না এবং সমাজরে এনগেইজড করতেছেন না, যদিও ‘আধুনিকতার’ পারসপেক্টিভে এই কাজটা উনারা করতেছেন, কিন্তু অইটার ভিতরে ঘটনাটারে আটকায়া ফেললে ভুল হবে আসলে, উনাদের ইন্টার-একশন করার, যাচাই-বাছাই করার জায়গাগুলারে বরং ইগনোর করা হবে। কিন্তু আনফরচুনেটলি এইরকম একটা রিডিং আছে আমাদের দেশে ‘শিখা’ পত্রিকা নিয়া।…

‘শিখা পত্রিকা’ আসলে শেষ হয়া যায় আবুল হুসেন সাহেবের এই জায়গা থিকা সইরা যাওয়ার পরেই। যদিও বলা হয় ‘রক্ষণশীল মুসলিম সমাজ’ উনার এগেনেস্টে ঝামেলা করতেছিল, ঘটনা ছিল আসলে ঢাকার নবাব পরিবারের লোকজন উনার সোশ্যাল ও পলিটিক্যাল পজিশনগুলারে নিতে পারতেছিল না। এইরকম কথাও আছে যে, উনারে বিচার করার নামে ৪০ হাত নাকে খত দেয়াইছিল, নবাব বাড়ির লোকেরা। (যদিও এই ঘটনার লিখিত কোন ডকুমেন্ট পাই নাই, কিন্তু লেখা হয় নাই বইলা ঘটনা ঘটে নাই – এই কনক্লোশনে যাওয়া মনেহয় ঠিক হবে না। বরং বাংলাপিডিয়ার এন্ট্রিতে এর কিছু ইশারাই আছে।)  উনি পরে ঢাকা ভার্সিটির চাকরি ছাইড়া দিয়া কলকাতাতে চইলা যান। উনি চইলা যাওয়ার পরে শিখা পত্রিকার একটা সংখ্যা ছাপা হয়। আর তারপরেই দ্য এন্ড হয়। আর কাজী আবদুল ওদুদ ১৯৪৭ সালে ঢাকা ভার্সিটির চাকরির অফার ফিরায়া দিয়া কলকাতা’তে চইলা যান। উনার এই ডিসিশনে আবুল হুসেনের ঘটনার ট্রমা কি কাজ করে নাই? 

২.
তো, যেইটা শুরুতে একটু বলতে নিছিলাম, সাহিত্য বলতে কাজী আবদুল ওদুদ “উচ্চশ্রেণীর” জিনিসরেই বুঝাইছেন, বলছেনও: “বাংলা সাহিত্যে বাংলার উচ্চশ্রেণীর মুসলমানের বিশেষ লক্ষ্যযোগ্য কোন দান নাই; অর্থাৎ এমন দান যার জন্য বাংলার চিত্তে শ্রদ্ধা জেগেছে, তা আপনারা জানেন। কিন্তু বাংলার লোকসঙ্গীতে নিম্নশ্রেণীর মুসলমানদের দান সাদরে গৃহীত হয়েছে…” তো, ‘নিন্মশ্রেণী’ প্রথমেই বাদ। এই বাদ দেয়াটা, দাবি ছাইড়া দেয়াটা ঠিক হয় নাই আর কি। (কলকাতার কবিগুরুরা বরং পরে এরই সাহিত্যিক দখল নিছেন, কলোনিয়াল বেচাবিক্রির বাইরে এখনো এই গ্রাম-বাংলা বেইচা চলতেছেন।…) 

কিন্তু যেই জায়গাটাতে উনি ফোকাস করছেন, সেইটা খুব ভালোভাবেই আইডেন্টিফাই করছেন। বলছেন, সাহিত্য হয় না ‘পিওরেটিয়ান’ এর কারণে, ‘খাঁটি বাংলা-ভাষায়’ লেখতে হবে, ‘খাঁটি মুসলমান হইতে হবে’ – এইসব বালছাল তো এখনো আছে সমাজে। ওদুদ সাহেব অই পর্যন্ত গেছেন, কিন্তু এইটা কই থিকা আসছে, সেই পর্যন্ত যান নাই বইলা আমার মনে হইছে। কিন্তু সেইটার ইশারা উনার লেখাতেই আছে কিছুটা। উনি বলছেন, এইখানে যে ‘হিন্দু’ সেই হিন্দু দুনিয়ার মানুশের লগে মিলতে পারে নাই, জাতি-বর্ণ নিয়া পইড়া রইছে, যার এগেনেস্টে মুসলমানদের মধ্যেও ‘সাম্প্রদায়িক’  একটা অবস্থা তৈরি হইছে। তো, এই যে ‘খাঁটি’ হওয়ার লোভ, এইটা যে খালি মুসলমানদের মধ্যে আছে – তা না, কোন হিস্ট্রিক্যাল ইনফিরিয়রিটি থিকা এইটা আসছে। নিজেদের কালচারাল ডিফরেন্সরে নিজেরা না নিতে পারার ঘটনাও থাকতে পারে, পলিটিক্যাল পাওয়ারের বাইরেও।… মুসলমান এবং হিন্দু – দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘বাঙালি’ হিসাবে এই ইনফিরিয়রিটি ইন-বিল্ড আছে মনেহয়। এর একটা ইনকোয়ারি দরকার।… মানে, ঘটনা’টা খালি এইটা না যে, পাকিস্তান বা ইরান-ইরাক-মিডলইস্টের মুসলমান’রা বাঙালি মুসলমানদের এনাফ বা খাঁটি মুসলমান মনে করে না (ওস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ কইতেছিলেন, বিহারের লোকজন তারে খেপাইতো, বেটা তুই মাছ খাস, মাংস খাস না, তুই আবার কিসের মুসলমান!), বরং নর্থ ইন্ডিয়ান হিন্দুরাও বাঙালি হিন্দুদেরকে একটু কম-হিন্দুই মনে করার কথা। তো, এই ঘটনাগুলা, পারসেপশনগুলা এইখানে আছে। যেইগুলা নিয়া কথা কওয়া হয় না।…

৩.
তো, কাজী আবদুল ওদুদের কথাটা খালি এইটুকই না। বরং উনার লেখাটারে, অই সময়ের ঘটনাগুলারে নতুন ভাবে পড়ার দরকার আছে, নতুন কইরা কথা বলার আগে দেখার দরকার কি কি জিনিস উনারা কইতে চাইছিলেন, কোন জায়গা থিকা বলছিলেন।

নতুন ইতিহাসের কথা ভাবতে হইলে আগে পুরান ইতিহাসের উপর থিকা পর্দা সরাইতে হবে। এইটা করার জন্য কাজী আবদুল ওদুদের লেখাটার লগে যোগাযোগ করাটা, ইন্টারপ্রেট করার জরুরি মনে করতেছি আমরা। 

তো আসেন, পুরান লেখাটা পড়ি! নতুন বুঝ বানানোর কোশিশ করি।  

/ই.হা.

………………………………………………………………

 

বাংলার লোকদের দোষ-ত্রুটি নিশ্চয়ই খুব কম নয়। তবু মনে হয়, এদেশের কথা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, কেননা অপেক্ষাকৃত অল্প কালের ব্যবধানে মানুষের চিত্তের অপূৰ্ব্বতার নব নব প্রকাশ এদেশে ঘটেছে। কিন্তু বাংলার ঐতিহাসিককে যদি জিজ্ঞাসা করা যায়, বাংলার গৌরবসামগ্রী এই যে সমস্ত আন্দোলন, যেমন বৈষ্ণব আন্দোলন, ব্রাহ্ম আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন ইত্যাদি এ সমস্তের অন্তরে মুসলমান নামধেয় বাংলার এক বিশাল মানব সমাজের কি দান, তাহলে মোটের উপর তৃষ্ণীম্ভাব অবলম্বন ভিন্ন তাঁর হয়ত আর গত্যন্তর থাকে না।

বাংলার মুসলমানের আত্মপ্রকাশের এই দীনতা লক্ষ্য করেই আমাদের কোন কোন সমালোচক বলতে চান বাঙ্গালী মুসলমানের সাহিত্য-সমস্যা, আর্থিক সমস্যা, শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্নভাবে বিচার করে দেখবার অবসর কোথায়? সেই গোটা সমাজটাই যে একটা সমস্যা।

এই শ্রেণীর সমালোচকদের কথার গুরুত্ব অনেকেই উপলব্ধি করবেন সন্দেহ নাই। বাংলার মুসলমান সমাজের বয়স কম নয়, অন্যূন সাত আট শত বৎসর হবে; এই দীর্ঘ কালেও সে সমাজ যদি এমন কোনো শক্তিমানের সূতিকাগার না হয়ে থাকে—যাঁর কৰ্ম্ম প্রেরণায় সেই সমাজের লোকদের অন্তরে নব নব আশা ও উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে ও অন্যান্য সমাজের লোকের চিত্তে শ্রদ্ধা ও আনন্দ জেগেছে, তা হলে তার অবস্থা শুধু শোচনীয় নয় অত্যন্ত চিন্তনীয়। তারই ইঙ্গিত করে যদি কেউ বলেন, বাংলার মুসলমান-সমাজ হীন উপকরণে গঠিত, তবে তাতে শুধু অসহিষ্ণু হয়ে আর কি লাভ হবে।

কিন্তু বাস্তবিক কি বাংলার ইতিহাসে মুসলমানের কিছুমাত্র দান নাই? সেকালের মুসলমান নবাব-বাদশাদের দানের কথা ধরতে চাই না; বাংলার সাধারণ মুসলমান, যারা পুরুষানুক্রমে এই বাংলার মাটির উপর জন্মেছেন ও শেষে এই মাটিতেই দেহরক্ষা করেছেন, তাঁরা কি সর্বপ্রকারে এতই দরিদ্র ছিলেন যে শুধু প্রাণ-ধারণের অতিরিক্ত কোন কিছু কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করবার সৌভাগ্য তাদের হয় নাই যাতে করে শনৈঃশনৈঃ-গ্রথিত দেশের ভাব ও কৰ্ম্মসৌধে তাঁদের স্মৃতি বিজড়িত থাকতে পারে? এই প্রশ্নটি এক সময়ে আমাকে কিছু বিব্রত করেছিল। কিন্তু শীঘ্রই এই কথাটি বুঝে আনন্দিত হয়েছিলাম যে, বাংলার উপর মুসলমান তরু শুধু নিস্ফল হয়ে দাঁড়িয়ে নাই। অতীতের কুক্ষি ঘেঁটে দেখবার তেমন সুযোগ আমার হয় নাই, তবে অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে দেখতে পাই, বাংলা স্মরণীয় নীলবিদ্রোহে প্রধানতঃ মুসলমান চাষীই লড়েছিল, অন্যায়ের সামনে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে প্রাণপণ বলে সে-ই বলেছিল—’মানব না’। স্বর্গীয় দীনবন্ধু মিত্র তাঁর নীল দর্পণে’ এক ‘তোরাব’কে অমর করেছেন। কিন্তু মুসলমান চাষী সম্প্রদায়ে ‘তোরাব একশ্চন্দ্র নয়, বহু নক্ষত্রের অন্যতম। আর বহুদেববিহীন, অস্পৃশ্যতা-নির্মুক্ত মুসলমান সমাজের কোলেই এই ‘তোরাব’-এর দল লোভে ভাল।

এই নীলবিদ্রোহের মুসলমান চাষীর কথার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার শিক্ষা বিস্তারে মহসীনের দানের কথা , ঢাকা নগরীর শ্রীবৃদ্ধি সাধনে ঢাকার নবাবদের দানের কথা মনে হয়েছিল, আর তারই সঙ্গে মনে হয়েছিল, এঁরা ত মুসলমান সমাজে নিঃসঙ্গ নন। কি কারণে নিশ্চয় করে বলা শক্ত, ধনবান মুসলমানেরা ধনকে কোনদিন বহুমূল্য মনে করতে পারেন নাই, তার দানের ধারা অনায়াসে তাঁদের চার পাশে ছড়িয়ে পড়তে বাধা পায় নাই; আর তাতে করে মানুষের অঙ্গনে নিত্যই নব নব আনদ-কুসুম ফুটেছে। একালের চাঁদমিয়া, ফাজেল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন প্রভূতিরও দানের কথা যখন ভাবতে যাই তখন বুঝতে পারি, অর্থব্যয়ে চিরঅকাতরচিত্ত মুসলমানের এরা অযোগ্য উত্তরাধিকারী নন। এই যে, মানুষের দল, মুখের ভাষা যাদের ভিতরে অকর্মণ্য, কিন্তু যাদের জীবনের ভিতরে উপলব্ধি করা যায় যেন আদিম কূৰ্ম্মের নীরব বীৰ্য, অথবা আদিম প্রকৃতির প্রাচুর্য, এদের মাহাত্ম সম্বন্ধে অনবগত থাকা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু দেশের জীবনোৎসবে এদের সেবার স্পর্শ লাগে নাই, অথবা ভবিষ্যতে এদের এই প্রাণ-অবদান জাতির আঙ্গিনায় ‘রঙীন হয়ে গোলাপ হয়ে উঠবে না’, একথা অবিশ্বাস্য বলে ভাবতে স্বতঃই ইচ্ছা হয়।

Continue reading

অডাসিটি অব বাকুরাউ

বাকুরাউ হইল একটা সিভিল গ্রাম। সেই গ্রামে ইশকুল আছে, লাইব্রেরী আছে, ইন্টারনেট আছে, ছোট্ট একখানি মিউজিয়ামও আছে। মানুষ আছে ভালো-মন্দ মিলায়া। কিন্তু পানি নাই এক ফোটাও। পানি নিয়া গভীর পলিটিক্স আছে। পানি নিয়া আসতে হয় ট্রাকে ভইরা। কেন্দ্র হইতে বহু দূরে এই গ্রামীণ পৌর এলাকা চরম প্রাতিষ্ঠানিক কুটচালের শিকার। তথাপিও এর বাসিন্দারা নিজেদের মতন থাকতে পারে, থাকতে থাকে।

কিন্তু এই সর্বপ্রতিষ্ঠানবাদী রিয়েলিটিতে, বড় প্রতিষ্ঠান ছোট প্রতিষ্ঠানগুলিকে খেয়ে ফেলতে পারে। ছোট এই গ্রাম- দূরবর্তী লোকালয় তাই সহজেই নাই হইয়া যাইতে পারে। আমেরিকার গেমার মার্ডারারদের জন্য এহেন গ্রাম সহজ টার্গেট। এরা তাই প্রথমেই এই রোউগ গ্রামটিকে মুইছা দেয় গুগলের ম্যাপ হইতে। ব্যস হইয়া গেল! তারপর দূর থেইকা গুলি কইরা মারা। সেই মারায় এথিকসও আছে। বাচ্চাদের মারে না অরা। কেউ মারলে দুঃখ পায়, এইরকম।

কিন্তু এই গ্রামের আছে রেজিস্টেন্সের হিস্ট্রি, আছে পেশাদার খুনি রেসিডেন্স। সর্বশেষ কনফ্রন্টেশনে দেখা যায়, বাসিন্দারা একদম তুলাধোনা কইরা ফালায় এমেরিকানগুলিরে। প্রত্যেকটার কল্লা কাইটা গলার উপর বসায় রাখে ঘরের সিড়িতে। খালি পান্ডাটারে মাটির নিচের গারদে জ্যান্ত চালান কইরা দেয়। পান্ডাটা কল্লাগুলি দেখতে দেখতে ঢুকতে থাকে গারদে আর কয়, হাউ ক্রুয়েল!

প্রান্তের খুনাখুনিগুলি সব সময়ই ক্রুয়েল কলোনাইজড চোখে। আর কলোনাইজারদের খুনাখুনি এত এত এথিকাল সাইকোলজিকাল ওভারটোন দিয়া ঘিরা থাকে যে ওগুলি খুনই মনে হয় না!

ব্যাপারটা কখনোই এমন না যে প্রান্তের মানুষগুলি ভালো, আর কেন্দ্রেরগুলি খারাপ। মানে আমরা তো দেখিই বাকুরাউতে ভাড়াটে কিলারও আছে। সো ইস্যু সেইটা না। জেমস বল্ডউইন এমেরিকান কালোদের কথা কইতে গিয়া বলছিলেন যে, কালোদের মইধ্যে মিসোজিনিস্ট, মার্ডারার, রেপিস্টরা আছে। সমস্যা হইতেছে, যখন মার্ডারার ব্ল্যাক হয়, তখন যেন এইটা তার ব্ল্যাকনেসের সমস্যা হইয়া দাঁড়ায়, আ নিগ্রো প্রবলেম। মানে প্রান্তের খারাপগুলিই অরিজিনাল খারাপ, যেনবা খারাপের ডেফিনিশনটাই পয়দা হয় প্রান্ত হইতে। ফলে বাকুরাউয়ের লোকেরা যখন খুন করে তখন সেইটা ‘হাউ ক্রুয়েল’ হইতে পারে! কারণ অরা তো কল্লা কাটছে! আর হোয়াইট আমেরিকানদের খুন করার মইধ্যেও আছে পোয়েটিক ফিলোসফিক সায়েন্টিফিক এপ্রোচ! আইডিয়ার স্ফুরণ! কিলিং এজ আ গেইম, ফাংকি তো ব্যাপারটা! Continue reading

ইন্টারভিউ: অক্টাভিও পাজ

লাতিন আমেরিকান লেখক হইলেও পাজ নিজেরে সরাসরি রাজনীতির থেকে দূরে রাখতেন। নিজেরে পাবলো নেরুদাদের মতো স্টেটসম্যান টাইপের কবি মনে করতেন না। নিজেরে কইতেন প্রান্তে দাড়ায়ে থাকা একজন সোশ্যাল আর পলিটিক্যাল ক্রিটিক। এইটা খুব মজার যে, পলিটিক্সে একজন লেখক কেমনে জড়াবে সেটা নিয়া বলতে গিয়া পাজ এলিয়টের কথা তুলছিলেন। যদিও এলিয়টের বিশ্বাসের লগে তার তেমন মিল নাই। তবে পাজ তার নিজেরে সেই অর্থে রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে পারেন নাই। ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়তে হইছিল তারে। মেক্সিকান ছাত্র আন্দোলনে সরকারের জালিমের মতো আচরণ করলে,  প্রতিবাদে দূতাবাসের চাকরি ছাইড়া দিছিলেন। আমাদের এখানে রাজনীতি,সাহিত্য,মোরাল পজিশন, লেখকের অবস্থান- এই জিনিসগুলা খুব ক্লিয়ারভাবে আলোচিত হয় না। অনেকসময় এই ক্যাটাগরিগুলারে খুব রিজিডভাবে আলাদা কইরা ধইরা নেয়। পাজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে দেখলে, এটারে নতুনভাবে বিবেচনা করা যায়।

অভিজ্ঞতার কথা যখন কইতেছি , তখন এইটাও কইতে হয় যে- পাজের সাহিত্য বুঝতে হইলে তার অভিজ্ঞতার জায়গাটা বুঝা জরুরি।অভিজ্ঞতা ইটসেল্ফ একটা টুল। একজন লেখক কি লেখবে না লেখবে,কেমনে লেখবে- এইসব নির্ধারনে অভিজ্ঞতা একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে। এমন এক সময়ে জন্মাইছিল পাজ, যখন তারে দুইটা বিশ্বযুদ্ধ আর স্পেনের গৃহযুদ্ধ দেখতে হইছে। তবে অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় লেখকগো উপ্রে যুদ্ধের যে প্রভাব আছিল, সেটা পাজের ক্ষেত্রে ওইরকম ছিল না। তিনি কইছিলেন, ‘মানুষ একইলগে হিস্টরির বাইরে আর ভিতরেও।’  মানুষ হিস্টরির যেকোন পিরিয়ডেও বাইচ্যা থাকা, কাজ করা, প্রেম করা’র মতো নর্মাল কাজগুলা কইরা যায়। পাজের কথা থেকে এইখানে বুঝা যায় , হিস্টরি না, মানুষের লাইফই পাজের সাহিত্যে জরুরি বিষয়।

  পাজ দশ বছরেরও বেশি সময় দেশের বাইরে কাটায়ছিলেন। আম্রিকার ভ্রমণ তার কবিতার সামনে নয়া দুয়ার খুইল্যা দিছিল। আর ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞতার জোর কত বেশি আছিল, ওইটা ওর পরের দিকের বইগুলা পড়লেই বুঝা যাইবো।  কোন রাইটারের লেখা পড়া মানে ব্যক্তিমানুষ হিসেবে লেখকের অভিজ্ঞতার লগে একধরণের ডিল করাও। পাজের অভিজ্ঞতার একটা বড় জায়গা জুইড়া লাতিন দেশগুলা, ইউরোপ, আম্রিকা আর এশিয়ার অভিজ্ঞতা জায়গা কইরা নিছে। ওর সাহিত্যের সবজায়গায়ই এটার প্রমাণ আছে।

কবিতার ক্ষেত্রে খুব কৌশলীই আছিলেন পাজ। ফর্ম নিয়া কাজ করছেন, কাজ করছেন বড় কবিতা নিয়া। কবিতা নিয়াও বিস্তর লেখালেখি করছেন। তার কাজগুলার উপ্রে সুররিয়ালিজমের প্রভাব ছিল। প্রথম যখন কোন একটা এক্সিবিশনে সুররিয়ালিস্ট পেইন্টিং দেখছিলেন, ওইটারে রিয়েলিজম হিসেবেই নিছিলেন। পাজের মনে হইছে আসলে রিয়েলিটির ব্যাপারটাও তো অনেকটা এমন। লাতিন আমেরিকার অনেক লেখকগো ক্ষেত্রেই দেখছি রিয়েলিটিরে এমনে দেখতে পাওয়ার ব্যাপারটা।

কবিতা ছাড়াও অন্যান্য অনেক বই লেখছেন। মেক্সিকোর ইতিহাস আর এর  ট্র্যাডিশনের পুরনো শিকড়গুলা নিয়া পাজ সবসময় আগ্রহী ছিলেন। তবে নিজেরে শেষ পর্যন্ত একজন কবি হিসেবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। মনে করতেন, তার লেখা দুই তিনটা কবিতার জন্যই মানুষ তারে মনে রাখবেন। এও বলছেন, কবিতা ছাড়া কোন সোসাইটি টিইক্যা থাকতে পারে না। কারণ, কবিতা হইলো মানুষের লগে মানুষের সম্পর্কের ব্রিজ, একের লগে অপরের কম্যুনিকেশনের মাধ্যম।

তাসনিম রিফাত

যাত্রাবাড়ি    

………………………….

 

উচ্চতায় খাটো আর বয়স সত্তরের কাছাকাছি হইলেও, অক্তাভিও পাজের শার্প চোখ তার চেহারায় একটা জোয়ান মানুষের ছাপ দিছে। উনার পাণ্ডিত্যপূর্ণ,পলিটিক্যাল কবিতা আর গদ্যগুলাতে উইঠা আসছে মেক্সিকান ইতিহাস, বিশেষ কইরা ইন্ডিয়ান অতীতের মধ্য দিয়া এরে দেখার  ব্যাপারটা। একইসাথে ইরোটিক প্রেম দিয়া কেমনে মানুষের গভীর নিঃসঙ্গতাগুলারে ওভারকাম  করা যায়, সেইসব জিনিসও উইঠা আসছে পাজের সাহিত্যে। সিজার ভায়েহো আর পাবলো নেরুদার পাশাপাশি পাজরেও বিশ শতকের দক্ষিন আমেরিকার সেরা কয়েকজন কবির মধ্যে একজন হিসেবে ধরা হয়। এই ইন্টারভিউ নেওয়া হইছিল ১৯৯০ এর কলম্বাস দিবসে। এর তিনদিন পরেই পাজ নেরুদার লগে নোবেল লরিয়েটগো কাতারে নাম লেখান।

পাজ জন্মাইছিলেন ১৯১৪ সালে, মেক্সিকোতে। উনার বাপ ছিল উকিল, আর দাদা উপন্যাসিক। পাজের জুয়ান বয়সে কবি হইয়া উঠার পিছনে দুইজনেরই প্রভাব ছিল। পাজের বাপ ছিলেন মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো জাপাতার (মেক্সিকান বিপ্লবী নেতা,দরিদ্র কৃষক জাপাতা ধনীগো জমি দখল নিয়া আন্দোলন কইরা জনপ্রিয় হইছিলেন)  উপদেষ্টা। বাপের কাছ থেকে তিনি সোসাইটির বিভিন্ন জিনিসের ভ্যালুগুলা নিয়া জানতে পারছিলেন আর উপন্যাসিক দাদার কাছ থেকে খোঁজ পাইছিলেন শব্দের দুনিয়ার। ছোট থাকার সময়ই পাজ তার দাদার বিশাল লাইব্রেরিতে ফ্রিলি ঘুইরা বেড়াইতে পারতেন। এর ভিতর দিয়াই তার সাথে স্পেনিশ আর লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের বিশাল জগতের মোলাকাত হইছিল। মেক্সিকো ইউনিভার্সিটিতে লিটারেচার পড়তে গেছিলেন উনি, তবে ডিগ্রি না নিয়াই ভার্সিটি ছাইড়া দেন।

স্পেনে যখন গৃহযুদ্ধ ছড়াইয়া পড়তেছিল, পাজ তখন রিপাবলিকানদের সাপোর্ট দেন।  ১৯৩৭ সালের দিকে উনি স্পেন ছাইড়া চইলা যান। মেক্সিকোতে ফিরার পরে উনি  টলার ( ওয়ার্কশপ) আর এল হিখো প্রডিগো (‘দ্যা চাইল্ড প্রডিজি) নামে দুইটা সাহিত্য সাময়িকী বাইর করেন, যেগুলারে কেন্দ্র কইরা সেসময় নয়া প্রজন্মের অনেক মেক্সিকান লেখক বাইড়া উঠছিলেন। ৪৫ সালে মেক্সিকান ডিপ্লোমেটিক সার্ভিসে ঢুকেন। এর আগে  ৪৩ সালে উনি গাগেনহেইম স্কলার্শিপের আন্ডারে আমেরিকা ঘুইরা আসেন। ৪৭ থেকে ৫১ সাল পর্যন্ত পাজ প্যারিসে ছিলেন। প্যারিসে থাকার সময় উনি সার্ত্রে, ব্রেতো, কাম্যুসহ অনেক বুদ্ধিজীবীর লগে দেখা করেন। একইসময় এদের লেখা পাজের সাহিত্যে বড় প্রভাব রাখছিল। ৫০ এর দশকের প্রথমদিকে পাজরে ডিপ্লেমেটিক কাজে জাপান আর ইন্ডিয়ায় যাইতে হইছিল। সেখানেই উনি বুদ্ধিস্ট আর তাওয়িস্ট ক্লাসিকের লগে পরিচিত হইছিলেন। উনার মতে , বুদ্ধিস্টরা যে  সেল্ফরে একটা ইল্যুশন, বোধ, চিন্তা আর ডিজায়ারের  একটা যোগফল হিসেবে দেখছে – দুই হাজারে বছর পার হইয়া গেলেও, এটা ওয়েস্টার্ন কবিতার জন্য জরুরি। ১৯৬৮ সালের অক্টোবরের মেক্সিকো সিটির ছাত্র আন্দোলনের উপরে সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে উনি ডিপ্লোমেসির জব ছাইড়া দেন।

১৯ বছর বয়সে পাজের প্রথম কবিতার বই ‘স্যাভেজ মুন’ বাইর হইছিল। এরপর মেক্সকোর জাতীয় চরিত্র নিয়া উনার সবচেয়ে প্রশংসিত বই ‘দ্যা ল্যাবিরিন্থ অফ সলিচ্যুড’ বাইর হয়। ১৯৫৭ সালে বাইর হয় বড় কবিতার বই ‘সান স্টোন’। জে এম কোহেন এই কবিতারে ‘পশ্চিমি দুনিয়ায়  ছাপা হওয়া শেষ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কবিতার একটা’ কইছিলেন। এই কবিতার ৫৮৪ টা লাইন ভেনাস গ্রহের ৫৮৪ দিনের চক্ররে রিপ্রেজেন্ট করছে। পাজের অন্যান্য কাজের মধ্যে আছে ইগল অর সান? (১৯৬৭), অলটারনেটিং কারেন্ট (১৯৫৬), দ্যা বো এন্ড দ্যা লাইয়ার (১৯৫৬), ব্ল্যাংকো (১৯৬৭), দ্যা মাংকি গ্রামারিয়ান (১৯৭১), আ ড্রাফ্ট অফ শ্যাডোজ (১৮৭৫), এ ট্রি উইত্থিন (১৯৫৭।পাজ উনার বউ মারিও-হোসের সাথে মেক্সিকো সিটিতে থাকেন। উনার বউ একজন আর্টিস্ট। অক্টাভিউ পাজ কবিতার জন্য ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যান্ড পিক্স,জেরুজালেম প্রাইজ, সেরভার্ন্তেস প্রাইজসহ অনেক পুরষ্কার পাইছেন।    Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →