Main menu

বঙ্গবন্ধুর শেষ পাবলিক ভাষণ

১৯৭৫ সালের ২৫ শে জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী পাশ হওয়ার পরে নতুন সরকার ব্যবস্থা কি রকম হবে, সেইটা জনগণের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্যাখ্যা করেন ২৬শে মার্চ, ঢাকার সোহরায়োর্দি মাঠে, বিশাল এক জনসভায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট  নির্মমভাবে খুন হওয়ার আগে এইটা ছিল উনার শেষ পাবলিক ভাষণ। ভাষণ হিসাবে এইটা খুবই ইম্পর্টেন্ট, উইকিপিডিয়ার এন্ট্রি’তে (https://cutt.ly/2jM02VM) বলা হইছে : ২৬ মার্চ ১৯৭৫ মুজিবুর তার দ্বিতীয় বিপ্লব পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন, বিপ্লবের চারটি উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং বহুমাত্রিক সমবায়কে অর্থনৈতিক একক হিসাবে গঠনের অভিপ্রায় ঘোষণা করেন।

পরের দিন, ২৭ শে মার্চ, দৈনিক সংবাদে এই ভাষণের ট্রান্সক্রিপ্ট ছাপা হয়। ২০১৯ সালে বাংলা ট্রিউবিন পত্রিকা সেইটা রিপ্রিন্ট্র করে। (https://cutt.ly/xj1lPmX)  এই ওয়েব সাইটেও সেই ট্রান্সক্রিপ্ট’টা আছে:  1975.03.26 | বঙ্গবন্ধুর ভাষণসমগ্র | বাকশাল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ | সংগ্রামের নোটবুক (songramernotebook.com)  কয়েকটা অডিও, ভিডিও লিংকও অনলাইনে এভেইলেবল। কিন্তু কোন লিংকেই সংবাদের ট্রান্সস্ক্রিপ্টের পুরা অডিও বা ভিডিও নাই। কিন্তু অডিও-ভিডিও যতটুকই পাওয়া যায়, সেইগুলা শুইনা বুঝা যায়, সংবাদের ট্রান্সক্রিপ্ট’টা পুরাপুরি অথেনটিক না, বঙ্গবন্ধুর কথারে ‘লিখিত রূপ’ দেয়ার একটা চেষ্টা ছিল; যা এখনো চালু আছে। যেমন ধরেন, বঙ্গবন্ধু কইছেন, “ফোর প্রিন্সিপাল”, ট্রান্সক্রিপ্টে লেখছে, “চারটি রাষ্ট্রীয় আদর্শ”; বঙ্গবন্ধু কইছেন “স্কয়ার মাইল”, লেখছে “বর্গমাইল”; বঙ্গবন্ধু কইছেন, “জাগা”, লেখছে “জায়গা” – এইরকম প্রতিটা প্যারাতে (আমার ধারণা, ইচ্ছা কইরা) ভুল লেখছে। রাজনৈতিক সিগনিফিকেন্সের বাইরেও, এইগুলা কোন ইনোসেন্ট ঘটনা না।…

তো, এইখানের ট্রান্সক্রিপ্টে একটা অডিও আর একটা ভিডিও ফাইল ফলো করা হইছে। অডিও’টা এই লিংকে পাইবেন: http://103.156.52.70/ (১১৬ নাম্বার ভাষণে অডিও’টা আছে। কিন্তু একটু কনফিউজড হয়া যাইতে পারেন কারণ প্রথম ১১/১২ মিনিটে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ। এর পরে ভাষণটা শুরু হইছে।) এবং ভিডিও লিংকটা এইখানে পাইবেন: https://www.youtube.com/watch?v=n2l6eGSIfyM তবে দুইটা লিংকই ইনকমপ্লিট। কিছু কিছু অংশ বাদ দেয়া হইছে। এই অডিও এবং ভিডিও’তে যেই অংশটা পাওয়া যায় নাই, কিন্তু দৈনিক সংবাদের নিউজে ছিল, সেইটা ব্র্যাকেটে গ্রে কালারে রাখা হইছে।

ই. হা.

………………………..

২৬শে মার্চ, ১৯৭৫। সোহরার্দি মাঠ, ঢাকা।

আমার ভাই ও বোনেরা, আজ ২৬শে মার্চ। ২৫শে মার্চ রাত্রে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষকে আক্রমণ করেছিল। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ লোককে হত্যা করেছিল। সেদিন রাত্রে বিডিআর-এর ক্যাম্প, পুলিশ ক্যাম্প, আমার বাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়, চারিদিকে আক্রমণ চালায় ও নিরস্ত্র মানুষের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশবিক শক্তি।

বাংলার মানুষকে আমি ডাক দিয়েছিলাম। ৭ই মার্চে আমি প্রস্তুত করে দিয়েছিলাম। যখন দেখলাম আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে, সেই মুহূর্তে আবার আমি ডাক দিলাম, আর নয়, মোকাবিলা কর! যে বাঙালি যে যেখানে আছে, যার যা কিছু আছে শত্রুর মোকাবিলা কর। বাংলার মাটি থেকে শত্রুকে উৎখাত করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীন করতে হবে। বাঙালিকে, সাড়ে সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবে না।

দুনিয়ার মানুষের কাছে আমি সাহায্য চেয়েছিলাম। আমার সামরিক বাহিনী, যারা বাঙ্গালী ছিল, আমার বিডিআর, আমার পুলিশ, আমার ছাত্র, যুবক ও কৃষকদের আমি আহ্বান করেছিলাম। বাংলার মানুষ রক্ত দিয়ে মোকাবিলা করেছিল। ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হল। লক্ষ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত হারাল। শত শত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হল। দুনিয়ার জঘণ্যতম ইতিহাস সৃষ্টি করল পাকিস্তানের শোষক শ্রেণী, যা কোনদিন দুনিয়ায় হয় নাই। দুনিয়ার ইতিহাসে এত রক্ত স্বাধীনতার জন্য কোন দেশ দেয় নাই, যা বাংলার মানুষ দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, তারা এমনভাবে পঙ্কিলতা শুরু করল, যা কিছু ছিল ধ্বংস করতে আরম্ভ করল। আমার এক কোটি লোক ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিল; তার জন্য আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব। আমি তাদের স্মরণ করি, খোদার কাছে মাগফেরাত কামনা করি যারা এই স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে, আত্মাহুতি দিয়েছে। আমি তাদের কথা স্মরণ করব যে সকল মুক্তিবাহিনীর ছেলে, যে সব মা-বোনেরা, আমার কর্মী বাহিনী যারা আত্মাহুতি দিয়েছিল শহীদ হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে। এইদিন তাদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করা উচিত। আজ আমি স্মরণ করি ভারতীয় সেনাবাহিনীর যারা জীবন দিয়েছিল বাংলার মাটিতে। তাদের কথাও আমরা স্মরণ করি।

কিন্তু একটা কথা। আপনাদের মনে আছে, তারা যাবার পূর্বে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে, ১৬ই ডিসেম্বরের আগে, কার্ফু দিয়ে ঢাকা এবং অন্য অন্য জায়গায় আমার বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এই যে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করব, সম্পদ ধ্বংস করব, বাঙ্গালী স্বাধীনতা পেলেও এই স্বাধীনতা রাখতে পারবে না।

ইনশাল্লাহ, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা হয়েছে। বাংলার লোক স্বাধীন হয়েছে। বাংলার পতাকা আইজ দুনিয়ায় উড়ে। বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘের সদস্য। বাংলা জোট-নিরপেক্ষ গোষ্ঠীয় সদস্য, বাংলা কমনওয়েলথের সদস্য, বাংলা ইসলামিক সামিটের সদস্য। বাংলাদেশ দুনিয়ায় এসছে; বাংলাদেশ থাকবে! কেউ একে ধ্বংস করতে পারবে না।

[ এক নেতা, এক দেশ! বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ! ]

ভাইয়েরা, বোনেরা আমার, আমরা চেষ্টা করেছিলাম, একটা ওয়াদা আমি আপনাদের কাছে রাখতে পারি নাই। জীবনে যে ওয়াদা আমি করেছি জীবন দিয়ে হলেও সে ওয়াদা আমি পালন করেছি। আমরা সমস্ত দুনিয়ার রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা জোটনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা কো-এক্সিস্টেন্সে বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা ভেবেছিলাম পাকিস্তান, তারাও দুঃখ পাবে, তারাও নিশ্চই দুঃখিত হবে, আমার সম্পদ ফেরত দেবে। আমি ওয়াদা করেছিলাম তাদের বিচার করব। একটা ওয়াদা আপনাদের পক্ষ থেকে খেলাপ করেছি, তাদের আমি বিচার করি নাই। তাদের আমি ছেড়ে দিয়েছি। এই জন্য যে এশিয়ায়, দুনিয়ায় আমি বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম। Continue reading

লাবিব ওয়াহিদের কবিতা

।। স্কেচ ।। তোমার লগে যতক্ষণ ।। এইরকম বিকালবেলা ।। যদি কথাগুলা ।। কনস্ট্রাকশান ।। লাগে যে একটা মাছ হইয়া গেসি ।। গ্রিনরোড ।। বিষ ।। দেখো ।।

………………………

স্কেচ


…এই রোদ
তোমার জন্য নিয়ে আসুক কিছু
নতুন কাজকর্মের অন্তস্থ আগুন
লাঞ্চের জন্য রেখে যাচ্ছি কিছু
পেঁয়াজ বাটা আর শুকনা বেগুন
খেয়ে নিয়ো ঠিক ঘাম মুছার পরে
ঘাম মুছার গামছা থাকে আয়নার
ঠিক পিছনের ঘরে
তুমি ঘুমের দিকেই হাত বাড়াইলা
ঘুমের ভিতরে


তুমি আর সে কাছাকাছি ভাষাতে
কথা কইতে থাকো, আর কাছাকাছি
আসতে থাকে তোমাদের ভাবনাগুলি
তুমি আর সে তখন আরো বেশি
কাছাকাছি ভাষাতে কথা বলো, আর
আরো কাছাকাছি আসতে থাকে
তোমাদের ভাবনাগুলি, তারপর
তুমি তার ছবি বসানো টিশার্ট বানাও
সে তোমার ছবি বসানো মগে কফি
খায়, আর বিড়ালটাকে সে ডেকে
দেখায় তার নতুন কফি খাওয়ার মগ
কিন্তু বিড়ালটা মরে যাবার পরে
মগটা কোথাও হারিয়ে ফেলে সে

 

তোমার লগে যতক্ষণ

তোমার লগে যতক্ষণ
কথা কইতে থাকি,

…কিছু কাঁচ
আমার ফুসফুসের বেলুনগুলা কাটে
ধবধবে সাদা একটা
ঠাণ্ডা এম্বুলেন্স
দ্রুতগতিতে
আমারে নিয়া যাইতে থাকে
দুনিয়ার সব ঘরবাড়ির থেকে দূরে

তোমার লগে যতক্ষণ
কথা-না-কওয়ার ভিতর থাকি,

একটা তলা-না-থাকা গর্তের ভিতর
খালি পড়তেই থাকি, যেখানে
এম্পটিনেস এতই যে
এমনকি

আমি নিজেও সেখানে নাই

 

এইরকম বিকালবেলা

রোদটা নিজেই একটা বিমান হয়ে
ঢেকে দিচ্ছে চিলের ডানা

তোমার কলসী থেকে উড়াল দিচ্ছে মায়াগুলা

হারমোনিকার ফুটা থেকে বেরোচ্ছে
শীতার্ত পাতা

আলকাতরার বৃষ্টি হচ্ছে সারা সন্ধ্যার উপর

রিকশাআলার চোখের উপর কাত হয়ে আছে
নীলখেতগামী লোকাল বাস

Continue reading

রক মনু’র কবিতা

।। আকাইমা ২০১৬ ।। গোরস্তান  ।।  কৈতর ।।  দুধভাই’র গোশত ।। পার্লিন অপার  ।।  এলেম ।। জংঘা ।। নওশাবা ।।  ইজ্জত ।।  মোম ।।  সাত মসজিদ রোডে ।।  লালমাটিয়ায় বিশ্টি ।।

…………………………………

 

আকাইমা

মিরপুরে জাইয়া দেখি
পার্কের কাম
লোকে চালাইয়া নিতেছে গোরস্তানে।
আর আমি কি
একটা মরা বছরের চামড়া খুইলা নিয়া
একজোড়া জুতাও বানাইতে পারবো না!

/২০১৬

 

গোরস্তান

উত্তরে মাথা দিয়া ঐখানে,
চিৎ হইয়া
শুইয়া আছে আমার বাপ।
তুমি তার চামড়া খাইলা,
গোশত খাইলা,
তার হাড়ের ভিতর ঢুকাইয়া দিলা
তোমার শিকড়!
ও বকুল,
ফুল ফোটাও জখন তখন,
আমার বাপের গোশতের দৌলতে;
তোমার ফুলের ঘেরান তবু কেন
দুনিয়ার আর জতো বকুলের মতো!
কেন তোমার ফুলে পাই না
আমার বাপের একটু ঘেরান!
আমার বাপেরে খাইছো,
তুমি তাই আমার বইন,
তুমি আমার ভাই,
আমিও তোমার বাপের রক্ত খাওয়া
তোমারই এক ভাই;
আমার তো ফুল নাই,
থাকলেও
শেই ফুলও কি
তোমার ফুলের মতোই হইতো–
আর শব মানুশের না ফোটা ফুলের মতোই জার ঘেরান!
বাপেরে খাইছো,
আমার মায়রেও হয়তো খাবা,
একদিন কি আমারেও খাবা!
আমার মায়রে খাবার পরে
তোমার কোন ফুলের ছুরত কি আমার মতো হবে?
আমারে খাবার পরেও
তোমার ফুলেরা কি এমনই থাকবে?
নাকি আমার মাইয়া তোমার কোন ফুলে
পাইয়া জাবে এক রত্তি আমার ঘেরান!
নাকি তোমার কাছে ছবক লওয়া উচিত আমার?
বা তাবত মানুশের?
নিজের না ফোটা ফুলে
বাপের ঘেরান না থাকাই কি ভালো!
আমার ছায়া থিকা জেইদিন আজাদ হইলো আমার মাইয়া,
শেইদিনই কি শবচে খুশির দিন হওয়া উচিত আমার!
মাইয়াপোলার ভিতর নিজেরে না পাওয়ার বেদনা উতরাইয়া,
তোমার মতোই বেপরোয়া হওয়া উচিত নাকি মানুশেরো!

/৫ ডিশেম্বর, ২০২০

 

কৈতর

তার খবর লইয়া জেই কৈতর আশে
আমি তারে খাই।
সে জদি জাইয়া,
তারে দেয় আমার খবর!
আমি তো দিয়াছি খবর,
জেই খবর দিতে চাই;
আমার কৈতরগুলাও
আর ফেরে নাই।
আমাদের পিরিতি—
এই মাংশের জোগান,
কৈতরে আধা-একিন,
তারপর চাউলের রুটি দিয়া
কৈতরের মাংশ আর ঝোল।

/২০১১

 

দুধভাই’র গোশত

আমি আর আমার মা
এই গরুর দুধ খাই।
আমাদের দুই জনের দুধ মা উনি।
এই বাছুর আমাদের দুধ ভাই।
আমার দুধ ভাইয়ের গায়ে
গরুর গন্ধ,
তার গায়ে বাড়ছে গরুর গোশত।
এই মেশিনও আমার দুধ মা;
এনার কোন বাছুর নাই,
গরুর গন্ধ নাই এনার গায়,
গরু না হইয়াই দিতেছেন গুড়া গুড়া দুধ।
লোহালক্কর খাই না আমি,
ওনার বাছুর থাকলেও খাইতাম না।
আমি ওনার দুধ খাবো।
আমি গরুর দুধ খাবো না।
যার মাংস খাইতে চাই—
সে আমার দুধ ভাই না হয় যেনো,
অবশ্য দুধ ভাইদের গোশত
খারাপ লাগে নাই কোনদিন;
অতি অবশ্য,
খাইতে খাইতে তারে
ভাই ভাবি নাই কোন দিন।

/১৬ অক্টোবর, ২০১৩

Continue reading

অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা (৫)

।। এক ।। দুই ।। তিন ।। চাইর ।।

 

বাংলা সিনেমা নিয়া আলাপ-আলোচনা

বাংলা সিনেমা নিয়া যত লেখালেখি চোখে পড়ছে, কম-বেশি সবাই একমত যে, বাংলা সিনেমা হইতেছে গরিবের সিনেমা। মিডলক্লাসের রুচিসম্মত (মানে ‘ভালো’) সিনেমা বানানোর কিছু চেষ্টা হইছে, কিন্তু পাবলিক সেই সিনেমাগুলা যে ‘ভালো’ – এইটা বুঝতে পারে নাই। এই কারণে ‘ভালো’ বাংলা সিনেমা কখনোই খুব একটা বানানো হয় নাই। জহির রায়হান আর আলমগীর কবির হইতেছেন “আসল” আর বাকি সবাই কম-বেশি ফেইক, বাণিজ্যিক ও এভারেজ… এইরকম।

বাংলা সিনেমা যেমন কম-ই বানানো হইছে বাংলাদেশি সিনেমা নিয়া লেখালেখিও কমই, আমার ধারণা। বাংলাদেশে সিনেমা নিয়া যা বই-পত্র আছে, তার বেশিরভাগই বিদেশি সিনেমা বা সতজিৎ রায়, ঋতিক… এইসব নিয়া। তো, যেই বইগুলা আমি ব্রাউজ করছি সেইগুলা নিয়াই আলাপ করতে চাইতেছি। আরেকটা জিনিস বইলা রাখা ভালো, আমি ‘সব লেখা’রে নিতেছি না; বাছাই করতেছি। লেখার এভেইলেবিলিটি যেমন একটা জিনিস, কিছু লেখা নিয়া কথা বলা অ-দরকারিও মনে করতেছি; তবে দরকারি এবং অ-দরকারি সব বইয়ের এবং লেখার লিস্টই এই চ্যাপ্টারের শেষে রাখবো।

…………………

এই জিনিসটা ইন্টারেস্টিং, বাংলাদেশে সিনেমা বানানোর আগে কিন্তু ‘সিনেমা’ নামে পত্রিকা ছাপা হইছিল, ১৯৫০ সালে। তা-ও বগুড়া’তে শুরু হইছিল, পরে অবশ্য ঢাকা’তে শিফট হয়। এডিটর ছিলেন আবু তাহের মোহাম্মদ ফজলুল হক (সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের হাজব্যান্ড; চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর আর কেকা ফেরদৌসি’র বাপ)। জহির রায়হান-ও (অই সময়ে জহিরুল্লাহ্ নামে উনারে পারসোনালি চিনতেন অনেকে) অই পত্রিকা’তে কাজ করতেন। হলিউড-বলিউড নিয়া লেখা অনুবাদ করতেন। (রাবেয়া খাতুন, যিনি নিজেও এই পত্রিকার ছাপাছাপি’র সাথে ছিলেন, বলছেন।)

মানে, এইটা খুব ভুল ধারণা যে, বাংলাদেশে সিনেমা বানানো শুরু হইছে, তারপরে ‘চলচ্চিত্র-সমালোচনা’ :p শুরু হইছে; বরং সিনেমা হল বানানো হইছে, সিনেমা হলে লোকজন হিন্দি-উর্দু-ইংলিশ-কলকাতার বাংলা সিনেমা দেখছে, সিনেমা নিয়া পত্রিকা ছাপা হইছে, তারপরে গিয়া ঢাকা’তে সিনেমা বানানো শুরু হইছে। মানে, সেভেনটিইজ-এইটিইজে সিনেমাহলগুলাতে বাংলা সিনেমা ছাড়া কিছু দেখানো হইতো না বইলা, অইটারে হিস্ট্রি’র বেইজ হিসাবে ধরলে মুশকিলই হবে আসলে।

আর অ্যাজ অ্যা জেনারেল রুল, হিস্ট্রিতে ঘটনাগুলা ঘটার আগেই ঘটনা’টা ঘটার তোড়জোড় শুরু হইতে থাকে। এইটা মানতে পারলে ভালো।

…………………

বাংলা-সিনেমা নিয়া লেখালেখিগুলারে মোটামুটি তিনটা ক্যাটাগরি’তে ফেলা যায়। একটা হইতেছে, একাডেমিক লেখা; মনে ভার্সিটিতে পড়ায় বা ভার্সিটির টিচার’রা স্টুডেন্টদের লাইগা, রিসার্চারদের লাইগা লিখছেন… এইরকম। দুসরা হইতেছে, ইন্ডিপেন্ডেড লেখা-পত্র, ঠিক একাডেমিক না বা মিডিয়া রিপোর্টং-ও না, বরং নানানরকমের ভিউজ; এই জায়গাটা যদিও খুব বেশি অর্গানাইজড হয়া উঠতে পারে নাই এখনো, কিন্তু এর ইন্সফ্লুয়েন্স বাড়তে থাকার কথা। লাস্টলি হইতেছে, পত্র-পত্রিকায় সিনেমা নিয়া আলাপ, রিভিউ, এইসব; একটা সময় এইগুলা হইছে খুব, মেবি স্বাধীনতার পর পর থিকা আশির দশক পর্যন্ত; তো, এর পরে সিনেমা যেহেতু আর হয় না, বাজারও ছোট হয়া আসছে, পত্র-পত্রিকাগুলাও টিইকা থাকতে পারে নাই, কিন্তু ইনফরমেশনের দিক দিয়া এই ধরণের লেখাগুলা একটা ভালো সোর্স।

একটা জিনিস ক্লিয়ার করা দরকার, একাডেমিক লেখা মানে খুব ইর্ম্পটেন্ট লেখা –  তা না, এইটারে বরং একটা প্যাটার্ন হিসাবে দেখতে পারাটাই দরকার। এই ‘একাডেমি’ জিনিসটা বরং পাওয়ার-স্ট্রাকচারের একটা বড় উইপেন। অ্যাকাডেমিক লেখা বইলা যেইটা আলাদা হয়, সেইটা হইতেছে ফর্ম, অন্য যে কোন ফর্মের মতোই, এইখানেও গু-মুত পাইবেন। কিন্তু জায়গাটারে কনশাসলি খুব নির্দোষ, নিরপেক্ষ ও পবিত্র রাখার একটা ব্যাপার থাকে। এইটা মোস্টলি সোসাইটিতে চিন্তা-ব্যবস্থারে দখলে রাখার একটা ঘটনাই। ২০০৭ সালে অ্যাপলের আইপড রিলিজ করার সময়ে একটা প্রেস রিলিজে (https://bit.ly/32OLXVX) কইতেছিলেন, দুনিয়াতে মিউজিকের মার্কেট-ব্যবস্থাটা কেমনে কাজ করে; অনেকগুলা মেশিন যে বানানো হইতেছে গান শোনার, এখন মেশিনগুলা চালানোর লাইগাই তো গান বানানো দরকার! এমন না যে, লোকজন গান শুনতে চায় না, কিন্তু গান শোনার মেশিনগুলা আছে বইলা একটা ডিমান্ড ক্রিয়েট হইতেছে তো! তো এইরকম ‘একাডেমি’র দরকার নাই – তা না, কিন্তু এইটা যেহেতু আছে, পেপারও বানাইতে, রিসার্চও করা লাগে তো! চাকরি করেন না আপনারা! এইরকম। আরেকটা ঘটনা হইতেছে, মিউজিক কোম্পানি যেমন কন্ট্রোল করে বা করতে পারে, কোন কোন মিউজিক বানাইবো, এইরকম একাডেমিতেও দেখবেন, কোন কোন জিনিস নিয়া রিসার্চ হইবো, সেইটা ফান্ডিংয়ের উপ্রেই ডিপেন্ড করে বেশিরভাগ সময়।… তো, এই কারণে একাডেমিয়ারে পাওয়ার স্ট্রাকচারের জায়গা থিকা দেখতে পারলে ভালো, কিভাবে সে সার্ভিসটা সে দেয়।…

বাংলাদেশে ১৫টা পাবলিক আর ৭০টার মতো জেনারেল  ভার্সিটি  আছে, (https://bit.ly/2WSl0Nm) , এই দুইটা মিলায়া মেবি ৭/৮টার বেশি ভার্সিটিতে সিনেমা নিয়া পড়ায় না। মোস্টলি জার্নালিজম আর মিডিয়া স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টগুলাই ফিল্ম-স্টাডিজরে ইনক্লুড করছে, বা আলাদা ডিপার্টমেন্ট বানাইছে।  কয়েকজনের সাথে কথা বইলা যা মনে হইছে, বেশিরভাগ কোর্সই হইতেছে টেকনিক্যাল জিনিসপত্র আর ওয়ার্ল্ড সিনেমার হিস্ট্রি নিয়াই, বাংলাদেশ পার্টে খুব কম জিনিসই পড়ানো হয়, বা পড়ানোর তেমন কিছু তো নাই! 🙂 তো, ভার্সিটিগুলাতে বরং কিছু টিচার আছেন, যারা সিনেমা নিয়া পড়ান, উনারাই বাংলাদেশি সিনেমার নিয়া আলাপ করার একটা অথরিটির জায়গাতে আছেন। এইখানে আমি উনাদের কিছু লেখা নিয়াই কথা বলতে চাইতেছি, যেইগুলা উনারা উনাদের স্টুডেন্টদের জন্য লিখছেন আর পাবলিকলি এভেইলেবল।

এই একাডেমিক লেখা-পত্রগুলা ১৯৮০/৯০’র আগে আসলে শুরু হয় নাই। টাইমলাইন অনুযায়ী যদি দেখেন, এইরকম একাডেমিক এবং সেমি-একাডেমিক ইন্টেলেকচুয়াল লেখালেখি শুরু হইছে ১৯৬০/৭০’র দিকেই। আলমগীর কবিরেরই একটা শুরু’র পয়েন্ট হিসাবে নিতে হবে।

Continue reading

রিডিং বেয়ন্ড দা লাইনস

আমরা জানি আর্ট আর্টিফিশিয়াল, তারপরও আর্টে আমরা ডুবি। সিনেমায় এই জিনিসটা সবচে বেশি চোখে পড়ে। দেখতেছি ডিকেপ্রিও জ্যাক আর উইনস্লেট রোজ, মানে জ্যাক আর রোজ বলতে কিছু নাই, পুরা টাই বানাইনা, তারপরও জ্যাক আর রোজের কষ্টে কানতেছি। এইটা কেন হয়? মনে হয় যেন আমাদের সচেতনতা এনাফ না।

জানা দিয়া আসলে জানাটুকুই হয়, টাইম মত ঠিকই আমরা কাইন্দা ফেলি। আমাদের অচেতনতার আলাদা সিস্টেম আছে, যেইটা সচেতনতার প্যারালালি থাকতে থাকে। ভিআর টেকনোলজি লইয়া বিবিসির একটা ভিডিওতে এইটা দেখায়। হেডসেট লাগাইয়া ভি আর দেখা লোকজনরে দেখবেন শান্তভাবে বইসা দেখতে পারে না, সব সময় ব্যালান্স সামলাইতে থাকে, যেন ভি আরে যা দেখতেছে সেইটা রিয়েল। ওদিকে ভি আরে যা দেখায় তা আপনে দেখলেই বুঝবেন জিনিসটা রিয়েল না। যে এইটা দেখে সে কি তাইলে বুঝে না এইটা রিয়েল না? সেও বুঝে। কিন্তু তার বডি বুঝে না। ব্রেইন রিয়েলিটি বুঝে না, ব্রেইন শুধু বুঝে পারসেপশন। এমন কিছু যদি ডিজাইন কইরা ব্রেইনের সামনে রাখা যায়, যা ব্রেইন রিয়েলিটিরে যেমনে পারসিভ করে, সেই পারসেপশনরে হ্যাক করতে পারে তাইলে ডিজাইনড জিনিসটার রিয়েলিটি না হইলেও চলবে, আপনের বডি ওইটারে রিয়েলিটি ধইরা নিয়াই রিয়েক্ট করতে থাকবে।

আর্টের সাথে এইটার মিল নাই। আর্ট প্রোফাউন্ড। তবে এইটুকু বোঝা যায়, আর্টও একটা রিয়েলিটিরে কনস্ট্রাক্ট করায় নিয়োজিত। সেইটারে আমরা বলবো আর্টিস্টিক রিয়েলিটি। এই রিয়েলিটিও সেরেফ আরেকটা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হইয়া যাইতে পারে, যদি তা আমাদের সচেতনতারে তলব না করতে পারে।

তবে আমার মনে হয় আর্টিস্টদের জন্য আর্টিস্টিক রিয়েলিটি আরেকটু রিয়েল আছে, যেহেতু তাদের ইমোশনাল ইন্টেলেক্টের সবকিছু এই রিয়েলিটির নির্মাণে জড়িত থাকে, এইটার একটা মেন্টাল টোলিং থাকতেই পারে। বা আর্টিস্ট গ্রুপগুলি একটা প্রধান কালচারাল গোষ্ঠী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাইতে পারে। যেমন মুসলমান, হিন্দু, এমেরিকান, ইন্ডিয়ান, উইঘুর, তেমন আর্টিস্টরাও একটা গ্রুপ। স্লটারডাইক মডার্ন দুনিয়ায় যে তিনটা প্রধান বাস্টার্ড গ্রুপের কথা বলছেন, তার মইধ্যে আর্টিস্টরা আছেন, মডার্ন আর্টিস্টরা।

তো আর্ট জাস্ট এক্সপ্রেশনের বেপার হইয়া থাকতে পারেনা। বা এক্সপ্রেশনও তো আসলে সর্বদা গুলায়মান। রুবেন উস্টল্যান্ডের স্কয়ার ছবিটাতে আর্টের দুনিয়ার বহিরাঙ্গ লইয়া ক্রিটিক আছে। যে কেমন ঢংসর্বস্ব সবকিছু। যেন আয়োজনটাই আর্ট। আর্টের ইন্ডাস্ট্রি আর্টরে ওইভাবেই রাখতে চায়। তারপর এক পারফর্মেন্স আর্টিস্ট আসেন, যিনি বান্দরের মত এক্ট করতে থাকেন। প্রথমে অডিয়েন্সরা বেপারটা পারফর্মেন্স হিসাবেই নিতে থাকে, হাততালিটালি দেয়। কিন্তু যত সময় যায় ততই রিয়েলিটির লগে আর্টিস্টিক রিয়েলিটির ক্ল্যাশ লাইগা যাইতে চায়। যে বান্দরের পারফর্মেন্স করে, সে তো বান্দরই, নইলে পারফর্মেন্সের মূল্য থাকলো কি! একটা ট্রুথরে যদি কনস্ট্রাক্টই না করতে পারলো তাইলে আর্টের মিথ্যার লগে রিয়েল মিথ্যার আর পার্থক্য কি! সুতরাং আর্টের ভিতরে, আর্টের সীমারেখার ভিতরেই এক্সপ্লয়টেশনের দরজা খোলা আছে। আমি আর্টের অজুহাতে এক্সপ্লয়টেশনের কথা বলতেছি না, বলতেছি উইদিন আর্টস এক্সপ্লয়টেশনের কথা।

মনে করেন, এপোকেলিপ্স নাউ তে মার্টিন শিনের লগে ফোর্ড কপোলার তো গেঞ্জামই লাইগা গেছিল, অতিরিক্ত খাটাইতে ছিল সে তার এক্টররে দিয়া। বা ব্লু ইজ দা ওয়ার্মেস্ট কালারে কেশিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কাম করানোর নালিশ আইনা কামই বন্ধ রাখছিলো তার দুই এক্টর। কিন্তু ডিরেক্টরদের যে দোষ দিবেন, এগুলা তো আর্টের দীক্ষার ভিতরেই আছে! ডিরেক্টররা নিজেরাও যে শান্তিতে ছিলেন তাও না! এরা আর্টের দরকারে নিজেরাও নিজেদের পেইন দিতে রেডি থাকে। উস্তল্যান্ডের বান্দর যেইটা করতেছিল বা মারিনা আব্রামোভিচ যেইটা করছে, নিজেরে বিলায়ে দিছে। স্কয়ারের মত সিমিলার একটা জায়গা দিয়া একে ভার্সেস একেরে রিড করা যাইতে পারে। মানে সিনেমারে যে বিশ্বাসযোগ্য হইয়া উঠতে হবে, নইলে হবেই না, এমন অবসেশনের প্রবলেম লইয়া ডিল করছে এইখানে। শেষ পর্যন্ত একে কাশ্যপেরই ক্রিটিক করলেন মোটোয়ান, সেইটারে ব্যালান্স করতে কাশ্যপেরেই কাস্টিং করলেন তিনি।

মানে আর্ট ধইরাই আর্টের ক্রিটিক বা ক্রিটিকের জওয়াব দেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। হইতে পারে আর্টিস্টরা আর্টের কন্টিনিউয়ামের ভিতরেই থাকতে থাকেন। সুতরাং আর্টিস্টিক নেগেশনের দরকার হইতেই পারে। এইভাবে তারা একটা রিয়েলিটিরেও মাইনা নিতে পারেন মনে হয়, যেহেতু রিয়েলিটিনিচয় একটা আরেকটার সাথে গুলাইতেই থাকে অলওয়েজ। দেখেন স্যাম মেন্ডেজ টাইটানিকে উইনস্লেট আর ক্যাপ্রিওর টইটম্বুর প্রেম দেইখা জেলাস যে হয়নাই তা আমরা বলতে পারি না বুকে হাত দিয়া। উইনস্লেটের লগে বিয়ার পর হয়ত মেন্ডেজের মনে মাঝেমাঝেই উকিঝুকি মারত রোজ আর জ্যাকের প্রেমগাথা। ফলে তারে রিভোল্যুশনারি রোডের মত একটা সিনেমা বানাইতেই হইত যেইখানে কেপ্রিও আর উইনস্লেটের দুর্দান্ত কিছু কাইজ্জার দৃশ্য আছে। বা, ওয়েস এন্ডারসনের মুনরাইজ কিংডমের কথা ধরতে পারেন যেইখানে একদম নাবাল দুই পোলামাইয়ার প্রেম দেখাইছে, এডাল্টের প্রেমের মতই প্রেম করতে চায় পিচ্চি দুইটা; প্রেমের জন্য ঘর ছাইড়া পালায় যায় দুইজন, একলগে থাকে, কিসাকিসি করে। এইটা নিয়া কিয়ৎ গালিগালাজ যে ওয়েস এন্ডারসনরে সইতে হয়নাই তা তো না। আর্টিস্টের বিপদে তো আর্টিস্টই আগায় আসবেন। তাই জিম জারমুশ আগায় আসলেন তার আর্টিস্টিক সেন্সিবিলিটিসমেত। জারমুশ তার প্যাটারসনে দেখাইলেন মুনরাইজের পিচ্চি দুইটা বড় হইয়াও একলগে ঘুরে ফিরে, ভার্সিটিতে যায়, ইন্টেলেকচুয়াল আলাপ সালাপ করে। যেনবা কইতে চাইলেন, ছোটরাও বড় হয়, বড় হইয়াও ছোটকালের প্রেম কন্টিনিউ করতে পারার পসিবিলিটি থাকে তো। সিনেমা হইতে সিনেমান্তরে একটা আনইন্টেরাপ্টেড রিয়েলিটি দেখাইতে চাইলেন।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →