Main menu

অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা (৪)

।। এক ।। দুই ।। তিন ।।

 

পার্ট ৪: বেদের মেয়ে ছোসনা (১৯৮৯)

 

“রাজা যদি অপরাধী হয়, তাহলে শাস্তি দেন স্বয়ং খোদা”

/বেদের মেয়ে জোসনা

বেদের মেয়ে ছোসনা রিলিজ হইছিল ১৯৮৯ সালে। ২০ লাখ টাকা দিয়া বানানো এই সিনেমা ইনকাম করছিল ২২.৫০ কোটি টাকা। আর মুশকিল হইছিল এই ব্যবসা করাটাই।

১৯৯০ সালে ফরহাদ মজহার এই সিনেমা নিয়া বড় একটা লেখা লেখছিলেন, অইখানে সিনেমার অনেকগুলা আসপেক্ট নিয়া উনি ডিল করছিলেন, সিনেমাটার নেগেটিভ ‘সমালোচনা’র উত্তর দিছিলেন। কিন্তু কেন সমালোচনা হইছিল, সেইটা নিয়া সজাগ হইতে পারেন নাই। মানে, বেদের মেয়ে জোসনা সিনেমা হইছে কি হয় নাই – এইটা কোনভাবেই ‘আসল’ সমালোচনা’টা ছিল না। এই ক্যাটাগরির সিনেমা তখন বছরে ৮/১০টা কইরা রিলিজ হইতো। কিন্তু অন্য কোনটা নিয়া তো ‘সমালোচনা’ হয় নাই! ‘সমালোচনা’ হইছে কারণ এই সিনেমাটা ব্যবসা করছে। বেদের মেয়ে জোসনা দেখায়া দিছে যে, ‘বাংলা সিনেমা’র নামে যেই টাইপের সিনেমা বানানো হয়, সেইগুলা নিয়া পাবলিকের কোন ইন্টারেস্টই নাই; যদি থাকতো তাইলে ২২ কোটি টাকা না হোক, সিনেমাগুলা এটলিস্ট ২/৪/৫ কোটি টাকা হইলেও ইনকাম করতে পারতো। ‘বাংলা সিনেমা’ যে হইতেছে না, এই সত্যিটারে খোলাসা কইরা দিছিলো বেদের মেয়ে জোসনা। আর এইটা তো কিছুটা অশ্লীল ঘটনাই। :p

জনরা বা ক্যাটাগরি হিসাবে ‘রূপবান’ আর ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ একই ঘরানার সিনেমা। দুইটা সিনেমাই হিউজ ব্যবসা করছিল, দর্শক টানছিল, ‘সমালোচকদের’ নিরবতা আর নিন্দা পাইছিল; কিন্তু ‘রূপবান’ যেমন ছিল একটা ব্লেসিং, একটা শুরু; বেদের মেয়ে জোসনা হইতেছে আরেকটা শেষের শুরু। এই কনফার্মেশন যে, সিনেমা খালি আর্ট আর পুরষ্কার পাওয়ার জিনিস না, পাবলিকের দেখার জিনিস। কিন্তু সিনেমার এই ক্লেইমটারে আইডেন্টিফাই করা হইছে এইভাবে যে, বাংলা-সিনেমার ‘রুচি’ নিচে নামাইতে হবে! মানে, ‘বাংলা সিনেমা’ শরীর দিয়া দিবে, তারপরও মন দিবে না; মানবেই না যে, বাণিজ্যিক-সিনেমা, আর্টফিল্ম, মিডলক্লাসের সিনেমা, গরিবের সিনেমা… এই ক্যাটাগরিগুলা এতোটা ফিক্সড কোন জিনিস না।

তো, এই কাহিনি নিয়া আগে যে কোন সিনেমা বানানো হয় নাই – তা কিন্তু না; ১৯৬৯ সালে নুরুল হক বাচ্চু “বেদের মেয়ে” নামে সিনেমা বানাইছিলেন, নায়ক-নায়িকা ছিলেন আজিম আর রোজী সামাদ। এভারেজ আর দশটা সিনেমার মতোই ছিল সেইটা। কিন্তু বিশ বছর পরে আইসা একই কাহিনি নিয়া বাননো সিনেমা এতো হিট হইলো কেমনে!

আমার ধারণা, তিনটা ফ্যাক্টর এইখানে কাজ করছে।

পয়লা ঘটনা তো অবশ্যই একটা সার্টেন অডিয়েন্সের ফিলিংসের লগে অ্যাটাচড হইতে পারা। কিন্তু এইটা হইছে কেমনে! ১৯৮৯ সালেই এর চে পপুলার কাহিনি নিয়া “বীরঙ্গনা সখিনা” আর “নবাব সিরাজউদ্দৌলা” বানানো হয়; ফ্লপ না হইলেও হিট হওয়ার কোন খবর জানা নাই। এমনকি সখিনা’তে তখনকার হিট নায়িকা ববিতা আর দিতি ছিলেন। মানে, বলতে চাইতেছি, কাহিনি ইজ নট দ্য গল্প! পপুলার কাহিনি দিয়া সিনেমা বানাইলেন, হিট নায়ক-নায়িকা নিলেন, নাচা-গানা আর মাইর-পিট রাখলেন, তাইলেই হবে; তা তো না!

তো, অডিয়েন্সের বা দর্শকের ফিলিংসের লগে এটাচড হইতে পারার ঘটনা’টা কি রকম? এইটা নিয়া ফরহাদ মজহার ভালো একটা জায়গা ধরছেন যে, কাহিনিটা কোন ‘প্রাচীনকালে’ ঘটতেছে না, ঘটতেছে বর্তমানকালে। এইটা অতীতের কোন কাহিনি না, এইটা বর্তমানের, বাংলাদেশের কাহিনি। একটু আড়াল করার লাইগা বাংলাদেশরে বঙ্গদেশ বলা হইছে। মানে, এই যে প্রেম, ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশা, সামাজিক অন্যায়, অবিচার এইগুলা বর্তমান সময়ের ঘটনা; পুরান একটা কাহিনির ভিতর দিয়া বলা হইতেছে মাত্র। কিন্তু এইটা জাস্ট সারফেইসের ঘটনা; বরং যেই টোনটাতে বলা হইতেছে, সেই ন্যারেটিভ’টা খুবই অ্যাটাচড কাহিনির সাথে। রূপবানের ব্যাপারেও একই জিনিস। আর্টের যেই দরদ, সেইখানে ভান নাই কোন; বা ভানটা এতোটাই যে তারে রিয়েল বইলা ভাবতে কোন সমস্যা হয় না। সমস্যা হয় না কারণ সত্য হওয়ার চাপাচাপিটা এইখানে নাই। এইটারে ফ্যান্টাসি বলতে চান নাই ফরহাদ মজহার; কিন্তু আমি বলবো, ফ্যান্টাসি আর রিয়েল – এই ক্যাটাগরিটাই এইখানে রিলিভেন্ট না।  আর এটাচমেন্ট বলেন, দরদ বলেন, এইটা তৈরি হইছে, এই জায়গা থিকাই। টেকনিক্যালি বলেন, অ্যাপিয়ারেন্সের দিক দিয়া বলেন, এই সিনেমার আলাদা কোন ‘সিগনেচার’ নাই, অই সময়ের সব সিনেমাতেই কাছাকাছি রকমের জিনিস পাইবেন, কিন্তু একসেপশন এই ‘দরদ’ বা ‘ইমোশন’টা। যেইটারে যাত্রা বা গরিবের বা কৃষকের ইমোশন বইলা ন্যারো করছেন ফরহাদ মজহারও (মানে, ট্রাডিশনাল যেই ‘সমালোচক’, তাদের থিকা আলাদা কোন গ্রাউন্ড থিকা উনি দেখেন নাই)।

এই জায়গাটারে মেবি আরেকটু খোলাসা কইরা বলা দরকার। ফরহাদ মজহার যাদের সমালোচনার এগেনেস্টে বেদের মেয়ে ছোসনা’রে ‘ভালো’ সিনেমা হিসাবে প্রমাণ করতে চাইতেছেন, উভয়পক্ষ মাইনা নিছেন যে, সিনেমা’টা “ছোটলোকদের”; মানে ফরহাদ মজহার আদর কইরা ‘কৃষক’, ‘গ্রামের মানুষ’ আর ‘শহুরে নিন্মবিত্ত’ কইছেন, কিন্তু লোকজন তো একই। মানে, দুইদলই এগ্রিড যে, এইটা হইতেছে, গরিবের আর্ট, গ্রামের জিনিস। একদল খারাপ বলতেছেন, আর ফরহাদ মজহার বলতেছেন, এই আর্ট মিডলক্লাসের রুচিরে স্যাটিসফাই করে না বইলাই খারাপ না।… তো, আর্ট অবশ্যই ক্লাস কনজামশনের ঘটনা। কিন্তু তাই বইলা পাওয়ারফুল ক্লাসের আর্টরে যে আমরা ‘আসল’ আর্ট বইলা মাইনা নেই, সেইটা তো মিছা কথা না। মিডলক্লাশের আর্টরে তো আলাদা কইরা বলা লাগে না যে, এইটা মিডলক্লাশের সিনেমা, কিন্তু গরিবের সিনেমারে যে বলা লাগে ‘গরিবের সিনেমা’, এইটা অই ‘আসল আর্ট’র ধারণারে কোনভাবেই বাতিল করতে পারে না।

আর এই ধরণের ‘আর্ট’ চিন্তা সবচে বাজে যেই কাজ করে, আর্ট’রে একটা টুল হিসাবে দেখে, যার কাজ হইতেছে, কোন ক্লাসের রুচি’রে স্যাটিসফাই করা। কিন্তু কোন আর্ট যদি কোন ক্লাসের রুচিরে কোন না কোনভাবে অল্টার করতে না পারে, সেইটা আর্টই হইতে পারার কথা না! ইভেন এন্টারটেইনমেন্টেও এই কথা কম-বেশি সত্যি। ঘটনা’টা একটা রুচি’রে স্যাটিসফাই করা না, বরং রুচির জায়গাটারে ক্রিয়েট করা।. তো, বেদের মেয়ে জোসনা ‘গরিবের আর্ট’ বইলা যেই জিনিস আছে, সেইটারে এক তো হইলো গরিবের আর্টের জায়গা তো দেখেই নাই, এমনকি গরিবের রুচি বইলা যেই পারসেপশন চালু আছে (কাহিনি বুঝে না, চিন্তা করতে জানে না, নাচ-গানটাই আসল…) সেইগুলারে মেবি কিছুটা ইনভ্যালিডও করতে পারার কথা, যেই কারণে এটাচমেন্টের জায়গাগুলা তৈরি হইতে পারছে, সিনেমার ভিতরে।

সেকেন্ড জিনিস হইলো, ভাষার জায়গা’টা খেয়াল কইরা দেইখেন, বঙ্গরাজা আর বেদের মেয়ে দুইজনে একই ‘শুদ্ধ’ ভাষাতে কথা বলতেছেন। এখনকার হলিউডি সিনেমাতে যেইরকম দুইটা কালা কারেক্টার থাকা লাগবো, একটা স্ট্রং ফিমেইল… এইরকম ফর্মূলা মানতে হয়, এইরকম বাংলা নাটক-সিনেমাতেও দেখবেন কে কোন ল্যাঙ্গুয়েজে কথা কইবো সেইটা মোটামুটি ফিক্সড কইরা দেয়া আছে, গরিব, অশিক্ষিত লোকজন একটা ‘আঞ্চলিক’ ভাষায় কথা কইবো; এই কারেক্টারগুলা যদি ‘শুদ্ধ’ বা শহরের ভাষায় কথা কয়, আপনার মনে হবে, আন-রিয়েল, বানানো, ফেইক, ফ্যান্টাসির একটা ঘটনা। আদতে ঘটনা হইলো এই যে, রাজাকার মানে টুপি-পরা লোক, মুক্তিযোদ্ধা মানে জোয়ান… এই ন্যারেটিভগুলারে পাত্তা না দেয়ার ঘটনা। যেই গরিব’রা ‘শুদ্ধ’ ভাষা বলে, তারা আবার কেমন গরিব! বা যেই রাজার আলাদা ভাষা নাই, সে আবার কেমন রাজা – এইগুলা তো অ্যাবসার্ড বা ফ্যান্টাসির ঘটনাই! হোয়ার অ্যাজ, আপনি যদি খেয়াল করেন, এতোটা কাল্পনিক ব্যাপার না এইগুলা; কিন্তু কাল্পনিক যে বানায়া রাখা হইছে, এই জায়গাটারে কনফ্রন্ট করে, বাতিল কইরা দেয় সব কারেক্টারের একই ভাষায় কথা বলাটা। ভাষা যে গরিব’রে গরিব বানায়া রাখে সেই গরিবি’তে মেবি সাবস্ক্রাইব করে নাই বেদের মেয়ে জোসনা। সিনেমা ভিজ্যুয়াল জিনিস অবশ্যই, কিন্তু সবসময় কোন না কোন সংলাপ যে পপুলার হয়া উঠে, সেইটা থিকা বুঝতে পারার কথা যে, এইটাও ক্রুশিয়াল একটা ঘটনা। Continue reading

ফিকশন: কলঙ্কিত তীর্থ – জগদীশ গুপ্ত

এই গল্পটা তিনটা সময়ে তিনভাবে ছাপা হইছিল। ১৯৬০ সালে জগদীশ গুপ্ত মারা যাওয়ার (১৯৫৭) পরে ‘কলঙ্কিত তীর্থ’ নামে একটা নভেলার ‘প্রথম ঘটনা’ হিসাবে। এর আগে ১৯৫৯ সালে “জগদীশচন্দ্র গুপ্তের স্ব-নির্বাচিত গল্প” বইয়ে ‘কলঙ্কিত সম্পর্ক’ নামে; আর তারও আগে ১৯৩০ সালে ‘শ্রীমতি’ গল্পের বইয়ে ‘আহুতি’ নামে। তো, এইখানে লাস্ট ভার্সনটাই রাখা হইছে। যদিও নভেলার পার্ট, কিন্তু আলাদা গল্প হিসাবে পড়তে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।

গল্পের কাহিনিটা ইন্টারেস্টিং। রেইপ মামলায় দুইবছর জেল খাটা জামাই বাড়িতে ফিরতেছে, তখন একজন মেয়ে তার বউ হিসাবে ঘটনাটা কেমনে ডিল করতেছে – তার কথা। তো, ১৯২৫/৩০ সালের দিকেও রেইপ হইতো, মামলা করা যাইতো, আর মামলার শাস্তি হিসাবে জেলও যে হইতো এই ‘রিয়ালিটি’ বাংলা-সাহিত্যে রেয়ার হইলেও যে ছিল বা আছে, সেইটার একটা মেনশন হিসাবে এই গল্পটা পড়া যাইতে পারে।

অবভিয়াসলি, গল্পটা এইটুকই না; মানে, আর্টের সোশ্যাল রিলিভেন্সটুকই আর্ট না আর কি…

/ই. হা.

 

…………………….

কলঙ্কিত তীর্থ

প্রথম ঘটনা 

দীর্ঘ দেড় বৎসর পরে কাল সকালে সাতকড়ি বাড়ী ফিরিবে।

চারটি ভাইয়ের সাতকড়ি দ্বিতীয়; দু’টি বিদেশে থাকে, তবু বাড়ীতে লোকের ভীড়; ভিড়ের মধ্যে সাতকড়ির স্ত্রীও বর্তমান। এত লোকের কে একজন যেন নিঃশব্দে দিন গুনিতেছিল। হঠাৎ সে প্রচার করিয়া দিল কাল সাতু বাড়ী আসিবে।

সাতকড়ির স্ত্রী মাখনবালাও দিন গুনিতে সুরু করিয়াছিল, কিন্তু অন্য ভাবে, স্বামীকে পুনরায় চোখে দেখার দিনটি সে দুরু দুরু বুকে ভয়ে ভয়ে গুনিতেছিল।

গুনিতে গুনিতে অবশ হইয়া একদিন সে ভুলিয়া গিয়াছিল; সুরুর সূত্রটা মনে ছিল… আর গণনার শেষ দিনটা সম্মুখে দাঁড়াইয়া তাহার বুক কাঁপাইতেছিল; কিন্তু একটি একটি করিয়া মাঝখানকার অসংখ্য দিন তার অসাড়ে উত্তীর্ণ হইয়া গেছে।

আর সে চেষ্টা করে নাই, কিন্তু ভয়টা ছিলই…

স্বামীর প্রত্যাবর্তনের দিনটি এত নিকটবর্তী শুনিয়া সে চমকিয়া উঠিল। মাঝখানে ছোট একটা রাত্রি। সুর্য ঐ অস্তে যায়। এই সূর্য কাল আবার উঠিবে… তখন স্বামী আসিবেন।

জীবনের দিন গুলিকে এত সংক্ষিপ্ত মাখনের কোনদিন মনে হয় নাই। সাতকড়ি যে দিন যায় সে দিনের তখন কেবল প্রভাত..আজ এই সন্ধ্যা –

মাখনের মনে হইল, মাঝখানে কেবল একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস সে ত্যাগ করিয়াছে, নিঃশ্বাসটা শেষ করিয়া ফেলা হয় নাই; বুক যেন নিঃশ্বাসের ভারে দুর্বহ হইয়া আছে।…ইহার মধ্যেই দেড় বৎসর কাটিয়া গেল।

বাড়ীতে আরো ঢের লোক আছে; সবাই সাতুর আপন। কেউ ভাই, কেউ বোন, কেউ মা, কেউ ভাজ, কেউ আর কিছু।

কিন্তু এতগুলি পরমাত্মীয় থাকিতে মাখনের মনে হইয়াছে, সমগ্র ব্যাপারটার সঙ্গে তারারই লিপ্ততা যেন সকলের চেয়ে বেশী—সেই বেশী করিয়া জড়ানো।… সে স্ত্রী, বাহির হইতে আহরিতা সামগ্রী।

বাহির হইতে আসিয়া সে স্বামীর কোন্ ক্ষেত্রটা অধিকার করিয়া বসিয়াছে, তাহা | কেহ অনুমান করিতে কখনো বোধ হয় মন খুলিয়া বসে নাই, তবু একটা স্থানে তার আধিপত্যের পরাকাষ্ঠা লোকে যেন তাহার কাছে প্রতাশা করিয়াছে।

একটি স্থানে সে সর্বস্ব সর্বগ্রাসী, সতত জাগ্রত। সে তাহার দাবি পূর্ণতম, একটি অনুপরিমাণ প্রাপ্যের মায়া ত্যাগ না করিয়া অশেষ শক্তিশালিনী দশভুজা, দশ হস্তে কাডিয়া টানিয়া ছিনাইয়া আদায় করিয়া লইবে—ইহা যেন মানুষের যেমন সহজ তেমনি অকুণ্ঠ ব্যাপার।

কিন্তু সেই ক্ষমতা সে দেখাইতে পারে নাই…

সংসারের প্রত্যেকটি লোকের কাছে এই অক্ষমতার লজ্জার তার মুখ হেঁট হয়ে গেছে।…

বিবাহের পর শাশুড়ী কতবার আভাসে ইশারায় জানাইয়াছেন যে, ছেলের বন্ধন সে-ই, জীবনের শৃঙ্খলা সে-ই, সৌষ্ঠব, শ্রী, সুখ, সৌন্দর্য একমাত্র তারই হাতে।

সবারই সেই মত।

বাড়ীর বাহিরের লোকেরও সেই ইঙ্গিত, সেই ইচ্ছা, সেই জ্ঞান।

মাকে ডিঙ্গাইয়া অগ্রজ অনুজকে অতিক্রম করিয়া সে-ই সব। একই লােকের জন্য এই সর্বোচ্চ অগ্রগণ্য স্থানটি অকপটে ছাড়িয়া দিয়া নিশ্চিন্ত হইতে কাহারো বাধে নাই কেহ ইতস্ততঃ সন্দেহ করে নাই, শাশুড়ী যেন পরিত্রাণ পাইয়াছিলেন তার…অস্তিত্বই যেন অপরাজেয় অপরিহার্য শাসন-বাণী…তাহাকে লঙঘন করিবার উপায় নাই।

কিন্তু আজ সে পরাস্ত।

শাসনদণ্ড ধূলায় লুটাইতেছে; সে আজ এত তুচ্ছ অকর্মণ্য গুরুত্বহীন যে তার থাকা। না থাকার সমান মূল্য। দুনিয়ার লোকে বলিতেছে কি ভাবিতেছে সে জানে না; কিন্তু স্বামীর জীবন হইতে নিজেকে বিচ্যুত করিয়া লইয়া সেত’ সরিয়া স্বতন্ত্র হইয়া দাঁড়াইতে পারিতেছেনা… তাহার পৃথিবী অতিশয় ক্ষুদ্র…স্বামীর সত্তার বাহিরে যে জীবন্ত পৃথিবী রহিয়াছে, তাহার সঙ্গে সংযোগ তার স্বামীকেই বৃন্ত করিয়া, স্বামীকেই বৃন্তরূপে পাইয়া সে চারিদিকের হাওয়ার মাঝে ফুটিয়া আছে…তাহার পরিচয়ই ঐ।

একদিন হঠাৎ কি হইয়া গেল। পৃথিবী তার পথ ছাড়িয়া উল্টাইয়া পড়িল। যেখানে যে বস্তুটি সুবিন্যস্ত ছিল বলিয়াই সে সুখে ছিল, একটিবার চক্ষের পালক না পড়িতেই তাহা মিলিয়া মিশিয়া বিকৃত একাকার হইয়া তার সেই পৃথিবী ছন্নছাড়া মৃতের শশ্মান হইয়া গেল।

স্বামী জেলে গেলেন।

যে কুঞ্জ মক্ষিকার গীতিগুঞ্জরণে মুখর ছিল, প্রচণ্ড ধাক্কায় তাহা এলাইয়া পড়িল; যে আকাশ আলোর মালা, মেঘের ঢেউ, বায়ুর কাঁপন দিয়া সাজান ছিল, তাহা ছিটকাইয়া অন্ধকারে অদৃশ্য হইয়া গেল; ভাবনার দলগুচ্ছ আর মনের তৃষ্ণা দিয়া তৈরি যে নীড় অনন্য ছিল, তাহার চিহ্নও রহিল না। মন্দিরের নিত্য অর্চনোৎসব বন্ধ হইয়া গেল। ফুলের বুকের মধুরস তিক্ত হইয়া উঠিল।

যে পথে সে আলো দেখিত, যে পথে সে গান শুনিত, যে পথে সুধা ঝরিত, চক্ষের নিমেষে সমস্ত পথ রুদ্ধ হইয়া জগতের সঙ্গে তার আর সম্পর্ক রহিল না।

কিন্তু তাহার এই চরম দুর্গতির অংশ লইতে কেহ বুক বাড়াইয়া আসিল না।।

তাহার মনে হইতে লাগিল, একটা ছিছি রব তাহাদেরই গৃহকেন্দ্র হইতে উথিত হইয়া ছড়াইতে ছড়াইতে যেখানে যতদূরে মানুষ বাস করে, প্রাসাদে কুটীরে, পথে পাথারে, পৃথিবী যেখানে সত্য সত্যই আকাশ স্পর্শ করিয়াছে, সেই শেষতম প্রান্তরেখা পর্যন্ত সেই শব্দ পরিব্যাপ্ত হইয়া গেছে। জীবজগৎ শিহরিয়া কাণে আঙ্গুল দিয়া বসিয়া আছে।

এই দুর্বিসহ লজ্জা অখণ্ড একখানা গুরুভার মেঘের মত কেবল তাহারই বুক জুড়িয়া অক্ষয় হইয়া রহিল –

‘আমিও তোমার সঙ্গে আছি’ বলিয়া ভার বণ্টন করিয়া লইতে কেহ আসিল না।

 

স্বামীর অপরাধ গুরুতর, এত যে, তার চিন্তাই সহ্য হয় না। মানুষ কোনদিন তাহা সহ্য করিতে পারে নাই। সন্তানের জননী হইয়া স্বামীর স্ত্রী হইয়া কুলের বধূ হইয়া, নারী তাহা ক্ষমা করে নাই; ভগবানের নাম বুকে আছে, পশু হইয়া জন্ম গ্রহণ করি নাই জ্ঞান যার আছে, সে তাহা ক্ষমা করে নাই।

স্বামী এমনি অচিন্তনীয় অপরাধ করিয়া জেলে গিয়াছিলেন—মুক্তি পাইয়া কাল ফিরিয়া আসিবেন। গৃহের আর সবাই তাহার জন্য উৎকণ্ঠিত, ভৃত্যটি পর্যন্ত। বিমর্ষ থাকিয়া থাকিয়া তাহারা শ্রান্ত হইয়া উঠিয়াছিল। সেই শ্রান্তির মাঝে যেন তাহাদের লজ্জাবোধের সমাধি হইয়াছে তাহাদের পরমাত্মীয়টি এতদিন গৃহে নাই। Continue reading

বাংলাদেশে শ্রেণী সংগঠনের ইতিহাস – আবদুল হামিদ খান ভাসানী

সাপ্তাহিক ‘হক-কথা’ পত্রিকার ৮ নাম্বার সংখ্যায়, ১৯৭২ সালের ১৬ই এপ্রিল আবদুল হামিদ খান ভাসানীর এই লেখাটা ছাপা হয়। উনি এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন, এডিটর ছিলেন ইরফানুল বারী; পরে ৩০শে এপ্রিল তারিখে এডিটর’রে অই সময়ের আওয়ামী সরকার গ্রেফতার করলে উনি নিজে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে কিছুদিন পত্রিকাটা ছাপাইছিলেন। ১৯৭২ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর পত্রিকার পাবলিকেশন বন্ধ কইরা দেয় গর্ভমেন্ট। 

এই লেখাটাতে আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ইর্ম্পটেন্ট দুইটা ক্লেইম আছে। এক হইতেছে, আওয়ামী লীগ, সিপিবি বা এমনকি ‘বিপ্লবী’ কমিউনিস্টরাও কৃষক সমিতি’রে সংগঠন হিসাবে তৈরি হইতে দিতে চায় নাই; যেই কৃষক সমিতি’রে ১৯৮০’র দিকেও আমরা কমিউনিস্ট বা ন্যাপ পার্টির অঙ্গ-সংগঠন ভাবতাম, সেইটা আসলে ভাসানীর কাছ থিকা হাইজ্যাক করা একটা জিনিস! কেন উনারা কৃষক সমিতি চান নাই, তার আলাদা আলাদা কারণ অবশ্যই থাকতে পারে, ভাসানী যেইরকম বলছেন, হুবহু একই ঘটনা হওয়ার কোন কারণ নাই, উনাদের নিশ্চয় নিজস্ব পয়েন্ট অফ ভিউ আছে, ব্যাখ্যা আছে, কিন্তু চান নাই যে – এইটা মিথ্যা না মনেহয়। কিন্তু আমার ধারণা, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ব্যাপারটা গোপন না হইলেও, ব্যাপারটা বলাবলির মধ্যে বা কনশাসনেসের মধ্যে এতোটা নাই; আওয়ামী লীগ ও সিপিবি’র এই ‘সহমত ভাই’ এর ঘটনা’ও হিস্ট্রিক্যাল ফ্যাক্ট হিসাবে ভাসানীর মতো এতোটা সাফ কইরা কেউ মনেহয় বলতে পারেন নাই।

আর উনার সেকেন্ড ক্লেইমটা হইতেছে, কৃষক সমিতির ভিতর দিয়া বাঙালি ন্যাশনালিজমের কনশাসনেসের জায়গাটারে উনি স্প্রেড করছেন, যেই কারণে গ্রামের সাধারণ জনগণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে নাই খালি, উনারাই মুক্তিযুদ্ধটা করছে; স্যাক্রিফাইসগুলা করছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চালু যেই ন্যারেটিভ সেইখানে কৃষক সমিতির এই জায়গাটারে আমরা ‘ন্যাপ-সিপিবি’ বইলাই এখনো মিসরিড করি মনেহয়। মানে, যেই সিপিবি-ন্যাপের হাত থিকা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষক সমিতি’রে বাঁচাইতে চাইছিলেন, সেইটা তো পারেন-ই নাই, বরং কৃষক সমিতির এই কন্ট্রিবিউশনরে উল্টা ন্যাপ-সিপিবি বইলা আমরা দেখতে পাই! 

ভাসানীর এই লেখা পইড়া এইটারে ট্রাজেডি মনে হইলেও, এই ঘটনা আসলে একটা হিস্ট্রিক্যাল কমেডিই।

তবে ভাসানীর এই লেখারে সত্য বা মিথ্যার চাইতে উনার পলিটিক্যাল পজিশনের জায়গা থিকা দেখাটা ভালো, যেই ন্যারেটিভ’টা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এখনো মোস্টলি মিসিং একটা জিনিস। 

ই.হা.

………………….……………………..

আজ বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি লইয়া জনমনে নানারূপ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হইয়াছে। দেশবাসী জানেন যে এই দুইটি সংগঠনকে বহু বাধা বিপত্তি অতিক্রম করিয়া আমি প্রতিষ্ঠা করি। জনগনের বিভিন্ন সংগ্রামের পুরোভাগে থাকার ফলে জনমনে তাহা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ দুঃখজনক হলেও সত্য যে কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদ – যাহারা আশ্রয় লইয়া ঘোর দুর্দিনে এই সকল সংগঠনে ছিল – আজ রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বুকে আঁটিয়া আমার সংগঠনের নাম ব্যবহার করিতেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করিবার জন্য আমার এবং আমার সংগঠনের বিরুদ্ধে নানা প্রকার প্রচারে নিজেদের নিয়োজিত করিয়াছে। অর্থব্যয়ে বিরাট প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করিয়া তাহারা ইহা প্রমাণ করিবার চেষ্টা করিতেছে যে তারাই মূল সংগঠনের লোক। প্রয়োজনবোধে দলে লোক ভিড়াইবার জন্য তাহারা আমার নাম ব্যবহার করিতেও দ্বিধা করে না। জীবনের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়াইয়া ইতিহাসকে পরিষ্কার রাখিবার জন্য দেশবাসীর কাছে এই সম্পর্কে আমি তাই কিছু বক্তব্য রাখিতে চাই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

পাকিস্তান হওয়ার পর বাংলাদেশের কৃষকদের সংগঠিত করিবার জন্য আমি ১৯৫৬ সালে সন্তোষে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করি। সাতচল্লিশের পর বাংলাদেশের কৃষক সংগঠনের কোন অস্তিত্ব ছিল না। শোষণ ও অন্যায়ের কবলে জর্জরিত কৃষকদেরকে সংগ্রামে সংঘবদ্ধ করিবার জন্য কৃষক সমিতি গঠনের প্রস্তাব করি। সেই সময় আমি আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমার আওয়ামী লীগের তৎকালীন বন্ধুরা – শেখ মুজিব, অলি আহাদ প্রমুখ তখন এই প্রস্তাবে আপত্তি উত্থাপন করে। তাহাদের বক্তব্য ছিল আওয়ামী লীগ গঠনের সেই সময়ে শ্রেণী সংগ্রাম ভিত্তিক সংগঠন গড়িয়া তুলিলে মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় দলে থাকিবে না। তাহারা দুই বছরের জন্য এই সংগঠন গড়া স্থগিত রাখিতে অনুরোধ জানায়। তাহাদের বক্তব্য অনুযায়ী আমি সেই সময় চুপ করিয়া যাই।

পরবর্তী পর্যায়ে স্বায়ত্ত্বশাসন ও পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি ইত্যাদি প্রশ্নে যখন আমি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করিয়া ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন ফরি, তখন পুনরায় আমি এই ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করি। ১৯৫৮ সালের ১ লা, ২ ও ৩রা জানুয়ারিতে ফুলছড়িতে প্রথম কৃষক সম্মেলন আহুত হয় । দুইদিন যাবত কৃষক সমিতি গঠন করা বা না করা সম্পর্কে তুমুল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ হইতে বাহির হইয়া আসিয়া কমিউনিস্ট কর্মীরা সেই সময় ন্যাশনাল ‘আওয়ামী পার্টিতে সংঘবদ্ধ হইয়াছিল। প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সহকর্মীদের মত ইহার ও একই যুক্তি উত্থাপন করে যে যেহেতু মধ্যবিত্তরা রাজনৈতিক দল পরিচালনা করে সেইহেতু শ্রেণী সংগ্রাম ভিত্তিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করিলে এবং শ্রেণী সংগ্রাম শুরু হইলে তাহারা দলে থাকিবে না। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি যে মধ্যবিয়া চলিয়া গেলেও কেবল কৃষকদের লইয়া কৃষক সমিতি করিব। আমার এই দৃঢ় সিদ্ধান্তে তাহারা ঐ প্রস্তাব মানিয়া নেয়। কিন্তু কৌশল পরিবর্তন করিয়া জেলা, মহকুমা তথা প্রতি পর্যায়ে কৃষক সমিতির মূল আসনসমূহ, দখল করিয়া লয় এবং তাহাদের চিন্তা অনুসারে কৃষক সমিতিকে অগ্রসর না করিয়া উহাকে স্থবির করিয়া রাখিয়া দেয়। Continue reading

বঙ্গদর্শনের পত্রসূচনা

১৮৭২ সালের ১২ ই এপ্রিল (বাংলা ১২৭৯ সনের পয়লা বৈশাখ) বঙ্গদর্শন পত্রিকার ফার্স্ট এডিশন ছাপা হয়। পত্রিকার শুরুতেই এডিটর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কেন এই পত্রিকা ছাপাইতেছেন, সেইটা নিয়া এডিটোরিয়াল লেখেন, ‘পত্রসূচনা’ নাম দিয়া। পরে উনার “বিবিধ প্রবন্ধ” (১৮৯২) বইয়ে এই লেখা ছাপা হয়। নিচের লেখাটা সেই বই থিকা নেয়া। সেকেন্ড টাইম ছাপাইতে গিয়া উনি বলতেছিলেন, উনার ক্লেইমগুলা এখনো ভ্যালিড। তো, আমার মনে হইতেছিল, ১৪৮ বছর পরেও এই লেখাটার কম-বেশি রিলিভেন্স এখনো আছে।

উনার ক্লেইমগুলা কি, দেখেন – 

১. আমরা মনে করি, বাংলা-ভাষায় কোন জ্ঞানের আলাপ বা নতুন কোন চিন্তা-ভাবনা হয় না; বা করা পসিবল না; সব জ্ঞান হইতেছে ইংরেজি’তে, বাংলায় খালি অনুবাদ করা যায়, নতুন কোন চিন্তা করার ভাষা বাংলা না! –  এইটা যে ঠিক না, এইটার এক্সাম্পল উনি ক্রিয়েট করতে চান, বঙ্গদর্শনে।

২. যে কোন জ্ঞানের আলাপ যদি অই সমাজের ভাষাতে না হয়, বা কমন পাবলিক বুঝতে না পারে, তাইলে সেইটার কোন ইমপ্যাক্ট সমাজে তৈরি হয় না, অই জ্ঞান কোন কাজের জিনিস হইতে পারে না। এই কারণে বাংলা ভাষায় লেখা দরকার।

৩. এখন ‘সাধারণ লোকে’ তো আমার কথা বুঝে না, অদের জন্য কি লিখবো? – এইটারেও আর্গুমেন্ট হিসাবে উনি একসেপ্ট করেন নাই। উনার কথা হইতেছে, পাবলিক বুঝে না – এই কথা ঠিক না, পাবলিক বুঝার কোশিশ করে; এই কোশিশ করাটাই জ্ঞানের রাস্তা।

তো, এইগুলাই পুরা লেখাটা না। কিন্তু এর রিলিভেন্সের কথা ভাবতে গিয়া এই ৩টা জায়গাতে চোখ পড়লো, বা বলার মতো মনে হইলো। এমনিতে, বাংলা-ভাষা যে কঠিন, এইটা বুঝাইতে চলিত-ভাষার লোকজন বঙ্কিমের উদাহারণ দিতেন; আসলে যতোটা না ‘কঠিন’ তার চাইতে অনেকবেশি পুরানা। আমার ধারণা, ১৪৮ বছর পরে আমাদের বাংলা-ভাষাও এতোটা রিডেবল থাকতে পারবে না। কিন্তু ভাষাটাই চিন্তা না! বঙ্কিমের ফাইট’টা অনেকটা এই জায়গাতেও।…

ই. হা.

 

……………………………..

বঙ্গদর্শনের পত্রসূচনা

 

যাঁহারা বাঙ্গালা ভাষার গ্রন্থ বা সাময়িক পত্র প্রচারে প্রবৃত্ত হয়েন, তাঁহাদিগের বিশেষ দূরদৃষ্ট। তাঁহারা যত যত্ন করুন না কেন, দেশীয় কৃতবিদ্য সম্প্রদায় প্রায়ই তাঁহাদিগের রচনা পাঠে বিমুখ। ইংরাজিপ্রিয় কৃতবিদ্যগণের প্রায় স্থিরজ্ঞান আছে যে, তাঁহাদের বিবেচনায় বাঙ্গালা ভাষায় লেখকমাত্রেই হয়ত বিদ্যাবুদ্ধিহীন, লিপিকৌশলশূন্য; নয়ত ইংরাজি গ্রন্থের অনুবাদক। তাঁহাদের বিশ্বাস যে, যাহা কিছু বাঙ্গালা ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়, তাহা হয়ত অপাঠ্য, নয়ত কোন ইংরাজি গ্রন্থের ছায়ামাত্র; ইংরাজিতে যাহা আছে, তাহা আর বাঙ্গালায় পড়িয়া আত্মাবমাননার প্রয়োজন কি? সহজে কালো চামড়ার অপরাধে পড়িয়া আমরা নানারূপ সাফাইয়ের চেষ্টায় বেড়াইতেছি, বাঙ্গালা পড়িয়া কবুলজবাব কেন দিব![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ইংরাজিভক্তদিগের এই রূপ। সংস্কৃতজ্ঞ পাণ্ডিত্যাভিমানীদিগের “ভাষায়” যেরূপ শ্রদ্ধা, তদ্বিষয়ে লিপিবাহুল্যের আবশ্যকতা নাই। যাঁহারা “বিষয়ী লোক,” তাঁহাদিগের পক্ষে সকল ভাষাই সমান। কোন ভাষার বহি পড়িবার তাঁহাদের অবকাশ নাই। ছেলে স্কুলে দিয়াছেন, বহি পড়া আর নিমন্ত্রণ রাখার ভার ছেলের উপর। সুতরাং বাঙ্গালা গ্রন্থাদি এক্ষণে কেবল নর্ম্মাল স্কুলের ছাত্র, গ্রাম্য বিদ্যালয়ের পণ্ডিত, অপ্রাপ্তবয়ঃ-পৌর-কন্যা, এবং কোন কোন নিষ্কর্ম্মা রসিকতা-ব্যবসায়ী পুরুষের কাছেই আদর পায়। কদাচিৎ দুই একজন কৃতবিদ্যা সদাশয় মহাত্মা বাঙ্গালা গ্রন্থের বিজ্ঞাপন বা ভূমিকা পর্য্যন্ত পাঠ করিয়া বিদ্যোৎসাহী বলিয়া খ্যাতি লাভ করেন।

লেখাপড়ার কথা দূরে থাক্, এখন নব্য সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন কাজই বাঙ্গালায় হয় না। বিদ্যালোচনা ইংরাজিতে। সাধারণের কার্য্য, মিটিং, লেক্‌‌চর, এড্রেস্, প্রোসিডিংস্ সমুদায় ইংরাজিতে। যদি উভয় পক্ষ ইংরাজি জানেন, তবে কথোপকথনও ইংরাজিতেই হয়, কখন ষোল আনা, কখন বার আনা ইংরাজি। কথোপকথন যাহাই হউক, পত্র লেখা কখনই বাঙ্গালায় হয় না। আমরা কখন দেখি নাই যে যেখানে উভয় পক্ষ ইংরাজির কিছু জানেন, সেখানে বাঙ্গালায় পত্র লেখা হইয়াছে। আমাদিগের এমনও ভরসা আছে যে, অগৌণে দুর্গোৎসবের মন্ত্রাদির ইংরাজিতে গঠিত হইবে।

ইহাতে কিছুই বিস্ময়ের বিষয় নাই। ইংরাজি একে রাজভাষা, অর্থোপার্জ্জনের ভাষা, তাহাতে আবার বহু বিদ্যার আধার, এক্ষলে আমাদের জ্ঞানোপার্জ্জনের একমাত্র সোপান; এবং বাঙ্গালীরা তাহার আশৈশব অনুশীলন করিয়া দ্বিতীয় মাতৃভাষার স্থূলভুক্ত করিয়াছেন। বিশেষ, ইংরাজিতে না বলিলে ইংরাজে বুঝে না; ইংরাজে না বুঝিলে ইংরাজের নিকট মান মর্য্যাদা হয় না; ইংরাজের কাছে মান মর্য্যাদা না থাকিলে কোথাও থাকে না, অথবা থাকা না থাকা সমান। ইংরাজ যাহা না শুনিল, সে অরণ্যে রোদন; ইংরাজ যাহা না দেখিল, তাহা ভস্মে ঘৃত।

আমরা ইংরাজি বা ইংরাজের দ্বেষক নহি। ইহা বলিতে পারি যে, ইংরাজ হইতে এ দেশের লোকের যত উপকার হইয়াছে, ইংরাজি শিক্ষাই তাহার মধ্যে প্রধান। অনন্তরত্নপ্রসূতি ইংরাজি ভাষার যতই অনুশীলন হয়, ততই ভাল। আরও বলি, সমাজের মঙ্গল অন্য কতকগুলি সামাজিক কার্য্য রাজপুরুষদিগের ভাষাতেই সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। আমাদিগের এমন অনেকগুলিন কথা আছে, যাহা রাজপুরুষদিগকে বুঝাইতে হইবে। সে সকল কথা ইংরাজিতেই বক্তব্য। এমন অনেক কথা আছে যে, তাহা কেবল বাঙ্গালীর জন্য নহে; সমস্ত ভারতবর্ষ তাহার শ্রোতা হওয়া উচিত। সে সকল কথা ইংরাজিতে না বলিলে, সমগ্র ভারতবর্ষ বুঝিবে কেন? ভারতবর্ষীয় নানা জাতি একমত, একপরামর্শী, একোদ্যোগী না হইলে, ভারতবর্ষের উন্নতি নাই। এই মতৈক্য, একপরামর্শিত্ব, একোদ্যম, কেবল ইংরাজির দ্বারা সাধনীয়; কেন না, এখন সংস্কৃত লুপ্ত হইয়াছে। বাঙ্গালী, মহারাষ্ট্রী, তৈলঙ্গী, পঞ্জাবী, ইহাদিগের সাধারণ মিলনভূমি ইংরাজি ভাষা। এই রজ্জুতে ভারতীয় ঐক্যের গ্রন্থি বাঁধিতে হইবে।* অতএব যতদূর ইংরাজি চলা আবশ্যক, ততদূর চলুক। কিন্তু একেবারে ইংরাজ হইয়া বসিলে চলিবে না। বাঙ্গালী কখন ইংরেজ হইতে পারিবে না। বাঙ্গালী অপেক্ষা ইংরাজ অনেক গুণে গুণবান্, এবং অনেক সুখে সুখী; যদি এই তিন কোটি বাঙ্গালী হঠাৎ তিন কোটি ইংরাজ হইতে পারিত, তবে সে মন্দ ছিল না। কিন্তু তাহার কোন সম্ভাবনা নাই; আমরা যত ইংরাজি পড়ি, যত ইংরাজি কহি বা যত ইংরাজি লিখি না কেন, ইংরাজি কেবল আমাদিগের মৃত সিংহের চর্ম্মস্বরূপ হইবে মাত্র। ডাক ডাকিবার সময়ে ধরা পড়িব। পাঁচ সাত হাজার নকল ইংরাজ ভিন্ন তিন কোটি সাহেব কখনই হইয়া উঠিবে না। গিলটি পিতল হইতে খাঁটি রূপা ভাল। প্রস্তরময়ী সুন্দরী মূর্ত্তি অপেক্ষা, কুৎসিতা বন্যনারী জীবনযাত্রার সুসহায়। নকল ইংরাজ অপেক্ষা খাঁটি বাঙ্গালী স্পৃহণীয়। ইংরাজি লেখক, ইংরাজি বাচক সম্প্রদায় হইতে নকল ইংরাজ ভিন্ন কখন খাঁটি বাঙ্গালীর সমুদ্ভবের সম্ভাবনা নাই। যতদিন না সুশিক্ষিত জ্ঞানবন্ত বাঙ্গালীরা বাঙ্গালা ভাষায় আপন উক্তি সকল বিন্যস্ত করিবেন, ততদিন বাঙ্গালীর উন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই।

Continue reading

‘ডিভিশন অফ লেবার’

দিন-দুনিয়ার পোরতি আমার ইন্টারেস্ট হইলো ভাবুকের ইন্টারেস্ট। লাস্ট ডিগরি দুইটা ছোশাল ছাইন্সে, তার আগে কলেজ-হাই ইশকুলে পড়ছি ছাইন্স, বাপে আছিল অংকের ঝানু মাল, আমারো আছিল অংক ভুত, বাড়িতে বাপের বই কাটতো উইপোকা, মায়ের মেজাজ খারাপ হইতো, বাপে মুচকি হাইশা কইতো, কয় বছর পর তোমার ছোট পোলার লাগবে এইগুলা, রাখো!
কিন্তু না, ছোশাল ছাইন্স করি নাই, অংক আর টানলো না, বা পড়ারও তো মওকা পাই নাই, কেবল ছোশালেই পাইছি চান্স, তাই অপশনও আছিল না!

দুই তিনটা চাকরি করছি, ঐগুলার লগে অংকের কোন রিশতা তো আছিলোই না, ছোশালের রিশতাও আছিল খুব আলগা! জিন্দেগিতে জা কিছু পড়ছি তার ভিতরও দুইটার কোনটাই ততো নাই; এখন পেরায় আর না পড়লেও ইতিহাশ-লিটারেচার-দরশনের কয়েক খাবলা, ঐগুলাই বরং একটু পড়া হইছে! এখন নজরে ভাবের ইন্টারেস্ট লইয়া দিন-দুনিয়া দেখি! ইতিহাশ হইলো ভাবের খনি, দরশন হইলো কোদাল, পোয়েট্রি হইলো বেহেশতি ভাব, আর পলিটিক্স মানে ভাবের শালিশ-ফয়ছালা! হরদম আমি তাই এইগুলাতেই থাকি এখন! আর লিখি। গত ১০ বছর লিখতেছি, আওতার বাইরের জিনিশ লইয়াও লিখি। শব বেপারে আমার কোন একটা জাজমেন্ট আছে, আমি জাজমেন্টাল এবং পাবলিকের দরবারে আমার ভাবনা পেশ করি।

এই জে ভাবি আমি, বিচার করার চেশ্টা করি, কোন একটা জাজমেন্ট দিতেছি, এইটা তো একটা পেরাকটিছ বা চর্চা, বছরের পর বছর খরচ করতেছি, তাইলে অনেকের চাইতে আমার কি কিছু বেপারে বেশি বেশি বোঝার একটা শম্ভাবনা আছে না? কিন্তু এই ‘অনেকে’ কারা? ছেরেফ তারাই, জারা ভাবাভাবিতে অতো টাইম খরচ করে না। কতগুলা লোক আবার আমার মতো বা আরো বেশি টাইম খরচ করে, তাদের নজর হয়তো আমার চাইতে ভোতা বা আরো চোখা; তাগো লগে আমার কম্পিটিশন, কিন্তু কম্পিটিশন থাকলেও আমরা শমাজের একটা গুরুপ, আতেল গুরুপ!

এমন আরো অনেক গুরুপ আছে শমাজে। কেউ জাইংগা-পেন্টি বানায়, কেউ খোন্তা-কোদাল, কেউ ইমারত বানায়, কেউ ফলায় গাছ আর ফশল, এমন কত কত! ঐগুলার কোনটাই পারি না আমি, টাইম দিলে জে পারবো না, এমন না; কিন্তু ওনারাও ভাবাভাবিতে ততো টাইম দেয় না, আমিও ওগুলায় টাইম দেই না। তাই আমি ওনাদেরটা জেমন পারি না, তেমনি আমারটাও ওনাদের পারার কথা না! কিন্তু ওনারা জা কিছু বানায় তার পেরায় শবই ইউজ করি আমি, লাগে, নাইলে বাচি না; কিন্তু এইগুলা পয়শা দিয়া কিনি আমি, ওনারা বিকায়, তাই পয়লা নজরে ওনারাও হয়তো মালুম করতে পারে না জে, শমাজে দরকারি বিরাট একটা দায়িত্ত পালন করতেছেন ওনারা, আমারো মালুম হয় না জে, শুকরিয়া আদায়ের কোন দরকার আছে!

এই জে বেমালুম আমরা, পয়শা জে আমাদের রিশতাগুলা পেরায় নাই কইরা দিছে, এইটা কি ভালো, নাকি খারাপ? হয়তো খারাপই, কিন্তু দুনিয়ায় পয়শা আর বাজার আছে, এইটা শাতারের মতো, শিখছি আমরা একবার, আর ভুলতে পারি না! কোন এক জামানায় হয়তো আমরা পয়শা তুইলা দিতে পারবো দুনিয়া থিকা, কিন্তু তার আগে?

তো, আমারে তো তারা চাউল দিলো, কাউফল দিলো, দিলো কচু শাক বা হাশের মাংশ, আমি কি দিলাম? ওনারা তো ভাবাভাবিতে ততো টাইম দিতে পারে না, দিলে নিজেরটা শামাল দেবার টাইম কই পাবে, তাই ঐ পয়লা নজরেই থামলো, আমার তো ভাবাই কাম, আমার তো থামার কারন নাই, আমার টাইম তো ভাবাতেই খরচ করার কথা! আমার তো দেইখা ফেলার কথা জে, পয়শার তলে আতেল হিশাবে আমার কিছু দায়িত্ত আছে, পয়শায় দেমাগি আইনে ধরা খাইতে হবে না আমার, জানি, কিন্তু আমি তো এও জানি জে, দায়িত্তটা আছে আশলে!

কিন্তু দায়িত্তের কথা বাদ দিয়াই ভাবি; ওনারা জেমন কলা-কচু-পেন্টি বানাইলেন, বাজারে ছাড়লেন, তেমনি আমার কিছু চিন্তা বানাইয়া বাজারে ছাড়ার কথা। কলা-কচু পচা হইতে পারে, আনহেলদি হইতে পারে, ফলন খারাপ হইতে পারে, মানে খারাপ হইতে পারে, তাইলে এমন তো চিন্তার বেলাতেও হবার কথা! অন্যদের তুলনায় আতেলের শুবিধা হইলো, পচা কচু শবাই দেইখাই চেনে, কিন্তু পচা চিন্তা চিনতে আরেকজন আতেলই লাগতেছে!

এখন তাইলে আমরা একটা রাশ্টো ভাবার চেশ্টা করি। হিমালয়ের দখিনের এই বাংলাদেশ লইয়া ভাবা জাইতে পারে।

বাংলাদেশে ঐ গুরুপগুলা আছে। চাশা থিকা আতেল, শবই আছে। কলা-কোদাল পেন্টি বানাইয়া বাজারে ছাড়ছেন ওনারা, শারা দেশেই পাওয়া জাইতেছে, একটা চেইন আছে, ডিশ্টিবিউশন চেইন, শারা দেশে ছড়াইয়া দেবার নেটওয়ার্কটা চালাবারও কতগুলা গুরুপ আছে। বাজারের এই চেইনটার লগে তুলনা করেন তো, ঐ শব গুরুপের দুয়ারে দুয়ারে চিন্তা পুছাইয়া দেবার নেটওয়ার্কটা কেমন হালতে আছে?

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →