Main menu

লাগে যেন আপনে আমার মুখের ভিত্রে হাঁটতেছেন : রেন হ্যাং (১৯৮৭-২০১৭) এর কবিতা

একবার নয়া কাম/কাইজ নামে একটা লেখায় রেন হ্যাং বলতেছিলেন যে, উনার কবিতাগুলা উনার কাছে কিছুই মনে হয় না; বেশিরভাগ কবিতা খালি ডিক, পুসি, বীর্য এগুলা নিয়াই; কিংবা ইত্যাদি ইত্যাদি; অথবা, পাস্ট নিয়া। পাস্ট নিয়া- এই কথাটারে অত পাতলা মনে হয় না। বর্তমানে বইসা অতীতরে লেখা, বর্তমানে বইসা অতীতরে নিয়া হুদা কাব্যি করা না, লগে অতীতরে বর্তমানে বইসা নতুন কইরা জান পেহচান করাও বুঝায়; বর্তমান দিয়া অতীতরে বানানো। হ্যাং এই বিষয়ে সতর্ক ছিলেন কিনা বলা যাইতেছে না। উনার বেশিরভাগ লিখিত ঘটনার (কবিতাগুলা তো একেকটা ঘটনাই 🙂  ) আউটলুক মোটা দাগে সাবজেক্টিভ। সেন্ট্রালে একটা উত্তম পুরুষ বইসা মধ্যম পুরুষ আর নিকম্মা পয়লা পুরুষরে বর্ণনা করতেছেন লাগে।

—————————————————-

“যখন লেখতে থাকি, কখনোই এইটা মনে হয় না যে আমার ছবি তোলা দরকার। না। আর যখন
ছবি তুলি তখন আমি কোনো কবিতা লেখতে চাই না।” হ্যাং (২০১৫/৫/১৬)[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এমনটা ভাবার কোনো জরুরত নাই হ্যাং কবিতা কিংবা ফটোগ্রাফি নিয়া খুব বেশি সিরিয়াস ছিলেন; যার কারণে একটা করলে আরেকটা করতেন না; মনোযোগ হারাইতে পারেন বইলা। উল্টা উনার সাক্ষাৎকারগুলি দেখলে টের পাওয়া যায় উনি কোনো কিছু নিয়াই খুব বেশি সিরিয়াস ছিলেন না; সিরিয়াস ছিলেন না বইলা উনার কাজরে হালকা ভাবে দেখারও কিছু নাই। কবিতা লেখা কিংবা ফটোগ্রাফি করা, দুইটারে জীবনের আলাদা দুইটা কাম হিশাবে ভাবতেন। যদিও আলাদা কিছু না, কিন্তু সেইম জিনিসও না বটে। উনার জাস্ট কোনো প্ল্যান ছিল না। ইনিবারসিটির লেখাপড়ার বোরডম কাটানোর জন্য ক্যামেরা কিনছিলেন; পকেটে ক্যামেরা নিয়া ঘুরতেন আর সুযোগ পাইলে (মুড ভাল থাকলে) বন্ধু-বান্ধবগোরে মডেল বানাইয়া ছবি তুলতেন। এইরকম একটা জিনিস মনে হইছে, উনি যে ‘ডিপ্রেশন জার্নাল’ লেখতেন উনার ওয়েবসাইটে, অইখান থিকা উনার কবিতা চর্চার শুরুয়াত। জার্নালে কয়েকটা এন্ট্রি পাওয়া যায় যেগুলার লগে উনার কবিতার টোনটা খাপেমাপে মিলে।

—————————————————-

একলা মানুষের ডিপ্রেশন, বিষাক্ত জিন্দেগী, সেক্স, দরদ, মোহাব্বত, লোনলিনেস, মরন মোস্টলি এগুলা নিয়াই হ্যাং এর কবিতা; রান্না করতে করতে কিংবা ল্যাদ খাইতে খাইতে পড়া যায়। আর কবিতাগুলায় হ্যাং ইন্ডিভিজুয়ালের ঢঙ্গে ‘আমি’ হইয়া ইকটু বেশি সময়ই যেন থাকতে চান। কবিতাগুলা চাইনিজ থেকে ইংরাজি করছেন এলেনা রেব্যুডেংগো (প্রথম ১৬ টা) এবং রুওয়ি জিয়েং (শেষের ৬ টা)। আমি চাইনিজ ভার্সনটা দেখছি, কিন্তু কাউয়ার ঠ্যাং কিছুই বুঝতে পারি নাই (যেহেতু চাইনিজ জানি না আর তাই অইগুলারে আমার কাছে মাছের কাঁটার মতো মনে হইছে)। অতয়েব (রাফলি) ইংরাজি থেকে ট্রান্সলেট করা লাগছে। তবু চাইনিজ টেক্সটগুলা গুগল ট্রান্সলেটরে ফালায়ে বুঝার চেষ্টা করতেছিলাম যে ইংরাজিতে তরজমার সময় কতটুকু মেইন টেক্সট থেকে সরে আসছিলেন উনারা। দেখা গেছে অনেকটাই সইরা আসছিলেন লেকিন হ্যাং এর কবিতার টোনটা ফেড হইয়া আসে নাই। আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম, চাইনিজে (শব্দ দিয়া) যত লিমিটেড আকারে কবিতাগুলার ভাব হাজির করা গেছিল, ইংরাজিতে ওইটার স্পেস কলেবরে আরেকটু বাড়ছে। আবার বাংলায় হ্যাং এর ‘ভাব’টা আনতে গিয়া পুরা খুল্লামখুল্লা অবস্থা হইছে। আপাতত, রেন হ্যাং এর কবিতা নিয়া বলাবলি শেষ। [এইখানে রাজীব দত্ত আর সুবর্না ধররে থ্যাংকস জানাইতে চাই; আমি না করলে সুবর্না ধর নিজেই হ্যাং’র ট্রান্সলেশনটা করতেন (হয়ত কিছু করছেনও)। রাজীব দত্তরে থ্যাংকস আমারেই করতে বলার জন্য] তালিয়া।

মেহেরাব ইফতি

…………………………………………………


আই লাবিয়ু

আমি তোমার পিছেপিছে থাকতে চাই,
যহন তুমি হাঁটো তখন তোমার রংচং দেখার লাগি,
তোমার ছোট্ট পাছাটি দেখবার তরে।
আমি তোমার বাসাত যাইতে চাই।
আর টানটান আয়রনের খাটে তোমার লগে শুইতে চাই,
আচমকা মাঝরাতে জাগায়ে তুলতে
চোখের আইল্যাশগুলা চাইটা দিতে চাই,
আর ফাটা ঠোঁটগুলান ফিল করতে।
বিয়ানে তোমার আন্ডারওয়্যারটা খুইলা ফেলতে চাই,
আর আমারটা পরায়ে দিতে চাই,
খাঁড়ায়ে তোমারে মুততে দেখতে চাই,
আর তোমার হপায় ইয়ুজ করা টয়লেটের ছবি খিঁচতে চাই।

২০১০.০২.১৩

 

যহন খোয়াব দেখি

কারণ আমার স্বপ্নে
অলরেডি তোমারে চুদসি
অসংখ্য বার
আর যহন আমি শেষমেশ
মওকা পাইলাম
হাছা হাছাই
তোমারে চোদার
মনে হইতেছিল
স্বপ্ন দেখতেছি
আর অলরেডি জানি
স্বপ্নে
তোমারে আমি চুদি নাই

২০১৪.০২.১৭

 

দ্য মোস্ট পারফেক্ট ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড

তোমার পুটকি কালা আর গন্ধে ভরা
তার ধন ভোটকা আর ফাল পাড়তেছে
তুমি চ্যাঁচাইলা ওয়াং লি হোম কইয়া
অয় ভাবতাসে তাকেশি কানেশিরোরে নিয়া

২০১১.০৯.১২

 

মোহাব্বত

আমি একটা ছুরি কিনসি
আমরা এইটা একলগে ইয়ুজ করতে পারি
তুই যদি আমারে আর ভালো না বাসছ
আই উইল কিল ইয়ু
আর আমি যদি তোরে ভালো না বাসি
তুই আমারে মাইরা লাইছ

২০১৭.০১.০৪

Continue reading

কবি ডেরেক ওয়ালকটের কবিতা লইয়া

ডেরেক ওয়ালকট নোবেল পাওয়া কবি। ফলে, কবিতায় তাঁরে অথরিটি ধরা যায়। মানে, তেনার ‘কবিত্ব’ নিয়া প্রশ্ন করা অযৌক্তিক কিন্তু আমরা তেনার কবিতা পড়তে চাই ভাষা, আঞ্চলিকতা, কসমোপলিটান ভিউ, কলোনিয়াল লিগেসি, রেইস ইস্যু ইত্যাদি চোখা হইয়া থাকা ব্যাপারগুলারে কিভাবে ডীল করছেন, করতে পারতেনের নজরে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ওয়ালকটের যে কবিতার দরিয়া তাতে ক্যারিবিয়ান ব্যাপারস্যাপার এমন যে, যেন ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর ‘ব্ল্যাক পার্ল’, ছুইটা যাবে রহস্যের আবিষ্কারে আর সাক্ষী রাইখা যাবে আমরা যারা পাঠক তাদের! ক্যারিবিয়ান দুনিয়ায় অবশ্য আমাদের কবি জনি ড্যাপের মতো অতো রেডিকাল না, পাইরেট না হোন ছিঁচকেচোর তো তেনারে অবশ্যই কইতে হয়!

তো, এক দোস্তরে কইতেছিলাম, ডেরেক ওয়ালকট এতো বেশি ক্যারিবিয়ানের ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো যে, ইভেন তেনারে লইয়া একটা কবিতাও তিনি লেখছেন, ইন্টারেস্টিংলি ওইটাতে তেনারে সম্বোধনও করছেন ‘জন’ বইলা, এজ জন টু পেটমুচ, এবার জনি ড্যাপরে ননাই কইরা জন কইয়া ডাকেন!

উনার কবিতা নিয়াই আলাপ। নাটকে যাব না। তো, কবিতায় উনি বলতেছেন, কতটুকু ইংরাজ আর কতটুকু ক্যারিবিয়ান তা বুঝতে পারতেছেন না তিনি। যেই জবানে লিখবেন তার যে জুলুমের পরম্পরা তা নিয়াও তিনি ভাবতেছেন, উপনিবেশ হইয়া কতো কতো ক্ষতির শিকার হইছেন এইগুলা কাব্য কইরা বলতেছেন। উনার কবিতা নিয়া প্রাথমিক অবজারভেশন হইলো, উনার বেশিরভাগ কবিতায় ক্যারিবিয়ান নেচার আর কলোনি ডীলিং এমনভাবে সেঁটে আছে যে কবিতার যে রস তারে আর খুঁইজা পাই না। মানে, উনার অনেকগুলা কবিতা এথনোগ্রাফি বা সাবঅল্টার্ন বয়ানের মতো অলটারনেটিভ হিস্ট্রি হইয়া রইছে আসলে! Continue reading

ফুল্লরা’র কবিতা

সংসার

এই যে কাক ডাকা দুপুরের রোদে মেয়েটি হাঁটছে— পিচঢালা রাস্তার মতো তপ্ত থেকে তপ্ততর হতে হতে ফেলে এসেছে সংসার—
এরকম যেন এ নতুন নয়;
সেই শৈশবেও সে ছেড়েছে সংসার।
একা নয়; সাথে আরো কেউ ছিলো—
এরপর আরো কতবার।
এরকম ছেড়েছুঁড়ে এসেও—
যেখানে যখন বসতি করেছে বাধ্য হয়ে—
সেখানেই আবার গড়ে উঠেছে সংসার।
সংসার মানেই আগুন দেয়া চুলায় বসে থাকা ভাতের পাতিল;
যার ভিতরে ফুটতে থাকে আমাদের অস্তিত্ব।
যেখানে আগুন বেশি হলেই ভাত—
পুড়ে মরার ডরে যেন নিজেই লাফিয়ে মরে![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

 

ড্যাডবডি অফ এ কিশোরী

কারোর ছায়াতলেও নয়;
কারোর মায়াজালেও নয়;
নিজের কবরখানা—
নিয়তি কুঁড়েই শোয়ায় রাখছে;
ঢুকতে পারতেছে না!
কুক্কুরেরা তারে
মাটি আঁছড়ে—
এসে—ঢুকায়ে
—ঢেকে দিলো মাটিরদানা।

 

বয়ঃসন্ধির চোখ

দর্জি হয়ে মাপতে থাকা সেই ছেলেটা
বয়ঃসন্ধি পার না করেই যেই ছেলেটা
গার্লস স্কুলের মোড়ে—
ড্যাবড্যাব করে উঁকি মারে
বারান্দাতে ছুঁড়ে।
কী যেন নাম সেই ছেলেটার!?
যেই ছেলেটা ছাতাওয়ালির পিছে পিছে
দলের সবার কথার নিচে
হাঁটতে থাকে মুচকি হেসে—
বাড়ি কোথায় সেই ছেলেটার?
যেই ছেলেটার
ব্রণের দাগে মুখ ভর্তি,
মোচের দাগে লাজ ভর্তি,
হাত দিয়ে তাই মুখ ঢেকে রয়;
কথা যা হয়—সব ইশারায়।
ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলে—
সপ্তসুরে চুল আঁচড়ে
যেই ছেলেটা পথ আগলায়—
সেই ছেলেটা কলেজ রোডে
আর থাকে না;
হারিয়ে যায়।

Continue reading

কোহেনের কবিতা (২)

কোহেনের কবিতা (১)

লিওনার্দ কোহেনরে আমরা গায়ক হিসাবেই চিনি, যিনি সুন্দর লিরিকসও লিখছেন। কিন্তু উনি নভেলও লিখছিলেন, কবিতাও। মোট ১০টা কবিতার বই উনি ছাপাইছেন। উনার কবিতা বইগুলাতে উনার অনেক গানের লিরিকসও আছে। মানে, অনেক কবিতারে হয়তো গানে সুর দিছেন পরে, বা অনেক লিরিকসরে তিনি কবিতার বইয়ে জায়গা দিছেন। কোহনের গানের লিরিকগুলা তো আসলে কবিতাই!

২.
কবিতাতে কোহেন উনার গানের লিরিকসের চাইতে আরো অনেক বেশি উইটি, ওয়াইল্ড, ফ্রেজাইল, প্যাশোনেটের পাশাপাশি। একটা মুচকি মুচিক হাসির কিছু ঘটনাও আছে। সাফারিংস। কিছু দেখতে চাওয়া আর কষ্ট হইলেও মাইনা নেয়ার একটা ট্রাই করা। যেইটা আমার কাছে ভাল্লাগছে, উনি কবিতার একটা জায়গা থিকা সবকিছুরে দেখতে চাইছেন বা দেখতে পারছেন; জীবনটারেই কবিতা বা কবিতাটারে জীবন বানায়া ফেলার চাইতে যেইটা জরুরি জিনিস। কোহেন যে একজন কবি, এই জিনিসটা মনেহয় যে কারোরই টের পাওয়ার কথা, উনার কবিতাগুলা পড়লে। মানে, আমি এইভাবে ভাবতে পারছি। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

৩.
তরজমা’তে আমি ট্রাই করছি, কোহেনর কবিতার সুরটারে ধরতে, আমার কোন শব্দ, ভাব বা ভঙ্গিমারে চাপাইতে চাই নাই। বরং আমার ধারণা, বাংলা-ভাষারে যেইরকম একটা পুত-পবিত্র ভাবে দেখার অভ্যাস আছে, সেইখানে আমার যে না-রাজি আছে, সেই না-রাজি’টারে একটা ‘বিকৃতি’ বা ‘একটা স্টাইল’ হিসাবে না দেইখা, এইটাও যে বাংলা-ভাষা, সেইটা মানতে পারলে কবিতাগুলা পড়া বা কানেক্ট করাটা ইজি হইতে পারার কথা।

প্রথম দুইটা কবিতা বাদে এখানকার সবগুলা কবিতা উনার লাস্ট কবিতার ই “দ্য বুক অফ লংগিং” থিকা নেয়া হইছে।

……………………………………….

।। আমার দুইটা সাবান আছে ।। দ্য ক্যাফে  ।।  এইটা শেষ ।। লোনলিনেসের শরীর ।। তুমি ঠিক বলছো, সারাহ্ ।। দেবতাদের দরবারে হাসাহাসি ।।  আমি প্রেমের জন্য লিখতাম।। রিমোট’টা ।। সবচে মিষ্টি ছোট্ট একটা গান ।। উপাধিগুলা ।। তুমি আসলে কারে মনে রাখো ।। তোমার হৃদয় ।। ঠিকঠাক অ্যাটিটুড ।। বুড়াদের দুঃখ ।। চাইনিজ রিডারের প্রতি একটা নোট ।। বাটপার ।।  আমার সময় ।। কয়েকটা গানের কারণে ।।

……………………………………….

 

আমার দুইটা সাবান আছে  

আমার দুইটা সাবান আছে,
অ্যালমন্ডের গন্ধঅলা,
একটা তোমার জন্য আর একটা আমার জন্য।

গোসল করতে আসো,
আমরা একজন আরেকজনরে ধোয়াইয়া দিবো।

আমার কোন টাকা নাই,
আমি ফার্মাস্টিটটারে খুন করছি।

আর অইখানে আছে একটা তেলের বোতল
বাইবেলে যেইরকম বলা আছে।
আমার বুকে আসো,
আমি তোমার শরীররে ঝলমল কইরা দিবো।

আমার কোন টাকা নাই
আমি সুগন্ধিঅলাটারে খুন করছি।

জানালা দিয়া তাকায়া দেখো
দোকানগুলা আর মানুশগুলারে
আমারে বলো, কি তুমি চাও,
এক ঘন্টার ভিতরে তুমি সেইটা পায়া যাবা।

আমার কোন টাকা নাই।
আমার কোন টাকা নাই।

 

দ্য ক্যাফে 

আমার টেবিলের সৌন্দর্য্য
ফাটা মার্বেল টপ’টা।
দশটা টেবিল দূরে এক বাদামি-চুলের মেয়ে।
আমার সাথে আসো।
আমি কথা কইতে চাই।
আমি এমন একটা ড্রাগ নিছি যেইটা নিলে খালি কথা কইতে ইচ্ছা হয়।

Continue reading

ফিকশন: একদিন তোর হইবো রে মরণ – ৩

কিস্তি ১।। কিস্তি ২ ।।

 

মতিঝিল টু মিরপুর

বালের কি যে নিয়ম, এইদেশে। বাসে বইসা ঘামতে ঘামতে ভাবতেছিল রানা।

যেইদিন বিকালবেলা রানা মেজর রাহাত খানের রুমে গেলো সেইদিনকার দুপুরবেলার ঘটনা। ছয়ই মার্চ। সকাল এগারোটা ছয় মিনিট।

শাহবাগে বাসের মধ্যে বইসা আছে মাসুদ রানা। মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের সামনে থিকা ওঠছে সে। মিরপুর পর্যন্ত যাইতে হবে। বিকল্প পরিবহনের শাদা কালারের ছোট বাস। শাদা বলাটা মুশকিল, ময়লা বাস-ই বলা দরকার। কন্ডাক্টার হাড্ডি খিজির। বারবার আইসা রানারে দেইখা যাইতেছে, স্যারের কোন সমস্যা হইতেছে না তো! ওরে একটা চটকানা দিতে ইচ্ছা করতেছে রানার। চোয়াল শক্ত কইরা কইলো, এইটাই লাস্ট টাইম, ফুট এইখান থিকা! ভাড়া তোল ঠিক কইরা! [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

শাহবাগ থিকা গাব্বার সিং-এর সেকেন্ড ম্যান কৃষ উঠবে এই বাসে। ঠিক পিছনের সিটের আগে ডানপাশে, জানালার ধারে। এমন একজনরে বসানো হইছে যে শাহবাগ আসার পরে উইঠা যাবে। কিন্তু বাসটা শিশুপার্কের সামনে আইসা আধাঘণ্টা ধইরা দাঁড়াইয়া আছে। পিজিতে ডাক্তাদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হইছে। পাবলিকের নিরাপত্তার লাইগা রাস্তা বন্ধ কইরা রাখছে ট্রাফিক পুলিশ।

শাহবাগের প্যাসেঞ্জার সব নাইমা গেছে। কিন্তু ওই লোকটা নামে নাই। তার মানে ইনফরমেশন ঠিকাছে। একটা সিগ্রেট ধরানো দরকার। ইলেকট্রিক সিগ্রেটটা অফিসে রেখে আসছে। বাইরে এই গরমে ফুচকা খাইতেছে দুইটা মেয়ে। কলেজের ড্রেস পড়া। হাসতেছে একটু পরে পরে। তাকাইতেছে এইদিক-ওইদিক। হিরোইন খাইয়া গাছের নিচে ঝিমাইতেছে চিকনা একটা লোক। তিনটা ঝুড়িতে ফুলগুলা আলাদা করতেছে কয়েকটা বাচ্চা পোলা। ভালো মতো রেকি কইরা নিলো রানা জায়গাটা।

বাসটাও ঝিমাইতে শুরু করলো। এখন ছাড়তেছে। পুলিশও বুঝতে পারছে, ডাক্তাররা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেই পাবলিক মারতে মারে। পাবলিক মারা’র লাইগা উনাদের রাস্তায় আসার দরকার নাই। মোড়টা ঘুইরাই একটান দিয়া ফুট ওভারব্রীজ পর্যন্ত চইলা আসলো ড্রাইভার। পাশে একটা বন্ধু পরিবহন, পত্রিকায় লেখে হিউম্যান হলার। ড্রাইভারের বয়স খুববেশি হইলে পনের-ষোল। এমন কঠিন চোখ-মুখ মনে হবে বয়স ত্রিশ পার হয়া গেছে। কার উপর যে তার রাগ এইটা সে জানে না। কিন্তু মারাত্মক একটা রাগ আছে তার চোখে-মুখে। হঠাৎ কইরাই জোরে স্টার্ট দিলো আর ভেতরের মানুষগুলা লইড়া-চইড়া উঠলো সবাই। স্পেইসও ক্রিয়েট হইলো, আরেকটা লোক উঠতে পারলো।

ডানপাশের লোকটা অস্থির হয়া উঠলো তখনই। জানালায় উঁকি দিয়া কারে জানি খুঁজতে থাকলো। তখনই দুইদিনের দাড়ি না কাটা শ্যামলা পঁয়তাল্লিশ বছরের একজন লোক তার কাঁধে হাত রাখলো। চমকাইয়া উঠলো সে। কিছুক্ষণ তাকাইয়া থাকলো শ্রদ্ধামিশ্রিত ভালোবাসার চোখে, তারপর সরে আইসা তারে বসার জায়গা কইরা দিলো। যখনই সে নাইমা যাইতে থাকলো, রানা দেখলো একটা পাতলা কাগজের খাকি খাম সিটের ওপর পইড়া আছে। কৃষ তাঁর ওপর বইসা পড়লো। রানা নিশ্চিত হইলো এইটাই তাইলে কৃষ।

লোকটার চোখেমুখে অথরিটির ভাব পরিষ্কার। সারাক্ষণ জানালা দিয়া বাইরে তাকাইয়া আছে। খুব বেশি দিন সম্ভবত হয় নাই যে সে ঢাকা আসছে। দুয়েকবারের চিনা জায়গাগুলারে রিকল করতেছে। শাহবাগ থিকা ফার্মগেট। ফার্মগেটে আইসা আর বাস চেইঞ্জ করলো না সে। ফার্মগেট থিকা শ্যাওড়া-পাড়া পর্যন্ত আসলো। নামার জন্য উঠে দাঁড়াইলো কৃষ। রানাও তার পিছন পিছন। খিজিরও সামনে থিকা আগাইয়া আসছে। একরকম এসকর্ট কইরা, একজনের ধোনের সাথে আরেকজনের পাছা লাগাইয়া, আগাইতে থাকলো তারা। ভাগ্য ভালো এরা কেউই গে না তা নাইলে সিনটা বেশ ইরোটিকই হইতে পারতো বা হইলোই গে, পাবলিকলি পর্ন না হয় আমরা দেখি না, কিন্তু ইরোটিক সিন কি দেখি না! যেমন চলতি রিকশায় গার্লফ্রেন্ডরে কিস করে ইয়াং পোলাপানেরা। মাঝবয়সী মাইয়ারা ফেইসবুকে তাঁদের ইয়াং বয়ফ্রেন্ডরে কয়, কুলফি আইসক্রীম খামু আমি। এইরকম।

বাস থিকা রাস্তায় নামার লাইগা যেই পা’টা বাড়াইলো কৃষ, খিজির তার পা’টা পিছনের দিকে উঁচা কইরা দিলো। কৃষ যেহেতু সামনের দিকে তাকাইয়া কাউরে খুঁজতেছিলো সে ভাবলো যে নিজেই ষ্টেপ’টা মিস করছে।

যেমন মিস করছে আসাম ও ত্রিপুরা। ওরা যদি তখনই পূর্ব-বাংলার সাথে চইলা আসতো পাকিস্তানে, আজকে তারা ইন্ডিপিডেন্ট প্রভিন্স হিসাবেই থাকতে পারতো। ১০০ বছর পরে আইসা এখনো ‘বাঙালি হঠাও’ আন্দোলন করা লাগতো না! রানা ভাবে। কানা রে কানা, মানুষ ত প্রকৃত বস না, মেশিনই হইলো আসল! মাও-এর ‘বন্দুকের নলই আসল ক্ষমতার উৎস’ এই বাক্যের কারেক্ট ইন্টারপ্রিটেশন নকশালবাদীরাও যেমন এখনো করতে পারে নাই। অ্যাক্টিভিস্টরা তো এখন তাদেরকে ঘেরাও কইরা ফেলছে গরম গরম বাতাস দিয়া। এরা কি আর কোন কূল-কিনারা করতে পারবে রিজিওনাল পলিটিক্সের?

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →