Main menu

খুচরা আলাপ

১.

“আমার অস্ট্রেলিয়ান তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘… তোমার ফাইন্ডিংসে একটা বিষয় স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়ায় ইমিগ্রেন্ট বাংলাদেশি মায়েরা কিশোরী মেয়েদের প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যাল এক্সপোজার নিয়ে ভীষণ চিন্তিত থাকে। তোমার দেশে কি প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যালিটি নাই?’
আমি জবাব দিলাম আছে কিন্তু এটা একটা ট্যাবু এবং নারী ও তার পরিবারের সামাজিক সম্মান এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে একে সবসময় বাধা দেয়া হয়।
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘এটা তোমরা কিভাবে আটকাও?’
আমিঃ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে।
তত্ত্বাবধায়কঃ কিভাবে?
আমিঃ একটা উদাহরণ দিতে পারি যে আমরা সাধারণত সেক্সুয়াল ইস্যু নিয়ে অবিবাহিতদের সামনে আলোচনা করিনা এবং বাচ্চা কিভাবে হয় জানতে চাইলে শিশুদের বলি তাদেরকে হাসপাতাল অথবা ফুলের বাগান থেকে আনা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়কঃ ওয়াও! তোমরা কি এটা বন্ধ রাখতে পারছো সমাজে?
আমিঃ না”

এইটা আমার এক ফেছবুক ফেরেন্ডের স্ট্যাটাছ, উনি এইটা কতটা পাবলিক করতে চান, জানি না, তাই নামধাম দিলাম না এইখানে, ততো দরকারও নাই এই বেপারে আমার আলাপে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বাংলাদেশের মানুশের ছেক্স-লাইফ লইয়া এইখানে একটা আইডিয়া আছে; বিদেশিরা এমনে একটা আইডিয়া পায়, তারা ধইরাই নেয় জে, নিজের কালচারের বেপারে তো বাংলাদেশিদের জানারই কথা! ওদিকে, এই শব বেপারে আমাদের কির্টিকেল চিন্তাভাবনার শুরুটাই হয় আশলে কতক বিদেশি চিন্তার ছোবল খাবার পরে! মানে হইলো, আমরা পেরায়ই জেই নজর দিয়া দেশটারে দেখি, শেই নজরটা পয়দাই হইতে পারে লোকাল নজর মেছমার হইয়া জাবার পরে! এবং ঐ বিদেশি চিন্তার ছোবলে পয়দা হওয়া নজরটাই বিদেশি লোকের কাছে লোকাল নজর হিশাবে ধরা দেয়! এমনে চিন্তার একটা ছাইকেল ঘুরতেই থাকে।

কিন্তু আমরা শবগুলা পক্ষ হুশিয়ার হইলে আমাদের নজর জেমন আরেকটু ছাফ হইতে পারে, অমন ধইরা নেবার গলদেও হয়তো পড়তে হয় না!

অমন নজর এবং ধইরা নেবার ঘটনারেই বরং কির্টিকেলি দেখা দরকার আমাদের! কেন দরকার শেইটা বাংলাদেশের মানুশের ছেক্সলাইফ আরেকটু খেয়াল করলে খোলাশা হইতে পারে।

দেশের মা-বাপেরা নিজেদের পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তদের কেমনে দেখে? অনেক শময়ই পছন্দ করে না; কিন্তু পোলাদের পোলা ফেরেন্ড আর মাইয়াদের মাইয়া ফেরেন্ড থাকারে খুবই নরমাল ভাবে শমাজ; মা-বাপ-ফেমিলির চাওয়া ছেরেফ এই জে, পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তরা জেন নেশাখোর না হয়, লেখাপড়ায় ভালোর দিকে থাকে, মোটামুটি ভালো ফেমিলির ভালো ভালো পোলামাইয়া হয় জেন। এবং পোলাদের পোলা দোস্ত এবং মাইয়াদের মাইয়া দোস্তরা একজন আরেকজনের বাশায় জায়, রাইতে থাকে, মা-বাপ আপত্তি করে না। কখনো এমনকি তারা চায়ও এদের, তাদের দরকারি নজরদারিটা পোলামাইয়ার দোস্তদের জেরা কইরা অনেকখানি বোঝার চেশ্টা করে, কাদের লগে মেশে শেই খবরটা রাখতে চায় মা-বাপ।

এরা ঘুমায় কই? এক লগে, এক বিছানায়, এক খেতার তলে। দুয়ার আটকাইয়া দিতে পারে তারা, শারা রাইত তো বটেই, তার বাইরেও ঘন্টার পর ঘন্টা এক লগে থাকতে পারে তারা। এই শময়টা কি জৌনশম্ভব? আলবত। কে করে, কে করে না, শেইটা বেপার না, কিন্তু করতে চাইলে বাপ-মা-ফেমিলি-শমাজ কেউই আটকায় না, একই লিংগের ইয়ারদোস্তদের হোমোছেক্সুয়ালিটি কি তাইলে পারমিট করে শমাজ? বেপারটা পারমিশনের না, ঠেকাবারও না, শমাজ ছেরেফ মাথাই ঘামায় না ঐটা লইয়া! এমনকি রাস্তায় হাত ধইরা হাটা, কান্ধে-কোমরে হাত দিয়া হাটা একই লিংগের মানুশের জন্য নরমাল বাংলাদেশে। এমনকি ভাতার-বউরাও পার্টনারদের ইয়ারদোস্তদের লগে এমনে থাকায় আপত্তি করে না বেশিরভাগ শময়, করলেও শেই অন্য ইশু–পয়শাপাতি উড়ানো বা নেশা ইত্যাদি, ছেক্স পেরায় নাই। আগে বা এখনো গেরামের দিকে একই নামের পোলা-পোলা বা মাইয়া-মাইয়া ‘মিতা’ পাতাইতো, তারা অমনে এক লগে ঘুমানো থিকা হেটারোছেক্সুয়াল পিরিতি বা বিয়ায় হেল্প করতো, বউ’র লগে ঝগড়া কইরা মিতার লগে জাইয়া ঘুমাইতো, থাকতো দিনের পর দিন! এর লগে তুলনা করেন তো ছো কল্ড জৌন-লিবারাল দেশগুলার! পোলামাইয়ারা নিজের নিজের মিতা-দোস্ত লইয়া অমনে থাকতে থাকলে, একজন আরেকজনের কোমরে হাত দিয়া দুই পোলা ঘুরতে থাকলে কি ধইরাই নেবে না জে তারা হোমোছেক্সুয়াল? এমন একটা ছবি হেটারোছেক্সুয়াল কোন মহাপিরিত ভাইংগা চুরমার কইরা দিতে পারে তাদের!

এইখান থিকা তাইলে বাংলাদেশের এই মানুশের ছেক্সলাইফের বেপারে কি ডিছিশন লইবেন আপনে? দেশে বাইছেক্সুয়ালিটি কমন, নরমাল এবং শমাজ এইটা লইয়া মাথাই ঘামায় না! এখন এই হক জদি দেশের মানুশের অলরেডি থাকে কাফি, তাইলে দেশে ছো কল্ড ‘এলজিবিটিকিউ’ মুভমেন্টের মানে কি, এমন মুভমেন্টের উপর শমাজ কেন হামলা করে আবার!

কিন্তু ঐদিকে জাবার আগে দুয়েকটা কথা কইবার আছে; উপরের আলাপে ছেক্সের জেই মস্ত ভুবন দেখাইলাম, শেইটা তাইলে ‘বিয়ার আগে বা বিয়ার বাইরে বা এক্সট্রা-ম্যারিটাল’ ছেক্স হইতেছে কিনা? এবং এইটাই না কেবল, বুড়া মহিলাদের কাছে পোলাদের জাতায়াত লইয়াও মাথা ঘামায় না শমাজ; বুড়া মানে কি? খেয়াল করলে দেখবেন, এই বুড়া মানে মেনোপজ হইয়া জাওয়া মহিলারা! তাইলে বরং পোশ্নটা উল্টা কইরা জিগাইতে পারি আমরা–বিয়ার বাইরের কেমন কিছিমের ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায় শমাজ? এর জবাব হইলো, মাশিক জামানায় আছে এমন মাইয়াদের হেটারো-ছেক্সুয়াল ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায়, এইটা ঠেকাইতে চায় এবং বাংলাদেশে জৌন-লিমিটেশন মানে এইটাই, এর বাইরে খুব নাই।

Continue reading

পলিটিক্যাল আক্কেল

কয়েকটা বেপারে কিছু কথা কই আমি মাঝে মাঝে, কেউ খুব একটা পাত্তা দেন না; তাও কইতে থাকি, টিভি অ্যাড আমি একটা, চলতেই থাকবো ইন এভরি বেরেক 🙂 ! আজকের ইশু হইলো, আমাদের ভোকাবুলারি, পলিটিক্যাল টার্মিনোলজি।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আমাদের ভোকাবুলারি রিডিজাইন করা দরকার। জেমন ধরেন, নিজেদের ‘বাম’ নামে পরিচয় দেন অনেকে, বুক ফুলাইয়া বা নর্মাল ফোলা বুকেই কইতে থাকেন, ‘আমি বাম’, অনেকে অবশ্য নিজেরা কন না, অন্যরা তাদের কন, কিন্তু তারা শেইটা মাইনা নেন, আপত্তি করেন না। আমি কইছি, ‘বাম’ পরিচয়টা বাংলাদেশে রাজনিতির জন্য শুবিধার না; কারন, আমজনতার কাছে ‘বাম’ মানে কুফা। তেমনি ‘থাম্বছ্ আপ’ও আশলে দেশাচারের খেলাপ, বুইড়া আংগুল দেখানোর অর্থ ‘পাত্তা না দেওয়া’, ‘তুই আমার বালও ফালাইতে পারবি না’র লগে লোকে বুইড়া আংগুল দেখাইয়া থাকে, কথা আর ভিজুয়ালে মিলায় ঐভাবে।

আমি রেপকেও জুলুমের ছাব-ক্যাটেগরি হিশাবে দেখতে কইছি; এইখানে দুই কথায় কারনটা আরেকবার কইতেছি: দেশে জে কোন একটা রেপের ইশুতেই বাড়তি কতগুলা কথা হাজির করে কতগুলা লোক, কখনো রেপিস্টের দালালি করতে, কখনো ধান্দাবাজি হিশাবে, কখনো আশল আলাপটা ছেরেফ আউলা কইরা দিতে, কখনো বা ধর্মরেও হাজির করে কেউ কেউ; জে এংগেল থিকাই হৌক, রেপের বেলায় দেশে ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করা লোক এত বেশি জে, শামাল দিতে হিমশিম খাইতে হয়! এখন, রেপের বেপারে আপনে জা ভাবেন, তা তো শবাইরে ভাবাইতে পারবেন না দুই দিনেই, কিন্তু রেপকে জদি জুলুম হিশাবে দেখাইতে পারেন তাইলে ঐ ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ ঘটার উপায় থাকে না! কেননা, জুলুম দায় কার? জালেমের আলবত, দায় কার শেইটা ফয়ছালার পরেই জুলুম পাইতেছেন, জুলুমের দায় মজলুমের হইতেই পারে না! তাই দেশের পাবলিক ডিছকোর্ছে রেপকে জুলুমের ছাব-ক্যাটেগরি হিশাবে হাজির করাই আক্কেল মনে হয় আমার, তাতে খোদ ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করা কতগুলা লোককে আপনে লগেও পাইতে পারেন!

এখন আরেকটু খেয়াল করেন, এই জে ‘বাম’ বা ‘থাম্বছ্ আপ’ পেরাকটিছ করা লোকদেরই বিরাট একটা শরিক কিন্তু এই জামানার বহু চিন্তার লগে পরিচিত, তারা অনেকেই চিন্তায় পোস্ট-কলোনিয়াল হইয়া উঠতে চায়। তাইলে ঘটনাটা কি আশলে, এই শব টার্মের বেপারেও পোস্ট-কলোনিয়াল হইয়া ওঠার জে কোন মামলা থাকা শম্ভব, শেইটা কি ভাবেই না তারা! ইউরো-ছেন্ট্রিজম নামের একটা জিনিশ জে তারা ভাবেন, এই শব টার্মকে কি শেই ইউরো-ছেন্ট্রিজমের পুরা বাইরের মালামাল ভাইবা বইশা থাকেন তারা!?

Continue reading

ফিকশন: একদিন তোর হইবো রে মরণ – ২

কিস্তি ১।

 

 

র‌্যাবের হাতে হিমু গুম?

ভাবতেছিলো রূপাও তখন, কি করবে সে? রূপার চোখ খোলা, কিন্তু শে যেন কিছুই দেখতে পাইতেছে না, দেখতে চাইতেছে না। খোলা চোখে কোথায় জানি তাকায়ে আছে। ঘুম নাই। পুরা এক বোতল নিদ্রাকুসুম তেল মাথায় ডইলা ডইলা মাখলেও তাঁর ঘুম আসবে না।

এইরকম একজন রূপবতী মেয়ে রাত দুইটার সময় মগবাজার থানায় বইসা আছে এইটা থানার পুলিশদের কাছে একটা বিরাট ঘটনা। মাথার উপরে টঙ্গী ন্যাশনালের সিলিং ফ্যান ঘুরতেছে, তারপরও ওসি অপু বন্দোপাধ্যায় দরদর কইরা ঘামতেছেন। কাজ থাকলেও কেউ উনার রুমে যাওয়ার সাহস করতে পারতেছে না এখন। কারণ তাঁর সামনে শিরদাঁড়া সোজা করে রূপা বইসা আছে। পিছন থিকা তাঁর বাদামি কাঁধের উপর জমে থাকা শাদা ঘামের রেখা দেখা যায়। ঢাকা ইউনির্ভাসিটি’র ইয়াং মুসলিম ইন্টেলেকচুয়াল আবদুল্লাহর জন্য তাঁর এই বইসা থাকা।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

প্রথম বউয়ের সাথে ডির্ভোসের রায় হওয়ার আগেই সে রূপারে বিয়া করছে এই অভিযোগ কইরা কেউ তারে গ্রেফতার করাইছে। যেহেতু সে সরকারের সমালোচনা করে এইজন্য হয়তো কেউ এই কাজ করছে। এইটা যে কেউই ভাবতে পারে। কিন্তু সে জানে এইটা না-ভাবার পক্ষে অনেক যুক্তি আছে। এইরকম কিছু হওয়ার কোন কারণই নাই।

দৈনিক এনলাইটমেন্ট গ্রুপও এই কাজ করার কথা না। কেন করবে না এইটা সে ভাবনার মধ্যেও আনতে চায় না। এইটা এতোটাই গোপন যে কখনোই এই বিষয়ে কথা না বইলাও উনারা জানেন সেইটা। সবচে যেইটা অবভিয়াস সেইটা গোপনই থাকে একরকম, নাবলা প্রেমই যেমন সবচে গভীর প্রেম, এইরকম একটা ব্যাপার। এইখানে অবশ্যই তাদের নিজেদেরকে নিজ নিজ রোলটা প্লে করতে পারতে হবে। নাজানা পারসপেক্টিভেই জানা ঘটনাগুলা ঘটতে থাকবে। সামনে অপেক্ষা করতেছে নয়া দিন, নয়া জীবন। সোভিয়েত রাশিয়া’র উদয়ন পত্রিকার ইমেজগুলার মতো চকচকা। সরকারের মন্ত্রীদেরও সেইটা না-জানা থাকার কথা না। একটা সিস্টেম’রে সাসটেইন করতে হইলে একটা লেভেলে সমালোচনা’রে নিতে পারতে হয়, চালু রাখতে হয়। এইটা সবাই বুঝে; এইটার বেনিফিট সবাই পায়। সুতরাং এইটা তাঁদেরও কাজ না। 

এর উপরে, তাঁর প্রথম বউয়ের সাথে ডির্ভোসের ব্যাপারটা ফাইনাল। কাগজপত্র আসতে যা দেরি। সেও এইরকম ভিনডিক্টিভ মেয়ে না, যদিও সে ইমোশনাল। একদিকে রাজাকারের ফাঁসি চায়; আবার অন্যদিকে সভ্যতার বিক্যাশ চায় এবং তার মতোই সংস্কৃতিমনা। কালচারাল গ্রাউন্ডে তাদের কোন বিরোধ নাই। তাঁর স্বামীর আগের প্রেম সে মাইনা নিছে। গত এক বছর ধইরা তারা এক বাসাতেও থাকে না। হাজার হোক, তাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল, তাঁর এই কাজ করার কথা না। যেইখানে সম্পর্কটাই শেষ হয়া গেছে সেইখানে রিভেঞ্জের ইচ্ছা থাকার কথা না।! 

তাইলে এই ভজঘট’টা পাকাইলো কে? রূপার প্রেমিক বলতে হিমুরেই সে জানে। কিন্তু হিমু ঠিক রূপার প্রেমিক না, বরং রূপাই হিমু’র প্রেমিকার মর্যাদা চায়। রূপার এক রকমের মোহ আছে হিমু’র প্রতি। কিশোরী বয়সে সব মেয়েদেরই এইরকম থাকে। কিন্তু  একটা বয়সের পরে তারা বুঝতে পারে যে, এইরকম মিনিংলেস আবেগগুলা কোন পারমানেন্ট রিলেশনের দিকে যাইতে পারবে না। তারা মাইনা নিতে পারে, বুঝতে পারে আবেগ দিয়া দুনিয়া চলে না, তখন চলার পথে পথ পাল্টাইয়া অন্যদিকে চইলা যাইতে পারে। রূপা তা করতে পারে নাই। বয়স ত্রিশ পার হইছে কতো আগে, অথচ এখনো কিশোরী-স্বভাব রয়া গেছে তার মধ্যে। পাঠক হওয়ার মতো একটা শূণত্যার ভিতর শে থাকে; অডিয়েন্স হওয়ার মতো নিরবতা নিয়া সিনেমা-লাইফ এক্সপেক্ট করতে থাকে, জীবনানন্দের তারপর, তবুও…। এইসব নিয়াই থাকলেও হইতো, পেইন কিছুটা কম দিত। হিমু ত কোনদিনই তারে বিয়া করবে না। খালি রূপারে কেন, কাউরেই সে বিয়া করবে না। রূপারে সে পছন্দ করে এইরকম কোন ইন্ডিকেশনও সে দেখায় নাই। একদিন হিমু’র সাথে দেখা করাবে বইলা রূপা আবদুল্লাহ’রে ছবির হাটে নিয়া গেছিলো। রাত নয়টা পর্যন্ত ওয়েট করার পরও সে আসে নাই। এরপর থিকা রূপার সাথেও হিমু’র কোন যোগাযোগ নাই। 

আবদুল্লাহর সাথে রূপার পরিচয় বইমেলায়। শে গেছিল হুমায়ূন আহমেদ’র বই কিনতে। আবদুল্লাহ তারে কইলো, আপনার মতো এইরকম একজন গভীর-সৌন্দর্য্য, যিনি কিনা হাসতেও পারেন এবং তখনো সৌন্দর্য্য ম্লান হয় না, প্রকৃত সারসের মতো উইড়া যায় না; শে কেন, শে কেন ডেপথ নাই এইরকম বই পড়বো! কেন! 

রূপা তাঁর কথারে পাত্তা দেয় নাই, কিন্তু এইরকম জোর-করা পন্ডিতির ভিতর ভালোবাসার হাহাকারটা টের পায়। এইটা ভালো-লাগে তাঁর। দে স্পেন্ড সাম কোয়ালিটি টাইম টুগেদার। একটা সময় রূপা পিএইচডি করতে ইংল্যান্ডে চইলা যায়। এরমধ্যে আবদুল্লাহ  ঝোঁকের মাথায় বিয়া কইরা ফেলে। রূপাও লিভ টুগেদার করছে এক ফরাসী’র সাথে, অ্যাপোলোনিয়েরএর গভীর প্রেমের কবিতা পড়তে পড়তে। তারপর একটা সময় রূপা বুঝতে পারে যে, গভীরতা কোন সাসেটইনবেল জিনিস না, গভীরতারও গর্ত আছে অনেক। 

এই বুঝতে-পারা বেশিদিন বিদেশে থাকতে দেয় নাই তারে। এখন একটা রিসার্চ গ্রুপে কাজ করে। সভা-সেমিনার করে, উন্নয়নমূলক কাজকামের এম্পটিনেসের সাথে নিজের শূণ্যতারে শে সুন্দরভাবে ম্যাচ কইরা নিতে পারে। আকাশী নীল রং তাঁর ফেভারিট কালার। কিন্তু জেমসের প্রিয় আকাশী গান’টা শুনলেই রাগে গা’টা শিরশির করে; শে একদমই নিতে পারে না। চিল্লাইয়া গান গাওয়ার কি আছে? আবদুল্লাহরও খুব একটা পছন্দ না; কিন্তু উনি হাসেন রূপা রাগ দেইখা, এইসব কালচাররে পাত্তা না দিলেই তো হইলো। রূপা পাত্তা দেয়া লাগে, কারণ হিমু কয় যে, না, না, জেমসের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে! অডিয়েন্সের পছন্দমতো সে গান গায় না, অডিয়েন্সরে সে তার পছন্দের মধ্যে নিয়া আসে। এইটাই রিয়েল আর্টিস্টের কাজ। কিন্তু বাইরে দিয়া এমনে চিল্লাইলে ভিতরে আর কিছু থাকতে পারে নাকি? রূপা ভাবে। আর হিমু বলে যে, ভিতর-বাহির এইরকম কোন ক্যাটাগরিই আসলে এগজিস্টই করে না। হিমু তো কতো কথাই বলে। রূপা পাত্তা দিতে চায় না হিমু’রে, আবার পাত্তা না দিয়াও পারে না। রূপা বুঝতে পারে, আবদুল্রাহর সাথে দেখা হয়া যাওয়াটা ছিল তার নিয়তি। এখন যখন তারা যে যার লিমিটেশনগুলারে নিয়তি বইলা মাইনা নিতে শিখতেছে, তখনই এই অদ্ভুত ঘটনা।  

Continue reading

যেকোনো সে কি ভাবতে থাকবে যেকোনো শে’রে নিয়া

(ধরা যাক) যেকোনো একটা দিনের যে কোনো একটা সকালের কথা। যেকোনো সে ঘুম থেকে উঠে যেকোনো একটা চেয়ারে আইসা বসলো— যেকোনো দিনের একই নাস্তায়—হয়ত নয়টা কিংবা দশটা অথবা দশটা তিরিশে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

নয়টা তো সকাল-ই।
লেকিন দশটাও সকাল।
আর সাড়ে দশটা ভি সকাল।

যেকোনো নাস্তাতেও যেকোনো কিছুই থাকে। একটা ডিম পোচ, দুইটা রুটি; রুটিগুলা পৃথিবীর লাহান। যেকোনো সে এখন তিনটা পৃথিবী খায়; এক কাপ চা— যেকোনো দুধ চা, দুধ চা না খাইলেও চলে; পৃথিবী দিয়া ভিজায়া খেতে খেতে চা গুলা গুলায়ে উঠে; কিন্তু যেকোনো আলু ভাজিটাও ভালো। যেকেউ নাস্তাতে ডিম পোচের বদলে আলু ভাজি দেয় (কতিপয় বাসায় দেয় লেটকাইন্না সুজি)—যেকোনো একটা নর্মসের মতোই। এ’রম কপাল যেকোনো ভাবেই হোক থাকা লাগবে বটে।

দশটা তিরিশের পর আর নাস্তা আসে না। যেকোনো সে বইসা থাকে চেয়ারটাতেই। হয়ত সে সারাদিনই বইসা থাকে ঠিক অইখানটায়। মাগার সাড়ে দশটার পর আর নাস্তা আসে নাকো।

সাড়ে নয়টায়: কামের বুয়া আহে।
দশটা তিরিশে : দুধওয়ালা দুধ দিয়া যায়।
সাড়ে এগারোটায় : ময়লার বাঁশির বাজনা।

যেকোনো সে ভাবতে বসে যেকোনো কিছু নিয়া। কি ভাববে সে? কামের বুয়া আইসা একঘণ্টা কাম কইরা যায়। দুধওয়ালা প্রতিদিন একই দুধ দেয় (এক রঙা দুধ দিতে গরুগুলার কি বিরক্ত লাগে না?), একই সাইজের ডিম খাইতে খাইতে যেকোনো সে বিরক্ত। আর যেকোনো কিছু ভাবতে গেলেই তো সেইম সেইম যেকোনো কিছুই আসে। তাইলে, কি ভাববে সে?

যেকোনো ভাবেই হোক চ্যাপ্টা দুপুর হইতে থাকে। যেকোনো কেউ লেপ্টাইয়া থাকে ঠিক অইখানের চেয়ারটায় (এইটা যেন যেকোনো অইখানটাই)।

ঢংঢং একটা-দুইটা-তিনটা।
যেকোনো ঘড়িতে কোনো মতে তাগদা দুপুর হয়— ধাক্কায় অথবা ঠেলায়।

Continue reading

ফিকশন লেখার ৭টা ট্রিকস: বোর্হেস

১৯৬৯ সালে ছাপানো উনার ইন প্রেইজ অফ ডার্কনেস বইয়ের শুরুতে, Carlos Frias এর রেফারেন্স দিয়া Jorge Louis Borges কইতেছিলেন, উনার এডিটর  উনারে পরামর্শ দিছে, এই সুযোগে উনি যাতে উনার এসথেটিকসটা ক্লিয়ার করেন। তো, বোর্হেস কইতেছিলেন, উনার তো কোন এসথেটিকস নাই। আর লোকজন যারে এসথেটিকস কয়, সেইটাতে উনি বিলিভও করেন না। অইগুলা হইতেছে – “ইউজলেস অ্যাবসট্রাকশন্স”। এইগুলা একেকজন লেখকের কাছে একেক রকম, এমন কি একেকটা লেখাতেও একেক রকম।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বরং উনি বলতেছিলেন যে, টাইম উনারে কিছু ট্রিকস শিখাইছে। এইরকম ৭ টা ট্রিকসের কথা উনি বলছেন। ট্রিকগুলারে বাংলা করলে এইরকম দাঁড়াইতে পারে –

১. সিনোনিমস এভয়েড করা। এইটার সমস্যাটা হইলো এরা কাল্পনিক ডিফরেন্স সাজেস্ট করে।

২. হিস্পানিয়াজমস, আর্জেন্টাইনিয়াজমস, আর্কাইজমস আর নিও-লগোজমস এভয়েড করা।

৩. ঝাঁকানি-দেয়া শব্দগুলার চাইতে ডেইলি লাইফের শব্দগুলা ইউজ করা।

৪. অবস্থার ডিটেইলগুলা ইনসার্ট করা, আমার গল্পগুলার ভিতরে; যেইটা এখনকার রিডারদের একটা ডিমান্ড।

৫. একটা হালকা আন-সার্টেইনটিটি’র ভান করা, কারণ যদিও রিয়ালিটি খুব ঠিকঠাক জিনিস, মেমোরি তো তা না।

৬. ঘটনাগুলারে বলা (এইটা আমি কিপলিং আর আইসল্যান্ডের গাঁথাগুলা থিকা শিখছি), যদিও আমি তাদেরকে পুরাপুরি বুঝতে পারি না।

৭. মনে রাখা, যে ট্রাডিশন, রীতিনীতি, “নিয়মগুলা” একটা বাধ্যবাধকতা না, আর সময় অবশ্যই তাদেরকে বাতিল কইরা দিবে।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →