খুচরা আলাপ
১.
“আমার অস্ট্রেলিয়ান তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘… তোমার ফাইন্ডিংসে একটা বিষয় স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়ায় ইমিগ্রেন্ট বাংলাদেশি মায়েরা কিশোরী মেয়েদের প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যাল এক্সপোজার নিয়ে ভীষণ চিন্তিত থাকে। তোমার দেশে কি প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যালিটি নাই?’
আমি জবাব দিলাম আছে কিন্তু এটা একটা ট্যাবু এবং নারী ও তার পরিবারের সামাজিক সম্মান এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে একে সবসময় বাধা দেয়া হয়।
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘এটা তোমরা কিভাবে আটকাও?’
আমিঃ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে।
তত্ত্বাবধায়কঃ কিভাবে?
আমিঃ একটা উদাহরণ দিতে পারি যে আমরা সাধারণত সেক্সুয়াল ইস্যু নিয়ে অবিবাহিতদের সামনে আলোচনা করিনা এবং বাচ্চা কিভাবে হয় জানতে চাইলে শিশুদের বলি তাদেরকে হাসপাতাল অথবা ফুলের বাগান থেকে আনা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়কঃ ওয়াও! তোমরা কি এটা বন্ধ রাখতে পারছো সমাজে?
আমিঃ না”
এইটা আমার এক ফেছবুক ফেরেন্ডের স্ট্যাটাছ, উনি এইটা কতটা পাবলিক করতে চান, জানি না, তাই নামধাম দিলাম না এইখানে, ততো দরকারও নাই এই বেপারে আমার আলাপে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
বাংলাদেশের মানুশের ছেক্স-লাইফ লইয়া এইখানে একটা আইডিয়া আছে; বিদেশিরা এমনে একটা আইডিয়া পায়, তারা ধইরাই নেয় জে, নিজের কালচারের বেপারে তো বাংলাদেশিদের জানারই কথা! ওদিকে, এই শব বেপারে আমাদের কির্টিকেল চিন্তাভাবনার শুরুটাই হয় আশলে কতক বিদেশি চিন্তার ছোবল খাবার পরে! মানে হইলো, আমরা পেরায়ই জেই নজর দিয়া দেশটারে দেখি, শেই নজরটা পয়দাই হইতে পারে লোকাল নজর মেছমার হইয়া জাবার পরে! এবং ঐ বিদেশি চিন্তার ছোবলে পয়দা হওয়া নজরটাই বিদেশি লোকের কাছে লোকাল নজর হিশাবে ধরা দেয়! এমনে চিন্তার একটা ছাইকেল ঘুরতেই থাকে।
কিন্তু আমরা শবগুলা পক্ষ হুশিয়ার হইলে আমাদের নজর জেমন আরেকটু ছাফ হইতে পারে, অমন ধইরা নেবার গলদেও হয়তো পড়তে হয় না!
অমন নজর এবং ধইরা নেবার ঘটনারেই বরং কির্টিকেলি দেখা দরকার আমাদের! কেন দরকার শেইটা বাংলাদেশের মানুশের ছেক্সলাইফ আরেকটু খেয়াল করলে খোলাশা হইতে পারে।
দেশের মা-বাপেরা নিজেদের পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তদের কেমনে দেখে? অনেক শময়ই পছন্দ করে না; কিন্তু পোলাদের পোলা ফেরেন্ড আর মাইয়াদের মাইয়া ফেরেন্ড থাকারে খুবই নরমাল ভাবে শমাজ; মা-বাপ-ফেমিলির চাওয়া ছেরেফ এই জে, পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তরা জেন নেশাখোর না হয়, লেখাপড়ায় ভালোর দিকে থাকে, মোটামুটি ভালো ফেমিলির ভালো ভালো পোলামাইয়া হয় জেন। এবং পোলাদের পোলা দোস্ত এবং মাইয়াদের মাইয়া দোস্তরা একজন আরেকজনের বাশায় জায়, রাইতে থাকে, মা-বাপ আপত্তি করে না। কখনো এমনকি তারা চায়ও এদের, তাদের দরকারি নজরদারিটা পোলামাইয়ার দোস্তদের জেরা কইরা অনেকখানি বোঝার চেশ্টা করে, কাদের লগে মেশে শেই খবরটা রাখতে চায় মা-বাপ।
এরা ঘুমায় কই? এক লগে, এক বিছানায়, এক খেতার তলে। দুয়ার আটকাইয়া দিতে পারে তারা, শারা রাইত তো বটেই, তার বাইরেও ঘন্টার পর ঘন্টা এক লগে থাকতে পারে তারা। এই শময়টা কি জৌনশম্ভব? আলবত। কে করে, কে করে না, শেইটা বেপার না, কিন্তু করতে চাইলে বাপ-মা-ফেমিলি-শমাজ কেউই আটকায় না, একই লিংগের ইয়ারদোস্তদের হোমোছেক্সুয়ালিটি কি তাইলে পারমিট করে শমাজ? বেপারটা পারমিশনের না, ঠেকাবারও না, শমাজ ছেরেফ মাথাই ঘামায় না ঐটা লইয়া! এমনকি রাস্তায় হাত ধইরা হাটা, কান্ধে-কোমরে হাত দিয়া হাটা একই লিংগের মানুশের জন্য নরমাল বাংলাদেশে। এমনকি ভাতার-বউরাও পার্টনারদের ইয়ারদোস্তদের লগে এমনে থাকায় আপত্তি করে না বেশিরভাগ শময়, করলেও শেই অন্য ইশু–পয়শাপাতি উড়ানো বা নেশা ইত্যাদি, ছেক্স পেরায় নাই। আগে বা এখনো গেরামের দিকে একই নামের পোলা-পোলা বা মাইয়া-মাইয়া ‘মিতা’ পাতাইতো, তারা অমনে এক লগে ঘুমানো থিকা হেটারোছেক্সুয়াল পিরিতি বা বিয়ায় হেল্প করতো, বউ’র লগে ঝগড়া কইরা মিতার লগে জাইয়া ঘুমাইতো, থাকতো দিনের পর দিন! এর লগে তুলনা করেন তো ছো কল্ড জৌন-লিবারাল দেশগুলার! পোলামাইয়ারা নিজের নিজের মিতা-দোস্ত লইয়া অমনে থাকতে থাকলে, একজন আরেকজনের কোমরে হাত দিয়া দুই পোলা ঘুরতে থাকলে কি ধইরাই নেবে না জে তারা হোমোছেক্সুয়াল? এমন একটা ছবি হেটারোছেক্সুয়াল কোন মহাপিরিত ভাইংগা চুরমার কইরা দিতে পারে তাদের!
এইখান থিকা তাইলে বাংলাদেশের এই মানুশের ছেক্সলাইফের বেপারে কি ডিছিশন লইবেন আপনে? দেশে বাইছেক্সুয়ালিটি কমন, নরমাল এবং শমাজ এইটা লইয়া মাথাই ঘামায় না! এখন এই হক জদি দেশের মানুশের অলরেডি থাকে কাফি, তাইলে দেশে ছো কল্ড ‘এলজিবিটিকিউ’ মুভমেন্টের মানে কি, এমন মুভমেন্টের উপর শমাজ কেন হামলা করে আবার!
কিন্তু ঐদিকে জাবার আগে দুয়েকটা কথা কইবার আছে; উপরের আলাপে ছেক্সের জেই মস্ত ভুবন দেখাইলাম, শেইটা তাইলে ‘বিয়ার আগে বা বিয়ার বাইরে বা এক্সট্রা-ম্যারিটাল’ ছেক্স হইতেছে কিনা? এবং এইটাই না কেবল, বুড়া মহিলাদের কাছে পোলাদের জাতায়াত লইয়াও মাথা ঘামায় না শমাজ; বুড়া মানে কি? খেয়াল করলে দেখবেন, এই বুড়া মানে মেনোপজ হইয়া জাওয়া মহিলারা! তাইলে বরং পোশ্নটা উল্টা কইরা জিগাইতে পারি আমরা–বিয়ার বাইরের কেমন কিছিমের ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায় শমাজ? এর জবাব হইলো, মাশিক জামানায় আছে এমন মাইয়াদের হেটারো-ছেক্সুয়াল ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায়, এইটা ঠেকাইতে চায় এবং বাংলাদেশে জৌন-লিমিটেশন মানে এইটাই, এর বাইরে খুব নাই।