অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা (২)
।। আগের পোস্ট।।
“ভাতের খিদা লাগলে দাইমা গো,
দাইমা, পানিতে কি সারে গো?”
/রূপবান
শুরু’র দিকের সিনেমা…
১৯৫৯ সালে রিলিজ হওয়া ৪টা ছবিই ক্রুশিয়াল মনেহয় আমার কাছে, বাংলাদেশি সিনেমার হিস্ট্রি বুঝার লাইগা। ৪টা আলাদা আলাদা ট্রেন্ডরে লোকেট করা যাইতে পারে এখন, এই ২০২০ সালে বইসা।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
এই বছরের যেই ছবিটার নাম বেশি শোনা যায় সেইটা হইতেছে – জাগো হুয়া সাভেরা, ডিরেক্টর আছিলেন আখতার জং কারদার, উনি এসিসেন্ট হিসাবে নিছিলেন জহির রায়হান’রে, আর সিনেমার কাহিনি লিখছিলেন পাকিস্তানের উর্দু ভাষার কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝির একটা অ্যাডাপ্টশন ছিল কাহিনিটা। ইন্টারেস্টিং জিনিস হইলো, এই সিনেমা পাকিস্তানের সিনেমাহলগুলাতে ‘মুক্তি’ পায় নাই, পলিটিক্যাল ঝামেলার কারণে, কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পাইছিলো, মস্কো’তে। ইন্টারেস্টিং না ব্যাপারটা! 🙂 এখনো অনেক সিনেমাই, মানে ‘আর্ট-ফিল্ম’ কিন্তু বাংলাদেশে বানানো হয় প্রাইজ-টাইজ পাওয়ার লাইগাই, সিনেমা হলে চললে ভালো, না চললেও কোন সমস্যা নাই; বা আর্ট-কালচারের লোকজন যদি বুঝে, কথা-বার্তা কয়, তাইলেই এনাফ। যেই পাবলিক ‘আর্ট’ বুঝে না – তাদের লাইগা আমরা সিনেমা বানাবো নাকি! এইরকম যেই ধারা, সেইটার শুরু হিসাবে এই সিনেমাটারে দেখতে পারেন। দুসরা ঘটনা হইলো, তখন সমাজতন্ত্রের জয়-জয়কার, এই কারণে মার্কসিস্ট ঘরানার জিনিস প্রাইজ-টাইজ পাইতো; আর এখন দেখবেন, লিবারাল ইস্যুগুলা নিয়া অনেক হাতি-ঘোড়া মারা হয়। কারণ আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পাইতে চান, সো-কল্ড ইন্টারন্যাশনাল ইস্যুগুলার লগে আপনারে কানেক্ট করতে পারতে হবে তো! যেমন ধরেন, বাংলাদেশ’রে ইউরোপ-আম্রিকার আর্ট-অথরিটি’রা তো চিনে গার্মেন্টস দিয়া, পটেনশিয়ার টেররিস্টদের আস্তানা হিসাবে… তো, উনাদের নজরে আসতে হইলে, এইসব ইস্যু নিয়াই সিনেমা বানাইতে হবে; এইরকমের ঘটনা ‘নতুন’ কোন ব্যাপার না, সিনেমা জিনিস’টা শুরু হওয়ার সময় থিকাই ছিল। যদিও “জাগো হুয়া সভেরা” বরং এক্টা ফেইলড এটেম্পট হিসাবেই রিড করা হয় মনেহয় এখন। কিন্তু যারা ঋতিক ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম বা সতজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী’র ভিজ্যুয়াল পছন্দ করেন তাদের এই সিনেমার ভিজ্যুয়াল পছন্দ হওয়ার কথা; ১৯৫৯ সালের গ্রাম-বাংলা কি রকম ছিল, সেইটার দৃশ্যগুলা পাইবেন; কিন্তু মুশকিল হইলো এনগেইজমেন্ট’টা মিসিং (পুরাটাই ভাষার কারণে না), অনেকবেশি ডকুমেন্টারি মনে হওয়ার কথা; যেন বিদেশিদের ক্যামেরা, বাংলার জন-জীবনের ছবি ফুটায়া তুলতেছে! আর সবচে বড় ব্যাপার হইতেছে রানওয়ে বা আন্ডার কন্সট্রাকশন এর মতো এইটা বাংলাদেশের পাবলিকের জন্য বানানো সিনেমা না, বরং বিদেশের কাছে, মানে ইউরোপ-আম্রিকার কাছে দেখানো যে, দেখেন, বাংলাদেশ কি জিনিস! তো, এই ধারাতে এরপরে আরো অনেক ডিরেক্টর, সিনেমা পাইছি আমরা; পাইতেছি।
[youtube id=”z4t145JEBPU”]
সেকেন্ড সিনেমাটার নাম হইতেছে, আকাশ আর মাটি, ডিরেক্টর আছিলেন ফতেহ লোহানী। ফতেহ লোহানী পরে আসিয়া (১৯৬০) আর সাত রং (উর্দু, ১৯৬৫) বানাইছেন, কিন্তু কোনটাই এই সিনেমার মতোই, তেমন কোন ব্যবসা করতে পারে নাই মনেহয়। এই সিনেমাটা নিয়া তেমন কোন ইনফরমেশন নাই; তবে যট্টুক ধারণা করা যায়, এক রকমের কলকাতার আর্ট-কালচারের একটা টোন মেবি থাকার কথা, কারণ কাহিনি ছিল ইন্ডিয়ান রাইটারের (বিধায়ক ভট্টাচার্য), নায়কও ছিলেন ইন্ডিয়ান (প্রবীর কুমার)। যেইটা একদিক দিয়া পাবলিক যেমন খায় নাই, ডিরেক্টরও এক রকমের এন্টারটেইনমেন্ট সার্ভ করতে চাইছেন এক রকমের ‘শিক্ষিত মিডল-ক্লাসের’ জন্য যারা তখনো সিনেমা হলে যাইতে শুরু করে নাই, বা পরে টিভি-নাটকের কনজ্যুমার হইতে পারছেন। এই ধারাতেও সিনেমা হইছে কিছু বাংলাদেশে, এখনো হয়; কিন্তু পাবলিক যদি সিনেমাটা খাইলে ডিরেক্টর’রা চিন্তায় পইড়া যান, কি ভুল উনি করলেন! 🙂 এইরকম।
থার্ড সিনেমাটা ইর্ম্পটেন্ট। নাম – মাটির পাহাড়। ডিরেক্টর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। উনারে চিনবেন উনার আরেকটা সিনেমার নাম দিয়া – বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), এইটারও ডিরেক্টর উনি। ১৯৭৪ সালে “ঈশা খাঁ” নামেও একটা সিনেমা বানাইছিলেন। (মোট ৯টা সিনেমা বানাইছেন উনি।) মাটির পাহাড় সিনেমার কাহিনি, সংলাপ সৈয়দ শামসুল হকের। (সৈয়দ শামসুল হক নিজেও কিন্তু একটা উর্দু সিনেমা বানাইছিলেন ১৯৬৬ সালে “ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো” নামে।) এফডিসি থিকা মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমা এইটা। এইটা নিয়াও তেমন কোন ইনফরমেশন নাই, কিন্তু যদ্দূর ধারণা করতে পারি, এই সিনেমাও খুব একটা চলে নাই। নায়ক মেবি পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন, আর হইলে এইটা তখন একটা কারণ হইতে পারে কিনা, আমি শিওর না। কিন্তু আমার ধারণা, এইটা একটা ‘গুড ট্রাই’ ছিল। হইতে পারে আইডিয়ালিস্টিক জায়গা থিকা ডিল করছেন বেশি (উনার ‘বড় ভালো লোক ছিল’ মাথায় রাইখা বলতেছি, যেইটারে বাংলাদেশি আর্ট-ফিল্ম মনেহয় আমার), কিন্তু এখন যেইটারে ‘বাংলাদেশি’ সিনেমা বলতে চাই আমরা, সেইটার কোন টোন হয়তো থাকার কথা।


