Main menu

নাইন।। এরিক জারোসিনস্কি।। (লাস্ট পার্ট)

অনুবাদকের কথা

জার্মানি আর জার্মান ভাষা নিয়ে লেখা এফোরিজম বা জারোসিনস্কির নিজের মতে কৌতুকগুলা মূলত তার জীবনের খুব খারাপ একটা সময়ের বাই- প্রডাক্ট। কে এম রাকিব প্রথম আমাকে বইটা পড়তে দেন। প্রচলিত বা ভূতপূর্ব বা অভূতপূর্ব পরিবার সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থার উপর আমার অরুচির  তৎকালীন বা চিরন্তন যে  সুরতহাল সেটাই হয়তো তাকে এই কাজের কাজী করেছিলো। ট্যুইটার এ বিভিন্ন সময়ে দর্শন, শিল্প সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা জারোসিনস্কির ট্যুইট যে এমন সাড়া ফেলে দিবে তা তার নিজেরও ধারণা ছিল না।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে করা এই উইটি পানি ট্যুইটগুলা ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১২৫টি দেশের প্রায় ১ লাখ মানুষের কাছে রিচ করতে পারছে। হালের বিখ্যাত দার্শনিক স্লাভয় জিজেক নাইন সম্বন্ধে বলছেন যে, “ট্যুইটার আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি যে এটা নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু জারোসিনস্কির নাইন হচ্ছে অন্য জিনিস, মূলত এই একটা জিনিসই ট্যুইটাররে জাস্টিফাই করে! তারে মনে হয় সাইকো সিনেমার র‍্যাডিক্যাল নরম্যান বেটস এর মতো শুধু ছুরির বদলে ট্যুইট দিয়া দ্রুত কাটাকুটি চালায়া যাইতেছেন!”

নিউ ইয়র্কে থাকেন এরিক জারোসিনস্কি, নিজেরে পরিচয় দেন ব্যর্থ দার্শনিক হিসাবে। আধুনিক জার্মান সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রিটিক্যাল থিওরির প্রফেসরের দায়িত্ব ছেড়ে তিনি এখন এফোরিস্ট হয়ে উঠতে চাইতেছেন।

নাইনঃ আ মেনিফেস্টো মূলত ট্যুইটারে নাইন কোয়ার্টার্লি শিরোনামে পোস্টানো ওই জিনিসগুলারই একটা ভার্সন। মলাটের চশমাওলা মুখটা যার তিনি হইতেছেন থিওডর এডর্নো যারে নিয়া আমেরিকার নামীদামি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে  একটা চাকরি জোটাতে থিসিস পেপার খাড়া করতে চাইছিলেন জারোসিনস্কি। আর সেই একঘেঁয়ে যান্ত্রিক কাজকাম থিকা দুই দণ্ডের এসকেপ ছিলো সেই ট্যুইটগুলা।

দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য প্যারিস রিভিউ, ফ্র‍্যাংফুর্টার, ড্যের স্পিগেল, দ্য বিলিভার, দ্য ক্রনিকল অফ হায়ার এডুকেশন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, স্লেট ইত্যাদি হেভিওয়েট গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া ও বিখ্যাত জারোসিনস্কির এই অসামান্য আকর্ষণীয় আর আগ্রহোদ্দীপক কাজগুলি বাংলা করতে গিয়া জার্মান কিছু শব্দ ছাড়া তেমন বিপাকে পড়তে হয় নাই আমার।

আর এর টেস্ট নিতে গিয়া আপনাদের ঠিক একই অভিজ্ঞতা হবে বলেই আমার ধারণা। হাজার হোক, শীতকাল, খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাবনা তাই তা পান করা থেকে বিরত থাইকা আসেন নাইন পান করি। কোন এক সকালে গ্রেগর সামসার আচমকা কীটে রূপান্তর হওয়া সত্ত্বেও প্রথমেই কাজে না যাইতে পারার আশংকা বা দুঃশ্চিন্তাকে যিনি বলছেন ডার্ক কৌতুক সেই ব্যক্তির নিজের কৌতুক আমাদের সবার একবার হলেও চেখে দেখা উচিত বলেই মনে করি আমি।

তানভীর হোসেন

……………………………………………………..

।। ।।

……………………………………………………..

গ্লোসারি

এডর্নোঃ YOLO’ র জার্মান ফর্ম।

এস্থেটিকসঃ আর্টলেসদের আর্ট।

এনালাইটিক ফিলসফিঃ যখন গণিতবিদরা ফিলসফিতে হাত দেন।

দুঃশ্চিন্তাঃ অজানা কিছুর প্রতি ভীতি। বিষণ্ণতাঃ চেনাজানা কিছুর ভীতি।

এফোরিজমসঃ ১. নতুন বোতলে পুরনো জাহাজ, ২. ব্যস্তদের জন্য দর্শন। কম রসবোধ সম্পন্নদের ব্যক্তিদের দ্বারা লিখিত।

আর্টঃ কোলরিজের চিত্রিত সাগরের উপর এনসিয়েন্ট মেরিনারের চিত্রিত জাহাজটার নীরবতা।

আর্টের ইতিহাসঃ আর্ট ব্যতিরেকে আর্টের ইতিহাস। ইতিহাস ব্যতিরেকে ইতিহাস।

এথিজমঃ প্রার্থনাহীন ধর্ম।

বেঞ্জামিন, ওয়াল্টারঃ ইতিহাস দ্বারা সংক্ষেপিত দর্শনের আহাজারি।

বইঃ সেই সময়কার পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন যখন শব্দের জন্য কাগজ অপচয় করা হইতো।

বোর্হেসঃ আর্হেন্তিনার সর্বশ্রেষ্ঠ জার্মান লেখক।

ব্রাঞ্চঃ ছুটির দিনে যার উপর সবাই আস্থাশীল।

ক্যাপিটালিস্টঃ রাষ্ট্রের জলদস্যু আক্রান্ত জাহাজ।

কম্যুনিজমঃ রাষ্ট্রের রাষ্ট্র আক্রান্ত জাহাজ।

পরিবর্তনঃ যা আপনি চান। যখন, যেখানে এবং যেভাবে আপনি এইটা চান না। Continue reading

ওং কার ওয়াই (লাস্ট পার্ট): ২০৪৬ (২০০৪)

।।  ২, ৩ ।।  ৪  ।। ৫, ৬ ।।

……………………………………………………

ওং কার ওয়ে তার শুরুর দিককার মুভিগুলাতে ভিজ্যুয়াল স্টাইল, ফ্রেইম এবং স্টোরিটেলিং দেখাইতেছেন, ঐ হাতের কাজ হইয়া উঠতেছে ২০৪৬ মুভিটা। ক্যারিনা লাউ থেকে স্টোরি টেনেছেন যা রিক্যাপচারড মেমোরি হিসাবে পাওয়া যাইতেছে সেন্ট্রাল প্রোটাগনিস্টের (টনি লিয়েং) মাধ্যমে এবং সচেতনভাবে “ডেইজ অব বিয়িং ওয়াইল্ড” মুভিটার সাথে সম্পৃক্ত করতেছে। শুধু তাই ই না, মানুষ মেমোরি শেয়ার করে না বরং পাহাড়ে গিয়ে গাছের ফুটাতে কথা রেখে মাটি দিয়া চাপা দেয়, “ইন দ্য মুড ফর লাভ” এর এই ডায়ালগ এবং সে একটা মেয়েরে ভালোবাসতো এমন কথাবার্তার মাধ্যমে আমাদের কাছে ঠাহর হইতে থাকে, মেমোরি রিক্যাপচারের আদলে এখানে হোপলেসনেস, লস্ট মেমোরিস এবং রিগ্রেটস এইসবকে কেন্দ্র করে মেডিটেশন করা হয়। মুভির টোন লোনলিনেস দিয়া ভরা এবং ক্যামেরা কথা বলতে থাকে বিষাদের সুরে। ওং কার’’র এই বাঁক নেয়া শুরু হইছে “হ্যাপি টুগেদার” থেকেই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সায়েন্স ফিকশন্স ধাঁচে বলা ২০৪৬ এর স্টোরি। ’ইন দ্য মুড ফর লাভ’ এ ‘মিঃ চাও’ তার সিক্রেট ফেলে আসছিলেন বুদ্ধিস্ট টেম্পলে। কিন্তু ২০৪৬ নামের ট্রেনের এক নতুন জগতে চলে যায় এবং তার পাস্ট লাইফ (৬০জ হংকং লাইফ) রিকল করতে থাকে। মুভি’র নামটাও ‘’ইন দ্য মুড’র হোটেল রুম (২০৪৬) এর লিগ্যাসি মেইনটেন করতে থাকে। ’’ডেইজ অব বিয়িং ওয়াইল্ড’’ এর লুলু’’র (ক্যারিনা লাউ) সাথে প্রথম দেখা এবং লুলু তার ওল্ড মেমোরিসেই মগ্ন। আগের ক্ল্যারিটি এখন আর নাই, পুরোটাই গ্লুমিনেসে ভরা।

৬০জ এর যে স্টোরি’র সাথে আমরা পরিচিত ছিলাম,তার সাথে ২০৪৬ এ একটি আনটোল্ড স্টোরি অ্যাড করা হয়। রিসেন্ট ব্রেকাপ হওয়া ‘বাই লিং’ এর সাথে হংকং এর একটা হোটেলে পরিচয় পরিচয় হয় মিঃ চাও’র। মিঃ চাও যেহেতু উইমেনাইজার টাইপের, তাই বাই লিং এর সাথে ফ্লার্ট করতে করতে তারা একটা গেইম খেলতে শুরু করে। রেন্ট ফর সেক্স টাইপ ।মিঃ চাও, বাই লিং কে সিঙ্গাপুরের গল্প শোনায় যেখানে লিং এর যাওয়ার কথা ছিলো। লিং যেভাবে চাও কে চায়, সেভাবে রেসপন্স না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ডিস্ট্যান্স বাড়তে থাকে।

এদিকে হোটেলের মালিকের মেয়ে, ফেইয়ি ওং। সে ভালোবাসে জাপানি এক ছেলেকে। বাবা জাপানিজদের পছন্দ না করাতে মিঃ চাও এর রুমের অ্যাড্রেস তাদের চিঠি আদান-প্রদানের ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে মিঃ চাও এবং ফেইয়ি কাছে আসতে শুরু করে। তাদের কাছে আসাটা মিঃ চাও এর জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। সেখান থেকে চলে যায় আবার ২০৪৬ এর ট্রেনে যেখানে ফেইয়ি একটা অ্যান্ড্র‍য়েড। যাকে তার লাইফের সিক্রেট শেয়ার করতে চায়। কিন্তু ফেইয়ি’র কাছ থেকে কোন উত্তর পায় না। মেমোরিসে ফিরে এসে দেখে, তার বাবা জাপানিজের সাথে তার বিয়ে মেনে নিছে। সময় পার হয়ে যেতে থাকে নিউজটা শুনে। কিন্তু মিঃ চাও আবার বেরিয়ে পড়ে লাইফে।

২০৪৭ নামে সে একটা স্টোরি লিখতে থাকে শুরু থেকেই। ফেইয়ি গোস্ট রাইটার হিসাবে তাকে হেল্পও করে কিন্তু পুরো স্টোরি কমপ্লিট হলে তার বাবার মাধ্যমে জানায়, স্টোরির এন্ডিংটা অনেক বেশি স্যাড। Continue reading

পাবলিক ডায়েরি ।। জীবনানন্দ দাশ ।।

মডার্ন বাংলায় এনভায়রনমেন্টালিজমের আম্মা

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

জীবনানন্দ একজন ভালো লোক আছিলেন, ধার্মিক এবং খুব ভালো একজন বিদেশি কবি। বাংলায় থাইকা তাঁর কবিতা ভালো লাগাইতে চিড়িয়াখানায় কিছুদিন ঘুরলে উপকার পাইবেন। জিরাফ বা জেব্রা বা উট বা সারস চেনা থাকা দরকার। ছোটখাট ব্যাপার অবশ্য বাংলা শালিক-পেঁচা দিয়াই চালাইতেন উনি। সংস্কৃত ভাষাটাও কিছু জানা থাকা দরকার।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ধার্মিক ব্রাহ্ম হিসাবে উনি সবচে ঘেন্না করতেন জেনা করাকে। চতুর এবং বেদরদী লোকের শাসনে দুনিয়ারে দেইখাও আপসেট হইতেন। মাইয়াদের সাজগোজ খুবই অপছন্দ করতেন উনি, নিজের ব্রাহ্ম সাজে থাকাটাও যে সাজ সেইটা খেয়াল করতে পারতেন না। তবু ভালো লোক হিসাবে ওনার দিল খুব নরম আছিল, মানুষ এবং আর সব মাকলুকাত বা স্পেসিসের রিলেশন লইয়া ভাবতেন উনি, কখনো হয়তো মানুষের হিংস্রতা দেইখা মন খারাপ করতেন, স্যাড সেইসব মোমেন্ট অবশ্য কবিতায় কনভার্ট করতে পারতেন উনি। এই হিসাবে উনি মডার্ন বাংলায় এনভায়রনমেন্টালিজমের আম্মা।

উনি খুব হিসাবী লোক আছিলেন। হিসাবটা সব সময় অবশ্য ঠিক হইতো না।

পাকিস্তান আর ভারত হইবার পরে উনি পাকাপাকিভাবে কোলকাতায় মাইগ্রেট করেন। ওনার হিসাবে কোলকাতা বাংলা লিটারেচারের ক্যাপিটাল, সেইখানে ভিড়লেন আর কি…। ঢাকার তেমন সম্ভাবনা দেখেন নাই উনি। ওনার হিসাবে পাকিস্তানের পয়দা বাংলা লিটারেচারে ঢাকার সম্ভাবনা খতম কইরা দিছে। বিপরীতে, ভারতের ভিত্রে কোলকাতার সম্ভাবনার কোন ক্ষতি হয় নাই। ইতিহাস-ভাবুক হিসাবেও উনি ভারতের রাজধানী কোলকাতা থিকা দিল্লি চইলা যাওয়াটারে পাত্তা দেন নাই, কংগ্রেসে বাঙালি যে বিশেষ কিছুই না এইটারেও পাত্তা দেন নাই!

তবে অন্য হিসাব ভালো পারছিলেন। কংগ্রেসী হুমায়ুন কবীরকে বই ডেডিকেট কইরা কবীর সাহেবের পত্রিকার এডিটর হইবার হিসাব ঠিকই ছিল। পরে নিজের এবং বউয়ের চাকরি পাইতেও সুবিধা হইছে তাতে। কোলকাতায় টিকে থাকবার জন্য এছাড়া উপায় আছিল না তাঁর।

আগেই কইছি, ওনার কবিতা ভালো। ওনার কবিতা পড়লে ওনার আগের পাতলা সব কবিদের চেনা সোজা হয়। বাংলায় ভালো বিদেশী কবিতা লেখার জন্য তেমন কবিরা ওনারে আরো অনেকদিন মনে রাখবেন। বিদেশী নজরে দেখা বাংলার নেচার জীবনানন্দ এবং এইসব কবিদের এমন বিদেশী কবিতা লেখায় অনেক হেল্প করছিল, এখনো করে।

 

‘হৃদয়ের বোন‘

১৬ মার্চ ২০১৭

সজনীকান্ত জীবনানন্দের যতোটা বুঝতে পারেন নাই, আপনেরাও তো ঠিক ততোটাই বোঝেন নাই; হুদাই খালি সজনীকান্তরে কেন গালি দিতেছেন! বুঝতে যে পারেন নাই, সেইটা গোপন করতে পারতেছেন–এইটাতে আপনাদের এতো দেমাগ! নাকি সজনীকান্ত যেইটা নিতে পারেন নাই, আপনেরা সেইটা নিতে পারতেছেন?

সজনীকান্ত ইনসেস্ট নিতে পারেন নাই, তো আপনেরা কি পারছেন? আপনাদের ভিত্রে সবচে নাস্তিক লোকটাও কি পারছেন? না তো! তাইলে সজনীকান্তরে গালি কেন দেন!

হৃদয়ের বোনের লগে সেক্স-পিরিতের কথা লিখছেন জীবনানন্দ; সজনীকান্ত এই ইনসেস্ট নিতে পারেন নাই। আপনেরাও লইতে পারেন না। তো কী করলেন আপনে জীবনানন্দরে নিতে যাইয়া? হৃদয়ের বোন যেন বোনই না কোন, স্রেফ একটা লেখার ভঙ্গিমা, সিম্বল, বিয়ন্ড সোসাইটি কোন তুরীয় রোমান্স যেইখানে বোন কইয়া বুঝাইয়া ফেলছেন পিরিতের ওজন, কতটা ঘন সেই পিরিত!

কী খাড়াইলো? সজনীকান্তের মতোই জীবনানন্দরে বোঝেন নাই বালও! সজনীকান্ত তবু ইনসেস্ট হিসাবে চিনতে পারছেন, আপনেরা তো তাও পারেন নাই!

সজনীকান্ত এবং আপনেরা–সবাই জীবনানন্দের কবিতারে মানুষের কাহিনি হিসাবে দেখছেন, জীবনানন্দ আসলে যেমনটা লেখেনই নাই! আপনাদের মতো সবকিছু মানুষের কায়কারবার বানাইয়া ফেলেন নাই জীবনানন্দ। মানুষের বাইরে যেই মহা এনিমেল জগত আছে সেই জগতে হান্দাইয়া গেছেন জীবনানন্দ, নিজের কবিতা লইয়া, গাছ বা পাখি বা মাছ বা পশু–সব স্পেসিস/মাকলুকাতকে তার তার ইজ্জতে জায়গা দিছেন জীবনানন্দ। মানুষের গালি দিতে যাইয়া আর কোন মাকলুকাতের লগে তুলনা করছেন বইলা মনেই পড়ে না জীবনানন্দে (পরে আরেকজন ধরাইয়া দিছিল, আমারো মনে পড়লো জিদা’র কবিতায় শকুন-বিড়াল-কৃমির নেগেটিভ হাজিরার কথা। কিন্তু ঠিক যে, উনি মানুষের লগে অন্য সব মাকলুকাতের তুলনা করছেন, কখনো বা মানুষকে বেশি নেগেটিভ দেখছেন, কখনো বা সমান ভালো-খারাপ দেখছেন; মোটের উপর, মানুষকে আরেকটা মাকলুকাত ধইরা একটার লগে আরেকটার রিশতায় চোখা নজর দিছেন।) সুনীল যেমন মানুষের ভিতরের কুত্তা দেখতে কুত্তা হইয়া বইসা থাকেন, সাপ বা তেলাপোকা বা কেঁচো বা কাউয়া বা কচুরিপানা বা সোনালতা যেমন আপনারা মানুষেরে গালি দিতে এস্তেমাল করেন, জীবনানন্দ তেমন করেন নাই খুব; অন্যদের কাছে যা পশুর ‘খারাপি’, জীবনানন্দে সেইটা পশুর আদত, ‘ভালো’ হবার অপশন না থাকা, নেচারালি–তাই ‘খারাপ’ কইবার উপায় নাই, মানুষের বেলায় যেইটা আছে। জীবনানন্দে বাঘ বা চিল হইলেন চিল, দেবদারু হইলো দেবদারু, হরিণ হইলো হরিণ, জেব্রা বা সিংহ হইলো জেব্রা বা হরিণই। পেঁচা বা ইঁদুর হইলো তারাই, তাগো যেমন রিলেশন চান্দের লগে সেইটাই লিখছেন জীবনানন্দ। পেঁচার মতো মানুষের মুখ আঁকছেন কি?

তো ঘটনা সোজাই আসলে। হরিণকে যদি হরিণ হিসাবে নিতে পারেন, তাইলে ‘হৃদয়ের বোন’কে বোন হিসাবেই নিতে পারবেন। সজনীকান্ত হরিণ হিসাবে নিতে পারেন নাই, হরিণদের মানুষ বানাইয়া দেখছেন, আপনেরাও তাই দেখতেছেন। Continue reading

ক্রনিকলস অফ অ্যা লিকুইড সোসাইটি।। উমবের্তো একো ।।

বইটার প্রথম ইংরেজি প্রকাশঃ ২০১৭।

এই শতাব্দীর প্রথম দেড় দশকে যে সকল ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে আগাইছে ইউরোপ তথা ইটালি, ‘ক্রনিকলস অফ অ্যা লিকুইড সোসাইটি’ সেগুলারই বয়ান। এই ইউরোপ গ্রেকো-রোমান কালচার থেকে ইহুদিদের কাল্ট বইয়ের ভেতর দিয়ে যেই খ্রিষ্টান আইডেন্টিটি নিয়া দাঁড়ায়া আছে, তার সেই রঙিন আউটলুক নানা ঘটনার প্যাঁচে গত শতাব্দীর শেষে আর এই শতাব্দীর শুরুতে টালমাটাল হয়ে গেছে। আধুনিকতা নামের যে গ্র্যান্ড আইডিয়া ইউরোপ জন্ম দিছিলো একসময়, তার ফাঁক ফোকর দিয়ে হাজির হইছে বিচিত্র ধরণের সংকট আর অভিনব প্রেক্ষাপট। এই সংকট আর প্রেক্ষাপট মোকাবেলার জন্যে পুরানা চিন্তাপদ্ধতি একেবারেই কার্যকর না।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

একোর প্রস্তাবনা এইখান থেকেই শুরু।

পঞ্চাশ বছর আগে একো ভবিষৎবাণী করছিলেন আগামীর ইউরোপ হবে নানা রঙের, নানা অতীতের, নানা শেকড়ের মানুষের। তার ভবিষ্যৎবাণী, যেভাবেই হোক সত্য প্রমাণিত হইছে। পলিটিক্সের পাকচক্রে ক্রমবর্ধমান একীভূতকরণ ইউরোপের ঘুম হারাম করে দিলেও একো  বারবার বলতেছে, ইউরোপের দরোজা সবার জন্যে খোলা রাখা হোক। কারণ খোলা রাখলেই লাভ বেশি মানবমণ্ডলের, তাতে ফিতনা এড়ানো যায়। দরোজা বন্ধ করার কথা শুনলেই একোর মনে পইড়া যায় তার শৈশবের ফ্যাসিস্টদের কথা। এই ফ্যাসিস্টরাই বলতো, ইটালিয়ানরা সবার আগে। ধর্মীয় পোলারাইজেশনে আক্রান্ত সদাপৃথিবীতে ইউরোপ কীভাবে আরও উন্মুক্ত হইতে পারে সবার জন্যে, এই বইয়ে সে তাই বলার চেষ্টা করছে ইতিহাসের রেফারেন্সে, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সংজ্ঞায়নে। তার বয়ানের উপস্থাপন আর চিন্তাপদ্ধতি ইতিহাসবিচ্যুত ট্র্যাডিশনাল আধুনিকদের মতো না, যারা আধুনিক পশ্চিমা সমাজকে পাঠ করতে চায় ধর্মাতীত এক অলীক ও আদর্শ ঘটনার ফলাফল হিশাবে। ইউরোপীয় চিন্তাবিদ হিশাবে একো মেনে নিছে সমাজ আর ধর্মের অবিচ্ছেদ্যতা। এই শতাব্দীতে তা চিহ্নিত করতে পারাই সংকট মোকাবেলার প্রথম ধাপ।

অবশ্য এই ওপেননেসের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিকূলতাও বর্তমান। একদিকে চরম তরলতায় আক্রান্ত স্পিরিটহীন ইউরোপিয়ান সমাজ আর তার আদর্শিক তারল্য, অপরদিকে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ইউরোপিয়ান ভূখণ্ডে পাড়ি জমানো আদমিদের হাজিরা সংকটের মাত্রা আরও ফ্যানায়া তুলছে। একোর মতে, এরকম একটা মুহূর্তে আদর্শিক সংকট নতুন রকমের ফ্যাসিজমের জন্য আদর্শ উর্বর জমি। একো অ্যালার্ম বাজাইতেছে ক্রমাগত – এই আদর্শিক সংকটের কারণে পপুলিজমই একমাত্র রাজনৈতিক আদর্শ হিশাবে গণ্য হইতেছে চারদিকে – এটাই ফ্যাসিজম আসার  প্রতিধ্বনি, সাবধান।

এই পপুলিস্ট জুলুমের টার্গেট কারা? অবধারিতভাবেই সংখ্যালঘুরা। ফলে প্রশ্ন আসে, এই সংকটের সময়ে ‘অপর’দের কীভাবে ট্রিট করবে ইউরোপ? সনাতনী সেকুলার আইডেন্টিটির বয়ান তো তার উত্তর দিতে পারতেছে না। দেখা যাইতেছে, শুধুমাত্র ‘সিটিজেন’ হিশাবে আদমকে ট্রিট করলেই তার ঐতিহাসিক পরিচয় বিলীন হয়ে যায় না। সোশ্যাল  ইন্টিগ্রেশনের এক পর্যায়ে যখন আইডেন্টিটর প্রশ্ন সামনে আসে নবাগত ইউরোপীয়দের জন্যে – একো তখন আবার তার অতীতকেও অস্বীকার করতে অপারগ। একো মানে, এই অতীতের একটা ধারাবাহিকতা আছেঃ ধর্মগত, ঐতিহ্যগত, বিশ্বাস আর অবিশ্বাসগত। ফলে ইটালিয়ান ক্লাসরুমে ক্রুশ রাখা হবে কী না এই বিষয়ে সে বিচলিত – কোন উত্তর না দিয়ে বলতেছেন তর্ক আগায়া নিতে। কারণ চিহ্নতত্ত্বের একো ব্যাখ্যা করতেছেন ক্রুশের ‘সেকুলার’ সিম্বল হয়ে ওঠার কথা। আর দেশের লিস্ট দিতেছে ধরায়া – যেইখানে চাঁদতারা উপস্থিত বহাল তবিয়তে। একোর প্রশ্ন, এইসব সিম্বলেই কি  একটা রাষ্ট্র ধর্মীয় রাষ্ট্র হয়ে ওঠে? না কী সিম্বলের সংজ্ঞায়ন সামাজিক ইতিহাস আর সম্পর্কের ভিত্তিতে জন্ম নেয়? ধর্মরাষ্ট্র বলতে কী বুঝায়?

এই প্রশ্নের উত্তর একো পরিষ্কারভাবে বইতে না দিলেও অন্তত এইটুকু বুঝে নেয়া যায় – নানা প্রেক্ষাপট ও মাত্রায় সেকুলার আর কনজারভেটিভের ডেফিনিশনের অদলবদলে রাষ্ট্র আর ইতিহাসবিদদের ভূমিকায় যে চেইঞ্জ আসতেছে – সেটা নিয়ে সে বিলকূল সজাগ। সমাজে ধর্মবিশ্বাসের স্বাভাবিকতাকে বাদ দিয়ে একো আগাইতে চাইতেছেন না কোনভাবেই – হোক সেটা ইউরোপিয় খ্রিষ্টান ধর্ম বা ইউরোপের নবাগত খ্রিষ্টান,বৌদ্ধ, মুসলিমদের ধর্ম। সে বিচরাইতেছে কীভাবে আরেকটু সহনশীল হওয়া যায় একজনের আরেকজনের প্রতি। কারণ, একমাত্র তাতেই ইন্টিগ্রেশনের প্রশ্নটা ইউরোপ নতুন কোন হলোকাস্ট আর ধর্মযুদ্ধ ছাড়াইপার হইতে পারবে।

এই সহনশীলতার বয়ান হয়তো নতুন কিছু না, তার দোহাইয়ে ইউরোপ সবসময়ই যা করার করে গেছে, কিন্তু তাদের সাথে একোর পার্থক্যটা হইতেছে – একো এটলিস্ট ইউরোপীয় সভ্যতায় খ্রিষ্টানদের প্রভাব, প্রতিপত্তি ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য অস্বীকার করেন নাই। একোর ধারণা – আধুনিকতার পতনের সাথে নব্য ভোগবাদ আর পুঁজিবাদে নষ্ট হইতে থাকা তরল ইউরোপের যে আধ্যাত্মিক সংকট দেখা দিছে – তা মোকাবেলা করার জন্যে নতুন স্পিরিটের আমদানি ধর্ম থেকে আসতে পারে। এটাই সহজাত এবং তাই সূচনা করতে পারে নতুন ধরণের সহনশীলতার বয়ান, যেখানে কালা-ধলা-হিন্দু-মুসলিম-ইহুদি আর অ্যালবিনোদের আপনায়া নেয়া যাবে ইজিলি। একো এও বলতে চান, ইউরোপিয়ান ইতিহাসে তা নতুন কিছু না।

আরেকদিকে লক্ষ্য করা জরুরী, সহনশীলতার বয়ান দিলেও ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভ্যালিডিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সামর্থ্য উনি কোথাও রাখতে পারেন নাই। তার মতে, ‘ইহুদিদের পূর্ণ ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় অধিকার আছে সেখানে বসতি স্থাপনের’। এই স্টেইটমেন্ট দেয়ার সাথে সাথে প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের কী করা যায় সেটা নিয়ে তারে কিছু বলতে দেখা যায় না এই বইয়ে (আশা করি অন্য বইগুলা পড়লে এর উত্তর পাওয়া যাবে)। এমন কী, দুই হাজার এগারো সালে ইসরায়েল বয়কট আন্দোলনেরও একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। তার কারণ, ‘একজন স্কলার বা প্রাইভেট সিটিজেনকে তার সরকারের রাজনীতির সাথে মিলায়া দেখা ফান্ডামেন্টালি খুবই রেসিস্ট একটা চিন্তা’। কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু তার থেকেও বড় বিষয় হইতেছে প্যালেস্টাইনের মুসলিম নিয়ে একোর নীরবতা। এন্টিসেমিটিজমের জুজু আক্রান্ত একো কি প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের  ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ন্যায্যতা নিয়ে কোথাও কিছু বলার চেষ্টা করছেন কখনো?

জানি না। দিনের শেষে একো একজন ইউরোপিয়ান চিন্তাবিদের সীমাবদ্ধতা নিয়েই চিন্তা করেন, আর সেটাই তার যথার্থতা, মেই বি সৌন্দর্যও! আপাতত লিকুইড সোসাইটির ধর্ম, প্রবণতা, সেলফোন, কম্পিউটার, উইন্ডোজ ভিস্তা, ইন্টারনেট, পর্ন, জিসাস, বই, ডিজিটাল মিডিয়া, মিস ওয়ার্ল্ড, পলিটিক্যাল কারেক্টনেস, কোকেইন, পোপ, নব্য নাৎসিবাদ, ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন, পেনড্রাইভ, আইফোন, ভোগ, এভোল্যুশন, আগামেনন, বুশ ইত্যাদি- এগুলা নিয়েই পড়া যাক অনুবাদগুলা।

 

শফিউল জয়

 

Continue reading

Bengali, Spoken and Written. Sayamacharan Ganguli (1877). কিস্তি ১

This entry is part 2 of 22 in the series লেখার ভাষা

শ্যামাচরণ গাঙ্গুলি কইছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় বলার চাইতে ইউনির্ভাসিটি বলাটাই বেটার, অথচ সংস্কৃত-খাদেমদের ফতোয়া-মতে ছোটলোক বাঙালিদের মুখ দিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাইর করার কোশিশ দেড়শ বছর ধইরা আমরা কইরা যাইতেছি, রিটেন ল্যাঙ্গুয়েজে।

উনার আর্গুমেন্ট সিম্পল – যে কোন ভাষাই চেইঞ্জ হয়, ফিক্সড না। এই চেইঞ্জগুলি হয় যেমনে আমরা কথা কই, ভাষারে ইউজ করি, তার উপর বেইজ কইরা। এখন ফর্মের কারণেই মুখের আর লেখার ভাষা একইরকম হইতে পারার কথা না, কিন্তু ডিফরেন্সটা মিনিমাম হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলায় ঘটনা’টা পুরা উল্টা। মুখের কথার লগে লেখার ভাষার ডিফরেন্স যতো বেশি হয়, ব্যাপারটা জানি তত বেশি ‘সাহিত্যিক’ হয়া উঠতে পারে!  এইটা কেন হয় বা হইতেছে? – এইটা নিয়া লিখছেন উনি, ১৮৭৭ সালে; ক্যালকাটা রিভিউ পত্রিকায়। ওই লেখাটা তিনটা কিস্তি’তে ছাপাবো আমরা বাছবিচারে।

শ্যামাচরণ গাঙ্গুলির পয়লা আর্গুমেন্ট’টা হইলো, লিখিত-বাংলা গ্রামার মাইনা চলে, যেইটার বেশিরভাগ নিয়ম আবার সংস্কৃত’র; কিন্তু সেইটা যেই বাংলায় আমরা কথা কই, সেইটার সাথে ম্যাচ করে না; যেইখানে করে না, সেইখানে জোর কইরা ঢুকানোর কোন দরকার নাই। অথচ লিখিত’তে এমনসব নিয়ম ঢুকানো হইছে, যেইগুলা কখনোই বলার মধ্যে আছিলো না। হরে-দরে সবকিছুই সংস্কৃত থিকা ঢুকানো হইতেছে, যেইটা ঠিক না। কারণ এইটা একটা জবরদস্তি; মানুষ এমনে কথা কয় না। (ব্যাপারটা এইরকম না যে, সবকিছু বলার ভিতর থিকাই আসবো, কারণ এইরকম অনেক জিনিস আছে আমরা বলি না, লেখা থিকাই মুখে আসে, কিন্তু এইটা খুবই কম; বেইজ হিসাবে নিতে পারা’র ব্যাপার না।)

একটা ইর্ম্পটেন্ট ইনফরমেশন হইতেছে, ওই আমলে স্কুল-কলেজে বাংলা’তে যতো নাম্বার ছিলো পরীক্ষায়, সংস্কৃত’তেও একই নাম্বার ছিলো। এইটার পলিটিক্যাল গুরুত্বের জায়গাটারে উনি হাইলাইট করেন নাই এতোটা, খালি মেনশনই করছেন যে, এইটা কেমনে এফেক্ট করতেছে; পরে পলিটিক্যাল জায়গাগুলি নিয়াও বলছেন কিছু, যে হিন্দু’রা কেন মুসলমান শব্দগুলি নিতে চান না। (আমিও পরে বলার ইচ্ছা রাখি আরেকটু, এইটা নিয়া।)

আরেকটা ঘটনা হইতেছে, মুখের বুলি তো সব জায়গায় একই রকম না। নদীয়া, হুগলি, কলিকাতা বা ঢাকায় ক্রিয়াপদ তো আলাদা আলাদা। এইখানে উনার অবজারভেশন হইতেছে যে, লিখিত-বাংলা পুব-বাংলার বুলির  চাইতে বেশি দূরের; আর এইখানের মানুষরা শরমও পায় কইতে গিয়া যে, অরা তো ‘শুদ্ধ’ না। এই ইনফিরিয়রিটি’টা যে খুবই পলিটিক্যাল একটা ঘটনা, শ্যামাচরণ গাঙ্গুলি ওই জায়গাটাতে যান নাই। মানে, ভাষা’র চেইঞ্জগুলি যে খালি গ্রামারের ঘটনা না বা হিস্ট্রির ঘটনাগুলি যে রেশনালিটি’র ভিতর দিয়া ঘটে না – এইটারে না-বলাটা আলাপের কিছু স্পেইস’রে বাইরেই রাইখা দেয়।

(এই জায়গাগুলি নিয়া পরে আরো কথা কইতে চাই আমরা। আপাতত, পয়লা কিস্তি পড়ার দাওয়াত রাখলাম।)

 

ই.হা.

……………………………………………………

THE language of a people is a reflex of that people’s mind. In language is faithfully mirrored every stage of social progress. Human development can never rest fixed at a point; language, like other human appurtenances must, therefore, change. In the past, languages have changed, and in the future too, they must change, unless by some inconceivable process all human affairs were to come to a stand-still. But people who speak any particular language at a particular time, scarcely ever imagine that language should ever change; and the great majority of Englishmen and Frenchmen, at the present day, little think that the languages they speak, now so full of vigorous life, could ever undergo any very extensive modification. Without a knowledge of the past history of languages, the possibility of a change would indeed be inconceivable. To the ignorant, therefore, lingual change must be an absolute inconceivability. But that people fully cognizant of the unstable, changeable, character· of languages should nevertheless try, though in vain, to give it fixity, after it bad arrived at a certain stage of growth, by persistently ignoring changes that have actually taken place in the current speech, would be quite unintelligible, but that we actually find this to be the case. In this, as in a host of other cases, we find that things, after they have acquired a definite existence, do obstinately resist the action of all antagonistic forces. This principle of conservation must be particularly strong in literary languages, for these are sure to be supported by the whole weight of learning; and learning in all ages has made itself the champion, in numerous instances, of the outgrown, the obsolete, and the useless. The bias of learning has thus helped to keep the written language of every country, at any given time, a little behind the spoken, a little archaic in comparison which the latter.

Another difference between written and spoken language must arise from the fact of the former being altogether a higher instrument than the latter. In oral conversation, there cannot be anything like that systematic grouping, that co-ordination and subordination of thought, that there can be in writing. Grouping of thought does not necessitate, however. any departure from the current grammar or the current vocabulary. It is only in poetry, and other artistic productions, that archaisms are allowable for the sake of aesthetic effect.[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

Some difference then between written and spoken language may be unavoidable from the very nature of things – may desirable, – but it is certainly as desirable that this difference should be at its minimum. In our Bengali language however, the divergence between its spoken and written forms, is about as wide as it well can be; and a discussion of this question, with suggestions for remedying the evil, is to form the subject of the present paper.

Grammar and vocables exhaust the whole field of spoken language. In respect of written language, however, the graphic system has further to be considered. Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →