Main menu

ফাইজলামির পলিটিক্যাল ইকোনমি

মনে করা যাক, আপনার মন খারাপ। খুব মন খারাপ। বিষাদমাখা একটা স্ট্যাটাস দিলেন। দেখতে চাইলেন বন্ধুরা সিম্প্যাথেটিক কিনা আপনার প্রতি। হইলেও কতটুকু।

অথবা এসব কিছু না ভেবেই এমনি বিষণ্ণ কিছু লিখলেন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

অনেকে কৌতূহলী কমেন্ট করলো। কেউ জানালো সমবেদনা।

কিন্তু এগুলার মধ্যে যেইটা আপনার নজরে বিশেষভাবে পড়বেঃ বন্ধুদের মধ্যেই কেউ হয়তো কমেন্ট করে বসলোঃ

দোস্ত, হালকা মুতে শুয়ে পড়!

কী করবেন আপনি?

কিংবা ধরেন, , সিরিয়াস কোনো বিষয়ে আপনি অনেক পরিশ্রম করে একটা লেখা লিখলেন।

জনৈক কমেন্ট করলোঃ

অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য। বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। রবীন্দ্রপরবর্তী যুগে এরকম লেখা আর আসেনি। উত্তরাধুনিক ভাবসম্পন্ন এই লেখাটি শুধু যে মৌলিক, প্রাসঙ্গিক ও সময়-উপযোগী তা-ই নয়, একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করেছেন।

তৃতীয বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমরা যখন সাম্রাজ্যবাদীদের চোখ রাঙ্গানো আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে; ঠিক তখনি, ঠিক সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আপনার এই পোস্টের মাঝে আমি খুঁজে পাচ্ছি অন্ধকার ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভবনা আর বিদেশী বেনিয়াদের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব গ্রহন করার বিপক্ষে একটি সুক্ষ্ম বার্তা। ( বাংলায় এই ভারবোজ রেডিমেড কমেন্টগুলি নতুন ঘটনা না , গুগল করে দেখলাম সবচেয়ে পুরনোটা অন্তত ২০০৮ সালের আগে। এই কমেন্টের স্রষ্টার একটা পুস্কার পাওয়া ফরজ)

তখন আপনার কেমন লাগবে?

বিরক্তি, রাগ, ক্রোধ যাই হোক না কেন আপনাকে হজম করতে হবে। দুইটামাত্র অপশন আছে আপনার হাতে।

এক, হে হে করে, ইমো দিয়ে আপনিও মজা পেয়েছেন এমন একটা ভঙ্গি নিতে পারেন।

দুই, চুপ মেরে যেতে পারেন।

এর বাইরে কিছু করতে গেলে নিজেকেই বিব্রত করে ফেলবেন। ফাইজলামিকে গাম্ভীর্য বা কোনো প্রকার র‍্যাশনাল আর্গুমেন্ট দিয়ে মোকাবেলা করা যায় না।

ফাইজলামির একটা সীমা আছে, – খুবই কমন একটা কথা। বলা হয় সাধারণত ফাইজলামিতে বিরক্ত হয়ে। কিন্তু বাস্তবে, ফাইজলামির কোনো সীমা পরিসীমা নাই।

দুঃখের আছে, শোকেরও। তুর্কি কবি নাজিম হিকমতের ধারণা, শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর। ফাইজলামির কোনো সীমা নাই। বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আছে ফাইজলামির।

ফাইজলামি শব্দটারে প্রশস্ত অর্থেই ব্যবহার করতেছি আমি। ননসিরিয়াস, হিউমারাস, ঠাট্টামূলক এক্সপ্রেশন ইত্যাদি অর্থের ক্লাস্টার হিসেবে ফাইজলামি শব্দটাকে ধরে নিতেছি।

এমনকি খুব সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে, ‘ফাইজলামি’ শব্দটাই ‘ফাজলামি’ বা ‘ফাজলামো’ শব্দের চাইতে একটু হলেও বেশি ‘ফাইজলামি’-বোধ সম্পন্ন! মানে হালকা। কিঞ্চিৎ গাম্ভীর্যলেস। যেমন, ‘হোসাইন’ নাগরিক কানে ‘হোসেন’-এর চেয়ে একটু হলেও স্মার্ট মালুম হয়। যেমন হাছান এর চেয়ে হাসান বানানটা স্মার্ট লাগে।

ফাইজলামির যে আর্থো-রাজনৈতিক মূল্য আছে, বুঝতে পারবেন যখন শুনবেন সিআইএ-রও অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট আছে এবং প্রথম সেলফ-ডেপ্রিসিয়েটিং টুইটটা হলোঃ
We can neither confirm nor deny that this is our first tweet.

যারা দুনিয়ায় গুম খুন করতে ওস্তাদ, শত্রুদের নিকেশ করে দেয়ার চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত, তাদেরকেও ফাইজলামির সুর ধরতে হয়। সিরিয়াসনেসরে চেপে রেখে হিউমারাস একটা ভয়েস আরোপ করতে হয়। তাহলে বোঝেন আমি এই নন-সিরিয়াসনেস, যাকে আমি বলতেছি ফাইজলামি, কতখানি গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠছে। Continue reading

মি. কফি আর মি. ফিক্সিট – রেমন্ড কার্ভার

২০১৬ সালে অনুবাদ করছিলাম এই গল্পটা। রেমন্ড কার্ভারের “হোয়াট উই টক অ্যাবাউট হোয়েন উই টক অ্যাবাউট লাভ“ বইয়ে এই গল্পটা আছে।

উনার গল্পগুলি একটানে লেইখা গেছেন উনি। এডিট-টেডিট করতেন না মনেহয় তেমন একটা, তো, এইভাবে লিখলে যা হয়, ট্রাশও থাইকা যায় অনেক। উনার এডিটর গর্ডন লিস তো কইছেনও যে, উনি এডিট না করলে কার্ভারের গল্প কেউ খেয়ালও করতো না। এডিটিং হয়তো উনার ফিকশনরে মোর রিডেবল করছে, কিন্তু এক রকমের  “আম্রিকান ড্রিম” বা “অ্যাংগুইশ” যে আছে, সেইটা উনার নিজের আবিষ্কার বইলাই মনে হইছে। 

আমাদের “গুরু-গম্ভীর” ফিকশন রিডিংয়ের এক্সপেরিয়েন্সের কাছে এই প্যাটার্নটারে অনেকটা “পাতলা” জিনিস বইলা মনে হইতেই পারে, কিন্তু আমার আশা আছে, কেউ কেউ ভারী বা পাতলা ভাবার বাইরে এই প্যাটার্নটারে এনজয়ও করতে পারবেন, অনেকবেশি। যেইটা হয়তো শেষমেশ “আম্রিকান” ব্যাপারই আবার। 🙂

ই. হা. 

………………………………………………………………………………….
আমি কিছু দেইখা ফেলছিলাম। আমি আমার মা’র বাড়িতে গেছিলাম কয়েকদিন থাকার লাইগা। কিন্তু যখন আমি সিঁড়ির উপ্রে উঠলাম, আমি তাকাইলাম আর শে সোফাতে বইসা একটা লোকরে কিস করতেছিল। এইটা ছিল গরমের সময়। দরজাটা খোলা ছিল। টিভি চলতেছিল। এইটা এইরকম একটা জিনিস যা আমি দেইখা ফেলছিলাম।

আমার মা’র বয়স পয়ষট্টি। শে সিঙ্গেলস ক্লাবের লোক। তারপরও, এইটা ছিল বেশ কঠিন। রেলিংয়ে একহাত দিয়া আমি দাঁড়ায়া ছিলাম আর দেখতেছিলাম লোকটা তারে কিস করতেছে। শেও তারে পাল্টা কিস করতেছিল, আর টিভিটা চলতেছিল তখন।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

জিনিসগুলি এখন বেটার। কিন্তু আগের দিনে, যখন মা আমার খোঁজ-খবর নিতো না, আমার চাকরি ছিল না। আমার বাচ্চাগুলি ছিল বদমাইশ, আর আমার বউটা বদমাইশ আছিলো। শেও আমার কোন খোঁজ-খবর নিতো না। শে যেই বেটার খোঁজ-খবর রাখতো সে আছিলো একটা বেকার অ্যারো-স্পেইস ইঞ্জিনিয়ার। ওই বেটার সাথে বউয়ের দেখা হইছিল AA’র  মিটিংয়ে। সে ছিলো আরেকটা বদমাইশ।

আমি জানি না ওই দিনগুলিতে আমরা কি কি ভাবতাম।

Continue reading

ওং কার ওয়াই (পার্ট ৫, ৬): হ্যাপি টুগেদার (১৯৯৭), ইন দ্য মুড ফর লাভ (২০০০)

।। ২,৩ ।। ।।

ফলেন অ্যাঞ্জেলস দিয়া ওং কার ওয়ে’র ডেভেলপিং পিরিয়ড মোটামুটি শেষ বলা যায়। হ্যাপি টুগেদার থেকে ব্লু পিরিয়ড শুরু। ফিল্মের নাম হ্যাপি টুগেদার। আসলে হ্যাপি নাকি টুগেদার? আলাদা মিনিং করার বিশেষ কারন হচ্ছে, ইকোনমিক্যালি ইনসিকিওর দুইজন মার্জিনাল পিপলের মধ্যকার লাইফ জার্নি’র কিছু অংশ দেখা যাবে।

১৯৯৫ সালে টনি লিয়েং এবং লেসলি চ্যাং হংকং থেকে আর্হেন্তিনা আসে। দুজনকেই হোমোসেক্সুয়াল দেখানো হয়। টনি মেইনলি ডমিনেটিং ক্যারেক্টার পার্টনার হিসাবে, লেসলি ম্যাসোকিস্ট টাইপের প্যাসিভ ক্যারেক্টার। লেসলি অনেক বেশি খেয়ালি এবং টনি’র উপরে ডিপেন্ডেন্ট। অভিমান করে টনি’র কাছ থেকে চলে গেলেও দেখা যায়, হাত কেটে আসার পরে টনি’র ই দেখভাল করা লাগে এবং টনি পার্টনার হিসাবে ভালো দেখভাল করে। তাদের মধ্যে অভিমানপর্ব এবং ইন্টার-ডিপেন্ডেন্স চলতে থাকে। দু’জনের পাসপোর্ট শো’ করার মধ্য দিয়া মুভি শুরু হয়। তাদের সেক্স সিন এবং টুগেদার সিন যেগুলা ট্রাবল মেকিং সিনগুলা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট, যা ফলেন অ্যাঞ্জেলস এর ক্ষেত্রেও খেয়াল করা গেছে। “ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট” রিকারিং করার ব্যাপারটা অনেকটা পিপলের ইন্টিমেইট মেমোরিসগুলা, যা মাথার মধ্যেও রিকার করতে থাকে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ইগুয়াজু ওয়াটারফল দেখতে যেতে চায় দু’জনে। যদিও শেষ পর্যন্ত দু’জন একসাথে কখনোই ইগুয়াজু দেখতে যেতে পারে না। প্রথমবার দু’জন একসাথে যাওয়ার সময় গাড়ির প্রোব্লেম এবং রাস্তা চিনতে না পারার কারনে যেতে পারে না। তাদের ওয়ার্কিং লাইফ শুরু হয় বুয়েন্স আয়ার্সে। ফিজিক্যালি এবং মেন্টালি উভয়ে খুব স্ট্রাগল করতে থাকে। তাদের মনোমালিন্য চলতে থাকে, আসলে এখানে যে যেভাবে একজনকে চায় সেভাবে পায় না এবং লোনলিনেস দিয়া ভরা উভয়ের লাইফ। সবসময় একটা আনসার্টেইনিটির মধ্যে থাকে। এদিকে লেসলি হাত কেটে টনির বাসায় থাকে এবং ভালো হওয়ার পরে, টনি লেসলির পাসপোর্ট লুকাইয়া ফেলে এবং বলে দেয় সে পাসপোর্ট ব্যাক দিবে না। দু’জন আবার আলাদা হইয়া যায়।

টনি’র ওয়ার্কপ্লেসে দেখা হয় তাইওয়ানিজ চ্যাং চেন এর সাথে। চ্যাং চেন ট্রাভেল করতে এসে পয়সা খোয়াইয়া ফেলছে তাই কাজ করতে হচ্ছে। সেইভিংস করে আবার ট্রাভেল করবে। এদিকে টনি’র সাথে চ্যাং চেন’র খাতির হয়, তারা একসাথে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলে এবং মাঝে মাঝে মাজং খেলে। চ্যাং চেন কিছুদিন পরে বিদায় নেয় এবং লেসলি ,টনি’র আগের বাসায় ফোন দিয়ে টনিকে পায় না এবং লেসলি’র লাস্ট সিনে দেখা যায় সে টনি’র আগের ঘরে আছে এবং ঘর মুছতেছে কিছুক্ষন পর কাঁদতেছে। বিষন্নতার চুড়ান্ত প্রকাশ এই সিনে পাওয়া যায়।

চ্যাং চেন যাওয়ার পরে টনি ওয়ার্কিং আওয়ার শিফট করে। দিনে ঘুমায়, রাতে কাজ করে। টাইমিংটা হংকং’র সাথে মিলা যায় এবং টনি’র কাছে মনে হয় হংকং এখান থেকে আপসাইড ডাউন। ক্যামেরাও সেভাবেই দেখাইতে থাকে, বিল্ডিং গাড়িঘোড়া এবং রাস্তা সাগরে ভাসতাছে। টনি টিভি দেখতে দেখতে খেয়াল করে, তার ঘুমে প্রোব্লেম হচ্ছে। টিভিতে দেখায়, ডাং শাওপিং মারা গেছে। চায়নাকে ওপেন ইকোনমিতে নিয়া যাওয়ার জন্য যার ইনিশিয়েটিভ সবচে’ বেশি ছিলো। Continue reading

রিভিউ: ‘জিজেকের জোকস’: এবং জাবর কাটা মানুষ

ভাবতেছিলাম শুরু করমু কইত্থিকা।

এমন একখান জিনিস হাতে পাইলাম যার পুরাটাই শুরু পুরাটাই শ্যাষ। বুঝেন নাই? রসবোধ মূলত এই জিনিসই। কসম কইরা কইতেছি আমি জিজেকের নাম এই প্রথম শুনলাম, দ্যাকলাম, পড়লাম, আর কী কী করলাম তা জানতে চাইলে ভ্যাট লাগব। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কে এম রাকিব সাব্রে ধন্যবাদ জানাই, তিনি আমগো লগে জিজেকের এই জোক্সগুলার পরিচয় ঘটাইন্যার ভিত্রে দিয়া এক অসাইধ্য সাধন করছেন।

যদিও বাঙালির ভিত্রে রসের কমতি নাই। বারোমাস ধইরা তারা নানাবিধ রসের ভিত্রে দিয়া যাওয়া আসা কইরা থাকে। হাস্যরস তার ভিত্রে অন্যতম।

প্রত্যেক ‘ভাষা’গোষ্ঠীরই আছে তাদের নিজস্ব এবং আলাদা আলাদা রস-মস্তিষ্ক। সেই মস্তিষ্কেরও আছে আলাদা আলাদা ইতিহাস। তবে এগো ভিত্রেও একটা আদি-মধ্য-অন্তওয়ালা মিল আছে কিন্তু! সেইটা কী তা জানবার চাইলেও পাঠক্রে ভ্যাট দিতে হইব।

জিজেক্রে যেহেতু আমি আগে পড়ি নাই সেহেতু তাঁর উপ্রে বিশদ তত্ত্বীয় প্যাঁচাল পাড়ার ক্ষমতা আমার নাই।

তয়, বইটার ভাষা অপ্রমিত হওনে প্রকৃত জিজেক-রস আস্বাদন করতে পারা গেছে মনে হয়।
বইটা যথেষ্ট স্লিম, কিন্তু ভিত্রে যে মস্তিষ্কের ধোলাই পড়াই, তার তুলনা করার জন্য আমার জ্ঞান ভাণ্ডারে ম্যালা ম্যালা বরাত নাই। পাঠক মাফ করবেন। মাফ না করলে ভ্যাট মাস্ট।

‘মুর্গিটা কি জানে?’ থিকা ‘ চাইপা যান’ পর্যন্ত মোট ৩৭ টা জোক্স আছে বইটার এই স্লিম বডিতে।
জোক্স সবসময় মজার হয়, তার চাইতে বড় কথা জোক্স থিকা জ্ঞান লাভের চাইতে একটু ভিন্ন চিন্তা করার সূত্র পাওন যায়।

পয়লাই কইয়া রাখি জোক্সের ভাষা হিসাবে অপ্রমিতরে নির্বাচন করন একবারে ঠিক হইছে। এই আছিলা ভাষাই জোক্স বয়ানের মাধ্যম হওন উচিৎ।

গভীর ক্ষত মানেই রসের আধার: তা সে করুণ রসই কন আর হাস্যরসই কন।

ফলে যে কোন ক্ষত ছাড়া রস সৃষ্টি প্রায় অসম্ভব। হইবার পারে কোন একটা আধিপত্যবাদী ‘ভাষা’র উপ্রে বিরক্ত হইয়া কিঞ্চিৎ রসিকতার ভিত্রে দিয়া মগজে চিন্তার খোরাকি পাওন যায় একই লগে প্রশান্তির খোরাকও। তাতে কইরা আপনের কষ্টের ‘চিত্তজগত’রে আপনের ‘মস্তিষ্কালোক’ বেশ জোরসে কর্ষণ কইরা যাইতে পারে!

তার ফলে কি হইবার পারে তা আমরা ইতিহাস বাবাজির চেহারামোবারক দেখলে জানবার পারি।
আমরা ‘ জিজেকের জোকস’ নামক স্লিম(চটি না কওনের একশোডা যুক্তি আছে) বইটায় দেখতে পাইলাম আগল পাগল, বেকুব বলদ, ন্যাংটো স্ত্রীলোক, পোপ, খোদা, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, জাতি, মুরগি, ঘোড়া, কুকুর, শিশু, পুলিশ, হাসপাতাল, ডাক্তার,বন্ধু,কুমির,অর্থ, পুঁজিবাদ,সমাজতন্ত্র, কোন কিছুই বাদ পড়ে নাই অত্যন্ত সূক্ষ্ম রস-বুদ্ধির বিষয় হওন থিকা। Continue reading

পোস্টস্ক্রিপ্ট: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গদ্য কবিতা নিয়া

তলস্তয়ের ‘how much land does a man need?’ গল্পের [ঐ যে এক লোককে কইলো, সূর্য ডোবার আগে যতটা জমি বেড় দিয়া ঘুইরা শুরুর পয়েন্টে ফিরতে পারবে, তত জমি তার হবে! লোকটা তখন হাঁটা শুরু করলো, হাঁটতে হাঁটতে এত দূরে চইলা গেল যে ফেরার অনেক আগে পথেই সন্ধ্যা হইয়া গেল, সারা দিন না খাইয়া দৌঁড়, সন্ধ্যা হইয়া যাইতেছে-টেনশন, খিদায় কাহিল দশায় পথেই মইরা গেল! আখেরে দেখা গেল, কবরের সাড়ে ৩ হাত জমিই মাত্র দরকার তার!] পোয়েটিক তরজমা হিসাবে ‘রাশি রাশি ভারা ভারা, ধান কাটা হলো সারা… ‘, মানে রঠা’র ‘সোনার তরী’ কেমন? কনটেক্সুয়ালাইজেশন ভালোই হইছে বলা যায়; মানে আমাদের তো অত জমি নাই লোকের তুলনায়, কবর ব্যাপারটাও তো রঠার চিতার মতো না, ওদিকে নাও লোকে বেশ চেনে–আওয়ামী লীগের নৌকার আগে থিকাই তো! তলস্তয়রে রঠা চিনতেন না আদৌ–এমন একটা বেনিফিট অব ডাউট দিয়া ‘…থিঙ্ক এলাইক’ ভাবতে আরাম পাইবেন অবশ্য অনেকেই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এনিওয়ে, ওইটা আমার ইস্যু না, আমার ইস্যু হইলো, নীতিকথার ছবক দেবার অমন পাতলা একটা পদ্যের ভালো কবিতা হইয়া পড়াটা। অনুপ্রাস আর অন্ত্যমিল কেমনে ওই পাতলা কাব্য লুকাইয়া ফেললো–সেইটাই বুঝতে চাইছি। কবিতাটা কইতাছে, ‘অনেক সোনার ধান কাইটা নাও ভইরা ফেললাম, এত্ত ভরলাম, এত্ত ভরলাম, এত্ত ভরলাম যে নিজে ওঠার জায়গা নাই আর!’

ক্যাপিটালিজমের আলগা ক্রিটিক–রোমান্টিক; কিছু ধান তো তখন ফালাইয়াই দেবে ক্যাপিটালিস্ট, তার তো নাই রঠার মতো রোমান্টিকতা। এই দিক থেকে তলস্তয় অত পাতলা না; কেননা, সেইখানে টাইমের ভিতরেই ফিরে আসতে পারবে ভাবা গেছিল, হিসাবটা একটু ভুল হইছিলো লোভের কারণে; রঠা’র কবিতায় ভুলটা মেক-আপের সুযোগ আছিলো; বোকা পাঠকের মনে বেদনা ঢালতে চাইছেন বলেই মে বি কবিতার কর্তারে আরেকটু চালাক হইতে দেন নাই রঠা! ভাবেন, সেই কর্তা যদি কিছু ধান ফালাইয়া দিয়া বাঁইচা যায় তাইলে কেমন ফানি হইয়া পড়ে পদ্যখান! Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →