Main menu

আমাদের রূপালি গিটার…

…………………………………………………………………

সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন পার্সোনাল স্পেস/ব্লগ থেকে লেখা এই বিভাগে পাবলিশ করবো আমরা; ক্যাটেগরি নামেই একভাবে ক্লিয়ার করা হইছে যে, আমাদের বিবেচনায় যেগুলি আরো বেশি রিডারের মাঝে ছড়ানো দরকার এবং আর্কাইভিং ভ্যালু আছে সেগুলিই রাখা হবে এই ক্যাটেগরিতে। যে লেখাগুলিকে অমন মনে হবে তার সবগুলি ছাপাইতে পারবো না মে বি; এখানে আমাদের চোখে পড়া বা আওতা এবং রাইটারের পারমিশন–এইসব ইস্যু আছে; ইস্যুগুলি উতরাইয়া যেইটার বেলায় পারবো সেগুলিই ছাপাতে পারবো মাত্র।

…………………………………………………………………

 

আশি সাল।

নিউইয়র্কের বিখ্যাত GuiterWorld চেইন মিউজিকের দোকানে বয়সে তরুন এক ছেলে ঘুরছে তার পছন্দের গীটারের জন্য। যেই দেশ থেকে সে এসেছে সে দেশে এরকম গিটারের দোকান তো দূরের কথা গিটার সামনা সামনি দেখেছে এমন মানুষই খুব কম।

দোকানে সাজানো সারি সারি গিটার থেকে ছেলেটি সাহস করে একটি গিটার ধরল, কিছুক্ষন আনমনে বাজালও। বাজনো শেষে গিটারটা রেখে ছেলেটি শুকনো মুখে পা বাড়ালো দরজার দিকে।

ছেলেটির এই প্রথম নিউইয়র্ক আসা। এই গিটার কেনার মতো সামর্থ্য তার নেই। যে দলটির সাথে সে দেশ থেকে এসেছে সে দলেরও খুব কম মানুষকেই সে চেনে যে তাকে টাকাটা ধার দিতে পারবে।

বাইরে পা বাড়াতেই দোকানের ভিতর থেকে কেউ একজন তাকে ডাক দিলো। একজন বৃদ্ধ কাউন্টার থেকে ডাকছেন। বৃদ্ধ ছেলেটিকে নিয়ে গেল দোকানের পিছনের দিকের কিছু দামী গিটারের মাঝে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বৃদ্ধ বলল, বাজাও। তোমার যেটা বাজাতে ইচ্ছা করে সেটা আমাকে তুমি বাজিয়ে শোনাও।

অবাক ছেলেটি কোনদিনও হাতে পায়নি এতো ভালো গিটার। নিউইয়র্কের সেই ছোট্টো দোকানের কোনে হৃদয়ের সমস্ত উজার করে বাজিয়ে গেল ছেলেটি। যখন খেয়াল হলো তখন ছেলেটি অবাক হয়ে দেখলো পুরো শপিং মলের লোকজন জড়ো হয়ে তন্ময় হয়ে শুনছে তার গিটার। সবাই বলছে, এমন গিটার বাজানো তারা বহুদিন শুনে নাই।

বৃদ্ধ জানালেন দোকানের প্রধান তিনিই। গিটারটা প্যাক করে ছেলেটিকে দিয়ে তিনি বললেন, প্রতিদিন অনেক মানুষের গিটার আমাকে শুনতে হয়। এমন প্যাশনেট ভাবে বাজাতে বহুদিন পরে কাউকে দেখলাম আমি। এই গিটারটা আমার দোকানের পক্ষ থেকে তোমাকে উপহার।

এই ঘটনার দশ বছর পর।
Continue reading

ওং কার ওয়াই (পার্ট ২, ৩): চাংকিং এক্সপ্রেস, ১৯৯৪

।।

Wong Kar Wai-(Part-2)/(Chungking Express,First Story,1994)

চাংকিং শব্দটার মানে যদি এরকম দাঁড় করাই, যা জীবনরে বইয়া বইয়া নিয়া যায়, তাইলেই বিষয়টা পাকাপোক্ত হয়। চাংকিং হংকং’র একটা ম্যানশনের নাম, যেখানে ওং কার ওয়ে বড় হইছেন ৬০’জ এ। তো হংকংকে বয়ে নিয়া যাওয়া ও তার জীবনের যে ট্রাঞ্জিশন ও তার মুভি। হিস্ট্রি রিলেট করে যদি আগানো যায় এবং ডেভেলপিং পিরিয়ড ও ব্লু পিরিয়ডকে মুভি’র সাথে রিলেট করা যাইতেই পারে।

মুভির শুরুতেই এক মহিলাকে পাফি শর্ট ব্লন্ড হেয়ার (যদিও উইগ ছিলো), গ্লাস, হ্যান্ড ব্যাগ এবং রেইনকোটে যার আদল পুরোপুরি ভিক্টোরিয়ান, অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ান আউটফিটে একটা শ্যাবি, ক্রাউডি ইন্ডিয়ান মার্কেটপ্লেসে ঢুকতে দেখা যায়। টু দ্য ক্যারেমা হয়ে মহিলা মার্কেটপ্লেসে ঢুকতে থাকে ক্যামেরাও ট্র‍্যাক করতে থাকে। ব্লার এবং ফ্রিজ ফ্রেইম’র কম্বিনেশনে দেখা যায়, মহিলা সবকিছু ইগনোর করে ঢুকে যাচ্ছে। জুতার দোকান, ফুড শপ ও সুপারশপ এবং স্যান্ডো গেঞ্জি ও লুঙ্গি পড়া কিছু ইন্ডিয়ান পিপল।যাদের সাথে কথা বলতে থাকে মহিলা এবং ডলার গুনতে থাকে।আসলে মহিলা ড্রাগ ডিল করতে আসছে এবং আশেপাশে ক্লোজ অ্যাঙ্গেলে জুতা সেলাই, খাবারের কিছু কুইক কাট ও অবজেক্টকে ফোকাস করে মাল্টিটাস্কিং ও ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্ডিয়ান মিউজিক খেয়াল করা যায়। মাঝে “তাকেশি কানেশিরো” কে বার্ডস আই ভিউ থেকে ফোকাস করা হয়। তাকেশি প্রসঙ্গ সামনে। ইন্ডিয়ান পিপলদের বিলাতি আউটফিট পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয় ও কন্ডমের ভিতর ব্রাউন সুগার ভইরা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ব্রিফকেসে উইস্পার প্যাডের কিছু প্যাকেট ও কিছু কন্ডমের প্যাকেট দিয়া ব্রিফকেস ভর্তি করা হয় ও পাসপোর্টসমেত তাদের বিদায় দেয়া হয়।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

মুভির এই অংশকে বা পুরো ড্রাগ রিলেটেড অংশকে আফিম যুদ্ধের সাথে রিলেট করলে ওং এর ড্রাগ ইমপ্লিমেন্টটা ইচ্ছাকৃত এবং ভিক্টোরিয়ান আউটফিট বলে দেয় হংকং এর কথাই। জোর করে ইম্পোজ করা বিষয়টা এমন নয় যদিও। বৃটিশ হংকং এর সাথে ইউজড টু হয়ে ওঠা এবং একটা কনফিউশান।

তাকেশি কানেশিরো, ২২৩ নম্বর ব্যাজধারি একজন পুলিশ। ফার্স্ট অ্যাপিয়ারেন্সে ব্লন্ড উইগধারির সাথে একটু করে খেয়াল করা যায়। এক ক্রিমিনালকে তাড়া করছে, ফ্রিজ আন্ড ব্লার এগেইন।তাকেশিকে ভালোভাবে খেয়াল করা যায় প্রোফাইল শটে তারে ফোনে কথা কইতে দেখা যায়। ব্লন্ড উইগ উইমেনের ‘মে’ নামের একজন মেয়েকে সে ভালোবাসে এবং তার জন্মদিন ‘মে’ মাসে। এই ডুয়ো এবং প্রতিদিন সে ১ মে,১৯৯৪ এক্সপায়ার ডেইটে একটা করে পাইনাপল ক্যান কিনে খায়।যদিও মুভি টাইম দেখায় ২৮ এপ্রিল দেখায়। সে তার ৩৬৮ নাম্বার অ্যাকাউন্ট চেইক করে কেউ আসলে মে তাকে ফোন/মেসেজ করছে কিনা! তার পারওয়ার্ড হচ্ছে ”ভালোবাসা শত হাজার বছর”। Continue reading

ওং কার ওয়াই (পার্ট ১): ডেইজ অফ বিইং ওয়াইল্ড, ১৯৯০

ফিল্মের হিউম্যান থিম অর্থাৎ স্পেসিফিকলি বলতে গেলে লাভ, হেইট, লোনলিনেস, ডিপ্রেশন এবং এক্সপেক্টেশন যখন একজন ব্যক্তিকে পয়েন্ট করে রান করে, সেখানে অবজেক্ট নিয়া ডিল করাটা অতো হিউমেনলি লাগে না হয়তো অন্যান্য পয়েন্ট অব ভিউ থেকে খেয়াল করলে। এমন একটা স্টোরি নিয়াই ডিল করতেছেন ওং কার ওয়ে। ফিল্ম প্রসঙ্গে আসার আগে একটু হংকং প্রসঙ্গে ও তার সাথে রিলেট করে কাস্টিং প্রসঙ্গে কিছু বলি।

আফিম যুদ্ধের ফলস্বরূপ ইংল্যান্ড, হংকংকে ৯৯ বছরের জন্য চায়নার কাছ থেকে লিজ পায় ১৮৯৮ সালে। ডিরেক্টর ওং এর জন্ম সাংহাইতে হইলেও তার অরিজিন হংকং। চায়নাতে যখন কালচারাল রেভ্যু শুরু হয় তার ফ্যামিলি শিফট করে। ভাষাজনিত যে ব্যাপারটা, মান্দারিন ও ক্যান্তোনিজ এই দুয়ের মধ্যেও স্ট্রাগল শুরু হয়ে যায় শিফটিং এর পরে। এবং যখন সিনো-বৃটিশ জয়েন্ট ডিক্লেয়ারেশন আসে ১৯৮৪ এর শেষের দিকে,তখন থেকেই ব্রিটিশ হংকংকে ঢেলে সাজানোর প্রোসেস শুরু হয়ে যায়। নেইম চেইঞ্জ,আটোনমি এবং ব্যাসিক ল’ এর গ্যাড়াকলে পড়ে যায় হংকংবাসী। চাইনিজ “এক দেশ, দুই নীতি” সহ স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ রিজিয়ন ঘোষণা এবং ক্যাপিটালিজম বলবৎ রাখার ডিসিশানগুলা হংকংবাসীদের আরো কনফিউজড করে তোলে। এসব পিরিয়ডের মধ্য দিয়া যাইতে হয় ডিরেক্টরেও।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ডেইজ অব বিয়িং ওয়াইল্ড এর কাস্টিং এর দিকে তাকাইলে দেখা যায় ম্যাগি চ্যাং, অ্যান্ডি লাউ, ক্যারিনা লাউ, টনি লিয়েং, জ্যাকি চ্যাং এদের সবারই অরিজিন হংকং। ম্যাগি ও টনি বাদে সবাই এক্টিং এর পাশাপাশি পপুলার ক্যান্তো-পপ সিঙ্গার। টনি ও ক্যারিনা লাউ বাস্তব লাইফে জামাই-বউ।এই মুভির সেন্ট্রাল ক্যারেক্টার বাস্তব লাইফেও একজন লোনলি ও ডিপ্রেসড পার্সোনালিটি ছিলেন। ইন ফ্যাক্ট ওর অধিকাংশ মুভির ক্যারেক্টারেই যেন ওর লাইফটাই বইয়া বেড়াইতো। পপুলার এই ক্যান্তো-পপ সিঙ্গার ও অ্যাক্টর ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল হংকং’র মান্দারিন ওরিয়েন্টাল হোটেলের ২৪ তলা থেকে লাফ দিয়া আত্নহত্যা করেন। হংকং বাদে এই মুভি’র একটা ক্যারেক্টার সাংহাইয়ান, সে লেসলি’র মা ক্যারেক্টার রেবেকা প্যান। Continue reading

বই থিকা: যায় যায় দিন (শফিক রেহমানের জোকস)

শফিক রেহমানের যায় যায় দিন বইটা পয়লা পাবলিশড হয় অগাস্ট ১৯৮৪ সালে, অনন্যা নামের পাবলিকেশন কোম্পানী থিকা। ২০১৭ সালে বইটার ফিফথ এডিশন ছাপা হয়। বইটা মেইনলি ১৯৮০-৮১ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীতে ছাপা হওয়া কলামগুলির একটা কম্পাইলেশন। কিন্তু একটা নভেলের চেহারা দেয়া হইছে। মানে, কনটেম্পরারি পলিটিক্যাল ইস্যুগুলি নিয়া কথাবার্তা, কিন্তু একটা কাহিনিও আছে, যেইটা চলতেছে।

তো, কাহিনি আর পলিটিক্যাল কমেন্টের মাঝখানে অনেকগুলি (ষোল/সতেরটা হবে) জোকস উনি বলছেন। বেশিরভাগই সেক্স আর পলিটিক্স নিয়া। সেই জোকগুলি থিকা কয়েকটা এইখানে একসাথে রাখা হইলো।

বইটা চাইলে আপনারা কিনতে পারেন, এই অ্যাড্রেস থিকা: https://www.rokomari.com/book/123759/jay-jay-din

 

…………………………………………………………

 

ভার্জিন

আমেরিকার টেনেসি-তে ন্যাশভিলে জনৈক হিলিবিলি যুবক একদিন তার মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনকে জানালো, সে নক্সভিলে যাচ্ছে একটি বৌ নিয়ে আসতে। কয়েকদিন পর সে একটি মিষ্টি চেহারার তরুণী বৌকে নিয়ে ঘরে ফিরলো। বৌটির নাম মেরি লু। কাঠের রান্নাঘরে টেবিলের চারপাশে পরিবারের সদস্যরা সব জড়ো হয়ে বসলো এবং মেরি লু-কে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

সন্ধ্যা ছটার সময় যুবকটির বাবা বললো, ওয়েল মাই বয়। আমাদের ফ্যামিলি বেডরুম তোমাদেরই আজ পাওয়া উচিত। তোমার মা আর আমি আজ নিচেই শোবো।

খুশিতে ডগমগ দম্পতি উপরে চলে গেল। আধা ঘণ্টা পরে হঠাৎ বন্দুকের গুলিতে সারা কাঠের বাড়ি কেঁপে উঠলো। তারপর দেখা গেল যুবকটি ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে।

কি হয়েছে? উদ্বিগ্ন ভাবে তার মা প্রশ্ন করলো।

আমি তাকে গুলি করেছি। পুত্রের উত্তর।

কেন?

সে ভার্জিন ছিল।

ছেলেটির বৃদ্ধ পিতামহ – যিনি সারা সন্ধ্যা চুপ করে বসেছিলেন তিনি এই বজ্রপাতের পরে লম্বা নিস্তব্ধতা ভেঙে বললেন, সন। আমার মনেহয় তুমি ঠিকই করেছ। মেয়েটি যদি তার পরিবারের কোন কাজে না লেগে থাকে তাহলে আমাদের পরিবারের কারোর কোন কাজেই লাগতো না।

 

রিপোর্ট

একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনে একদিন বিকালে পরিস্থিতি একটু আনন্দদায়ক করার জন্য বৃটিশ ও রাশিয়ান দূত বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় রাজি হলেন। ঠিক হলো তারা একশ মিটার দৌড়াবেন। দুই পক্ষের কর্মচারীরা বাজি রাখলো কে জিতবেন সে বিষয়ে। লন্ডনের দি টাইমস পত্রিকা ওই দৌড় সম্পর্কে রিপোর্ট দিল:

বৃটিশ ও রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বৃটিশ রাষ্ট্রদূত বিজয়ী হন।

ওই একই বিষয়ে মস্কোর ইজভেসতিয়া পত্রিকা রিপোর্ট দিল:

বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে একটি দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। বৃটিশ রাষ্ট্রদূত সর্বশেষ স্থানটির আগের স্থান অধিকার করেন।

 

ন্যাংটা লোক

রাত তখন প্রায় একটা। হোটেলের ম্যানেজার টেলিফোন পেয়ে জেগে উঠলেন। জলদি আমার ঘরে আসুন, প্লিজ! জলদি আসুন। এক বৃদ্ধার আর্তস্বর। আমার জানালা দিয়ে একটা ন্যাংটা লোক দেখতে পাচ্ছি।

ম্যানেজার তাড়াতাড়ি কাপড়-জামা পরে চুল আচড়ে হাজির হলেন ওই বৃদ্ধার ঘরে। বৃদ্ধা হোটেলের উল্টোদিকে যেসব ফ্ল্যাট আছে তার মধ্যে একটির দিকে আঙুল দিয়ে দেখালেন। কিন্তু ম্যানেজার কেবল একটি যুবকের অনাবৃত্ত উর্ধ্বাংশ দেখতে পেলেন।

মাদাম। ওই যুবকটি নিশ্চয়ই তার বিছানা ঠিকঠাক করছে শোয়ার জন্য। আপনাকে অপমান করার কোনো ইচ্ছেই তার আছে বলে মনে হচ্ছে না। তাছাড়া লোকটি সম্পূর্ণ উলঙ্গ নাও হতে পারে। ম্যানেজার সাত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেন।

আপনি কি বলছেন। বৃদ্ধা চিৎকার করে উঠলেন। ওই চেয়ারটার ওপর দাঁড়িয়ে দেখুন না কেন?

Continue reading

গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের রিয়ালিটি আর বিনয় মজুমদারের ফ্যাণ্টাসি

ইন আওয়ার সেন্স অফ রিয়ালিটি, ফ্যান্টাসি ইজ মোর রিয়েল দ্যান দ্য রিয়ালিটি।

‘কনর্ভাসেশন উইথ গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক’ (সিগ্যাল, ২০০৬) বইটার একদম শেষদিকে (পেইজ ১৭০ – ১৭৩) পারসোনাল আলাপে বিনয় মজুমদার’রে নিয়া গায়ত্রী’রে জিগাইতে পারছিলেন ইন্টারভিউয়ার। খুববেশি কথা হয় নাই। ইন্টারভিউয়ার অনেক হেসিটেট করতেছিলেন। গায়ত্রী মনে হইছে বরং বলতেই চাইতেছেন কাহিনিটা; যে, দেখেন এইখানে কোন কাহিনি নাই! বিনয় মজুমদারও কইছেন কয়েকটা ইন্টারভিউ’তে যে, এইখানে তেমন কোন কাহিনি নাই আর তারপরে হাসছেন। এই হাসিটারেই নিতে পারছি আমরা। গায়ত্রী যতোই রিয়ালিটি’টারে বলতেছেন বিনয়ের ফ্যান্টাসিটা ততই রিভিল হইতেছিলো যেন আরো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

গায়ত্রী কইছেন যে, দেখেন, উনার সাথে আমার কখনোই তেমন কোন কথা-বার্তা হয় নাই, প্রেম হওয়া তো দূরের কথা! উনি একটাকিছু ইমাজিন কইরা নিছেন, আমার নামটা বা এগজিসটেন্সটারে কল্পনা কইরা নিছেন। এইখানে আমি তো নাই! এমনকি বিনয়ও কখনো দাবি করেন নাই যে, উনাদের প্রেম আছিলো। কইছেন, বিনয়ের হাইট আছিলো ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি আর গায়ত্রী আছিলেন ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি – এইটুকই। খালি একটা বইয়ের কিছু কবিতা, তারে ভাইবা লেখা, যে আসলে শে না, তাঁর একটা ভাবনা। গায়ত্রী এইভাবে দেখছেন, বলছেন। যেইটা খুবই ট্রু।

বিনয়ের দাবিও ওই দূর থিকা দেখা-ই। কিন্তু এই দেখাটারে উনি রিয়ালিটি ভাবছেন। কিছু যে ঘটছে – এই দাবি উনারও নাই। বিনয় গায়ত্রী’রে নিয়া কবিতা লিখছেন। দাবি এইটাই। এখন এই গায়ত্রী যে ইমাজিনারি কিছু কিনা সেইটা নিয়া কথা বলেন নাই খুবএকটা। বলছেন, ওই যে – উনি, উনারে নিয়া লিখছি আমি। তো, যারে নিয়া লেখছেন, শে তো জানে না কিছু।

আবার অনেক সময় এইরকম হয়, আপনি কাউরে নিয়াই লিখতেছেন। কিন্তু সেইটা আসলে আরেকজনের কপি, তারে; মানে, যারে লিখতে চাইতেছেন সে/শে আরেকজনের কথা-ই মনে করাইলো। ধরেন, আরেকটা বনলতা সেন বা কাবজাব একটাকিছুই হইলো। বা একজেক্ট যেই রিয়ালিটি সেইটা লেখা তো কখনোই পসিবল না।

——————————————————————-

যেইভাবে আমরা রিয়ালিটি’টারে দেখি সেইটা খুবই ভচকাইন্না একটা ব্যাপার। এইটা অনেকবারই মনে হইছে। ব্যাপারটা আবার ট্রিগার করছে কিছুদিন আগে যখন শুনছি শম্পা রেজা’রে নিয়া লাকি আখন্দ ‘আগে যদি জানতাম…’ গানটা লিখছিলেন বা সুর করছিলেন। গাব্রিয়েল সুমন জানাইছিলেন এই ইনফরমেশন, ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাসে। মানে, এই জাইনা যাওয়াটা, গানটারে তো একরকমের রিয়ালিটির ভিতরেই রিডিউসই করে; যে, ‘ও আচ্ছা, এইটা লাকি আখন্দ আর শম্পা রেজার কাহিনি!’ হোয়ার অ্যাজ গানটা তো আর ওইটুকই না। শম্পা রেজা’র তো নাক উঁচা, উনার এইএলিটিসজমরে সুন্দর মনে হইতো; এখনো অনেককিছুই সুন্দর হয়া আছে, থাকতে পারে, পারতেছে। কিন্তু একটা এলিটিজম যে এমবেডেড হয়া আছে শম্পা রেজা’র ইমেজের সাথে (আমার কাছে) সেইখানে এই গানটারে এটাচ করাটা মুশকিলেরই; নট দ্যাট যে, গানটার মধ্যে ফোক টোনের স্নবারি’টা নাই (ফোকলোর – এই ব্যাপারটাই তো স্নবিশ, আইডিয়ার দিক থিকা) বা ঘটনাটা এইরকমই, এর বাইরে কিছু নাই; কিন্তু লাকি’র তো মনে রাখার কথা কিছু একটা; লিখতে গেলে ‘রিয়েল’ (যেইটা ইল্যুশনারি একইসাথে) একটা কিছু লাগে। লাকি’রে জিগাইলেও উনি কইবেন যে, এইটা মিছা কথা না, শম্পারেই ভাবছিলেন উনি। ওইটা নিয়াই মুশকিলটা।

[youtube id=”5yrwojrETFM”]

কোন একটা রিয়ালিটিরে বা ঘটনারে বা ফিলিংসরে আমরা ল্যাঙ্গুয়েজে ট্রান্সফার করতেছি – ব্যাপারটা এইরকম না। এইরকম ‘ইচ্ছা’ তো থাকতেই পারে (সবসময় যে থাকতেই হবে, এইটা নেসেসারি না); কিন্তু থ্রু দ্য প্রসেস যেইটা ক্রিয়েট হইতেছে সেইটা রিয়ালিটি বা ঘটনা বা ফিলিংসটা না। বরং উল্টাটা, এইরকম একটা ‘ইচ্ছা’ বা ‘ফিলিংস’ আছে… আমরা কানেক্টেট হইতে চাইতেছি। আমরা যে জানি, আমরা জানি না – এইটা তো জানি-ই। সেই জানাটার কাছে যাইতে চাইতেছি অ-জানার ভিতর দিয়া। এইরকম একটা ঘটনা হইতে পারে মনেহয়।

এইরকম না যে, আমরা আসলেই জানি না বা জানি। আমরা কি বলতেছি সেইটা খুব কমই ঘটনা; বরং বেশিরভাগ সময়েই ঘটনাটা হইতেছে, কেমনে কইতেছি। ভঙ্গিমাগুলিই গান। একবার এক প্রোগ্রামে একজন ইন্টেলেকচুয়ালের ওয়াজ শুইনা কইছিলাম, উনি তো হানিফ সংকেতের মতোন কথা কইতেছেন, হানিফ সংকেত বাজে মানুষ না বা উনার ইন্টেলেকচুয়ালিটি নিয়াও আমার কনসার্ন নাই, কনসার্নটা হইতেছে এমন কি কথা আমি কইতেছি যেইটা আরেকটা ভঙ্গিমারেই নকল কইরা চলতে হইতেছে। একটা লিমিট পর্যন্ত এইটা থাকেই, কিন্তু যদি সেইটা ভঙ্গিমাটার অতিরিক্ত কিছু না-ই হয়, তাইলে আমি আমার কনসার্ন কেমনে দেখাবো! তো, এইটা ভঙ্গিমার ভিতর জড়োসড়ো কোন ঘটনাও না। আমরা বলতে পারি অনেকদূর পর্যন্ত-ই থ্রু আওয়ার কনশাসনেস। কিন্তু দেখার জায়গাটারে না বদলাইয়া এইটা করাটা তো পসিবল না, কখনোই।

অক্টোবর, ২০১৭

————————————————————————–

ফর্মের ডিফরেন্স তো আছেই। যেই জিনিস করতেছি আমরা আর যখন সেই একই জিনিসই বলতেছি একই ঘটনা না সেইটা। অথচ সেই আর্জটা, দাবিটা আছে আর্টের কাছে আমাদের। বা লাইফের কাছে এই এক্সপেক্টশনটা আছে আমাদের যে এইটা আর্টের মতো হইতে হবে। একদম একরকম না হইলেও, একটা রিলেশন তো আছে, থাকতেই পারে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →