ইন আওয়ার সেন্স অফ রিয়ালিটি, ফ্যান্টাসি ইজ মোর রিয়েল দ্যান দ্য রিয়ালিটি।
‘কনর্ভাসেশন উইথ গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক’ (সিগ্যাল, ২০০৬) বইটার একদম শেষদিকে (পেইজ ১৭০ – ১৭৩) পারসোনাল আলাপে বিনয় মজুমদার’রে নিয়া গায়ত্রী’রে জিগাইতে পারছিলেন ইন্টারভিউয়ার। খুববেশি কথা হয় নাই। ইন্টারভিউয়ার অনেক হেসিটেট করতেছিলেন। গায়ত্রী মনে হইছে বরং বলতেই চাইতেছেন কাহিনিটা; যে, দেখেন এইখানে কোন কাহিনি নাই! বিনয় মজুমদারও কইছেন কয়েকটা ইন্টারভিউ’তে যে, এইখানে তেমন কোন কাহিনি নাই আর তারপরে হাসছেন। এই হাসিটারেই নিতে পারছি আমরা। গায়ত্রী যতোই রিয়ালিটি’টারে বলতেছেন বিনয়ের ফ্যান্টাসিটা ততই রিভিল হইতেছিলো যেন আরো।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]
গায়ত্রী কইছেন যে, দেখেন, উনার সাথে আমার কখনোই তেমন কোন কথা-বার্তা হয় নাই, প্রেম হওয়া তো দূরের কথা! উনি একটাকিছু ইমাজিন কইরা নিছেন, আমার নামটা বা এগজিসটেন্সটারে কল্পনা কইরা নিছেন। এইখানে আমি তো নাই! এমনকি বিনয়ও কখনো দাবি করেন নাই যে, উনাদের প্রেম আছিলো। কইছেন, বিনয়ের হাইট আছিলো ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি আর গায়ত্রী আছিলেন ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি – এইটুকই। খালি একটা বইয়ের কিছু কবিতা, তারে ভাইবা লেখা, যে আসলে শে না, তাঁর একটা ভাবনা। গায়ত্রী এইভাবে দেখছেন, বলছেন। যেইটা খুবই ট্রু।
বিনয়ের দাবিও ওই দূর থিকা দেখা-ই। কিন্তু এই দেখাটারে উনি রিয়ালিটি ভাবছেন। কিছু যে ঘটছে – এই দাবি উনারও নাই। বিনয় গায়ত্রী’রে নিয়া কবিতা লিখছেন। দাবি এইটাই। এখন এই গায়ত্রী যে ইমাজিনারি কিছু কিনা সেইটা নিয়া কথা বলেন নাই খুবএকটা। বলছেন, ওই যে – উনি, উনারে নিয়া লিখছি আমি। তো, যারে নিয়া লেখছেন, শে তো জানে না কিছু।
আবার অনেক সময় এইরকম হয়, আপনি কাউরে নিয়াই লিখতেছেন। কিন্তু সেইটা আসলে আরেকজনের কপি, তারে; মানে, যারে লিখতে চাইতেছেন সে/শে আরেকজনের কথা-ই মনে করাইলো। ধরেন, আরেকটা বনলতা সেন বা কাবজাব একটাকিছুই হইলো। বা একজেক্ট যেই রিয়ালিটি সেইটা লেখা তো কখনোই পসিবল না।
——————————————————————-
যেইভাবে আমরা রিয়ালিটি’টারে দেখি সেইটা খুবই ভচকাইন্না একটা ব্যাপার। এইটা অনেকবারই মনে হইছে। ব্যাপারটা আবার ট্রিগার করছে কিছুদিন আগে যখন শুনছি শম্পা রেজা’রে নিয়া লাকি আখন্দ ‘আগে যদি জানতাম…’ গানটা লিখছিলেন বা সুর করছিলেন। গাব্রিয়েল সুমন জানাইছিলেন এই ইনফরমেশন, ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাসে। মানে, এই জাইনা যাওয়াটা, গানটারে তো একরকমের রিয়ালিটির ভিতরেই রিডিউসই করে; যে, ‘ও আচ্ছা, এইটা লাকি আখন্দ আর শম্পা রেজার কাহিনি!’ হোয়ার অ্যাজ গানটা তো আর ওইটুকই না। শম্পা রেজা’র তো নাক উঁচা, উনার এইএলিটিসজমরে সুন্দর মনে হইতো; এখনো অনেককিছুই সুন্দর হয়া আছে, থাকতে পারে, পারতেছে। কিন্তু একটা এলিটিজম যে এমবেডেড হয়া আছে শম্পা রেজা’র ইমেজের সাথে (আমার কাছে) সেইখানে এই গানটারে এটাচ করাটা মুশকিলেরই; নট দ্যাট যে, গানটার মধ্যে ফোক টোনের স্নবারি’টা নাই (ফোকলোর – এই ব্যাপারটাই তো স্নবিশ, আইডিয়ার দিক থিকা) বা ঘটনাটা এইরকমই, এর বাইরে কিছু নাই; কিন্তু লাকি’র তো মনে রাখার কথা কিছু একটা; লিখতে গেলে ‘রিয়েল’ (যেইটা ইল্যুশনারি একইসাথে) একটা কিছু লাগে। লাকি’রে জিগাইলেও উনি কইবেন যে, এইটা মিছা কথা না, শম্পারেই ভাবছিলেন উনি। ওইটা নিয়াই মুশকিলটা।
[youtube id=”5yrwojrETFM”]
কোন একটা রিয়ালিটিরে বা ঘটনারে বা ফিলিংসরে আমরা ল্যাঙ্গুয়েজে ট্রান্সফার করতেছি – ব্যাপারটা এইরকম না। এইরকম ‘ইচ্ছা’ তো থাকতেই পারে (সবসময় যে থাকতেই হবে, এইটা নেসেসারি না); কিন্তু থ্রু দ্য প্রসেস যেইটা ক্রিয়েট হইতেছে সেইটা রিয়ালিটি বা ঘটনা বা ফিলিংসটা না। বরং উল্টাটা, এইরকম একটা ‘ইচ্ছা’ বা ‘ফিলিংস’ আছে… আমরা কানেক্টেট হইতে চাইতেছি। আমরা যে জানি, আমরা জানি না – এইটা তো জানি-ই। সেই জানাটার কাছে যাইতে চাইতেছি অ-জানার ভিতর দিয়া। এইরকম একটা ঘটনা হইতে পারে মনেহয়।
এইরকম না যে, আমরা আসলেই জানি না বা জানি। আমরা কি বলতেছি সেইটা খুব কমই ঘটনা; বরং বেশিরভাগ সময়েই ঘটনাটা হইতেছে, কেমনে কইতেছি। ভঙ্গিমাগুলিই গান। একবার এক প্রোগ্রামে একজন ইন্টেলেকচুয়ালের ওয়াজ শুইনা কইছিলাম, উনি তো হানিফ সংকেতের মতোন কথা কইতেছেন, হানিফ সংকেত বাজে মানুষ না বা উনার ইন্টেলেকচুয়ালিটি নিয়াও আমার কনসার্ন নাই, কনসার্নটা হইতেছে এমন কি কথা আমি কইতেছি যেইটা আরেকটা ভঙ্গিমারেই নকল কইরা চলতে হইতেছে। একটা লিমিট পর্যন্ত এইটা থাকেই, কিন্তু যদি সেইটা ভঙ্গিমাটার অতিরিক্ত কিছু না-ই হয়, তাইলে আমি আমার কনসার্ন কেমনে দেখাবো! তো, এইটা ভঙ্গিমার ভিতর জড়োসড়ো কোন ঘটনাও না। আমরা বলতে পারি অনেকদূর পর্যন্ত-ই থ্রু আওয়ার কনশাসনেস। কিন্তু দেখার জায়গাটারে না বদলাইয়া এইটা করাটা তো পসিবল না, কখনোই।
অক্টোবর, ২০১৭
————————————————————————–
ফর্মের ডিফরেন্স তো আছেই। যেই জিনিস করতেছি আমরা আর যখন সেই একই জিনিসই বলতেছি একই ঘটনা না সেইটা। অথচ সেই আর্জটা, দাবিটা আছে আর্টের কাছে আমাদের। বা লাইফের কাছে এই এক্সপেক্টশনটা আছে আমাদের যে এইটা আর্টের মতো হইতে হবে। একদম একরকম না হইলেও, একটা রিলেশন তো আছে, থাকতেই পারে। Continue reading →