Main menu

রঠার ফিকশনের ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন

একটা কাহিনি ভাবেন। কাহিনি মানে নভেল আর কি। ভাবেন, রামপালে কয়লা-বিজলি কারখানা হইতে যাইতেছে। সেইখানে একটা আন্দোলন গজাইতেছে। লোকাল লোকেরাই আন্দোলনটা করবে। লোকাল লোকজনের মাঝে কাম করতেছেন সৈয়দ ফিরোজ আহমেদ নামে মার্ক্সের তরিকার একজন পলিটিশিয়ান–তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির লিডার। উনি লোকালদের উস্কাইতেছেন, দরকারি সব কথা লোকজনরে জানাইতেছেন, কয়লা-বিজলীর লাভ-লোকসান বুঝাইতেছেন, লোকালদের জীবনের জন্য খুবই দরকারি সুন্দরবনের কেমন ক্ষতি হইতে পারে সেই খবরাদি দিয়া আন্দোলনের দরকারি রসদ যোগাইতেছেন।

এই ফিরোজ আহমেদ হইলেন রামপালের দুলাল চৌধুরীর দোস্ত। দুলাল চৌধুরী রামপাল আওয়ামী লীগের (সরকারি দল) বড় নেতা, লিবারাল, মহৎ, জনদরদী, সুফি টাইপের মানুষ। তার বউ হইলেন বিলকিছ। বিলকিছের কথায় দুলাল চৌধুরীর চরিত্র এমন:
“আমার মনে হত ভালো হবার একটা সীমা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে কেমন যেন তাতে পৌরুষের ব্যাঘাত হয়।”

আর দুলাল চৌধুরী কইতেছেন,
“যদি দেখি এই বিশাল জীবন ব্যবস্থার মধ্যে আর কোথাও আমি খাপ খাইনে তা হলে বুঝব এতদিন যা নিয়ে ছিলাম সে কেবল ফাকি। সেই ফাকিতে কোনো দরকার নাই। সেদিন আসে ত ঝগড়া করব না, আস্তে আস্তে বিদায় হয়ে যাব। জোর – জবরদস্তি? কিসের জন্য! সত্যের সাথে কি জোর খাটে?”

এই দুলাল চৌধুরীই ফিরোজ আহমেদকে লইয়া যান রামপালে; তাতেই মওকা পাইয়া যান ফিরোজ। উনি বিলকিছরে সিডিউস কইরা পয়সাকড়ি হাতাইয়া লন, আন্দোলন জমাইতে সেই পয়সা ঢালেন। সিডিউস করতে পারলেন কেমনে?  বিলকিছ জানাইতেছেন,
“আমার নারীর হৃদয়, তার ভালোবাসা আপনিই পূজা করতে চায়।”

আর ফিরোজ জানাইতেছেন,
“পুরুষেরা ভালোবাসে ধোয়াকে আর মেয়েরা ভালোবাসে বস্তুকে। সেই জন্যেই পুরুষ পূজা করতে ছুটে তার নিজের আইডিয়ার অবতারকে। আর মেয়েরা তাদের সমস্ত অর্ঘ্য এনে হাজির করে প্রবলের পায়ের তলায়।”

তো আন্দোলনটা জইমা ওঠে, পরে খুবই ভায়োলেন্ট টার্ন লয়। মার্ক্সের তরিকার পলিটিশিয়ান ফিরোজ তখন পালাইয়া যায়, দুলাল চৌধুরী ভায়োলেন্স ঠেকাইতে যাইয়া মাথায় বাড়ি খাইয়া জিন্দামরা দশায় চইলা যায়। বিলকিছ তখন বুঝতে পারে নিজের ভুল: আসল ‘প্রবল’ তো দুলালই, ফিরোজ তো না–আসল ক্রাইসিসে ফিরোজরা পালাইয়া যায়, আর দুলালরা মোকাবিলা করতে যায়। বিলকিছ আর ফিরোজের থিওরি মোতাবেক বিলকিছের ভক্তি তখন দুলালের পা দুইটাতেই।

বিলকিছ এখন ভাবতেছে, দুলাল যদি মইরাই যায় তাইলে দুলালের পা দুইটা কাইটা রাইখা দেবে কিনা–পা ছাড়া কবরে গেলে এমন কি আর সমস্যা!

রঠার ঘরে বাইরে নভেল/কাহিনিরে ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন করলাম রামপালে। ডায়লগগুলা ঘরে বাইরের পাটগুলার জবানেই কইলাম। ঘরে বাইরের জমিদার নিখিলেশ রামপালের দুলাল চৌধুরী, সন্দ্বীপ ফিরোজ আহমেদ, বিমলা হইছেন বিলকিছ। ঘরে বাইরের মাইয়া বিমলার যেমন পদবী নাই, বিলকিছেরও পদবী নাই তাই। সন্দ্বীপ আছিলেন ব্রাহ্মণ/বামুন, তাই ফিরোজ হইলেন সৈয়দ।

রঠার ঘরে বাইরে কাহিনিতে যারা কোন প্রোবলেম দ্যাখেন না, তারা আমার এই কাহিনিতেও আপত্তি করবেন না মনে হয়। আমার কাহিনিতে সন্দ্বীপকে সৈয়দ ফিরোজ নামে রাখার কারণ হইলো, আমাদের চেনা লেখক ফিরোজ আহমেদের কয়েকটা লেখা, রঠারে লইয়া–রঠা কতটা ‘সুদূরের পিয়াসী’, সেই ব্যাপারে উনি বেশ ওয়াজ-মাহফিল কইরা বেড়াইতেছেন। ওনার পদবী কি তা জানি না, আশরাফ মোসলমানের একটা পদবী লাগাইয়া দিলাম আমিই, ব্রাহ্মণ বা বামুনের বরাবর করতে। Continue reading

অন বুলশিট

পপ কালচারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাডেমিশিয়ান ( একাডেমিতে সেয়ান যিনি! ) এবং পন্ডিতদের  বইপত্র লেখার চর্চা পশ্চিমে অনেক দিনের। মেইবি রলা বার্থের ‘মিথলজি’ প্রকাশের পর থেকে এইটা যথেষ্ট বেগবান হয়।  এই যে লার্জার অডিয়েন্সকে উদ্দেশ্য  করে লেখা, এইটা ভালো প্র্যাকটিস। বাজারের যুগে এইটা স্বাভাবিকও অবশ্য।

২০০৫ সালে ৬৭ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই প্রকাশের পরপরই বেস্টসেলার হলে প্রায় অবসিকিউর এক ফিলসফি প্রফেসর হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট রাতারাতি তারকা বনে যান। বেস্টসেলার বইটা ছিলো বুলশিট নিয়ে। ‘অন বুলশটি’।   যদিও ১৯৮৫ সালে একটা জার্নালে ওইটা প্রবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হইছিলো।  ২০০৫-এ প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ওইটারে পুস্তিকা হিসেবে ছাপায়।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বইয়ের শুরুতেই ফ্রাঙ্কফুর্ট জানান,  সমাজ বুলশিটে টইটম্বুর। অথচ বুলশিটের মতো কনসেপ্টের কোনো পরিষ্কার বোঝাপড়া ও থিয়োরি নাই পাবলিকের। তাই উনি থিয়োরি দেওয়ার চেষ্টা নিছেন। শুরুতেই ফ্রাঙ্কফুর্ট বলে নিছেন,  তার লক্ষ্য বুলশিটের রেটরিক নিয়ে কথা বলা না। বরং উদ্দেশ্য মূলত বুলশিট কী এবং কোনটি বুলশিট নয়- সেইটার তাত্ত্বিক বোঝাপড়ায় যাওয়া।

তো, বুলশিটের বিষয়ে কী বলছেন মি. ফ্রাঙ্কফুর্ট?

বুলশিট কী? মিথ্যা থেকে বুলশিট কিভাবে আলাদা?  এবং কেন মিথ্যার চাইতে বুলশিট বেশি ক্ষতিকর? মোটামুটি এই প্রশ্নগুলার উত্তর দেওয়ার চেষ্টাই বইটার বিষয়বস্তু।

আগেই বলে নিই,  বুলশিট শব্দটার কোনো বাংলা আমি করতে যাবো না। স্ল্যাং বলে অনুবাদ এমনিতেই দুঃসাধ্য। আর বাংলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদেশি শব্দের, বিশেষত টেকনিক্যাল টার্মের,  যে খটমটে ‘তৎসমায়িত’ দুর্বোধ্য বাংলা করা হয় তার চাইতে মূল শব্দটা রেখে দেওয়াই ভালো।  তৎসম, আরবী, ফার্সি,  ইংরেজি, হিব্রু যে ভাষার শব্দই হোক না কেন, আমার আপত্তি নাই যতক্ষণ পর্যন্ত সহজবোধ থাকে। প্রেপজিশন  নাকি ‘পদান্বয়ী অব্যয়’? আমি প্রেপজিশনই পছন্দ করবো।

বুলশিটের ‘ঋষভবৃষ্ঠা’ জাতীয় একটা  বাংলা সম্ভবত পড়েছিলাম  কয়েক বছর আগে অরিন্দম চক্রবর্তীর লেখায়। যতদূর মনে পড়ে ওই লেখাটা ‘অন বুলশিট’ বইটা নিয়ে না। অন্য কিছু নিয়ে। বইটা হাতের কাছে না থাকায় এবং স্মৃতিশক্তির প্রতি যথেষ্ট কনফিডেন্স নাই বলে ‘সম্ভবত’ শব্দ যুক্ত করলাম। অরিন্দম আমার পছন্দের লেখকদের একজন হইলেও এই যে খটমটে বা ‘কষা’ বাংলা এইটা আমি নিতে রাজি না। উঁচা নাকওয়ালাদের মতো এই ধরণের শব্দ ব্যবহার আমপাঠককে পরোক্ষে দূরে সরায়ে দেয়। তবুওযদি একান্তই কোনো বাংলা করতে হয়  ‘বালছাল’ শব্দটা প্রস্তাব করতে পারি। তথাপি,  আমি বুলশিট শব্দের বাংলা করতে যাবো না। ইংরেজি বুলশিট বাংলাতেও বুলশিট হিসেবে চলুক।

যাহোক।  বুলশিটের তত্ত্ব দাঁড় করাতে গিয়ে তিনি বলেন, বুলশিট একধরণের ‘অসত্য’ হৈলেও বুলশিট সাধারণ মিথ্যার থেকে ভিন্ন । বুলশিটারও মিথ্যাবাদীর থেকে আলাদা।   ফ্রাঙ্কফুর্টের মূল অবজারভেশন,  মিথ্যুক মিথ্যা ছড়াইতে চাইলেও, তার কাছে সত্যি মিথ্যার পার্থক্য ম্যাটার করে। অন্তত নিজের কাছে সত্য বলে একটা কিছু আছে এইটা  একনলিজ করা লাগে। লিখেছেন, ‘যদি না সে মনে করে সে সত্যিটা জানে তাহলে কারও পক্ষে মিথ্যা বলা সম্ভবই না।  বুলশিট উৎপাদনে এইরকম কোনো ধারণার দরকার পড়ে না।‘  বুলশিটার কোনটা সত্যি আর কোনটা  মিথ্যা সে কেয়ারই করবে না। তার মনোযোগ দর্শক/শ্রোতাদের রিয়্যাকশনের দিকে, ইম্প্রেশনের দিকে। অর্থাৎ ট্রুথের ব্যাপারে বুলশিটার ইনডিফ্রেন্ট।

উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

Continue reading

সেক্স কি অরিজিনাল সিন, নাকি রহমত?

“বিসমিল্লাহ্ বলে শফিক শফিকুনের ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো।” এই লাইনটা পইড়া দেশের কতগুলা লোক হাইসা দেন; লোকগুলার পরিচয় মনে হয় সেক্যুলার বাঙালি, নিজেদের এনারা ‘সংস্কৃতিমনা’ বা কালচার্ড হিসাবে দেখতে কন প্রায়ই। তেমন দেখতে মুশকিল হয় না আমাদের, দেখতেই পারি।

কিন্তু তাতে ঐ হাসির কারণটা ক্লিয়ার হয় না আমাদের কাছে; কেন হাসলেন তারা? এমন একটা পিরিতের সিনে কেন হাসি পায় তাদের? তাগো আর্ট-কালচারে চুমাচুমি আদরের জিনিস; তাইলে কাশেম বিন আবু বকরের ঐ কেচ্ছায় (নভেল, সংস্কৃতিমনারা উপন্যাস নামে ডাকেন আর্টের এই ফর্মটারে।) এনাদের হাসি পাইতেছে কেন?[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আর কিছু সওয়াল দিয়া বোঝার চেষ্টা চালাই ব্যাপারটারে। ধর্ম বা ধার্মিক জীবন কইতে কি বোঝেন এনারা? ধার্মিক জীবনে কাম কই, কাম কি ভালো? সেরা কাম কইতে যদি সেক্স বুঝি তাইলে ধর্মের লগে সেক্সের রিলেশন কেমন? ভরপুর সেক্সলাইফ ধার্মিক জীবনকে কি কোনভাবে দুষ্ট বানাইয়া ফালায়?

বাংলাদেশে যিনি কালচার্ড তারে সেক্যুলারও হইতে হয়, অন্তত এমন দাবি আছে; এই সেক্যুলারিজমও আবার কেবল ইসলামে চইলা যায়, আপনে যদি বারবার জনমে বিশ্বাস কইরা হিন্দু/বৌদ্ধ হইয়া থাকেন, জাতিস্মর নামে সিনেমা বানান, চার্চে কোরাস গান, শান্তি নিকেতনে সকালবেলা গাছের নিচে ‘অন্তর মম বিকশিত কর…’ গানটা গাইয়া ব্রাহ্ম প্রেয়ার করেন তাতে আপনের সেক্যুলারিজম কোন হুমকিতে পড়ে না। এবং আজব এই সেক্যুলারিজম এই কালচার্ড বাঙালিরই মাল, এমনকি বলিউডেও আপনে আল্লা-খোদা-সুবহানাল্লাহ-ঈমানদার কইলে বা হইলেও সেক্যুলার বা কালচার্ড হওয়া যাইতেছে আরামেই। যাই হোক, এইগুলা কইলাম কারণ, কেবল ‘কালচার্ড বাঙালি’ নামে ডাকতে চাইতেছি এই দলটারে, এই প্যারার আলাপটা দিয়া বুঝাইয়া লইলাম যে, এই নামেই আজব ঐ সেক্যুলারিজমও খালাস কইরা দেওয়া যাইতেছে।

তো, আমাদের সওয়ালে যাই আবার।  এই কালচার্ড বাঙালিরা ‘ধার্মিক জীবন’ কইতে যেইটা বোঝে তাতে সেক্স তেমন থাকতে পারে না। কারণ, সেক্স তো কাম, কাম খোদায় ডিভোশনে বাধা দেয় বইলা ধারনা এনাদের। এইখানে ধর্ম আর সেক্সের মাঝে একটা নেসেসারি দুশমনির আভাস পাওয়া যাইতেছে। এনাদের মতে ধর্ম যা তাতে সেক্সের পজিশন কেমন সেইটা বোঝা দরকার তাইলে। শুরুতে আমরা কয়েকটা ধর্মের ভিতর দেখি একটু, পরে ঐসব ধর্মে সেক্সের প্রস্তাবগুলার লগে এই কালচার্ড বাঙালির ধর্মের ডেফিনিশনের যোগাযোগটা দেখতে হবে। Continue reading

কোন বাংলায় লেইখা কার মুরিদ হইলেন?

বায়েজিদ বোস্তামী জিগাইছেন, ‘প্রমীত’ বাংলায় যারা লেখেন তাগো প্রমথ চৌধুরীর মুরিদ কইবেন কিনা। এইটা জিগাইছেন কারণ, তার লেখার ভাষার ব্যাপারে ‘প্রমীত’ বাংলার লেখকরা ব্রাত্য রাইসুর নাম টাইনা আনেন প্রায়ই। এমন মুশকিলে পড়েন মুরাদুল ইসলামও।

বোস্তামী ভাল কথাই তুলছেন; কিন্তু প্রমীত এবং মুরাদ বা বোস্তামী বা আরো অনেকেরই লেখার বাংলা লইয়া আরো কয়েকটা ইস্যু আছে, ‘প্রমীত’ বাংলা কোনটা সেই আলাপেও। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

বাংলার ব্যাপারে রাইসুর পজিশন হইলো, ‘মুখের ভাষা’। এই পজিশন লইয়া প্রমীতের গা চুলকাইয়া দেন উনি, তার বেশি কিছু না; মুখের বুলিই যখন প্রমীত তখন ওনার পজিশন লইয়া আপনে প্রমীতেই লিখবেন।

আপাতত এই পজিশন একটু স্পেস চায় যেন, নিজের মতো লিখতে পারলেই খুশিতে বগল বাজাইতে থাকে, প্রমীত একটু আদর মাখাইয়া হাসে। খেয়াল কইরা দেখেন, রাইসু আর মানস চৌধুরীর পজিশন কিন্তু একই, মানসও তার মুখের ভাষাতেই লেখেন :)! প্রমীতে যখন কথাই কইতে পারেন মুখে, তখন মুখের ভাষায় লেখার মানে প্রমীতে লেখাই হইতে পারতেছে। আবার, মুখের ভাষাও তো সমাজই লেইখা দিছে আপনের মনে–লেখার ভাষাই তো হইলো তাইলে। আবার ধরেন, আমি কইলাম, লেখা বা কওয়া দুইটাই তো আসলে কাম, আমি একটা কামের ভাষা চাইতেছি, তখন মুখের ভাষারে কামের ভাষা হিসাবে দাবি করবেন কেমনে?

প্রমীতের গা চুলকাইয়া দেবার বেশি কিছু হইলে বড় জোর অনেক কিসিমের পলিটিক্যাল বেকুবির একটা হইয়া থাকে এই মুখের ভাষার পজিশন। কারণ, এইটার এজেন্ডা পুচকে এনার্কিজম–ক্রিয়ার কান মোচড়াইয়া দিয়াই পাইয়া যাইতেছে সব সুখ; এইভাবে প্রমীতের জবরদখল ঠেকাইতে পারবেন না।

এদিকে প্রমীতের ব্যাপারে যেই সব কথা কয় লোকে তাতে মহা ঝামেলা আছে। এইটা নাকি নদীয়া এলাকার মুখের বুলিই! ভুল। এইখানেও আপনে মুখের ভাষার পজিশন লইয়া চিপায় পড়বেন; কারণ, কলোনিয়াল এলেম/ছবক পাইয়া নদীয়া বা কোলকাতার শিক্ষিতরা প্রমীতে কথা কইতেই পারেন মানস চৌধুরীর মতো। তাতে ছোট একটা ক্লাস বা গোষ্ঠীর মুখই দেখলেন আপনে, তাতে একটা এলাকার আমজনতার মুখের হিসাব হইলো না।

‘ঘর বানাই’ না কইয়া নদীয়ার বা ঢাকার বা বরিশালের বা কোলকাতার শিক্ষিতরা ‘গৃহ/ঘর নির্মাণ করি’ কইয়া প্রমীত হইতে পারেন। কামাই না কইয়া কইতে পারেন ‘উপার্জন’, কসমের বদলে ‘প্রতিজ্ঞা’, কিসিমের বদলে ‘প্রকার’, ঢোকারে ‘প্রবেশ’, ডিসিরে তরজমা কইরা কইতে পারে ‘জেলা প্রশাসক’, কামলা আর লেবারকে ‘শ্রমিক’, তরজমারে ‘অনুবাদ’, টেলিভিশনরে ‘দূরদর্শন’, খতমরে ‘সমাপ্ত’ বা ‘হত্যা’, মওকারে ‘সুযোগ’, ধান্দারে ‘অভিসন্ধি’। কিন্তু ঐ গোষ্ঠীর বাইরের লোকেরা ঐগুলা কয় না, লেখেও না। ঐ গোষ্ঠীর লোকেরাও অশিক্ষিতের লগে বাতচিত করার বেলায় ঐগুলা কয় না।

কেউ কেউ কইতে পারেন, এইটা তো ভোকাবুলারির ব্যাপার! তাই কি? একটা ভাষার বেশির ভাগ লোকে যেই শব্দগুলা কয়, বোঝে সেইগুলার বদলে আপনে অন্য সব শব্দ দিয়া কথা কইলেন, এইটা ভোকাবুলারির মামলা না, এইটারে কয় ডিনাই করা, ঘেন্না করা। এমন ঘেন্না আর ডিনাই করা আপনে রাইসুর মুখের ভাষায়ও পাইবেন কিন্তু :)! রাইসুর কবিতায় পাইবেন ‘স্তন’, এইটা কার মুখের বাংলা? সমাজে পাইবেন মাই, বুক বা ব্রেস্ট, দুধও পাইবেন। এমনকি প্রমীতের মুখেও স্তন তেমন নাই। তেমনি ‘চুমু’ খান উনি, চুমাইতে পারেন না। রাইসুর লেখা পড়ার টাইমে খেয়াল কইরা দেইখেন (যেমন ‘অবধারণ’ লেখেন উনি) আমজনতার ভোকাবুলারিতে ঘেন্না কতটা শেয়ার করেন উনি প্রমীতের লগে। আমজনতার কমন বাংলায় উনি লেখেন না, কয়েকটা ভঙ্গিমা ইউজ করেন মাত্র–একটু গুতা দিলেন আর কি, ভাড়ামি করলেন একটু–সালাউদ্দিন লাভলু যেমন ভাড়ামি করতে বগুড়া বা কুষ্টিয়ার ভঙ্গিমা ইউজ করেন, বা ঈদের নাটক যেমন হয়–নোয়াখালীর পোলা, বরিশালের মাইয়া! বা অনেকেই যেমন কথায় রস আনলে সাধু বাংলা ইউজ করেন, রাইসুও যেমন লেখেন, ‘আলজিভের প্রকটন’।

তো, এই ঘেন্নাটা কই থিকা আইলো? আমজনতার বাংলা ডিনাই কইরা কি হইতে চান এনারা? Continue reading

বুক রেটিং: লালন – সুধীর চক্রবর্তী।

লালন Book Cover লালন
সুধীর চক্রবর্তী
জীবনী গ্রন্থ
নালন্দা
নভেম্বর, ২০০৮
প্রেসে ছাপা বই
৪৮

সুধীর চক্রবর্তী সবকিছু মিলাইয়াই লিখছেন এই বই। তথ্যগুলি জানা আছে উনার। যার ফলে বিচার করতে বইসা সবার কথাই কমবেশি কইছেন। কিন্তু মুশকিল একটাই, যিনি লিখছেন তার চাইতে যিনি লালনের লেখারে ‘প্রচার’ করছেন তারে বেশি ইর্ম্পটেন্ট বইলা ভাবছেন। মানে, মনে হইছে, এইরকম তো লিখতেই পারে অনেকে; কিন্তু কয়জন নিজের জমিদারি থিকা নাইমা আইসা এইরকম লোকজনের গানরে আর্ট বইলা মনে করতে পারে? যিনি পারেন, তিনি; যিনি লিখতে পারেন তার চাইতে বেশি মহান। এইটা বাজে বিচার বইলাই মনে হইছে।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

ও, লালন-এর পলিটিক্যাল আসপেক্ট নাই তেমন কোন। মানে, উনি সাধক, গায়ক, ভাব-টাব আছে আর এইগুলি ইর্ম্পটেন্টও; মানে, গ্রাম্যতা সবসময় খারাপ না, ভালোও আছে, এইরকম। লালনের ইন-বিল্ড রেজিসট্যান্স ভায়োলেন্সের তু তু তু’টারে ইন্টারনালাইজ করার ভিতর দিয়া ডমিস্টিক ভায়োলেন্সরে মাস্ট কইরা তোলে নাকি বাতিল কইরা ফেলতে পারে – সেই আলাপের কোন ঘটনাই নাই। মানে, ছোটদের জন্য লেখা বই এইটা বা ‘কমন পিপল’রে টার্গেট কইরা বলা। তো, কমন পিপল যে রিডউসড একটা থট প্রসেসের ব্যাপার এইটা মানতে পারাটা তো একটু ঝামেলারই।

 

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →