রঠার ফিকশনের ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন
একটা কাহিনি ভাবেন। কাহিনি মানে নভেল আর কি। ভাবেন, রামপালে কয়লা-বিজলি কারখানা হইতে যাইতেছে। সেইখানে একটা আন্দোলন গজাইতেছে। লোকাল লোকেরাই আন্দোলনটা করবে। লোকাল লোকজনের মাঝে কাম করতেছেন সৈয়দ ফিরোজ আহমেদ নামে মার্ক্সের তরিকার একজন পলিটিশিয়ান–তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির লিডার। উনি লোকালদের উস্কাইতেছেন, দরকারি সব কথা লোকজনরে জানাইতেছেন, কয়লা-বিজলীর লাভ-লোকসান বুঝাইতেছেন, লোকালদের জীবনের জন্য খুবই দরকারি সুন্দরবনের কেমন ক্ষতি হইতে পারে সেই খবরাদি দিয়া আন্দোলনের দরকারি রসদ যোগাইতেছেন।
এই ফিরোজ আহমেদ হইলেন রামপালের দুলাল চৌধুরীর দোস্ত। দুলাল চৌধুরী রামপাল আওয়ামী লীগের (সরকারি দল) বড় নেতা, লিবারাল, মহৎ, জনদরদী, সুফি টাইপের মানুষ। তার বউ হইলেন বিলকিছ। বিলকিছের কথায় দুলাল চৌধুরীর চরিত্র এমন:
“আমার মনে হত ভালো হবার একটা সীমা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে কেমন যেন তাতে পৌরুষের ব্যাঘাত হয়।”
আর দুলাল চৌধুরী কইতেছেন,
“যদি দেখি এই বিশাল জীবন ব্যবস্থার মধ্যে আর কোথাও আমি খাপ খাইনে তা হলে বুঝব এতদিন যা নিয়ে ছিলাম সে কেবল ফাকি। সেই ফাকিতে কোনো দরকার নাই। সেদিন আসে ত ঝগড়া করব না, আস্তে আস্তে বিদায় হয়ে যাব। জোর – জবরদস্তি? কিসের জন্য! সত্যের সাথে কি জোর খাটে?”
এই দুলাল চৌধুরীই ফিরোজ আহমেদকে লইয়া যান রামপালে; তাতেই মওকা পাইয়া যান ফিরোজ। উনি বিলকিছরে সিডিউস কইরা পয়সাকড়ি হাতাইয়া লন, আন্দোলন জমাইতে সেই পয়সা ঢালেন। সিডিউস করতে পারলেন কেমনে? বিলকিছ জানাইতেছেন,
“আমার নারীর হৃদয়, তার ভালোবাসা আপনিই পূজা করতে চায়।”
আর ফিরোজ জানাইতেছেন,
“পুরুষেরা ভালোবাসে ধোয়াকে আর মেয়েরা ভালোবাসে বস্তুকে। সেই জন্যেই পুরুষ পূজা করতে ছুটে তার নিজের আইডিয়ার অবতারকে। আর মেয়েরা তাদের সমস্ত অর্ঘ্য এনে হাজির করে প্রবলের পায়ের তলায়।”
তো আন্দোলনটা জইমা ওঠে, পরে খুবই ভায়োলেন্ট টার্ন লয়। মার্ক্সের তরিকার পলিটিশিয়ান ফিরোজ তখন পালাইয়া যায়, দুলাল চৌধুরী ভায়োলেন্স ঠেকাইতে যাইয়া মাথায় বাড়ি খাইয়া জিন্দামরা দশায় চইলা যায়। বিলকিছ তখন বুঝতে পারে নিজের ভুল: আসল ‘প্রবল’ তো দুলালই, ফিরোজ তো না–আসল ক্রাইসিসে ফিরোজরা পালাইয়া যায়, আর দুলালরা মোকাবিলা করতে যায়। বিলকিছ আর ফিরোজের থিওরি মোতাবেক বিলকিছের ভক্তি তখন দুলালের পা দুইটাতেই।
বিলকিছ এখন ভাবতেছে, দুলাল যদি মইরাই যায় তাইলে দুলালের পা দুইটা কাইটা রাইখা দেবে কিনা–পা ছাড়া কবরে গেলে এমন কি আর সমস্যা!
রঠার ঘরে বাইরে নভেল/কাহিনিরে ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন করলাম রামপালে। ডায়লগগুলা ঘরে বাইরের পাটগুলার জবানেই কইলাম। ঘরে বাইরের জমিদার নিখিলেশ রামপালের দুলাল চৌধুরী, সন্দ্বীপ ফিরোজ আহমেদ, বিমলা হইছেন বিলকিছ। ঘরে বাইরের মাইয়া বিমলার যেমন পদবী নাই, বিলকিছেরও পদবী নাই তাই। সন্দ্বীপ আছিলেন ব্রাহ্মণ/বামুন, তাই ফিরোজ হইলেন সৈয়দ।
রঠার ঘরে বাইরে কাহিনিতে যারা কোন প্রোবলেম দ্যাখেন না, তারা আমার এই কাহিনিতেও আপত্তি করবেন না মনে হয়। আমার কাহিনিতে সন্দ্বীপকে সৈয়দ ফিরোজ নামে রাখার কারণ হইলো, আমাদের চেনা লেখক ফিরোজ আহমেদের কয়েকটা লেখা, রঠারে লইয়া–রঠা কতটা ‘সুদূরের পিয়াসী’, সেই ব্যাপারে উনি বেশ ওয়াজ-মাহফিল কইরা বেড়াইতেছেন। ওনার পদবী কি তা জানি না, আশরাফ মোসলমানের একটা পদবী লাগাইয়া দিলাম আমিই, ব্রাহ্মণ বা বামুনের বরাবর করতে। Continue reading