Main menu

ফিকশন: দোস্তি

This entry is part 19 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

১.

পায়রার পুব পাড়ে, তিতকাটা নামের গেরামটা পছন্দ হইলো রেজন মিরার বাপের। তাছাড়া নৌকায় আর কতো দিন! শেই মুর্শাদাবাদ থিকা পানিতে, পেরায় ১ মাশ কাটলো, এর ভিতর কোথাও তেমন ভিড়তে পারলো না, পছন্দ হয় না ঠিক! তিতকাটাও জে খুব পছন্দ হইছে, তা না; কিন্তু এইবার মাটিতে নামা দরকার মনে হইলো তার; আর নৌকায় বইশাই জাইল্লাদের থিকা তাজা ইলিশ কিনা দুপুরের ভাত খাইতে খাইতে রেজন মিরার বাপের মনে হইলো–কিশের কি পদ্দা, এই পায়রার ইলিশই তো মনে হইতেছে শবচে বেশি ভালো লাগলো! পোলার কাছে জিগাইলো, রেজন মিরাও কইলো, হ, ভালোই তো লাগতেছে! রেজন মিরার মায়ের দিকে নজর ফিরাইতে শে কইলো, খাই নাই এখনো, তবে রানতে রানতে কড়া ঘেরান পাইছি, মাছটায় তেলও আছিলো জব্বর!

আর কিছু দিন মুর্শিদাবাদে থাকলে হয় খয়রাত করতে হইতো বা না খাইয়া মরা লাগতো! পলাশির জুদ্ধের পরে পেরায় ১২০ বছর পার হইছে, এতো দিনে মির বংশের লোকেরা পেরায় শবাই চইলা গেলো কোন কোন দিকে, খালি রেজন মিরার বাপেই থাইকা গেছিলো! কামাই আছিলো না কোন, কোন মতে খাইয়া পইরা আছিলো, ব্যবশা আছিলো কাপড়ের, ঐটা খতম; একে তো কলের কাপড়, তার উপর মুর্শিদাবাদ নামের ঐটা তখন একটা গেরাম, শহর চইলা গেছে কলিকাতায়। তার বাপ-দাদার আমলের কিছু শোনাদানা, আর বাড়িটা আছে। শোনা বেইচাই খাইতেছিলো, কিন্তু অমনে জে টিকতে পারবে না, শেইটা বুঝতেছিলো ভালোই!

তাই একদিন বউ, ৩ পোলা, বড়ো পোলা রেজনের বউ, ধর্ম মাইয়া আর জামাইরে লইয়া একটা নৌকায় উইঠা পড়লো রেজন মিরার বাপে। বাড়িটা বেচলো, বাকি শোনাদানাও শব এক লগে বেইচা দিলো। একটা নৌকা কিনলো। ধর্ম মাইয়ার জামাই নৌকার কাজকাম পারে; হাড়িপাতিল, পাটা-পুতা শব নৌকায় তুইলা অজানায় রওনা দিয়া দিলো। অল্প কিছু টাকা রাইখা বাকিটা দিয়া চাল-ডাল-লাকড়ি কিনলো, আর কিনলো কতগুলা কলের কাপড়, একটা শদাগরি নৌকা জেনো, কাপড়ের ব্যবশা করে–এমন একটা পরিচয় ঠিক কইরা পাল তুইলা দিলো নৌকায়! ধর্ম মাইয়ার জামাই হাল ধরলো, নৌকা টানলো পালে। ২/৩ দিনের ভিতর রেজন মিরা আর তার বাপেও নৌকার খুটিনাটি শিখা নিলো জামাইর কাছে।

এমনেই ভাশতে ভাশতে এই তিতকাটা। এই দুর ভিনদেশে কেমনে নিজের ঠাই গাড়বে, ভাবলো রেজন মিরার বাপ। আখেরে বেশি কঠিন হয় নাই। হাটে পরিচয় হইলো তিতকাটার পাশের গেরামের করিম দফাদারের লগে। কথার টানে এমনিতেই বোঝা জাইতেছিলো; তার লগে নিজেই কইলো, আমি মোটামুটি বিদেশি; ওদিকের মাল এদিকে, এদিকের মাল ওদিকে বেইচা শদাগরি করার খায়েশ মনে। তাই এদিকে একটা বাড়ি করতে চাই, পরিবার এইখানে রাখতে চাই। আমারে এক টুকরা জমিনের বন্দোবস্ত কইরা দেন।

কথা দিলো দফাদার। জমিন আছে জানাইলো, চাইলে এখনি লইতে পারে! রেজন মিরার বাপ তাড়াহুড়া করলো না, ৮/১০ দিন পরে আশবে জানাইলো। তবে জমিটা দেখতে চাইলো। দেখা গেলো, পায়রায় জেইখানে নাও ভিড়াইছে তার, শেই বরাবরই জমিটা! দফাদারের কাছে বিদায় লইয়া নৌকায় উঠলো রেজন মিরার বাপ। তারপর দিন ১২ পানিতে পানিতে ঘুরলো, আরো শামনের দিকে গেলো, আমতলির হাট করলো, গোলবুনিয়া, তালতলি ঘুইরা তিতকাটা ফিরলো আবার। এইভাবেই এই বাড়িতে রেজন মিরাদের পত্তন হইছিলো। কয় বছর পর বাপ মরলো। মা মরলো। মাঝে ঘর উঠলো, আশেপাশে আরো কিছু ধানি জমি কিনলো, নয়া ঘর বানাইয়া ভাইরা জুদা হইয়া গেলো। কেউ কিশান হইয়া গেলো, কেউ মাছ ধরতে নামলো পায়রায়।

৩০/৩৫ বছরের ভিতর রেজন মিরা তিতকাটার মাতবর হইয়া উঠলো। শদাগরি বাদ দিয়া চাশবাশ করে এখন, শালিশি কইরাও কিছু কামাই হয়, গরু-বাছুর আছে, হাশ-মুরগি, নদিতে মাছ, খোরাকি ধান, মিশ্টি কুমড়া, বাদাম, মিশ্টি আলু, নারিকেল বাগানেও ফলন ভালো। পোলা ছোবাহান বেশ তাগড়া হইয়া উঠছে, পুরা বংশে কয়েকটা তাগড়া পোলা থাকলে জমিজমার দখল রাখতে অতো মুশকিল হয় না। পুবের দিকে ধানি জমি লইয়া ক্যাচাল আছে, মাঝে মাঝে রাম দা, বল্লম, মাছ ধরার চল বইলা একটা জিনিস আছে–একটা লোহার থাবার গোড়ায় লম্বা একটা বাশ লাগাইয়া বানায়, বাশের লাঠি লইয়া হুলাহুলি হয়, কিন্তু ছোবাহানের বুদ্ধি ভালো, পুবের গেরামের ওরা ততো শুবিধা করতে পারে না। মোটের উপর, আরামেই আছে রেজন মিরা।

আফছোছ, মাঝখানে ছোবাহানের মা শরিফুন্নেছা মইরা গেল! ২ মাইয়া আর ১ পোলা হইছে তার পেটে। মুর্শিদাবাদের খান্দানি ঘরের মাইয়া, দুধে-আলতা গায়ের রঙ, হাতের রগের ভিতর রক্তের চলাচল দেখা জায়; জেনো ইরানি কার্পেটের ভিতর ঢুইকা নগদ নগদ চালান হইয়া আশছে!

ছোবাহানের মা মরার পরে দুইটা বিয়া করলো রেজন মিরা, কিন্তু শেই খান্দান আর পাইলো না। ছাহেরার মায়রে দিয়া বউয়ের কাম চলে কদ্দুর, কিন্তু রেজন মিরার মনে পিরিতি গজাইলো না আদৌ! মেজাজ খাপ্পা হইয়া থাকে পেরায়ই। এমনও হইছে জে, দুপুরে খাইয়া ঘুমায় রেজন মিরা, মোরগের ডাকে ঘুম ভাংলো, অমনি ছাহেরার মায়রে ডাইকা পিটানি শুরু করলো; মোরগের ডাক কেন তার কানে ঢুকবে, দেইখা রাখে নাই কেন! ছাহেরা তবু একটু শ্যামলা হইছে, পরে পেরায় কয়লার মতো কালা একটা পোলা হইলো। বাচ্চা হবার ধকলের লগে রেজন মিরার মাইর মিলাই বুঝি ছোট ছোট পোলা-মাইয়া রাইখা মইরা গেলো ছাহেরার মা! তবে আরেক বউ থাকলো, শেই ঘরে হইলো আরেক পোলা আর ১ মাইয়া। পরে আরো কি কি হইতে পারতো, শেইটা বোঝার উপায় নাই; একদিন দেখা গেলো, দুপুর বেলা মোরগ ডাকলো, কিন্তু রেজন মিরার ঘুম ভাংলো না, বিকাল গড়াইলো, উঠলো না তবু! মাগরিবের আগে আগে খালেকের মা ছোবাহানরে জাইয়া কইলো, ছোবাহান বাপের গায়ে হাত দিয়াই বুঝলো, ঘুমের ভিতরই আখেরি দম ছাড়ছে রেজন মিরা। Continue reading

আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ (সিলেক্টেড পার্ট ৩)

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।।

 

শিল্পীর আসনে

 

॥ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা ॥

বৃহত্তর জীবনের অনাগত দিনগুলি হাতছানি দিয়ে ডাক দিচ্ছিল। যেন ম্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম, বি.এ. পাশই জীবনের লক্ষ্য নয়। ওরে নীড়ছারা, পথহারা গানের পাখী, ফিরে আয়, ফিরে আয়। কলফাতার জনসমুদ্রে ডুবিয়ে দে তোর বি.এ. পাশের মোহ-তরী। এই সমুদ্রে ভেসে ওঠ, উঠে দাঁড়া । মনুমেন্টের সু-উচ্চ চূড়ায় গানের সুরে স্তব্ধ করে দে জনতার কলরব।

কলকাতা চলে এলাম। অভিভাবকের বিনানুমতিতে, সোজ! কথায় পালিয়ে এলাম। আমার বন্ধু জীতেন মৈত্র কলকাতায় আইন পড়ছে তখন। তার চেষ্টায় প্রখ্যাত আইনজীবি (কিছুকাল পূর্বে ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর) তসকিন আহমদ সাহেবের বাড়ীতে আমার থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত হল। বিনিময়ে আমাকে সে বাড়ীর দু’তিনটি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে পড়াতে হবে। কিন্তু আমার হাত খরচের পয়সা চাই ত। জলপাইগুড়ির শফিকুল ইসলামের (তখনকার ডি.পি. আই’র পি. এ.) সাথে দেখা করলাম। তিনি আমাকে ডি.পি.আই অফিসে মাসিক ৪৫ টাকা বেতনে এক চাকুরী দিলেন। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে চাকুরী করি আর দু’বেলা ছাত্র পড়াই। তসকিন সাহেবের বড় ভাই তকরীম আহমেদ, ভারী সুন্দর বাঁশী বাজান। একদিন তার বাঁশী শুনলাম, শুধু তাই নয়, ঠুংরীও গাইতেন চমৎকার – তারপর আরও অবাক হলাম, যখন দেখলাম তাঁর সেতার, তবলা ও পিয়ানোতেও চমৎকার হাত।

গ্রামাফোন কোম্পানীতে গেলাম। ভগবতীবাবু আমার গান নিতে চাইলেন। এবার গাইলাম শৈলেন রায়ের লেখা, “আজি শরতের রূপ দীপালি” আর জীতেন মৈত্রের লেখা, “ওলো প্রিয়া নিতি আসি তব দ্বারে মন ফুল মালা নিয়া।” গান দু’খানা সুরের অভিনবত্বে বাজারে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করল।

জীতেনের ভগ্নীপতির বাসায় গিয়ে মাঝে মাঝে গানের আসরে যোগ দিতাম । সেখানে নাকু ঠাকুরকে দেখতাম। তাদের বাসার বাজার সরকার। বাড়ির বাজার করে দিয়ে ভদ্রলোক সারারাত উধাও হয়ে থাকতেন। ঠিক সকালে আবার বাজার করবার জন্য আসতেন। আমার গান শুনতেন, শুধু মুচকি মুচকি হাসতেন কিছুই বলতেন না। কে জানত যে এই নাকু ঠাকুরই ওদের বাসায় বাজার সরকারের কাজ করে সারারাত গোপনে তার গুরুগৃহে গিয়ে সাধনা করতেন উচ্চাংগ সংগীত। এই নাকু ঠাকুরই হচ্ছেন ভারতের বিখ্যাত ওস্তাদ শ্রীতারাপদ চক্রবর্তী!

কলকাতার পথে পথে ঘুরি, বিরাট কলকাতা। এই বিরাট বিশাল শহরে কি কোনদিন প্রতিষ্ঠ৷ অর্জন করতে পারব না? – মনের এই সূক্ষ অভিলাষ খোদা হয়ত মনযুর করেছেন, তাই কি করে এর সুত্রপাত হল তাই বলছি। Continue reading

মডার্ন স্পেসে পুঞ্জি ও ইডিওলজি

[দেরিদার একটা ইন্টারভিউ তরজমা করছিলাম আমি। বাছবিচার তা ছাপাইছিল ‘দেরিদা অন সোয়াহ’ টাইটেলে। এইটা নিয়া একটা আলাপ দিছিলাম আমি, ইমরুল হাসান রক মনু। সেই আলাপে আমি যা বকছিলাম তার ট্রান্সক্রিপ্ট।]

গ্রামে এই কথা শুনবেন, এখনও, যে আমাদের মুরুব্বিরা কইত যে অমুক ধরনের লোকজনরে বিশ্বাস করতে নাই বা, রোগে শোকে এইটা কইরো বা, ঝড়বইন্যায় সেইটা কইরো বা, পোলা কেমন হইলে ভালো, মাইয়া কেমন হইলে খারাপ- মানে মুরুব্বিদের, বাপ দাদাদের উইজডম শেয়ার করতে দেখবেন। এইটা এখন কিছু কইমা আসছে বা, অনেকটাই ইনফরমাল হইয়া আসছে। আমাদের দাদা-দাদিদের মুখে এইটা আরও বেশি শুনা যাইত। এবং এগুলি মোটামুটি রুরাল এরিয়াতে প্রত্যেকের ভিতরেই ইকুয়ালি ছড়ায়ে যাইতে পারত। মানে রাফলি বলা যাইতে পারে প্রত্যেকেই ইকুয়ালি এডুকেটেড ছিল এতদবিষয়ে। আমরা যেমন শুনি, গেরামের লোকজন আনএডুকেটেড মূর্খ ছিল, এইটা আসলে আমরা মনে হয় ওই ইকুয়াল এডুকেশনরে ঘা দেয়ার চেষ্টা করি। এবং এইটা আমরা করি একটা মডার্নিস্ট পার্সপেক্টিভ হইতে। এইরকম একটা ভাইব আমাদের মইধ্যে আছে যেন আমরা একটা বিরাট জ্ঞান বা এডুকেশন। মানে আমাদের কালেক্টিভের জ্ঞানই আমাদের জ্ঞান। মানে জ্ঞান ছড়ানোর চেয়ে জ্ঞান জমা হওয়ার ব্যাপারটা জ্ঞানের ব্যাপার হইয়া দাড়াইছে। একাডেমিয়াতে, সোমাজে, রাষ্ট্রে যত বেশি জ্ঞান জমা হইতেছে, ততই যেন আপনে বা আমি জ্ঞানী হইতেছি। মডার্নিটির যে ইডিওলজিকাল ছক তার ভেতরে এই মেসেজ ইনগ্রেইনড থাকে।

তো দেরিদা কইতেছিলেন আর্কাইভাইজেশন নিয়া যে, ভুইলা যাওয়ার আরম্ভও হয় ওইখান থেকে। কীভাবে ভুইলা যাওয়ার আরম্ভ হয় আর্কাইভাইজেশন হইতে? এই কোশ্চেনটা আমার মনে হয় মডার্নিটির মেইক আপরে কোশ্চেন করতেছে। রেকর্ড কিপিং মানে এক অর্থে একটা ওরাল ট্রেডিশন, যেইটা পুরাটাই টিকা থাকে জ্ঞান ছড়ায়ে দেয়ার মাধ্যমে জ্ঞানরে টিকায়ে রাখার ভিতর দিয়া, সেইটারে অচল বানায়া ফেলে। জ্ঞান যেহেতু তখন রেকর্ডের ভেতরেই টিকা থাকতে পারতেছে, তখন আসলে অতটা না ছড়াইলেও চলে। মডার্ন দুনিয়া মানে পুঞ্জিভূত জ্ঞানের দুনিয়া। এখন এইটা ভালো না খারাপ সেইটা বোঝার চেয়েও জরুরি মনে হয় এই এওয়ারনেসটা থাকা মডার্ন দুনিয়ার জ্ঞানের ব্যাপারে। মানে এইটা হয়ত এখন পসিবলই না, সকল জ্ঞানরে সমানভাবে সকলের কাছে পৌছায়ে দেয়া। এইটা আসলে কখনোই পসিবল ছিল না। কিন্তু সেই নাজানার বেপারটা আগে সেপারেট থাকতো। ফলে জ্ঞানের ফলস নোশনটা ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন সেইটা না, প্রশ্ন হইল মডার্নিটির মেইক আপটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকলে মডার্নিটিরে ভুল বুঝবেন আপনে, কিছু ক্রাইসিস তখন ইনেভিটেবল। আমি মাঝে মাঝেই খেয়াল করি, ফেসবুক টেসবুকে পাবলিকরে কোশ্চেন করা হয়, ইজি ইজি, পাবলিক সেগুলি পারে না, তখন সেইটা খুব হাস্যকর লাগে। বিলাতেও এগুলি দেখা যায়, এমেরিকার লোকজনরেই জিগান হইতেছে এমেরিকার মাদার টাং কী? হেরা কইতেছে এমেরিকান। ইজি জিওগ্রাফির প্রশ্ন জিগানো হইল, পারবেনা। ওয়েস্টে এইটা মোটামুটি প্লেফুলি নেয়। সংকটটা খেয়াল করবেন আমগো মত দেশে, যেইখানে ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল বাংলাদেশ, মডার্নিটি এগুলি প্রোপাগাণ্ডার টুলস হিসাবে ইউজ হয়। জুলুমের প্রিটেক্সট। বাংলায় খেয়াল করবেন, ‘অত্যাধুনিক’ বইলাও একটা চালু শব্দ আছে। বাংলাদেশে এই রকম কয়েক বছর আগে রেন্ডম পিপলরে জিগানো হইতে বাংলা বার মাসের নাম, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ’র নাম, জাতীয় সংগীত, বাংলা বর্ণমালা এইসব। এগুলি আবার এই দেশের নিউজের কন্টেন্ট হইত যে দেখেন এইসব প্রশ্নের উত্তরও এরা পারেনা! আফসোস! মানে মডার্ন রাষ্ট্রে যে জ্ঞানের পাহাড়, আধুনিক রাষ্ট্র মানেই তো জ্ঞানের শাসন তাতে রাষ্ট্র সম্পর্কিত যে বেসিক জ্ঞান, যেই জ্ঞান দিয়া আপনের মগজ ওয়াশ কইরা রাষ্ট্র গিলানো হবে আপনাকে পরতিনিয়ত, তাই লোকে পারতেছে না! এইটা তো মানা কষ্ট! এই নিয়া দেখতেন যে খুব ক্ষেপ আক্ষেপ চলতেছে। Continue reading

নজরুল – জসীমউদ্দীন (১৯৬১)

[কবি কাজী নজরুল ইসলামরে নিয়া এই লেখাটা কবি জসীমউদ্দীন ছাপাইছিলেন উনার “ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়” বইয়ে, ১৯৬১ সালে। লেখাটা মোস্টলি কাজী নজরুল ইসলামরে নিয়াই লেখা, কিন্তু জসীমউদ্দীনের অটোবায়োগ্রাফি’রও অংশ। অই অংশগুলা দুই-একটা জায়গায় এস্কেইপ করা হইছে। আর জসীমউদ্দীন লেখাটারে আলাদা চ্যাপ্টারে ভাগ করেন নাই, যেইটা এইখানে আমরা করে নিতেছি।]

১. কলিকাতায়

পদ্মানদীর তীরে আমাদের বাড়ি। সেই নদীর তীরে বসিয়া নানা রকমের কবিতা লিখিতাম, গান লিখিতাম, গল্প লিখিতাম। বন্ধুরা কেউ সে সব শুনিয়া হাসিয়া উড়াইয়া দিতেন, কেউ-বা সামান্য তারিফ করিতেন। মনে মনে ভাবিতাম, একবার কলিকাতায় যদি যাইতে পারি, সেখানকার রসিক-সমাজ আমার আদর করিবেনই। কতদিন রাত্রে স্বপ্নে দেখিয়াছি, কলিকাতার মোটা মোটা সাহিত্যিক দের সামনে আমি কবিতা পড়িতেছি। তাহারা খুশি হইয়া আমার গলায় ফুলের মালা পরাইয়া দিতেছেন। ঘুম হইতে জাগিয়া ভাবিতাম, একটিবার কলিকাতা যাইতে পারিলেই হয়। সেখানে গেলেই শত শত লোক আমার কবিতার তারিফ করিবে। কিন্তু কি করিয়া কলিকাতা যাই। আমার পিতা সারা জীবন ইস্কুলের মাস্টারী করিতেন। ছেলেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যে এইরূপ আকাশকুসুম চিন্তা করে, তিনি জানিতেন। কিছুতেই তাহাকে বুঝানো গেল না, আমি কলিকাতা গিয়া একটা বিশেষ সাহিত্যিক খ্যাতি লাভ করিতে পারি। আর বলিতে গেলে প্রথম প্রথম তিনি আমার কবিতা লেখার উপরে চটা ছিলেন। কারণ পড়াশুনার দিকে আমি বিশেষ মনোযোগ দিতাম না, কবিতা লিখিয়াই সময় কাটাইতাম। তাতে পরীক্ষার ফল সব সময়ে ভাল হইত না।

তখন আমি প্রবেশিকার নবম শ্রেণীতে কেবলমাত্র উঠিয়াছি। চারিদিকে অসহযোগ-আন্দলনের ধুম। ছেলেরা ইস্কুল-কলেজ ছাড়িয়া স্বাধীনতার আন্দোলনের নামিয়া পড়িতেছে। আমিও স্কুল ছাড়িয়া বহু কষ্ট করিয়া কলিকাতা উপস্থিত হইলাম।

[…]

রামানন্দ বাবুর বাড়ি আবার গিয়া কড়া নাড়িতেই এক নারীকণ্ঠের আওয়াজ শুনিতে পাইলাম। তাহার নিকট হইতে চারুবাবুর ঠিকানা লইয়া শিবনারায়ণ দাস লেন তার বাসায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। খবর পাঠাইতেই আমাকে দ্বিতলে যাইবার আহ্বান আসিল। অর্ধশায়িত অবস্থায় সেই আগের লোকটির মতই তিনি আমাকে প্রশ্ন করিলেন, “কি চাই?” ঘরে বোধ হয় আরও দু-একজন ভদ্রলোক ছিলেন। পূর্বের লোকটির কাছ হইতে প্রত্যাখ্যাত হইয়া আসিয়াছি, তার চিহ্ন বোধ হয় মুখে-চোখে বর্তমান ছিল। তার উপরে একতলা হইতে দ্বিতলে উঠিয়া শ্রান্তিতে দীর্ঘনিঃশ্বাস লইতেছিলাম। কোন রকমে বলিলাম, “আমার কিছু কবিতা আপনাকে দেখাতে এসেছি।”

ভদ্রলোক অতি কর্কশ ভাবে আমাকে বলিলেন, “তা আমার বাড়িতে এসেছেন কবিতা দেখাতে?”

কল্পলোকের সেই চারুবাবুর কাছে আমি এই জবাব প্রত্যাশা করি নাই। আমি শুধু বলিলাম, “আমার ভুল হয়েছে, আমাকে মাফ করবেন।”

এই বলিয়া রাস্তায় নামিয়া আসিলাম। তখন সমস্ত আকাশবাতাস আমার কাছে বিষে বিষায়িত বলিয়া মনে হইতেছিল। ইচ্ছা হইতেছিল, কবিতার খাতাখানা ছিড়িয়া টুকরা টুকরা করিয়া আকাশে উড়াইয়া দিই। নিজের কর্ম-শক্তির উপর এত অবিশ্বাস আমার কোন দিনই হয় নাই। আজ এই সব লোককে কত কৃপার পাত্র বলিয়া মনে করিতেছি। কী এমন হইত, গ্রামবাসী এই ছেলে, টিকে যদি তিনি দুটি মিষ্টিকথা বলিয়াই বিদায় দিতেন। যদি একটা কবিতাই পড়িয়া দেখিতেন, কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হইত।

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙলার অধ্যাপক, চারুবাবু তখন জগন্নাথ কলেজে পড়ান। একবার আলাপ-আলোচনায় এই গল্প তাঁহাকে কিছুটা মৃদু করিয়া শুনাইয়াছিলাম। তিনি বলিলেন, “আমার জীবনে এই ঘটনা ঘটেছে, এটা একেবারে অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।”

বস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে চারুবাবু বহু অখ্যাত সাহিত্যিককে উৎসাহ প্রদান করিয়াছেন।

আমার কলিকাতা আসার সকল মোহ কাটিয়া গিয়াছে, এবার বাড়ি যাইতে পারিলেই হয়। কিন্তু আমার যে টাকা আছে তাহাতে রেল-ভাড়া কুলাইয়া উঠিবে না। ফরিদপুরের তরুণ উকিল অধুনা পাকিস্তান গণ-পরিষদের সভাপতি মৌলবী তমিজউদ্দিন সাহেব তখন ওকালতি ছাড়িয়া কলিকাতা জাতীয় কলেজে অধ্যাপনা করিতেছেন। তিনি ছোটকাল হইতেই আমার সাহিত্য-প্রচেষ্টায় উৎসাহ দিতেন। তাহার নিকটে গেলাম বাড়ি যাইবার খরচের টাকা ধার করিতে। তিনি হাসিমুখেই আমাকে একটি টাকা ধার দিলেন, আর বলিলেন, “দেখ, ভোলার কবি মোজাম্মেল হক সাহেবের সঙ্গে আমি তোমার বিষয়ে আলাপ করেছি। তুমি যদি তার সঙ্গে দেখা কর, তিনি তোমাকে উৎসাহ দেবেন। এমন কি তোমার দু-একটি লেখা ছাপিয়েও দিতে পারেন।”

ছোটকাল হইতে কি করিয়া আমার মনে একটা ধারণা জন্মিয়াছিল, মুসলমানেরা কেহ ভাল লিখিতে পারেন না। সেইজন্য মোজাম্মেল হক সাহেবের সঙ্গে দেখা করিবার আমার বিশেষ কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু তমিজউদ্দিন সাহেব আমাকে বার বার বলিয়া দিলেন, “তুমি অবশ্য মোজাম্মেল হক সাহেবের সঙ্গে দেখা করে যেও।”

Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৫)

৯. এজিদ্ দামেস্ক রাজসিংহাসনে উপবেশন করিলেন

দামেস্ক রাজপুরীমধ্যে পুরবাসিগণ, দাসদাসীগণ, মহা ব্যতিব্যস্ত। সকলেই বিষাদিত। মাবিয়ার জীবন সংশয়, বাক্‌রোধ হইয়াছে, চক্ষুতারা বিবর্ণ হইয়া ঊর্ধ্বে উঠিয়াছে, কথা কহিবার শক্তি নাই। এজিদের জননী নিকটে বসিয়া স্বামীর মুখে শরবত দিতেছেন, দাস-দাসীগণ দাঁড়াইয়া কাঁদিতেছে, আত্মীয়স্বজনেরা মাবিয়ার দেহ বেষ্টন করিয়া একটু উচ্চৈঃস্বরে ঈশ্বরের নাম করিতেছেন। হঠাৎ মাবিয়া একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া “লা ইলাহা ইলাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্” এই শব্দ করিয়া উঠিলেন; সকলে গোলযোগ করিয়া ঈশ্বরের নাম করিতে করিতে বলিয়া উঠিলেন, “এবার রক্ষা পাইলেন; এবারে আল্লাহ্ রেহাই দিলেন!” আবার কিঞ্চিৎ বিলম্বে ঐ কয়েকটি কথা ভক্তির সহিত উচ্চারিত হইল। সেবারে আর বিলম্ব হইল না! অমনি আবার ঐ কয়েকটি কথা পুনর্বার উচ্চারণ করিলেন। কেহ আর কিছুই দেখিলেন না। কেবল ওষ্ঠ দুইখানি একটু সঞ্চালিত হইল মাত্র। ঊর্ধ্ব চক্ষু নীচে নামিল। নামিবার সঙ্গে সঙ্গেই চক্ষের পাতা অতি মৃদু মৃদু ভাবে আসিয়া চক্ষুর তারা ঢাকিয়া ফেলিল। নিশ্বাস বন্ধ হইল। সকলেই মাবিয়ার জন্য কাঁদিতে লাগিলেন। এজিদ্ অশ্ব হইতে নামিয়া তাড়াতাড়ি আসিয়া দেখিলেন, মাবিয়ার চক্ষু নিমীলিত, বক্ষঃস্থল অস্পন্দ; একবার মস্তকে, একবার বক্ষে হাত দিয়াই চলিয়া গেলেন। কিন্তু কেহই এজিদের চক্ষে জল দেখিতে পায় নাই। এজিদ্ পিতার মৃত দেহ যথারীতি স্নান করাইয়া ‘কাফন’ দ্বারা শাস্ত্রানুসারে আপাদমস্তক আবৃত করিয়া মৃতদেহের সদ্গগতির জানাজা করাইতে শেষ শয়নাসন শায়ী করাইয়া সাধারণ সম্মুখে আনয়ন করিলেন। বিনা আহ্বানে শত শত ধার্মিক পুরুষ আসিয়া জানাজাক্ষেত্রে মাবিয়ার বস্ত্রাবৃত শবদেহের সমীপে ঈশ্বরের আরাধনার নিমিত্ত দণ্ডায়মান হইলেন। সকলেই করুণাময় ভগবানের নিকট দুই হস্ত তুলিয়া মাবিয়ার আত্মার মুক্তি প্রার্থনা করিলেন। পরে নির্দিষ্ট স্থানে ‘দাফন’ করিয়া সকলেই স্ব-স্ব গৃহে চলিয়া গেলেন।

মাবিয়ার জীবনের লীলাখেলা একেবারে মিটিয়া গেল। ঘটনা এবং কার্য স্বপ্নবৎ কাহারো কাহারো মনে জাগিতে লাগিল। হাসান-হোসেন মদিনা হইতে দামেস্কের নিকট পর্যন্ত আসিয়া মাবিয়ার মৃত্যুসংবাদ শ্রবণে আর নগরে প্রবেশ করিলেন না। মাবিয়ার জন্য অনেক দুঃখ প্রকাশ করিয়া পুনর্বার মদিনায় যাত্রা করিলেন। এজিদ্ দামেস্ক রাজসিংহাসনে উপবেশন করিলেন। সত্যবাদী, নিরপেক্ষ ও ধার্মিক মহাত্মাগণ; যাঁহারা হযরত মাবিয়ার স্বপক্ষ ছিলেন, তাঁহাদের হৃদয় কাঁপিয়া উঠিল। আমরাও বিষাদ-সিন্ধুর তটে আসিলাম।
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →