Main menu

যে শিক্ষার ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে তার দ্বারা জাতীয় জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবার ক্ষমতা লাভ করা যাবে না – মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা (১৯৭০)

মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা ১৯৭০ সালে ঢাকা ভার্সিটির কনভোকেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে এই ভাষণটা দিতেছিলেন। ১৯৪৮ থিকা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কনভোকেশন লেকচারে উনিই একমাত্র লোক, যিনি বাংলায় ভাষণ দিছিলেন। ভাষণটা ১৯৮৯ সালে ঢাকা ভার্সিটি থিকা ছাপানো “The Convocation Speeches volume 2” বই থিকা নেয়া হইছে।

 

জনাব উপ-চ্যান্সেলার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষয়িত্রীবর্গ, স্নেহাস্পদ ছাত্র ও ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ভদ্রমহিলা ও সুধীমন্ডলী,

আজ আপনাদের সমাবর্তন উৎসবে আমাকে আহবান করে অত্যন্ত আনন্দ দিয়েছেন ও তার জন্য আমি নিরতিশয় কৃতজ্ঞ। দেশের এই বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অল্প কিছুদিন পূর্বে যে উন্মত্ততার আস্ফালন দেখে ছিলাম তাতে সারা দেশের বুদ্ধিজীবীসমাজ প্রমাদ গুণেছিলেন। ভীতির রাজত্ব এমন প্রবলভাবে শিক্ষায়তনগুলিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে আজ এই সমাবর্তন উৎসবে সম্মিলিত সম্প্রদায়ের সামনে দাঁড়িয়ে এখনও ভয় হয়, অতীতের সেই যুগের সত্যই অবসান ঘটল কিনা, আবার আশার নুতন আলোকশিখার যে কিরণমালা নৈরাশ্যের কুহেলিকা ভেদ করে আসছে, তা সত্যি স্থিতিশীল হয়ে দেশকে প্লাবিত করবে কিনা। তবে ভরসা এইটুকু যে বর্তমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার, আমার ছাত্রোপম, উপ-চ্যান্সলার সাহেব যে আদর্শে উদ্বুদ্ধ, সে আদর্শের অনুসরণ করা হলে দেশে আবার জ্ঞানের নুতন আলোক প্রবাহ চতুর্দিকে বিকিরিত হবে। আজ তারই ইঙ্গিত পাচ্ছি। শক্তিশালী শাদ্দাদের অশুভ শক্তিও এককালে ধ্বংস হয়েছে। তবে নুতন পরিস্থিতির মধ্যে পুরাতনের ছোঁয়াচ থেকে যায়, এই নিদারুণ সত্যকে মনে রেখে বর্তমানে অগ্রসর হতে হবে। আমারা আশা আছে বর্তমানের চিন্তাধারা অবাধ প্রবাহ নুতন আশার সূর্যের পথে অবহেলার কুহেলা স্থায়ী হবে না, সে কথার আশ্বাস জনাব চ্যান্সেলার সাহেবের সেদিনের বাণী বহন করছে, তার জন্যও তাঁকে জানাই অভিনন্দন। তার আশ্বাস সফল হোক, দেশে আবার হাসি ও আনন্দের উৎস প্রখর দীপ্তি দিয়ে ভবিষৎকে উজ্জ্বল ও আনন্দময় করে তুলুক, আজ আমি এই প্রার্থনাই করি।

মানুষের চিন্তাধারাকে এখানে শৃঙ্খলিত করবার চেষ্টা চলেছিল দীর্ঘকাল ধরে। একনায়কভিত্তিক শাসনের এইটাই সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক; পরমতসহিঞ্চুতা এতে একেবারেই আসে না, তার ফলে যারা স্বাধীন চিন্তা করতে সমর্থ তারা শাসকদের অত্যাচারে নিপীড়িত হয়ে তাদের কবল থেকে সরে পড়েছে, যারা তা পারে নি তারা সেই নায়কের সন্তুষ্টির জন্য তাঁর চিন্তাকে রূপ দিবার চেষ্টায় অনর্থ সৃষ্টি করেছে। এমতাবস্থায় আমরা চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অনেককেই হারিয়েছি। পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন এবং তাতে স্থিতিশীলতা না এলে তাঁদের মত স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের ফিরে পাবার আশা অল্পই কাজেই এখানে যে নুতন চিন্তাধারা বিকাশ ঘটেছে তার স্থিতিশীলতা নিশ্চয়তা পাওয়া দরকার। এ বিষয়ে উপ-চ্যান্সেলার সাহেবকে কিছু বলবার প্রয়োজন নেই, তিনি এ বিষয়টি নিজেই ভালভাবে উপলব্ধি করেছেন। আমি কেবলমাত্র এর প্রয়োজনের কথাটিই প্রাথমিক প্রয়োজনের ইঙ্গিতরূপে উল্লেখ করলাম।

আমরা আজ এক রাজনৈতিক জীবনের সন্ধিক্ষণে উপস্থিত। সারা দেশে সকলের মধ্যেই বিপুল চাঞ্চল্য প্রকটিত হয়ে উঠেছে। সামরিক প্রভাবজনিত দেশের পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি। কোনো দেশেই সামরিক শাসনের অধীনে সাফল্য অর্জন করতে পারে না, কারণ সামরিক শক্তি দেশের শাসন পরিচালনার জন্য নহে। তাদের প্রয়োজন দেশরক্ষার জন্য এবং তাদের শিক্ষা ও প্রস্তুতি ঐ উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। তাই সামরিক শাসন কিংবা ঐ গোত্রীয় একনায়কত্ব দেশে দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বহুবিধ দুর্নীতি দেশরক্ষাসহ বিভিন্ন বিভাগে অনুপ্রবেশ করে, দেশের দুরবস্থার অবধি থাকে না। তাই দল ও মত নির্বিশেষে সকলের ঐকান্তিক চেষ্টা চালান দরকার, যাতে সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত হতে পারে।

আমাদের দেশে শিক্ষার সংস্কার যে প্রয়োজন সে কথার স্বীকৃতি প্রত্যেকেই দিয়েছে। দেশের লোক যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা শিক্ষা ক্ষেত্রে চেয়েছিল তারা তা আজও পায় নি। যে শিক্ষার ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে তার দ্বারা জাতীয় জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবার ক্ষমতা লাভ করা যাবে না। নুতন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সারা দেশ উন্মুখ হয়ে আছে, কিন্তু সে পরিবর্তনের পরিকল্পনা এখনও প্রস্তুত হ’ল না। বিশ্বের ইতিহাস আলোচনায় এ সম্বন্ধে কতকগুলি মৌলিক ব্যবহার কথা মনে উদয় হয়। যেসকল দেশ আজ শিল্প ও বিজ্ঞানে উন্নত তাদের সকলের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করে পরিশেষের স্তর পর্যন্ত শিক্ষার বাহন মাতৃভাষায় রেখেছে। আমরা আশা করেছিলাম বিভাগোত্তর দেশে এ বিষয় আমরা সর্বাগ্রাগামী হয়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও যাবতীয় অন্য বিষয়ে শিক্ষা ত্বরান্বিত করতে পারব। অবিভক্ত বাংলায় এর প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পাদিত হয়েছে ১৯৩৯ সালে, এবং আমি নিজে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেছি বাংলার মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষা শেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে তারা উত্তমতর ভাবে বিজ্ঞানের শিক্ষা উন্নততর মানে গ্রহণ করতে সমর্থ হয়। ১৯৩৯শের পর প্রায় এক দশক অতীত হলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। আজ এই ২২ বৎসর ধরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষিত ছাত্রদল নূতন শক্তি ও সামথ্য নিয়ে যদি এগিয়ে আসত তবে তারা নিশ্চিতভাবে দেশের নেতৃত্বের ভার সুযোগ্য হস্তে গ্রহণ করতে পারত। Continue reading

সোলায়মান কবীর ঋষি

এক. 

শিল্পী সোলায়মান কবীর ঋষির জন্মদিন আজকে। তিনি মারা গেছেন কয়েকবছর হইল। যিনি ইতমধ্যে মৃত, তার জন্মের দিনটি পালন করা এক উদ্ভট আনন্দের ব্যাপার। আমার সেই আনন্দ এখন হচ্ছে।

আমি পরবর্তীতে ঋষি ভাইয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়া একটু ভাবছি। আমার মনে হইছে নিয়মিত কড়া নেশাপাতি করার খারাপ অভ্যাসটাই তারে খায়া দিছিলো।

বাকি সব ঠিকই ছিল।

অনেকেই বলেন, বাংলাদেশে চিত্রকলা চর্চার যে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা, সেইখানে ঋষি অত্যন্ত বেমানান। আরো দশজন ‘স্বাভাবিক-শিল্পী’র সাথে একযোগে সমাজের সামনে উপস্থিত হওয়াটা কোনোভাবেই তাকে দিয়ে হইত না।

কিন্তু আমি এরকম মনে করি না। বরং যারা এইভাবে চিন্তা করে, তারা নন-ক্রিয়েটিভ সিস্টেমের কাছে অসচেতনে হইলেও মাথা বিক্রি কইরা দিছেন বলে আমি মনে করি। শিল্পকর্মের সাথে সমাজের সম্পর্ক নির্মাণের পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রেও শিল্পী ক্রিয়েটিভ হইতে পারেন। একই মূখস্থ ব্যবস্থায় ঘটনা না ঘটাইলে কিছুই হবে না, এমন চিন্তা মূলত একটা শিল্পমারা রাজনৈতিক চিন্তা। প্রতিষ্ঠানগুলিও চায় আমরা এমন মরা-মরা হতাশ চিন্তাই করি।

ঋষিভাই এমনভাবে ভাবতেন না। তিনি স্বচ্ছন্দে ইম্প্রোভাইজ করতেন। ইডিওলজিকাল কোনো চরমপন্থাও তার ছিল না। আমি পরবর্তীতে তার অনেক কাজের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছি বইলা মনে করি।

আমি তাঁকে মিস করি।

২৬/০৪/২০২৩

Continue reading

লবএস্টার এর কথা ভাবেন [Consider the Lobster]

[এইটা ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের একটা আর্টিকেল, যেটা পোত্থম বার ছাপা হইছিলো ২০০৪ সালে, খাবার দাবার সম্পর্কিত ম্যাগাজিন Gourmet এ। ম্যাগাজিনে ছাপার সময় এডিটর এটায় বেশকিছু ভাইটাল এডিটিং ঘটাইছেন। আমরা তরজমার জন্য ইউজ করসি ২০০৫ সালে Little, Brown and Company নামক পাবলিকেশন থেকা ছাপানো “Consider the Lobster and other Essays” বইতে পাওয়া ভার্শন’টা। এই ভার্শন’টা ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের নিজের কন্ঠে বক্তিতা আকারে-ও পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। 

নাম্বারিং করা ফুটনোট’গুলা লেখকের নিজের, আর অন্যান্য থার্ড ব্র্যাকেট’আলা অংশগুলা বাংলা তরজমায় অ্যাড করা।]

এক মস্ত বড় মচ্ছব, যেইটার জমজমাট মার্কেটিং করা হয়, আর যেইটার একটা কড়া গন্ধ আছে, বলতেছি মেইন লবএস্টার ফেস্টিভাল [Maine Lobster Festival] এর কথা, তার আয়োজন করা হয় পোত্যেক বছর জুলাইয়ের শেষে [মেইন] রাজ্যের মিডকোস্ট এলাকায়, অর্থাৎ পেনোবেস্কট বে [Penobskot Bay] ‘র থেকা পচ্চিম সাইডে, মেইনের লবএস্টার ইন্ডাস্টি’র মেরুদন্ড যেখানে। মিডকোস্ট বলতে বুঝায় আউল’স হেড থেকা দক্ষিনে থমাস্টন পর্যন্ত আর উত্তরে বেলফাস্ট পর্যন্ত। (আসলে, এটা হয়তো বাক্সপোর্ট পর্যন্ত-ই বিস্তিত, কিন্তু আমরা কোনো সময় ১ নাম্বার রুট দিয়া বেলফাস্ট থেকা আর উত্তরের দিকে যাইতে পারি নাই, কেননা গরম কালে টেরাফিকের অবস্থা থাকে, বুঝতেই পারতেছেন, খুবি জঘন্য।) এ অঞ্চলের বড়ো দুই কমিউনিটি ক্যামডেনে থাকে, যারা অনেক আগের থেকাই পয়শা’আলা, যাদের আছে ইয়টে ভরা হারবার, আর ফাইভ-এস্টার রেস্টুরেন্ট, উচ্চমানের বিএন্ডবি, আর এ অঞ্চলে আছে রকল্যান্ড, যেটা একটা পুরাতন ফিশিং টাউন, এখানেই পোত্যেক সামারে এই মচ্ছবের আয়োজন হয় ঐতিহাসিক হারবার পার্কে সমুদ্রের পাড়ের সাথে ঘেশে।[১] 

পর্যটন আর লবএস্টার হইতেছে মিডকোস্ট এলাকার দুই পোরধান শিল্প, আর এ দুইটাই গরম-ওয়েদারের দান, আর মেইন লবএস্টার ফেস্টিভাল যতটা না এ দুই ইন্ডাস্টির মিলন, তারচেয়ে বেশি একটা ইচ্ছা করে ঘটানো সংঘর্ষ, যেটার মধ্যে আনন্দ আছে, মুনাফা আছে এবং যেটা লাউড। এই গোরমেট আর্টিকেল’টার জন্য নির্ধারিত বিষয় হইতেছে ৫৬তম বার্ষিক এমএলএফ, যেটা পালন করা হইছে ২০০৩ সালের জুলাইয়ের ৩০ থেকা আগস্টের ৩ তারিখ পর্যন্ত, যার অফিশিয়াল থিম ছিলো “লাইট-হাউজেস, লাফটার অ্যান্ড লবএস্টার”সর্বমোট উপস্থিতির সংখ্যা ছিলো ১,০০,০০০ যাদের একটা অংশ আসছিলো জুনে সিএনএন ‘এর একটা ন্যাশেনাল পোগ্রামে ফুড-অ্যান্ড-ওয়াইন ম্যাগাজিনের একজন সিনিয়র এডিটরের তারিফ শুইনা, যিনি কইছিলেন যে দুনিয়ার ফুড-থিমের মচ্ছব ‘গুলার মধ্যে এমএলএফ সেরা’দের কাতারে থাকবে। ২০০৩ ফেস্টিভালের হাইলাইটস: লি অ্যান ওম্যাক এবং অরলিন্সের কনসার্ট, বার্ষিক মেইন সমুদ্র-দেবি সুন্দরি পোতিযোগিতা, শনিবারের বিগ পেরেড, রবিবারের উইলিয়াম জি. অ্যাটউড মেমোরিয়াল কেরেট রেইস (crate race), বার্ষিক এমেচার রান্না পোতিযোগিতা, কার্নিভাল রাইড আর মিডওয়ে এট্রাকশন আর খাবারের বুথ, আর এমএলএফ ‘এর মূল ইটিং টেন্ট, যেখানে ২৫,০০০ পাউন্ডেরও বেশি টাটকা মেইন লবএস্টার রান্না করা হয় এবং খাওয়া হয়, এখানে আছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লবএস্টার কুকার, উত্তর দিকের গেটের কাছে এই তাঁবুর অবস্থান। এছাড়াও পাওয়া যায় লবএস্টার রোল, লবএস্টার টার্নওভার, লবএস্টার সৌতে, ডাউন ইস্ট লবএস্টার সালাদ, লবএস্টার বিস্ক, লবএস্টার রেভিওলি, এবং ডিপ-ফ্রাইড লবএস্টার ডামপলিং। লবএস্টার থারমিডর পাওয়া যাবে দা বেলাক পার্ল নামে একটা বসে খাওয়ার রেস্টুরেন্টে, যেটার অবস্থান হারবার পার্কের উত্তর-পচ্চিমে জাহাজঘাটে। মেইন লবএস্টার পোচারনা পরিষদের এস্পন্সরে একটা বড়সড় বুথ বানানো হইছে, যেখানে বিনামুল্যে রেসিপি, খাওয়ার টিপস এবং লবএস্টার নিয়ে মজার তথ্য দেয়া লিফলেট পাওয়া যায়। শুক্রবারের এমেচার রান্না পোতিযোগিতা’র যিনি বিজয়ী, তিনি রান্না করসেন সেফ্রন লবএস্টার রেমেকিন, যেটার রেসিপি ডাউনলোড করতে পারবেন www.mainelobsterfestival.com থেকে। আরো আছে লবএস্টার টি-শার্ট এবং লবএস্টার পুতুল, ফু দিয়া ফুলানোর লবএস্টার খেলনা, এবং লাল রঙের বড় বড় ক্ল [claw] ’ওয়ালা লবএস্টারের মুর্তি, যার ক্ল’গুলা নড়তে থাকে ইস্পিরিং এর সাহায্যে। এই পোতিবেদক এইগুলা সব দেখসেন, সাথে ছিলো তার গালফেরেন্ড, এবং মা-বাপ দুইজনও ছিলো, মা-বাপের মধ্যে একজন মেইনেই জন্মাইছেন ও বড় হইছেন, যদিও সেটা একবারে উত্তরের দিকে, সমুদ্র থেকা দূরে, যেটা আলু চাষের এলাকা, এবং মিডকোস্টের টুরিস্ট দুনিয়া থেকা আলাদা।[২]

Continue reading

ন্যারেটিভের বাইরে সিনামার কি কোনো ফিউচার আছে? – রজার এবার্ট (পার্ট ২)

পার্ট ১ ।।

নতুন সিনামার এই পরিবর্তন, এক দিক দিয়া বেশ উপকারি। এই পরিবর্তন এমন এক ফিল্ম জেনারেশন তৈরি করছে যারা নতুন ফিল্মমেকারদের প্রতি ঝুঁকছে, নিজেদের ছাড়াইয়া যাইতে চাওয়া নতুন অভিনেতা এবং কমার্শিয়াল এপ্রোচ থেকে সরে আসা নতুন গল্প বলা স্ক্রিপ্টরাইটারদের প্রতি ইন্টারেস্টেড। এইটা নতুনদের জন্য হলিউড সিস্টেমের দরজা খুলে দিসেঃ সমসাময়িক সেরা ফিল্মমেকারদের মধ্যে রইসে অল্টম্যান, স্করসেইজি, ফ্রান্সিস কপোলা, মাজুরস্কি, স্টিভেন স্পিলবার্গ, জর্জ লুকাস ও জন এভিল্ডসন—১০ বছর আগেও এদের কেউ চিনতো না কিংবা ব্যবসাসফল বলে বিবেচিত হইতো না।

ডেনিস হপারের ‘ইজি রাইডার’-এর ব্যাপক সাফল্যকে ধরা হয় পুরান হলিউডের থেকে নতুন হলিউডের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্রেকিং পয়েন্ট। লোকেশনে গিয়ে ৫ লাখ ডলারের কমে সিনামা বানায়া ৪০ মিলিয়নের উপ্রে আয় করার মানে হইতেছে আগের সব নিয়ম নতুন করে লিখতে হইছে। আমার নিজের ধারণা ‘ইজি রাইডার’ হইতেছে এমন এক বিকার, যার শুরু নাই, শেষ নাই, আছে শুধু দারুণ বিনোদনমূলক মাঝের অংশ। এই সিনামাই জ্যাক নিকলসনকে প্রথমবারের মতো নন-এক্সপ্লয়টেশন সিনামার দর্শকদের সাথে পরিচয় করায় দিসে। ইজি রাইডার থেকে ইন্সপায়ার্ড প্রতিটা সিনামা ফেইল করছে (সেই সময় একটা কথা প্রচলিত ছিলো যে শহরের প্রতিটা প্রযোজকের ভাতিজা ক্যামেরা, বাইক আর ১ লাখ ডলার নিয়া মরুভূমিতে শ্যুট করতেছে)। ঐ সময়েই আরেকটা প্রভাবশালী সিনামা পাইসি আমরা, সম্ভবত ৬০’র দশকের সবচে গুরুত্বপূর্ণ আম্রিকান সিনামা— আর্থার পেন-এর ‘বনি এন্ড ক্লাইড’।

এই সিনামা একদম নতুন ফিল দিছিলো আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস ইন্ডাস্ট্রিরে মুগ্ধ (এবং ভীত) করছিলো। কারণ “বনি এন্ড ক্লাইড” সিনামাতে দর্শকেরা এমন কিছু পাইছিলো যা আম্রিকান সিনামা এর আগে তাদের দিতে পারে নাই। এতে অভিনয় করছিলেন ওয়ারেন বেটি, যাকে সবাই ওল্ড হলিউডমার্কা ডোরিস ডে, রক হাডসন বা অন্যান্য ফুল প্যাকেজড নায়কদের মতনই ভেবে আসছিলো এতকাল। এই সিনামা আরও প্রমাণ করছিলো যে অরিজিনাল ম্যাটারিয়েল ফ্যাশনেবল ওয়েতে ইউজ করলে ফরমুলা ফিল্ম বাদেও ‘স্টার’দের ব্যবহার করা যায়। এইটার স্ট্রাকচারও ইন্টারেস্টিং— বনি এন্ড ক্লাইড শুরু হয় ট্রাজিকমেডি স্টাইলে, এরপর ডিরেক্টর এমনচভাবে সিনামারে সাজান যে প্রতিটা হাসির পর ভায়োলেন্স আসে আরও নৃশংসভাবে। শেষমেষ সিনামাটা আর মোটেও ফানি লাগে না আর একদম শেষ সিনে ডিরেক্টর এত রক্তপাত আর যন্ত্রণা দেখাইছেন যে রোমান্টিক গ্যাংস্টারের মিথে শেষ পেরেকটা গেঁথে গেছিলো।

অভিনেতাদের দিয়া পর্ব পর্ব আকারে অনিবার্য পরাজয়ের দিকে ঠেলে নিয়া যাওয়ার এই স্ট্রাকচারটা তিনি কই খুঁজে পেয়েছিলেন? তিনি অবশ্যই ডেভিড নিউম্যান ও রবার্ট বেন্টনের চিত্রনাট্যে এরকম স্টাইল পাইছিলেন, ট্রু। কিন্তু আমার ধারণা পেন, নিউম্যান বা বেন্টন (এবং স্ক্রিপ্টে কাজ করা বেটি ও রবার্ট টাউনি) সবাই এপিসোডিক স্টাইলটা খুঁজে পাইছিলেন ত্রুফো’র জুলস এন্ড জিম সিনামা থেকে। তারা ত্রুফোরে কপি করে নাই, ত্রুফোর থেকে শিখে নিছে এবং এক দশক পরে হইলেও বনি এন্ড ক্লাইডের মাধ্যমে নিউ ওয়েভরে আম্রিকাতে নিয়া আসছে। এরপর সহজ-সরল ন্যারেটিভের সিনামা আর হলিউড স্ট্যান্ডার্ড থাকলো না। বনি এন্ড ক্লাইড ৫০ মিলিয়নের উপর আয় করছিলো। যার ফলশ্রুতি নতুন প্রজন্মের একপাল ডিরেক্টর পাইছিলো আমেরিকা। Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৬)

১১. “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”

মদিনাবাসীরা কিছুদিন এজিদের পত্র লইয়া বিশেষ আলোচনা করিলেন। সর্বসাধারণের অন্তরেই এজিদের পত্রের প্রতি ছত্র, প্রতি অক্ষর, সুতীক্ষ্ণ তীরের ন্যায় বিঁধিয়াছিল। কিছুদিন গত হইল, দামেস্কে আর কোন সংবাদ নাই। এজিদের আন্দোলন ক্রমে ক্রমে অনেক পরিমাণে কমিয়া আসিল।

মদিনাবাসীরা আপন আপন গৃহে শুইয়া আছেন, নিশা প্রায় অবসান হইয়া আসিয়াছে, এমন সময় সহসা নাকাড়ার শব্দ শুনিতে পাইয়া অগ্রে প্রান্তসীমাবাসীরা জাগিয়া উঠিলেন। ইহার সঙ্গে সঙ্গে সেই বাজনাও নিকটবর্তী হইতে লাগিল।

আবদুর রহমান দ্রুতগমন করিয়া হাসান-হোসেনের নিকট সমুদয় বৃত্তান্ত জানাইলেন। তাঁহারাও আর কালবিলম্ব না করিয়া এজিদের বিরুদ্ধে জেহাদ (ধর্মযুদ্ধ) ঘোষণা করিয়া যুদ্ধের আয়োজনে ব্যতিব্যস্ত হইলেন। মুহূর্ত মধ্যে মদিনার ঘরে ঘরে জেহাদ রবের প্রতিধ্বনি হইতে লাগিল।

মদিনার বালক, বৃদ্ধ, পূর্ণবয়স্ক সকলেই রণবেশে সুসজ্জিত হইতে লাগিলেন। নগরবাসীরা হাসান-হোসেনকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসিতেন। ঘোষণা প্রচার হইতে হইতেই সহস্রাধিক লোক কাহারো আদেশের অপেক্ষা না করিয়া যাহার যে অস্ত্র আয়ত্ত ছিল, যাহার যে অস্ত্র সংগ্রহ ছিল, যে যাহা নিকটে পাইল, তাহাই লইয়া বেগে শত্রুর উদ্দেশে ধাইয়া চলিল। তদ্দৃষ্টে এজিদের সৈন্যগণ আর অগ্রসর হইল না; গমনে ক্ষান্ত দিয়া শিবির নির্মাণে প্রবৃত্ত হইল।

হাসান ও আবদুর রহমান প্রভৃতি আত্মীয়-স্বজন সমভিব্যাহারে রওজা-মোবারকে যাইয়া হাসান প্রথমেই ঈশ্বরের উপাসনা করিলেন, “দয়াময়! আমার ধনবল, বুদ্ধিবল, সৈন্যবল কিছুই নাই। কেবল তোমার নাম ভরসা করিয়াই অসীম শত্রুপথে যাইতেছি। তুমিই সহায়, তুমিই রক্ষাকর্তা।”

সকলেই “আমিন আমিন” বলিয়া পরে নূরনবী মোহাম্মদের গুণানুবাদ করিয়া একে একে অশ্বারোহণে রাজপথে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। নগরবাসীরা ব্যগ্রতা-সহকারে তাঁহাদের চারিদিকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। বলিতে লাগিল, “আমরা বাঁচিয়া থাকিতে আপনাকে শত্রুসম্মুখে যাইতে দিব না।”

হাসান অশ্ব হইতে নামিয়া বলিলেন, “ভ্রাতৃগণ! ঈশ্বরের রাজ্যে বাস করিয়া ঈশ্বরের কার্যে জীবন শেষ করাই জীবের কর্তব্য! এ জগতে কেহ কাহারো রাজা নহে, সকলেই সেই মহাধিরাজ সর্বরাজাধিরাজ, ওয়াহ্দাহু লা শরিকালাহু! সকলেই সেই মহান্ রাজার সৃষ্ট, তাঁহার শক্তি মহান্! আমরা সেই রাজার রাজ্যের প্রজা। সাধ্যানুসারে সেই সর্বশক্তিমান, অদ্বিতীয় মহারাজের ধর্মরাজ্য রক্ষণাবেক্ষণ করাই আমাদের সর্বতোভাবে কর্তব্য এবং তাহাই আমাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। তাঁহার নামই আমাদের আশ্রয়। সেই নাম সহায় করিয়াই আমরা তাঁহার ধর্মরাজ্য রক্ষা করিব। বিধর্মী এজিদ্ নূরনবী হজরত মোহাম্মদের বিরোধী ঈশ্বরের বিরোধী পবিত্র কোরানের বিরোধী। যে কেহ ঈশ্বরের বিরোধী, আমরা তাহার বিরোধী। ঈশ্বরের প্রসাদে জয়-পরাজয় উভয়ই আমাদের মঙ্গল। ভ্রাতৃগণ! আজ আমাদের এই স্থির প্রতিজ্ঞা যে, হয় জন্মভূমির স্বাধীনতা রক্ষা করিয়া মহম্মদীয় ধর্মের উৎকর্ষ সাধন করিব, না হয় অকাতরে রক্তস্রোতে আমাদের এই অস্থায়ী দেহ খণ্ডে খণ্ডে ভাসাইয়া দিব।”

এই পর্যন্ত শুনিয়াই শ্রোতাগণ সমস্বরে “আল্লাহু আক্বার!” বলিয়া পাগলের ন্যায় কাফেরের মুণ্ডপাত করিতে ছুটিলেন।

হাসান-হোসেন ও আবদুর রহমান পুনরায় অশ্বারোহণে কিঞ্চিৎ দূর গমন করিয়া যে দৃশ্য দর্শন করিলেন, তাহাতে হাসান আর অশ্রুসম্বরণ করিতে পারিলেন না। আবদুর রহমানকে বলিলেন, “ভাই! আমি অবলাগণকে সান্ত্বনা করিয়া আসিতেছি। তোমরা যাও আর অপেক্ষা করিয়ো না।” Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →