Main menu

কবিতা ও গান: স্বর্ণকুমারী দেবী

স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫ – ১৯৩২) হইতেছেন কলোনিয়াল বাংলা-ভাষার শুরুর দিকের একজন কবি, নভেলিস্ট এবং মিউজিশিয়ান। ১৩টা নভেল এবং ৭টা নাটক বাদেও অনেক কবিতা ও গান উনি লেখছেন। ১৮৯৫ থিকা ১৯০৬ সাল পর্যন্ত “ভারতী” পত্রিকার এডিটরও ছিলেন উনি।

১৮৭৬ সালে ছাপানো উনার “দীপনির্বাণ” নভেলের কারণে উনারে ফার্স্ট বাঙালি মহিলা-নভেলিস্ট বলা হয়। [এর আগে ১৮৫২ সালে ছাপানো “ফুলমণি ও করুণার বৃত্তান্ত”-এর রাইটার হানা ক্যাথরিন মুলনেস ছিলেন সুইস।]

১৮৭৯ সালে উনার লেখা “বসন্ত উৎসব”রে “ফার্স্ট বাংলা গীতিনাট্য” হিসাবে বলা হয়। যেই ফর্মটাতে উনার ছোটভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪৫) পরে আরো কিছু “গীতিনাট্য” লেখেন।

উনার বাপের নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭ – ১৯০৫), জামাই ছিলেন ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের শুরুর দিকে নেতা জানকীনাথ ঘোষাল। উনার মেয়ে সরলা দেবী চৌধুরানী (১৮৭২ – ১৯৪৫) ইন্টেলেকচুয়াল-এক্টিভিস্ট হিসাবে পরিচিত।

আজকে থিকা আরো একশ বছরের বেশি সময় আগে, বাংলা ১৩০২ সনের কার্ত্তিক মাসে ছাপানো উনার “কবিতা ও গান” বই থিকা এই বইয়ের কবিতা ও গানগুলা বাছাই করা হইছে।

এডিটর, বাছবিচার

জানিনাত

জানিনাত ভালবাসি কিনা, শুধু এই জানি,
একটি অব্যক্তভাবে রুদ্ধ যত বাণী।
একটি পরশে দেখি অনন্ত স্বপন,
একটি পরাণে দেখি বিশ্ব নিমগন।
স্বর্গের সৌন্দৰ্য আলাে বিকাশে নয়ানে,
ঈশ্বরের প্রেমরূপ একটি বয়ানে!
আত্মায় আত্মায় হেরি মহিমা তাহার,
মঙ্গল সুন্দর সত্য অনন্দ অপার।।
দেহের সীমাতে এ যে অনন্তের বাসা,
জন্ম জন্মান্তের পুণ্য ভবিষ্যের আশা।
এই যদি ভালবাসা ভাল বাসি তবে;
অনাদরে আদরে এ চিরদিন রবে।

 

বলি শােন খুলে

হেলে বিলে, বলি শােন খুলে,
ননদী বলেছে আর আসিতে দেবে না কুলে।
গৃহেতে রাখিৰে বন্ধ,
নয়ন করিবে অন্ধ,
কালােরূপ-নিধি আর দেখিতে পাব না মূলে।
হৃদি হতে প্রেমলতা শুকায়ে ফেলিবে তুলে!

সজনি লাে, মিছে কহিছি না,
কঁদিব কি – কথা শুনে হাসিয়ে বাঁচি না !
বিশ্বে যা আনন্দ পুণ্য,
যাহা বিনা সব শূন্য,
যে নারী সে প্রেমমৰ্ম্ম না জানে, সে অতি দীনা!

আহা মরি কি বুদ্ধি ধারালাে!
দেহই বাঁধিল যেন, কেমনে বাঁধিবে মন, হ্যাঁ লাে !
হৃদয়ে হৃদয়ে আঁকা,
যে মধু মতি বাকা,
প্রাণের পরাণে পূর্ণ যে অরুপ রুপ কালাে
আহা মরি বড় ফন্দী
‘শরীর করিয়ে বন্দী
হরিবে সে জীবন-জীবন্ত প্রেম-আলাে।
ভাল সই ভাল খুব ভালাে!

জানে না কি এই দীনা রাধা,
ভুবন ঈষ্পিত রূপ শ্যামেরি হৃদয় আধা?
মুদিলেও এ নয়ান
অলে আঁখে সে বয়ান,
সে মূর্তি দর্শনে তবে কেমনে কে দিবে বাধা?
হিংসুকে সখি রে হায় !
এ প্রেম ঘুচাতে চায়;
দু মুটো বালুকা দিয়ে এ বুঝি সমুদ্র বাঁধা!
কঁদিব কি হাসি তাই, বিষাদ বিস্ময়-ধাঁধা।

Continue reading

কতো দেরি, আর দেরি নাই! – মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

[১৯৬৫ সালের ২৫শে মার্চ মন্টগোমরি’তে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এই ভাষণ দিছিলেন। সিভিল রাইটস মুভমেন্টের অংশ হিসাবে নিগ্রোদের ভোটার হিসাবে মানার দাবি’তে (যেইটা পরে ১৯৬৫ সালের জুন মাসে পাস হইছিল) সেলমা থিকা মন্টগোমরি, এই ৫৪ মাইলের একটা লং মার্চ আয়োজন করে সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্স (এসসিএলসি) এবং স্টুডেন্ট ননভায়োরেন্ট কো-অর্ডিনেটিং কমিটি (এসএনসিসি) এবং আরো কয়েকটা অর্গানাইজেশন। অইদিন ২৫ হাজার লোক আলবামার স্টেট বিল্ডিংয়ের সামনে জমায়েত হয়, কিং অইখানে এই ভাষণটা দেন। ]

মন্টগোমরি, আলা!

আমার জিগরি আর সারাজীবনের বন্ধুরা, রালফ আবারনাথী (Ralph Abernathy), আর অন্য সব বিখ্যাত আম্রিকানরা যারা এই মঞ্চে বইসা আছেন, আলবামা স্টেটের আমার বন্ধুরা আর সহকর্মীরা, আর সব স্বাধীনতাকামী মানুশেরা, যারা সারা দেশ থিকা, সারা দুনিয়া থিকা আজকে বিকালে এইখানে একসাথে হইছেন, আপনারা জানেন: গত রবিবারে, আমরা আট হাজারেরও বেশি মানুশ আলবামা’র সেলমা (Selma) থিকা একটা বিশাল হাঁটা শুরু করছিলাম। আমরা হেঁটে আসছি নির্জন উপত্যকা আর কঠিন পাহাড়গুলার ভিতর দিয়া। আমরা হেঁটে আসছি আঁকাবাঁকা হাইওয়েগুলি দিয়া আর জিরাইছি পথের পাশে পাথুরে জমিতে। আমাদের অনেকের মুখ জ্বলে গেছে গনগনা সূর্যের তাপে। আমাদের মধ্যে অনেকেরই ঘুমাইতে হইছে সত্যিকারভাবেই কাদামাটিতে। আমাদের ভিজতে হইছে বৃষ্টিতে। [অডিয়েন্স:] (বলেন) আমাদের শরীর ক্লান্ত আর আমাদের পায়ে ঘা হয়া গেছে।

কিন্তু আজকে আমি যখন আপনাদের সামনে দাঁড়াইছি আর সেই গ্রেট মার্চের কথা মনে করতেছি, আমি বলতে পারি সিস্টার পোলার্ডের (Sister Pollard) কথা – সত্তর বছর বয়সের একজন নিগ্রো মহিলা যিনি আমাদের কমিউনিটিতে থাকতেন, বাস বয়কটের সময় – আর একদিন, হাঁইটা যাওয়ার সময় তারে জিগানো হইলো, উনি বাসে উঠতে চান কিনা। আর যখন উনি জবাব দিলেন, “না,” লোকটা তারে বললো, “ঠিকাছে, আপনি কি টায়ার্ড হন নাই?” আর উনার ব্যাকরণ-না-মানা তেজ দিয়া, উনি কইলেন, “আমার ঠ্যাং টায়ার্ড হইছে, কিন্তু আমার আত্মার শান্তি আছে।” আর এই বিকালবেলায় একটা সত্যিকারভাবে আমরা বলতে পারি যে আমাদের পা’গুলা টায়ার্ড হইছে কিন্তু আমাদের আত্মায় শান্তি আছে।

অরা আমাদেরকে বলছিল আমরা এইখানে আসতে পারবো না। আর এইখানে এমন লোকও ছিল যারা বলছিল আমাদেরকে এইখানে আসতে হইলে তাদের ডেডবডি’র উপর দিয়া এইখানে আসতে হবে। কিন্তু পুরা দুনিয়া আজকে জানে যে আমরা এইখানে আসছি আর আলবামা স্টেটের পাওয়ারের সামনে আমরা আইসা দাঁড়াইছি যারা বলছিল “আমরা কাউরে আমাদের ধারে-কাছে কাউরে আসতে দিবো না!

এখন এইটা একটা একসিডেন্ট না যে আম্রিকান হিস্ট্রি’র এই গ্রেট মার্চ আলবামা’র মন্টগোমরিতে বাতিল করা হবে। জাস্ট দশ বছর আগে, এই শহরেই, নিগ্রোদের স্ট্রাগলের একটা নতুন ফিলোসফি জন্মাইছিল। এই সাউথে মন্টগোমরি হইতেছে ফার্স্ট শহর যেইখানে পুরা নিগ্রো কমিউনিটি একসাথে হইছিল আর পুরানা-দিনের জালিমদের পুরাদমে মোকাবেলা করছিল। এই স্ট্রাগলরে ভিতর দিয়া, বাসের সিট আলাদা করার নিয়মের বাইরেও কিছু জিনিস জয় করা গেছিল; একটা নতুন আইডিয়া, বন্দুকের চাইতে বা ক্লাবের চাইতে পাওয়ারফুল কিছু। নিগ্রোরা এইটা নিছে আর সারা সাউথ জুইড়া এই মহান লড়াইগুলাতে ছড়ায়া দিছে যা জাতিরে জাগায়া তুলছে , সারা দুনিয়ারে জাগায়া তুলছে।

তারপরও, দুঃখজনকভাবে, আলবামা’র মাটিতে এই ঝড়-ঝাপটার লড়াইগুলা সবসময় আমাদেরকে করতে হইছে আর জিততে হইছে। মন্টগোমরি’র পরে, মিসিসিপি’তে, আরাকানসে, জর্জিয়াতে আর অন্য জায়গাগুলাতেও বীরের মতো লড়াইগুলা ছড়ায়া পড়ছিল। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না বার্মিংহামে বিভাজনের বিশাল মূর্তি আম্রিকার বিবেকরে রক্তাক্ত করতে শুরু করছিল।

শাদা আম্রিকা বার্মিংহ্যামের ঘটনা দিয়া গভীরভাবে জাইগা উঠছিল কারণ সে দেখছিল নিগ্রোদের পুরা কমিউনিটি কিভাবে সন্ত্রাস ও বর্বরতার বিরুদ্ধে তাদের রাজকীয় অবজ্ঞা আর বীরত্বপূর্ণ সাহস দিয়া রুখে দাঁড়াইছিলো। আর ডেমোক্রেসির স্পিরিটের এই কুয়া থিকা, এই জাতি কংগ্রেসরে বাধ্য করছে আইন বানাইতে এই আশাতে যে এইটা বার্মিংহ্যামের দাগ মুইছা দিবে। ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টস নিগ্রোদেরকে তাদের প্রাপ্য মর্যাদার কিছু অংশ দিছে কিন্তু কোন ভোট ছাড়া এইটা হইতেছে শক্তি ছাড়া মর্যাদা।

আরো একবারের মতন নন-ভায়োলেন্ট আন্দোলনরে তলোয়ার খাপ থিকা বাইর করছি আমরা, আর আরো একবারের মতন বিপদের মোকাবেলায় একটা পুরা কমিউনিটি একসাথে ঘুরে দাঁড়ািইছিল। আরো একবার মরতে-থাকা শাসনের বর্বরতা চিল্লায়া উঠছিল সারা দেশে। যদিও সেলমা, আলবামা মানুশের কনশাসনেসের একটা শাইনিং মোমেন্ট হয়া ছিল। যদি আম্রিকার বাজে দিকটা অন্ধকার রাস্তায় ওত পাইতা থাকে, আম্রিকার ভালো দিকটা সারা জাতির মধ্যে জাইগা উঠছিলো তারে পার হওয়ার লাইগা। আম্রিকান হিস্ট্রিতে এর চাইতে সম্মানের আর অনুপ্রেরণার এইরকম কোন একটা মোমেন্ট ছিল না যেইখানে সেলমা’তে একতাবদ্ধ নিগ্রোদের সাথে পাদ্রীদের মিছিল আর প্রতিটা রেইসের সাধারণ যেইভাবে বিশ্বাসের সাথে বিপদের মোকাবেলা করছে।

খারাপ আর ভালোর লড়াইটা সংকুচিত হয়া আসছিল সেলমা’র এই ছোট কমিউনিটিতে ম্যাসিভ পাওয়ার তৈরি করছিল পুরা জাতি’রে ঘুরায়া দিছিলো নতুন একটা পথে। একজন প্রেসিডেন্ট যিনি দক্ষিণে জন্মাইছেন তার সেই সেন্সিটিবিটি আছে এই দেশের ইচ্ছারে ফিল করতে পারার আর একটা ভাষণে যেইটা হিস্ট্রিতে থাইকা যাবে হিউম্যান রাইটসের জন্য সবচে প্যাশোনেট আবেদন হিসাবে যা কোন প্রেসিডেন্টই করেন নাই আমাদের জাতির কাছে, উনি আবেদন জানাইছেন ফেডারেল গর্ভমেন্টের কাছে শত-বছরের পুরানা এই ক্ষয়টারে বন্ধ করার জন্য। প্রেসিডেন্ট জনসন খুব ঠিকভাবে নিগ্রোদের সাহসের প্রশংসা করছেন জাতির কনশাসনেসরে জাগায়া তোলার জন্য।

আমাদের দিক থিকা সেইসব শাদা আম্রিকানদেরকে আমাদের মন থিকা রেসপেক্ট জানাইতে হবে যারা কুৎসিত রীনি-নীতি আর সুবিধার বিপরীতে তাদের গণতান্ত্রিক ট্রাডিশনরে জিয়াইয়া রাখছেন আর আগায়া আইসা আমাদের হাতগুলা ধরছেন। মন্টিগোমরি থিকা বার্মিংহ্যাম, বার্মিংহ্যাম থিকা সেলমা, সেলমা থিকা মন্টগোমরি, ক্ষতগুলার একটা ট্রেইল আর যা বেশিরভাগ সময়ই ছিল রক্তাক্ত, এখন এইটা অন্ধকার থিকা বাইর হয়া আসা একটা মহাসড়ক হয়া উঠছে। আলবামা চেষ্টা করছে শয়তানরে পোষ মানাইতে আর রুখে দিতে, কিন্তু শয়তান দমবন্ধ মৃত্যুর মতো ঘুইরা বেড়াইতেছে এই স্টেইটের ধুলা-ভরা পথে আর রাস্তায়। এই কারণে আমি আজকে বিকালে আপনাদের সামনে দাঁড়াইছি এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়া যে, জাতি-ভেদ মরার অবস্থায় আছে আলবামা’তে, আর একমাত্র অনিশ্চিত ব্যাপার হইতেছে জাতি-ভেদকারী’রা আর ওয়ালেস জানাজাটারে কতোটা কস্টলি কইরা তুলতে পারে।

Continue reading

গনতন্ত্রের বুনিয়াদি ঘাপলা

This entry is part 5 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

‘শাম্ম, মানবিক মর্জাদা আর ইনছাফ’, এই নিশান উড়াইতে তো দেখছেন আপনারা, নাকি? এই নিশান জারা উড়ায় তাগো বানানটা আমার থিকা একটু জুদা, তাই আমারটা অচেনা লাগতে পারে; তারা কন এমন: সাম্য, মানবিক মর্জাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার [আমার হরফে ‘য’ নাই বইলা ওনাদের ঢঙে লিখতে চাইয়াও ‘মর্জাদা’ লিখতে হইলো!]।

মানে হইলো, ওনারা এইগুলা চান; ভালো তো! আমি তো আবার ছিনিকেল বা ফুটাতালাশি, তাই এইটাতেও কিছু ঘাপলা দেখি আমি! কেমন? পড়েন নিচে।

বাংলায় দেখেন, ‘অবিচার’ মানে ইংরাজির ‘ইনজাস্টিস’, আর জাস্টিস হইলো ‘বিচার’, তাইলে বিচারের আগে ‘ন্যায়’ কেন লাগান ওনারা? খোদা মালুম! ওনাদের তরিকায় ভাবলে ‘বিচার’ অর্থ আশলে ‘অবিচার/ইনজাস্টিস’, তার উল্টা হইলো ‘ন্যায়বিচার’!

না, গেরামার/কানুন লইয়া আমার অতো মাথাব্যথা নাই, আমি আমজনতার বাংলার পোরতি ওনাদের নাক-ছিটকানির ব্যাপারটা দেখাইতে চাইতেছি; ‘দেশে বিচার-আচার নাই’, আমজনতার এই কথায় ওনারা হয়তো বোঝেন, ‘দেশ জাস্টিসে ভরা’ কইতেছে আমজনতা! ওদিকে, ইনছাফ শব্দে তো অনেক এলার্জি অনেকেরই!

আবার, ‘শামাজিক ন্যায়বিচার’ কেন কইতে হয়? জিনিশটা শমাজের বাইরেও কোথাও থাকার শম্ভাবনা দেইখা কি ওনারা জে শমাজের ইনছাফ/ন্যায়বিচারের কথা কইতেছেন, শেইটা জানান দিলেন!? আবারো, খোদা মালুম!

ওদিকে, শাম্ম/সাম্য/শমতা আর মানবিক মর্জাদা কেন লাগতেছে ঐ নিশানে! ওনাদের এই শাম্ম মনে হয় লিগাল নজর অর্থে ছেরেফ, মানে মার্ক্সের কাচি দিয়া ধনির ধনদৌলত ছাইটা শবাইরে শমান করার কথা কইতেছেন না মনে হয়। এখন কন তো, লিগাল শাম্ম আর মানবিক মর্জাদা বাদেও ‘ন্যায়বিচার/ইনছাফ কি হইতে পারে? মানে, আমরা কি এমনে কইতে পারি: অমুক শমাজে লিগাল শাম্ম বা মানবিক মর্জাদা নাই, কিন্তু বেশুমার ইনছাফ!? তা না পারলে দেখতেছি, ওনারা অতোগুলা শব্দে জা কইতে চাইতেছেন তা আশলে ‘ইনছাফ/ন্যায়বিচার’–এই একটা শব্দেই কইয়া ফেলা জায়! ওগুলা ইনছাফের শর্ত, নিশানা, ওগুলা নাই মানে ইনছাফও নাই!

কিন্তু এগুলার একদম বাইরে, আশল আফছোসের ব্যাপার হইলো, আমার এই আলাপটা হুদাই আলাপ, কেননা, ঐ নিশান উড়াইয়া ওনারা বিচার বা অবিচার বা শাম্ম বা মানবিক মর্জাদা–এগুলার কিছুই কইতেছেন না! ঐ নিশান উড়াইয়া ওনারা আশলে আওয়ামি/বাকশালরে একটা খবর দিতেছেন, জে, ‘আমরা মুক্তিজুদ্ধের পক্ষের লোক’! আর আমজনতারে খবর দিতেছেন জে, ‘আমরা কিন্তু বাকশাল না’! ভাইবা দেখেন, কতোটা মস্ত ধোকাবাজি! ঐ নিশান নাকি বাংলাদেশের মুক্তিজুদ্ধের ইশতেহার/এলানে আছিল; কিন্তু এইটা বাকশাল কয় না, হয়তো ‘জয় বাংলা’ কইয়া আর টাইম পায় না; তাইলে ‘শাম্ম, মানবিক মর্জাদা এবং শামাজিক ন্যায়বিচার’ কইয়া খুব আরামেই নিজেদের মুক্তিজুদ্ধের পক্ষের লোক দাবি করা গেল, বাকশাল না হবার দাবিও করা গেল!

ওহ্ ছরি, আমার এই লেখাটা পুতিন, রাশিয়া, ইউকেরেন ইত্তাদি লইয়া, অথচ কই কই ঘুরতেছি!

তবে, উপ্রের পুরাটাই বেহুদা আলাপ না, ইনছাফের আলাপ লাগবে আবার! কেন লাগবে? আরেকটা পোশ্ন দিয়া শেইটা বোঝার চেশ্টা চালাই একটু!

মানে, ছিভিলাইজেশন, ছিভিল, ছিভিলাইজড, শব্ভ–এই শব্দগুলা তো জানেন আপনারা, কিন্তু কারে কন ছিভিলাইজেন? ছিভিলাইজড পিপল কইলে কি বুঝবো আমরা?

বহু কিছিমের অর্থ পাইবেন ছিভিলাইজেশনের; ধরেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি’ নামে একটা হুলাহুলি এক জামানায় ঢাকায় হইছিলো, ঐটা আশলে ছিভিলাইজড হইয়া ওঠারই কোশেশ আছিলো! বা ধরেন, বিগ্গান বা হুমায়ুন আজাদেরা জে ‘কুশংস্কার’, মদ্ধজুগ থিকা বাইরাইতে চাইছেন, ঐগুলাও ছিভিলাইজেশনের আলাপই! বা ধরেন, পিরামিড বা রোমান কংকিরিট বা মেছোপটেমিয়ার কুনিফর্ম লেখালেখি বা ১/২/৩ গুনতে পারা বা কাচা গোশত খাবার বদলে রাইন্ধা খাওয়া বা লিবারাল ডেমোক্রেসি–এগুলা শবই ছিভিলাইজড হবার কোশেশ, মানে ছিভিলাইজেশনের তারিফ বা ডেফিনিশনে এগুলা ধরে লোকে!

কিন্তু আমার বিবেচনায় ছিভিলাইজেশনের আলাপ আশলে ইনছাফের আলাপ! এখন ধরেন, আন্দামানে বা আমাজনে বা আফরিকায় এমন এমন শমাজ আছে জেইখানে ইনছাফের আলাপটাই বাতিল! মানে ইনছাফের আলাপ কেবল তখনই করা শম্ভব জখন জুলুম এবং গোলামির আইডিয়া পয়দা হইছে শমাজে! আর জুলুম এবং গোলামির লগে ডাইরেক রিশতা হইলো জমির পেরাইভেট মালিকানা, ছারপেলাস আর তার ডাকাতির; ঐ ডাকাতির জবাব দিতে পারে জনতা, তাই দরকার ‘ল এন্ড অর্ডার, এমনি কদমে কদমে আগাইয়া রাশ্টো তার ছুরত পায়। এর মানে আশলে এই জে, ইনছাফের আলাপ দুনিয়ায় রাশ্টো পয়দা হবার পরের আলাপ, জুলুম আর গোলামির ভিতর থাকা জনতা রাশ্টের লগে বলে না পাইরা ছিস্টেমের ভিতর দিয়াই গোলামি আর জুলুম মিনিমাম রাখতে চাইতেছে, ঐ চাওয়ারই থিয়োরেটিকেল চেহারাছুরতকেই আমরা হয়তো ইনছাফ হিশাবে চিনি! ওদিকে, রাশ্টোও ইতিহাশের কোন একটা পাটে ইনছাফের আইডিয়া নিজের ভিতর ঢুকাইয়া লইছে; লইছে কারন, এইটা দিয়া তার আদি বাশনা গোপন রাখার পাশাপাশি ইনছাফ ডেলিভারি দেবার বয়ানের ভিতর দিয়া নিজের লেজিটিমেছি দাবি করতে পারলো, জনতার এজাজত পাওয়া আরেকটু শোজা হইয়া উঠলো। রাশ্টের আগে জুলুম এবং গোলামির আইডিয়া এতোই মিনিমাল মনে হয় জে, ইনছাফের আলাপের দরকার খুব মালুম হয় না! মানে, কইতে চাইলাম, রাশ্টো পয়দা হবার পরে জুলুম আর মস্ত গোলামির ভিতর মানুশের থাকতে হইতেছে এবং এই জুলুম আর গোলামি থিকা আজাদির জেই লড়াই, তারই নাম ইনছাফের আলাপ এবং ঐটাই ছিভিলাইজেশনের আলাপ। Continue reading

বাছবিচার আলাপ (৫): গরিব ও আমির

বাছবিচারে আলাপ কন্টিনিউ করতেছি আমরা। এই আলাপটা করছিলাম মার্চ মাসের ১৮ তারিখে (২০২২)। আগের আলাপগুলার লিংকও এই পোস্টের নিচে পাইবেন।

ইব্রাকর ঝিল্লী:
গরিব কি আমাদের এইখানে একটা জাত হিসাবে আছে কিনা? সোশ্যাল মবিলিটি কম থাকার কারণে। মানে, গরিবের কাজকাম কি গরিবরে গরিব বানায়া রাখে, নাকি গরিবরা আন্ডার-পেইড? গরিবরে আমরা কম পয়সা দেই? রিকশা চালানো মানেই কি গরিব? এইরকম একটা ব্যাপার হয়া আছে, যেহেতু সে রিকশা চালায়, ও তো আসলে কম টাকাই পাবে। ওর তো এইগুলা, এইগুলা দরকার নাই। ওর তো ভালো খাওয়ার দরকার নাই।… আসলেই কি জিনিসটা এইরকমের নাকি রিকশাওলাদেরও কিছু পয়সা থাকার দরকার আছে? কিছু পয়সা পাইলে সমস্যা নাই। আমরা দেখছি, বাইরের দেশেও আছে যে, ছোট ছোট কাজ করতেছে, কিন্তু সেইটার একটা ক্রাফটসম্যানশিপের কারণে সে ভালোই পয়সা পাইতেছে। আমাদের কি এইরকমের রিকশাওলা হয়া বা কৃষক হইয়া এইরকমের সুযোগগুলা কইমা যাইতেছে কিনা। এইটা একটা কনসার্নের জায়গা।

 

রক মনু: 
সোশাল মবিলিটি বলতে আমরা কি বুঝবো? এক পুরুষে গরিব থেকে ধনী হওয়া, সিফাত যেইটা বললেন জাত অর্থে না, পয়সার অর্থে, আমরা যদি এক পুুরুষে গরিব থেকে ধনী হওয়াটাকে চাই, এক পুরুষে ধনী হওয়াটাকে না চাইবো কেন? … অইরকম আনলিমিটেড সম্পদ ক্রিয়েট হয় কিনা যাতে ধনীরা ধনী অবস্থায় থাকবে তারপরও গরিবরা ধনী হইতে থাকবে।… এই পরিমাণ সম্পত্তি সোসাইটি আসলে ক্রিয়েট করে কিনা?
এখন এইটা গ্লোবালি দেখা যায় যে কোথাও কোথাও করে। কোন কোন দেশে। কিন্তু সেইখানে যেইটা বিচারের বিষয়। এইখানে মার্কসিজমের কোর একটা আইডিয়া নিয়া আমার কোশ্চেন। যেইটার আমি ভালো জবাব জানি না। বা পাই নাই। সেইটা হলো যে… লেবার যদি ভ্যালু ক্রিয়েট করে, তাইলে বেচার ভিতর দিয়া কোন ম্যানিপুলেশন হয় কিনা? … মার্কসে সবকিছু হইতেছে লেবার ক্রিয়েট করতেছে। বেচার ভিতর দিয়া যে আসলে বায়ার, সে ম্যানিপুলেটেড হইতে পারে না, মার্কসের আইডিয়ায়। …

 

ইমরুল হাসান:
গরিব বলতে আমরা আসলে একটা ইকনোমিক সিচুয়েশনরে বুঝি, বা বুঝানো হয়। কিন্তু ব্যাপারটা কোর ইকনোমিক ঘটনা না। মানে এর সাথে কালচারাল ঘটনাও জড়িত। এই জায়গাটাতে কথা বলার বিশাল একটা স্কোপ আছে। গরিব কি জিনিস – যদি এইটা আমরা বুঝাইতে যাই, এইখান ইকনোমিক কন্ডিশন অবশ্যই আছে, কালচারাল জিনিসগুলাও এর সাথে রিলেটেড। একটা ক্লাসরে বলাই হইতেছে, আপনি যত টাকাই কামাই করেন, আপনার যদি শিক্ষা-দীক্ষা না থাকে তাইলে আপনি তো আসলে গরিব।…
সেকেন্ড জিনিস হইতেছে যখন এইটারে একটা কালচারাল ফেনোমেনা হিসাবে স্বীকার কইরা নিবেন তখন দেখবেন গরিবরে কিভাবে কন্সট্রাক্ট করা হচ্ছে। গরিব হইতেছে অলওয়েজ বিষন্ন একটা কারেক্টার।… এইরকম একটা ঘটনা হিসাবে কনফার্ম করা আছে।… একটা কন্সট্রাকশনের জায়গা আছে যেইটা ঝামেলাজনক।

Continue reading

মারেফতি শাশন

This entry is part 4 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

এই জামানার পার্টি কালচার খুব পচ্চিমা মাল মনে হইলেও এইটার গোড়া ইরানে; কেবল পার্টি কালচার না, গার্ডেন, কার্পেট বা খোদ আইডিয়া অব ড্রয়িং রুমই পারশি মাল কইতে পারেন! এগুলারই আরেকটা ভার্শন পাইতেছেন দরবারি জলশায়, বাইজির দরবারে, এমনকি মাজারে। অন্তত ২৫০০ বছর আগে এইগুলা ইরানে পয়দা হইয়া শেই জামানার ইরানের কেপিটাল পার্সিপোলিশে শবচে ভালো দশায় পৌছায়।

ছেকান্দার বাদশা বা জারে অনেকে আলেকজান্ডার বইলাও চেনে, উনি পুরা পার্সিপোলিশ পোড়াইয়া ফেলেন আগুনে; ছেকান্দার বাদশা হইলেন ইতিহাশের পয়লা হুলিগান, তার নজরে পার্সিপোলিশ, তার ডিনার, পার্টি, ড্রয়িং রুম, কার্পেট, বাগান ইত্তাদি হইলো বেহুদা ফুটানি, এমনকি পাপ, মরাল বিমারি, তাই পোড়াইয়া দিলেন পুরা পার্সিপোলিশ।

ছেকান্দারের আগেও কত কত রাজা বাদশা দখল করছেন কত কত নগর বন্দর, তারা কেউ অমন মরাল ডাক্তারি করে নাই। ছেকান্দার কেন করলেন, ঐ ডাক্তারি বিদ্দার ছবকই বা কই পাইলেন ছেকান্দার?

ছেকান্দার হইলেন পেলেটোর খোয়াবের বাছুর, এরিস্টোটলের তালিম পাইছেন, গিরিক দর্শন আমল করছেন ছেরেফ, তার আমল মানেই পার্সিপোলিশের ছাই হইয়া জাওয়া।

ছেকান্দারের কিছু পরে বাদশা পিয়াদাশি বা অশোকও ছবক পাইছিলেন শিদ্ধার্থ বা বুদ্ধের, কলিংগো জুদ্ধের পরে বৌদ্ধ হইছিলেন উনি। ঐ জুদ্ধে নাকি লাখ লাখ মানুশ আর জানোয়ারের মরন আর তাগো রক্তে লাল দয়া নদি দেইখা পিয়াদাশির মন আউলা হইয়া গেছিলো, তারে শান্তি দিছে তখন বৌদ্ধ ধম্ম! কিন্তু জিবের নাগর, খুনে বেদনা পাওয়া বৌদ্ধ পিয়াদাশিও ১৮ হাজার জৈনরে পাইকারি খুনের অডার দিছেন। কেন? কারন ওনাদের এক গুরু নাকি একটা ছবি আকছিলো, তাতে দেখা জাইতেছিলো, গৌতম বুদ্ধ এক জৈন দরবেশকে কুর্নিশ করতেছে।

তাইলে দেখা জাইতেছে জে, ছেকান্দার আর পিয়াদাশি বা অশোক, দুইজনেরই নিজের বয়ান আছিলো, তারা বয়াতি, এলেমদার, থিংকার বাদশা এবং বেদরদি খুনি! খেয়াল করলে দেখবেন, হিটলার বা মুছোলিনি বা এস্টালিন বা এখনকার চিনের পেছিডেন, ইনডিয়ার উজির-শরদার বা পিএম, এনাদেরো নিজেদের বয়ান আছিলো, এনারা বয়াতি, আতেল, ভাবুক, থিংকার, দার্শনিক শাশক। লগে আমরাও কিন্তু একজন বয়ানঅলা ( বাকশালি উন্নয়ন) থিংকার-রাইটারের শাশনে জিন্দেগি কাটাইতেছি এখন। এনাদের ভিতর দুইটা জিনিশ কমন পাইবেন–নিঠুরিয়া মন আর নিজের বয়ান।

নিজেদের বয়ানের দুশমনকে এনারা মরাল বিমারিতে ধরা ঠাউরায় আলগোছে এবং টার্মিনেট করে, কোন মরাল ডিলেমা নাই, কোন শন্দেহ হয় না নিজেরে, ১০০% বেদরদি নিঠুরিয়া মন লইয়া শাশন করতে পারেন এনারা! দুনিয়ায় পেলেটোর খোয়াব তরজমা করছেন, কইরা জাইতেছেন এনারা।

আমার আশপাশে একটা আন্দাজ দেখতে পাই আমি, মাঝে মাঝেই; এমন জে, এলেম মানুশকে দরদি বানায়। এইটা ভুল আশলে, মিছা কথা! বাস্তবে জেনোছাইডের জন্ন বয়ানের তালিম লাগে, একটা বয়ানের এলেম ছাড়া জেনোছাইডের ডিছিশন লওয়া জায় না। পার্ছোনাল জেলাছি আর দুশমনি দিয়া খালেদাদের জেলে ঢুকানো জায় বড়জোর, কিন্তু কিশোরদের কান ফাটানো জায় না, মুশতাকদের খুন করা জায় না, আরো বেশুমার রিমান্ড-গুম-খুন-ক্রছফায়ারে পাইকারি খুন ঘটানো জায় না। এগুলার জন্য এস্পেশাল একটা টেনিং লাগে, একটা বয়ানে নিজেরে শান দিয়া ধারালো, নিঠুরিয়া বেদরদি একটা মন বানাইতে হয়, নাইলে অতো খুনে বুক কাপে, মরাল ডিলেমা হয়, নিজের এখতিয়ার লইয়া শন্দেহ গজায়। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →