কেমনে টাকা কামাবেন আর ভালোবাসা খুঁইজা পাবেন? – কার্ট ভনেগাট
আপনাদের ক্লাসের রিপ্রেজেনটেটিভ মাত্র বললো সে নাকি “যেমন দিনকাল যাইতেসে, আল্লাহ বাঁচাইসে আমি কোনো জুয়ান লোক না” এইরকম কথা শুনতে শুনতে বিরক্ত হইয়া গেসে। এর উত্তরে আমি স্রেফ বলতে পারি, “যেমন দিনকাল যাইতেসে, আল্লাহ বাঁচাইসে আমি কোনো জুয়ান লোক না।”
আপনাদের কলেজের প্রেসিডেন্ট আপনাদের বিদায়ের দিনে কোনো নেগেটিভ কথা বলতে চান না, তাই উনি আমারে বললো এই খবরটা আপনাদের জানায়ে দিতে, “আপনাদের যাদের পার্কিং ফিজ এখনও বকেয়া আছে তা এই কলেজ ছাইড়া যাওয়ার আগে মিটায়া দিয়া যাইয়েন, নাইলে আপনাদের ট্রানস্ক্রিপ্ট নিয়া পরে গ্যাঞ্জাম লাগবে।”
আমি যখন ছোট্ট একটা পোলা ছিলাম, তখন ইন্ডিয়ানোপলিসে এক রম্যলেখক ছিল, কিম হাবার্ড। ইন্ডিয়ানোপলিস নিউজের জন্য সে প্রতিদিনই কয়েকটা লাইন লিখতো। ইন্ডিয়ানোপলিসের তখন যত সম্ভব তত রম্যলেখক দরকার ছিল। কিম হাবার্ড কখনো কখনো অস্কার ওয়াইল্ডের সমান উইটি ছিল। যেমন ধরেন, সে একবার বলসিলো কোনো মদ না থাকার চাইতে মদ নিষিদ্ধ হওয়া বেটার। আবার বলসিলেন “নিয়ার-বিয়ার” নামটা যে দিসিলো তার দূরত্বের সেন্স খুবই খারাপ।
আপনাদের শেখার মত গুরুত্বপূর্ণ যাকিছু আছে তা আমি ধারণা করি গত চার বছরে আপনারা শিইখা ফেলসেন এবং আপনাদের আমার কাছ থিকা শেখার মত নতুন কিছু নাই। যাক তা আমার জন্যই ভালো। আপনাদের বলার মত আমার আসলে একটাই কথা আছে: এইটাই শেষ, আপনাদের শৈশব এইখানেই পুরাপুরি শেষ। “সরি এবাউট দ্যাট,” যেমনটা বলা হইতো ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়।
আপনারা হয়তো আর্থার সি. ক্লার্কের ‘চাইল্ডহুডস এন্ড’ উপন্যাসটা পড়সেন। সাইন্স ফিকশনের ফিল্ডে হাতেগোনা যেই কয়টা মাস্টারপিস আছে এইটা তার মধ্যে একটা। এই ফিল্ডের বাকিসব মাস্টারপিস আমার লেখা। ক্লার্কের উপন্যাসটাতে একটা কারেক্টার অনেক বিশাল ইভোল্যুশনারি চেঞ্জের মধ্য দিয়া যায়। বাচ্চারা তাদের বাপমায়ের চাইতে অনেক ডিফারেন্ট হইয়া পড়ে, অনেক কম ফিজিকাল, বেশি স্পিরিচুয়াল। তারপর একদিন তারা সবাই একটা অদ্ভূত আলোর স্তম্ভের মত কইরা পাক খাইতে খাইতে মহাবিশ্বের সাথে মিলায়া যায়, তাদের গন্তব্য অজানা। বইটা এইখানেই শেষ। আপনারা যারা এইখানে আছেন, আপনারা দেখতে অনেকটাই আপনাদের বাপমায়ের মতই, আর এই সম্ভাবনাও খুব কম যে আপনারা হাতে ডিপ্লোমা পাওয়ার সাথে সাথে আলো ছড়াইতে ছড়াইতে মহাকাশে উইড়া যাবেন। এরচাইতে অনেক বেশি সম্ভাবনা যে আপনারা বুফেলো অথবা রোচেস্টার বা ইস্ট কুয়োগ বা কোহোজে চইলা যাবেন।
আর ধারণা করি আপনাদের প্রত্যেকের চাওয়ার জিনিসগুলার মধ্যে অন্যতম হইলো টাকাপয়সা আর সত্যিকারের প্রেম। আমি বলতেসি কেমনে অনেক টাকা কামাইবেন: প্রচুর পরিশ্রম করেন। আমি বলতেসি কিভাবে প্রেম পাবেন: সুন্দর জামাকাপড় পরবেন আর সবসময় হাসিখুশি থাকবেন। আর লেটেস্ট সব গানগুলার লিরিক্স মুখস্থ রাখবেন।
আর কি এডভাইস দিতে পারি আমি? দানাদার খাবার খাবেন বেশি বেশি, শরীর ভালো থাকবে। আমার বাপ আমারে জীবনে একটাই এডভাইস দিসিলো: “কানের মধ্যে কিছু হান্দাবি না।” আপনার শরীরের সবচাইতে ছোট্ট হাড় আপনার কানে, বুঝছেন? আর আপনার ব্যালেন্সের সেন্সও। তো আপনি যদি আপনার কান নিয়া বেশি ফাইজলামি করেন, তাইলে শুধু যে বয়রা হইয়া যাবেন তাই না, এমনকি একটু পরপর উষ্টাও খাইতে পারেন। সুতরাং, কানগুলারে তাদের মত থাকতে দেন। তারা যেমন আছে ভালো আছে।
ওহ, আর কাউরে খুন কইরেন না। যদিও নিউ ইয়র্ক স্টেট এখন আর মৃত্যুদণ্ড দেয় না।
এই আরকি।
আরেকটা কাজ আপনি করতে পারেন। তা হইলো এইটা মাইনা নেয়া যে ঋতু আসলে চারটা না, ছয়টা। চার ঋতু নিয়া যত কবিতা আছে তা পৃথিবীর এই অঞ্চলে আইসা ভুল হইয়া দাঁড়ায়, এইজন্যই হয়তো আমরা সারক্ষণ এত ডিপ্রেসড হইয়া থাকি। মানে, বসন্তে ঠিক বসন্তের মত ফিল আসে না বেশিরভাগ সময়। নভেম্বরটাও হেমন্তের জন্য ঠিক মানায় না। ঋতুগুলার ব্যাপারে সত্য কথা আমি বলতেসি আপনাদের: বসন্ত হইসে মে আর জুন মাসে! মে আর জুনের চেয়ে বসন্ত ভাব আর কিসে আছে বলেন? গরমকাল হইলো জুলাই আর আগস্টে। তখন বিদিক গরম পড়ে, ঠিক কিনা? হেমন্ত হইসে সেপ্টেম্বর আর অক্টোবর। মিষ্টিকুমড়া দেখতেসেন? ঝরা পাতার স্তূপের ঘ্রাণ পান? এরপরে আসে একটা ঋতু যার নাম হইলো “লকিং”। তখন প্রকৃতি সবকিছু শাটডাউন কইরা ফেলে। নভেম্বর আর ডিসেম্বর মোটেই শীতকাল না। তারা হইলো লকিং। এরপরে আসে শীতকাল, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি। ভাইরেভাই কি শীত! তারপরে কি আসে? বসন্ত না কিন্তু। তারপরে আসে আনলকিং। প্রকৃতি তখন আবার তার শাটার তুইলা দেয়। এছাড়া এপ্রিল আর কিইবা হইতে পারে? Continue reading