Main menu

রাধারমণের গীত

“কালা কাজলের পাখি দেইখা আইলাম কই
জলে গিয়াছিলাম সই”

এই গানের মধ্য দিয়া বলা যায় রাধারমণরে আমার প্রথম চেনা। প্রাইমারি স্কুলের সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামে এইটা শুইনা শুইনা শিইখা গেছিলাম। খুবই পছন্দের গান হইয়া গেছিলো এইটা তখন। ধামাইল নাচও টুকটাক দেখছি আর নাচছি ছোটবেলায়। সেইখানেও তার গানগুলা গাওয়া হইতো। যদিও তখন জানা ছিলো না এইসব কার গান বা এইসব নিয়া ভাবাও হয় নাই তখন যে রাধারমণ কে।

তো রাধারমণরে নিয়া জানার শুরুটা বলা যায় ক্লাস নাইন টেনে উঠার পর। আস্তে আস্তে তার আরো গান জানলাম, শুনলাম, শিখলাম। তখন থাইকা তারে জানার আগ্রহ তৈরি হওয়া বলা যায়। কারণ তখন নিজের মধ্যে একটা গর্বের মতো ফিল হইতো যে রাধারমণ নিজের এলাকার মানুশ। মনে হইতো যে নিজের এলাকার একজন মানুশ যার গান দেশের কত মানুশ শুনতেছে, গাইতেছে বা তারে চিনতেছে। নরমালি আমাদের এলাকায় স্কুল-কলেজের প্রোগ্রামগুলায় তার গান বলা যায় সবসময় গাওয়া হইতো। যার কারণে সবাইই তার গান নিয়া মোটামুটি জানে। এরপর কলেজে যাওয়া হইলো তখন তারে নিয়া আগ্রহ আরো বাড়লো। কারণ আমাদের কলেজের পুরা জায়গাটার মালিক নাকি তিনি এইরকম শুনছি। অনেক বড় একটা জায়গা। আবার কলেজের পাশেই ছিলো তার বাড়ি বা এখন মনে হয় এইটারে রাধারমণ মন্দিরও বলা হইয়া থাকে। তো অনেকদিন যাইমু যাইমু বইলাও অবশেষে আর যাওয়া হয় নাই। তার বাড়ি দেখা হয় নাই। তো এইটা আমার এক সময় আফসোসের মতোই ছিলো।

রাধারমণ দত্ত পুরাকায়স্থ যারে রাধারমণ বইলাই আমরা জানি। তার জন্ম হইছিলো সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে। তিনি মূলত একজন গীতিকবি এর সাথে আরো কিছু যোগ করতে চাইলে বলা যায় মরমিকবি, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, ধামাইল গানের স্রষ্টা। রাধারমণের মধ্য দিয়া ধামাইল গান সবচেয়ে বেশি প্রচারিত ও প্রচলিত হওয়ায় তারেই এর স্রষ্টা বইলা মনে করা হয়। সিলেট অঞ্চলে মূলত গ্রামের দিকে বিয়া বা অনেক সময় অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠান উপলক্ষে একধরণের নাচ হয় যেইটারে বলা হয় ধামাইল। এই ধামাইলের জন্য আলাদা কিছু গান আছে। তো অইসব গান গাইয়া এই নাচটা নাচা হয়। সাধারণত যারা নাচেন তারা তালে তালে হাততালির মাধ্যমে চক্রাকারে ঘুইরা ঘুইরা একলগে এই গানগুলা গান। ধামাইলের গান রাধারমণ ছাড়াও আরো কেউ কেউও রচনা করছেন। তবে পঁচানব্বই শতাংশ গানই রাধারমণের গান। ধামাইল নাচ এখন অনেকটা হারাইয়া গেছে বলা যায়। আগের মতো সব জায়গায় আর এখন এইটা অত হয় না।

জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওড়ে রাধারমণ আশ্রম গইড়া তুলেন।সেইখানেই তার সাধন-ভজন চলতো। রাধারমণ কখনো তার গানগুলা নিজে লেইখা রাখেন নাই। তিনি মুখে মুখেই এইগুলা গাইছেন। পরিবর্তিতে তার ভক্তরা অইগুলা শুইনা লিপিবদ্ধ করছেন। যার কারণে অনেক গানের মধ্যেই ছোটখাটো পরিবর্তনও আসছে আর আসাটা স্বাভাবিক। আবার অনেক গানই হয়তো লিপিবদ্ধ হয় নাই। যার কারণে নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না তিনি কতগুলা গান রচনা করছেন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন তথ্য আছে তার গানের সংখ্যা নিয়া।বলা যায় তিনি দেহতত্ত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, প্রেম, বিরহ, ভজন, ধামাইলসহ নানা ধরনের কয়েক হাজার গান রচনা করছেন।

রাধারমণকে অনেকে বাউল বা বাউল কবি বইলা থাকেন। কিন্তু আসলে তিনি বাউল কবি নাহ। যারা মরমি কবিতা বা গান লিখেন তারা সবাই বাউল নাহ। যখন তার জীবন ও তার গাওয়া গানগুলার দিকে ভালো কইরা তাকানো হয় তখন এইটা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে উনি বাউল ছিলেন নাহ। বাউল শব্দটার উৎপত্তি নিয়া বিভিন্ন মতবাদ আছে। কুনু কুনু গবেষকের কথানুযায়ী বৌদ্ধদের বজ্রযান নামক সম্প্রদায় থাইকা বাউল শব্দটা আসছে। তারা নির্বান লাভের জন্য নিজের দেহের মধ্যকার ইন্দ্রিয়গুলার বিকাশ এবং এর মাধ্যমে তাদের জন্মান্তরের শিকল থাইকা মুক্তি লাভ করার জন্য সাধনা করতেন। আবার অনেকের মতে সংস্কৃত বাতুল শব্দের অপভ্রংশ রূপে বাউল শব্দের উৎপত্তি হইছে। সেইখানেও আমরা দেখতে পাই যে বাউলরা কুনু ধর্ম মানেন নাহ। এই সকল বাউলেরা মুসলিমদের শরীয়ত ও হিন্দুদের সংহিতা এইগুলা না মাইনা তাদের নিজেদের মতে সাধনা করতেন। এমনকি এমনও আছে হিন্দুর গুরু ছিলেন মুসলিম এবং মুসলিমের গুরু হিন্দু। তো এইসব মতবাদ বিশ্লেষন করলে এইটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে রাধারমণ কুনুভাবেই বাউল নন। কারণ তিনি কখনোই তার ধর্ম পরিত্যাগ করেন নাই। উল্টা তিনি হিন্দু ধর্মের মধ্যকার যে চতুরাশ্রম, ব্রহ্মচর্যাশ্রম, গার্হস্থাশ্রম, বাণপ্রস্থাশ্রম ও সন্ন্যাস পর্যায়ক্রমে পালন কইরা গেছেন।

রাধারমণ মূলত ছিলেন বৈষ্ণব-সহজিয়া দর্শনের অনুসারী। সহজিয়া মূলত একটা বিশেষ ধর্মমত, যা সহজপথে সাধনা করাকে বুঝায়। বৈষ্ণব-সহজিয়াদের মূল আদর্শ রূপ-প্রেম-আনন্দ। এই ধর্মমতে পরকীয়া প্রেমে বিশ্বাস করা হয়। তাদের কাছে এইটার মধ্য দিয়া সিদ্ধিলাভ সম্ভব এমনটা মনে করা হয়। রাধারমণের অনেক গানেই এই বিষয়টা লক্ষ্য করা যায়। তার গানগুলায় রাধাকৃষ্ণ-এর প্রেমলীলাটারে খুব গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হইছে। এছাড়া অন্যান্য গানেও দেখা যায় যে কুনু নারীর জায়গা থাইকা হয়তো গানটা গাওয়া হইতেছে তো তখন সেইখানে এইরকম লাইন আছে যে ঘরে শ্বাশুড়ি-ননদী আছে তো সে কিভাবে বাইরে যাইবো বা এই টাইপ কিছু।এইখানে পরকিয়া জিনিশটার আভাস পাওয়া যায়।

তার অনেক গানের শেষদিকের একটা লাইন খুব কমন সেইটা হইলো “ভাইবে রাধারমণ বলে” মানে “ভেবে রাধারমণ বলে” তো এইটা তার গানের একটা স্পেশাল সিগনেচার বলা যায়। তার অনেক গানের মধ্যেই একই জিনিশ লক্ষ্য করা যায়। মানে একই কথা, একই মিনিং। তো আমি তার এইরকম গানগুলা থাইকা আমার পছন্দের গান বাছাই করার ক্ষেত্রে যেই কাজটা করছি সেইটা হইলো যেই গানগুলা একই রকম কথা বা মিনিং বুঝাইতেছে সেইগুলার মধ্য থাইকা মাত্র দুই একটা রাখার ট্রাই করছি। পছন্দ হইলেও এর বেশি রাখি নাই। কারণ অনেক সময় হয় কি একই মিনিং এর গান হইলেও দেখা যায় যে হয়তো একটা লাইনের জন্যই এইটা ভালো লাইগা গেছে। কিন্তু যেহেতু একই মিনিং তো যদি একই রকম অনেকগুলা রাখা হয় আমার কাছে মনে হয় এইটা সৌন্দর্যটা নষ্ট কইরা ফেলে আসলে।

তার কিছু গানের মধ্যে দুনিয়ার মিছা মায়াজালে বন্দি হইয়া জীবন যে চইলা যাইতেছে,নিজের করা পাপের জন্য যে অনুতাপ, দুনিয়াতে আসলে যে আপন কেউ নাই এই টাইপের কিছু জিনিশ খুবই গভীর ও সুন্দরভাবে ফুইটা উঠছে। প্রেম জিনিশটারে তিনি বিভিন্নভাবে তার গানে তুইলা আনছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরহের মধ্য দিয়া। আবার অনেক সময় দেখা গেছে উনি প্রেমিকের অপেক্ষারত হইয়া কুঞ্জ সাজানোর কথা বলতেছেন। অনেক সময় আকুতি করতেছেন বন্ধু বিনোদিয়া যেন দয়া কইরা আসে বা শ্যাম বন্ধুরে বলতেছেন সে যদি দয়া কইরা না আসে তাহলে তার মতো ঘোর পাপীরে কে নিবো তরাইয়া (উদ্ধার কইরা)। গুরুর চরণ পাইবার আশায় বইসা থাইকা অনেক সময় তার দিন যাইতেছে গইয়া (পাড় হয়ে)। অনেক সময় গৌর বিচ্ছেদের জ্বালা নিয়া গান গাওয়া হইছে। বিচ্ছেদের যন্ত্রণারে কত সুন্দর কইরা ফুটাইয়া তুলছেন তিনি তার গানগুলায়। এইসব জিনিশই আমি খেয়াল করছি আমার পছন্দের গান বাছাই করার সময়।

সুরাইয়া দীনা

 

আমি কারে বা দেখাব মনের দুঃখ গো

আমি কারে বা দেখাব মনের দুঃখ গো হৃদয় চিরিয়া।
আমার সোনার অঙ্গ মলিন হইল ভাবিয়া চিন্তিয়া॥

পুরুষজাতি সুখের সাথী নিদয়া নিৰ্মায়া।
তারা জানেনা মনের বেদন কঠিন তাদের হিয়া॥

আমি সাদে সাদে প্রেম করিলাম সরল জানিয়া।
আমারে ছাড়িয়া গেল প্রাণনাথে কী দোষ পাইয়া॥

ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া।
আমার জগতে কলঙ্ক রইল পিরিতি করিয়া॥

 

আমার নারীকুলে জন্ম কেন দিলায় রে

আমার নারীকুলে জন্ম কেন দিলায় রে দারুণ বিধি
নারীকুলে জন্ম দিয়া ঘটাইলায় দুর্গতি রে॥

শিশুকালে পিতার অধীন, যৌবনেতে স্বামীর অধীনরে
ওরে বৃদ্ধকালে পুত্রের অধীন আমারে বানাইলায় রে ॥

যদি আমি পুরুষ হইতাম মোহন বাঁশি বাজাইতাম রে
কত নারীর মন ভুলাইতাম বাজাইয়া মুরলী রে॥

ভাইবে রাধারমণ বলে নারী জনম যায় বিফলে রে
না লাগিল সাধের জনম বন্ধুয়ার সেবায় রে।।

 

ভোমর কইও গিয়া

ভোমর কইও গিয়া,
শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদে রাধার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া।

ও ভোমররে কইও কইও কইও আরে কৃষ্ণরে বুঝাইয়া।।

ওরে ভোমর রে না খায় অন্ন না খায় জল নাহি বান্দে কেশ
ঘর থাকি বাইর হইলা যেমন পাগলিনীর বেশ।।

ও ভোমর রে উজান বাঁকে থাকো রে ভোমর
ভাইটাল গাঙে থানা
চোখের দেখা মুখের হাসি কে কইরাছে মানা।।

ও ভোমর রে, ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া
নিভা ছিলো মনেরই অনল কে দিল জ্বালাইয়া।।

 

ইতা কিতা করে গো 

ইতা কিতা করে গো বন্দে পায়ে কেনে ধরে
শুনছনি সই পুরুষ হইয়া নারীর পায়ে ধরে

যার কুঞ্জে গেছলায় বন্ধু তার কুঞ্জেতে যাও
আমার বিছানায় তুমি না তুলিও পাও ৷

হায় বন্ধু হায় বন্ধু বলে বালিশ লইলাম কোলে
দারুণ শিমুলের তোলা বুলাইলে না বুলে ॥

ভাইবে রাধারমণ বলে মনেতে ভাবিয়া
নিজগুণে প্রাণবন্ধু দিলায় আইয়া ধরা ॥

Continue reading

প্রবন্ধ-কেত্তন

“সলিমুল্লাহ খান ফুকো আর দেরিদা ব্যাপারে নালিশ জানাইছেন- যে তাঁরা প্রাসঙ্গিক নানা আলোচনায় যেখানে লাকানেরে মেনশন করতে পারতেন সেইসকল ক্ষেত্রে লাকানের রেফারেন্স দেন নাই। ফুকোর সমালোচনায় এই যে প্রশ্ন উত্থাপন করলেন সলিমুল্লাহ খান তা মূলত নৈতিক প্রশ্ন, বিদ্যায়তনিক চক্রে এই সকল নৈতিকতার চর্চা হইয়া থাকে। কিন্তু এইটা আসলে কতটা ফুকোর চিন্তার সমালোচনা হইল তা বোঝা যায় না। একমাত্র যে কাজের মন্তব্যটুকু করলেন তিনি সেইটা হইল, ফূকো ইরানে ইসলামী বিপ্লবেরে ঠিকঠাক মতো চিহ্নিত করতে পারেন নাই। কিন্তু সলিমুল্লাহ খান এই বিপ্লব যেমন হাইন্ডসাইট দিয়া দেখতেছেন তা ফুকো তো দেখেননাই; সেক্ষেত্রে তাঁরে বিচার করতে হইত ফুকো যে বিশ্লেষণের মধ্য দিয়া গিয়া এই বিপ্লবেরে সমর্থন করছিলেন তা ঠিক আছে কিনা। অথচ তা তিনি না কইরাই বললেন ফুকো ভুল করছেন। এবং ফুকোরে কেবল এক এলজিবিটি এক্টিভিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইলেন কৌশলে। জিজেক ব্যাপারেও বললেন তিনি হইলেন ইউরোপের সাঈদী। তো কিসের ভিত্তিতে তিনি এইটা বললেন সেই ব্যাপারে একটু আলোচনা তো করতে হইত। আলোচনা ছাড়া এইসব মন্তব্য মনে হয় যেন লোকজনের চরিত্রহননের ছিনালী প্রচেষ্টা। তা তিনি করতেই পারেন। এইসব মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণও। এগুলা নিয়া ভাবা যাইতে পারে। উদীয়মান বুদ্ধিজীবী সমাজে ফুকো জিজেক নিয়া উত্তেজনা একটু বাড়াবাড়িই ঠেকে।
.
তবে সলিমুল্লাহ খানের এইসব মন্তব্য ব্যাপারে সতর্ক হইতে হবে এই কারণে, তিনি আদতে দেড়-দুই ঘন্টার আলাপ পাইড়াই এই সকল মন্তব্য করছেন- যেন মনে হয়, এই সকল মন্তব্য ওই দীর্ঘ আলোচনারই সারাৎসার। কিন্তু মনোযোগী শ্রোতারা শুনলে বুঝতে পারবেন তাঁর আলোচনা মূলত প্রাসঙ্গিক ব্যাপারে তাঁর ব্যাপক পাঠের প্রদর্শনী ছিল মাত্র; মন্তব্যগুলির সপক্ষের যুক্তি কমই ছিল। এইটাই আমার কাছে সলিমুল্লাহ খানের সমস্যা মনে হয়- তারে অনেকে টীকা বুদ্ধিজীবী বলে, আমি তা বলি না, বরং খেয়াল কইরা শুনলে বুঝা যাবে তাঁর নিজস্ব মন্তব্য ভালোই থাকে তাঁর আলোচনাগুলির মধ্যে কিন্তু, একই আলাপে তাঁর আলোচনা এবং মন্তব্যমালা দুইটা দুই ডিরেকশনের হইয়া থাকে সাধারণত। তাইলে সেই আলোচনা কেন?
.
আলোচনাটা যেন তাঁর মন্তব্যগুলির ব্যাপারে একটা কুহেলী প্রভা ছড়াইতেছে, শ্রোতা-পাঠকদের তাঁর জ্ঞানের বিশালতা দিয়া মিস্টিফাইড করতেছে এবং এইভাবে তাঁর মন্তব্যগুলির জোর বাড়াইতেছেন, যতটা না মন্তব্যগুলির সপক্ষে যুক্তি প্রদান কইরা তিনি তা করেন। এইখানেই তাঁর পাঠকদের সতর্ক হওয়ার দরকার আছে। এমনি তাঁর মন্তব্যগুলা ফেলনা নয় মোটেই; ওগুলা নিয়া ভাববেন, তাঁর আলোচনাগুলা পাশে সরাইয়াই ভাববেন। তাঁর একটা জিনিস ভালো, তিনি তাঁর শ্রোতাদেরকে নিজে বই পইড়া দেখতে বলেন। তথাপি তাতে তাঁর সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি প্রদানের দায় হ্রাস পায়না। বা শুধু সিদ্ধান্তটুকু নিলেই তো হইত; কিন্তু তিনি সাথে সাথে আলোচনা তো ঠিকই করতেছেন। Continue reading

বাছবিচার আলাপ: খাশ বাংলা কি ও কেন? [২০২২]

This entry is part 22 of 22 in the series লেখার ভাষা

২০২২ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি এই আলাপ’টা হইছিল, জুম অ্যাপে। এর আগে আরো তিনটা আলাপ আমরা করছি, তিনটা আলাদা সাবজেক্ট নিয়া। শুনতে পারেন, সবগুলাই।

আলাপ এক: পাবলিক ও প্রাইভেট ।।

আলাপ দুই: ইব্রাকর ঝিল্লী – জ্যাক দেরিদা ও আর্কাভাইজেশন ।।

আলাপ তিন: কালচার ইন্ড্রাস্ট্রি ।।

আলাপ চাইর: খাশ বাংলা কি ও কেন?

ইব্রাকর ঝিল্লী: খাশ বাংলা’টার যদি বাংলাদেশে আমরা একটা স্পেইস ক্রিয়েট করি, বা এইটা তো হচ্ছে, এইটা তো মোস্ট ন্যাচারাল থিঙ্ক, বাংলাদেশে এইটা হবেই। আমরা করতে পারি বা যে-ই এইটা করতে পারুক।… এই যে একটা ইন্টেলেকচুয়াল একটা প্রসেসের ভিতর দিয়া আলাপ-আলোচনা, ডিসকোর্সের ভিতর দিয়া এইটা হইতেছে, হইয়া যাওয়ার পর, সোসাইটিতে এইটার নেগেটিভ কোন কনসিকোয়েন্স তৈরি হইতে পারে কিনা?… এইটা একটা আধিপত্য তৈরি করতে পারে কিনা?…

রক মনু: সিফাতের যেই কোশ্চেনটা আমি যেইভাবে বুঝি বা বুঝছি… একটা দিক হচ্ছে… মার্কসের যে হিস্ট্রিক্যাল প্রগেশনের যেই আইডিয়া, অইটার মেবি একটা ছায়া আছে কোন একভাবে।… ঘটনাটা তো ঘটবে আসলে, কোন কিছু যে জোর করা তা না। এইটাই ঘটার কথা। খাশ বাংলাই স্ট্যান্ডার্ড বাংলা হয়া উঠার কথা।… তো, মার্কসের কথা টানলাম এইজন্য যে, মার্কসিস্ট রেভিউলেশনারি যারা, এদের ব্যাপারে বহু ক্রিটিক তো আছে, একটা বড় কোশ্চেন যেটা, সেটা হচ্ছে যখনই আপনি রিভোল্ট করে ফেলছেন, তারপরে আপনি কি করবেন? 

খাশ বাংলার ব্যাপারেও কোশ্চেনটা আসলে কাইন্ড অফ অইরকম। যে ধরেন, এইটা উইন করলো… তারপরে তার শাসনটা কেমন হবে?… যে ডমিনেন্ট সে যখন লুকাইতে চায়, এইটা আসলে শাসন না! – এইটা হইতেছে জুলুমের পয়লা স্টেইপ, পয়লা কদম।… রেভিউলেশন এমন একটা জিনিস, যখন আপনি জিতলেন, তখন এইটা আসলে এন্ডিং অফ শাসন না, এন্ডিং অফ গর্ভনেন্স না। বরং আপনার শাসনের শুরু। তো, আমাদের বিচার করতে হবে, আপনার শাসনটা কেমন হচ্ছে, বা হবে?

এই কোশ্চেনটা রেভিউলেশনারি’রা প্রায়শ এভেয়ড করে এবং লুকাইতে চায়।… টর্চারের শুরু হচ্ছে যখন এইটা গোপন করে, যেইটা শাসনের শুরু সেইটা যখন দাবি করতে থাকে এন্ডিং অফ শাসন।… শাসনের একটা অবভিয়াস ফলাফল হইতেছে ক্ষমতার ইন-ইক্যুয়ালি, কারো কম থাকবে, কারো বেশি থাকবে।… পাওয়ারের ইন-ইক্যুয়ালিটি মানে হইতেছে জুলুমের সম্ভাবনা।… এখন এইটারে যে জিরো লেভেলে নিয়া আসবেন, ইলিমিনেন্ট করবেন, সেইটা না। বরং এইটারে কেমনে মিনিমাম রাখা যায়। এই কারণে এইটারে মোস্ট ফ্লেক্সিবল রাখা।…       

ইমরুল হাসান: ভাষার ফিক্সডের চাইতে ফ্লেক্সিবিলিটির যেই জায়গাটা, এইখানে ফ্লেক্সিবিলিটির সাথে আমি দেখি যে, ফ্যাশনেবিলিটির একটা ঘটনাও এইখানে এমবেডেড আছে। যেমন ধরেন, এইটিইস বা নাইনটিইসে গিয়ে যখন লেখালেখিতে যখন প্রমিত বা সংস্কৃত-বাংলারে যখন কোশ্চেন করা হইলো, দেখা গেলো যে এক ধরণের ‘আঞ্চলিকতা’ জিনিসটা হচ্ছে বাইর হয়া আসলো। লোকাল হইতে পারাটা হইতেছে ফ্যাশনেবল। অই যে টিভি-নাটকে, মুস্তফা সরয়ার ফারুকী’র ঘটনাটা, আগের আলাপে যেইটা বলতেছিলেন, উনারা ভাষার জায়গাটারে নিছে অই কনটেক্সট থেকে। একটা পারমানেন্সের জায়গাতে আরেকটা পারমানেন্স তৈরি হচ্ছে। মুশকিলটা হচ্ছে অই জায়গাটাতে। আপনি যখন ফ্যাশনেবিলিটির জায়গাটাতে আসতেছেন, ফ্লেক্সিবিলিটির জায়গাটাতে আসতেছেন না, তখনই এই জায়গাটা আসতেছে যে, ও, তখন ‘প্রমিত’ ছিল, এখন তো ‘আঞ্চলিক’ হয়া যাইতে হবে! এখন তো ‘লোকাল’ হয়া যাইতে হবে!

যেই বেইজটা থিকা দেখা হচ্ছে, অই বেইজটারে যদি আমি চেইঞ্জ করতে রাজি না হই, তাইলে তো মুশকিল আর কি… 

পুরা আলাপটা এইখানে শুনেন/দেখেন।

 

সিনথিয়া ইসলামের কবিতা

আমারে ছাড়া

আলটিমেটলি তুমি তো পথ খুঁজে পাইবাই
শুধু আমারে ছাড়া
তুমি তো বিষাদের মাঝে চাকচিক্যরে খুঁজে নিবাই
তোমার সকল আনন্দ দিয়া
আলটিমেটলি তুমি তো অন্য কাউরেই চাইবা
শুধু আমারে না চাইয়া
আমার ট্রলি ভরতি প্রেম ফালাই দিও
তোমার দেখা শ্রেষ্ঠ হাবিয়ায়

আলটিমেটলি তুমি তো কারো প্রেমে পরবাই
শুধু আমার প্রেমে পড়া ছাড়া

 

সকল ফিলিং

আমার সকল এক্সপেকটেশন ভাসাই দিলাম
তোমার সকল চাওয়া না চাওয়ার মধ্যে
তুমি একটা একটা করে তুলে নিলা তোমার পিরিতের পাত্রে

যেই পাত্রতে তোমার সকল ডিজায়ার
আমারে আক্রান্ত করে
যেখানে কেবল তোমার লালসাভরা চোখ
আর তোমার গটগট ভাবনা

বন্ধু, তুমি একটা ভেজা হাঁসের উপর ফোটা ফোটা পানি হয়া যাও
আমি না হয় তোমার পাখায় আমার সকল ফিলিং গুজাইলাম

 

বাতাস

বাতাসে কতগুলা চুল আমার নরম গালে কবিতা লিখতাছে
আমি চোখ বুইজা আছি তাদের কবিতা লেখা শেষ হওয়া পর্যন্ত

Continue reading

ফিকশন: দেশ নাই

আরে, একটা দেশ হারায়া যাবে, এইটা কেমনে হয়! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারতেছিলাম না। আউয়াল’রে ফোন দিলাম, কি রে এইটা কি ঘটনা, দেশ বলে নাই! আউয়াল মনেহয় নাশতা করতেছিল তখন, কি জানি চাবাইতেছে, দুইটা দম নিয়া কইলো, হ, তুই কি ঘুমাইতেছিলি নাকি এতোক্ষণ! যেন আমি কি করতেছিলাম, সেইটা বেশি ইম্পর্টেন্ট। অর অবশ্য সবসময় সবজান্তা-সবজান্তা একটা ভাব। কোন কিছু জিগাইলেই ফার্স্টে কইবো, ও, এইটা জানোস না! পরে ভং-চং একটা কিছু বুঝায়া দিবো। যেহেতু আমি কিছু জানি না জানে, যে কোন কিছু কইলেই তো আমি বিশ্বাস করবো! এইরকম বহুত ধরা আমি খাইছি। তারপরেও অরেই জিগাই, কারণ ও যে উল্টা-পাল্টা কথা কয় অইগুলা সত্যি না হইলেও একটা ভরসা পাওয়া যায়, ও, আমার চাইতে কেউ তো তাইলে একটু বেশি জানে! না জানুক, ভাবে যে জানে, এইটাও দরকারি জিনিস একটা।

কিন্তু আজকে মেজাজ খারাপ হইলো। আরে শালা, আমি কি তোরে বাজারের মাছের দাম জিগাইছি নাকি, যে একটা কিছু কইয়া দিলেই হইলো! আরে বেটা, দেশ নাই! দেশ মানে বুছোস! জাতীয় সংগীত নাই, জাতীয় পতাকা নাই, জাতীয় ফুল-ফল-পাখি কিছু নাই, একটা আইডি কার্ডও নাই। রাস্তায় পুলিশ ধরলে কি কইবি তুই! আর তুই জিগাছস আমারে, আমি ঘুমাইতেছিলাম কিনা! মেজাজ খারাপ হইলে আমি চুপ কইরা থাকি। আউয়ালও বুঝে সেইটা। একটু থাইমা কয়, না, আমিও সকালে হাঁটতে বাইর হয়া শুনি, দেশ বলে নাই। রাস্তা-ঘাটে লোকজন বলাবলি করতেছে। পয়লা আমারে কইলো সব্জিঅলা, ভাই, শুনছেন তো, দেশ তো নাই! বইলা হাসতেছিল। অর কথা আমি বিলিভ করি নাই। পরে আমাদের “হা হা হা” গ্রুপের কয়েকজনের লগে দেখা, অরাও কইলো। সার্কুলার ফাইনাল। ভোররাত ৪:৩০ মিনিটে, ফজরের আজানের আগে আগে, তাহাজ্জুদের নামাজের পরে এই জিনিস ডিক্লেয়ার হইছে। এরপরে সব মসজিদে ঘোষণা দেয়া হইছে, “আসালাতু খায়রুম মিনান নাউম…” আমি বাসায় ফিরা দেখলাম, ততক্ষণে মেসেজ চইলা আসছে মোবাইলে। তর ভাবী তো খুশি, হে তো দেশ-বিরোধী লোক….

আউয়ালরে কথা কইতে দিলে এই একটা সমস্যা, পটপট পটপট করতেই থাকে। আমি অরে থামায়া দিলাম কইলাম, “আইচ্ছা, তুই থাম, আমি মুইতা আইসা পরে তোরে আবার ফোন করতেছি…” আমি যেমন জানি, ও-ও জানে, আমি আর ফোন করবো না। আর এইটা ঠিকাছে। রিলেশন অনেকদিন হইলে এইগুলা কোন ঘটনা না। আর আমি যেহেতু বিয়া করি নাই, আমারে একটু কেয়ারই করতে চায়, পুরান ফ্রেন্ডরা। হয়তো ভাবে, ফ্যামিলি লাইফ পাইলো না! আবার আমার কাছে আইসা নিন্দা-মন্দও করে বউদের নিয়া। আমি চুপ কইরা থাকি এইরকম টাইমগুলাতে। কারণ কয়দিন পরেই আবার বাসায় দাওয়াত দিয়া দেখাবে, অরা কতো সুখে থাকে! আজাইরা!

কিন্তু আমি আসলেই ডরাইছি। এইটা কেন হবে! একটা নিয়ম-কানুন আছে না! অবশ্য বছর খানেক ধইরাই কথা হইতেছিল, দেশ রাইখা কি লাভ! লাভের চে তো লস-ই বেশি। এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ট্যাক্স দেয়া লাগে, খামাখা কাগজ-পত্র বেশি লাগে। এইগুলা কতো আর কমানো যায়। মিনিমাম জিনিসপত্র তো লাগেই। তো, কানা-ঘুষা শুনতেছিলাম, এই সরকার তো ৫০ বছরের লাইগা সিলেক্টেড, কিন্তু এতোদিন টাইম নিবে না, এর আগেই দেশ বেইচা দিবে! এই প্রজেক্ট, অই প্রজেক্ট বেইচা কতো টাকা আর লাভ হয়! আর ৫০ বছর পরে হইলেও খামাখা ইলেকশন করার পেইন কেন নিবে! দেশের মালিক যেহেতু সরকার, মালিক হিসাবে তো বেইচা দিতেই পারে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →