Main menu

বাছবিচার এডিটোরিয়াল আলাপ (৩): কালচার ইন্ডাস্ট্রি

২০২২ সালের ১২ই জানুয়ারি এই আলাপ’টা হইছিল, জুম অ্যাপে। এর আগে আরো দুইটা আলাপ আমরা করছি, দুইটা আলাদা সাবজেক্ট নিয়া। শুনতে পারেন, সবগুলাই।

আলাপ এক: পাবলিক ও প্রাইভেট ।।
আলাপ দুই: ইব্রাকর ঝিল্লী – জ্যাক দেরিদা ও আর্কাভাইজেশন ।।

আলাপ তিন: কালচার ইন্ডাস্ট্রি

ইমরুল হাসান: ইন্ডাস্ট্রির চারটা এলিমেন্ট আছে – ফিল্ম, মিউজিক, লিটারেচার আর নিউজ।  এই চারটা জিনিসের উপ্রে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা বা অন্য জিনিসগুলা দাঁড়ায়া আছে মনেহয়। গ্রামসির সুপার স্ট্রাকচার জিনিসটা এখন হইতেছে ভিজ্যুয়াল স্ট্রাকচার, মেইন স্ট্রাকচার। এই জায়গা থিকা ইন্ডাস্ট্রিরে পলিটিক্সের সাথে ইন্ট্রিগ্রেটেড কইরা দেখাটা দরকার। এইটারে বেইজ হিসাবে নেয়াটা দরকার।

ইব্রাকর ঝিল্লী:  … “মগজের তালুকদারি” জিনিসটা আসলে কালচারাল ইন্ডাস্্ট্রিই তৈরি করছে। হলিউড-টলিউডে দেখবেন এক ধরণের ক্যাম্পেইন হয়া দাঁড়াইছে যে, ব্ল্যাকদের রিপ্রেজেন্টশন নাই।  মেয়েদের রিপ্রেজেন্টশন নাই। কেন হলিউড-ই লাগবে? কেন নিজেদেরটা তৈরি করতেছে না? কিন্তু নিজেদেরটা তৈরি করার মতো বাস্তব পরিস্থিতি এখন নাই। মূল ব্যাপারটা হইছে হলিউডে এখন স্টেকটা বাড়ানো। তাতে কইরা অই যে একটা ভিজ্যুয়াল, ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভের স্পেইসে সত্যিকার অর্থে একটা দাবি তৈরি হবে। সত্যিকার অর্থে একটা ক্লেইম তৈরি হয়, সত্যিকার অর্থে একটা রিপ্রেজেন্টশন তৈরি হয়। আমরা যতোটা অভিমান নিয়া বা আবেগ দিয়া বলি না কেন যে, নিজেদের তৈরি করা, নিজেদের তৈরি করা ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত একটা মার্জিনে চইলা যাওয়ার ঘটনাই ঘটে। শেষ পর্যন্ত একটা সাব-কালচার হয়া উঠে। খুব বেশি হইলে একটা কাল্টের মতো হয়া উঠে।…

রক মনু: আমরা যদি ধরি, দুনিয়াতে অনেকগুলা কালচারের ইন্ডাস্ট্রি আছে। এদের যদি একটা সিরিয়াল করি পাওয়ারের। এইটাতে আমরা আসলে কি বুঝাই? আমরা যেইটা মনেহয়, আমরা যেইভাবে বুঝি, আমরা কি, ওরা কি, আইডিয়ালি এইটা তো একটা রিয়ালিটির কথা হওয়ার কথা। … এখন এইটা আমরা পারসিভ যে করি, সেইটা তো করি থ্রু একটা মিডিয়া। যেইটার থ্রু’তে আমরা পারসিভ করি, সেইটা হইলো, কালচারের ইন্ডাস্ট্রি যদি কালচারেরর ইন্ডাস্ট্রিরে একভাবে আলগা কইরা আমরা বুঝার চেষ্টা করি।… এখন আমাদের রিয়ালিটিরে বুঝার যেই জায়গা সেইটারে যদি বানায় দেয় কালচারের ইন্ডাস্ট্রি, তাইলে যে যত বেশি বানাইতে পারে, যত বেশি মানুশের মধ্যে বানাইতে পারে, যত মজবুত ভাবে বানাইতে পারে, যার ফাঁক-ফোকড় যত কম, সেই ইন্ডাস্ট্রির পাওয়ার তত বেশি।…

Continue reading

জাকির হোসেনের কবিতা

সে কি ফিরবে না?

সেই কবে
পদত্যাগ কইরা গেছি
ফুল থেইকা
ঘ্রাণ থেইকা
নবজাত সকালের রোইদ থেইকা
ম্যাগনোলিয়ার মন।

ইচ্ছা, কল্পনা, উঠানভর্তি সোনালী ফসল
দাদিমার ঝাঁরফুক
সাথে আরবী ছবক,
বাবার শাহাদাত আঙুল ধরা হাতে
মুখে কালিমা।

কত তোড়জোড় হুলস্থুল মায়া
কত শালিক, টিয়া কামরাঙা গাছ হতে
পদত্যাগ করে গ্যাছে
বহুআগে,
সে কি ফিরবে নাহ?
ফিরবে নাহ সকালের শিশিরের সাথে?

 

একটা পাথর

তোমারে ভুইলা থাকলে
হৃদয়ডা ফাঁ কা হয়া পড়ে
ওজন কইমা যায় আমার!

তোমারে ভুইলা থাকলে
মনে জায়গা কইরা নেয়
বেহুদা আলাপ,কটরমটর জিনিসপাতি!

তুমি কই থাকো আমি বুঝিনাহ!

শহরে অনেক ধূলা, তাড়াহুড়া
দূরে থাকলে বাইড়া যাবে অনাদর,
আসো, থাকো তুমি আমার ভিতর
হইয়া ওজনদার একটা পাথর!

 

সফল জীবন

একধরনের জীবন আছে
তাড়া কইরা বেড়ায়
-দিগ্বিদিক,
রোইদ থেইকা আন্ধার পর্যন্ত
যেন সে এক্টা পাগলা কুকুর।

এই রকম জীবনকে সফল জীবন বলে লোকে।

Continue reading

পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ।। সৈয়দ মুজতবা আলী।। শেষ কিস্তি।।

This entry is part 14 of 22 in the series লেখার ভাষা

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।।

১৯৪৭ সালের ৩০ শে নভেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়া আলাপ হয়, সৈয়দ মুজতবা আলী সেইখানে বাংলা ভাষার পক্ষে একটা লেকচার দেন। উনার এই লেকচার নিয়া অনেক তর্ক বিতর্ক হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী তখন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। বলা হয়, এই ঘটনার পরে উনার বিরোধীপক্ষ গর্ভমেন্টের কাছে বিচার দেন আর এডুকেশন মিনিস্ট্রি থিকা উনারে শোকজ করা হয়। উনার বড় ভাই সৈয়দ মুতর্জা আলী, যিনি এইটা নিয়া কথা কইতে গেছিলেন, তারেও তার পজিশন থিকা ডিমোশন দিয়া ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বানায়া চিটাগাংয়ে ট্রান্সফার কইরা দেয়। সৈয়দ মুজতবা আলী এইসব দেইখা ইন্ডিয়াতে চইলা যান।

পরে ১৯৫৬ সালে আল ইহসান পত্রিকায় উনার এই ভাষণ প্রবন্ধ হিসাবে ছাপা হয়। অই বছরই বই হিসাবেও ছাপা হয়, আলাদা কইরা।

মজার ব্যাপার হইলো, কলকাতার মিত্র অ্যান্ড ঘোষ পাবলিকেশন কোম্পানি থিকা ১১ খন্ডে সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনাসমগ্র ছাপানো হইছে, উনার পাবলিশড, আনপাবলিশড অনেক লেখা সেইখানে আছে, কিন্তু এই বইটা নাই। 🙂  মানে, রচনাসমগ্র দেইখা আপনার মনে হবে, সবকিছুই আছে এইখানে, কিন্তু সবকিছুর ভিতরে অল্প কিছু জিনিসরে যে গোপন করা হয়, সেইটা চাতুরির ঘটনা না খালি সাবভারসিভ একটা জিনিসও।

২.
সৈয়দ মুজতবা আলী যখন এই আর্গুমেন্টগুলা হাজির করতেছেন, তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র যে বানানো হইছে, সেইটার ৬ মাসও হয় নাই। রাষ্ট্র নিয়া অবশ্যই অনেক এক্সপেক্টশন থাকতেছে তখন, নানান আলাপ চলতেছে নানান জায়গায়।

ব্রিটিশ আমলে ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রভাষা ছিল ইংলিশ, হিন্দি আর উর্দু। ১৯৪৭ সালে ইন্ডিয়া আর পাকিস্তান দুইটা রাষ্ট্র হওয়ার পরে, হিন্দিরে ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হইছিল, কিন্তু যেহেতু ইন্ডিয়ার সব জায়গায় হিন্দি চালু নাই, বলা হইছিল হিন্দির পাশাপাশি ইংলিশও থাকবো। তো, ইন্ডিয়াতে যেহেতু ইংলিশ বাদ দিয়া হিন্দি চইলা আসছে, পলিটিশিয়ানদের ধারণা ছিল, পাকিস্তানেও তো উর্দুই হওয়ার কথা!

সৈয়দ মুজতবা আলী এইসব কথা বলার আগে, ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর তমুদ্দীন মজলিসের  পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু?  পাবলিকেশনে কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমও পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা করার পক্ষে লেখেন। এরপরে ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে জিন্নাহ ঢাকা ইউনির্ভাসিটিতে আইসা উর্দুরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বইলা ঘোষণা দেন, এক স্টুডেন্ট নো বলেন। আন্দোলন, মুভমেন্টের পরে ১৯৫৬ সালে উর্দুর লগে বাংলারেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়। এইগুলা নিয়া কমবেশি আলাপ তো চালু আছেই।

৩.

ভাষা তো পাওয়ারের লগে রিলেটেড একটা ঘটনা। ব্রিটিশ আমলে ইংলিশ যে সরকারি দফতরের ভাষা আছিল, সেইটা তো পাওয়ারের কারণেই। তো, ব্রিটিশরা যখন নাই তখন তো আরেকটা ভাষার দরকার।

ইন্ডিয়া চাইলো, হিন্দি ভাষারে এস্টাবলিশ করতে, না পাইরা ইংলিশটারে রাইখা দিয়া হিন্দিরেও প্রমোট করলো। এখন ইন্ডিয়াতে যতদিন হিন্দি চালু আছে ততদিন দিল্লীতে নর্থ ইন্ডিয়ানদের পাওয়ার কমার কোন কারণ আসলে নাই। (খালি ভাষাই না, ভাষার ভিতরে অ্যাকসেন্ট আর ডায়ালেক্টের ব্যাপারও আছে, কুষ্টিয়া-খুলনার দিকের কথারে যত বাংলা লাগে, সিলেট-চিটাগাংয়ের ডায়ালেক্টরে তো এতোটা লাগে না। এইরকমের ব্যাপারগুলা আছে।) আর এই পাওয়ারের কারণেই দেখবেন, পশ্চিমবঙ্গের সোকল্ড শিক্ষিত লোকজন হিন্দিরে যতোটা হেইট করেন, ইংলিশরে এতোটা না। কারণ উনারা ইংলিশ তো জানেন কিছুটা কলোনিয়াল আমল থিকা, কিন্তু নতুন কইরা হিন্দি শিখাটা তো পসিবল না! বা ইংরেজদের নিজেদের মালিক বইলা মানতে যতোটা রাজি আছিলেন, সেই জায়গায় অন্য নেটিভ ইন্ডিয়ানদের মালিক বইলা ভাবাটাও মুশকিলেরই হওয়ার কথা।…

পাকিস্তানেও একইরকমের সিচুয়েশনই ছিল, ইংলিশের জায়গায় কোনটা আসবো, এই কোশ্চেনটা উঠছিল। রাষ্ট্র যেহেতু সেন্ট্রালাইজড একটা জিনিস, একক একটা জিনিস তো থাকা লাগবে। মানে, ইংলিশের বিপরীতে আরেকটা অপশনের কথাই উঠছিল।

জিন্নাহ কিন্তু ইংলিশেই কইছিলেন – উর্দু’রে স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ করার কথা; উর্দুতে কন নাই। আর যেই স্টুডেন্ট এইটার প্রতিবাদ করছিলো, সে কিন্তু ‘না’ কয় নাই; ‘নো’-ই কইছিলো! ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না? যেই দুইটা ভাষা’র লাইগা ফাইটটা চলতেছে, সেই দুইটাই নাই; এইটা নিয়া কথা হইতেছে অন্য আরেকটা ভাষাতেই।

জিন্নাহ আসলে ইংরেজি জানা লোকদেরকেই শুনাইতে চাইতেছিলেন (উনার উর্দু না বলতে পারা’র কথা মনে রাইখাই বলতেছি)। যারা খালি বাংলা জানে, ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়া উনারা কিছু কইতে পারবে এইরকম গণতন্ত্রে উনি বিলিভই করেন নাই আসলে। যিনি রিভোল্ট করলেন, উনিও জিন্নাহরে জানাইতে চাইছিলেন, বাংলা তো আমরা জানি, ইংরেজির ভিতর দিয়াই। উনি জিন্নাহরে প্রটেস্টই করছেন, অথরিটি’টারে যে উনি চিনেন এইটা জানাইছেন।

মজার ব্যাপার হইলো, “অরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়…” গানটা নিয়া; ‘কাইড়া’, কি রকম অদ্ভূত বাংলা! লিখতে গেলেও ফানি লাগে না একটু, ব্যাপারটা! এই বাংলা-ভাষা ভাষা আন্দোলনের ‘নো’ বেঙ্গলিরা চাইছিলেন বইলা মনে হয় না। এইখানে পাওয়ারের ঘটনাটা আরো ক্লিয়ার হওয়ার কথা আসলে।

তো, সৈয়দ মুজতবা আলী তার আর্গুমেন্টের ভিতরে বারবার ভাষা কেমনে অন্য সব সোশিওপলিটিক্যাল জায়গাগুলাতে দখলের জায়গাগুলা জারি রাখে, সেই জায়গাগুলারে খোলাসা করতেছিলেন।  এই জায়গা থিকা দেখতে গেলেও, এইটা ইন্টারেস্টিং একটা লেখা।

৪.
এই পোস্ট’টা পড়া আগে আগের দুইটা কিস্তিগুলা পইড়া নিলে ভালো। কারণ এইটা একটা লেখারই কন্টিনিউয়াস পার্ট। আর পড়ার সময় লেখার কনটেক্সট’টা মাথায় রাখতে পারলে বেটার। বাংলা-ভাষা নানান সময়ে নানান তর্কের ভিতর দিয়া গেছে। এইটা এইরকম একটা মোমেন্টের কথা। অই সময়টা আমরা পার হয়া আসছি। কিন্তু পার হয়া আসছি বইলাই অই আলাপ-আলোচনাগুলারে ভুইলা যাওয়াটা ঠিক হবে না। বরং এখনকার যেই বাংলা-ভাষা সেইটার বেইজ এইরকমের আলাপগুলাই। যেইগুলা আমরা আসলে আমলে নিতে পারি নাই, বা  নতুন কইরা রিলিভেন্ট কইরা তুলতে পারি নাই। এই কারণে এই ধরণের লেখাগুলা রিভিউ করার দরকার আছে। আবারো ছাপাইতেছি আমরা।

ই. হা.

আমি যে শিক্ষা-ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছি তাতে দেশের শতকরা নব্বই জন মাইনর, ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়বে। এবং সে মাইনর, ম্যাট্রিকের শিক্ষাদান অনেক বেশী উন্নত পর্যায়ের হবে। ইংরেজী বা উর্দুর জন্য জান পানি করবে না বলে তারা অতি উত্তম বাংলা শিখবে এবং ইংলণ্ড, ফ্রান্স, মিশর, ইরানে যে রকম সাধারণ শিক্ষিত লোক মাতৃভাষায় লেখা দেশের শ্রেষ্ঠ পুস্তক পড়তে পারে এরাও ঠিক তেমনি দেশের উন্নততম জ্ঞানচর্চার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। দেশের তাবৎ লোকই যে উত্তম উত্তম পুস্তক পড়বে সেকথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়—কারণ সকলেই জানেন জ্ঞানতৃষ্ণা কোনো বিশেষ শ্রেণী বা সমাজের মধ্যে নিবদ্ধ নয়, এমনকি উচ্চশিক্ষা পাওয়া না পাওয়ার উপরও সে জিনিস সম্পূর্ণ নির্ভর করে না, কত বি-এ, এম-এ, পরীক্ষা পাশের পর চেক্ বই ছাড়া অন্য কোনো বইয়ের সন্ধানে “সময় নষ্ট” করেন না, আর কত মাইনরের ছেলে গোগ্রাসে যা পায় তাই গেলে—কিন্তু মাতৃভাষা দেশের সর্বোত্তম প্রচেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। এর সত্যতা সপ্রমাণ হয় আরেকটি তথ্য থেকে—ইউরোপের বহু সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক আবিষ্কর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন না করেও যশস্বী সৃষ্টিকার হতে সমর্থ হয়েছেন।

সেই তাই দেখতে হবে, মাতৃভাষার যে নির্ঝরিণী দিয়ে বিদ্যাভ্যাস আরম্ভ, নির্ঝরিণীই যেন বিশাল এবং বিশালতর হয়ে বিশ্ববিদ্যার অগাধ সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছয়। মাঝখানে ইংরেজী বা উর্দুর দশ হাত শুকনো জমি থাকলে চলবে না।

বিশেষ করে উর্দুওয়ালা মৌলবী-মৌলানাদের এ কথাটি বোঝা উচিত। বাংলাতে ধর্মচর্চা না করার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মুসলিম ধর্মের কুসংস্কারে নিমজ্জিত। ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ছাপা বই দেখলেই সে ভয়ে ভক্তিতে বিমূঢ় হয়ে যায়—তা সে গুল-ই-বাকাওলির কেচ্ছাই হোক আর দেওয়ান-ই চিরকীন্‌ই হোক্। রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবার জন্য তাকে শেখাতে হবে :

১. ইসলামের ইতিহাস*, [* পাকিস্তানকে theocratic রাষ্ট্র করার কথা উঠছে না। আমার ব্যক্তিগত দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মের নামে যে রাজনৈতিক ধাপ্পা, অর্থনৈতিক শোষণ চলে তার শেষ কোনোদিনই হবে না, যতদিন না দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় ধর্মালোচনায় প্রবৃত্ত হন। ভারতীয় ইউনিয়ন সম্বেন্ধেও এই নীতি প্রযোজ্য।] এবং বিশেষ করে শেখাতে হবে এই তথ্যটা যে সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা অসম্ভব। আব্বাসী ওম্মাই যুগের ভেতর দিয়ে মুসলিম সংস্কৃতি যে-রূপ নিয়েছে সে-রূপ পূর্ব পাকিস্তানে আবার নেবে না। অথচ ইসলামের গণতন্ত্রের খুঁটি এবং ধনবণ্টনে সমতার নোঙ্গর জোর পাকড়ে ধরে থাকতে হবে।

২. শত শত বৎসরের জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চা করে ইয়োরোপ যে শক্তি সঞ্চয় করতে, মিশর দমস্ক আজ তাই শিখতে ব্যস্ত। প্রাচীন ঐতিহ্য যেরকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস না করে গ্রহণ করা যায় না, ইয়োরোপীয় কর্ম এবং চিন্তাপদ্ধতি ঠিক সেই রকম বিনা বিচারে গ্রহণ করা চলবে না।

৩. ইসলাম আরবের বাইরে যেখানেই গিয়েছে সেখানেই তথাকার দেশজ জ্ঞানবিজ্ঞান, শিল্পকলাকে গ্রহণ করে নূতন সভ্যতা-সংস্কৃতি নির্মাণ করেছে। ইরানের সুফীতত্ত্বের যশ কোন দেশে পৌঁছায় নি? তাজমহল এই করেই নির্মিত হয়েছে, উর্দুভাষা এই পদ্ধতিতেই গড়ে উঠল, খেয়াল গান এই করেই গাওয়া হল, মোগল ছবি এই করেই পৃথিবীকে মুগ্ধ করেছে। পূর্ব পাকিস্তানের ভারতীয় ঐতিহ্য নগণ্য নয়, অবহেলনীয় নয়। পূর্ববঙ্গের বহু হিন্দু ভারতবর্ষের ইতিহাসে স্বনামধন্য হয়েছেন, তাঁদের বংশধরগণ যেদিন নবীন রাষ্ট্রে আসন গ্রহণ করে সভ্যতাকৃষ্টি আন্দোলনে যোগ দেবেন সেদিনই উভয় সম্প্রদায়ের অর্থহীন তিক্ততার অবসান হবে। (এস্থলে অবান্তর হলেও বলি ঠিক, তেমনি ভারতীয় ইউনিয়নের মুসলমানদের অবহেলা করেও সে রাষ্ট্র পরিপূর্ণতায় পৌঁছতে পারবে না।) একথা কিছুতেই ভুললে চলবে না যে মামুন, হারুনের সময় যখন আরবেরা ‘জ্ঞান-গরিমায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান ঠিক তখনই তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ‘চরক’ ‘সুশ্রুত’ ‘পঞ্চতন্ত্র’ আরবীতে অনুবাদ করেছিল, গজনীর মাহমুদের আমলে ঐতিহাসিক আল-বীরুনী কী বিপুল পরিশ্রম করে সংস্কৃত শিখে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে প্রামাণিক গ্রন্থ লিখেছিলেন। Continue reading

আবুশ হাশিমের পলিটিক্যাল পজিশন

আবুল হাশিম (১৯০৫ – ১৯৭৪) ছিলেন ব্রিটিশ আমলের শেষদিকের [১৯৩৭ – ১৯৪৭] মুসলিম লীগের নেতা। আবুল হাশিম এবং শরৎচন্দ্র বসু (সুভাষচন্দ্র বসু’র মেজভাই এবং কংগ্রেসের নেতা) ১৯৪৭’র শেষদিকে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাগাভাগির সময়টাতে ‘যুক্ত বাংলা’ করার ট্রাই করছিলেন, এইটা উনার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারে সবচে সিগনিফিকেন্ট ঘটনাগুলার একটা।

এমনিতে এখন উনারে অনেকে বদরুদ্দীন উমরের (১৯৩১) বাপ হিসাবে চিনেন। তবে আবুল কাশেমের (১৮৭২ – ১৯৩৬) পোলা হিসাবে যারা চিনতেন, তাদের কেউ বাঁইচা নাই আর। আবুল কাশেম পশ্চিম-বাংলা’র বর্ধমান এলাকার পলিটিশিয়ান ছিলেন। আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পরে, উনার পলিটিক্যাল লিগাসি ভিতর দিয়া আবুল হাশিম রাজনীতিতে আসেন। ১৯৩৬ সালে বর্ধমান থিকা আইনসভার মেম্বার হিসাবে ইলেক্টেড হওয়ার পরে ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে জয়েন করেন। ১৯৪৩ সালে “বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের” জেনারেল সেক্রেটারি হন।

১৯৪৩ – ১৯৪৭ সাল, উনি পলিটিক্যালি কিছু ক্রুশিয়াল রোল প্লে করেন। মেইনলি এই সময়টা নিয়াই উনি একটা বই লেখছেন “In Retrospection” নামে, যেইটা উনার ছোট ছেলে শাহাবুদ্দীন মহম্মদ আলী “আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি” নামে। [ইন্টারেস্টিং না বাংলা নামট! 🙂 ]

বাংলাদেশে যারা রাজনীতি নিয়া খোঁজ-খবর রাখেন, তাদের কাছে বইটা পরিচিত। ১৯৭৮ সালে মেবি ফার্স্ট ছাপা হয় বাংলাদেশে। আমি অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থিকা ছাপানো ২০১৮ সালের বইটা ফলো করছি। বইটা পড়তে গিয়া, তিনটা জায়গাতে আবুল হাশিমের পলিটিক্যাল পলিটিক্যাল পজিশন নিয়া কথা বলার দরকার আছে বইলা মনে হইছে আমার।

২.
একটা জায়গা নিয়া বলছিলাম কিছুটা, ইউরোপের আদলে ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিন্টের কথা উনি যেইখানে বলতেছেন। উনার কথা’টা আগে পড়েন:

“জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রচার করেছিলেন এবং এ তত্ত্বকে তিনি তাঁর রাজনীতির ধুয়ো হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। আমি জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলাম না এবং বাংলায় আমি সেটা প্রচারও করিনি। আমি প্রচার করেছিলাম বহুজাতিতত্ত্ব। আমি মনে করি ভারতবর্ষ কোনো একটি দেশ নয়। এ হলো একটি উপমহাদেশ। ভারতবর্ষ বিভিন্ন দেশ ও জাতির সমন্বয়ে গঠিত। আমার কাছে ইউরোপ বলতে যা বোঝায় ভারতবর্ষ বলতেও তাই বোঝায়। ফ্রান্সের নাগরিক যখন বলে সে একজন ফরাসি সেটাও যেমন সত্য, আবার যখন বলে সে একজন ইউরোপীয় সেটাও তেমনি সত্য। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রেও সেই একই ব্যাপার।”

/আমার জীবন ও বিভাগপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি, আবুল হাশিম (পেইজ ৩৮)

কথা হিসাবে তো খুবই সুন্দর। কিন্তু ১৯৪০ সালে যদি উনি এইরকমই ভাবতেন, এইটা একটু ডাউটফুল লাগতেছে আমার কাছে। অবশ্যই বাংলা বইলা আলাদা দেশ চাইছেন উনি, যেই কারণে পাকিস্তান আমলে উনি পলিটিক্যালি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ কেউ হইতে পারেন নাই। কিন্তু ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টরে যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কনটেক্সটে ভাবতেন, তাইলে তো দুইটা রাষ্ট্র না, ৫/৭টা দেশের কথাই কইতেন না! কোন জায়গায়, কোনভাবে? কিন্তু সেইটা তো নাই। মেবি এইটা ১৯৭০-৭৪ সালের দিকের একটা রিফ্লেকশন হইতে পারে উনার। লজিক্যালি। Continue reading

ছুইছাইড

গত কিছু দিনে বেশ কিছু ছুইছাইডের ঘটনা ঘটছে দেশে এবং এই ব্যাপারে অনেকে আলাপও করছেন, কলাম-টলামও লিখছেন কয়েক জন।

ছুইছাইডের ব্যাপারে পুরানা দুয়েকজন ভাবুক-বয়াতির লেখাজোখা আছে শুনছি, ইস্টুডেন্ট দশায় পাশ করার তাগিদে চোথা-টোথাও পড়ছিলাম মনে পড়ে! এমিল দুর্খেইম আর কার্ল মার্ক্সের নাম শুনছি এই ব্যাপারে। বাংলাদেশে এখন জারা এই ব্যাপারে ভাবাভাবি করেন, তারা মনে হয় পেরায় শবাই দুর্খেইমের নজরেই দেখেন ঘটনাগুলারে, কতক মার্ক্সও থাকতে পারেন!

তো, আমাদের মগজ জে এখনো ইউরোপের (বিলাতি কই আমি এইটারে) তালুকদারিই আশলে, এই ভাবাভাবি হয়তো ঐটারই আরেকটা নজির! মানে দুর্খেইম বা মার্ক্স জে ভুল কিছু কইছেন, তা কইতেছি না, কিন্তু লোকেশন বা জামানা বা কালচার, মানে মানুশের দুনিয়া বদলাইলে নয়া কোন ডাইমেনশন পাওয়া জায় কিনা, শেইটা একটু পরখ করার তাগিদ দেখি না আর কি! ইউরোপের ভাবনা-চিন্তাই জেন কাফি এই ব্যাপারে, এইটারেই কইলাম, মগজে বিলাতি তালুকদারি!

অথচ বাস্তবে বিলাতি রাডারে হয়তো জাপানে বৌদ্ধদের ছুইছাইড বা বাংরাদেশে ইজ্জত হারাবার ঘটনায় ছুইছাইড বা ইনডিয়ায় হিন্দুদের শহমরনই হয়তো খুব ধরা পড়ে নাই! কিন্তু এগুলার বাইরে বাংলাদেশেই আরেক কিছিমের ছুইছাইডের কথা কইতেছি আমি কয়েক বছর ধইরাই! মিথিলা নামের এক মাইয়ার ছুইছাইড লইয়া বয়ান করছিলাম কয় বছর আগে।*

আমার হিশাবে কয়, বাংলাদেশের লিগাল ছিস্টেম ছুইছাইড করতে হরদম ফুশলায়! তার বাইরেও ভিতরে ভিতরে জেই ছাইকোলজিকেল কায়কারবার চালু আছে শমাজে তাতে রিভেঞ্জ/বদলা/পোতিশোধের একটা তরিকা হিশাবে ছুইছাইডকে পাইতেছি আমি! লিগাল ছিস্টেম তরিকা হিশাবে এই ভাবনাটারেই আরেকটু পোক্ত করে। আপনের মগজ জদি বিলাতি তালুকদারি হইয়া থাকে, তাইলে এইটা আপনের রাডারে ধরা পড়বে না!

বাংলাদেশের আইনে ছুইছাইডে ফুশলানি বইলা একটা ব্যাপার আছে; ‘আমার মরনের জন্ন অমুক দায়ি’–এই টাইপের নোট লেইখা মরলে রিমান্ড-জেল কত কি ঘইটা জায়! এতে ছুইছাইড আশলে দুশমনরে ঘায়েল করার বন্দুক হইয়া ওঠে পেরায়ই!

কিন্তু এর বাইরেও কতগুলা ব্যাপার আছে; ধরেন, অনশন কি আশলে ছুইছাইড এটেম্পট্? না হইলে কেন না!? আমরন অনশন তো বইলা-কইয়াই ছুইছাইড এটেম্পট্!

হাংগার এস্ট্রাইক বা অনশন আশলে একটা মরাল পেরেশার দেবার কোশেশ। উইকিতে দেখলাম, খিরিস্টান হবার আগে আইরিশ ছোছাইটিতে অনশন আছিলো; কিন্তু ঐটা না খাইয়া মরা না ঠিক, বরং মেহমানদারির ব্যাপারে শমাজে জেই দেখাদেখি, ঐটা ইউজ কইরা পেরেশার দেওয়া। এমন জে, কেউ ধরেন আপনের লগে কোন আকাম করলো, আপনে তার বাড়ির শামনে জাইয়া বইশা পড়লেন। আপনে তখন মেহমান, তার দায়িত্ত হইলো আপনের মেহমানদারি; কিন্তু আপনে শারা দিন বইশাই থাকলেন, আপনের দাবি জানাইলেন, কিন্তু কিছুই খাইলেন না, তার মেহমানদারি লইলেন না। এইটা তার জন্ন খুবই শরমের ব্যাপার আছিলো, এইটা তার একটা বিরাট মরাল ফেইলুর! কিন্তু না খাইয়া মরার ব্যাপার নাকি আছিলো না ঠিক, তার মেহমান হবার জোগ্গ তার ভাবেন না, তার মোহমানদারি আপনে লইলেন না, এইটা জানানোই আপনের মনজিল, না খাইয়া মরা না।

কিন্তু বিটিশ ইনডিয়ায় না খাইয়া মরার ধামকি দেওয়া, এইভাবে মরাল পেরেশার পয়দা করাটা পপুলার কইরা তোলেন করমচান গান্ধি; উনি কিছু ছুইছাইডাল আছিলো, নজরুলও তাই।

এখন ভাবেন, ঐ রিভেঞ্জ আর মরাল পেরেশার পয়দা করার ব্যাপারটা জদি মেলে, তাইলে কেমন ঘটনা ঘটতে পারে?

গত কিছুদিনে বাম ঘরানার দুয়েকটা পোলার ছুইছাইডের ঘটনায় ঐ মিলনটা দেখতে পাই আমি! একজনের ব্যাপারে শুনলাম এমন: তার পেমিকা তারে ডাম্প কইরা আরেকজনের লগে পেম করতেছে, তখন ঐ পোলা ছুইছাইড করছে।

এরা দুই জনেই বাম ঘরানার; বাম ঘরানার লোকেরা বেশি বেশি দরদি আর নিতিবান হবেন বইলা একটা আন্দাজ আছে মনে হয়। তো, এমন ছুইছাইড কেমন রিয়েকশন পয়দা করবে পেমিকার মনে?

এমন ছুইছাইড জেই মরাল পেরেশার পয়দা করবে, তাতে ঐ পেমিকা বিরাট একটা গ্লানি আর আফছোসের ভিতর পড়বে; ঐ পোলা জিন্দা দশা জেইটা পারে নাই, পেমিকার নয়া পেমটা ভাইংগা জাবার শম্ভাবনা, গ্লানি আর আফছোসে পেমিকা আর পেমটা করতে পারতেছে না!

এই পেমিকার মনে আমরন ঐ গ্লানি আর আফছোস থাকার শম্ভাবনা দেখছে ঐ পোলা, লগে নয়া পেমটাও ভাংতে পারলো, রিভেঞ্জ হিশাবে এইটা তো বিরাট কামিয়াবি! এইটা তো পোলা জিন্দা থাইকা ঘটাইতে পারতো না! এগুলা হিশাব করলে আমরা বুঝবো জে, পোলা ছুইছাইড করছে, আমাদের মন ভিজা গেলেও আখেরে বুঝবো জে, পোলা আশলে বেশ ছ্যাডিস্ট আছিলো! জারে ভালোবাশতো তারে আমরন একটা গ্লানির ভিতর বাচতে বাদ্ধ করতে পারার শম্ভাবনায় মরতে মরতেও শয়তানের মুচকি হাশি দিছিলো হয়তো পোলা! Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →