Main menu

যেভাবে প্রেস রিলিজ কপি করে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়

মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস এর বক্তব্য সংক্রান্ত খবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে পড়লাম।

প্রায় সবগুলো সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের পাঠানো প্রেস রিলিজ থেকে প্রতিবেদন করা হয়েছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিবেদন’ এর আদলে দূতাবাসের পাঠানো প্রেস রিলিজটি হুবহু অক্ষরে অক্ষরে দাঁড়ি-কমাসহ প্রকাশ করে দিয়েছে।

প্রেস রিলিজের ডাউনলোড করে পড়ুন এখান থেকে: http://www.bdembassyusa.org/index.php?page=press-release

যেমন ইউএনবি। পোস্টে যুক্ত স্ক্রিনশটে দেখুন বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইউএনবি কিভাবে প্রেস রিলিজ কপি করেছে। (লাল চিহ্নিত ৮টি শব্দ প্রেস রিলিজের বাইরে থেকে যোগ করেছে!)
লিংক: https://archive.ph/Kiy20

ইউএনবির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আবার ঢাকা ট্রিবিউন এবং প্রথম আলো ইংলিশ।
প্রথম আলো: https://perma.cc/Z282-J4Q9
ঢাকা ট্রিবিউন: https://perma.cc/AY7R-PC57

রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাসস-ও একই কাজ করেছে। দূতাবাসের প্রেস রিলিজ হুবহু তুলে দিয়েছে প্রতিবেদন আকারে (ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায়)।
বাসস ইংরেজি: https://archive.ph/GbLKs
বাসস বাংলা: https://perma.cc/B8T9-G7JE

বাসস এর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার (ইংরেজি ও বাংলায়)
ডেইলি স্টার ইংরেজি: https://perma.cc/23SG-2PMD
ডেইলি স্টার বাংলা: https://perma.cc/HGD2-UWQQ

মজার বিষয় হলো ডেইলি স্টার এর ইংরেজি ভার্সনে (মূলত বাসস থেকে আউটসোর্স করা, আর বাসস কপি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস রিলিজ থেকে) দুটি প্যারা আছে এমন:

“Meeks also replied to a question on certain quarter, from inside and outside Bangladesh, that is strongly lobbying for imposing sanctions against more officials and the politicians as well.

”But we will not do it as per their words … it’s not possible, and we’ll take right steps after scrutinising all things,” he said.”

স্টার এর বাংলা ভার্সনে অনুবাদে প্যারা দুটি হয়ে গেছে:

“মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেগোরি আরও জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে থেকে একটি সুবিধাবাদী মহল আরও কিছু কর্মকর্তা, এমনকি রাজনীতিবিদদের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রবলভাবে লবিং চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা তাদের মুখের কথায় কাজ করবো না। এটা সম্ভব নয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পর আমরা সঠিক উদ্যোগ নেব।”

অর্থাত, মিকস’কে প্রশ্নকারী ব্যক্তি যে কথাগুলো বলে প্রশ্ন করেছেন সেই কথাগুলোকে মিকস এর বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলা ভার্সনের রিপোর্টে!!
Continue reading

একটা ভালো রোমান্স ফিল্ম সবসময় নিঃসঙ্গতার ফিলিংটার উপর নির্ভর করে – ওং কার ওয়াই

This entry is part 14 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

[লিবার্টি টাইমসের এডিটরের নোট: একটা মনকাড়া ফিল্ম হইলো অনেকগুলা ভিন্ন ভিন্ন আর্টিস্টিক এসপেক্টের মিক্স আর ম্যাচের রেজাল্ট, ক্রিয়েটরের ট্যালেন্ট আর স্টাইল একসাথে দানা বাঁইধা এর জন্ম দেয়। আজকে আমরা একটা ইন-ডেপথ ইন্টারভিউ ছাপতেসি ফিল্ম ক্রিটিক ল্যান সু-ওয়েই আর হংকংয়ের ফিল্ম ডিরেক্টর ওং কার-ওয়াইয়ের। তারা তার নতুন কাজ ২০৪৬ নিয়া আলাপ শুরু করে, তারপর তারা ওংয়ের সিনেমায় চাইনিজ লিটারেচারের রেফারেন্স, উনি কিভাবে ভিজুয়াল স্পেসের সেন্স ক্রিয়েট করে, ফিল্মে স্পেস এ্যান্ড টাইমের ব্যাকগ্রাউন্টা কি, আর সাউন্ডট্র‍্যাক ইত্যাদি নিয়া আলাপ আগায়। ক্রিয়েটর আর ভিউয়ারের এই ডায়লগের মধ্য দিয়া ল্যান আর ওং দুইজন দুইজনের ফিল্ম টেক্সটের এস্থেটিক্সরে চ্যালেঞ্জ করেন। এই ইন্টারভিউ ডিরেক্টরের স্টাইল রিভিল করে: সমৃদ্ধ তবু অস্পষ্ট, রেট্রো-রিয়ালিজম তবু এবস্ট্রাক্টরকমের ইম্যাজিনেটিভ।]

ওং কার-ওয়াই রোম্যান্টিক ফিল্মের একজন প্রধান রাইটার। আবার কমার্শিয়াল সেলার হিসেবেও উনি তুঙ্গে। একটা প্লেস বা কোনো স্টাররে বেচার জন্য ওনার ফিল্মগুলা সবচেয়ে ইউনিক ইমেজ ইউজ করে, যেমন চাংকিং এক্সপ্রেসের ল্যান কোয়াই ফং আর সিম শা সুই, বা হ্যাপি টুগেদারে লিয়াওনিং স্ট্রিট নাইট মার্কেট আর টাইপেইয়ের মুঝা লাইন। ওংয়ের ফিল্মগুলা মুডের উপর এম্ফাসাইজ করে। উনি প্রচুর অসাধারণ আর ফিলোসফিকাল প্রেমের বয়ানের মাধ্যমে নিজস্ব একটা ইয়্যি-জিং (Yi jing: আর্টিস্টরা কিভাবে অবজেক্টিভ অবজারভেশন আর সাবজেক্টিভ ইমোশনের মিশেল ঘটায়া একটা নিজস্ব আর্টিস্টিক ওয়ার্ল্ড ক্রিয়েট করেন তার একটা চাইনিজ কনসেপ্ট) ক্রিয়েট করেন। ইন দ্য মুড ফর লাভে ১৯৬০ দশকের হংকংয়ের বিউটি ফুটায়া তোলার জন্য উনি পুরানা প্রপ, কিপাও (qipao: ১৯২০ দশকের ক্লাসিকাল চাইনিজ জামা), পুরান এপার্টমেন্ট, অন্ধকার অলিগলি এইসব ইউজ করার পাশাপাশি ওং ১৯৬০এর দশকের রাইটার লিউ ইয়্যিচ্যাংয়ের ইন্টারসেকশন হইতেও এডাপ্ট করসেন। ইন্টারসেকশনে, লিউ একটা বেটা আর এক মহিলার হংকংয়ের রাস্তায় ঘোরার কথা লেখেন, আর দেখান দুইজন রাস্তায় যা যা দেখে তার প্রতি তাদের রিফ্লেকশন কত ডিফরেন্ট। লিউ দেখাইতে চাইসিলো ভিন্ন ভিন্ন মানুষ স্পেস আর টাইমরে কেমন আলাদাভাবে এক্সপেরিয়েন্স করে, আর দুনিয়াবি মানুষের কামনা-বাসনার কথা।

ওই এসে’র কয়েকটা লাইন যেন ইন দ্য মুড ফর লাভের একদম এসেন্স বইলা দেয়:

Those disappeared times,
Are obscured by a dust-covered glass,
Could be seen, couldn’t be reached.
He has been reminiscing everything of the past.
If he could break through that dust-covered glass,
He would return to those disappeared times.

ওং বলেন, “লিউ ইয়্যিচ্যাংয়ের মত রাইটাররা হংকংরে যেইভাবে দেখসে ও চিনসে, অডিয়েন্সরেও তা ওইভাবে চেনাইতে পারাটা আমার জন্য সবচাইতে খুশির জিনিস ছিল।” ওং কার-ওয়াই আমারে বলসিলেন চার বছর আগে ইন দ্য মুড ফর লাভ রিলিজ হওয়ার পরে হংকংয়ের কিছু লোক লিউ ইয়্যিচ্যাংয়ের লিটারেচার আর হিস্টরিকাল গুরুত্ব রিভিজিট করার জন্য একটা সিম্পোজিয়াম বানাইসিলেন। ইন্টারসেকশন এসেটা অরিজিনালি লিউ ইয়্যিচ্যাং সমগ্রে ছিল, কিন্তু সিম্পোজিয়ামের পর ওইটা আলাদা বই হিসেবে আবার প্রিন্ট করা হইসে। “সবচাইতে সেরা ঘটনা হইলো ফ্রান্সের এক পাব্লিশার ইন দ্য মুড ফর লাভ দেখার পর লিউ ইয়্যিচ্যাংরে চিনলো। পরে সে তার লেখাপত্র ফ্রেঞ্চে অনুবাদ করায়া ছাপলো। এতে আমার মুরুব্বি গুরু (লিউ) অনেক খুশি হইসিলেন।” অনেক একসাইটেডলি জানান ওং কার-ওয়াই, তার অন্ধকার চশমার তলে চোখের জ্বলজ্বল স্পষ্ট দেখা গেলো।

২০০৪-এর অক্টোবরে ২০৪৬ এর রিলিজের পর, এন্ড ক্রেডিটে লিউ ইয়্যিচ্যাংরে সম্মান জানানো হয়। যারা ওনার লেখার সাথে পরিচিত তারা পয়লা স্ক্রিনের টেক্সটটা চিন্যা থাকবেন, “All memories are traces of tears.” আর তারপর এ্যালকোহলিক হইতে আরো কিছু কোটেশন। লিউরে নিয়া ওংয়ের এই অবসেশনের হেতু কি? লিউয়ের লেখার কি এমন জাদু আছে যে তা ওংরে ইন্সপায়ার করে শব্দ আর ইমেজ মিলায়া নতুনরকমের আর্টের জন্ম দিতে।

রিসেন্টলি ওং তাইওয়ানে আসছিলো, তো আমরা ইন্টারভিউটা শুরু করলাম লিউয়ের কাজ নিয়া প্রশ্ন কইরাই। আস্তে আস্তে আমরা এই রোম্যান্টিসিজমের গুরুঠাকুরের ক্রিয়েটিভ প্রসেসটা বাইর করলাম।

টোনি ল্যান

টোনি ল্যান: ইন দ্য মুড ফর লাভে আপনি লিউ ইয়্যিচ্যাংয়ের ইন্টারসেকশনের একটা রেফারেন্স টানসেন, আর পাবলিকালি তারে সম্মানও জানাইসেন। আবার, ২০৪৬-এ আপনি লিউয়ের এলকোহলিকের রেফারেন্স টানসেন। আপনি আপনার ফিল্মগুলার মাধ্যমে ওনার সাথে একটা ডায়লগ ক্রিয়েট করতে চাইতেসেন। কেন?

ওং কার ওয়াই: ইন দ্য মুড ফর লাভ আর ২০৪৬-এর চাও মো-ওয়ান ক্যারেক্টারটা লিউ ইয়্যিচ্যাংয়ের থিকা নেয়া। উনি ওই বিশৃঙ্খলার মধ্যে শ্যাংঘাই হইতে হংকংয়ে আসছিলেন। আগে থিকা ওনার বেশ ফেম থাকলেও, ওনার টাকা কামানোর কোনো নতুন উপায় খোঁজা লাগসিলো। সাহিত্যের লোক হইয়া কামানোর উপায় কি? উত্তরটা সহজ: লেখালেখি কইরা। ফলে ওনার সব জনরায় লেখা লাগসে। এমনকি তার ভোর হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেইখা যাওয়া লাগসে। তারপরেও, তার জন্য খাইয়াপইরা বাঁচা খুব টাফ ছিল। ওনার সাথে যখন ফার্স্ট দেখা হয়, দেখসিলাম উনি প্রত্যেকদিন কি প্রচণ্ড হার্ডওয়ার্ক করেন। বিছানা থিকা উইঠাই লেখা শুরু কইরা রাত আটটা-নয়টা পর্যন্ত চালায়া যাইতেন। জীবনে তার সুখ বলতে ছিল সিনেমা দেখতে যাওয়া আর বউরে নিয়া মাঝে মাঝে একটু হাঁটতে বাইর হওয়া।

ফিল্মের চাও মো-ওয়ান ১৯৬০য়ের একজন রাইটার। লিউ’র লেখাপত্রে ওই আমলের রাইটারদের ডেইলি লাইফের ব্যাপারে অনেককিছুই জানা যায়। ইন দ্য মুড ফর লাভের শুরুতে আমি ওনার ইন্টারসেকশনের কিছু লাইন ইউজ করসিলাম। ২০৪৬-এ আমি এলকোহলিকের কিছু রেফারেন্স ইউজ করসি, যেমন “All memories are traces of tears” এইরকম আরো কিছু লেখা কোট কইরা। এইটার মেইন পার্পোজ ছিল ১৯৬০য়ের হংকংয়ের ইন্টেলেকচুয়ালদের প্রতি একটা রেসপেক্ট শো করা। ওইসময়কার হংকংয়ের লিটারেচার ফলো করলেই বুঝা যায় তখনকার লেখকদের দিনে অনেক লেখতে হইতো। পেটের দায়ে লেখা লাগতো, কোনো “মহৎ আদর্শের তাগিদে” লেখার সুযোগ তারা পাইতেন না। এরোটিকা বা ফ্যান্টাসিমার্কা জিনিসপাতিও লেখা লাগতো। তাদের নিজেদের বিবেক আর রিয়েলিটির ভিতর সবসময় একটা দ্বন্দ্ব চলতো। এইসব লেখা দেখলে বুঝা যায় তাদের লাইফের ব্যাপারে তাদের কোনো চয়েস ছিল না। তবে কিছু রাইটার ছিল যারা বাজারি সস্তা ফিকশন লেখার পাশাপাশি এমনকিছুও লিখতেন যা নিয়া তারা প্রাউড থাকতে পারেন। লিউ ওই টাইপের রাইটারদের মধ্যে অন্যতম।

টোনি: এতই ভাল্লাগলে আপনি সোজাসুজি লিউ’র লেখা এডাপ্ট করলেন না কেন? আপনি অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে লিখতে গেলেন কেন? Continue reading

পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ।। সৈয়দ মুজতবা আলী।। কিস্তি ৩।।

This entry is part 13 of 22 in the series লেখার ভাষা

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২।।


এই পোস্ট’টা পড়া আগে আগের দুইটা কিস্তি পইড়া নিলে ভালো। কারণ এইটা একটা লেখারই কন্টিনিউয়াস পার্ট। আর পড়ার সময় লেখার কনটেক্সট’টা মাথায় রাখতে পারলে বেটার। সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৪৭ সালে ভাষণ দেয়ার পরে ১৯৫৬ সালে বই হিসাবে ছাপাইছিলেন, লেখাটা। বাংলা-ভাষা নানান সময়ে নানান তর্কের ভিতর দিয়া গেছে। এইটা এইরকম একটা মোমেন্টের কথা। অই সময়টা আমরা পার হয়া আসছি। কিন্তু পার হয়া আসছি বইলাই অই আলাপ-আলোচনাগুলারে ভুইলা যাওয়াটা ঠিক হবে না। বরং এখনকার যেই বাংলা-ভাষা সেইটার বেইজ এইরকমের আলাপগুলাই। যেইগুলা আমরা আসলে আমলে নিতে পারি নাই, বা  নতুন কইরা রিলিভেন্ট কইরা তুলতে পারি নাই। এই কারণে এই ধরণের লেখাগুলা রিভিউ করার দরকার আছে। আবারো ছাপাইতেছি আমরা।

ই. হা.

এ দেশে যে ইসলামি শিক্ষা কখনো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে নি তার প্রধান কারণ বাংলার মাধ্যমিকে কখনো শাস্ত্রচর্চা করা হয় নি। যে বস্তু মাতৃভাষায় অতি সহজ, অত্যন্ত সরল, বিদেশী ভাষায় সেই বস্তুই অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন আরম্ভ হয় স্কুল থেকে পালানোর পালা এবং মধ্যবিত্ত ও ধনীর গৃহের চাপের ফলেই এই দুই শ্রেণীর ছেলে তখনো লেখাপড়া শেষে, কিন্তু অনুন্নত গরীব তখন ভাবে যে পরিবারে যখন কেউ কখনো লেখাপড়া শেখে নি তখন এ ছেলেই বা পারবে কেন, বাপ-দাদার মত এরো মাথায় গোবর ঠাসা।

মাতৃভাষা ভিন্ন অন্য মাধ্যমিকে শিক্ষা দিলে যে দেশের কতদূর ক্ষতি হয় তার সামান্যতম জ্ঞান এখনো আমাদের হয় নি। সে শিক্ষাবিস্তারে যে তখন শুধু অজস্র অর্থব্যয় হয় তা নয়, সে শিক্ষা ছাত্রের বুদ্ধিবৃত্তিকে অবশ করে তোলে, কল্পনাশক্তিকে পঙ্গু করে দেয় এবং সর্বপ্রকার সৃজনী-শক্তিকে কণ্ঠরোধ করে শিক্ষার আঁতুড় ঘরেই গোরস্থান বানিয়ে দেয়।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—আমার অভিজ্ঞতা কলেজের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষকরূপে অর্জিত—যে পশ্চিমভারতের কার্ভে স্ত্রী-মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যদিও দু’এক দিক দিয়ে বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের চেয়ে পশ্চাৎপদ তবু স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা যেমন তাদের বেশী তেমনি প্রকাশ ক্ষমতা, আত্মপরিচয় দানের নৈপুণ্য তাদের অনেক বেশী। তার একমাত্র কারণ কার্ভে স্ত্রী-মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আপন আপন মাতৃভাষার মাধ্যমিকে লেখাপড়া করে আর বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা লেখাপড়া শেখে ইংরেজীর মাধ্যমিকে। কার্ভের মেয়েরা সেই কারণে আপন মাতৃভাষায় নিঃসঙ্কোচে অবাধ-গতিতে আপন বক্তব্য বলতে পারে, বোম্বাই, কলিকাতা, ঢাকার ছেলেরা না পারে বাংলা লিখতে, না জানে ইংরেজী পড়তে।

এ-কাহিনীর শেষ নেই কিন্তু আমাকে প্রবন্ধ শেষ করতে হবে। তাই পাঠককে সবিনয় অনুরোধ করি তিনি যেন শিক্ষা বিভাগের কোনো পদস্থ ব্যক্তিকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেন। শ্রীহট্টের খ্যাতনামা আলিম মৌলানা সখাওতুল আম্বিয়া প্রমুখ গুণীগণ আমার সম্মুখে বহুবার স্বীকার করেছেন যে মাদ্রাসাতে যদি বাংলা ভাষা সর্বপ্রকার বিষয় শিক্ষার মাধ্যমিক হত তবে আমাদের আরবী-ফার্সীর চর্চা এতদূর পশ্চাৎপদ হত না। এবং কৌতুকের বিষয় এই যে, উর্দুওয়ালারা বাংলাকে এত ইনকার-নফরৎ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন তাঁদেরও অনেকেই কঠিন বিষয়বস্তু যখন উর্দুতে বোঝাতে গিয়ে হিম্‌সিম্ খেয়ে যান তখন নোয়াখালী, সিলেটের গ্রাম্য উপভাষারই শরণাপন্ন হন।

এত সরল জিনিস উর্দুওয়ালাদের কি করে বোঝাই? কি করে বোঝাই যে পারস্যের লোক যখন ফার্সীর মাধ্যমিকে আরবী (এবং অন্যান্য তাবৎ বিষয়) শিখবে। উর্দুর মাধ্যমিকে কোন আজগুবী কাণ্ডজ্ঞানহীনতার তাড়নায়?

এ প্রসঙ্গের উপসংহারে শেষ কথা নিবেদন করি, মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যমিক না করলে সে ভাষা কখনো সমৃদ্ধিশালী হবার সুযোগ পায় না।

স্বরাজ এলো পাকিস্তান হ’ল কিন্তু হায়, গোস্বামী খাসলৎ (মনোবৃত্তি ও আচার ব্যবহার) যাবার কোনো লক্ষণ তো দেখতে পাচ্ছিনে। এতদিন করমপুর ইংরেজীর গোলামী, এখন স্বেচ্ছায় বরণ করে নিচ্ছি উর্দুর গোলামী। খতম আল্লাহু আলা কুপুবিহিম ইত্যাদি। খুদাতালা তাদের বুকের উপর সীল এঁটে দিয়েছেন। (কুরান থেকে এ অংশটুকু এখানে উদ্ধৃত করার কোনো প্রয়োজন হ’ত না, যদি কোনো কোনো ‘মৌলানা’ বাংলা ভাষার সমর্থকদের ‘কাফির’ হয়ে যাওয়ার ফতোয়া না দিতেন)।

এইবার দেখা যাক্, বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয়, সরকারী ও সংস্কৃতিক ভাষারূপে গ্রহণ করতে উর্দুওয়ালাদের আপত্তিটা কি? তাঁদের প্রধান আপত্তি, বাংলা ‘হেঁদুয়ানী’ ভাষা। বাংলা ভাষায় আছে হিন্দু ঐতিহ্য, হিন্দু কৃষ্টির রূপ। পূর্ব পাকিস্তানী যদি সে ভাষা তার রাষ্ট্র ও কৃষ্টির জন্য গ্রহণ করে তবে সে হিন্দুভাবাপন্ন হয়ে যাবে।

উত্তরে নিবেদন, বাংলা ভাষা হিন্দু ঐতিহ্য ধারণ করে সত্য, কিন্তু এইটেই শেষ কথা নয়। বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

বুদ্ধদেব যে রকম একদিন বৈদিক ধর্ম ও তার বাহন সংস্কৃতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৎকালীন দেশজ ভাষায় (পরে পালি নামে পরিচিত) আপন ধর্ম প্রচার করেন, ঠিক সেই রকম বাংলা ভাষার লিখিত রূপ আরম্ভ হয় বৌদ্ধ চর্যাপদ দিয়ে। পরবর্তী যুগে বাংলা সাহিত্য রূপ নেয় বৈষ্ণব পদাবলীর ভিতর দিয়ে। আজ পদাবলী সাহিত্যকে হিন্দু ধর্মের অংশ হিসাবে গণ্য করা হয় কিন্তু যে যুগে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারিত সে যুগে তাকে বিদ্রোহের অস্ত্রধারণ করেই বেরুতে হয়েছিল। তাই শ্রীচৈতন্য প্রচলিত ধর্ম সংস্কৃতে লেখা হয় নি, লেখা হয়েছিল বাংলায়। সঙ্গে সঙ্গে রামায়ণ মহাভারতের যে অনুবাদ বাংলায় প্রকাশিত হয় তার পেছনে ছিলেন মুসলমান নবাবগোষ্ঠী। কেচ্ছা-সাহিত্যের সম্মান আমরা দি–হিন্দুরা দেন না— এবং সে সাহিত্য হিন্দু ঐতিহ্যের গড়া নয়। এর পর ঊনবিংশ শতাব্দীতে যে বাংলা গদ্যের পত্তন হয় তার অনুপ্রেরণা খৃষ্টান সভ্যতা থেকে। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ নিজেকে হিন্দু বলে স্বীকার করেন কি না, সে কথা অবান্তর—তাঁর অবদান যে উপনিষদ-সংস্কৃতি ও ইয়োরোপীয় প্রভাবের ফলে গঠিত সে কথা অনস্বীকার্য শ্রীরামকৃষ্ণদেব প্রচলিত নূতন ধারাকে বৈদিক কিংবা সনাতন বলা ভুল, সে ধারা গণ উপাসনার উৎস থেকে প্রবাহিত হয়েছে এবং সে উৎসকে গোঁড়া হিন্দুরা কখনো শ্রদ্ধার চক্ষে দেখেন নি। স্বামী বিবেকানন্দের ‘জাতীয়তাবাদে’র মূল বেদ উপনিষদ নয়।

উর্দুওয়ালারা বলবেন, ‘এসব খাঁটি হিন্দু না হতে পারে, কিন্তু আর যাই হোক না কেন, ইসলামি নয়।

আমরা বলি, ‘ইসলামি নয় সত্য কিন্তু এর ভেতরে যে ইন্‌কিলাব্ মনোবৃত্তি আছে সেটি যেন চোখের আড়ালে না যায়। এই বিদ্রোহ ভাব বাংলায় ছিল বলে কাজী নজরুল ইসলাম একদিন আপন ‘বিদ্রোহী’ দিয়ে রবীন্দ্রনাথের তথাকথিত ‘মরমিয়াপনার’ বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পেরেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানে যে নবীন কৃষ্টি গঠিত হবে সেটা এই বিদ্রোহ দিয়েই আপন বিজয়-অভিযান আরম্ভ করবে।

এস্থলে সম্পূর্ণ অবান্তর নয় বলে আরেকটি কথা বলি: উত্তর ভারতের তাবৎ সংস্কৃত ভাবাপন্ন ভাষার মধ্যে (হিন্দী, মারাঠী, গুজরাতী ইত্যাদি) বাংলাই সবচেয়ে অসংস্কৃত। হিন্দী, মারাঠী পড়বার বা বলবার সময় সংস্কৃত শব্দ খাঁটি সংস্কৃত উচ্চারণে পড়া এবং বলা হয়—‘পরীক্ষা’ পড়া হয়—‘পরীক্ষা’, ‘আত্মা’ পড়া হয় ‘আত্মা’—কিন্তু বাংলায় সংস্কৃত শব্দ, এমনকি সংস্কৃত ভাষা উচ্চারণ করার সময়ও, উচ্চারণ করা হয় বাংলা পদ্ধতিতে। এ বিষয়ে বাঙালী হিন্দু পর্যন্ত উর্দুভাষী মুসলমানের চেয়ে এককাঠি বাড়া। উর্দুভাষী মুসলমান তার ভাষার সংস্কৃত শব্দ উচ্চারণ করে খাঁটি সংস্কৃত কায়দায়, বাঙালী হিন্দু উচ্চারণ করে ‘অনার্য’ কায়দায়।

না হয় স্বীকার করেই নিলুম, বাংলা ‘হেঁদুয়ানী’ ভাষা কিন্তু প্রশ্ন, এই ভাষা এতদিন ধরে ব্যবহার করে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমান কি ‘নাপাক’, ‘হিন্দু’ হয়ে গিয়েছে? পাকিস্তান স্বপ্ন সফল করাতে কি পূর্ব পাকিস্তানের ‘না-পাক’ মুসলমানদের কোনো কৃতিত্ব নেই? পাকিস্তান-স্বপ্ন কি সফল হল লাহোর, লক্ষ্ণৌর কৃপায়? পূর্ব পাকিস্তানে যারা লড়ল তারা কি সবাই উর্দুর পাবন্দ আলিম-ফাজিল, মৌলানা-মৌলবীর দল? না তো। লড়ল তো তারা যারা উর্দু জানে না, এবং বাংলার জন্য আজ যারা পুনরায় লড়তে তৈরী আছে। এই সব লড়নেওয়ালারা এত দিনকার ইংরেজ আধিপত্য এবং হিন্দু প্রভাবের ফলেও যখন হিন্দুভাবাপন্ন হয়ে যায় নি, তখন পাকিস্তান হওয়ার পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করলেই তারা রাতারাতি ইসলামি জোশ হারিয়ে পাকিস্তানের শত্রু বনে যাবে? এ তো বড় তাজ্জব কথা? বাংলা ভাষার এত তাগদ? Continue reading

ঢাকা ডায়েরি (১৬.১২.২০২২)

ঢাকা শহরে পথে ঘাটের মানুষদের ভদ্রতা-জ্ঞানের অভাব, অথবা রুড (rude) আচরণ – এটা সর্বদাই মজার একটা আলোচনার বিষয় এবং এই নিয়ে আগেও দু একবার গদ্য রচনা করছিলাম ফেবুতে । আজকে আবার। কাকতালীয় ভাবে আজকে সারাদিনই এই রিলেটেড নানা কর্মকাণ্ড চলতেছে।

.
সকালে উঠেই মনে পড়ে ঢাকা ইউনি-তে পড়া কালীন হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড একটা কোর্সে নানারকম উন্নয়ন তত্ত্ব নিয়ে শিক্ষক আলোচনা করতেছিলেন আর তাদের মধ্যে একটা তত্ত্বে অনেকটা এইরকম কথা ছিল যে – (ভিনদেশী সেই তাত্ত্বিক বলতেছিলেন) – উন্নতির একেকটা পর্যায় একটা সোসাইটিতে (অথবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে, যেমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে) মানুষের আচরণ একেকরকম হয়। উনি বলতেছিলেন, উন্নতির এই দৌড়ে মধ্যম পর্যায় যারা থাকেন – তাদের আচরণ হয় সবচেয়ে বেশি রুড। তারা হন নিষ্ঠুর, বদমেজাজী, অধীনস্তদের চাপের উপরে রাখেন, টেনশন করেন বেশি – এইসব। আবার, যারা পর্যাপ্ত উন্নতি করে ফেলছেন, অর্থাৎ সবচেয়ে উপরের শ্রেণীতে থাকেন, অর্থে বিত্তে সম্মানে যাদের অভাব নাই, তাদের আচরণ হয়ে উঠে মধুর এবং ভদ্র।

.
তো, সকালে উঠেই এই তত্ত্ব-জাত কথাগুলি মনে হচ্ছিল আর ভাবেতছিলাম, বাংলাদেশ নিশ্চই এতদিনে মধ্যম পর্যায় উন্নীত হয়ে গেছে। এটাই তার প্রমাণ।

.
এই রুডনেসের মধ্যে নিজের সুস্থতা বজায় রেখে টিকে থাকার জন্য আমার নিজের ব্যক্তিগত টেকনিক (অথবা প্রস্তাবনা) হতেছে একটা মেঠো ঢঙে, সোজা সাপটা ভাষায় কথা বলা। শ্রোতার তাগদ টেনে ধরে কথা বলা । মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহেবের কথা বলার স্টাইল নিয়ে একবার শুনছিলাম এইরকম যে, উনার এই ছোটো ছোটো বাক্যে, ‘র’ বা কাচা ঢঙে কথা বলার স্টাইলটা নাকি আরও বেশ কিছু সফল ব্যবসায়ী, প্রশাসক আর রাজনীতিবিদের মধ্যে দেখা গেছে। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করে ভালো। রুচিশীলতার বিচারে যতই খারাপ হোক না কেন, এর ফলাফল কিংবা কার্যকারীতা বেশি। আমার ধারণা, এর সাথে যদি একটু রসিকতা মিলায়ে দেয়া যায় তাইলে ফলাফল আরও ভালো।

.
আজকে এক উচ্চ বা উচ্চমধ্যবিত্ত ক্লায়েন্ট মণ্ডলীদের জন্য নির্মিত চুল কাটার সেলুনে গেলাম। চুল কাটার দাম ভালোই রাখে এরা, অন্য অনেক স্থানের চাইতে বেশি, ঢাকা শহরে ইনাদের একাধিক শাখা আছে। আমি এইরকম কিছু কিছু স্থানে মাঝে মাঝে হানা দেই (সম্ভব হলে) শহরের হাল চাল বোঝার জন্যে। তো দেখলাম সুসজ্জিত, স্মার্ট নাপিত ব্যক্তিটি মুখে মুখে স্যার-স্যার বলতেছেন ভালো, কিন্তু লক্ষ্য করলে বোঝা যায় উনার হাবে ভাবে ভদ্রতার কিরকম যেন একটা অভাব। চুল কাটতে বসার পরে রুক্ষ ভাবে পিছন থেকে মাথা ঠেলে দেয়, হঠাৎ করে ডানে থেকে কোনো কথা না বলে আঙুলে জোরে ঠেলে দিল একবার, মাথাকে পজিশনে আনার জন্য। অনেক ইটালিয়ান সেলুনের (ইটের উপরে বসা সেলুন) নাপিতেরাও উনার চেয়ে ভদ্র হয়ে থাকেন সচরাচর।
Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) পার্ট ১

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

বাংলাদেশি সিনেমার পিরিয়ড’টারে আমি ব্রডলি ৩টা পার্টে ভাগ করতেছি। ১৯৫৬ টু ১৯৭৫ – এই পিরিয়ড’টারে আমি বলতে চাই পলিটিক্যালি নন-ডেমোক্রেটিক আমল। তো, এইটা নিয়া তিনটা পোশ্ন আসতে পারে। এক. ১৯৫৬ সালে “মুখ ও মুখোশ” সিনেমা দিয়াই কি বাংলাদেশি সিনেমার শুরু নাকি? ব্রিটিশ আমলে ঢাকার নবাব’রাও তো সিনেমা বানাইছিল ‘দ্য লাস্ট কিস’ বা ইন্ডিয়ান সিনেমার যে শুরু, অই লোকও তো ছিলেন বাংলাদেশের!

তো, এই জায়গাতে আমার কথা হইতেছে, কোন কিছুর শুরু কখনোই একটা না, অনেকগুলা সুতা-ই আছে, বা থাকতে পারে। কিন্তু কোন জায়গাটা নিয়া আমরা আলাপ করতেছি, সেইটার বেসিসেই ‘শুরু’টারে আইডেন্টিফাই করতে পারতে হবে। ‘বাংলাদেশ’ যদি আলাদা একটা পলিটিক্যাল এনটিটি না হইতে পারতো, যদি পার্ট অফ ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া থাকতো, তাইলে হয়তো এই পয়েন্ট’টা সিগনিফিকেন্ট হইতে পারতো না, বা অন্যরকমভাবে দেখা এবং বলা লাগতো। কিন্তু হিস্ট্রিতে যেইটা ঘইটা গেছে, সেইটারে তো বাতিল কইরা দিতে পারি না আমরা। বাংলাদেশ বলতে যেই পলিটিক্যাল আইডেন্টিটি সেইটার শুরু ১৯৪৭’র পরে পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার ভিতর দিয়া। আর সেইখানে ফার্স্ট ফিচার-ফিল্ম রিলিজ হইছিল ১৯৫৬ সালে। তো, এইটারে একটা ‘শুরু’ বইলা মানতে পারাটা ‘অনৈতিহাসিক’ কোন ঘটনা না।

সেকেন্ড হইতেছে, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ কি কোন ঘটনা না!!! (আরো বিস্ময়বোধক চিহ্ন থাকতে পারে।) অবশ্যই ঘটনা। কিন্তু আমার অবজারভেশন হইতেছে, এসথেটিক্যালি মেজর কোন চেইঞ্জ ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আসতে পারে নাই। এর পরের সিনেমা এবং সিনেমার গানগুলাতে গিয়া বরং ‘বাংলাদেশ’ ধারণাটা মোর স্পষ্ট হইতে পারছে। যেই কারণে ১৯৭১-এ না থাইমা, টাইমলাইনটারে ১৯৭৫ পর্যন্ত এক্সটেন্ড করছি আমি। এর মানে, ‘মুক্তিযুদ্ধ’রে ‘অস্বীকার’ করা না, বরং এইভাবে দেখা যে, একটা সময়ের পলিটিক্যাল হিস্ট্রি এবং কালচারাল হিস্ট্রি রিলেটেড ঘটনা হইলেও, একই জিনিস না। যেমন ধরেন, ১৯৭১’র পরেই খালি মুক্তিযুদ্ধ নিয়া সিনেমা এবং গান পাইবেন না, এর আগেও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র কালচারাল এলিমেন্ট পাইবেন। মানে, আমি বলতে চাইতেছি, দুইটার টাইমলাইনই একই হওয়াটা বরং রেয়ার ঘটনা হওয়ার কথা।…

থার্ড হইতেছে, এর পরেই কি ‘ডেমোক্রেসি’ চইলা আসছে বাংলাদেশে? না, বরং পলিটিক্যালি একটা স্ট্রাগল ফর ডেমোক্রেসি শুরু হইছে আসলে। এর পরের পর্ব দুইটারে আমি এইভাবে দেখতেছি:

স্ট্রাগল ফর ডেমোক্রেসি (১৯৭৬ – ১৯৯১)
লুটপাটের রাজনীতি (১৯৯২ – ২০২০)

তো, অইগুলার আলাপ অই পর্বগুলাতেই করতেছি।

২.
আরেকটা ঘটনা হইলো, সব গানের লিস্টিং এইখানে করতেছি না। বাছাই করার একটা বেইজ হইতেছে, পপুলারিটি; যে এখনো শুনলে মনে করতে পারি আমরা কিছুটা, মানে আমাদের পাবলিক-সাইকি’তে কোন না কোনভাবে রয়া গেছে; বা অই সময়ে হিট হইছিল অনেক, এইরকম।

তবে খালি পপুলারই না, গানের জনরা হিসাবেও নেয়া হইতেছে কিছু গান – ফোকসং, রাগসঙ্গীত, ‘আধুনিক গান’ ‘দেশের গান’ হিসাবে; যে এই সবগুলা ‘ধারা’ মিইলা একটা ‘কালচারাল আইডেন্টিটি’ তৈরির দিকে যাইতেছে।

মানে, বাংলাদেশি সিনেমার গান বইলা যেই জিনিস আছে, সেইটা কয়েকটা ট্রেন্ডের একটা মিক্স অ্যান্ড মিকচারের ভিতর দিয়া আগাইতেছে আসলে এই সময়টাতে। একটা হইতেছে, “লোকগীতি”, সেকেন্ড হইতছে “কলকাতার আধুনিক গান” আর থার্ড হইতেছে, এই দুইটার ভিতর দিয়াই এক ধরণের টিউন তৈরি হওয়ার জায়গা টের পাওয়া যায় কিছু গানে। খান আতাউর রহমান’রে এই ধারাটার মেইন ফিগার হিসাবে দেখতে পারাটা দরকার আমাদের, যেইটা আলম খানে গিয়া স্পষ্ট হয়া উঠতেছে। [তো, এইখানে আরো ডিটেইল আলাপ হইতে পারে।…]

এর বাইরে, পারসোনাল টেস্টের ঘটনা তো আছেই। কিন্তু ওভারঅল উদ্দেশ্যটা হইতেছে এইরকম হাজার খানেক গানের একটা লিস্ট করা যেইটা দিয়া, “বাংলাদেশি সিনেমার গান” বলতে কি ধরণের জিনিস বুঝায় ২০২২ সালে, সেইটার একটা ধারণা তৈরি করার ট্রাই করা।

এই লিস্ট’টা স্ট্যাটিক না। তবে অ্যাড করা ও বাদ দেয়ার ভিতর একটা ফাইনাল লিস্ট তৈরি করার ট্রাই করা হবে। (তখন এই লাইনটাও ডিলিট করা হবে।)
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →