নারী আন্দোলন – জোয়ান ডিডিওন
জুলাই ৩০, ১৯৭২
অমলেট বানাইতে গেলে শুধু ভাঙা ডিমই লাগে না, অপ্রেসড একজনরেও লাগে। ধরা হয় প্রত্যেক বিপ্লবীই এইটা বুঝে, আর প্রত্যেক নারীও বুঝে। নারীরা আমেরিকার ৫১{855ff4e32ca5c8db0719e8f837cd158afce0d103a8821dfb7d995472b79aa6d7}, এরা একদল পটেনশিয়াল বিপ্লবী ক্লাস হইতে পারে, নাও হইতে পারে। নারী আন্দোলনের ‘আইডিয়া’ থেকে এই বিপ্লবী ক্লাস আসছে। এখনো ডে কেয়ার সেন্টারগুলার আশেপাশে এই আন্দোলন নিয়া আলোচনা করার স্বভাব থেকেই বুঝা যায় কেন এইসব আইডিয়া থেকে মানুষ বিমুখ, যেসব পলিটিকাল আইডিয়া ন্যাশনাল জীবনরে আলাদা কইরা তুলে ধরে।
১৯৭০ সালে ফেমিনিস্ট থিওরিস্ট শুলামিথ ফায়ারস্টোন কইছিলেন, “নয়া ফেমিনিজম শুধু সোশাল ইকুয়ালিটির জন্য জাইগা উঠা একটা সিরিয়াস পলিটিকাল মুভমেন্টই না, এইটা ইতিহাসের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট রেভল্যুশনের সেকেন্ড ওয়েভ।” এই স্টেটমেন্টরে কেউই রহস্য মনে করত না, আর আন্দোলনের লিটারেচারে এইটাই একমাত্র এইরকম স্টেটমেন্ট ছিল না। যাইহোক, ১৯৭২ সালে, টাইম ম্যাগাজিনের নারী বিষয়ক একটা “বিশেষ ইস্যু”তে তুচ্ছ কইরা বলা হইছিল যে এই আন্দোলন দিয়া ডায়পার কম, দান্তে (আলিগিয়েরি) বেশি আসবে।
সিনটা সুন্দর, মহিলারা বাগানে বইসা বইসা লাসিয়াতে ওগনি স্পেরাঞ্জা (ইনফার্নো এর লাইন) বিড়বিড় করতেছে, কিন্তু এইটা পুরাপুরি নির্ভর করত আন্দোলনের একটা পপুলার ভিউয়ের উপর- আন্দোলনটা হইলো কন্টিনিউয়াসলি এক ধরনের কালেক্টিভ “ফুলফিলমেন্ট” বা “সেলফ এক্সপ্রেশন” চাইয়া যাওয়া। এই চাওয়াটার পিছে কোন আইডিয়া নাই, কোন ভাল স্বার্থ নাই। কিন্তু আসলে আইডিয়া ছিল, আইডিয়াটা মার্ক্সিস্ট ছিল, আর আইডিয়াটা এতই মার্ক্সিস্ট ছিল যে, নারী আন্দোলন নামে আমরা যে অদ্ভুত ঘটনাটা জানি সেইটার পিছে কোন স্বার্থই ছিল না এমন মনে হইত।
এই দেশে মার্ক্সিজমরে সবসময় একটা উদ্ভট আর অবাস্তব প্যাশন হিসাবে ধরা হইছে। একটার পর একটা অপ্রেসড ক্লাস শেষমেশ গিয়া পয়েন্ট মিস করত। দেখা যাইত, যারা অভাবী, তারা বেশি চাইতেছে। মাইনরিটিগুলাও আশা দেখায়া শেষে হতাশ করছে। এইটা আলাপ হইছে যে তারা আসলেই বিভিন্ন ইস্যু নিয়া কেয়ার করত, তারা রেস্টুরেন্টে একসাথে বসা বা বাসের সামনে বসতে পারারে আসল গোল ধরত, কোন বড় খেলার চাল ধরত না। তারা ইমিডিয়েট রিফর্ম থেকে সোশাল আদর্শের দরকারি ঝাঁপটারে বাধা দিল। হতাশাজনকভাবেই, তারা তাদের কমন উদ্দেশ্যরে অন্য মাইনরিটির সাথে এক করতে পারে নাই। ‘ব্রাদারহুড’ এর নামে অর্গানাইজারদের উপর তারা একটা ভালোই বিশ্রি রকমের সেলফ-ইন্টারেস্ট দেখায়ে চলছে।
আর তখন, সেই আশা-হারানো মূহুর্তে যখন কেউ প্রোলেতারিয়াত হইতে চাইতেছিল না, নারী আন্দোলন আইলো, আর নারী একটা আলাদা ‘ক্লাস’ হইলো। এই ইনস্ট্যান্ট চেইঞ্জের যে র্যাডিকাল একটা সিম্পল ভাব আছে, এইটা নিয়া অবাক হইতে হয়। কোন কোঅপারেটিভ প্রোলেতারিয়াত ছাড়া একটা বিপ্লবী ক্লাস তৈরি হয়, ঐটারে নাম দেওয়া হয়, ওইটার শুরু হয়, এই ধারণাটা একেবারে এত প্র্যাক্টিকাল আর এত ভিশনারি মনে হইছিল, এত এমারসনিয়ান মনে হইছিল, ১৯ শতাব্দীর ট্রান্সিডেন্টাল ধারার মনোভাবের সাথে দেরিতে এঙ্গেলস আর মার্ক্সসের পড়া ক্রস কইরা যেই জিনিস মাথায় আসত, সেটাই কনফার্ম করে। নারী আন্দোলন থিওরিস্টদের পড়তে হইলে মেরি উলস্টোনক্র্যাফটের কথা না ভাইবা মারগারেট ফুলাররে মনে করবেন- হাই মোরালের, লাঞ্চ না কইরা পেপার কাপ থেকে চা খাইয়া মিমিওতে (পুরানো ফটোকপি মেশিন) পেপার ছাপাইতে দৌঁড় দিত। বিশ্রি রাতগুলাতে পাতলা রেইনকোটের কথা মনে করবেন। ফ্যামিলি যদি ক্যাপিটালিজমের আখেরি দূর্গ হয়, তাইলে চলেন ফ্যামিলি বাতিল কইরা দেই। যদি বাচ্চা পয়দা করার দরকারটা নারীর কাছে আনফেয়ার লাগে, তাইলে চলেন টেকনোলজির সাহায্যে আমরা এই জুলুম থেকে উইঠা আসি। শুলামিথ ফায়ারস্টোন এই জুলুমরে যেমনে দেখছেন, “প্রকৃতির যেই অর্গানাইজেশন একদম ইতিহাসের শুরু থেকে আছে সেইটা হইল অ্যানিমাল কিংডম নিজেই।” আমি ইউনিভার্সরে মাইনা নিছি, মারগারেট ফুলারও শেষমেশ অনুমতি দিছে, কিন্তু শুলামিথ ফায়ারস্টোন দেয় নাই।
এইরকম নার্ভাস আর আঁতেলমার্কা প্যাশন বেশ নিউ ইংল্যান্ড ভাব দিচ্ছিল। র্যাডিকাল ম্যাটেরিয়ালিজমের আড়ালে এই আগের ভারী আইডিয়ালিজম কোনভাবে পুরানকালের আত্মনির্ভরশীলতা আর স্যাক্রিফাইসের কাহিনী কয়া বেড়াইত। শব্দের এই অগোছালো প্রবাহ একটা প্রিন্সিপাল হয়া গেল, আনসিরিয়াস হিসাবে আগের স্টাইলরে বাদ দেওয়া হইল। ডিম ভাঙার ইচ্ছাটা বাস্তবে হয়া গেল পাথরে খুতবা খুইঁজা পাওয়ার দক্ষ ক্ষমতার মত। টাই-গ্রেস অ্যাটকিনসনরে বলা হইছিল যে বিপ্লবের পরেও অনেক ‘সেক্সিস্ট’ ওয়েস্টার্ন সাহিত্য তাও রইয়া যাবে, উনি কইলেন, “জ্বালায়া দাও এসব সাহিত্য।”