Main menu

বই: “সবারে নমি আমি” কানন (বালা) দেবী (সিলেক্টেড অংশ) – লাস্ট পার্ট

কানন (বালা) দেবী (১৯১৬ – ১৯৯২) হইতেছেন ইন্ডিয়ান ফিল্মের শুরু’র দিকের নায়িকা, কলকাতার। ১৯২৬ থিকা ১৯৪৯ পর্যন্ত মোটামুটি এক্টিভ ছিলেন, সিনেমায়। তখনকার ইন্ডিয়ার ফিল্ম-স্টুডিওগুলা কলকাতা-বেইজড ছিল। গায়িকা হিসাবেও উনার সুনাম ছিল অনেক। ১৯৭৩ সনে (বাংলা সন ১৩৮০) উনার অটোবায়োগ্রাফি “সবারে নমি আমি” ছাপা হয়। সন্ধ্যা সেন উনার বয়ানে এই বইটা লেখেন। অই বইটা থিকা কিছু অংশ ছাপাইতেছি আমরা এইখানে।

আগের দুই পার্টে মোটামুটি কানন (বালা) দেবী’র স্ট্রাগলের কাহিনিই আমরা পাইছি। মজুরি থিকা শুরু কইরা মেন্টাল ও ফিজিক্যাল টর্চারের কাহিনিগুলা। এইখানেও স্ট্রাগলটা কন্টিনিউ করতেছে উনার, কিন্তু সেইটা হইতেছে ইমেজের স্ট্রাগল। এর আগে একটা বাজে রিলেশনের ভিতর দিয়া গেলেও উনার হাজব্যান্ডরে নিয়া উনি হ্যাপি ছিলেন। ফিনান্সিয়ালিও সিকিওরড হইতে পারছিলেন। কিন্তু নায়িকা হিসাবে ‘শ্রদ্ধা-সম্মান’র জায়গাটা মিসিং-ই ছিল মনেহয় সবসময়। নায়িকা হিসাবে ডিজায়ারেবল উইমেন হয়া উঠার যেই সাকসেস, সেইটা থিকা উনারে আলাদা কইরা দেখতে রাজি ছিল না মানুশ-জন। যিনি নায়িকা, ডিজায়ার পয়দা করবেন আমাদের মনে, তারে অন্য কিছু ভাবতে আমাদের এখনো কিছুটা হইলেও তকলিফ তো হওয়ার কথা। মানে, একজন মানুশের অন স্ক্রীন পাবলিক পারফর্মেন্স, ইমেজ, সোশ্যাল পারসেপশনটারেই তো আমরা দেখতেছি, আর যতটুক আমরা দেখি বা জানি ততটুকরেই সত্যি বইলা ভাবার অভ্যাসের কারণে অন্যসব জায়গাগুলারে আমলে নিতে পারার ঘটনা ঘটতে পারে না। এইদিক দিয়া উনার এই অটোবায়োগ্রাফি খালি পারসোনাল লাইফের বয়ান-ই না, একটা পারসপেক্টিভরে হাইলাইট করতে চাওয়াও, যেইটারে আমরা ধইরা নিতে পারি – নায়িকার জীবন।   

কিন্তু এখনো ঘটনাগুলা যে কম-বেশি একইরকম, এইটা মনেহয় একটা চিন্তারই বিষয়। এই কারণে না যে, ‘সমাজ বদলায় নাই’; বরং আমাদের দেখাদেখির জায়গাগুলাতে আমরা খুববেশি নজর দিতে পারি নাই, বা পারতেছিও না মনেহয়।

ই.হা.

………

ফার্স্ট পার্ট ।। সেকেন্ড পার্ট ।।

………

 

অশোক কুমার

এ ছবিতেই (চন্দ্রশেখর) প্রথম অশোককুমারের সংস্পর্শে এলাম। শিল্পী হিসাবে উনি অত্যন্ত কোঅপারেটিং। মানুষ হিসাবে ভদ্র মার্জিত কিন্তু বড্ড বেশী কায়দাদুরস্ত, যাকে বলে ফর্মাল—বাংলাদেশের নায়কদের মত অনাড়ম্বর ও আত্মীয়তাধর্মী নয়। অনেক পরে বোম্বেতে অবশ্য অশোককুমার দম্পতির সঙ্গে আমার ও আমার স্বামীর যথেষ্ট হৃদ্যতা হয়, এবং তারপর সস্ত্রীক কোলকাতায় এসে দু-একবার আমাদের আতিথ্য গ্রহণও তিনি করেছেন। এ দূরত্ববোধ তখন অনেকটাই অপসারিত হয়ে গেছে; এবং আজও আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্কই আছে।

 

হিন্দুপ্রথার বিবাহডোরে

এই সময় টালিগঞ্জে নৃপেন্দ্রনারায়ণ স্কুলের থেকে আমার কাছে কিছু ডোনেশন দেবার আবেদন এল। আর ঐ প্রতিষ্ঠানেরই পুরস্কার বিতরণী সভায় তৎকালীন রাজ্যপাল ডঃ কাটজু এলেন সভায় পুরস্কার বিতরণ ও উদ্বোধন করার জন্যে। ডোনেশনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সভায় প্রধান অতিথি হবার আর রাজ্যপালকে অভ্যর্থনার দায়িত্বভার গ্রহণের সম্মতিও দিতে হোলো।

‘অনন্যা’র স্যুটিং-এর পর গেলাম। ডঃ কাটজুর সঙ্গে আলাপ তো হোলোই, আলাপ হোলো তার Naval A. D. C. হরিদাস ভট্টাচার্যের সঙ্গেও। নিয়মমাফিক পরিচয়ের আগেই তাঁর দিকে চোখ পড়েছিল। না পড়ে পারে? কি বলব তাঁকে। রূপবান? পরম রূপবান? অসাধারণ সুন্দর? না, কোনো গতানুগতিক বিশেষণই এ ক্ষেত্রে ঠিক লাগসই হয় না। দেখলাম সকলের মাথা ছাপিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। ঋজু, সরল, ছিপছিপে। যৌবনের প্রাণবন্ত সৌন্দর্য সমৃদ্ধে ভরপুর। জমকালো ইউনিফর্ম ছাপিয়েও ফেটে পড়ছে তাঁর রঙের জৌলুষ। প্রশস্ত ললাট, চোখ দুটি খুব বড় নয় কিন্তু ভারী উজ্জ্বল আর বুদ্ধিদীপ্ত তাঁর সপ্রতিভ চাউনী। আর এই রূপকে শাণিত করে তুলেছে তাঁর অসাধারণ স্মার্টনেস। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক টুকরো মিষ্টি হাসি কি সেই স্মার্টনেসকেই অলঙ্কৃত করে? চুম্বকের মত আকর্ষণী শক্তি ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বে? না রূপে? বলতে পারি না?

তবে ফর্মালিটি অথবা লৌকিক শালীনতা বোধের বিধি-নিষেধ অগ্রাহ্য করেও অবাধ্য চোখ দুটির দৃষ্টি বার বার যেন ওঁরই ওপর পড়ছিলো। আর কি আশ্চর্য? যতবার তাকাচ্ছি দেখি উনিও আমার দিকেই চেয়ে আছেন। চোখাচোখি হতে উনি চোখ ফিরিয়ে নিলেন। আমিও। বেশ কয়েকবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে গেল। আর সকলের অলক্ষ্যে দুজনের চুরি করে দেখাটা দুজনের কাছেই বারবার ধরা পড়ে যাচ্ছিল। লজ্জার মধ্যেও এক অনামা পুলকে মন যেন আচ্ছন্ন হয়ে গেল। অপরাধটা তাহলে আমার একার নয়। এ অপরাধের আর একজন ভাগীদারও আছেন। একথাটা মনে হতেই কবিগুরুর ভাষায় বলা যায়—’বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা।’ নাটকীয় মনে হলেও আরও একটি অকপট সত্যকথা না বলে পারছি না, ঠিক এই মুহূর্তেই রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো সুন্দর চোর’ চরণটি মনের মধ্যে গুন-গুন করে ফিরছিল।

এই হোলো আমাদের প্রথম দেখার অধ্যায়।

Continue reading

বাংলাদেশের মিউজিক (৩)

এক।। দুই ।।

………

বাংলাদেশের বৃষ্টির গান

বৃষ্টির গানের জনরা নিয়া

এই জিনিসটা পয়লা মনে হইছিলো, সোলসের পার্থ’র “রিমঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ে/ মন দরিয়ায় তুফান ওড়ে…” গানের মিউজিকটা খেয়াল কইরা, অইখানে “মনের মানুশ এমনি দিনে মনে পড়ে যায়/মনের খবর তারে কেমনে জানাই!” বইলা যে চিল্লান’টা দেয়, অইটা তো “বৃষ্টির গানের ইমোশনের” লগে তো এতোটা যায় না! :p মানে, বৃষ্টি তো হবে ভিজা-ভিজা, নেতানো একটা জিনিস, এইখানে চিল্লানি কি দেয়া যাবে? বা ভি.এস.নাইপল’রা বাংলাদেশরে যেইরকম “বৃষ্টি-বিধৌত ব-দ্বীপ” বানায়া রাখছেন, অইটার লগে কন্ট্রাডিক্টরি হয়া যাবে না? 🙂 (আশা মুগদালের একটা গান আছে, “আজকা শাবন জিরায়া বরসে… অইটার মিউজিকের লগে মিল পাইবেন কিছুটা…)

তারপরে, ডিফরেন্টের টাচের গান’টা খেয়াল করেন “শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে…” এতো পপুলার (মানে, মিডল-ক্লাসের নাইনটিইজের জেনারেশনের কাছে) কেমন হইলো? অইটাতেও সোলসের বিরহ’টাও নাই, “উদাসী” ব্যাপারটাও কি রকম লাউড, উদাস হইলে মানুশ এইরকম চিল্লায় নাকি! অথচ দেখেন, অই চিল্লানির কারণেই এইটা ‘ভালো’! মানে, পপুলার হওয়ার পিছনে এইটার কন্ট্রিবিউশন থাকার কথা যে, ব্যান্ডের গান তো এইরকমই হইতে হবে!

তো, আমারে ভুল বুইঝেন না যে, আমি ওকালতি করতেছি, এইগুলা ভালো গান! ব্যাপারটা হইতেছে, জনরা হিসাবে কেমনে আলাদা।

তবে অ্যাক্রস দ্য জনরা; মানে, ব্যান্ডের গান, পুরানা দিনের গান, আধুনিক গান, ট্রাডিশনাল গান, সব জায়গাতে দুয়েক্টা জিনিস কমন, যেইটা দিয়া এইটা যে, বাংলাদেশের বৃষ্টির গান – সেইটারে মেবি লোকেট করা যায়। জিনিসটা অবশ্যই স্ট্যাটিক না। ওভার দ্য পিরিয়ড অফ টাইম চেইঞ্জ হইছে, হইতেছে, হবে।

গানের লিস্টিং নিয়া

লিস্টিং করতে গিয়া, ৭০/৮০’র মতো গান পাইছিলাম বৃষ্টি নিয়া, বাংলাদেশের। তবে আমার ধারণা, আরো গান থাকার কথা। মানে, এইটা কমপ্লিট লিস্ট না। যেহেতু আমি আর আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডরা মেইনলি নাইনটিইসের লোক, অই সময়ের ব্যান্ডের গান, আধুনিক গানই বেশি লিস্টে আসতে পারছে। সবচে বেশি মিসিং মনে হইছে ‘ট্রাডিশনাল’ গানগুলা, বৃষ্টি ব্যাপারটা মেবি “বৃষ্টি” শব্দ দিয়া অইরকমভাবে ছিল না, বা নাই। ব্যাপারটা মেঘ-ই হওয়ার কথা।…

তো, এই লিস্ট’টা করতে পারলে তো নানান দিক দিয়াই সুবিধার। আর ক্যাটাগরি করতে পারলে, সময় অনুযায়ী সাজাইতে পারলে। খালি বৃষ্টি না, বৃষ্টিরে ধইরা অনেক কিছু নিয়া কিছু আন্দাজ করা সম্ভব হইতে পারে। (এই কাজ একলা তো আমি কখনোই করতে পারবো না, আর এইটা আমার ইন্টারেস্টের এরিয়াও না, তারপরও ইচ্ছা’টা জানায়া রাখলাম আর কি!) এই স্যাম্পল সাইজের বেসিসেই কথা বলি কয়েকটা।

পয়লা জিনিস হইলো, এতো যে গান, এইগুলা কিন্তু আমাদের মনে থাকে না, মানে টপ অফ দ্য মাইন্ডে থাকে না; সবচে বেশি মনে আসে আসলে কিছু হিন্দি সিনেমার গানের কথাই, ইংলিশ গানও, কলকাতার আধুনিক (মানে ‘৬০র দশকের) গান, বাংলাদেশের গানগুলা এতোটা মনে আসে না; বা আসলে ফেসবুকে শেয়ার দেয়াটা বা পাবলিকলি মনে-করা’টা এতোটা স্মার্ট কোন ব্যাপার হইতে পারে না, বরং একটু অস্বস্তিই থাকার কথা, ব্যাপার’টা বেশি ‘ক্ষ্যাত’ দেখাইবো না তো? 🙂 মানে, এইটা ‘আরবান কালচারের’ কোন ঘটনা না, আপনি যদি ‘প্রকৃত বাঙালি’ হইতে চান প্রায় সবকিছুতেই দেখবেন ‘বাংলাদেশি’ জিনিসগুলারে একটু এড়াইতেই হয়, না-বলার ভিতরে রাখতে হয়, তা নাইলে ‘কালাচারাল’ লোক হইতে পারেন না এতোটা!

এইটা কেন হইলো? গান’গুলা বাজে বইলা? মানে, খারাপ-ভালো গান তো আছেই; কিন্তু আমার কথা হইতেছে, এর বাইরেও ‘বাংলাদেশি গান’ এইটা ‘কালাচারাল ক্যাপিটাল’ হিসাবে একটা ইনফিরিয়র জিনিস, বাংলাদেশে। গান ভালো নাকি খারাপ – এর বাইরেও এই জিনিসটা আছে, কাজ করে একভাবে। কোন আর্ট বাংলাদেশে বানানো হইছেই বইলা যেমন ভালো না, একইরকমভাবে খারাপও তো হইতে পারে না। কিন্তু আছে সেইটা। আমাদের ‘মনে না করা’ না, বরং পাবলিকলি মেনশন না করার ভিতর দিয়া এইটা এফেক্টিভ থাকে। এইটা আমার একটা ক্লেইম।

সেকেন্ড হইলো, ভ্যারিয়েশনের জায়গাগুলা, মানে একটা কালচারেও তো নানান ক্লাসের ঘটনা মিইলা-মিইশা থাকে, অই কালচারাল ভ্যারিয়েশনগুলা মিসিং। যেমন ধরেন, রুনা লায়লা যেই “রসের দেওরা”টা গাইছেন অইটা এক কিসিমের গান, আবার মাইলেসের যে ওয়েস্টার্ন কোন গানের কপি’র মতো “রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টিতে হাতে তুলে গিটার…” – দুইটাই (এবং আরো অনেকগুলাই) বাংলাদেশে গাওয়া হইছে তো। এবং দেখবেন, দুই কিসিমের বা দশ রকমের হইলেও ভালো গান কিন্তু ভালোই। সব ক্লাসের লোকজনেরই কম-বেশি ভাল্লাগার কথা। কিন্তু এই ভ্যারিয়েশনরে আমার ধারণা, একভাবে খুন করা হইতেছে। কালচাররে এক্সপ্লোর করার চাইতে একটা লিনিয়ার ফর্ম হিসাবে পারফর্ম করানোর জায়গা থিকা দেখা হইতেছে, যেইটা খুন করার শামিল আসলে।… এক তো হইলো রিকগনিশন নাই, শরম লাগে এইসব গান শুনতে; সেকেন্ড হইলো, লিনিয়ারটিরি এই ঘুঁটা যে, এইটা তো তত একটা ‘বাঙালি’ (নট বাংলাদেশি) না!

থার্ড হইলো, আর্ট ক্রিয়েট করা যে কতো কঠিন জিনিস – সেইটা টের পাইবেন, বৃষ্টির গান গাইলেই সেইটা বৃষ্টির ঘটনাটারে ট্রান্সফর্ম করতে পারে না অইভাবে। বৃষ্টি মিনিং ঘুইরা-ফিরা বাংলা-গানে অই দুই-চাইরটা জিনিসই: ইরোটিক (সবচে সেলিব্রেটেড এবং ভালো) আর বিরহ-ই (সবচে ফাঁপানো এবং মিডিওকার) বেশি, এর বাইরে ন্যাচার নিয়া আছে কিছু, কিন্তু অন্য কোন ঘটনা প্রমিনেন্ট হয়া উঠতে পারে নাই। জেমস, আইয়ূব বাচ্চুও বৃষ্টি নিয়া গান গাইছেন, কিন্তু দেখেন, আলাদাভাবে অইগুলা মনেও করা যায় না, কারণ বৃষ্টির যেই মিনিং সেইটার বাইরে লিরিকসে, মিউজিকে বা উনাদের গানে আলাদা কিছু তৈরি হয় নাই। হুমায়ূন আহমেদ যে পিপলের আর্টিস্ট এইটা উনার গান দিয়াও বুঝা যায়, একটা বিরহরে উনি ক্রিয়েট করতে পারছেন, যেইটা ছাড়া মেনশন করার মতো আর কোন ক্রিয়েশন নাই আসলে, রিসেন্ট বাংলাদেশের বৃষ্টির গানে।…

মানে, বৃষ্টি তো একটা উছিলাই সবসময়। আমিও বৃষ্টির গানরে উছিলা কইরা কিছু কথা বলতে চাইছি। এইরকম কম্পাইলেশন বা লিস্টিংগুলা যদি আমাদের সামনে থাকে, আমার ধারণা তাইলে অনেকেরই কথা বলাটা বা অনেককিছু দেখাটা সহজ হইতে পারে। Continue reading

তানভীর মাহমুদ গাজী’র কবিতা

জ্বরে

আমি জানি না ওইটা কীসের শব্দ
ভাইসা আসে
সাইরেনটাইরেন হবে
মেঘ করে বাইরে
সব স্টিল হয়ে আসে
সবকিছু দিয়া কেমন ডিলিট ডিলিট লাগে
শয়তানের দেবতারে
যে লোক পূজা করে
তারো আশেপাশে ছাগল চড়ে আমি দেখছি
কাটামাথা লইয়া তার পিছে পিছে দৌড়ায়
আমার মুতের রং লাল
আমার চক্ষু ঘোলা
তবু কাটামাথার নিচ দিয়া যে রক্ত পড়িতেছে গড়ায়ে
তা আমার মুতের চেয়েও গাড়ো
আহ তবু কবিতাটবিতা বালছাল মানুষটানুষ ভেবে
একদিন কত মাল খাবো ভেবেছি
একদিন হলুদ হলুদ পুলিশগুলা নীল হইয়া গেল।

 

টেনিসবল

মন ফেরত দিতে গিয়া ফালাইলা ড্রেনে
উঠাইয়া ধুইলাম ডিটারজেন্ট দিয়া
যেমন ছোটোকালে ধুইয়া টেনিসবল
আবার যাইতাম মাঠে।

 

রুটিয়ালার দোকানে

জ্বর হইলে ভাত খাইতে হয় না।
রুটিয়ালার দোকানে রুটি খাইতেছি।
রুটিয়ালা ডাইল আর ভাজি একলগে রান্ধে।
সে রান্ধে না। রান্ধে তার মাইয়া। রুটিয়ালার মাইয়া কলেজে পড়ে।
সেই মাইয়ার মা নাই, একলা একলা যা পারে করে।
রুটিয়ালা তার মাইয়ার কথা বলতে থাকে।
রুটিয়ালার মাইয়ার বিয়া আল্লায় দেবে।
মাইয়া অনেক ভালো, অনেক গুন কিন্তু বিয়া হয় না।
সে কি আমার লগে তার মাইয়া বিয়া দিতে চায়?
মাইয়া পানি আনতে গেছে।
খাওয়া শ্যাষ কইরা আমি তার জন্য বইসা রইছি রুটিয়ালার দোকানে।

 

তুমি তো একা হয়ে গেলা

তোমারে তো রাইখা গেলা
আমার কাছে
কিন্তু
আমারে যে নিলা না
তুমি তো একা হয়ে গেলা।

Continue reading

বদ্রিয়ারে পড়া’র রিস্ক

বদ্রিয়ারে পড়া একধরণের রিস্ক নেয়া। আপনি চাইলে নিতে পারেন, নাও নিতে পারেন। জ্য বদ্রিয়া, ফরাসি দার্শনিক, যার সিমুলেশন-সিমুলাক্রামের রেফারেন্স আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আর অটোমেশনের যুগে হরদম টানা হয়, তার এই ইন্টারভিউগুলা “ফরগেট ফুকো”-নামের বইয়ে ১৯৭৭ সালে পাবলিশ করা হইছিল। অবশ্য তার আগে প্রায় নয় বছর আগে বদ্রিয়ার পিএইডি থিসিস “সিস্টেম অফ অবজেক্টস” পাবলিশ হয়, ১৯৬৮ সালে- সেইখানে তিনি অবজেক্টসের সিস্টেমের এনালাইসিস করছিলেন মডার্ন কনজুমার সোসাইটিরে সামনে রেখে। সিস্টেম, অবজেক্টস, মিডিয়া এইসব থেকে বদ্রিয়া গেছেন এরপরে আরও নানা জায়গায়, ইল্যুশনস, কনজুমারিজম, যুদ্ধসহ আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

বাংলা ভাষায় বদ্রিয়া পরিচিত না। পরিচিত না হওয়ার কারণে বদ্রিয়ারে ভুলভাবে ইন্টারপ্রেট করবার অনেক সুযোগ আছে। আর ইন্টারভিউ যেহেতু কনটেক্সট ধরে আসে না, এইখানে এই আশংকা আরও বেশি। এই কারণে, বদ্রিয়া পড়াটা একধরণের রিস্ক। আর বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ফিলোসফি, দর্শনচর্চার হালহাকিকত খুব করুণ, শোচনীয়। সামাজিকভাবে অত্যাচারিত হইতে হইতে এখন প্রায় মৃতপ্রায়। বাংলায় ফিলোসফির এই মরণের পিছনে নানাবিধ কারণ আছে। প্রথমত, আমাদের দেশের যে কয়টা জ্ঞান-উৎপাদনকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাতে ফিলোসফি/দর্শন কখনোই মৌলিক পাঠ হিসাবে বেড়ে উঠতে পারে নাই। এর কারণ আছে। তবে উন্নতবিশ্বে ফিলোসফি যে খুব উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে তাও কিন্তু বলা যাবে না। ফিলোসফি পড়ে গ্র্যাজুয়েট হলে অটোমেশনের যুগে চাকরির কোন নিশ্চয়তা নাই কিন্তু। আবার গুটিকয়েক ফিলোসফার যাদেরকে আমরা বেশি করে চিনি, তারা যে একটা বড় সোসাইটিকে প্রতিনিধিত্ব করে তাও কিন্তু না। যে কারণে লেইড-ব্যাক বা আর্মচেয়ার ফিলোসফার নামক গালি চালু আছে, এবং পোস্টমডার্ন ফিলোসফারদের ক্ষেত্রে যা আরও বেশি করে শোনা যায়, ফিলোসফারদের কাজ কেবল একাডেমিক গেইম খেলা, নাথিং এলস। বিভিন্ন মিনিং, হাইপোথিসিস তৈরি করে এমন এক অ্যাবস্ট্র্যাকশনের দুনিয়ায় তারা হারায়ে যান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা রিয়ালিটিরেও ছাড়ায়ে যায়।

উন্নত বিশ্বে এই ধরণের সমালোচনা থাকলেও, ইউনিভার্সিটিগুলো কিন্তু সেই সমালোচনার ধার ধরে ফিলোসফিকে পাঠ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয় নাই। কারণ, সেই এগারশ বারশ শতাব্দী থেকে চলে আসা যে জ্ঞানের সিলসিলা সেই পরিক্রমায় ইউনিভার্সিটিগুলো ঠিকই জানে, কোনও বিষয়ে স্পেশালিস্ট/একাডেমিক/এক্সপার্ট বাইর করতে হলে তার শুরুতেই জ্ঞানের একদম বেসিক ক্লিয়ার থাকতে হবে। এবং সেই বেসিক আদতে ফিলোসফিরই বেসিক পাঠ। তাই নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও সোশ্যাল সায়েন্স, ইকোনমিক্স, সায়েন্স কোন জ্ঞানকান্ডেই আমরা থিওরি ছাড়া আলাপ হতে দেখি না। এবং এই থিওরির পিতা-মাতারা মূলত বিজ্ঞানী, দার্শনিকেরাই। তবে একাডেমিয়ার পিতা-মাতা দার্শনিক হলেও তাদের যে ক্রিটিসাইজ করা যাবে না, এমন কিন্তু নয়। একাডেমিয়ার পিতা-মাতার জ্ঞানেভাবে অনেক তত্ত্ব কপচাতে পারেন আবার একইসাথে রাজনৈতিকভাবে কোন মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন আবার রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হতে পারেন। মাঝেমধ্যে এই ঘুঁটি হওয়ার অভ্যাস বদ্রিয়ার ভাষায় চরমে পৌঁছে যায়- বাংলাদেশ তার সেরা একটি উদাহরণ। এইখানে রাজনৈতিকভাবে আমলাতন্ত্র এতটাই শক্তিশালী যে, সামাজিকভাবে স্বীকৃত মতাদর্শের বাইরে নতুন কিছু করা কঠিন। সেই অর্থে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশ আসলে একটি কনজার্ভেটিভ রাষ্ট্রব্যবস্থা। শক্তিশালী সমাজ, শক্তিশালী আমলার বাইরে গিয়ে ফিলোসফি বেশি টিকতে পারে নাই। তাই দর্শনচর্চা শেকড় হারাইছে। Continue reading

বাঙ্গালির উৎপত্তি – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (শর্ট ভার্সন)

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই লেখাটা বঙ্গদর্শন পত্রিকার (পৌষ, ১২৮৭ থিকা জৈষ্ঠ্য ১২৮৮, বাংলা সন) ছয়টা সংখ্যায় ছাপা হইছিল। সময়ের হিসাবে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ই হইতেছেন পয়লা লোক, যিনি বাংলা-ভাষায় বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস নিয়া লেখছেন (বঙ্গে ব্রাাহ্মণাধিকার, ১৮৭২ সন)। উনার আগে, কলোনিয়াল পিরিয়ডের হিস্ট্রি-চর্চায় John Clark‘র হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল (১৯৩৫)-ই মেবি একমাত্র বই ছিল। ভূদেব মুখোপাধ্যায় হিস্ট্রিক্যালি বঙ্কিমের সিনিয়র হইলেও উনার লেখা দুইটা দেখা যাইতেছে বই হিসাবে ছাপা হইছিল অনেক পরেই [বাঙ্গালার ইতিহাস (১৯০৪) বা সামাজিক প্রবন্ধ (১৮৯২)]; তো, লেখার সময় পরে না হইলেও কাছাকাছি সময়ের ঘটনাই হওয়ার কথা। [অন্য কোন ঘটনার কথা আমাদের জানা নাই, কেউ জানাইলে এই স্টেটম্যান্ট তো রিভিউ করাই যায়।]

কিন্তু এইখানে এই দাবি মনেহয় করা যায় যে, “বাঙ্গালি মুসলমান” – এই টার্ম উনার আগে বাংলা-ভাষায় কেউ বলেন নাই, এবং একটা আইডেন্টিটি হিসাবে ক্যাটাগোরাইজ করেন নাই।

ব্যাপারটা এইরকম না যে, এই দাবি’টা আমরাই ফার্স্ট করতেছি। আমাদের ধারণা, এর আগে অনেকেই বইলা থাকতে পারেন। কিন্তু যেই জায়গা থিকা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখালেখি ও চিন্তা-ভাবনারে সিগনিফাই করা হয়, সেইখানে এই দাবি’টা তেমন কোন মিনিং তৈরি করতে পারে না। উনারে আইডেন্টিফাই করা হয় মুসলিম-বিদ্বেষী এবং ‘হিন্দু পুর্নজাগরণের’ লোক হিসাবে। যেইটা খুবই আন-ফরচুনেট ঘটনা-ই না, বরং খুবই ভুল একটা পারসপেক্টিভ।

যখন ‘সেক্যুলার’ হইতে গিয়া ধর্মের হিস্ট্রিক্যাল সিগনিফেকন্সরেই আমরা বাদ দিয়া দিতে চাইতেছি সেইখানে বঙ্কিমের দাবি হইতেছে ধর্ম ছাড়া তো কোন সমাজ হইতে পারে না, মানুশও হইতে পারে না! আরো মুশকিল হইতেছে, ইউরোপিয়ান অর্থে যেই ‘রিলিজিয়ন’রে আমরা ‘ধর্ম’ হিসাবে দেখি, ‘ধর্ম’ তো অই জিনিস না; এর মিনিং আরো ব্যাপক। এখন এই রেফারেন্সিয়াল ডিফরেন্সগুলারে আমলে না নিলে বঙ্কিমের রিডিং ভুল হইতে আসলে বাধ্য। ইউরোপিয়ান মিনিং যখন একমাত্র মিনিং আমাদের সময়ে, তখন বঙ্কিম হয়া উঠেন ভিলেন আমাদের কাছে! অথচ এই মিনিংয়ের জায়গাটাতেই ফাইট’টা উনি করতে চাইছেন। এই জায়গাটা থিকা দেখতে পারলে বেটার।

কিন্তু যেহেতু একটা ইউরোপিয়ান ন্যারেটিভের লগে ফাইট করতে হইতেছে, সেই ফ্রেমওয়ার্কটারেই নিছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; জাতি’র বিচার করছেন রেসিয়াল জায়গা থিকা – কে আর্য্য, কে অনার্য্য? যেইটার কোন ভ্যালিডিটি এখন আর নাই। কিন্তু কলোনিয়াল আমলে এইটা ছিল একটা সেন্ট্রাল কোশ্চেন। প্রশ্নটারে ডিল করতে গিয়া উনি যেই সিদ্ধান্তগুলা নিছেন, সেইগুলা খুবই অ্যামেজিং! যেমন, বাঙালি বহুজাতি এবং সবাই হিন্দু না; হিন্দুধর্মে জাতির ইনক্লুশন হয় এবং হয়া আসতেছে। যেইগুলা এখনকার সময়েও রেভ্যুলেশনারি চিন্তা।

ন্যাশনালিজমের মারা যাওয়ার এই টাইমে, ‘জাতি-প্রশ্ন’টারে রিভিউ করার এই সময়ে, আমরা মনে করি, বঙ্কিমের এই আলাপ এখনো রিলিভেন্ট এই অর্থে যে, ইতিহাস-বিচারে যেইভাবে প্রশ্নগুলারে উনি সামনে আনছেন এবং এর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছেন, সেইটা খেয়াল করার মতো একটা ঘটনা।

তবে পুরা আলাপে একটা জিনিস খেয়াল করার মতো, বৌদ্ধধর্মের নাম একবারও নেন নাই বঙ্কিম। একটা কারণ মেবি এইটা যে, বঙ্কিম যেহেতু ফোকাস করছেন ‘কি আছে’ – এই জায়গাটাতে, যার ফলে ‘যা আছে’, সেইটা ‘কিভাবে আছে’ সেইটাই যাচাইয়ের জায়গা ছিল উনার, যা নাই – সেই জায়গাটাতে উনি যান নাই । আর সেকেন্ড একটা ঘটনা মেবি, উনার একটা গ্রান্ড প্রজেক্ট ছিল একটা ইউরোপিয়ান রেফারেন্সের বিপরীতে একটা ইন্ডিয়ান রেফারেন্সের জায়গারে রিলিভেন্ট কইরা তোলা, সেইখানে অনেকগুলা ন্যারেটিভ থাকতে পারে – এইটা উনার কনসার্নের জায়গা ছিল না; বা অনেকগুলা ন্যারেটিভ মিইলা যে একটাই ‘ইন্ডিয়ান’ ন্যারেটিভ সেই পজিশন থিকা কথা বলতে চাইছেন।

আর পলিটিক্যাল জায়গা থিকা সেইটা যে একটা ‘হিন্দু ন্যারেটিভে’ পরিণত হইছে, সেইখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বলাবলির চাইতে তার টেক্সটের রিডিংয়ের কন্ট্রিবিউশনটাই গ্রেটার বইলা মনেহয়, আমাদের কাছে। তো, এই লেখাটারে উনার ইন্ডিয়ান-ন্যারেটিভের একটা রেফারেন্স হিসাবে পড়া যাইতে পারে।

২.
পুরা লেখাটা যে অ-দরকারি – তা না, বরং মোর রিডেবল একটা ভার্সন আমরা এইখানে রাখতে চাইছি। আর পুরা লেখাটা  অনলাইনে অনেকগুলা ওয়েবসাইটে পাইবেন। আমরা দুইটা লিংক রিকমেন্ড করতেছি:

১.  বাঙ্গালীর উৎপত্তি | বাঙ্গালীর উৎপত্তি | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | এডুলিচার পাঠশালা (eduliture.com)

২. পাতা:বিবিধ-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৫৯).pdf/৩১৮ – উইকিসংকলন একটি মুক্ত পাঠাগার (wikisource.org)

এডিটর, বাছবিচার

………

প্রথম পরিচ্ছেদ

অনেকে—বাঙ্গালীর উৎপত্তি কি?—এই প্রশ্ন শুনিয়া বিস্মিত হইতে পারেন। অনেকের ধারণা আছে যে, বাঙ্গালায় চিরকাল বাঙ্গালী আছে, তাহাদিগের উৎপত্তি আবার খুঁজিয়া কি হইবে? তাহাদিগের অপেক্ষা শিক্ষায় যাঁহারা একটু উন্নত, তাঁহারা বিবেচনা করেন, বাঙ্গালীর উৎপত্তি ত জানাই আছে; আমরা প্রাচীন হিন্দুগণ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে।… বাঙ্গালীর উৎপত্তি খুঁজিয়া কি হইবে?

…লোকসংখ্যা গণনায় স্থির হইয়াছে যে, যাহাদিগকে বাঙ্গালী বলা যায়, যাহারা বাঙ্গালাদেশে বাস করে, বাঙ্গালাভাষায় কথা কয়, তাহাদিগের মধ্যে অর্দ্ধেক মুসলমান। ইহারা বাঙ্গালী বটে, কিন্তু ইহারাও কি সেই প্রাচীন বৈদিকধর্ম্মাবলম্বী জাতির সন্ততি? হাড়ি, কাওরা, ডোম ও মুচি; কৈবর্ত্ত, জেলে, কোঁচ, পলি, ইহারাও কি তাঁহাদিগের সন্ততি? তাহা যদি নিশ্চিত না হয়, তবে অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। কেবল ব্রাহ্মণ কায়স্থে বাঙ্গালা পরিপূর্ণ নহে, ব্রাহ্মণ কায়স্থ বাঙ্গালীর অতি অল্পভাগ। বাঙ্গালীর মধ্যে যাহারা সংখ্যায় প্রবল, তাহাদিগেরই উৎপত্তিতত্ত্ব অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন।

যে প্রাচীন হিন্দুজাতি হইতে উৎপন্ন বলিয়া আমরা মনে মনে স্পর্দ্ধা করি, তাঁহারা বেদে আপনাদিগকে আর্য্য বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। এখন ত অনেক দিনের পর ইউরোপ হইতে ‘আর্য্য’ শব্দ আসিয়া আবার ব্যবহৃত হইতেছে। প্রাচীন হিন্দুরা আর্য্য ছিলেন; অথবা তাঁহাদিগের সন্তান। এজন্য আমরা আর্য্যবংশ। কিন্তু এই আর্য্য শব্দ আর বেদের আর্য্য শব্দ ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। বৈদিক ঋষিরা বলেন, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, এই তিনটি আর্য্যবর্ণ। এখনকার পাশ্চাত্ত্য পণ্ডিতেরা এবং তাঁহাদিগের অনুবর্ত্তী হইয়া ভারতীয় আধুনিকেরাও বলিয়া থাকেন, ইংরেজ, ফরাসী, জর্ম্মান্, রুষ, যবন, পারসিক, রোমক, হিন্দু, সকলই আর্য্য। আবার ভারতবর্ষের সকল অধিবাসী এ নামের অধিকারী হয় না; হিন্দুরা আর্য্য বলিয়া খ্যাত, কিন্তু কোল, ভীল, সাঁওতাল আর্য্য নহে। তবে আর্য্য শব্দের অর্থ কি?

এই প্রভেদের কারণ কি? কতকগুলি দেশীয় লোক আর্য্যবংশীয়, কতকগুলি অনার্য্যবংশীয়, এরূপ বিবেচনা করিবার কারণ কি? আর্য্য কাহারা,—কোথা হইতেই বা আসিল? অনার্য্য কাহারা, কোথা হইতেই বা আসিল? এক দেশে দুইপ্রকার মনুষ্যবংশ কেন? আর্য্যের দেশে অনার্য্য আসিয়া বাস করিয়াছে, না অনার্য্যের দেশে আর্য্য আসিয়া বাস করিয়াছে? বাঙ্গালার ইতিহাসের এই প্রথম কথা।

ইহার মীমাংসা জন্য ভাষাবিজ্ঞানের আশ্রয় গ্রহণ করিতে হয়।… Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →