জ্যাকি ব্রাউনের রিলিজ কুয়েন্টিন টারান্টিনোর জন্য অনেক চরম একটা মুহূর্ত। যদি পপ-কালচার টার্মে বলতে যাই, যার সাথে টারান্টিনো নিজে যথেষ্ট পরিচিত, তাইলে বলা যায় ডিরেক্টর হিসেবে তার থার্ড সিনেমা ততটাই এক্সপেক্টেশানের ভার বহন করতেসে যতটা কোনো ফেমাস মিউজিক ব্যান্ডের থার্ড সিডির করা লাগে।
রেজার্ভোয়া ডগস বা পাল্প ফিকশন-এর চেয়ে এইটা আলাদা, কারণ এইটা অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে না, বরং একটা নভেলের এডাপটেশন। ক্যারেক্টার এস্টাবিলশ করার জন্য এইখানে অনেক পেইন নেয়া লাগসে, আর এইটাতে প্রায়-বার্গম্যানীয় ধৈর্যের সহিত লং টেক নিয়া এক্সপেরিমেন্ট করা হইসে, আর অফ-স্ক্রিন মেসি ভায়োলেন্স এড়ানো হইসে। তবু এইটা টারান্টিনোর ফিল্ম, অন্তত এর ল্যাঙ্গুয়েজের ইউজ হইতেই তা ইন্সট্যান্টলি বুইঝা ফেলা যায়। জ্যাকি ব্রাউন যেইজন্য সবচেয়ে বেশি প্রশংসা বা সমালোচনার শিকার হবে তার মেইন কারণ এর ডায়লগ: এতে রিদম আছে, ফোঁসফোঁসানি আছে, আর আছে হিউমার, টারান্টিনোর কাছে যা যা এক্সপেক্টেড। কিন্তু কেউ কেউ এতে অফেন্ডেডও হবেন, যেমন হইসিলেন আমাদের ইন্টারভিউয়ার, খুব স্বাভাবিকভাবে “নিগার” জাতীয় শব্দের ব্যবহারে, যা পাল্প ফিকশনেও করা হইসিলো।
এরিক বাওয়ার: জ্যাকি ব্রাউন মুভিটাতে আপনি ডায়লগগুলারে রিয়ালিস্টিক করার জন্য বহুকিছু করসেন। এইটা তো আপনি নর্মালি যে স্টাইলাইজড ডায়লগের জন্য ফেমাস তার সাথে অনেক কন্ট্রাস্ট করে।
কুয়েন্টিন টারান্টিনো: আমি এর আগে মাত্র দুইটা সিনেমা বানাইসি, তো এখনই আমারে কোনো বাক্সে ফালাইয়েন না, অন্তত ছয়টা সিনেমা আগে বানায়া নেই। রেজার্ভোয়া ডগস, পাল্প ফিকশন, আর স্ক্রিপ্ট লেখা হইসে ট্রু রোম্যান্স [ডিরেক্টর-টোনি স্কট] আর ন্যাচরাল বর্ন কিলার্সের [ডিরেক্টর-অলিভার স্টোন] জন্য, এগুলা সবই আমার নিজের ইউনিভার্সে ঘটে, কিন্তু তাই বইলা এগুলা ফ্যান্টাস্টিকাল না। এই মুভিটা আমার ইউনিভার্সে ঘটে না–এইটা এল্মোর লেনার্ডের ইউনিভার্স, আর আমার নিজের বানানো ছোট্ট ইউনিভার্সটার বাইরে গিয়া কাজ করা বেশ মজার ছিল। তো এইজন্য আমি একটু আল্ট্রা-রিয়ালিস্টিক হইতে চাইসিল। আমি একটা ভিন্ন লুক আনতে এবার আলাদা একজন সিনেমাটোগ্রাফার হায়ার করসিলাম [গ্যুইলেরমো নাভারো]। এখনও দেখতে জোস লাগে, জাস্ট আরেকটু বেশি ডাউন-টু-আর্থ করসি, হয়তো অত বেশি মুভি মুভি লাগবে না, অনেকটা ওই স্ট্রেইট টাইম এর মত। আমার সেট বিল্ড করতে ভাল্লাগে। কিন্তু জ্যাকি ব্রাউনে আমি এইটা করি নাই। এইখানের প্রত্যেকটা সিন অন লোকেশন শুট করা।
বাওয়ার: এল্মোর লেনার্ডের বই আপনারে কিরকম ইনফ্লুয়েন্স করসে?
টারান্টিনো: উনি আমারে পারমিশন দিসিলেন ক্যারেক্টারগুলারে নিয়া আমার মত কইরা কথা বলানোর। উনি আমারে দেখাইসিলেন যে ক্যারেক্টাররা খুব ছোটখাটো বিষয়েও চেইতা যাইতে পারে, আর এই ছোটখাটো জিনিসগুলাও টোটালি ভ্যালিড। বাস্তব জীবনে মানুষজন যেমনে কথা বলে। আমার মনে হয় আমার উপর ওনার সবচেয়ে বেশি ইনফ্লুয়েন্স ছিল ট্রু রোম্যান্স লেখার সময়। আমি আসলে আমার নিজের মত কইরা এল্মোর লেনার্ডের নভেলরেই স্ক্রিপ্টের রূপ দিতে চাইতেসিলাম। মানে আমি তার লেখা মাইরা দেইনাই, হুবহু কিছুই আমি নেই নাই। জাস্ট একটা ফিলিং, একটা স্টাইল যা আমারে খুব ইন্সপায়ার করসিলো আরকি।
বাওয়ার: জ্যাকি ব্রাউন আপনার অন্যান্য সিনেমার মত প্লট রিভার্সালের উপর অতটা ডিপেন্ড করে না, আর আপনার সিনেমার টুইস্টগুলা বেশিরভাগ সময় ডায়লগের মাধ্যমে আনা হয়।
টারান্টিনো: এই সিনেমাটাতে সবসময়ই কিছু না কিছু আনফোল্ড হইতেসে: মানে এইটার ঘটনা এমন না সিনেমার প্রথম দশ মিনিটেই জ্যাকি ফিগার আউট কইরা ফেলতেসে কিভাবে পাঁচ লাখ ডলার কামাবে আর তা করতে নাইমা যাইতেসে – না! ব্যাপারটা আস্তে আস্তে তার কাছে আসতে থাকে, লাইফ আর সিচুয়েশন বদলায় আর তার সাথে সেও আলাদা আলাদা ডিরেকশনে ছিটকায়া পড়ে। আস্তে আস্তে ইভলভ হয়, আর তারপর ওই পয়েন্ট হইতে যতক্ষণ সে কাজটা কইরা ফেলে ততক্ষণ সোজাসুজি যাইতে থাকে। এইটা অনেক নভেলিস্টিক একটা মুভি, মানে এইটার প্রথম নব্বই মিনিট জাস্ট ক্যারেক্টারাইজেশন। তারপর জাস্ট কাজগুলা ঘটানো, শেষ আধঘণ্টায় তারা জাস্ট ওইসব করতে থাকে, টাকা সুইচ করা আর ওইসব।
বাওয়ার: আপনার জ্যাকি ব্রাউনের স্ক্রিপ্টে আগেকার যেকোনো স্ক্রিপ্টের চেয়ে এক্সপোজিশন অনেক বেশি।
টারান্টিনো: এইটা একদম সত্য, হ। এই প্রথমবার এত বড়ভাবে এক্সপোজিশন নিয়া কাজ করতেসিলাম। এগুলা সবই বইয়ে হয়। এইটা ম্যাক্স আর জ্যাকির রিলেশনশিপের একটা পার্ট: নিজেদের প্রবলেমগুলা নিয়া কথা বলা, একজন আরেকজনের কাউন্সেল হিসেবে কাজ করে, হেল্প করার ট্রাই করে। আর সেকেন্ড হাফে অনেকটা ওর থটসগুলাই জোরে জোরে বলা হইতে থাকে, মেয়েটা অনেকটা নিজের সাথে কথা বলতেসে আরকি।
বাওয়ার: এইটার স্ক্রিনপ্লের জন্য আপনি নিজের জন্য কিরকম গোল সেট কইরা রাখসিলেন?
টারান্টিনো: একটা ফিমেল লিড ক্যারেক্টাররে ফলো করার আইডিয়াটা আমার ভাল্লাগসে। কিন্তু লোকজনরে খুবই আনফেয়ারভাবে অনেক জায়গায় বলতে শুনসি, “আহ কিন্তু ও মহিলাদের ঠিকমত লিখতে পারবে?” তারা এইসব স্রেফ এইজন্য বলতেসে কারণ আমি সবার আগে রেজার্ভোয়া ডগস বানাইসিলাম। কিন্তু চল্লিশের ঘরের এক কালো মহিলার লাইফ ফলো করার আইডিয়াটা আমার কাছে খুবই ইন্টেরেস্টিং লাগসে। আমার আসলেই মনে করি জ্যাকি ব্রাউন আমার। সে এখনও বইতে যেমন ক্যারেক্টার ছিল তেমনই, কিন্তু আমি সিনেমায় তারে কালো বানানোতে তার লাইফ এফেক্টেড হয়, কারণ এতে তার লাইফ এক্সপেরিয়েন্স, ডায়লগ এইসব আলাদা হইয়া যায়।
বাওয়ার: এই কারেক্টারটা করার জন্য কি কোনো রিসার্চ করসিলেন আপনি?
টারান্টিনো: আমি কিছু মহিলারে চিনতাম যাদের দেখলে জ্যাকির কথা মনে পড়তো, তো আমি তাদের ইউজ করসিলাম। আমি জাস্ট নিজের মধ্যে ওরে পাইতে চাইতেসিলাম। আমি এইটা নিয়া ফাইজলামি করি, কিন্তু একচুয়ালি আমি অনেকটাই একটা মেথড রাইটার। কোনো ক্যারেক্টার লেখার সময় আমি নিজে আসলেই সেই ক্যারেক্টারটা হইয়া যাই। ওই পুরা বছরটা আমি ছিলাম অর্ডেল। পুরা মুভির মধ্যে ওর সাথেই সবচেয়ে বেশি আইডেন্টিফাই করতে পারসিলাম। আমি ওর মত কইরা হাঁটতেসিলাম, ওর মত কইরা কথা বলতেসিলাম। আমি ওরে মাথা হইতে বের করতেই পারতেসিলাম না, চাইতেসিলামও না। আর একটা অদ্ভুতভাবে অর্ডেলই পুরা সিনেমাটার রিদম। ও যেমনে কথা কয়, যেমন জামাকাপড় পরে–ওর সবকিছু যেমন পুরা মুভিটারই যেন অমনই হওয়া উচিৎ। ও সোল মিউজিকের সেই ওল্ড স্কুল, ওইটারই পার্সোনিফিকেশন। আমি যদি আর্টিস্ট না হইতাম, তাইলে আমিও হয়তো অরডেলের মতই এক্সাইটেড থাকতাম।
বাওয়ার: কিন্তু এইটা তো তার মুভি না।
টারান্টিনো: না, এইটা জ্যাকির মুভি। কিন্তু জ্যাকির ক্যারেক্টারের ব্যাপারে জোস জিনিসটা হইলো সে একদমই রিভিলিং না। স্টোরির তাগিদে তার সবসময় একদম একটা পোকার ফেসে থাকতে হয়। স্টোরি রিকোয়ার করে যে তার মাথায় কি চলতেসে তা যেন বুঝা না যায়। আর এই এডাপ্টেশনের বেলায় যেই একটা জিনিস আমি ধইরা রাখার ট্রাই করসি তা হইলো যতবার জ্যাকি অর্ডেলের সাথে দেখা করে ততবার ও তারে পুলিশদের ব্যাপারে যা যা জানে সব বইলা দেয়। আর এইটা আমারে সবসময় সারপ্রাইজ করতো, যতবারই করতো ততবারই! মানে ব্যাপারটা হইসে, “মেয়েটা ওরে এত খারাপভাবে চুদতেসে!” ভাবতেসিলাম, “হায় খোদা ও আবার ম্যাক্সরেও চুদতেসে নাকি! হয়তো এবার ও সত্য বলতেসে কিন্তু শিওর তো জানিনা।” ম্যাক্স হইসে অডিয়েন্স–পুরা মুভিটা ম্যাক্সের চোখ দিয়াই দেখি আমরা। ম্যাক্সই মুভিটার কনশিয়েন্স আর হার্ট, আর ও ডেফিনিটলি মুভিটার মেজর হিউম্যান লিঙ্ক। ম্যাক্স হইলো অডিয়েন্স, কিন্তু অর্ডেল সিনেমার রিদম, মুভিটার আত্মা। Continue reading →