Main menu

এডিটোরিয়াল: আমাদের ডেটা প্রতিপালন বা, ডিসকোর্সের বুদবুদগুলি

কয়দিন আগে একটা পোস্ট দিছিলাম, আরও এক দেড় বছর আগের একটা পোস্ট শেয়ার দিয়া। ওইখানে বলতে চাইছিলাম বিশ কোটি নাম্বারটা প্রসেস করার ক্ষেত্রে পিপল সাইকোলজিকালি ইউজড টু না। আবার বিশ কোটি মানুষ আর বিশ কোটি টাকা এক জিনিস না। দুই বিশ কোটির কনসেপচুয়াল ওভারল্যাপিং করতে থাকে মানুষ, অল দা টাইম।

তো এই জায়গাটা নিয়া আমি আরও কয়েক জায়গায়ই বলছিলাম। এইটা পার্টিকুলারলি আমাদের দেশে ইম্পর্টেন্ট কারণ আমাদের দেশে এন্টিপিপল আনডেমোক্রেটিক গবর্নমেন্ট আছে। এই দেশের আমলায়তনে সব কিছুতে পিপল ‘অসভ্য’ বলার রেওয়াজ আছে। এবং একটা অটোক্রেসিতে যেটা হয় গবর্নমেন্ট থ্রাইভই করে পিপলের গ্রুপগুলির এগেইনস্টে পিপলরেই দাড় করায়ে। ফলে সবকিছুতে পিপলের দোষ বাইর করার প্রেক্টিসটা এখন আমলায়তন আর এলিট সার্কেল ছাড়ায়া পাবলিক পরিসরে গুরুত্ব পাওয়া শুরু হইছে। তো এইখানেই আমার কাছে মনে হয় বিশ কোটি নাম্বারটা আসলে কি মিন করে সেই ব্যাপারে সঠিক বোঝাবুঝি কম আমাদের মইধ্যে।

বিশ কোটি মানুষের দেশে পাবলিক ব্লেমিংএর চর্চা, রুলিং ক্লাসরে তাদের ফেইল্যুর হইতে এস্কেপ করার রুট বানায়া দেয়ার সমান। নো ম্যাটার হোয়াট, বিশ কোটি মানুষের ভেতর দেয়ার উইল অলওয়েজ বি পিপল হু উড নট আন্ডারস্ট্যান্ড, হু উড নট ফল ইন লাইন, আপনে চাইলে যে কোন গিভেন টাইমে এনাফ নাম্বার অব পিপল পাইয়া যাইবেন ব্লেইম করার জন্য। এই কারণেই রুলিং ক্লাসের জন্য ব্লেইম শুড নেভার বি এন অপশন। আপনে কিসে কনসেন্ট্রেট করবেন এইটা অলওয়েজ ইম্পর্টেন্ট এই কারণে যে, পিপলরে ব্লেইম করারা নট জাস্ট নিজেদের আনএকাউন্টেবল রাখার ওয়ে ক্রিয়েট করে, লগে ইনক্রিজিংলি অথোরিটারিয়ান হইয়া ওঠার রেশনেলও তৈরি করতে থাকে। যেইখানে একটা ডেমোক্রেটিক সিস্টেমে অথরিটি বাধ্য হয়, নিজেদের একশন প্ল্যান নিয়া প্রোপিপল সল্যুশন বাইর করতে, ডিসিশন মেকিংএ ক্রিয়েটিভ হইতে। ইট ইজ নো ওয়ান্ডার, ডেমোক্রেসিতেই গভর্নেন্সের ক্ষেত্রে আপনে সবচেয়ে জিনিয়াস, মাল্টিফেসেটেড সল্যুশনগুলি পাইবেন। ডেমোক্রেসিতে ল, একাডেমিয়া, এডুকেশন, হেলথকেয়ার, ইকোনমি সবকিছু ইউজ কইরা সিস্টেম অফার করতে হয়। এই ড্রাইভ অথরিটারিয়ান গবর্নমেন্টে থাকেই না। আমি মোটামুটি নিশ্চিত আমাদের দেশের গবর্নমেন্টের ক্ষেত্রে, দে আর প্লেয়িং উইথ দ্যাট বিশ কোটি নাম্বার টু জাস্টিফাই দেয়ার ফেইল্যুর ইন গভর্নেন্স, এন্ড বিশ কোটি নাম্বারটা নিয়া যে ইন্ডিভিজুয়াল পিপলের ওপেক কনসেপশন আছে সেইটারে ইউজ কইরা পিপলরে মিসগাইড করে।

ফেসবুক টেসবুকে আতেলদের, ভার্সিটিপড়ুয়া তালেবদের আলাপেও দেখবেন অন মাস ব্লেমিংএ মনোযোগ। মানে লার্জ কোয়ান্টিটি অব পিপল যে প্লুরালিটি ধারণ করে সেইটা সম্পর্কে অনবগত। এইখানে দেখবেন হিন্দু বাড়ি পুড়লে মুসলমানের দোষ দেয়। কিন্তু মুসলমানের দোষ দিয়া তো আপনে বার থেকে চোদ্দ কোটি মানুষের একটা পুলরে শুধরায় ফেলতে পারবেন না! এই অন মাস ব্লেমিংএ এই আওয়ামী লীগ সরকারের যে সুবিধাটা হইছে, কেন্দ্রের বাইরে পেরিফেরিতে মুসলিম সেন্টিমেন্টরে ক্যাশ কইরা এরাই হিন্দু বাড়ি পুড়ায়, তারপর এই দলেরই আরবান ক্লাসের পোলাপান কেন্দ্রে নেরেটিভ তৈরি করতে থাকে মুসলমানদের ব্লেইম দিয়া। সাম্প্রদায়িকতা ব্যাখ্যার প্রেক্টিসটা সব সময়ই এইভাবে হইয়া আসার কারণে এর কোন সল্যুশনও নাই খেয়াল কইরেন। Continue reading

একটা ক্যারেক্টার কখনোই ভালো বা খারাপ কিছু করতে পারে না, সে জাস্ট ট্রুথের সাইডে থাকতে পারে বা পারে না – টারানটিনো

This entry is part 11 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

জ্যাকি ব্রাউনের রিলিজ কুয়েন্টিন টারান্টিনোর জন্য অনেক চরম একটা মুহূর্ত। যদি পপ-কালচার টার্মে বলতে যাই, যার সাথে টারান্টিনো নিজে যথেষ্ট পরিচিত, তাইলে বলা যায় ডিরেক্টর হিসেবে তার থার্ড সিনেমা ততটাই এক্সপেক্টেশানের ভার বহন করতেসে যতটা কোনো ফেমাস মিউজিক ব্যান্ডের থার্ড সিডির করা লাগে।

রেজার্ভোয়া ডগস বা পাল্প ফিকশন-এর চেয়ে এইটা আলাদা, কারণ এইটা অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে না, বরং একটা নভেলের এডাপটেশন। ক্যারেক্টার এস্টাবিলশ করার জন্য এইখানে অনেক পেইন নেয়া লাগসে, আর এইটাতে প্রায়-বার্গম্যানীয় ধৈর্যের সহিত লং টেক নিয়া এক্সপেরিমেন্ট করা হইসে, আর অফ-স্ক্রিন মেসি ভায়োলেন্স এড়ানো হইসে। তবু এইটা টারান্টিনোর ফিল্ম, অন্তত এর ল্যাঙ্গুয়েজের ইউজ হইতেই তা ইন্সট্যান্টলি বুইঝা ফেলা যায়। জ্যাকি ব্রাউন যেইজন্য সবচেয়ে বেশি প্রশংসা বা সমালোচনার শিকার হবে তার মেইন কারণ এর ডায়লগ: এতে রিদম আছে, ফোঁসফোঁসানি আছে, আর আছে হিউমার, টারান্টিনোর কাছে যা যা এক্সপেক্টেড। কিন্তু কেউ কেউ এতে অফেন্ডেডও হবেন, যেমন হইসিলেন আমাদের ইন্টারভিউয়ার, খুব স্বাভাবিকভাবে “নিগার” জাতীয় শব্দের ব্যবহারে, যা পাল্প ফিকশনেও করা হইসিলো।

এরিক বাওয়ার: জ্যাকি ব্রাউন মুভিটাতে আপনি ডায়লগগুলারে রিয়ালিস্টিক করার জন্য বহুকিছু করসেন। এইটা তো আপনি নর্মালি যে স্টাইলাইজড ডায়লগের জন্য ফেমাস তার সাথে অনেক কন্ট্রাস্ট করে।

কুয়েন্টিন টারান্টিনো: আমি এর আগে মাত্র দুইটা সিনেমা বানাইসি, তো এখনই আমারে কোনো বাক্সে ফালাইয়েন না, অন্তত ছয়টা সিনেমা আগে বানায়া নেই। রেজার্ভোয়া ডগস, পাল্প ফিকশন, আর স্ক্রিপ্ট লেখা হইসে ট্রু রোম্যান্স [ডিরেক্টর-টোনি স্কট] আর ন্যাচরাল বর্ন কিলার্সের [ডিরেক্টর-অলিভার স্টোন] জন্য, এগুলা সবই আমার নিজের ইউনিভার্সে ঘটে, কিন্তু তাই বইলা এগুলা ফ্যান্টাস্টিকাল না। এই মুভিটা আমার ইউনিভার্সে ঘটে না–এইটা এল্মোর লেনার্ডের ইউনিভার্স, আর আমার নিজের বানানো ছোট্ট ইউনিভার্সটার বাইরে গিয়া কাজ করা বেশ মজার ছিল। তো এইজন্য আমি একটু আল্ট্রা-রিয়ালিস্টিক হইতে চাইসিল। আমি একটা ভিন্ন লুক আনতে এবার আলাদা একজন সিনেমাটোগ্রাফার হায়ার করসিলাম [গ্যুইলেরমো নাভারো]। এখনও দেখতে জোস লাগে, জাস্ট আরেকটু বেশি ডাউন-টু-আর্থ করসি, হয়তো অত বেশি মুভি মুভি লাগবে না, অনেকটা ওই স্ট্রেইট টাইম এর মত। আমার সেট বিল্ড করতে ভাল্লাগে। কিন্তু জ্যাকি ব্রাউনে আমি এইটা করি নাই। এইখানের প্রত্যেকটা সিন অন লোকেশন শুট করা।

বাওয়ার: এল্মোর লেনার্ডের বই আপনারে কিরকম ইনফ্লুয়েন্স করসে?

টারান্টিনো: উনি আমারে পারমিশন দিসিলেন ক্যারেক্টারগুলারে নিয়া আমার মত কইরা কথা বলানোর। উনি আমারে দেখাইসিলেন যে ক্যারেক্টাররা খুব ছোটখাটো বিষয়েও চেইতা যাইতে পারে, আর এই ছোটখাটো জিনিসগুলাও টোটালি ভ্যালিড। বাস্তব জীবনে মানুষজন যেমনে কথা বলে। আমার মনে হয় আমার উপর ওনার সবচেয়ে বেশি ইনফ্লুয়েন্স ছিল ট্রু রোম্যান্স লেখার সময়। আমি আসলে আমার নিজের মত কইরা এল্মোর লেনার্ডের নভেলরেই স্ক্রিপ্টের রূপ দিতে চাইতেসিলাম। মানে আমি তার লেখা মাইরা দেইনাই, হুবহু কিছুই আমি নেই নাই। জাস্ট একটা ফিলিং, একটা স্টাইল যা আমারে খুব ইন্সপায়ার করসিলো আরকি।

বাওয়ার: জ্যাকি ব্রাউন আপনার অন্যান্য সিনেমার মত প্লট রিভার্সালের উপর অতটা ডিপেন্ড করে না, আর আপনার সিনেমার টুইস্টগুলা বেশিরভাগ সময় ডায়লগের মাধ্যমে আনা হয়।

টারান্টিনো: এই সিনেমাটাতে সবসময়ই কিছু না কিছু আনফোল্ড হইতেসে: মানে এইটার ঘটনা এমন না সিনেমার প্রথম দশ মিনিটেই জ্যাকি ফিগার আউট কইরা ফেলতেসে কিভাবে পাঁচ লাখ ডলার কামাবে আর তা করতে নাইমা যাইতেসে – না! ব্যাপারটা আস্তে আস্তে তার কাছে আসতে থাকে, লাইফ আর সিচুয়েশন বদলায় আর তার সাথে সেও আলাদা আলাদা ডিরেকশনে ছিটকায়া পড়ে। আস্তে আস্তে ইভলভ হয়, আর তারপর ওই পয়েন্ট হইতে যতক্ষণ সে কাজটা কইরা ফেলে ততক্ষণ সোজাসুজি যাইতে থাকে। এইটা অনেক নভেলিস্টিক একটা মুভি, মানে এইটার প্রথম নব্বই মিনিট জাস্ট ক্যারেক্টারাইজেশন। তারপর জাস্ট কাজগুলা ঘটানো, শেষ আধঘণ্টায় তারা জাস্ট ওইসব করতে থাকে, টাকা সুইচ করা আর ওইসব।

বাওয়ার: আপনার জ্যাকি ব্রাউনের স্ক্রিপ্টে আগেকার যেকোনো স্ক্রিপ্টের চেয়ে এক্সপোজিশন অনেক বেশি।

টারান্টিনো: এইটা একদম সত্য, হ। এই প্রথমবার এত বড়ভাবে এক্সপোজিশন নিয়া কাজ করতেসিলাম। এগুলা সবই বইয়ে হয়। এইটা ম্যাক্স আর জ্যাকির রিলেশনশিপের একটা পার্ট: নিজেদের প্রবলেমগুলা নিয়া কথা বলা, একজন আরেকজনের কাউন্সেল হিসেবে কাজ করে, হেল্প করার ট্রাই করে। আর সেকেন্ড হাফে অনেকটা ওর থটসগুলাই জোরে জোরে বলা হইতে থাকে, মেয়েটা অনেকটা নিজের সাথে কথা বলতেসে আরকি।

বাওয়ার: এইটার স্ক্রিনপ্লের জন্য আপনি নিজের জন্য কিরকম গোল সেট কইরা রাখসিলেন?

টারান্টিনো: একটা ফিমেল লিড ক্যারেক্টাররে ফলো করার আইডিয়াটা আমার ভাল্লাগসে। কিন্তু লোকজনরে খুবই আনফেয়ারভাবে অনেক জায়গায় বলতে শুনসি, “আহ কিন্তু ও মহিলাদের ঠিকমত লিখতে পারবে?” তারা এইসব স্রেফ এইজন্য বলতেসে কারণ আমি সবার আগে রেজার্ভোয়া ডগস বানাইসিলাম। কিন্তু চল্লিশের ঘরের এক কালো মহিলার লাইফ ফলো করার আইডিয়াটা আমার কাছে খুবই ইন্টেরেস্টিং লাগসে। আমার আসলেই মনে করি জ্যাকি ব্রাউন আমার। সে এখনও বইতে যেমন ক্যারেক্টার ছিল তেমনই, কিন্তু আমি সিনেমায় তারে কালো বানানোতে তার লাইফ এফেক্টেড হয়, কারণ এতে তার লাইফ এক্সপেরিয়েন্স, ডায়লগ এইসব আলাদা হইয়া যায়।

বাওয়ার: এই কারেক্টারটা করার জন্য কি কোনো রিসার্চ করসিলেন আপনি?

টারান্টিনো: আমি কিছু মহিলারে চিনতাম যাদের দেখলে জ্যাকির কথা মনে পড়তো, তো আমি তাদের ইউজ করসিলাম। আমি জাস্ট নিজের মধ্যে ওরে পাইতে চাইতেসিলাম। আমি এইটা নিয়া ফাইজলামি করি, কিন্তু একচুয়ালি আমি অনেকটাই একটা মেথড রাইটার। কোনো ক্যারেক্টার লেখার সময় আমি নিজে আসলেই সেই ক্যারেক্টারটা হইয়া যাই। ওই পুরা বছরটা আমি ছিলাম অর্ডেল। পুরা মুভির মধ্যে ওর সাথেই সবচেয়ে বেশি আইডেন্টিফাই করতে পারসিলাম। আমি ওর মত কইরা হাঁটতেসিলাম, ওর মত কইরা কথা বলতেসিলাম। আমি ওরে মাথা হইতে বের করতেই পারতেসিলাম না, চাইতেসিলামও না। আর একটা অদ্ভুতভাবে অর্ডেলই পুরা সিনেমাটার রিদম। ও যেমনে কথা কয়, যেমন জামাকাপড় পরে–ওর সবকিছু যেমন পুরা মুভিটারই যেন অমনই হওয়া উচিৎ। ও সোল মিউজিকের সেই ওল্ড স্কুল, ওইটারই পার্সোনিফিকেশন। আমি যদি আর্টিস্ট না হইতাম, তাইলে আমিও হয়তো অরডেলের মতই এক্সাইটেড থাকতাম।

বাওয়ার: কিন্তু এইটা তো তার মুভি না।

টারান্টিনো: না, এইটা জ্যাকির মুভি। কিন্তু জ্যাকির ক্যারেক্টারের ব্যাপারে জোস জিনিসটা হইলো সে একদমই রিভিলিং না। স্টোরির তাগিদে তার সবসময় একদম একটা পোকার ফেসে থাকতে হয়। স্টোরি রিকোয়ার করে যে তার মাথায় কি চলতেসে তা যেন বুঝা না যায়। আর এই এডাপ্টেশনের বেলায় যেই একটা জিনিস আমি ধইরা রাখার ট্রাই করসি তা হইলো যতবার জ্যাকি অর্ডেলের সাথে দেখা করে ততবার ও তারে পুলিশদের ব্যাপারে যা যা জানে সব বইলা দেয়। আর এইটা আমারে সবসময় সারপ্রাইজ করতো, যতবারই করতো ততবারই! মানে ব্যাপারটা হইসে, “মেয়েটা ওরে এত খারাপভাবে চুদতেসে!” ভাবতেসিলাম, “হায় খোদা ও আবার ম্যাক্সরেও চুদতেসে নাকি! হয়তো এবার ও সত্য বলতেসে কিন্তু শিওর তো জানিনা।” ম্যাক্স হইসে অডিয়েন্স–পুরা মুভিটা ম্যাক্সের চোখ দিয়াই দেখি আমরা। ম্যাক্সই মুভিটার কনশিয়েন্স আর হার্ট, আর ও ডেফিনিটলি মুভিটার মেজর হিউম্যান লিঙ্ক। ম্যাক্স হইলো অডিয়েন্স, কিন্তু অর্ডেল সিনেমার রিদম, মুভিটার আত্মা। Continue reading

ঢাকা ডায়েরি

“বিদেশে দীর্ঘ সময় থাকার পর যারা দেশে ফিরে আসে তাদের চেহারায় একটা বোকা বোকা ভাব এসে জড়ো হয় যেটা সারাজীবনেও তারা কাটায়ে উঠতে পারে না।” – শাহবাগের / সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের এক বড়ো ভাই এই কথা বললেন ২০০৫ এর দিকে। উনার কথা শুনে আরও বোকা হয়ে গেলাম। তখন সবে মাত্র বাইরের একটা দেশ থেকে পড়াশুনা শেষ করে দেশে ফিরছি। সবার মুখে একই প্রশ্ন – ফিরলেন ক্যান। নিজেও ভাবা শুরু করছি – ফিরলাম ক্যান, অবশ্য ফেরার প্ল্যান নিয়েই বাইরে গেছিলাম, থাকার প্ল্যান ছিল না। তারপরেও – এই প্রশ্ন নিজের মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করে যে দেশে, বা নিজের জন্ম শহর এই ঢাকায় ঠিক কী আছে যেটার একটা আন্তর্জাতিকভাবে সত্যিকারের ভ্যালু থাকতে পারে। মানে, ঢাকায় ঠিক কী আছে যেটা, নিজেকে যদি বিশ্ব নাগরিক ভাবি, তাইলে আমার কাছে ভ্যালুয়েবল একটা জিনিস মনে হবে, যেটা কিনা অন্য দেশের অন্য শহরে নাই।

.
আমার এই ভাবনাটা আমি এক পর্যায় শেয়ার করি তৎকালীন একটা উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করা আমার এক কলিগ বন্ধুর সাথে। তিনি কলিগ হবার আগে থেকেই আমার বন্ধু, আর নিজেও নানা দেশ ঘুরে মুরে আসছে । ফলে বিষয়টা তৎক্ষণাৎ তিনি অনুধাবন করতে পারেন। আর তার সেইমুহূর্তের তাৎক্ষণিক উত্তরটাও খুব অসাধারণ। উনি (সে) বলে উঠেন, আরে, পৃথিবীর অনেক দেশে আপনি ‘আধুনিক’ লাইফ দেখতে পাবেন। কিন্তু ‘উত্তর-আধুনিক’ লাইফ খুঁজতে হইলে এই ঢাকা।

ধরেন একটা মানুষ হাঁটতে হাঁটতে ঢাকনা-বিহীন একটা ম্যানহোলে পড়ে গেল। এই যে এই বাস্তবতা – এইটা আপনি পৃথিবীর কোনো উন্নত বা আধুনিক শহরে খুঁজে পাবেন না। এই ধরণের জিনিসগুলা থেকে আনন্দ লাভ করা শিখতে হবে।
ঐসব দেশে সবকিছু সাধারণত একটা সিস্টেমের মধ্যে চলতেসে।
অনেকটা যেন একমাত্রিক একটা লাইফ। কিন্তু ঢাকা শহরের লাইফ বহুমাত্রিক।

এই যে ক্ষমতার কেন্দ্রের এত এত এলিমেন্ট (ধরা যাক বড়ো বড়ো আন্তর্জাতিক অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক আধুনিক জীবন ব্যবস্থা) – আবার তারই সাথে প্রান্তীয় জনগোষ্ঠীর কালচারের এলিমেন্টের প্রবল মিশ্রণ বা সহাবস্থান (যেমন, ডাব বিক্রি, শিয়ালের তেল বিক্রি, কবিরাজের গাছ গাছরা শিকড় বিক্রি, টুপি তসবি বিক্রি, চটের বস্তা, কাগজের প্যাকিং, সিলোফেন, রিকশা, গাড়ি, লারেলাপ্পা বাস, আধুনিক গাড়ি – তার সাথে সাথে মানুষের নানারকমের ন্যারেটিভের সহাবস্থান এই যে এই এক শহরে – এই জিনিসটা ইউনিক।

ভেবে দেখি যে খারাপ বলেন নাই ইনি। এত বিচিত্রতা, কালচারে, ব্যাকগ্রাউন্ডে, বেড়ে ওঠায়, বিশ্বাসে, সমাজে প্রচলিত ন্যারেটিভে – এই এত এত ভ্যারাইটির প্রবল সহাবস্থান এক সাথে কোনো একটা শহরে খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর।
Continue reading

বাংলাদেশের অনলাইন সাহিত্য সামারি: জুলাই – সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলাদেশের সাহিত্য-আর্ট-কালচার নিয়া যেইসব ওয়েবসাইটের লেখা আমাদের চোখে পড়ছে, সেইখান থিকা কিছু লেখা রিকমেন্ড করতে চাইতেছি আমরা। আমাদের বিচার-বিবেচনায়, এই লেখাগুলা আপনারা পড়তে পারেন।

দুইটা পয়েন্ট কন্সিডার করার জন্য বলবো আমরা। এক হইতেছে, সব ওয়েবসাইট তো আমাদের পরিচিত না; যার ফলে বাংলাদেশে এই সময়ে অনলাইনে যা কিছু ছাপা হইছে, তার সবকিছু্‌ই আমাদের দেখার আওতার মধ্যে নাই। কিন্তু কম-বেশি যেইগুলা চালু আছে, একটা সার্কেলে লোকজন শেয়ার করে, কথা বলে, মোস্টলি ব্রাউজ কইরা দেখছি আমরা অই সাইটগুলা। তবে এর বাইরেও কিছু লেখা থাকতে পারে। মোটামুটি ৩০টার মতো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি আমরা; আমাদের ধারণা, এর বাইরে একই রকমের আরো সাইট থাকার কথা।

সেকেন্ড হইলো, ব্যাপারটা এইরকম না যে, এই লেখাগুলা আমরা ছাপাইতাম, বা লেখার কনটেন্ট বা আর্গুমেন্টগুলার সাথে আমরা একমত; বরং উল্টাটাই বেশি, এইসব বিষয়ে আমাদের ধারণা বা পজিশনগুলা আলাদা; কিন্তু আলাপের বিষয় হিসাবে ইম্পর্টেন্ট মনে করতেছি, যে, এইগুলা নিয়া কথা-বার্তা হইতে পারে।

তিন মাস পর পর এইরকমের লেখার লিংক শেয়ার করার ইচ্ছা আছে আমাদের, যেইটা জানুয়ারি, ২০২১ থিকা শুরু করছি আমরা।
Continue reading

অন ডেবট ট্রাপস অ্যান্ড লিবারালিজম (On Debt Traps and Liberalism)

প্রথমেই আমি উল্লেখ করে নিচ্ছি যে লিবারেলিজম এবং ক্যাপিটালিজম কে আমি ইন্টারচেইনঞ্জেইবলি ব্যবহার করব। এদের উৎস একই। এই দুইটাই মধ্যযুগের ইউরোপের সুনির্দিষ্ট কিছু বাস্তবতার জন্যে উদ্ভব হয়েছিল। এই দুইটার উদ্ভব হওয়ার জন্যে ক্রিস্টিয়ানিটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ক্রিশ্চিয়ানিটি এই পোস্ট রোমান ইউরোপকে কিছুটা হইলেও স্থিতিশীলতা দিছিল যাতে একে অন্যকে এনাইলেট করতে না পারে। যদিও ক্রিশটিয়ানিটি কখনওই হমোজেনাস ছিল না, ক্যাথলিক প্রটেস্টেন্ট ভাগ ছাড়াও তাদের ছিল হাজার হাজার সেক্টের ফ্যাঁকড়া। এইসব সেকতগুলো সবসময় নাইস প্লে করত না একে অপরের সাথে। এইকারনে মধ্যযুগের ইউরোপে একধরনের লোকাল সভারিনিটি কখনো ডি জুড়ে, আর কখনো ডি ফ্যাক্টভাবেই বজায় ছিল।

সুতরাং অধিকাংশ বিষয়ে কোন শক্তিশালী এডমিনিস্ট্রিটিভ স্টেইট ছিল না। জনগণকে সহজে কোন কিছুতে কেন্দ্রীয়ভাবে জোর করা যেত না, লোকাল অটোনমির কনসেন্ট ছাড়া। এই লোকাল অটনমিগুলো নিজেরা ইফেক্টিভলি ওয়ান পার্টি স্টেইট চালাইত। কিন্তু যেহেতু তাদের ব্রড এক্সেপটেন্স ছিল, অর্থাৎ লোকাল জনগণের লোকাল অথরিটির প্রতি এলিজেন্স ছিল, সেহেতু তারা লোকাল ডিসেন্টের মোকাবিলা করতে পারত সহজে।

এই কারনে যদি কোন সাফিশেন্টলি বড় মনার্কি কিছু ইমপ্লিমেন্ট করতে চাইত, চার্চ ছাড়া তাদের গতি ছিল না। শুধুমাত্র এই নেটওয়ার্কই বড় এনফোর্সমেন্ট ক্যাপাসিটি বড় আকারে কিছু করার উইদাউট স্পেন্ডিং এ লট অফ মানি। যুদ্ধ এবং অন্যান্য বড় কাজে মনার্কিকে অনেক পয়সা খরচ পরত। মার্সেনারি আর্মির যুগে না পয়সা দিয়া আর্মি পালা মোটামুটি অসম্ভব। আর যারা যুদ্ধ করে তাদের দাবিও বেশী থাকে। এভারেজ জনগণের চেয়ে দাবি বেশী হওয়াটাই ইতিহাস বারবার দেখছে। রোমে একসময় সিচুয়েশন এত খারাপের দিকে গেছিল, নতুন সম্রাটের মুকুট পড়ার বোনাসের লোভে প্রিটোরিয়ান গার্ড সম্রাটের বিরুদ্ধে সকল বিদ্রোহ সমর্থন করত। রোমে অভ্যুথানের স্ট্রাকচারই দাড়ায়ে গেছিল, যে বিদ্রোহ করতে চায় সে প্রিটোরিয়ান গার্ডের কাছে গিয়ে দর কষাকষি করত। এমন ঘটনাও ঘটছে, প্রিটোরিয়ান গার্ড স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্রাটের গলা কেটে নেক্সট এম্পেরেররশিপ নিলাম করছে। এক বেকুব রোমান ধনী ভাবছে এই চান্স সিজার হওয়ার। তার বুঝা উচিত ছিল এত সহজে যেই আর্মি এলিজেন্স পরিবর্তন করে, তারা নিলামে জয়ী রোমান বেকুবের পক্ষ ত্যাগ করতে বেশী সময় নিবেনা। সামবডি জাস্ট নিডস টু আউটবিড হিম। অর্থাৎ পটেশনলিয়াল বিদ্রোহী জানত কত টাকার টোপ ঝোলাতে হবে।

সুতরাং আর্মি = সুপার এক্সপেনসিভ।

চার্চ সেদিকথেকে ইমেডিয়েটলি ততটা পয়সা দাবি করে না। যদিও ভবিষ্যতে কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নেয়। কিন্তু দ্যাট প্রবলেম ইজ ফর আ ফিউচার ইউরোপিয়ান প্রিন্স।

এই কারনেই স্প্যানিশ ইনকুইজেশন চালানোর দায়িত্ব পাইছিল ডমিনিকান অর্ডার। পাবলিক ইনকুইজেশন ইমপ্লিমেন্টেশনে একটা রিলিজিয়াস অর্ডার এততা এফিশিয়েন্ট হওয়ার কথা না, যতটা একটা আর্মি পারত। বাট দ্যাট উড কস্ট আ ফরচুন।

এই প্রেক্ষাপট আসলে লিবারেলিজমের উত্থানের জন্যে বোঝা খুব জরুরী। অর্থাৎ যেসব যায়গায় তাত্বিকভাবে কমপ্লিট একজেকিউটিভ পাওয়ার থাকলেও বাস্তবে আসলে ততটা ছিল না। মানুষের জীবনের অনেক দিকই ইফেক্টিভলি সেন্ট্রালাইজড কোন অথরিটির নাগালে ছিল না। লোকাল অথরিটি ছিল অবশ্যই। বাট লার্জ স্কেইলে ছিল না।

এই ধরনের পরিবেশে জন্ম নিছে লিবারেলিজ এবং ক্যাপিটালিজম। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →