Main menu

কবিতা আর বিশ্বাস নিয়া একটা নোট – টি. এস. এলিয়ট

দ্য ক্রাইটেরিয়ন পত্রিকার ১৯২৫ এর জুলাইয়ের সংখ্যায় আইভোর আর্মস্ট্রং রিচার্ডসের একটা জোস এসে বাইর হইসিলো। আমার কিসমত, উনি ওই এসেতে যেই থিওরি নিয়া কাজ করতেসিলেন ওইটা ব্যাখ্যা করতে আমার একটা কবিতা কাজে লাগাইসিলেন। ওইখানে ফুটনোটে তিনি একটা অবজারভেশন দিসিলেন যে, “এই অথর নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর তার কবিতারে পুরাপুরি আলাদা করতে পারসেন, তাও আবার কবিতাটারে দুর্বল না কইরা। ফলে এতদিন যা স্রেফ একটা দূরবর্তী সম্ভাবনা ছিল, উনি ওইটারে বাস্তবে করতে পারসেন।” এই ফুটনোটটা উনি নিচের এই বাক্যটা বুঝাইতে গিয়া লিখসেনঃ

“একটা বিচ্ছিন্নতাবোধ, অনিশ্চয়তা, মিনিংলেসনেস, সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষারে ভিত্তিহীন মনে হওয়া, যেকোনো উদ্যোগ বা প্রচেষ্টারে ফালতু লাগা, আর জীবনদেনেওয়ালা পানির প্রতি তৃষ্ণা যা হুট কইরাই ব্যর্থ হয়, এইসবই হইলো আমাদের জীবনটারে রিঅর্গানাইজ করার তাগিদ।”

আমি একদমই এইটা মনে করি না যে একজন অথর তার নিজের লেখার গভীর অর্থ ব্যাখ্যা করতে কোনো ট্রেনিংপ্রাপ্ত, বোধসম্পন্ন, আর অন্তত সমান ইন্টেলিজেন্সওয়ালা কোনো লোকের চাইতে বেশি কোয়ালিফাইড। যেই কবিতা নিয়া আলাপ করা হইসে, ওইটা আমার লেখা বইলা তার ব্যাখ্যার বেলায় আমি রিচার্ডস সাবের উপরে কোনো জোর খাটাইতেসি না। তার মতামত আমার কাছে খুবই ইন্টেরেস্টিং লাগসে, তা কেবল আমার কবিতার উপর প্রয়োগ করা হইসে বইলাই না; আর আমার মনে হইতেসে সে আমার কবিতার বদলে অন্য কোনো ব্যাটার কবিতা ইউজ করলেই ভালো হইতো, কারণ তাইলে আমি আরেকটু ফ্রিলি ব্যাপারটা নিয়া আলাপ করতে পারতাম। কারণ এই প্রশ্নটা নতুন আর ইম্পর্ট্যান্ট আর খুউউউবই ইন্টেরেস্টিং।

কিন্তু, কবিতায় কবির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ক্লিয়ারলি বোঝা না গেলেও, কবির নিজের বিশ্বাস হইতে কবিতা কদ্দূর আর আলাদা হইতে পারে? পরে মিস্টার রিচার্ডসের সাথে আলাপ কইরা জানতে পারসি যে উনি হিউম্যান মাইন্ডের এমন উন্নতি কল্পনা করেন যেইখানে সেন্সিবিলিটি আর ইন্টেলেক্ট আলাদা হইয়া থাকবে, আর ওইখানে ‘বিশ্বাস’ মানে হবে কেবল সমর্থনযোগ্য সাইন্টিফিক হাইপোথিসিসের প্রতি শর্তাধীন সম্মতি, আর যেইখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেইটারে সত্য বইলা মনে হয় সেইটা দিয়া আমাদের সেন্স প্রভাবিত হবে না। তবে একটা পয়েন্টে আমরা দুইজনই এগ্রি করসিলাম, সেইটা হইলো এইঃ সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যা কিছুরে সত্য বা বাস্তব মাইনা নিতে হইতো সেইটা দিয়া সেইসময়কার মানুষের ফিলিংস আর ইমোশন সবসময়ই প্রভাবিত, আর এমনকি নষ্টও হইয়া আসছে। মিস্টার রিচার্ডসের ভিউ হইসে, যার কিছুটা উপরের ওই প্রবন্ধেও উনি বলসেন, যে এখন সাইন্সের একটা জামানা ধীরে ধীরে আগাইয়া আসতেসে। এবং এর ফলে পোয়েট্রির নারিশমেন্টের জায়গা খুম কইমা যাবে। তো এই জামানায় কাব্যবোধ যদি টিক্যা থাকতে চায় (তা সম্ভব কিনা সেই বিষয়ে উনি ডাউটফুল) তাইলে তারে নিজেরে টিকাইয়া রাখতে হবে কোনো বিশ্বাস না, বরং নাথিং-এর মধ্য দিয়া।
Continue reading

যুবা রহমানের কবিতা

চায়ের দাওয়াত

আমি এদিকেই থাকি
মোড়ের দোকানে চা খাই

তুমি চাইলে আসা যাওয়ার মাঝে
আমাকে ইউজ করতে পারো

এই ধরো একটা চা খাইলাম
খুব বেশি হইলে, কোনোদিন
একসাথে সূর্যডুবা দেখলাম।

তারপর আর কিছু না

দুইজনে নিজ নিজ অন্ধকারের
দিকে যাইতে থাকলাম

 

সকালে ওঠে আমি

সকালে ওঠে আমি
জীবনের মানে পাল্টে দিতে থাকি

প্রথমেই দুই গ্লাস পানি, এরপর কিছুটা টাইম দিয়ে
ধনেপাতা, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ভাজা জিরার গুঁড়া,
বাদাম, আদা দিয়ে
মুড়ি মাখি। বাটিতে মুড়ি নিয়ে রোদে বসামাত্রই
লাইফ চেইঞ্জ হইতে শুরু করে
মনেহয়, সাকসেসের কাছাকাছি চইলা আসছি।
এরপর চিনিছাড়া কড়া দুধ চা নিয়া
বড় চেয়ারে হেলান দেয়া মাত্রই লাইফ বিন্দাস!

দুপুর নাগাদ মানেটা ঠিকঠাক থাকে
বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ মানেটা কিছুটা খুন-খারাবির দিকে
চইলা যায়, তারে ফিরানি যায় না। ফিরতে ফিরতে রাত।

তারপর সকালে আবার মানে বদলানির কাজটা করা লাগে

 

কিচেনের লাইট

কিচেনের লাইটটা
সুইচ দিলে সাথেই সাথেই
জ্বলে না।
৫/১০ মিনিট সময় নেয়।
কয়েক দিন আগে আধাঘণ্টা
পরও জ্বলছে।
তিন-চারমাস থেইকাই এই অবস্থা!
এর মধ্যে
একজন মেকানিক
আইসাও ঘুইরা গেছেন
উনি বলছেন ‘ঠিকাছে তো’
আমি কথা বাড়াই নাই।
আস্তে আস্তে এতে
মজা পাইতে শুরু করছি
সুইচ দিলেই লাইট জ্বলা লাগবো
এমন তো কথা নাই
বাসায় ফিরাই
সুইচটা দিয়া রাখি
পরে কোনো এক সময় জ্বলেন উনি
কিন্তু কোনো দিনও মিস হয় নাই
উনি আসেনই।
এই কয় মাসে
এই লাইট দিয়া আমি জীবনের
গভীর ব্যাখ্যা করা শিখছি!
খেলাও খেলি।
মানে এই লাইটরে আর দশটা
লাইটের মতো মনে হইতেছে না
‘ওস্তাদ’ বইলা মনে হইতেছে।
কত যে শিক্ষা!
এর প্রভাবে নিজেও
পাল্টাইতে শুরু করছি।
আগের থেইকা ধৈর্য্য বাড়ছে,
কি এক দরজা খুইলা গেছে নিজের ভিতর!
কিন্তু এইভাবে আর কত দিন
একটা লাইট কি সারা জীবন এমন থাকবো?
থাকব না তো।
এই ডরেই আছি
কোনদিন, কখন যে
উনি সব লাইটের মতো
সুইচ দিলেই জ্বলা শুরু করে!
সমাজের একটা চাপ থাকে তো
এই চাপের সামনে
কিচেনের একটা
লাইট কতোদিন আর
‘জ্বলে তো জ্বলে না’ হয়া থাকত পারবো।

Continue reading

সেইসব কিছুরে গুডবাই – জোয়ান ডিডিওন

জোয়ান ডিডিওনের জন্ম ১৯৩৪ সালের ৫ ডিসেম্বরে, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে। পাঁচ বছর বয়স থেকেই উনি লেখালেখি করতেন। হাতের কাছে যেই বই পাইতেন পইড়া ফেলতেন। টিনেজার থাকা অবস্থায় সেন্টেন্স স্ট্রাকচার বুঝার জন্য উনি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কাজগুলা টাইপ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উনার বাবা আর্মিতে ছিলেন দেখে প্রায়ই উনাদের মুভ করতে হইছে। এই ব্যাপারটা উনারে অ্যাফেক্ট করছিল, উনি কইছেন যে যেই জায়গাতেই যাইতেন নিজেরে আউটসাইডার মনে হইত। বেশ লাজুক, বুকিশ হিসেবেই বড় হইছেন, যেইটা উনি পরে অভিনয় আর পাবলিক স্পিকিং কইরা কাটাইছেন। বার্কলিতে (ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া, ইংলিশে গ্র্যাজুয়েট করছেন) সিনিয়র ইয়ারে থাকার সময় উনি ভোগ ম্যাগাজিনের ‘প্রি দে প্যারিস’ নামের এসে কন্টেস্টে ফার্স্ট হইছিলেন, যেইটার জন্য পরে উনি ম্যাগাজিনটাতে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজের অফার পান।

ভোগে কাজ করার সময় উনি উনার প্রথম নভেল রান, রিভার (১৯৬৩) পাবলিশ করেন। নভেলটার থিম ছিল বিয়ে আর ক্যালিফোর্নিয়া। প্রথমে যখন ক্রিটিকরা এই বইরে তেমন নোটিস করেন নাই, আপসেট হইছিলেন। পরে অবশ্য উনি এই নভেলরে বেশ ক্রিটিসাইজ করছেন, কইছেন যে নভেলটা উনি হোমসিক অবস্থায় লিখছিলেন, ওইটা নাকি ভুয়া নস্টালজিয়া আর ফেক ক্যালিফোর্নিয়ান লাইফের উপর লেখা। এরপরে উনি স্যাটার্ডে ইভেনিং পোস্টে কলাম লিখা শুরু করলেন। ক্যালিফোর্নিয়া নিয়া লেখা এই ম্যাগাজিন কলামগুলার কালেকশন নিয়া ডিডিওনের পরের কাজ স্লাউচিং টোয়ার্ডস বেথেলহেম (১৯৬৮) পাবলিশড হইল। এই বই অবশ্য ক্রিটিকরা ইমিডিয়েটলি নোটিস করেন আর এইটার পপুলারিটি বাড়তে থাকে। এই নন ফিকশন বইটা দিয়া উনি একজন পপুলার এসে রাইটার হিসেবে আমেরিকান লিটারেচারে নিজের জায়গা পাকা করেন।

উনার লেখার স্টাইলরে নিউ জার্নালিজম জঁরার মধ্যে ফেলা যায়। নরমাল জার্নালিজম স্টাইল উনার বেশি একটা পছন্দ না। উনার লেখা এসের মধ্যে তাই উনার নিজস্ব একটা স্টাইল খুঁইজা পাওয়া যায়, যেইখানে একটা লেখা শুধু কিছু ইনফরমেশনের কালেকশন না, এইটার সাথে লেখকের নিজের ফিলিংস থাকে, একটা সাব্জেক্টিভ ভাব থাকে। উনার এই ইউনিক লেখার স্টাইল নিয়া অবশ্য ক্রিটিসিজমও হইছে, উনার সময়েরই আরেকজন কইছে যে উনার সব লেখার সাব্জেক্ট উনি নিজেই, যেইটা নিয়া ডিডিওন বেশ প্যারা খাইছিল। উনি জার্নালিজম নিয়াও বেশ ইন্টারেস্টেড, তাই জার্নালিস্টদের প্রায়ই অবজার্ভ করেন। উনার মতে ফিকশন আর নন ফিকশন লেখার প্রসেসের মধ্যে ফারাকটা হইল নন ফিকশনে হুটহাট নানা জিনিস বাইর হয়, আর এইটা লেখার সময় বাইর হয় না, রিসার্চ করার সময় বাইর হয়। উনার লেখাতে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, হেনরি জেমস আর জর্জ এলিওটের কাজের ইনফ্লুয়েন্স দেখা যায়।

ষাট থেকে সত্তরের দশকে জোয়ান ডিডিওনের লেখাগুলা কাউন্টারকালচারের বাস্তবতা নিয়া কথা কইত, হলিউডের বাস্তবতার কথা কইত। উনি ১৯৯১ সালের নিউ ইয়র্ক সিটির ‘সেন্ট্রাল পার্ক ফাইভ’ কেসের সরকারি পক্ষের বিভিন্ন আর্গুমেন্টের লুপহোল বের করছিলেন, লেখালেখি করছিলেন যে ওই পাঁচজন আসামির বিচারটা ওদের রেসের জন্য ঠিকভাবে করা হয় নাই। উনি প্রথম কয়েকজনের মধ্যে একজন ছিলেন যারা এই দাবি তুলছিলেন। এমনে পলিটিকাল সাবটেক্সট নিয়া বেশ লেখালেখি করছেন। ‘৬৮ এর দিকে মেন্টাল ব্রেকডাউন, পরে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসসহ নানা ধরণের রোগ ধরা পড়ার পরেও দমেন নাই। ২০০৩ সালে হাজব্যান্ড মারা যাওয়ার দুই বছরের মাথায় একমাত্র মেয়েও মারা যায়। উনাদের নিয়া উনি পরপর দুইটা বই লিখেন, যেইটা উনার শোক প্রসেস করার জন্য বেশ থেরাপেটিক হইয়া দাঁড়াইছিল। উনি আর উনার হাজব্যান্ড মিইলা কয়েকটা মুভির জন্য স্ক্রিনপ্লেও লিখছিলেন।

জোয়ান ডিডিওন এখন পর্যন্ত পাঁচটা ফিকশন, চৌদ্দটা নন ফিকশন, ছয়টা স্ক্রিনপ্লে আর একটা নাটক লিখছেন। ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, সেইন্ট লুইস লিটারেরি অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক অ্যাওয়ার্ড তো পাইছেনই, হার্ভার্ড আর ইয়েল উনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেটও দিছে। ২০১৭ সালে নেটফ্লিক্স থেকে উনার জীবন নিয়া ডকুমেন্টারি রিলিজ হইছে। উনি এখন নিউ ইয়র্কে থাকেন, এখনো লিখালিখি করেন।

রূপকথা নাওয়ার Continue reading

কনসার্ট ডাকা এজ এন একটিভিজম – প্রসঙ্গে

ঢাকা ভার্সিটির প্রগতীর ধ্বজাধারীরা কনসার্ট ডাকসে।

আমি জানি না লোকজন “ব্রেভ নিও ওয়ার্ল্ড” এর দুনিয়ায় থাকে কিনা, যে কোন উসিলায় তাকে যেন প্লেজারের দিকেই যেতে হবে,
তাও লোকজনকে মনে করায় দিচ্ছি -শেষ পর্যন্ত কনসার্ট একটা উৎসবই, ভাই।

১৫ সালের হ্যারাসমেন্ট উপলক্ষে যে কনসার্ট দেওয়া হইসিলো, এর কথা তো মনে আছে কী হয় এখানে।

এখানে লোকজন আসবে, গান টান গাইবে প্রিয় ব্যান্ডের সাথে। গানের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন বিরতীর মতো কেউ কেউ এসে এখানে স্লোগান বা আলাপ দিবে। হয়ত লোকজন বেশ খুশি ই, ক্যাম্পাস এদ্দিন বন্ধ ছিলো, এদ্দিন পর কনসার্ট তো একটা লাগেই! সবাই একসাথে জড় হবে, দেখা সাক্ষাত হবে।

এদিকে হিন্দু এলাকায় হামলা আজকেও বন্ধ হয় নাই। একটু জগন্নাথ হলে গেলেই গল্প শুনবেন, গন্ডগ্রাম, এমনকি জেলা শহরেও হিন্দু পাড়া গুলোয় গুজবের পর গুজব। অমুক পাড়া টার্গেট হইসে, তমুক এলাকায় সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেসে, তমুক অডিও রেকর্ড ফাঁস হইসে যেখানে বলা হচ্ছে ওরা হামলা করতে পারে অমুক পাড়ায়। প্যানিকড লোকজন। মানুষ ভাবে তার বাসা সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, এ জায়গাতেও সে সেফ ফিল করছে না। এই হয়ত আগুন লাগলো এই হয়ত লুট হলো।

যারা এই অবস্থার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই জায়গা আমি ফিল করতে বলি না, যাস্ট চাইতেসি আপনি একটু বুঝেন এই সময় এই উসিলায় কনসার্ট দেওয়া প্রচন্ড ইনসেন্সিটিভ। আল্টিমেটলি তা এদ্দিন পর ক্যাম্পাস খোলার উৎসব হিসেবেই সার্ভ করবে। তা যতবড়ই গালভরা নামে বা স্লোগানেই হোক না কেন। এটা বরং ডার্ক কমেডির মতো মনে হয়।

আমি কিছু আলাপ দিতে চাই এ নিয়ে। যেহেতু আমিও চাই চেইঞ্জ হোক। আপনারা কি শুনবেন?

 

আলাপ একঃ

প্রথম আলাপ হলো এই যে হামলা হলো- এটা কে আপনি কোন “মোডে” দেখেন? এটা কি পলিটিক্যাল প্রবলেম নাকি কালচারাল প্রবলেম।

পলিটিক্যাল প্রবলেম ধরে নিলে – আপনি ধরে নিতেসেন জাস্টিস, ইন্সটিউশনাল ডেমোক্রেসি এসব থাকলে সহিংসতা চলে যাবে। আসলেই যাবে। বাট ইন্সটিটিউশনাল রেসিজম যাবে না। বুরোক্রেটিক সাম্প্রদায়িকতা যাবে না। আমেরিকা ইংল্যান্ডে এসব গনতান্ত্রিক ঐতিহ্য ভালোমতই আছে, কিন্তু ইন্সটিটিউশনাল রেসিজম যায় নাই। আছে।

ইন্সটিটিউশনাল রেসিজম মানে কিন্তু হামলা হওয়া না, হোয়াইট রা ব্ল্যাক দের উপর হামলা প্রায় করে না ওদেশে। ইটস রিলেটেড টু গেজিং, রিলেটেড টু আপনার দায়িত্ব পালনের সময় একটিভ প্যাসিভ আচরন। আমেরিকায় জর্জ ফ্লয়েড’রে পুলিশ ধরার সময় হাইপার একটিভ আচরন করসে। আপনি ধরে নিতেসেন পুলিশ একটা নিউট্রাল রাষ্ট্রীয় একক, তার কাজ সে দায়িত্ব পালন করবে। কাহিনী হল, তারও ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট আছে, সেও কোন না কোন রেসিয়াল সেন্টিমেন্টে অবস্থান করে।

আবার কালচারাল সমস্যা ভাবলে আপনি ধরে নিচ্ছেন লোকজনকে “সচেতন” করা হলে লোকজন কম্যুনাল হবে না। এই কার্যক্রমে হয়ত ইন্সটিটিউশনাল রেসিজম মিনিমাল হবে। সমস্যা হল একটা টোটালারিয়ান দেশে এইটা কাজ করবে না। এর চেয়ে বড় আলাপ, যখন জাস্টিস থাকে না, তখন লোকজন আরও বেশি আইডেন্টিটি ইউজ করে নিজের জন্য।

একটা অফিসে আপনি আছেন, আপনি বাটে পড়লে ঠিকই ঢাবি আইডেন্টিটি ইউজ করবেন বা ঢাবিয়ান নিয়ে গ্রুপিং করবেন, ঠিকই এলাকার আইডেন্টিটি ইউজ করবেন বা তার ভিত্তিতে গ্রুপ করবেন, ঠিকই ক্লাবের আইডেন্টি ইউজ করবেন। একই ভাবে কোন প্রতিষ্ঠানে লোকজন ঠিকই ধর্মের ভিত্তিতেও “আমরা” “ওরা” করতে পারে। দাবী আদায়ের সব পন্থা বন্ধ হলে আইডেন্টিটি পলিটিকস বাড়ে। এই পন্থায় ই নেয় সাধারন লোকজন, যেহেতু আর কোন উপায় সে পায় না। এই আলাপে আমি পলিটিক্যাল পরিসরের কথা বলছি না, সামাজিক পরিসরের কথাই বলছি।

কনসার্ট হওয়াটার অর্থ হলো, আপনি ভাবেন এটা সামাজিক প্রবলেম। এই চিন্তা সমস্যার। তাও তাত্ত্বিক ভাবে বেনিফিট অফ ডাউট দেওয়া গেলো। যেহেতু রেসিজম/ কমুনালিজম এগুলোকে ইনক্লুসিভ এপ্রোচেই দেখা হয়। আপনি না হয় সামাজিক এপ্রোচে দেখলেন।

আমার প্রশ্ন হলো, কনসার্ট এখানে কী পারপাস সার্ভ করবে? তাও ঢাবি এলাকার মধ্যেই?

একজন আমাকে বলল, গান জনগনের সাথে কানেকশন করতে পারে নাকি! ওকে, আপনি যদি একই সাথে কানেকশন ভালো করে করতে চান আবার লোকজনকে সচেতন করতে চান, তাহলে হোয়াই নট একটা সাম্প্রাদায়িকতা বিরোধী ওয়াজ মাহফিল?

হোয়াই কনসার্ট? একটা কনসার্ট শেষ পর্যন্ত গানের জন্যই ইনজয়িং হয়ে উঠবে, তাতে আপনার সাম্প্রাদায়িকতা বিরোধী মেসেজ হারায় যাওয়ার কথা। এই অবস্থায় আপনার কনসার্ট ইনজয় করা কতটুকু ইথিক্যাল?

পারপাসের আলাপ হলে তাতে কতটুকু মেসেজ যাবে? বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রাদায়িকতা বিরোধী ওয়াজ মাহফিল হলে যে ইফেক্ট হবে আপনি কি মনে করেন কনসার্ট এ এর থেকেও বেশি ইফেক্ট হবে?

সবচেয়ে বড় কথা, আপনার সচেতনতা প্রজেক্টের রোডম্যাপ কই? বার্বি ডল স্টাডি বাংলার বুদ্ধিজীবি মহলে সেই পরিচিত। জানায় রাখি এটার ইফেক্ট ফেলতে ৩০ বছর লাগসিলো। আপনি কত বছরের সিস্টেমেটিক প্ল্যান নিসেন? আরেকটা বড় বিষয় – সচেতন করতে টার্গেট জনগোষ্ঠির ডাটা লাগে। আপনি এমন ই “বস্তুবাদী” যার কাছে টার্গেট জনগোষ্ঠির কোন ডাটাও নাই।
Continue reading

পাওয়ার অ্যান্ড পপুলার সভারিনিটি

বছর দুয়েক আগে অনেকটা হঠাত করেই একনায়কন্ত্রের ইতিহাস নিয়া ঘাটাঘাটি করার শখ হয়েছিল।

জিম্বাবুয়ে থেকে রোমানিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের ইতিহাস বেশ আগ্রহ করে পরেছিলাম। ঐখানে “মহান মুক্তিযুদ্ধ” এবং তার নেতৃত্বপ্রদানকারী দল ক্ষমতা দখল করেছিল কয়েকদশক। মুগাবে তো নেমে গেল এই কয়েকদিন আগে। ইতিহাস ঘেটে আমি যেই ধারনাতে পৌছালাম সেটা হচ্ছে একনায়কতন্ত্র খুবই সহজেই আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে চলে আসতে পারে। অধিকাংশ একনায়কন্ত্র এর জন্ম হয়েছে খুব অল্পসময়ের ঘটনার পরম্পরায়। এইসময়ে কটকিনের স্ট্যালিনের দুই খন্ড পড়ার সুযোগ হয়। আমি এই ট্রিলজিটা (তৃতীয় খন্ড এখনও প্রকাশিত হয় নাই। প্রথম খন্ড ১৯২৮ পর্যন্ত। সোভিয়েত রাশিয়ার র‍্যাপিড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন তখনও পুরোপুরি শুরু হয় নাই। স্ট্যালিনকে ঘিরে পার্সোনালিটি কাল্টও ততটা ছিলনা তখন। দ্বিতীয় খন্ড ত্রিশের দশক নিয়া। দ্বিতীয় খন্ডের ট্যাগলাইনই “ওয়েটিং ফর হিটলার”) সকলকে খুব পড়তে রিকমেন্ড করি। কারণ এই মনুমেন্টাল বায়োগ্রাফি আসলে ঠিক স্ট্যালিনের নয়, বরং সমগ্র সোভিয়েত রাশিয়ার। তারপরও অক্টোবরের বিপ্লব সহজেই একদিনে হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষমতা কনসলিডেট করতে গিয়ে রাশিয়ান বলশেভিক পার্টি প্রচুর চাতুর্য এবং নির্মমতার আশ্রয় নেয়। কিন্তু শুরুতে কিন্তু কথা ছিল ক্ষমতা ফিরে যাবে অটোনোমাস সোভিয়েত গুলোর কাছে। কিন্তু ক্রেমলিনের রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে পাওয়ার পর, জারের গোপন পুলিশের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে ‘চেকা’ গঠনের পরে ঐসব মিলিয়ে গিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আরও অসংখ্য বার ইতিহাসে ঘটেছে। একনায়কন্ত্র বরং আধুনিক রাষ্ট্রেই সম্ভব বেশী ।

পুরানদিনের রাজা/সম্রাটরা আধুনিক অর্থে একনায়ক ছিলেন না। তারা পাড়ার চাঁদাবাজ বড় ভাইয়ের মত। তাকে চাঁদা সময়মত দিলে তিনি আর ঘাটাতে আসেন না। চাঁদা না পাইলে অবশ্যই অত্যাচার করতেন, কিন্তু কোর্ট এবং রাজস্ব কর্মচারী ছাড়া রাজার সাথে প্রজার আর বিশেষ কোন সম্পর্ক ছিল না। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোর্ট গুলো স্থানীয় মানুষ দ্বারা পূর্ণ ছিল। কেন্দ্র থেকে বেতন পেলেও মূলত এরা অধিকাংশ ক্রিমিনাল/সিভিল ম্যাটারে ফ্রি এজেন্ট ছিলেন।

আমি দ্বিতীয়বার চিন্তা শুরু করলাম। আমার মনে হতে লাগল এইসবের উত্তর ইতিহাসে নেই। কেন প্যারাডক্সিকালি আধুনিক রাষ্ট্র একই সাথে গণতন্ত্রের কথা শুনিয়েও একনায়কতন্ত্রের জন্য তেমন একটা বাধা হয়ে দাড়ায় না।

আমি তখন ম্যাক্স ওয়েবার পড়ছিলাম। ‘দ্যা প্রোটেস্টান ওয়ার্ক এথিক’। পড়ে মনে হইল এই বইটা কেবল একজন জার্মানই লিখতে পারতেন। কেননা বিসমার্ক জার্মান ছিলেন।

আমার প্রশ্ন আসল আধুনিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে ডিফাইনিং বৈশিষ্ট্য কি?

এই সময়ে আমি John C. G. Röhl এর মাল্টিভলিউম কাইজার উইলহেলম এর বায়োগ্রাফির একটা ভলিউম পড়ছিলাম। সেখানে বিসমার্কের কর্মকান্ড নিয়ে বিপুল কথাবার্তা ছিল। বিশেষত প্রফেশনাল বুরোক্রেসির ধারনা। এইটা নিয়ে আরেকটু চিন্তা করা দরকার। প্রোফেশনাল বুরোক্রেসির ধারনা খুব বেশী পুরনো নয়। উনিশ শতকে এসেও লন্ডন শহরে বেতনভোগী ফুলটাইম পুলিশ ছিল না (১৮২২ এ এসে প্রথম লন্ডন পুলিশ তৈরি হয়)। নিউ ইয়র্ক শহরে ছিলনা দমকল কর্মী। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো এইসব সার্ভিস দিত। কোন বাড়িতে আগুন লাগলে প্রতিযোগী দমকল কোম্পানি এসে বাড়ির মালিকের সাথে পয়সা নিয়া রফা করত আগে। কথায় না মিললে তার পানির গাড়ি নিয়া চইলা যাইত। প্রফেশনাল বুরোক্রেসির স্ট্রাকচার মূলত ফর্মুলেটেড হয় বিসমার্কের আমলে। নাজি পার্টির সরকারের খ্যাতি ছিল স্ট্যাপলার আর রুলার কেনায় রেকর্ড তৈরিতে। বড়সড় গণহত্যার জন্যেও আসলে এফিসিয়েন্ট বুরোক্রেসি লাগে। কাকে কখন কিভাবে মারা হবে, লাশ কৈ যাবে এইসব সিদ্ধান্ত লজিস্টিকস এর সাথে সম্পর্কিত। আইখম্যান তার বিচারের সময়ে এই ডিফেন্সই করতে চেয়েছিল। হানা আরডেন্ট যা দেখে লিখেছিলেন (আইখম্যান ইন জেরুজালেম, ব্যানালিটি অফ ইভিল)। আরডান্ট যেই সিদ্ধান্তের কাছ দিয়ে গিয়েও পৌছাতে পারেননি সেটা হচ্ছে, এই ব্যানালিটি Is a defining charecteristic of beurocracy. বুরোক্রেসির স্ট্রাকচারটাই ইনডিফারেন্স এর উপর তৈরি ।
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →