Main menu

বইয়ের ইন্ট্রু: যা দরকার… তা হইতেছে… একটা শক্তিশালী লোকাল কালচার উদ্ভাবন করা – ওরহান পামুক

This entry is part 4 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

১.
বিখ্যাত ফরাসি পেইন্টার এদগার দেগার শেষজীবনে কবিতার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিলো। দেগা দিনরাত কবিতা লেখার চেষ্টা করলো। কয়েকদিনের জোর চেষ্টাতেও তেমন কিছু হইতেছে না দেইখা, দেগা তার কবিবন্ধু স্তেফান মালার্মেরে চিঠিতে লিখলো, আমার মাথা অসাধারণ সব কবিতার আইডিয়ায় ভর্তি। অথচ আমি অনেক চেষ্টা কইরাও একটা ভালো সনেট লিখতে পারতেছি না। সমস্যাটা কী?’ [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

স্তেফান মালার্মে জবাবে কইলেন, আমার মাথায়ও দারুণসব ল্যান্ডস্কেপের আইডিয়া আসে। অথচ আমি আঁকতে পারি না, কারণ রঙতুলির ব্যবহার আমি ভালোমতো জানি না। দেগা, তুমি খালি আইডিয়া দিয়া কবিতা লিখতে পারবা না। শব্দ দিয়া লিখতে হবে।     

দেশে রাইটিং ক্র্যাফট নিয়া কোনো আলাপ দেখলেই দেগামালার্মের এই পত্রালাপ আমার মনে আসে।  পেশাদারি সিস্টেমে বইয়ের লেখালেখি বা বেচাবিক্রি দেশে না থাকায় কয়েকটা বাজে ফল হইছে। একটা হইতেছে, রাইটিং ক্র্যাফট নিয়া সাধারণত তেমন আলাপ দেখা যায় না। আবার পাঠকদের মুগ্ধতা কইমা যাইতে পারেএই আশংকা থিকা বা অন্য যে কারণেই হউক, পপুলার লেখককবিরা রাইটিং ক্রাফট নিয়া এমনভাবে বাৎচিত দেন যে তাতে মনে হইতে পারে, লেখা জিনিসটায় শেখার কিছু নাই, লেখালেখির পুরাটাই স্পেশাল প্রতিভার ব্যাপার; শিল্পকর্ম, পুরাটাই আকাশ থিকা শিল্পীর উপ্রে নাজিল হয় অথবা কাব্যলক্ষ্মী স্বপ্নে আইসা দিয়া যায়।   ফলে, প্রতিভার বাইরেও লেখকের যে টেকনিক্যাল প্রস্তুতির দরকার আছে এই ব্যাপারে আলাপ আমি খুব একটা হইতে দেখি না।

তো, পামুক এই ইন্টারভিউতে জানাইছেন, তিনি কেমনে প্রস্তুতি নেন। কিভাবে বড় একটা কাহিনীরে আগেই পুরাপুরি আউটলাইন করে নেন বা পুরা বইটারে অনেকগুলা অধ্যায়ে ভাগ করেন। স্নো উপন্যাসটা লেখার আগে কিভাবে কয়েক বছর ধইরা ফিল্ডওয়ার্ক করছেন। সেই ফিল্ডওয়ার্কের প্রস্তুতি পদ্ধতি নিয়া কথা বলছেন। এমন না যে শুধু ক্র্যাফট নিয়াই শুধু কথাবার্তা বলছেন পামুক ইন্টারভিউতে।   

Continue reading

ফরিদ উদদীন আত্তারের “মানতিক-উত-তোয়ায়ের“ বই থিকা কয়েকটা কাহিনি।। লাস্ট পার্ট।।

ফার্স্ট পার্ট

………………………………………………

আমি ধরে নিছি যে, মানকিত উত তোয়ারের (যেইটারে দ্য কনফারেন্স অফ বার্ডস নামেও চিনেন অনেকে) কাহিনি আপনারা জানেন। সব পাখি মিইলা একসাথে হয়া ঠিক করে যে, অরা অদের রাজার লগে দেখা করতে যাইবো; হোপিপাখি অদেরকে লিড দেয়। কিন্তু যখন যাওয়ার টাইম আসে, একেকজন একেকটা সমস্যার কথা কয়। অদের সমস্যাগুলা নিয়া একটা কইরা কাহিনি কয় হোপিপাখি। এই কাহিনিগুলা অই বই থিকা চুজ করা কয়েকটা কাহিনি।

এমনিতে তো একটা তরিকা হইলো, কোন ঘটনা বুঝার লাইগা কনটেক্সট’টারে আগে জানতে চাই বা বুঝতে চাই আমরা। তাইলে ঘটনা’টা বুঝা যায় বা ঘটনা’টা মিনিংফুল হয়া উঠতে পারে তখন। কিন্তু কনটেক্সট তো দুইটা, একটা হইল, যেইখানে ঘটনা ঘটতেছে বা ঘটছিল, আরেকটা হইতেছে যেই জায়গা থিকা আমরা দেখতেছি। এই কারণে, কনটেক্সট অনুযায়ী ঘটনা একইরকমের হইলেও, মিনিংটা একইরকম থাকে না, বরং অনেক সময় উল্টায়াও যায়। অই যে একটা বাণী আছে, ফার্স্ট অ্যাজ ট্রাজেডি, দ্যান অ্যাজ কমেডি…। অইরকম।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

আবার, কিছু কাহিনি বা ঘটনা বা স্পেশালি মিথ বা প্রবাদ-প্রবচনগুলা নানান সিচুয়েশনে রিলিভেন্ট হয়া উঠে, এমনকি ঘটনার সিগনিফিকেন্সটারে আত্মসাত কইরা ফেলে; আলাদা কোন মিনিং হিসাবে সাসটেইনই করতে পারে না। মানে, যা যা মিথ আর মিনিং আমরা জানি, তার বাইরে গিয়া ঘটনারে দেখতে পারি না আর। আমাদের যা জানা-বোঝা, তার ভিতর দিয়াই তো আমরা রিলেট করি। ভাষার যেই রেফারেন্স সিস্টেম, তার বাইরে গিয়া কোন মিনিং প্রডিউস করা পসিবল না। হুমায়ূন আহমেদ একটা গল্পে লিখতেছিলেন, “আমার দুলাভাই একটা খবিশ। (খবিশ মানে কি আমি জানি না।)” মানে জানেন না, এইরকম না, বাজে কিছু, এইটা জানেন, কিন্তু কেমনে যে বাজে জিনিস হিসাবে ভাষাতে আইলো, সেইটা জানেন না, এইরকম। ভাষার মরে না খালি, ভাষার রেফারেন্স সিস্টেমও মারা যায়। যেমন ধরেন, ‘মাউস’ কইলে ইন্দুর বুঝার পসিবিলিটি এখন কমই বাংলা-ভাষায়, কম্পিউটারের মাউস-ই বুঝবো আমরা। একটা ওরাল কালচার থিকা যখন লিখিত বা ছাপানোর জায়গাতে আসছি আমরা, রেফারেন্স সিস্টেমটা চেইঞ্জ হইছে, এখন লিখিত থিকা যখন ডিজিটাল জায়গাতে যাইতেছি, নতুন আরেকটা রেফারেন্স সিস্টেম এমার্জ করার কথা।

তো, চাইলেও নতুন রেফারেন্স সিস্টেম দাঁড়া করানো পসিবল না, এইটা অনেকটা আমাদের কাজ-কাম, চিন্তা-ভাবনা’র লগে রিলেটেড একটা ঘটনা। যেই কারণে সংস্কৃত ভাষা থিকা যেইসব শব্দ আসছিল, সেইগুলা ডেড অলরেডি; আবার না চাইলেও ইউরোপিয়ান চিন্তা-ভাবনার গাহেক হওয়ার কারণে ‘মাউস’, ‘মোবাইল ফোন’ টাইপের জিনিসগুলারে না নেয়ার কোন রাস্তা নাই।… এইভাবে অন্য রেফারেন্স সিস্টেমগুলা ভাষার ভিতরে ঢুইকা পড়ে। এইগুলারে নিতে পারাটা জরুরি, তা নাইলে ভাষাটা ইউজেবল থাকতে পারবে না।

কিন্তু একটা ভাষা যদি মাল্টিপল রেফারেন্স সিস্টেম’রে পসিবল কইরা না তুলতে পারে, অন্য যে কোন ডমিনেন্ট রেফারেন্স সিস্টেমের ডরে নিজেরে গুটায়া নিতে শুরু করে, এইটা তার মরণ-যাত্রা শুরু কইরা দেয়ার কথা।

তো, এই অনুবাদে আমার আগ্রহ আসলে সো-কল্ড ‘বিজ্ঞান-চিন্তা’র বাইরে, রেশনার-এনলাইটমেন্টের বাইরেও আরো আরো যেই চিন্তা-ভাষা আছে, তার একটা নজির’রে সামনে নিয়া আসা। এই ধারণা থিকা রুমি’র কিছু কাহিনিও আমি অনুবাদ করছি। যদিও এই টেক্সট’টা ইংলিশ থিকাই বাংলা করা, তারপরও এই কাহিনিগুলার যেই কনটেক্সট সেইটা ইটসেলফ আরেকটা রেফারেন্স সিস্টেমের ইশারা দিতে পারা’র কথা। মানে, জিনিসটা স্রেফ একটা ‘আধাত্ম্যবাদ’র ঘটনা না আর কি! যেইরকম ইউরোপিয়ান থটপ্রসেসগুলা আমাদেরকে জানায়।

যদিও একটা ইউরোপিয়ান থট-প্রসেসর ভিতর দিয়াই আমার পয়েন্ট’টারে লোকেট করা লাগতেছে, তারপরও আমি ভাবতে চাইতেছি যে, ঘটনা’টা এইটুকই না আর কি! 🙂 মানে, সাইকোলজিক্যাল টার্মে, একটা কনশাসনেসের ভিতর দিয়া অনেকগুলা সাব-কনশাসনেস বা আন-কনশাসনেসরে রিভিল করতেছি না আমরা, ভাষায়; বরং আরো অনেক সাব-কনশাস বা আন-কনশাস যাতে তাদেরকে এক্সপ্লোর করতে পারে, জায়গা দিতে পারে ভাষার ভিতরে, সেই স্পেইসটা ক্রিয়েট করার লাইগা কনশাসলি ট্রাই করতে চাইতেছি। 🙂

২.
এই যে, ‘মানকিত তোয়ার’ – এইটা কোরানের একটা আয়াত থিকা নেয়া, সুলেমান পয়গম্বরের কাহিনি’র সাথে রিলিটেড।

৩.
সব মানুষের ভিতরেই তো শয়তান আছে। তো, এইরকম একটা কাহিনির কথা আমি শুনছি যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ভিতর থিকা নাকি শয়তানের জায়গাটা সরায়া নেয়া হইছিল বা ছিল না উনার ভিতরে। তো, এইরকম কিছু কোন ব্যক্তি-মানুষের জায়গাতে পসিবল না!

শয়তান তো আছে আর থাকতেছে, ইন এভ্ররি ট্রান্সলেশন। কিন্তু আমি জাইনা-বুইঝা কোন ‘ভুল’ করি নাই আর কি! যা বুঝছি, তা-ই লেখছি। হয়তো আরো বেটার করা পসিবল। বাঁইচা থাকলে আরো কিছু কারেকশন তো করাই হবে। 


ই. হা.

……………………………………………….

।। শেখ সানানের গল্প ।। বায়েজিদ বোস্তামির কাহিনি ।। রাজা আর ভিখারি ।। একটা প্রাসাদ নিয়া একজন দরবেশের ঠাট্টা ।। নিসাপুরের শেখ আবু বকর ।। এক দিওয়ানা আর তার মাশুক ।। মাহমুদের আরেকটা কিচ্ছা ।। মাহমুদ আর আয়াজের আরেকটা কাহিনি ।। পোকাদের কাহিনি ।।

……………………………………………….

শেখ সানানের গল্প

শেখ সানান উনার সময়ে একজন পরজেহগার মানুষ আছিলেন, আর নিজেরে অনেক উঁচা জায়গায় নিয়া যাইতে পারছিলেন। পঞ্চাশ বছর ধইরা উনি উনার দোয়ার ভিতর ছিলেন উনার চারশ মুরিদসহ, যারা দিন রাইত নিজেদের লাইগা কাজ করতো। উনার অনেক এলেম ছিলো, আর ভিতরের আর বাইরের অনেক জিনিস উনি জানতেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় উনি পার করছেন মক্কায় হজ্জ্ব করতে। অসংখ্যবার উনি রোজা রাখছেন আর দোয়া কালাম পড়ছেন আর সুন্নতের কোনটাই বাদ দেন নাই। উনি মিরাকল ঘটাইতে পারতেন, আর তার দম দিয়া অসুস্থ আর বিষন্নদের সারাইয়া তুলতে পারতেন।

এক রাইতে উনি স্বপ্ন দেখলেন যে উনি মক্কা থিকা গ্রীসে গেছেন আর সেইখানে গিয়া একটা মূর্তির পূজা করতেছেন; এইরকম নিঠুর ড্রিম দেইখা খুবই মন-খারাপ হইলো উনার, উনি মুরদিদেরকে ডাইকা কইলেন: ‘আমি এখনই গ্রীসের দিকে রওনা দিতে চাই, এই ড্রিমের মাজেজাটা বুঝতে চাই।’

চারশ মুরিদ নিয়া উনি কাবা ছাইড়া গেলেন আর একটা সময়ে গ্রীসে গিয়া পৌঁছাইলেন। উনারা অই দেশটার শেষ পর্যন্ত ট্রাভেল করলেন, আর একদিন হঠাৎ কইরা একটা জায়গায় আইলেন যেইখানে একটা ইয়াং মাইয়া একটা ব্যালকনিতে দাঁড়ায়া ছিলো। মেয়েটা আছিলো খ্রিষ্টান, আর তাঁর মুখের এক্সপ্রেশনে এইটা দেখা যাইতেছিলো যে খোদার যেই জিনিসের দিকে শে তাকাইবো সেইটাই শে দখল করতে পারবো। তাঁর রূপ আছিলো সূর্যের মতোন চোখ ধাঁধানো, আর তাঁর সম্মান ছিলো রাশিচক্রের সাইনগুলার মতোন। তাঁর ঝলকের প্রতি জেলাসির কারণে সকালের শুকতারা তাঁর বাড়ির উপরে বেশিক্ষণ ধইরা ঝুইলা থাকতো। তাঁর চুলে যার হৃদয় বাঁধা পড়তো সে একজন খ্রিস্টানের বেল্ট পইড়া ফেলতো; তাঁর ঠোঁটের রক্তিমাতে যার বাসনা চমকাইতো, তার মাথা পাগল হয়া যাইতো। তাঁর কালা চুলের কারণে সকালটা কিছুটা কালা হয়া থাকতো, তাঁর চামড়ার কুঁচকানির সৌন্দর্য্যের লাইগা গ্রীসের ল্যান্ড কুঁচকায়া থাকতো। তাঁর দুইটা চোখ ছিলো প্রেমিকদের লাইগা একটা লূর; তাঁর আনত ভ্রুগুলা যমজ চান্দের মাঝখানে ছিলো কোমল কাস্তের মতোন। যখন তাঁর চোখের মণিগুলা চমকাইতো একশটা দিল তাঁর বলি হইতো। একটা জীবন্ত আগুনের শিখার মতোন তার মুখ চকচক করতো, তাঁর ঠোঁটের শুকনা চুণীগুলা পুরা একটা দুনিয়ার পিপাসা নিয়া আসতো। তাঁর ঢিলেঢালা লেইসগুলা ছিল একশোটা চাকুর মতো, আর তাঁর মুখ এতোটাই ছোট ছিলো যে ইভেন শব্দগুলাও পার হইতে পারতো না। তাঁর কোমর, একটা চুলের মতোন সরু, তাঁর জুনারের লগে মিইশা থাকতো; আর তাঁর থুতনির রূপালি টোল যিশুর উপদেশগুলার মতোন ছিল প্রাণবন্ত।

যখন শে তাঁর ঘোমটার একটা কোণা তুললো শেখের দিলে তো আগুন লাইগা গেলো; আর একটা চুল তার কোমরের জামারে বাইন্ধা রাখছিলো যেইখানে ছিল একশোটা জুনার। ইয়াং খ্রিষ্টানের দিক থিকা সে তার চোখ ফিরাইতে পারতেছিলো না, আর তার এতোটাই মহব্বত ছিলো যে তার ইচ্ছা তার হাতের মধ্যে ছিলো না। মেয়েটার চুল থিকা অবিশ্বাস আইসা তার বিশ্বাসের উপর ছড়াইয়া পড়ছিলো। সে চিল্লায় উইঠা কইলো: ‘আহ, কি ভয়ানক এই ভালোবাসা, যা আমার তাঁর লাইগা আছে। যখন ধর্ম তোমারে ছাইড়া যায়, মনের মধ্যে ভালো আর কি থাকতে পারে!’

যখন তার লগের মানুষজন বুঝলো কি ঘটছে, আর দেখলো সে কি অবস্থায় আছে, তারা তাদের মাথায় হাত দিয়া বইসা পড়ল। তারে যুক্তি দেখাইতে গেল, কিন্তু সে কথা শুনতে অস্বীকার করল। সে খালি দিন রাইত খাড়ায়া থাকলো, তার চোখ ব্যালকনির উপরে ফিক্সড হয়া থাকল আর তার মুখ খোলা হয়া থাকল। তারাগুলা, যেইগুলা বাতির মতোন জ্বলতো এই পবিত্র মানুষের মনের ভিতরে যেই আগুন জ্বলতেছিল তার থিকা তাপ ধার নিতো। তার মহব্বত বাড়তে লাগল, যতক্ষণ না সে তার নিজেরে তার সাথে পাইলো। ‘হে খোদা,’ সে দোয়া করলো, ‘আমার লাইফে আমি রোজা রাখছি আর কষ্ট করছি, কিন্তু কোনদিনও এইভাবে কষ্ট আমি পাই নাই; আমি ছারখার হয়া যাইতেছি। রাতটা তার চুলের মতোন কালা। বেহেশতের বাতি কই? আমার আহাজারি কি এইটা নিভায়া দিছে নাকি জেলাসির কারণে সে নিজেরে লুকায়া ফেলছে? কই আমার খুশ নসিব? কেন সে আমারে এই মেয়ের মহব্বত আমারে পাইতে দেয় না? কই আমার যুক্তি, যা আমার এলেমরে ইউজ করতে দেয় না? কই আমার হাত, আমার মাথায় ধূলা ঢালার লাইগা? কই আমার পা, আমার মাশুকের দিকে হাঁইটা যাওয়ার লাইগা, আমার চোখ কই, তার মুখ দেখার লাইগা? কই আমার মাশুক, যে আমারে তার হৃদয় দিবে? এই মহব্বত, এই কষ্ট, এই পেইন, কি জিনিস এইগুলা?

শেখের ফ্রেন্ডরা আবার তার কাছে আসলো। একজন কইলো: ‘ও কাবিল শেখ, নিজেরে তুমি তোলো আর এই লোভ ছাইড়া দেও। নিজেরে ধইরা রাখো আর অযু করো।‘ উনি জবাব দিলেন: ‘তোমরা কি জানো, আজকে রাতে আমি একশবার অযু করছি, আর করছি আমার দিলের লহু দিয়া?‘  আরেকজন কইলো: ‘আপনার তসবি কই? এইটা বাদ দিয়া আপনি দোয়া কেমনে করবেন?‘ উনি জবাব দিলেন: ‘আমি আমার তসবি ফালায়া দিছি যাতে আমি একটা খ্রিষ্টান জুনার দিয়া নিজেরে বানতে পারি।‘ আরেকজন কইলো: ‘হে পরজেহগার মানুষ, যদি আপনি পাপ কইরা থাকেন দেরি না কইরা তওবা করেন।‘  ‘আমি এখন তওবা করি,‘ উনি জবাব দিলেন, ‘সত্যিকারের নিয়ম ফলো করার লাইগা, আর আমি ভাবি আমি যদি খালি এই অ্যাবসার্ডিটি বাদ দিতে পারতাম।‘ আরেকজন কইলো: ‘এই জায়গা ছাড়েন আর আল্লার কাছে মাথা নত করেন।‘ উনি জবাব দিলেন: ‘যদি আমার খোদা আজকে এইখানে থাকতো তাইলেও আমি তো অই মেয়েরে সিজদা দিতাম।‘ আরেকজন কইলো : ‘তাইলে, আপনি তওবা করার ট্রাইও করবেন না! আপনে আর ইসলামের রাস্তায় নাই?‘ শেখ জবাব দিলেন: ‘আমার চাইতে বেশি অনুতাপ আর কেউ করে নাই এখন পর্যন্ত যে আমি কেন আরো আগে প্রেমে পড়ি নাই।‘ আরেকজন কইলো: ‘নরকের এলাকা আপনার লাইগা ওয়েট করতেছে, আপনি যদি এই রাস্তাতেই চলতে থাকে; দেইখা চলেন, তাইলে আপনি পার পাইতে পারবেন।‘ উনি জবাব দিলেন: ‘যদি অইখানে নরক থাকে, এইটা খালি আমার আহাজারিতে আছে, যা সাতটা নরকরে ভইরা তুলতে পারে।‘

অরা দেখলো যে অদের কথার কোন এফেক্টই নাই শেখের উপরে, যদিও তারা সারা রাইত ধইরা তারে মিনতি করলো, তারপরে তার ফ্রেন্ডরা চইলা গেলো। এই সময়ে সকালের তুর্কি আসলো, তাদের সৈন্যদের আর সোনালি ঢালগুলা নিয়া, কালো রাইতের মাথা কাইটা দিলো, যাতে কইরা ইল্যুশনের দুনিয়াটা সূর্যের রশ্মির মধ্যে গোসল করলো। শেখ, যে ছিলো তার প্রেমের খেলনা, কুত্তাদের লগে
ঘুরতেছিল, আর একমাসের মতোন রাস্তায় বইসা ছিল তার প্রেমিকার মুখ দেখার লাইগা। ধূলা ছিল তার বিছানা আর তার প্রেমিকার ঘরের চৌকাঠ ছিল তার বালিশ।

Continue reading

নেমকহালাল

১৯৭১ সালে ভারতে পেরায় এক কোটি বাংলাদেশি রিফিউজি গেছিল। এই হিসাব ইন্ডিয়ার দেওয়া। জাতিসংঘের কাছে কেবল ক্যাম্পের রিফিউজিদের হিসাব আছে, সেই হিসাবও ইন্ডিয়া দিলেও তাদের রেজিস্টেশন হইছে, নাম্বারটা হইলো পেরায় ৬৫ লাখ। বাকিরা আত্তীয়-দোস্ত বা পরিচিতদের ফেমিলির লগে আছিল বইলা জানাইছে ইন্ডিয়া। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ আর্মিরে টেনিং দিছে ইন্ডিয়া, গুলি-বন্দুক দিছে, যুদ্ধও করছে বাংলাদেশের পক্ষে। আজকেও বাংলাদেশে তাই অনেকেই ইন্ডিয়ার সেই নেমকের কথা মনে করেন, শুকরিয়া আদায় করেন। ইন্ডিয়ার লগে বর্ডারে, ইন্ডিয়ার বানানো কাটাতারে যখন ফেলানির লাশ ঝুইলা থাকে, তখনো সেই নেমকের কথা মনে করাইয়া দেন অনেকেই, আমাদের রাষ্ট্রের বাহিনিগুলাও হয়তো সেই নেমকের আছরেই হাসামুখে বর্ডারে ইন্ডিয়ার গুলি বা পিটানিতে মরা লাশগুলা লইয়া আসেন, মরা বাংলাদেশির লাশের লগে সেই নেমকহালালির ফটোসেশন আমরা দেখি।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

নেমকহালালির এই পাচালি বা ন্যারেটিভ যারা জিকির করেন, তারা অনেকেই রিফিউজি আছিল তখন; কিন্তু চোখা নজরে চাইলে তাদের কেলাস বোঝা যাইতে পারে। উপরের হিসাবে দেখেন, ৩৫ লাখ আছিল ক্যাম্পের বাইরে, আত্তীয়-দোস্ত-পরিচিতের ফেমিলির লগে; আন্দাজ করা যাইতে পারে যে, এরা বড়লোক বা সেকেন্ড কেলাসের লোক হবেন যাদের দোস্ত-পরিচিতরা এই মেহমানদারি করার তাকত রাখে–মনে এবং দৌলতে। যাদের তেমন দোস্ত-পরিচিত নাই, গরিব, তারা ক্যাম্পে আছিল। ক্যাম্পে থাকা এই বাংলাদেশিরা কেমন আছিল? আজকের রোহিংগা বা ‘বিহারি’ ক্যাম্পের দশা ভাবতে পারেন সেইটা বুঝতে, কেবল রোহিংগাদের কথা ভাবাই ভালো, কারণ, ‘বিহারি’রা বহু বছরে হয়তো অন্তত মনে মনে অনেকখানি সামলাইয়া লইছে।

রোহিংগাদের লইয়া বাংলাদেশের অনেকেই আজেবাজে কথা কন পেরায়ই, কিন্তু বাস্তবে রোহিংগাদের কারণে বাংলাদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢুকতেছে, তাদের খাওয়ায় জাতিসংঘ, হাজার হাজার বাংলাদেশি অনেক টাকা বেতনের চাকরি পাইছে, পানোয়ার (যারে কক্সবাজার হিসাবে চেনেন আর কি 🙂 ) লোকাল ইকোনমিতে অনেক পয়সা ঢুকছে।

লগে আরো কিছু পয়েন্ট ভাবার আছে। অক্টোবরে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখে সরকার, বছরের আরেক সময় আরো ৬৫ দিন। জাইল্লাদের আইডি কার্ড দিছে, মাছ ধরা যখন বন্ধ তখন ঐ কার্ড দেইখা জাইল্লাদের ৩০ বা ৪০ কেজি কইরা চাউল দেয় ২/৩ বার; মানে দেবার কথা, কিন্তু জাইল্লাদের লগে কথা কইয়া দেখছি, পেরায় কেউই ঐ চাউলের পুরাটা পায় নাই, এবং বহু জাইল্লা কার্ডই পায় নাই; মেম্বার-চেয়ারম্যানেরা নিজেদের লোকজনের নামে সেই সব কার্ড দিয়া দিছে। এই যদি হয় বাংলাদেশি জাইল্লাদের দশা, তাইলে ক্যাম্পের রিলিফ পুরাটা পাবার সম্ভাবনা দেখেন? কই যায় রিলিফের সেই ভাগ? এ তো গেল আন্দাজ বা হাইপোথিসিস, লোকালদের জ্বালায় আরামে কাম করা মুশকিল হয় জাতিসংঘের, রিলিফের ভাগ চায় লোকালরা, সেই মুশকিল আছান করতে রোহিংগাদের রিলিফের পয়সায় কক্সবাজারের এক কলেজে দেখলাম বাস দিছে জাতিসংঘ! রোহিংগাদের ব্যাপারে আরো নালিশ আছে, এমনকি দেশের এলিট এনভায়রনমেন্টালিস্টরা নালিশ করেন–৫০০০ একর জংগল উজাড় হইছে ক্যাম্প বানাইতে। এই এনারাই সুন্দরবনের পাশে কয়লার কারেন্ট, এলএনজি কারখানা বা শালবনে কত কত ফ্যাক্টরি লইয়া ততো মাথা ঘামায় না; এমনকি কক্সবাজারে এখন যেই রেললাইনের কাম চলতেছে তাতেই অন্তত ৫০০০ একর জংগল সাফ করতে হবে! তাইলে কষ্টে আছে আসলে রিফিউজিরাই, এখনকার রোহিংগা বা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশিরা! Continue reading

বাংলা ভাষা নিয়া কয়েকটা নোকতা

This entry is part 20 of 22 in the series লেখার ভাষা

ভাষার মান ইজ্জত

ছবি দিয়া কইতে পারলে বেটার হইতো। কিন্তু গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় যারা ঘুরাফিরা করেন তাদের সবারই চোখে পড়ার কথা জিনিসটা। যে, সব দোকানের নাম তো ইংলিশ আর দোকানের সাইনবোর্ডও ইংলিশেই লেখা আছিলো।

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিক থিকা মেবি কোন কারণে (হইতে পারে, সরকারি আদেশে) মেইন সাইনবোর্ডের পাশে একটা ব্যানারে বাংলা হরফে লেইখা টানানো হইছে। তো, ব্যাপারটা খুবই মজার হইছে, নানান কারণেই।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এক তো হইলো, নামটা তো ইংলিশ, বাংলায় কোন অনুবাদ করা হয় নাই। ইংলিশটাই বাংলায় লেখা হইছে, যেমন Nando’s-রে লেখা হইছে ন্যান্দো’স (বানানটাও খেয়াল করেন, নান্দু’স লেখলে তো খুবই বাজে লাগতে পারতো , ভুলও হইতো একরকম) … এইরকম। তো, বাংলা হরফে/ওয়ার্ডে ইংলিশ পড়তে একটু আনইজিই লাগতেছে। আবার একটু হাসিও আসতেছে।

হাসি আসতেছে মেইনলি দুইটা কারণে। একটা তো হইলো যে, ইংলিশগুলি তো আসলে ওয়ার্ড না খালি, ব্রান্ড লগোও, আর বাংলাগুলি তো খালি নাম; বেশিরভাগ কেইসেই। আর বাংলা লেখাটা যেই সারফেইসে আছে সেইটা ইনফিরিয়রও।

ইংলিশগুলি মেইন সাইন, লাইট-টাইট আছে আর বাংলাগুলি তো টেম্পোরারি, ব্যানারে লেখা। এইটা হয়তো ফর দ্য টাইম বিং, পরে হয়তো মেইন সাইনেও বাংলা ওয়ার্ডে লেখা হইবো দোকানের নাম, কিন্তু বাংলায় ব্রান্ড লগো বা নেমোনিক করাটা তো রেয়ার ঘটনা, ক্যালিগ্রাফি করতে গেলে আবার ইসলামিক হয়া যাবে না তো?

তবে সবচে মজার যেই ঘটনা’টা ঘটতে পারে বইলা ভাবতেছি, এই ঘটনা যদি ধানমন্ডি’র দিকে ঘটে, তখন কি হবে? মানে, ওইদিকের অনেক দোকানের নাম এমনিতে বাংলা, কিন্তু লেখা হইতেছে ইংলিশে। যেমন, pakwan, এইটারে যদি বাংলায় ‘পাকোয়ান’ লেখে, তাইলে দোকানের মান-ইজ্জত বইলা কি কিছু থাকবে! খুবই ছোটলোকি ব্যাপার হয়া যাবে না তখন। নাকি না?

মার্চ ২০, ২০১৮


ভাষার জেলখানা

“জেলে কতগুলি কথা ব্যবহার হয় যা বাইরের লোক সহজে বুঝতে পারবে না। আমি যখন প্রথম জেলে আসি তার পরদিন সকালে একজন কয়েদি ‘পাহারা’ এসে আমার ও আমার সাথী কয়েকজনকে বলল আপনাদেরকে ‘কেসটাকেোলে’ যেতে হবে। আমরা তো ভেবেই অস্থির। বাবা ‘কেসটাকোল’ কি জিনিস?… কেস টেবিল থেকে ‘কেসটাকোল’ নতুন একটা ইংরেজি শব্দ কয়েদিরা জন্ম দিয়েছে। এররকম অনেক শব্দ ও নাম জেলখানায় আছে।” (কারাগারের রোজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান, পেইজ ৩০ – ৩১)
এইটা আরেকটা ফেভারিট জায়গা আমার। একটা শব্দ একটা ল্যাঙ্গুয়েজ থিকা আরেকটা ল্যাঙ্গুয়েজে কেমনে ট্রাভেল করে… চিন্তার একটা ব্যাপার তো আছেই, ভোকাবুলারি বা রিদমের আর সাইন বা হরফেরও। যেইরকম ম্যাক্সমূলার হইছিলেন মোক্ষমূলার, আলকেমি হইছে কেমেস্ট্রি। এইরকম ট্রাভেলিংগুলিরে লোকেট করতে পারা যায় শব্দের ভিতর দিয়া। এক একটা জায়গায় গিয়া, ভাষাতে গিয়া একটু অন্যরকম হইতেছে। কোন না কোনভাবে কোন না কোনকিছু থাইকাই যাইতেছে হয়তো। যেই দুনিয়াতে আমরা থাকি, সেইটা এইরকম ভাষার জেলখানাই মনেহয়।

নভেম্বর ১৭, ২০১৭


কোজাগরী

কোজাগরী শব্দটার মিনিং আমি জানতাম না। লোকজন কয়, টিভিতে দেখায়, কোজগরী চাঁদ, জি-বাংলা টিভিচ্যানেলে একটা সিরিয়ালও আছে এই নামে। গতকালকে ছিল, এই কোজাগরী চাঁদের রাত। তো, অনলাইনে সার্চ দিয়া দেখলাম যে, এইটার মানে হইতেছে ‘কো জাগর্তি’; এই মিনিংয়ের পিছনে একটা কাহিনি আছে। [বেশিরভাগ শব্দেরই, বিশেষ কইরা বিশেষণের এইরকম থাকার কথা।] কাহিনি’টা হিন্দু ধর্মের। [ইসলাম ধর্মের শব্দও থাকতে পারে এইরকম, সেক্যুলার-ধর্মেরও…]

দেবী লক্ষী বিষ্ণুলোক থিকা দুনিয়াতে আইসা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়া জিগান, “কে জাইগা আছো?” [এইরকম বাক্য পাইলাম, কবিতার লাইন হইতে পারে এইটা – “নিশীথে বরদা লক্ষী কোজাগর্তিভাষিনী”।] তো কেউ জাইগা থাকলে, উনার ডাকে রেসপন্স করলে তার ঘরে গিয়া সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, ধন-সম্মান দিয়া আসেন।

মেবি হিন্দুধর্মের রেওয়াজগুলা কইমা আসতেছে বইলা খোঁজ-খবর নিয়া মিনিংটা জানতে হইছে আমারে। প্রাকটিস’টা চালু থাকতে আলাদা কইরা জানতে হইতো না, জানার মধ্যেই থাকতো কোন না কোনভাবে। মানে, আমাদের লাইফে বাঁইচা থাকার কারণেই কিছু শব্দ চইলা আসে, বাতিল হয়, মিনিংও পাল্টায় [যেমন, প্রাইভেট কার শব্দটা ১০০/১৫০ বছর আগে বাংলায় থাকাটা রেয়ার; ঘোড়ার গাড়ি সম্মানের ব্যাপার, গরু’র গাড়ি ব্যাপারটা রিকশা’র মতো হওয়ার কথা, কিন্তু ঘোড়ার গাড়ি এখন তো সর্ট অফ এন্টিক জিনিস, গরুর গাড়ি মানে স্লোনেস…]

ব্যাপারটা এইরকম না যে, প্রতিটা শব্দের সাথে একটা কইরা মিনিং অ্যাটাচড থাকে। আমরা কিছু কমন প্রাকটিসের ভিতর দিয়া, অনুমানের ভিতর দিয়া বরং ব্যাপারটারে আন্দাজ করি।

অক্টোবর ১৬, ২০১৬

Continue reading

এডিটোরিয়াল: আর্টের ছিলছিলা

কেভিন কস্টনার আর কার্ট রাসেলের একটা ছিনামার নাম ‘থ্রি থাউজ্যান্ড মাইলস্ টু গ্রেসল্যান্ড’। এই ছিনামায় কস্টনারের একটা ছিনে হিচহাইকার এক মাইয়া ওঠে কস্টনারের গাড়িতে। তার পর গাড়ি চালাইয়া যাইতে থাকে কস্টনার; চালাইতে চালাইতে পেপারের একটা জরিপে মাল্টিপল চয়েছ কোশ্চেনে টিক দিতে থাকে। স্ক্রিনে দেখানো কোশ্চেনটা এমন: ডু ইউ মাস্টারবেট? কস্টনার টিক দেয়, ‘অলওয়েজ’। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

হিচহাইকার মাইয়াটা কস্টনারের গতর হাতায়, এরোটিক ইশারা দেয়, কস্টনার একটু বিরক্তই হয়, পরে মাইয়া কস্টনারকে ব্লোজব দেয়। দুইটা ব্যাপার মিলাইয়া এই ছিনের অর্থ খাড়াইতেছে এমন: মাস্টারবেশনের ব্যাপারে কস্টনারের একটা এসথেটিক ডিছিশন আছে, কিন্তু গাড়ি চালাইতে চালাইতে মাস্টারবেশন তো কঠিন, তাই দুধের স্বাদ মুতে মিটাইতে মাইয়ার ব্লোজব লইতেছে।

এখন এই সিনের লগে আমাদের ইলিয়াসের মাস্টারবেশন ভাবনার একটা তুলনা করেন। ইলিয়াসে মাস্টারবেশন হইলো ছিনেমায় কস্টানারের মাস্টারবেশন ভাবনার পুরা উল্টা, ইলিয়াসে মাস্টারবেশনই হইলো বরং ‘দুধের স্বাদ মুতে মিটানো’, এমনকি মাস্টারবেশন যেন সোশিওপ্যাথের কাম একটা।

আর্ট-কালচারের এই দুইটা নজিরেই মাস্টারবেশন পাইতেছেন, কিন্তু একটা (কস্টনার) পলিটিক্যালি মাস্টারবেশনরে প্রোমোট করে, সমাজকে ফুসলায় মাস্টারবেশন করায়, আরেকটা সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন হিসাবে মাস্টারবেশনের গাহেক বাড়াবার; আরেকটা (ইলিয়াস) মাস্টারবেশনকে ডিমরালাইজ করে। 

এখন ভাবেন তো, ইলিয়াস মাস্টারবেশনের বদলে নর্মাল/স্বাভাবিক সেক্স হিসাবে হোমোসেক্সুয়ালিটি নাকি হেটারো-সেক্সুয়ালিটিকে ভাবায়? তার মাস্টারবেশন ভাবনায় সেইটা ততো ক্লিয়ার হয় না। কিন্তু আমাদের পুরা আর্ট-কালচার লইয়া ভাইবা দেখেন তো, এগুলা কোন অরিয়েন্টেশনের গাহেক বাড়াইতে মদদ দিতে থাকে হরদম? রঠার গপ্পো ভাবেন বা জীবনানন্দের সুরঞ্জনা/বনলতা সেন, আমাদের নাটক-ছিনেমা? হেটারোসেক্সুয়ালিটি কিনা? কেবল অরিয়েন্টেশন না, কয়টা গপ্পো-কাহিনি-ছিনেমা-নাটকে দেখছেন পলিগ্যামিরে নর্মাল হিসাবে দেখানো হইছে? আমার দেখায় যতোটা মনে পড়ে, সবগুলাতেই আসলে হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামি প্রোমোট করা হইছে। বিভূতিভূষণের ইছামতি নামের এক কাহিনিতে এক বামুন পোলা একলগে ৩ বোনরে বিয়া করে; উল্টা কাহিনি তো নাই-ই, ইছামতিতেও নায়কের ৩ বউ থাকলেও সে আসলে মনে মনোগ্যামি, এক বউয়ের কাছেই তার মন পইড়া থাকে; বিভূতি আসলে একটা কেসস্ট্যাডি দিয়া দেখাইতেছেন যে, মানুষ নেচারালি মনোগ্যামাস। এবং ইছামতিতে পলিগ্যামি দেখাইলেও পোরটি বউয়ের লগে রিশতা কিন্তু ওয়ান-টু-ওয়ান, ৪ জনের একটা গ্রুপ কিন্তু না। আবার গপ্পো-কাহিনিতে পলিগ্যামি কোথাও পাইতেও পারেন, কিন্তু একটা পেমের গানও পাই নাই যেইটাতে দুই জনের পেমে পড়তেছে কেউ, তুমি-আমি বা দুই সিঙ্গেলের কায়-কারবার সব।

কিন্তু দেখেন, কস্টনারের ছিনে যেমন মাস্টারবেশনকে ফুসলানো এক নজরেই চোখে পড়ে, আমাদের সারা আর্ট-কালচারে একমাত্র হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির জিকির থাকলেও এগুলারে আমরা হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির প্রোপাগান্ডা কইতেছি না! অথচ আসলেই তো তাই! নর্মাল এইভাবেই নজরের বাইরে থাকে; কতটা বাইরে থাকে সেইটা আরেকটা ব্যাপারে মিডিয়ার খবরে বুঝবেন ভালো: আমেরিকায় ধরেন নিউজ পাইতেছেন এমন, পয়লা মোসলমান সিনেটর ইলহান ওমর; কিন্তু ৪৫ নম্বর খৃস্টান পেসিডেন হইলেন ট্রাম্প, এমন কোন নিউজ পাইছেন? নর্মাল এমনই, হয় আসলেই নর্মাল, অথবা সমাজ তারে নর্মাল বানাইতে চায় বইলা এমনভাবে নজরের বাইরে রাখে যে, কখনো খেয়াল করলে আপনের মনে হবে নর্মাল! যত বেশি কমন কইরা তোলা যাবে, ততোই নর্মাল লাগবে। সব ইউএস পেসিডেন খৃস্টান বইলা যেন এইটাই নর্মাল; তাই ইউএস পেসিডেনকে যে খৃস্টানই রাখতে চায় ইউএসএ, সেই এজেন্ডা ঐ বানানো কমনের নিচে চাপা পড়ে, যেন ঐটাই তো নর্মাল!

আর্ট-কালচারের পলিটিক্সও এমনই নর্মাল, এমনই নর্মাল যে আপনের নজরেই পড়ে না। এইটা কমন তো বটেই, এমনকি বানানো নর্মালও না, জেনুইন নর্মাল; কেননা, এর বাইরে অপশনই নাই, অন্য কিছু হইতেই পারবেন না! ভাষা সামাজিক বইলা ভাষায় শরিক হইলেই পলিটিক্সে নামলেন আপনে, আর্ট-কালচার করা মানে আপনের খাসলতই হইলো পলিটিক্স করা! অন্যদের তবু নিরুপায় দশা, সমাজের বাইরে কেমনে যাবে! কিন্তু আপনে বাই চয়েছ, নিজের হাউশেই পলিটিক্স করতেছেন।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →