নারী আর ফিকশন – ভার্জিনিয়া উলফ
এই আর্টিকেলের টাইটেলরে দুইভাবে পড়া যায়। টাইটেলটা দেইখা মনে হইতে পারে নারী আর তারা যেসব ফিকশন লিখে এইটা বুঝাইছে, আবার এইটাও মনে হইতে পারে যে নারী আর তাদের নিয়া যে ফিকশন লিখা হয়, এইটা বুঝাইতেছে। ইচ্ছা কইরাই এইটা ক্লিয়ার করতেছি না। কারণ যখন নারী রাইটার নিয়া ডিল করতেছেন, লেখা ওপেনই রাখা উচিত। লেখার শব্দগুলা বা অন্য জিনিস নিয়া ভাবার জন্যও কিছু স্পেস রাখা উচিত, কারণ এই কাজগুলার পিছে এমনসব জিনিসের ইনফ্লুয়েন্স আছে যার সাথে আর্টের কোন সম্পর্কই নাই।
নারীর লেখা নিয়া সবচেয়ে ন্যারো চিন্তাভাবনা অনেকগুলা প্রশ্ন উঠায়। কেন এইটিন্থ সেঞ্চুরির আগে নারীরা টানা লিখে যান নাই? এরপরে কেন পুরুষের মত একটার পর একটা লিখতে শুরু কইরা ইংলিশ ফিকশনের বেশ কিছু ক্লাসিক লিখে ফেলছেন? এইসবের পরে তাদের লেখা কেন, বলতে গেলে এখনো, ফিকশনের রূপ নেয়?
একটু ভাবতে গেলেই টের পাব যে আমরা যা যা জিগাইতেছি, এইগুলার উত্তরে শুধু আরো ফিকশনই পাব। এইগুলার উত্তর এখন পুরান ডায়রিতে, পুরান ড্রয়ারে, বয়স হওয়া মানুষের মেমরিতে ভাসা ভাসা অবস্থায় পাওয়া যাবে। এইগুলার উত্তর পাওয়া যাবে সাধারণ মানুষের লাইফে, বা ইতিহাসের আন্ধার অলিগলিতে, যেইখানে নারীদের একদম অল্প, ভাসাভাসাভাবে দেখানো হইছে। কারণ নারীদের নিয়া খুবই কম জানা যায়। ইংল্যান্ডের হিস্টোরিও পুরুষদের লাইনের হিস্টোরি, নারীদের না। আমাদের বাপদের নিয়া আমরা সবসময়ই কিছু না কিছু বলতে পারি, কোন ফ্যাক্ট বা স্পেশাল কিছু। উনারা আর্মিতে ছিলেন বা নাবিক ছিলেন, অমুক অফিসে ছিলেন, বা তমুক আইন বানাইছেন। কিন্তু আমাদের মা, দাদি-নানিদের কী রইছে? ট্র্যাডিশন ছাড়া কিছুই না। উনি বেশ সুন্দরী ছিলেন, লাল চুল ছিল, একজনরে কুইন চুমু দিছিলেন। আমরা উনাদের নাম, বিয়ার তারিখ, কয়টা বাচ্চা পয়দা করছে এসব বাদে উনাদের নিয়া কিছুই জানি না।
এমনেই, আমরা যদি জানতে চাই যে একটা পার্টিকুলার টাইমে নারী কেন এইটা ওইটা করছে, কেন কিছু লিখে নাই, আবার অন্যদিকে কেন তারা মাস্টারপিস লিখছে- এইটার উত্তর দেয়া চরম মুশকিল। একজন এসব ইতিহাসের দলিল খুঁজতে গেল, তারপর ইতিহাস ছাঁইকা নারীদের নিয়া যেসব কথা ওভারলুক করা হইছে বের কইরা শেক্সপিয়ার, মিল্টন, জনসনের টাইমে সাধারণ নারীদের ডেইলি লাইফের একটা রিয়েল ছবি ফুটায়া তুললো। সে কিন্তু তাইলে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বই লিখার সাথে ক্রিটিকদের হাতে একটা নতুন অস্ত্র ধরায়া দিলো। এক্সট্রাঅর্ডিনারি নারী অর্ডিনারি নারীর উপর ডিপেন্ড করে। তাদের দিয়াই আমরা জানতে পারি যে একজন নরমাল নারীর লাইফের কী অবস্থা ছিল – কয়টা বাচ্চা ছিল, নিজের টাকাপয়সা ছিল কিনা, নিজের আলাদা রুম ছিল কিনা, ফ্যামিলি চালাইতে কেউ তারে হেল্প করত কিনা, হেল্পিং হ্যান্ড ছিল কিনা, বাসার কাজ করত কিনা। সাধারণ নারীর রিয়েলিটি আর লিমিটেশনগুলা দেখলে এক্সট্রাঅর্ডিনারি নারী রাইটারদের সাক্সেস বা ফেইলিওরের ব্যাখ্যা দেয়া যায়।
এই না থাকাটা একেকটা পিরিয়ডরে আলাদা কইরা দেয় মনে হয়। ক্রাইস্টের জন্মের ছয়শ বছর আগে একটা গ্রিক আইল্যান্ডে স্যাফো আর নারীদের ছোট একটা গ্রুপ কবিতা লিখত। তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। তারপর ১০০০ সালের দিকে আমরা লেডি মুরাসাকি নামের এক নারীরে পাই যে জাপানে একটা লম্বা সুন্দর নভেল লিখছিল। কিন্তু আবার সিক্সটিন্থ সেঞ্চুরির ইংল্যান্ডে যখন নাটক লেখক আর কবিরা এক্টিভ ছিল সেই সময়ে নারীরা ডাম্ব ছিল। এলিজাবেথান লিটারেচার পুরাপুরিই ম্যানলি। আবার এইটিন্থ সেঞ্চুরির শেষে, নাইন্টিন্থের শুরুতে আমরা ইংল্যান্ডে নারীরে আবার ঘনঘন সেরা লেখা লিখতে দেখি।
অবশ্যই আইন আর রীতিরেওয়াজ এই সাইলেন্স আর এবসেন্সের জন্য বড়সড়ভাবে রেস্পন্সিবল ছিল। ফিফটিন্থ সেঞ্চুরির একজন নারীর সাথে যা ইচ্ছা তাই করা যাইত, যেমন বাপ-মার পছন্দের পুরুষরে বিয়া না করলে পিটায়া রুমের একদিকে ছুঁইড়া ফালানো হইত – এইসবের মধ্যে থাকলে তো আর আর্ট বাইর হবে না। স্টুয়ার্টদের সময়ের মত যখন নারীরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়া বিয়া করতে হইত, আর হাজবেন্ডরে ‘লর্ড’, ‘মাস্টার’ মানতে হইত, এইটাই পসিবল যে তার লেখার জন্য সময় থাকত না, এনকারেজমেন্টও থাকত না। পরিবেশ আর অন্য মানুষের কথা মনের উপর যে কড়া ইফেক্ট ফেলে, এই সাইকো এনালাইটিকাল যুগে আইসা আমরা এইটা বুঝতে শিখতেছি। আবার চিঠি আর ডায়রির হেল্পে আমরা বুঝতে শিখতেছি যে একটা আর্ট বের করতে হইলে কতখানি এফোর্ট লাগে, আর একজন আর্টিস্টের মনরে কীরকম সাপোর্ট দেয়া লাগে। জন কিটস, টমাস কার্লাইল, গুস্তাভ ফ্লবার্টের জীবন আর চিঠি আমাদের এই ফ্যাক্টগুলা দেখায়া দেয়। Continue reading