ফোরো ফারোখজাদের কবিতা ২
লেটার অন
একদিন আমার মউত আসবে
হতে পারে এটা উজ্জ্বল, বসন্তের কোন ভোর
হতে পারে দূরবর্তী শীতের কোন সইন্ধ্যা
অথবা খুব সম্ভবত কুয়াশার,
বা তুষারপড়া গুমোট কোন রাইত
ঐদিন বিষণ্ন,
ঝলমল অথবা মেঘলাও হতে পারে, তবুও
এটা হবে বাকিসব দিনের মতন
একটা ফাঁপা দিন
ফিউচারের একটা মিথ্যা রচনা
অতীতের একটা পিকচার
ঐ দিন,
অন্ধকার গুহার মতন হবে আমার চোখ
ঠান্ডা মার্বেলের মতন হবে আমার ফেইস
আর আমারে নেয়া হবে
একটা চটজলদির ঘুমের জন্যে
আমার রঙিন সব স্বপ্ন পিছনে ফেলি
আমার হাতগুলা ফ্যাকাশে হয়ে যাবে
আমার কাব্যিকতা খাঁচা ছাড়ি পলাবে
আমার রূহ তার শেষ লাইনের কম্পনেই হারায় যাবে
আর তারপর, সেখানে না থাকবে কোন দুঃখ, ব্যথা আর চোট
এই দুনিয়া,
একনাগাড়ে আমার নাম ধরি ডাকবে
এইভাবেই তারা পৌঁছাবে আমারে কবরে রাখতে
ওহ, বেবাক রাইতে সম্ভবত আমার লাভার যারা
কিছু ফুল রাখবে আমার কবরের উপ্রে
তারপর,
আমার দুনিয়ার গাঢ় ছায়াটা
হঠাৎ করেই দূরে সরি যাবে
আর ভরা চান্নি পসরে, এক রাইতে
অপরিচিতজনেরা পড়বে আমার কবিতা
কোন এক কড়কড়া রইদের দিনে,
তারা আমার ছোট্ট রুমে হাঁটাহাঁটি করবে
আমার স্মরণে
এরপর আমার আয়নাতে তখনও
তারা দেখবে এক গোছা চুল
জীবনের অনেক অনেক চিহ্ন
আমার আঙুলের ছাপসকল
আমার আত্মা—
একটা পালতোলা নৌকার মতন
এইটা আমার গতর থেকে আমারে মুক্ত করি পলাবে
চোখের সীমানা থেকে জাস্ট নাই হয়ে যাব আমি
একটা ছন্নছাড়া ঘুড়ির মতন, অপার ভ্রমণে।
দিন এত জলদি সপ্তা হয়ে যাবে
আর সপ্তা এত দ্রুত মাস হয়ে যাবে যে
তোমরা ঘড়ির চোখে পলকহীন তাকায়েই থাকবা
মিছামিছি অপেক্ষা করবা
আমার চিঠির, আমার কলের।
বাট এরপরও,
আমার লাইফলেস বডি শান্তভাবেই রেস্ট নিবে
তোমাদের থেকে
তোমাদের অন্তরের খোঁয়াড় থেকে, দূরে
মাটির শব্দহীন আজায়।
পরে
এই সূয্য, এই বাতাস আর এই বিষ্টি
আমার কবরের ঠান্ডা পাথরগুলারে পলিশ করি দিবে
আর সবশেষ আমি মুক্ত হবো
একেবারে মুক্ত হবো
পুনরায় ফিরি আসার মিথ,
নাম আর যশের বাইরে।
আন্ধারে
আন্ধারে আমি তোমারে ডাকতাম
সবই আছিল শুনশান
আর হালকা বাতাস দুলাইতেছিল পর্দাটা
আর কুসুম উসুম আসমানে একটা তারা জ্বলতেছিল
একটা তারা চলি যাইতেছিল
আর একটা ছিল যায় যায়
আমি তোমার নাম জপতাম
তোমার নাম আমি এমনভাবে ধারণ করছিলাম যেন আমার দুই হাতে একটা দুধের বোতল
চান্দের নীলচে চাউনি
কাঁচের বিপরীতে ঠিকরায়ে পড়ছিলো
সিকাডা সিটি থেকে
এক বিষাদের গান ভাসি আসতেছিল
আর ধুঁয়ার মতন হড়কায়ে নিতেছিল জানলার ডালা
সারারাইত
আমার বুকের মধ্যে
কেউ একজন বিরক্তি নিয়ে ছবি আঁকতেছিল
কেউ উঠতেছিল
কেউ কামাতুরভাবে তাকাইতেছিল
আর দুইটা ঠান্ডা হাত তারে আবারো ধাক্কাইতেছিল
সারারাইত
দুঃখ টপটপ করি ঝরতেছিল কালা ডালগুলান থেকে
কেউ তারে চমকায়ে দিছিল
কেউ তোমারে ডাকছিল
আর বাতাস–ডেবরিসের মতন
তার মাথায় পড়ছিলো
বাউন্ডুলে বাতাস–
আমার ছোট্ট গাছটা এই বাতাসের লগে ভাব করছিল
কোথায় এই বাতাসের বাড়ি? কোথায় এই বাতাসের বাড়ি? Continue reading