[আদালতের সব ইম্পর্টেন্ট জাজমেন্ট নিয়াই সমাজে আলাপ হওয়া দরকার। এই জায়গা থিকা না যে আদালতের বিচার ঠিকই ছিল বা ভুল হইছিল; বরং কোন প্রসেসের ভিতর দিয়া বিচারের ডিসিশানটা তৈরি হইতেছে, অই জায়গাগুলারে খেয়াল না কইরা জুরেসপ্রুডেন্সের জায়গাটারে আমরা তৈরি করতে পারবো না। এই ধরণের পাবলিক আলাপ জুডিশিয়ারি’র জন্য আরো দরকারি ঘটনাই হইতে পারার কথা। – এডিটর, বাছবিচার।]
…
১.
সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০ টা অভিযোগের ১২ টাই ট্রাইব্যুনালের বিচারে প্রমাণিত হয় নাই। প্রমাণিত ৮ অভিযোগের দুইটাতে সাঈদী বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এই দুইটা অভিযোগ নিয়াই দীর্ঘদিন তর্ক চলে আদালতে। পরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ৮ টার মধ্যে ৩ টা অপরাধ অপ্রমাণিত সাব্যস্ত হয়; বাকি ৫ টার ৩ টায় যাবজ্জীবন ও ২ টায় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টে ৫ বিচারকের বেঞ্চ কিন্তু সর্বসম্মতিক্রমে এই সাজা দেয় নাই। এস কে সিনহা, মো. মোজাম্মেল হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে তারে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন। এস কে সিনহা তার লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন: <‘…সাঈদীর অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করার মতো নয়। এ কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়াই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে আদালত।’(জাগো নিউজ২৪.কম, ‘সাঈদীর রায়ের পর্যবেক্ষণ’, ০১ জানুয়ারি, ২০১৬)
অন্যদিকে আবদুল ওয়াহহাব মিয়া তারে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন। মোট ৬১৪ পৃষ্ঠার রায়ের ১৫৪ থেকে ৩৯৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বেশ দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পেশ করছেন আবদুল ওয়াহহাব মিয়া।
২.
এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পর্যবেক্ষণে প্রসিকিউশন ও, বিশেষত ডিফেন্স পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয়ে ইন ডিটেইল পর্যবেক্ষণ হাজির করেন তিনি। এর কারণ হিশেবে তিনি লেখেন: ‘ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে অভিযুক্তর দাবি প্রমাণিত হইল কিনা, তা যাচাই করার জন্য ডিফেন্সের সাক্ষীদের সাক্ষ্য সবিস্তারে আলোচনা করা ছাড়া আমার অন্য কোন বিকল্প নাই। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ট্রাইব্যুনাল ডিফেন্সের সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়া কোন পর্যালোচনাই করে নাই; ‘ঘটনাস্থলে অনুপস্থিতি’র ব্যাপারে তাদের সাক্ষ্য আমলে নেওয়া হয় নাই (এই রায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতেও এই বিষয়টা (অর্থাৎ, ডিফেন্সের সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা না করা) ফুটে উঠছে।’ (সুপ্রিম কোর্টের রায়, পৃ. ১৫৯)
এরপর আবদুল ওয়াহহাব মিয়া উপসংহারে লেখেন: ‘প্রসিকিউশনের কেস ও ডিফেন্সের আর্জি বিবেচনায় নিয়া বলা লাগে যে, অভিযুক্ত ১৯৭১ সালে একজন রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, এবং ফলে, তার বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো তিনি করছেন— এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা প্রমাণের দায়িত্ব ছিল প্রসিকিউশনের। কিন্তু প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে এই সত্য প্রমাণে ব্যর্থ হইছে। তাছাড়া ডিফেন্সের তরফে উত্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, বিশেষত ডকুমেন্টারি এভিডেন্স, এক্সিবিট নাম্বার ‘E’, ‘Q’, ‘R’, ‘V’, ‘X’, ‘Aj’ ও ‘AK’, প্রসিকিউশনের এই দাবির ব্যাপারে স্পষ্টতই যুক্তিগ্রাহ্য সন্দেহ তৈরি করেছে যে, ১৯৭১ সালে অভিযুক্ত রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। ফলে অভিযুক্ত অবশ্যই ‘বেনিফিট অব ডাউট’ পাবেন।’ (সুপ্রিম কোর্টের রায়, পৃ. ৩৯৫)
আবদুল ওয়াহহাব মিয়া প্রমাণিত অভিযোগগুলো থেকেও সাঈদীকে বেকসুর খালাস দেন। ফলে, অন্তত এতটুকু বলা যায় যে: সুপ্রিম কোর্টের জাজদের মধ্যে অন্তত একজন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, সাঈদীকে ‘রাজাকার’ মানতে রাজি হন নাই। এখন, ওই ভদ্রলোক কি স্বাধীনতাবিরোধী? Continue reading →