Main menu

তোমারি দরোজার গোলাম তোমারি দুয়ারে

এই ছবিটা তুলছিলাম মাতুয়াইলের বাসায় থাকতে। বাড়িওলার নাম মোহন কাকা। আমি তাপস আর মিসবাহ থাকতাম। যেই দরজাটা দেখা যাইতেছে এইটা বাথরুম। বেশি একটা ইউজ হইত না। কমন বাথরুমটা একটু বড় ছিল। তাই সবাই ওইটাই ইউজ করতাম। এই ছবিটা মার্চ মাসে তোলা। জানুয়ারি মাসের এক রাত্রে শুইতে গিয়া একটামাত্র শ্বাস নিতে একটু সমস্যা হইল। সিরিয়াস কিছু না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঠিক হয়ে গেছে। তবে অই একটা নিঃশ্বাস আমারে অনেক লেসন দিয়া গেল যে মানুষের শ্বাস যেকোনো সময় বন্ধ হইয়া যাইতে পারে। এটা সম্ভব। এর আগে কখনো মনে হয় নাই আমি মারা যাইতে পারি। মারা যাবে দূরের মানুষ। মৃত্যুর খবর খালি মাইকেই শুনতে পাব। ওইদিন রিয়ালাইজ করলাম যে ছোট বড় যে কেউ যে কোনো সময় মারা যাইতে পারে। মানুষ খুবই ভালনারেবল একটা প্রানী। এমন প্যারা খাইলাম। যেদিকেই তাকাই মনে হয় শেষ দেখা। আজকে যাই কালকে যাই। অই সময় অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে আমার ৪-৫টা ব্রেকাপ হয়। নানান জায়গা থেকা নিজেরে সরাইয়া আনতে শুরু করি। দুনিয়ায় সংযোগ যত বাড়ব কবরে হিসাব নিকাশ তত কঠিন হইব। কি দরকার বিপদ বাড়ানোর। ছোটবেলায় আমাদের মাদরসার এক বাবুর্চি চাচা মারা গেছিল। তখন একটা কথা জানতে পারছিলাম যে মারা যাওয়ার ৪০ দিন আগে মৃত্যু আসন্ন ব্যক্তি কিছুটা আচ করতে পারে। আমি সেই রাত্র থেকে ৪০ দিন গোনা শুরু করলাম। লাইফের দীর্ঘতম ৪০ টি দিন। মরনের অপেক্ষা সহজে কি আর ফুরায়? বিআইডিএসে খন্ডকালিন চাকরি করতাম। অইখানে কাজ শেশ হয়ে যাওার পর হয়ে গেলাম ফুলটাইম বেকার। প্রেম ট্রেম নাই। আমি আর মিসবাহ সারাদিন স্যাড স্যাড গজল শুনতাম। একটা গজল যতবারই শুনতাম, কান্দন এসে পরত।

‘রহিম জানি আসিয়াছি মাওলারি দরবারে
আল্লাহ তাড়াইও না মোরে
তোমারি দরোজার গোলাম
তোমারি দুয়ারে ‘

Continue reading

এডিটোরিয়াল: শ্যামলা এরিয়া

This entry is part 8 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

বেরাজিলের খেলা দেখতে হবে, বাট বাশার টিভিতে ডিশ লাইন নাই 🙁 ! পির শাহেবরে কিছু পয়শা দিবো কিনা ভাবতেছি, মানে একটা আকাশ কিনবো নাকি! শেই পয়শাই বা কই, আফছোছ!

তবে ছেরেফ বেরাজিলের খেলাই দেখবো আমি! মানে আমি একজন বেরাজিল ফ্যান, নেইমার আমার পরান একদম! তার আগে আমি আছিলাম রোনাল্ডোর ফ্যান, দ্য চিজ!

কিন্তু কয় বছর আগে আমার মনে একটা পোশ্ন গজাইলো–আমি কেমনে বেরাজিল ফ্যান হইলাম! তেমন কোন কারনই পাইলাম না শুরুতে! মানে আমি তো কোনদিনই খেলা অতো দেখি নাই, ফুটবলের চাইতে কিরিকেট দেখতাম অনেক বেশি, একদম টেস্ট ম্যাচ দেখতেছি দিনের পর দিন, লারা থিকা মুরালি, ডি ছিলভা আমার মুখস্ত! তবু বেরাজিলের ফুটবল কেন আমারে এমন দোলায়!

পরে খেয়াল হইলো কেলাশ ফাইভের টেক্সটবুকের একটা জিনিশ, বেরাজিলের পেলে’র উপর শেই লেখা আমার ভিতর বেরাজিল ঢুকাইয়া দিছে, কলবে একদম পার্মানেন্ট ছাপ্পড় মাইরা দিছে!

এইটা খেয়াল করার পরে আমি খুব ডরাইতে থাকলাম! আমি একটা এমএ পাশ লোক, ছাইন্স-ইতিহাশ-ফিলোসফি-আর্কিওলজি-কছমোলজি-ধর্ম-জুরিছপুরুডেন্স-পলিটিক্স-পোয়েট্রি, এলেমের কতো কতো ডালপালা আমারে টানে, আমি দেশ-দুনিয়া লইয়া ভাবি, পলিটিক্স করতে চাই, ইতিহাশ লিখতে চাই, কিন্তু কেলাশ ফাইভের একটা জিনিশ জদি আমার কলবে অমন ছাপ্পড় মারতে পারে, অমন বায়াছ জদি পয়দা করতে পারে, তাইলে আরো কতো কি না জানি কতো কতো বায়াছ বানাইয়া রাখছে আমার ভিতর! ঐ ডর এখনো আছে আমার ভিতর, এমনকি আমি নিজেই ঐটারে তাজা রাখতে চাই, ঐ ডর আমার হুশ আর মনরে একটা শন্দেহের ভিতর রাখে, একটা আনছেটেলিং দশায় রাখে, জাজমেন্টের বেলায় নজরের কুয়াশা শরাইতে মদদ দেয় ঐ ডর, ইতিহাশের ব্যাপারে একজন বেদরদি কাজি হইয়া উঠতে হেল্প করে!

তো, আমি তখন জা কিছুই পড়ছিলাম জিন্দেগিতে, জতো বয়ান আমার কলবে ঢুকছিলো, শেইগুলারে বিচার শুরু করলাম, এবং অনেকগুলা ব্যাপারে এমন ঘোলা ঘোলা ব্যাপার দেখলাম জে, আমি বাংলা আর বাংলাদেশের ইতিহাশের উপর তাবত লেখালেখির উপর ভরশা হারাইলাম এবং এই ইতিহাশকে এস্ট্রেইটেন করায় মন দিলাম! আমারে জারা খেয়াল করেন, তারা জানেন জে, আমার পোজেক্ট ভাশা থিকা পলিটিক্স অব্দি, জিন্দেগির লগে রিশতা আছে, এমন শকল শামাজিক-কালচারাল কায়কারবার লইয়া কাম (বা আকাম ভাবেন অনেকেই) করি।

তো, ব্যাপারগুলা লইয়া ভাবতে জাইয়া আমি বোঝার টেরাই করলাম জে, আমার ছাইকি/মন/ভাবনা/ছেলফ পয়দা হইতে কোন কোন লেখাজোখা/বয়ানের আছর পড়ছে; একটু বেশি বয়শে, কেলাশ টেনে উইঠা আমি পড়া শুরু করছি বইলা বেশিরভাগ জিনিশই আমি মনে করতে পারলাম! এর আগে আমার ভাবাভাবি অনেকটা ছোয়াচে আছিলো, বড়ো ভাই’র ভাবনার ছাতার নিচে আছিলাম মনে হয় অনেকটাই; আমার বাপে ঠিক আইডিওলজি লইয়া বয়ান দিতো না তেমন, বা ইতিহাশ, উনি এথিক্স লইয়া ভাবতো বেশি খুব শম্ভব, আর শমাজ-মানুশের পোরতি একটা নেচারাল দায় আছিলো ওনার ভাবনায়; এখন আমার আন্দাজ এমন জে, ঐ জেনারেশনের মনে শবচে বড়ো আছর আছিলো হাজি মহশিনের!

তো, পলিটিকেল ইভেন্ট হিশাবে আমার শবচে পুরানা মেমোরি ১৯৮৮ শালের, তখন আমার বয়শ ১০। ইলেকশন করতেছে এরশাদ। আমরা তখন বরগুনায় থাকি, ফাইভে পড়ি। আব্বা আছিলো কোন একটা ছেন্টারের পিরিছাইডিং অফিছার। রাত ১২ টার দিকে এরশাদের এমপি কেন্ডিডেট ফরহাদ একটা বাহিনি লইয়া আমাদের বাশায় হাজির; ব্যালট কাইটা কাম আগাইয়া রাখতে চায় তারা। এই ব্যাপারে পুরানা একটা লেখা এমন, Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) পার্ট ৩

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

পার্ট এক ।। পার্ট দুই ।।

[এই লিস্টিংয়ের ইন্ট্রো দুইটা উপরের লিংকগুলাতে ক্লিক করলে পাইবেন। লিস্টটা বানাইছেন রাবিয়া সাহিন হক ও ইমরুল হাসান। ]

 

১৯৬৮

২০১.
গানের নাম: সেলাম সেলাম শহরবাসী
সিঙ্গার: আনোয়ার উদ্দিন খান
লিরিকস: আমজাদ হোসেন
মিউজিক: আনোয়ার উদ্দিন খান
সিনেমার নাম: বাল্যবন্ধু
ডিরেক্টর: আমজাদ হোসেন

২০২.
গানের নাম: প্রেম পিরিতের যন্ত্রণা
সিঙ্গার: আবদুল জব্বার, আঞ্জুমান আরা বেগম
লিরিকস: আমজাদ হোসেন
মিউজিক: আনোয়ার উদ্দিন খান
সিনেমার নাম: বাল্যবন্ধু
ডিরেক্টর: আমজাদ হোসেন

২০৩.
গানের নাম: মায়া ভরা এক রাজকন্যা
সিঙ্গার: বশীর আহমেদ
লিরিকস: আমজাদ হোসেন
মিউজিক: আনোয়ার উদ্দিন খান
সিনেমার নাম: বাল্যবন্ধু
ডিরেক্টর: আমজাদ হোসেন

২০৪.
গানের নাম: কাছে এসো যদি বলো
সিঙ্গার: খন্দকার ফারুক আহমেদ
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: সত্য সাহা
সিনেমার নাম: আবির্ভাব
ডিরেক্টর:সুভাষ দত্ত

২০৫.
গানের নাম: তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো
সিঙ্গার: মাহমুদুন্নবী
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: সত্য সাহা
সিনেমার নাম: আবির্ভাব
ডিরেক্টর:সুভাষ দত্ত

২০৬.
গানের নাম: ভাবী যেন লাজুক লতা
সিঙ্গার: সত্য সাহা
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: সত্য সাহা
সিনেমার নাম: আবির্ভাব
ডিরেক্টর:সুভাষ দত্ত

২০৭.
গানের নাম: সাতটি রঙের মাঝে আমি মিল খুঁজে না পাই
সিঙ্গার: আঞ্জুমান আরা বেগম
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: সত্য সাহা
সিনেমার নাম: আবির্ভাব
ডিরেক্টর:সুভাষ দত্ত

২০৮.
গানের নাম: গল্প যদি শুনতে চাও
সিঙ্গার: ইসমত আরা
লিরিকস: মাসুদ করিম
মিউজিক: সত্য সাহা
সিনেমার নাম: অপরিচিতা
ডিরেক্টর: সৈয়দ মোহাম্মদ আউয়াল

২০৯.
গানের নামঃ দূর হতে ডাকে কে যেন আমারে
সিঙ্গারঃ আনোয়ার উদ্দিন খান
লিরিকসঃ মাসুদ করিম
মিউজিকঃ সত্য সাহা
সিনেমার নামঃ অপরিচিতা
ডিরেক্টরঃ সৈয়দ আউয়াল
Continue reading

এডিটোরিয়াল: হেপি বার্থডে, আনু মুহাম্মদ!

১.
কালচারাল ও পলিটিক্যাল মিল-অমিল

মু.জা.ই. এবং আ.মু.’র মিল যেমন আছে, অমিলও আছে। মিল’টা হইতেছে দুইজনেই ভালো-মানুশ, সৎ, ভদ্রলোক। আবার অমিল’টা হইতেছে, মু.জা.ই. যতোটা বাকশালি, আ.মু. তা না। কিন্তু যেই মিল’টা ভিজিবল নাই এতোটা সেইটা হইতেছে – বিএনপি-বিরোধিতা। উনারা দুইজনেই বাকশালের ব্যাপারে একই মাত্রায় ক্রিটিক্যাল না হইতে পারেন, কিন্তু বিএনপি বা খালেদা জিয়া ভালো না – এই ব্যাপারে আমার ধারণা, দুইজনেই সমান লেভেলের একমত আছেন, বা হইতে পারবেন।

উনারা দুইজনই কম-বেশি ‘হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির’ও সার্পোটার হওয়ার কথা। মানে, কালচারালি একই ঘরানার লোক হওয়ার কথা, যেইটা উনাদের পলিটিক্যাল পজিশনটারে সিগনিফিকেন্টলি আলাদা করতে পারে না আসলে। বাকশাল সবসময় একটা ‘মন্দের ভালো’ ঘটনা, দুইজনের কাছে। (আ.মু.’র কাছে হয়তো কম, মু.জা.ই’র কাছে যেইটা হইতেছে ‘বিকল্প নাই!’)

উনারা দুইজনই খারাপ-বাকশালের জায়গায় ভালো-বাকশালের শাসন চান। এইটা পলিটিক্যালি বেটার না, বরং আরো বাজে একটা ঘটনাই। উনাদের নিজ নিজ ডিফরেন্সের পরেও।

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২

২.
পলিটিক্যাল যে কোন ইস্যুরে “কালচারাল উপাদান” বানায়া ফেলাটা পলিটিক্যাল এক্টের জায়গাটারে আন্ডারমাইন কইরা রাখে

“তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা কমিটি” বা “সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন” সবচে বড় যেই ক্ষতি’টা করছে, পলিটিক্যাল ইস্যুগুলারে ‘সাহিত্যের উপাদান’ বানায়া ফেলছে। এখন দেখবেন, কোন পলিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসলেই কবিতা লেখা, গান বান্ধা শুরু হয়া যায়। (২০১৩ সালে শাহবাগে নাটক কইরা টিভি-নিউজ-ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা’র ফোকাস পাওয়ার পর থিকা এই ট্রেন্ড বেশি কইরা চালু হইছে।)

এতে কইরা পলিটিক্যাল সমস্যাটার কোন সলিউশন হয় না, বরং এই কালচারাল নাটক-গান-কবিতা কইরা ভাবা যায় যে, আমরা আমাদের ‘দায়িত্ব পালন’ করতেছি; ‘চাপে’ ফেলতেছি অথরিটি’রে!

আর অথরিটি এই ‘চাপ’ নিয়া আপসে আপ কাজ-কামগুলা আগায়া নিয়া যাইতে থাকে। কারণ, পলিটিক্যালি কোন বাধা বা অবস্টেকল ফেইস করা লাগে না। কালচারাল প্রটেস্টগুলা অ্যাপিয়েরেন্সটারে মেইন কইরা তোলার ভিতর দিয়া এই কাজ-কাম করাটারে সহজ কইরা দেয় আরো।

শহীদুল আলমদের কাজ-কাম (দৃক) এইভাবে পাওয়রের যতোটা না এগেনেস্টে তার চাইতে বেশি ফেভারেই কাজ করে বইলা আমার মনেহয়। মানে, উনারা ইচ্ছা কইরা এই ফেভার’টা করতেছেন – এইটা আমার ক্লেইম না; উনারা যে পলিটিক্যাল যেকোন ইস্যু’রে “কালচারাল উপাদান” বানায়া ফেলতে পারেন, এইটা উনাদের স্ট্রেংথ, আর এইটাই উইকনেসেনের পয়েন্ট’টাও।

আনু মুহাম্মদ, কফিল আহমদের’দের কালচারাল “প্রতিবাদ” আল্টিমেটলি পলিটিক্যাল অ্যাক্টের জায়গাটারে ইন্সটিগেট করে না, বরং এক ভাবে হেল্প-ই করে ব্যাপারটারে পলিটিক্যাল ইস্যু থিকা একটা কালচারাল ফেনোমেনা’র জায়গাতে শিফট করার ব্যাপারে। (একটা কালচারাল সুপিরিয়রিটিই ক্লেইম করতে চায় আসলে।)

এখন এই শিফট’টা কালচারাল বইলা বাজে না, বরং যেই কালচারটারে উনারা প্রমোট করেন, সেইটা পলিটিক্যাল অ্যাকশনের জায়গাটারেও আন্ডারমাইন করে, ইনফিরিয়র, ‘বাড়তি’ ও ‘কম ইর্ম্পটেন্ট’ একটা ব্যাপার বানায়া রাখে।
তো, ব্যাপার’টা এইরকম না যে, এইগুলা করা যাবে না; বরং “প্রতিবাদ” তো অনেক হইলো, হইতেছে, হবেও; কিন্তু এইগুলা আসলে একটা অ্যাক্ট হিসাবে “কি করতেছে” – সেইটাও খেয়াল করতে পারাটা দরকার তো!

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২০

৩.
বাংলাদেশে ইন্টেলেকচুয়াল হওয়া মানে হইতেছে ‘ভালো-মানুশ’ হওয়া

বাংলাদেশে ইন্টেলেকচুয়াল টেনডেন্সির যেই ঘটনা, সেইটারে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মধ্যে রিডিউস করলে প্রবলেমটারে প্রপারলি এড্রেস করা হবে না আসলে।

বাংলাদেশে ইন্টেলেকচুয়াল হওয়া মানে হইতেছে ‘ভালো-মানুশ’ হওয়া। এখন কাউরে ‘খারাপ-মানুশ’ হইতে হবে – এইটা ঘটনা না, কিন্তু এই ‘ভালো-মানুশের’ ক্রাইটেরিয়াগুলা সবসময় পলিটিক্যাল একটা ঘটনা, ডমিনেন্ট আইডিওলজিরও বাই-প্রডাক্ট অনেকটা। যার ফলে, যখনই আপনার ইন্টেলেকচুয়াল কাজকামের ভিতরে অই ‘ভালো-মানুশ’ হওয়ার ঘটনা’টা থাকে, সেইটা একটা অবস্টেকল হিসাবেই কাজ করে। এমনকি আপনার যেই ‘ভালো-মানুশি’ সেইটাতে ফোকাস করলে, সেইটা ইন্টেলেকচুয়ালি সিউডো একটা ঘটনাতেই পরিণত হয় অনেক সময়। আনু মুহাম্মদ, সরদার ফজলুল করিমদের ব্যাপারে বলছিলাম, উনারা তো ভালো-মানুশ, কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু এইটাই যে উনাদের ইন্টেলেকচুয়ালিটির ঘটনা হয়া উঠে – সেইটা বাজে জিনিসই এক রকমের। Continue reading

আলো ও ছায়া – কামিনী রায়

কামিনী রায়ের (১৮৬৪ – ১৯৩৩) ফার্স্ট কবিতার বই “আলো ও ছায়া” ছাপা হয় ১৮৮৯ সালে। এরপরে আরো ৮/১০টা কবিতার বই ছাপা হয় উনার। এই বইয়ের কবিতাগুলা উনার “আলো ও ছায়া”র চাইর নাম্বার এডিশন (বাংলা ১৩১১) এবং “কামিনী রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা” (ইংরেজি ২০০১) বই থিকা বাছাই করা হইছে।

কামিনী রায়ের জন্ম বাকেরগঞ্জের (এখনকার ঝালকাঠি জেলার) বাসন্ডা গ্রামে। উনি পড়াশোনা করছেন কলকাতার বেথুন কলেজে। অই কলেজের (শুরুতে স্কুলের, পরে কলেজের) টিচার ছিলেন। “ছন্দ-সুর-নিখুঁতমিল”র বাইরেও “সুখ-দুঃখ, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, আশা-আকাঙ্খা, গভীর আনন্দ ও তীব্র বেদনার” “সহজ-সবল” কবিতার যেই জায়গা আছে, সেইখানে কন্ট্রিবিউশন আছে কামিনী রায়ের কবিতার। উনার এক্সপ্লোরেশনের জায়গাগুলারে একটা সময়ের ঘটনা হিসাবে না দেখার কারণে অন্য কবিদের “প্রভাবে” লেখা বইলা মিস-রিড করার ট্রাডিশন বাংলা-সাহিত্যে চালু আছে। কিন্তু সময়ের হিসাবে দেখতে পারলে বাংলা-কবিতাতে উনার কন্ট্রিবিউশনের জায়গাগুলারে আরো স্পষ্টভাবে দেখতে পাবো আমরা। কামিনী রায়ের কিছু কবিতার অংশ মোরাল-সেস্টমেন্ট হিসাবে স্কুল-পাঠ্য বইগুলাতে অনেকদিন ধইরা চালু আছে।

বাংলা-কবিতার হিস্ট্রিতে একজন ‘মহিলা-কবি’ হিসাবে না, বরং ‘কবি’ হিসাবে উনার এক্সপ্লোরেশনের জায়গাগুলারে খেয়াল করতে পারবেন রিডার’রা এই কবিতাগুলাতে। এই এক্সপেক্টশন থিকা আমরা লেখাগুলা ছাপাইতেছি।

আঁধারে

আঁধারের কীটাণু আমরা,
দুদণ্ড আঁধারে করি খেলা,
অন্ধকারে ভেঙ্গে যায় হাট,
জীবন ও মরণের মেলা ।

কোথা হ’তে আসে, কোথা যায়,
ভাবিয়া না কেহ কিছু পায়,
অজ্ঞানেতে জনম মরণ,
বিশ্বয়েতে জীবন কাটায়।

নিবিড় বিপিনে হেথা হোথা
দেখা যায় আলোকের রেখা,
কে জানে সে কোথা হ’তে আসে?
কারণের কে পেয়েছে দেখা?

বিশ্বয়ে ঘুরিতে হবে যদি,
এ জীবন যতক্ষণ আছে
এস সখে, ঘুরি এই দিকে,
আলোকের রেখাটির কাছে।

কিরণের রেখাটি ধরিয়া
ঊর্দ্ধে যদি হই অগ্রসর,—
না হই, কিই বা ক্ষতি তাহে?
মরিব এ জ্যোতির ভিতর ।

অন্ধকার কাননের মাঝে
যতটুকু আলো দেখা যায়,
এস সথে, লভি সেই টুকু,
এস, খেলা খেলিব হেথায়।
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →