Main menu

আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ (সিলেক্টেড পার্ট ১)

[আব্বাসউদ্দীন আহমদের (১৯০১ – ১৯৫৯) অটোবায়োগ্রাফি “আমার শিল্পী জীবনের কথা” বইটা ছাপা হয় উনি মারা যাওয়ার পরে, ১৯৬০ সালে। এই বইটার কিছু অংশ বাছবিচারে ছাপানোর প্ল্যান করছি আমরা।]

প্রথম গানের প্রেরণা

॥ মোহররমের মর্সিয়া ॥

আমার নাম ছিল শৈশবে স্ত্রী সেখ আব্বাসউদ্দীন আহমদ। গ্রামে তথা সমস্ত কুচবিহারে মুসলমান সমাজে এক আন্দোলন উঠল—নামের পূর্বে এই ‘সেখ’ কথাটা ভুলে দিতে হবে। আমার তখন বয়স হবে আট বছর। পরিষ্কার মনে পড়ে আমাদের মহুকুমা তুফানগঞ্জে আমি সেদিন বাবার সাথে গিয়াছিলাম এক বিরাট সভায় যোগদান করতে। এক পয়সার কার্টিজ কাগজের শত শত কাগজে সবাই নাম লেখা আরম্ভ করল ‘সেখ’টা বাদ দিয়ে শ্রী অমুক বলে— সেই দস্তখত-নামা কাগজগুলো দরখাস্ত-সহ সেখানকার কাছারীতে জমা দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ তখন বুঝিনি। পরে বুঝেছিলাম যে তখন সাধারণতঃ শিয়া মুসলমানরা নাকি নামের আগে ঐ শব্দটি ব্যবহার করতেন। অতএব আমাদের সুন্নীদের এটি পরিত্যাগ করতে হবে। গ্রামে আরও প্রচার হতে লাগল যে এবার যারা মোহররমের সময় বাড়ীতে তাজিয়া তৈরী করবে তাদের সংগে সামাজিকতা চলবে না। আমাদের গ্রামের সমাজে তখন সত্যিই বড় কড়াকড়ি নিয়ম ছিল। ছোটখাট মামলা-মোকদ্দমা আমার বাবা মৌলবী জাফর আলী আহমদ, বড় মামা ও কুচবিহার মহারাজার নাজিরের বংশধর কুমার গৌরনারায়ণ সিং এঁরাই মীমাংসা করে দিতেন। আমি অতশত বুঝতাম না, তবে মনটা বেশ খারাপ হল এই ভেবে যে গ্রামে আর তাজিয়া দেখতে পাব না। কী অপূর্বভাবে কাঁচি দিয়ে কাগজ কেটে সূক্ষ কারুকার্যের পরিচয় দিত আমের তাজিয়া তৈরী করার —এমন সুন্দর জিনিষ উঠে যাবে গ্রাম থেকে … আর বন্ধ হয়ে যাবে মোহররমের বাজনা এবং সংগে সংগে মোহররমের জারী!!

মোহররমের বাজনা সত্যিই গ্রামে বন্ধ হল কিন্তু ভিন গাঁয়ে উঠল কাড়া-নাকাড়া শানাইয়ের বাদ্য। তারা যখন আমাদের গ্রামের গঞ্জে দলে দলে এসে বাজনা এবং লাঠিসোটার খেলা দেখাতে লাগল তখন আমাদের গ্রামের যুবকরা যারা সমাজের ভয়ে দল ভেঙেছিল তারাও লুকিয়ে গিয়ে ‘ডম্প’ (এক রকম ঢোল বাদ্যবিশেষ) নিয়ে দলের সাথে ভিড়ে গেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের গ্রামের আশেপাশে প্রায় দশ বারোখানা গ্রামের মোহররমের দল ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল ।

বাড়ী থেকে প্রায় দুই তিন মাইল দূরে সত্য-পীরের গান শুনতে গেলাম একদিন। যেখানে সেই দলের মূল গায়েন গেয়ে উঠল,

ও ভাই আল্লা বলরে রসুলের ভাবনা
দিনে দিনে হইল ফারাজি সিন্নি খাওয়া মানা ।।

অবশ্য এ গান শুনেছিলাম মোহররম উপলক্ষ্যে। তাজিয়া দিয়েছিল কালজানি নদীর ওপারে বিরাটভাবে এক জোতদার । তখনকার দিনে শুনেছি পাঁচ টাকার নাকি গোলমরিচই কিনেছিল সেই মেজমানীতে লোক, খাওয়াবার জন্য। গান শুনে আমার মনে হয়েছিল যারা শিয়াদের রীতিনীতি পরিত্যাগ করে বাটি সুন্নীমত গ্রহণ করেছিল তাদের উদ্দেশ্য করেই এ গান রচনা। ফারাজি মানে নামাজী; সিন্নি মানে তাজিয়া উপলক্ষ্যে যে সিন্নি বা খাওয়ার আয়োজন করা হয়।

গ্রামের অধিকাংশই ছিলেন শিয়া মতালী। তাঁরা রূপান্তরিত হলেন সুন্নী মুসলমানে। কাজেই গান বলতে মর্সিয়া আর মোহররমের বাদ্য গ্রাম থেকে নিল চিরবিদায়।

কিন্তু আমার ভাগ্য ভাল আমার গ্রামে ছিল বহু ভাওয়াইয়া গায়ক, সারা গ্রামটা সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত গানের সুরে মুখরিত হয়ে থাকত। বাড়ীর পূর্বে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ। আমাদের আধিয়ারী প্রজারা হাল বাইতে বাইতে পাট নিড়াতে নিড়াতে গাইত ভাওয়াইয়া গান। সেই সব গানের সুরেই আমার মনের নীড়ে বাসা বেঁধেছিল ভাওয়াইয়া গানের পাখী। Continue reading

আমার জীবনানন্দ অবলোকন

উৎপলকুমার বসু কোথাও লিখছিলেন যে তার মনে হয় জীবনানন্দের উপর সাইলেন্ট সিনেমায় দেখানো ল্যান্ডস্কেপের প্রভাব আছে। জীবনানন্দ ওগুলি প্রচুর দেখতেন। আমার কাছে এইটা সমর্থনযোগ্য মনে হইছে। কবি জীবনানন্দ, দৃশ্যাবলোকনের যে মধুর প্যারাডক্স, তার ভিতর চক্রাকারে ঘুরতেন বইলা আমার মনে হয়। কিন্তু দৃশ্য যে দেখতেছে, সেই অবলোকনকারীর অবস্থানকে বাস্তবে চিহ্নিত করতে উনি প্রায় নারাজ ছিলেন বলা যায়। এই ‘ওনলি স্পেকটেটরশিপ’ নিয়া পরে কখনো আমি কিছু লিখব। এখন বরং আমার কাছে কবি হিসাবে তার আগমন ও বিদায়ের গল্পটুকু অল্পে বইলা রাখি।

আমাদের বাসায় জীবনানন্দ দাশ সমগ্র একটা ছিল। রণেশ দাশগুপ্ত সম্পাদিত, প্রথম দিকের এডিশন। আমি যখন তা পড়তে শুরু করি, তখন আমার কোন্ ক্লাস চলে মনে নাই। তবে তারও আগেই আমার জীবনানন্দের রূপসী বাংলা পর্বের কবিতার সাথে পরিচয় ঘটে কখন ও কীভাবে, সেইটা মনে আছে।

একদম ছোট থাকতে, টু-থ্রিতে পড়ি তখন বাসায় একটা ক্যালেন্ডার আসলো একবার, কোনো ব্যাংকের হবে। ছয় পাতার দেয়াল ক্যালেন্ডার, প্রত্যেক পাতায় একটা কইরা সাদাকালো ফোটাগ্রাফ। ঋতূ অনুযায়ী প্রকৃতির ছবি সেগুলা, খুব ভাল কিছু নয় বোধহয় যা মনে পড়তেছে, এখন যেগুলিকে ‘এস্থেটিক’ বইলা আমি ব্যঙ্গ করি সেইধরনের। আর এরসাথে প্রত্যেক পাতায় কবি জীবনানন্দ দাশের কয়েকটা লাইন ছিল। ছবির নিচে সম্ভবত। সবই রূপসী বাংলা থেকে।

ততদিন পর্যন্ত আমার যতটুকু পঠিত জগত, সেইখানে জীবনানন্দের এই বর্ণনামূলক কবিতাংশগুলি ছিল একদমই অন্যরকম। বলা ভাল, ঐ লাইনগুলির সৌন্দর্য্য সত্যিই আমার অন্তর্জগতে একধরনের ইয়ে তৈরি করত। ইংরেজিতে বলে লংগিং। তারই কোনো একটা শিশুতোষ সংস্করণ হবে।

পরবর্তীতে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেয়ার আগেই আমি অসংখ্যবার জীবনানন্দ খতম দিই এবং হাফেজ হয়ে উঠি। তার অনুকরণে দুই তিনটা কবিতাও লিখি এবং পরিচিত কামেল কবিতাপ্রেমীদের পড়তে দিই। তারা জীবনানন্দ মনে কইরা পড়া আর প্রশংসা করার পরে আমি দাঁত বাইর কইরা হাসি দিয়া বলি -আমি লিখছি।

(বিনয় মজুমদারের অনুকরণ কইরাও এমন একটা লিখছিলাম ও পড়াইছিলাম।)

তবে ধীরে ধীরে, বামপন্থীদের সাথে ওঠাবসা, মেট্রোপলিটনে স্থানান্তর এবং জীবনবাদী স্বচ্ছ কবিদের পড়তে যেয়ে, (যেমন কফিল আহমেদ) আমি জীবনানন্দের কবিতাবিশ্বের প্রতি ক্রিটিকাল হইতে থাকি। জীবনানন্দের ভিতর যে জীবন-আনন্দ-বিনাশী ঝামেলা আছে তা সনাক্ত করতে সক্ষম হই। সভ্যতার উপরে এর ইমপ্যাক্ট বিচার করার জায়গাটুকু বাদ দিয়া, আমি তখন বরং যে কবিতাগুলিতে তিনি সবথেকে নেগেটিভ, কোনো প্যাঁচগোচ ছাড়া, সেগুলিকেই তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসাবে মাইনা নিই। যেমন ‘শীতরাত’। Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) পার্ট ৪

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

আগের পার্টগুলা:

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।। পার্ট ৩ ।।

১৯৬৯

৩০১.
গানের নাম: আমার মতো অভাগী কেউ নাই
সিঙ্গার: নীলুফার ইয়াসমিন
লিরিকস: আবদুল লতিফ
মিউজিক: সুবল দাস
সিনেমার নাম: স্বর্ণকমল
ডিরেক্টর: নজরুল ইসলাম

৩০২.
গানের নাম: রহম করো, ইয়া রাহিমু
সিঙ্গার: নীলুফার ইয়াসমিন
লিরিকস: আবদুল লতিফ
মিউজিক: সুবল দাস
সিনেমার নাম: স্বর্ণকমল
ডিরেক্টর: নজরুল ইসলাম

৩০৩.
গানের নাম: বাবু সেলাম বারে বারে
সিঙ্গার: আবদুল আলীম, নীনা হামিদ
লিরিকস: জসীম উদ্দিন
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেদের মেয়ে
ডিরেক্টর: নুরুল হক

৩০৪.
গানের নাম: সোনার বরণ কন্যা সাজে নানা রঙ্গে
সিঙ্গার: নীনা হামিদ, রওশন আর মুস্তাফিজ
লিরিকস: জসীম উদ্দিন
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেদের মেয়ে
ডিরেক্টর: নুরুল হক

৩০৫.
গানের নাম: বিধি কি হইলো
সিঙ্গার: নীনা হামিদ
লিরিকস: জসীম উদ্দিন
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেদের মেয়ে
ডিরেক্টর: নুরুল হক

৩০৬.
গানের নাম: যারে ছেড়ে এলেম অবহেলে
সিঙ্গার: আবদুল আলীম
লিরিকস: জসীম উদ্দিন
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেদের মেয়ে
ডিরেক্টর: নুরুল হক

৩০৭.
গানের নাম: গুণের ননদ লো পাখি ডাকে
সিঙ্গার: আবদুল আলীম, শাহনাজ রহমতউল্লাহ
লিরিকস: জসীম উদ্দিন
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেদের মেয়ে
ডিরেক্টর: নুরুল হক Continue reading

মাসিয়াত জাহিনের কবিতা

ডুমার্স

তবে কি আমি মৃত
তবে কি ওই অনেকদিন আগে
হাঁটাবাবা কবিতাটা পড়ার পর পর
আমি মারা গেছিলাম

তবে কি এমনেই মানুষ মরে
হঠাত বন্ধ হয় কবিতা
বৃষ্টি ভাল লা গা
লজ্জ্বায় লা ল হয়া
তবে এমনেই মরে মানুষ
হঠাত হাঁটাবাবার হাটা কাটা বাটা
সব মিনিংলেস
লেস ফাকিং লেস লাগতে থাকা

পরদাদা কাকের চোখ কাটে
মুড়ির মত স্বপ্ন পোতায়
গাধার মত ভালোবাসা
অলস অলস গাধা গাধা

এভরিথিং ইজ সিনজোনড বেব!
তাই আমি আকাশও সিনজোন করেছি
কেমোনে হবে কবিতা বলো
বাতাস ও বিলাই খেয়ে ফেলেছে
খেয়ে মরে গিয়েছে পেট ফুলিয়ে

আহা।

ওর অস্তিত্ববাদ গেছে
অনস্তিত্ববাদ গেছে

বেবি আমাকে একটা স্লোগান দাও
রক্ত লাল! রক্ত লাল!

আমি কেন ঘুমে অসুখে বিসুখে
স্লোগান দিতে থাকি
এভরিথিং ইজ সিনজোনড বেব

আর সিনেমায় দেখি কাকের চোখ কাটা
ইজম না কোন আমি আম্মু
আমি তোমাকে তোমার আম্মুর মত ভালোবাসি
স্যুররিয়াল না আমি তো

কিন্তু স্বপ্নে দেখি কাকের চোখ কাটা
কাটা
কারণ আমার হাত কেটে বন্ধুরা
হাত
কেটে ছেড়েছে ছেড়ে গেছে?

আম্মু
বেবি!

এভরিথিং ইজ সিনজোনড বেব

Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ৪)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।।

পর্ব ৭: অপারেশন টেবিলে মৃত্যু নিয়ে রসিকতা

সকালটাও একা একা কাটল। আগের বিকেলের পাউরুটির কয়েকটা স্লাইস আর কলা ছিল। সেটা দিয়ে নাশতা সারলাম। সকালে নার্স এসে গ্যাস্টিকের ওষুধের কথা বলে গেল। ইআরসিপি কখন করাবে জিজ্ঞাসা করলাম, উত্তর দিতে পারলেন না। দুপুরের দিকে ক্ষিদে লেগে গেল। বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসার কথা নিপুণ ও মিনহাজের। কিন্তু ওদেরও ডাক্তারে এপয়ন্টমেন্ট ছিল, তাই আসতে খানিকটা দেরি হবে। দুই পিস পাউরুটি তখনো রয়ে গেল। সেটাই খাইলাম।

দুইটার দিকে ডা. রাফি আসলেন। বললেন, ইয়ংম্যান কেমন আছেন? বললাম, ভালো। এরপর বললেন, আজকে রিপোর্ট পাইলে সন্ধ্যায় অপারেশন হবে। কিছু খাবেন না। নইলে দুইদিন পিছিয়ে যেতে হবে। শুক্রবার আমি অপারেশনে যায় না। মেবি শনিবারও উনার অন্য শিডিউল ছিল।

এ কথা শুনে কিছু বলতে পারলাম না। একটু পরই ভাগনি হাজির হলো খাবার নিয়ে। তখন নার্স এসে বললেন, সকাল থেকে কিছু খেয়েছেন? খাবেন না। আপনার করোনা নেগেটিভ। রাত আটটার দিকে ইআরপিসি করা হবে। বললাম, এটা এমন কথা। সারাদিন যাওয়ার পর বলছেন খাবেন না। এটা তো সকালেই আপনাদের বলা উচিত ছিল। এখন আমার মনে হয়, কখন দুই পিস পাউরুটি খেয়েছি। আর খাবার দেরিতে এসেছে বলে এতক্ষণ খাইনি। আপনার দায়িত্ব পালন করলেন না। গ্যাস্টিকের ট্যাবলেটের কথা বলতে আসছিলেন শুধু। তারা কোনো উত্তর দেই না।

সমস্যা হলো, আমি কখন পাউরুটি খেয়েছি মনে নাই। ওই যে সংশয় পিছু ছাড়ে না। শয়তানটা আশপাশে কোথাও বসে থাকে। যখনই কোন কিছু নিশ্চিত হতে চাই, টুপ করে আমার মাথায় মধ্যে ঢুকে পড়বে। তারপরও একটা সময় ধরে ঠিক করা হলো রাতে ইআরসিপি হবে। কয়েকদিন পিছিয়ে যাওয়ার চেয়ে এই ভালো। এই জঘন্য হাসপাতালে আর থাকতে হবে না।

রাত আটটার খানিকটা আগে সার্জারি রুমের পাশে একটা বিছয়ানায় শুইয়ে দেওয় হলো। হাতে লাগানো হলো স্যালাই। এর আধঘণ্টা পর ডা. রাফি আসলেন। সঙ্গে দুজন ছিলেন। খুব একটা কথা বললেন না। দ্রুত অপারেশন টেবিলে শুয়ে পড়লাম। এক হাত স্যালাইনের কারণে লম্বা করে রাখছি, অন্য হাত মাথার নিচে। একজন মুখের মধ্যে একটা চোঙের মতো জিনিস দিলেন। তারপর সেখানে টেপ লাগিয়ে দিলেন।

তিনজনে কথা বলতে বলতে এটা সেটা করছেন। পায়ের দিকে কিছু তারের মতো জিনিস জড়ানো হলো। ভয় পাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, পা ছোড়াছুড়ি করবো নাকি। জিজ্ঞাসাও করা যাচ্ছিল না, মুখ বন্ধ। এই ফাঁকে তাদের কিছু কথা শুনে গা হিম হয়ে আসলো। আগেই হয়তো বলেছি অ্যানেন্থেশিয়ার মাধ্যমে অজ্ঞান হওয়া ভয়ংকর একটা ব্যাপার। যেন ফাঁদে পড়ে যাওয়া, মৃত্যু নয়, আর যদি জ্ঞান না পেরে। আর তখন তারা মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করছে।

ডা. রাফি সম্ভবত অপারেশন টেবিলে মারা যাওয়া কোনো এক রোগীকে নিয়ে কিছু বলছিলেন, তারপর তিনজনই হাসছিলেন। আমি বলতে লাগলাম, ভাই আপনারা দেখছেন না, আমি এখানে শুয়ে আছি। একটু পর অজ্ঞান করবেন। এইসব কথা বন্ধ করুন। কিন্তু কথাগুলো আমার ভেতরেই রয়ে গেল। মুখ খোলা গেল না। পা নাড়ানোর চেষ্টা করলাম, সেটাও হলো না। তাদের হাসাহাসির মাঝে একজন আমার দিকে এগিয়ে এলেন। চোঙে লাগানো টেপ খুলে একটা নল আমার মুখে মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। অ্যানেন্থেশিয়া! Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →