Main menu

স. মুহম্মদ নাহিন রহমানের কবিতা

পৃথিবীর সেইসব চায়ের দোকান

আমাকে বিক্রি করে দিয়েছিলো যারা চায়ের দোকানে, তাঁদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নাই মা-
প্রতি রাতে ঝুলে থেকে থেকে বাসি বন রুটি- পুরাতন কুকুরের অভ্যস্ত খাবার হতে হতে আমার-
তবু, মনে হয়-
আমায় তবু, তারা দেখতে আসুক একবার।
একবার কিনুক, দুধ চা দিয়ে ভেজা মিষ্টি বন রুটি হয়ে-
একবার ঘুমিয়ে পড়ি তাদের স্নিগ্ধ বুকে-

 

সুইসাইড

একদিন জানবা, সুইসাইড ও বিরক্তিকর,
সিনেমার মত, পপুলিস্ট।
অইদিন লেভেলে আসবা তুমি- অইদিন কথা হবে।
সব থেকে নির্বাণ হয়ে, মৃত্যুরে সবচাইতে
উজ্জ্বল, মোহনীয়, আরবি আতর-
মনে করে, ঝাঁপায় পড়ার
নেশা, কৈশোর-
একদিন, শেষ হোক-
আমি তো কোথাও যাইতেসি না।
আমি নিচে বইসা আছি,
অনেক নিচে,
এতটা নিচে-
আসতে হইলে-
তোমারে, তোমার কবর পার হয়ে
আরো দুই হাত নিচে,
চোখ বন্ধ করে দিতে হবে লাফ।
ঐখানে, এখনো আছি আমি-
স্থির, কোথাও যাইতেসিনা যেন, তাড়া নাই
সারামাস
অলস জুম্মাবার, অইখানে
আইসো একদিন-
চা খাবো, অইদিন কথা হবে।

Continue reading

ফোরো ফারোখজাদের কবিতা

একই সময়ে যখন সাহিত্য ও কলা আর পেরায় সবকিছুই যখন পুরুষের আধিপত্যে, খুব কম নারী মাত্র কবি হিসাবে সম্মান পাইতেন, ইরানের কবি ফোরো ফারোখজাদ ঐসময় সেক্স আর সমাজের বাঁধা উপেক্ষা করি, একজন নারী কোনটা প্রকাশ করতে পারবে না পারবে, সেন্সুয়ালিটির লগে জড়িত সীমানা অতিক্রম করি সামনে আসেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমের সূত্রে আমির আলী রিডজির লেখা থেকে জানতে পাই,
একজন রেডিও ইন্টারভিউয়ার ফোরো ফারোখজাদের লেখাকে মেয়েলি বলে চিহ্নিত করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

একজন সাহসী কবি হিসাবে তিনি অন্ধকারযুগের রীতিকে তুচ্ছ করি বলেন, “হিউম্যানিটিই আসল, নর কিংবা নারী হওয়া না”

বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আত্মরক্ষা করে, নারীর ভিতরের সত্তার লগে যুদ্ধ করে (যা ট্যাবু হিসাবে বিবেচিত) তাদের ইনটিমেট সিক্রেট, ডিজেয়ার, দুঃখ, কষ্ট আর একই সাথে ভালো লাগা-মন্দ লাগা যা অধিকাংশ নারীর নিরবতার ভিতরেই থাকি যায়, তা নিয়েই তিনি লেখালেখিতে হাজির হন। ওনার শারীরিক ও মানসিক অন্তরঙ্গতার প্রকাশ, যা ইরানী নারীদের কবিতায় অনুপস্থিত ছিল, তাঁরে সমালোচনার কেন্দ্রে বসায়, এমনকি ঐসময়কার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও।

এসব কারণে তিনি নৈতিক অবক্ষয়সম্পন্ন নারী হিসাবেও চিহ্নিত ছিলেন।

ফোরা ফারোখজাদ শুধু একজন ইরানী কবিই নন, ফিল্ম ডিরেক্টরও ছিলেন। ফারোখজাদ নিঃসন্দেহে বিশ শতকের ইরানের সবচাইতে প্রভাবশালী কবিদের একজন। তিনি একজন বিতর্কিত আধুনিক কবি ও প্রথাবিরোধী ব্যক্তি। তাঁর জন্ম তেহরানে ১৯৩৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি একজন। তিনি নবম গ্রেড পর্যন্ত স্কুলে যান। এরপর পেইন্টিং ও সিলাইয়ের কাজ শিখেন মেয়েদের স্কুলে। ১৬ বছর বয়সে ওনার বিয়া হয় স্যাটেয়ারিস্ট পারভেজ শাপুরের লগে। বিয়ার পর ওনারা আহভাজে চলি গেলে এর একবছর পরে ওনার একমাত্র পোলার জন্ম হয়। দুই বছরের মধ্যে, ১৯৫৪ সালে, তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আর বাচ্চার কাস্টডি চলে যায় পারভেজের কাছে। এরপর ফারোখজাদ তেহরানে ফিরি আসেন কবিতা লিখতে আর ১৯৫৫ সালে “Captive” নামে তাঁর লেখার পয়লা ভলিউম প্রকাশ করেন।

শুরু থেকেই ফারোখজাদের লেখা একজন ডিভোর্সি, বিতর্কিত, শক্ত নারীকণ্ঠেের হওয়াতে নানান সমালোচনা ও সরাসরি বিরোধিতার শিকার হয়। ১৯৫৮ সালে নয়মাস তিনি ইউরোপে কাটান আর এ সময় ওনার মিট হয় ফিল্ম মেকার ও লেখক ইব্রাহীম গোলেস্তানের লগে, যিনি তাঁকে পুনরায় শক্তি জোগান তাঁর নিজস্বতা প্রকাশ ও স্বাধীন চলাফেরায়। তাবরীজে গিয়ে ইরানিদের লেপরোসিতে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ফিল্ম বানানোর আগে তিনি তাঁর লেখাগুলার দুইয়ের অধিক ভলিউম প্রকাশ করেন, “The Wall” ও “The Revelion” নামে। ওনার ১৯৬২ সালের “The House is Black” নামের এক ডকুমেন্টারি ফিল্ম বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড জয় করে। এসময় শ্যুটিংয়ের ১২ দিনের মধ্যে তিনি হোসাইন মনসুরির লগে এটাচড হন। তিনি ঐ পোলার পালক নেন, আর তারে পালতে তাঁর মার বাসায় নিয়ে যান। ১৯৬৩ সালে তিনি “Reborn” বইটা প্রকাশ করেন। আর তাঁর কবিতাও তখন স্বতঃস্ফূর্ত ও পরিপূর্ণ বিকাশ লাভ করে আর আগের ইরানি আধুনিক কবিতার লগে একটা স্বতন্ত্র পার্থক্য তৈয়ার করে নিজস্ব আসনে বসে।

এই তুখোর কবি মাত্র ৩২ বছর বয়সেই ফেব্রুয়ারী ১৩, ১৯৬৭ সালে মারা যান রোড এক্সিডেন্টে। এত অল্প বয়সে মারা গেলেও তিনি আবালবৃদ্ধবনিতা অনেকেরই প্রিয় হয়ে যান। তাঁর কবিতা গান, পেইন্টিংস আর প্রবন্ধ লেখারেও অনুপ্রাণিত করে। অথচ ইসলামী বিপ্লবের পরে তাঁর কবিতা পেরায় এক দশকেরও বেশি সময় নিষিদ্ধ আছিল। Nasser Saffarian তিনটা ডকুমেন্টারী তৈয়ার করেন ওনার উপর The Mirror of the Soul(2000), The Green Cold (2003),Summit of the Wave (2004) নামে।

ওনার কবিতা ইংরেজিতে তরজমা করেন Soleh Wolpe, Sin: Selected poems of Forough FarrokhZad, ,The Sad Little Fairy Maryam Dilmaghani। এছাড়াও গুগলে ছড়ানো ছিঁটানো অনেক জায়গা থেকে ওনার কবিতাগুলা পাইছি। ওনার কবিতার প্রকাশভঙ্গি আর অভিজ্ঞতায় নতুন ধরনের স্বাদ থাকাতে এক পড়াতেই ভালো লাগি যায় আমার। তো, খুঁজতে যাই দেখলাম বাংলায় মলয় রায় চৌধুরী ওনার কিছু কিছু কবিতা তরজমা করছেন। বিষয়বস্তুর দিক থেকে যদিও মোটামুটি ওগুলা আলাদাই আর ভাষার দিক থেকেও। ভালো লাগার জায়গা যেহেতু ব্যক্তিভেদে ভিন্ন, আমিও কিছু কবিতা তরজমা করলাম পড়তে যাই, হয়ত কারো না কারো ভালো লাগি যাবে। ইরানের মত জায়গায় বিশ শতকের একজন নারীর লেখায় এরকম ধার আর স্বতঃস্ফূর্ততা, আশা করি একদম ভিন্ন রকম একটা জার্নিই হবে কবিতাপ্রেমী যেকারোর জন্যে।

রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

পুনর্জন্ম

আমার পুরা অন্তর এক কুয়াশাচ্ছন্ন কবিতা—
যা তোমারে বারবার আওড়ায়ে এর মধ্য দিয়ে নিজেরে বয়ে নেয়
সেই চির উম্মোচিত আর কুসুমিত ফজরের দিকে।
এই কবিতায়, আমি তোমার নামে লম্বা দম ফেলি, আহ!
এই কবিতায়, আমি তোমারে কলম করি লাগাই গাছে, পানিতে আর আগুনে..

সম্ভবত জীবন এমন এক লম্বা পথ—
যা একজন মহিলা ঝুড়ি নিয়ে পার হয় প্রত্যেকদিন।
সম্ভবত জীবন এমন এক ছাদ—
যার লগে একটা পুঁথি থেকে নিজেরে ঝুলায়ে দিছে কোন পুরুষ।
সম্ভবত জীবন স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরা এক শিশু।
সম্ভবত জীবন কোন সিগারেটের আগুন—
দুইজন পিরীতাহতের মধ্যকার জীবননাশক নিরবতা
অথবা সেই বিহবল পথ—
যা কোন পথিকেরে উষ্টা খাওয়ায়
আর কোন পথিকেরে ফাঁপা হাসিতে জানায়, সুপ্রভাত!

সম্ভবত জীবন সেই দমবন্ধ মূহূর্ত—
যখন আমার দিষ্টি নিজেই ধ্বংস হয়ে গেছিল তোমার চোখের পুতলিতে
আর তা এমন এক বোধ—
যা আমি মিলাইতে পারব চান্দের ধারণার লগে আর আন্ধারের শুভেচ্ছায়—
একটা রুমে কারোর নিঃসঙ্গতার পরিমাপে

আমার অন্তর
একজনের পিরীতের মাপে তাকায়ে আছে

নিজের সুখের মতন নরমাল ছুতার দিকে
ফুলের টবে ফুলের মনোরম কোমলতার দিকে
আমাদের পুষ্পশয্যায় রোয়া চারাগাছের দিকে
ক্যানারীদের গানের দিকে—যারা একটা জানলার আয়তন গায়

আহ!
এই আমার কপাল
এই আমার কপাল
আমার কপাল—
একটা আসমান, যা আমার থেকে লুট হওয়া একটা পর্দার পতন
আমার কপাল নামতেছে এক পরিত্যক্ত সিঁড়ি বাই
আর যোগ দিতেছে কিছু ক্ষয় আর স্মৃতিকাতরতার লগে
আমার কপাল স্মৃতির বাগানে এক নিরানন্দ হাঁটাহাঁটি
আর একটা ভয়েসের দুঃখে মরতে থাকা—
যা আমারে কয়:

“আমি তোমার হাত ভালোবাসি”

আমি আমার হাতরে রুয়ে দিব ফুলের বিছানায়
আমি গজাবো, আমি জানি, আমি জানি, আমি জানি
আর চড়ুইগুলা ডিম পাড়বে
আমার কালিমাখা আঙুলের শাখায় শাখায়
আমি ঝুলাবো আমার কান ঘিরে
জমজ লাল চেরীর এক জোড়া কানের দুল
আমি ডালিয়ার পাপড়ি রাখব আমার নখে

সেখানে এক সরুগলি আছে, ঐসব বালকেরা যেখানে খেলে
যারা আমার লাভার আছিল একসময়
অমনই আলুথালু চুল, পাতলা ঘাড় আর রোগা পায়ে—
আর এখনো ভাবে সেই ছোট্ট মেয়েটার নিষ্পাপ হাসির কথা—
যে এক রাতে বাতাসে উড়ি গেছিল

সেখানে এক সরুগলি আছে
যা আমার অন্তর চুরি করছে
আমার শৈশবের জায়গা থেকে
এই পরিমাণের জার্নি সময়ের লগে
আর এই পরিমাণ বাঁজা সময়রে পুরা করছে
একটা সচেতন সিনারীর স্বর—
একটা আয়নায় লীন হওয়া থেকে ফিরা—
এইভাবেই
কেউ মারা যায়
আর কেউ বাঁচি থাকে।
কোন জালিয়াই কিন্তু মুক্তা ধরে না
একটা খাদায় বইতে থাকা সামান্য ধুঁয়া থেকে

আমি চিনি
দরিয়ায় আলতো করে নরম হয়ে বইতে থাকা
এক দুঃখি মেছোকন্যারে—
তার অন্তর এক কাঠের বাঁশির মধ্যে
এক দুঃখি মেছোকন্যা–যে রাতে একটা চুমুতেই মরি যায়….

Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ৫)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।। কিস্তি ৪ ।।

পর্ব ৯: হোমিওপ্যাথির ডাক্তার বললেন, আপনি কি ক্ষমা করতে পারেন?
ইআরসিপি রিমুভের পর দিন দু-এক বাসায় শুয়ে-বসে কাটলো। প্রথম দিকে পেটের মধ্যে অল্প অস্বস্তি ছাড়া কিছু অনুভূত হয় নাই। তবে মনে মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল এমআরসিপি রিপোর্ট। পিত্তনালী ও কিডনির পাথর উদ্বেগে রাখার জন্য যথেষ্ট। রিপোর্টগুলো ডা. ইমরান ও ডা. ফাহিম ভাইকে পাঠালাম। ফাহিম ভাই বলছিলেন, অনেক সময় এমআরসিপি করানোর সময় পিত্তনালীতে পাথর থাকলে বের করে ফেলা যায়। সম্ভবত অন্য কোথাও পাথর আছে, যেখান থেকে বের করে আনা অসম্ভব বা ক্ষতিকর। অন্য নালীতে থাকলেও সেটা আর বাড়ার আশঙ্কা নেই। পিত্তথলি যেহেতু নাই, সেখানে পাথর থাকবে কী করে। আর যদি থেকে যায় এবং সেখানে পাথর থাকে তবে, জন্ডিস হবে, বমি হবে, জ্বর হবে। তেমন কোনো লক্ষণ না থাকলে সমস্যা নাই। আর কিডনি পাথরের জন্য বেশি করে পানি খাইতে বললেন।

৪ অক্টোবর ডা.আকবর আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। উনি সব রিপোর্ট দেখলেন। তারপর পাথরের বিষয়টা ব্যাখ্যা করলেন। সেই আগের ব্যাখ্যাটাই। একই কথা প্রেসক্রিপশন বিস্তারিত লিখে দিলেন। বললেন, ভবিষ্যতে যদি এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠে তাই লিখে রাখছেন। কিডনি প্রসঙ্গে বললেন, যেহেতু অনেকটা সময় ঝামেলার মধ্য দিয়ে গেছেন, আপাতত মাস খানেক বিশ্রাম নেন। এরপর ভালো একজন চিকিৎসকের রেফারেন্স দেবেন, আল হামরায় চিকিৎসা সম্ভব। সে দিন খালি পেটে গেছিলাম। উনি বললেন, একটা ইউএসজি করিয়ে নেন। কিডনির অবস্থা দেখে নিই। আমার ফোন নাম্বার রাখলেন। পরদিন ফোন করে জানাবেন রেজাল্ট কী এলো। উনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বের হয়ে এলাম।

রিসেপশনিস্ট জিগাসা করলেন, এখন কী অবস্থা। বললাম, ভালো আছি। এর আগে একদিন ভদ্রমহিলা বলেছিলেন, তারা আমাকে নিয়ে গর্ব করেন। দিনের পর দিন কত কষ্ট সহ্য করে গেছি। কোনো অভিযোগ ছাড়াই অপেক্ষা করছিলাম। আমার সাহসের তারিফ করলেন। যদিও আমি কখনো নিজের সাহসের তারিফ করি না। আমি ভালো করেই জানি কতটা দুর্বল হৃদয়ের মানুষ আমি। দিনের পর দিন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে গেছি শুধু। আর কী-ই বা করার আছে।

পরদিন ডা.আকবর আহমেদ ফোন করে বললেন, কিডনির পাথরটা খানিকটা বড়। তবে আপাতত ততটা টেনশন করার কিছু নাই। মাস খানেক পর যোগাযোগ করতে বললেন। কিন্তু যেহেতু দারাশিকো ভাইয়ের পাথর আটকে যাওয়া ও পরে অপসারণের বিষয়টি জানি; শারীরিক যন্ত্রণা ও খরচ সব মিলিয়ে সে দিকে যেতে চাইছিলাম না।

উনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে হোমিওপ্যাথির বিষয়টা জেনেছিলাম। শাহাদাৎ তৈয়ব ভাই ও রাশেদ এ পদ্ধতির প্রশংসা করেছিল। এ ছাড়া আমার বাবাও হোমিওপ্যাথির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আঁচিল থেকে নানা সমস্যা— ওনার ঔষধ খেয়ে ভালো ফল পেয়েছিলাম। সে সময় একদিন ফোন করলো চট্টগ্রামের বন্ধু দাউদুল ইসলাম। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বলল, ভাই কিডনি নিয়ে ঝামেলার মধ্যে যাইয়েন না। আপনি হোমিওপ্যাথি খান। আমাদের এক বন্ধু আছে যার হাত খুব ভালো। এক ধরনের নিমরাজির মতো করে হ্যাঁ বললাম। সেটা অক্টোবরের মাঝামাঝিই হবে। পরদিন দাউদ ফোন করে নিশো হাসানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিলো। আলাপ-পরিচয়ের দু-একদিন পর আমরা লম্বা সময় ধরে কথা বললাম। খুবই ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, শুধু শরীরের বিষয়াদিই নয়, আমার ফুড হ্যাবিট, জীবনযাপন তো আছে, সঙ্গে মেজাজ, কী পছন্দ করি, কী করি না। এমন একটা প্রশ্ন ছিল— আমি মানুষকে ক্ষমা করতে পারি কিনা। সব মিলিয়ে এটা ইতিবাচক অনুভূতি হচ্ছিল। এটা ঠিক যে, যতবারই কোনো সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছি, হয়তো লম্বা সময় ধরে ভুগতেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে যতই অযৌক্তিক বলুক বা আমার ভাবনাকে ভুল হিসেবে প্রতিপন্ন করুন, আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। যেকোনো ঘটনার একটা মানসিক প্রশান্তির দিক হয়তো এটা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কোনো সন্তুষ্ট আসে নাই। Continue reading

খান আতাউর রহমানের লিরিকস: পাখি রে তুই দূরে থাকলে

খান আতাউর রহমান (১৯২৮ – ১৯৯৭) ফিল্ম-ডিরেক্টর, মিউজিশিয়ান, এক্টর আর সিঙ্গারই ছিলেন না, অনেক সুন্দর এবং পপুলার গানের লিরিকসও লেখছেন। কিছু জায়গায় বলা আছে যে, উনি ৫০০’র মতো গান লেখছেন। কিন্তু এতো গানের হদিস আমরা পাই নাই। এক-দেড়শ গান থিকা কিছু গান আমরা বাছাই কইরা এইখানে ছাপাইতেছি। বেশিরভাগই সিনেমার গান, অল্প কিছু সিনেমার বাইরের গানও আছে। আমরা আশা করি, খান আতাউর রহমানের সবগুলা গানের লিরিকস নিয়া উনার আরো গানের বই ছাপা হবে।

গানের লিরিকসের ক্ষেত্রে কোন অথেনটিক সোর্স আমরা নিতে পারি নাই। ইউটিউবে আপলোড করা নানান সিনেমার, মিউজিকের ভিডিও দেইখা গানের লিরিকস লেখা হইছে। আবার কিছু জায়গায় যেহেতু লিরিসিস্ট হিসাবে অনেকের নামের সাথে খান আতাউর রহমানের নাম দেয়া আছে বা খান আতাউর রহমানের লিরিকস বইলা চালু আছে, সেইখানে কিছু কনফিউশন থাকতে পারে। কিন্তু আমরা ট্রাই করছি যতদূর পর্যন্ত পসিবল অথেনটিসিটির ব্যাপারে শিওর হওয়ার। লিরিকস বাছাই ও কপি করছেন রাবিয়া সাহিন হক, হুসাইন হানিফ ও ইমরুল হাসান। বইয়ের ৪৫-৪৭টা লিরিকসের মধ্যে থিকা এইখানে ১৩টা লিরিকস রাখা হইলো।

এই গানগুলার অনেকগুলা তো শুনছেনই অনেকেই, বা শুনবেনই; লিরিকসও পড়তে পারেন, এর সাথে। হ্যাপি রিডিং!

দুনিয়া বড় এলোমেলো

সিঙ্গার: খান আতাউর রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: কখনো আসেনি (১৯৬১)
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

 

দুনিয়া বড় এলোমেলো
লম্বা বেঁটে সাদা কালো
সবাই বলে আমি ভালো
তুমি ভালো আমি ভালো
মন্দ তবে কাকে বলো?

আসল কথা হলো
নিজের বেলায় অনেক আলো
রাত্রি হলে সবই কালো
তাই বলি, তাই বলি
সব কিছু ভাই ভুলে গিয়ে
একটু হাসো, একটু হাসো, একটু হাসো

দুনিয়ার এই এক আজব রীতি
নানান দেশে নানান নীতি
সবাই গাহে প্রণয়নীতি
আজকে যাকে ভালোবাসো
কালকে তাকে সর্বনাশো

আসল কথা হলো
নতুন নতুন সবই ভালো
পুরোন হলেই দেখতে কালো

তাই বলি, তাই বলি,
সবকিছু ভাই ভুলে গিয়ে
একটু হাসো, একটু হাসো, একটু হাসো

দুনিয়া ঘোরে কাটার চাকায়
সাহেব যায় গাড়ি হাঁকায়
সবাই তাকে সালাম জানায়
টাকাই যদি সবার বড়
ধর্ম কর্ম কেন করো?
আসল কথা হলো
কাজের বেলায় তুমি ভালো
কাজ ফুরোলেই তুমি কালো

তাই বলি, তাই বলি
সব কিছু ভাই ভুলে গিয়ে
একটু হাসো, একটু হাসো, একটু হাসো

 

এখন রাত্রি, কুয়াশার কোলে পৃথিবী ঘুমায়

সিঙ্গার: মাহবুবা রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: কখনো আসেনি (১৯৬১)
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

এখন রাত্রি, কুয়াশার কোলে পৃথিবী ঘুমায়
এই তো সময়, ভালোবাসবার
ভালোবাসি – সেই কথাটি বলার
এই তো সময়

দুজনে নিরবে রয়েছি একা
প্রণয়ে প্রথম হয়েছে দেখা
দুজনে প্রথম হলো পরিচয়
এই তো সময়

জোছনা ঝরানো আকাশের গায়
তারার দেয়ালে জ্বলে নিরালায়
দখিনা বাতাস ধীরে বয়ে যায়
এই তো সময়

জীবনে বেঁধেছে মিলনের সুর
পেখম মেলেছে মনের ময়ূর
এখন রাতের হয়েছে দুপুর
এই তো সময়

এই তো সময় ভালোবাসবার
ভালোবাসি – সেই কথাটি বলার
এই তো সময়
Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ২)

[মীর মোশারফ হোসেন (১৮৪৭ – ১৯১১) এর কাহিনি “বিষাদ-সিন্ধু” ১৮৮৫, ১৮৮৭ ও ১৮৯১ সালে তিনটা পার্টে ছাপা হয়, পরে ১৮৯১ সালে একসাথে ছাপা হয়। ১৯৩৯ সালে ছাপা-হওয়া একটা এডিশন ফলো করা কইরা একটা শর্ট-ভার্সন এইখানে হাজির করতেছি আমরা।]

এক

মহরম পর্ব

প্রথম প্রবাহ: এজিদের বাসনা

“তুমি আমার একমাত্র পুত্র। এই অতুল বিভব, সুবিস্তৃত রাজ্য এবং অসংখ্য সৈন্যসামন্ত সকলই তোমার। দামেস্ক-রাজমুকুট অচিরে তোমারই শিরে শোভা পাইবে। বল তো তোমার কিসের অভাব? কী মনস্তাপ?… তুমি সর্বদাই মলিন ভাবে বিষাদিত চিত্তে বিকৃতমনার ন্যায় অযথা চিন্তায় অযথাস্থানে ভ্রমণ করিয়া দিন দিন ক্ষীণ ও মলিন হইতেছ। আমি পিতা হইয়া মনের বেদনায় আজ তোমার হস্তধারণ করিয়া বলিতেছি সকল কথা মন খুলিয়া আমার নিকট কি জন্য প্রকাশ কর না?” মাবিয়া নির্জনে নির্বেদসহকারে এজিদ্‌কে জিজ্ঞাসা করিলেন।

এজিদ্ দীর্ঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগপূর্বক বলিতে অগ্রসর হইয়াও কোন কথা বলিতে পারিলেন না; কণ্ঠরোধ হইয়া জিহ্বায় জড়তা আসিল। যদিও বহু কষ্টে ‘জয়’ শব্দটি উচ্চারণ করিলেন, কিন্তু সে শব্দ মাবিয়ার কর্ণগোচর হইল না। এজিদ্ করজোড়ে বলিতে লাগিলেন, “পিতঃ! আমার দুঃখ অনন্ত। এ দুঃখের সীমা নাই, উপশমের উপায় নাই। আর অধিক বলিতে পারিতেছি না, ক্ষমা করিবেন।”

এই কথা শেষ হইতে-না-হইতেই বৃদ্ধা মহিষী একগাছি সূবর্ণ-যষ্টি-আশ্রয়ে ঐ নির্জন গৃহমধ্যে আসিয়া এক পার্শ্বে দণ্ডায়মান হইলেন। এজিদ্ শশব্যস্তে উঠিয়া জননীর পদচুম্বন করিয়া পিতার পদধূলি গ্রহণান্তর সে স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন।

দামেস্কাধিপতি মহিষীকে অভ্যর্থনা করিয়া অতি যত্নে মস‌নদের পার্শ্বে বসাইয়া বলিতে লাগিলেন, “মহিষী! তোমার কথাক্রমে আজ বহু যত্ন করিয়াও কৃতকার্য হইতে পারিলাম না; মনের কথা কিছুতেই ভাঙ্গিল না। পরিশেষে আপনিও কাঁদিল, আমাকেও কাঁদাইল।”

রাজমহিষী অতি কষ্টে মস্তক উত্তোলন করিয়া কম্পিতকণ্ঠে বলিতে লাগিলেন, “মহারাজ! আমি অনেক সন্ধানে জানিয়াছি, আর এজিদ্ও আপনার নিকটে আভাসে বলিয়াছে। আবদুল জাব্বারকে বোধ হয় আপনি জানেন? সেই আবদুল জব্বারের স্ত্রী’র নাম জয়না। সেই জয়নাবকে দেখিয়াই এজিদ্ পাগল হইয়াছে। আমার নিকট কাঁদিয়া কাঁদিয়া বলিতে লাগিল, মা, যদি আমি জয়নাবকে না পাই, তবে আর আমাকে দেখিতে পাইবেন না।”

একটু সরোষে মাবিয়া কহিলেন, “মহিষী! তুমি আমাকে কী করিতে বল? তুমি আর ও-কথা বলিয়া আমার কর্ণকে কলুষিত করিয়ো না। আপনার জিহ্বাকে ও পাপকথায় অপবিত্র করিয়ো না। ভাবিয়া দেখ দেখি, ধর্ম-পুস্তকের উপদেশ কি? পরস্ত্রীর প্রতি কুভাবে যে একবার দৃষ্টি করিবে, কোন প্রকার কুভাবের কথা মনোমধ্যে যে একবার উদিত করিবে, তাহারও প্রধান নরক ‘জাহান্নামে’ বাস হইবে। ইহা কী একবারও এজিদের মনে হয় না? প্রজার ধন, প্রাণ, মান, জাতি, এ সমুদয়ের রক্ষাকর্তা রাজা। রাজার কর্তব্যকর্মই তাহা। এই কর্তব্যে অবহেলা করিলে রাজাকে ঈশ্বরের নিকট দায়ী হইতে হয়।  ঈশ্বরের বাক্য-লঙ্ঘন করিয়া মাবিয়া কি মহাপাপী হইবে? তুমি কি তাহা মনে কর মহিষী? আমার প্রাণ থাকিতে তাহা হইবে না, মাবিয়া জগতে থাকিতে তাহা ঘটিবে না-কখনোই না।”

বৃদ্ধা মহিষী একটু অগ্রসর হইয়া মহারাজের হস্ত দৃঢ়রূপে ধারণ করিয়া কাতরভাবে বলিতে লাগিলেন, “দেখুন মহারাজ! এজিদ্ যে ফাঁদে পড়িয়াছে, সে ফাঁদে জগতের অনেক ভাল ভাল লোক বাঁধা পড়িয়াছেন। শত শত মুনি-ঋষি, ঈশ্বরভক্ত, কত শত মহাতেজস্বী জিতেন্দ্রিয় মহাশক্তিবিশিষ্ট মহাপুরুষ এই ফাঁদে পড়িয়া তত্ত্বজ্ঞান হারাইয়াছেন, তাহার সংখ্যা নাই। আসক্তি, প্রেম ও ভালবাসার কথা ধর্মপুস্তকেও রহিয়াছে। ইহাতে এজিদের দোষ কি বলুন দেখি? এই নৈসর্গিক কার্য নিবারণ করিতে এজিদের কি ক্ষমতা আছে? না আমার ক্ষমতা আছে? না আপনারই ক্ষমতা আছে? যাহাই বলুন মহারাজ! ভালবাসার ক্ষমতা অসীম!”

মাবিয়া বলিলেন, “আমাকে তুমি কি করিতে বল?”

মহিষী বলিলেন, “আর কি করিতে বলিব। যাহাতে ধর্ম রক্ষা পায়, লোকের নিকটেও নিন্দনীয় না হইতে হয় অথচ এজিদের প্রাণরক্ষা পায়, এমন কোন উপায় অবলম্বন করাই উচিত।

আপনাকে কিছুই করিতে হইবে না, কিছু বলিতেও হইবে না, কিন্তু কোন কার্যে বাধা দিতেও পারিবেন না। মারওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করিয়াই আমি সকল কার্য করিব। ধর্মবিরুদ্ধ, ধর্মের অবমাননা কী ধর্মোপদেষ্টার আজ্ঞা লঙ্ঘনের অণুমাত্র সম্ভাবনা দেখিতে পান, বাধা দিবেন, আমরা ক্ষান্ত হইব।” Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →