Main menu

এডিটোরিয়াল: বাংলাদেশের পেছিডেন বনাম বিটিশ মনার্ক

বিটিশ মনার্কি লইয়া খুবই আলাদা একটা কারনে ভাবা দরকার আমাদের। শেইটা হইলো, পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেছি। এই ব্যাপারে বেশুমার পড়া দরকার, তবু পেরাইমারি কিছু ভাবনা জানাই, এফোর্ড করতে পারেন, জদি ভাবনা আর লেখার কোন ফুশলানি পান, শেই আশায় খুবই ভাশা ভাশা কয়টা কথা কইতেছি!

ফর্মার বিটিশ কলোনিগুলায় পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেছি চলতেছে মোটামুটি, কিন্তু আমেরিকা বিটিশ কলোনি থাকলেও ঐখানে পেছিডেন্সিয়াল ডেমোক্রেছি কেন?

কারন, বিটিশদের জুদ্ধ কইরা খেদাইছে আমেরিকা। ইনডিয়া বা পাকিস্তান জুদ্ধ কইরা খেদায় নাই, এগুলায় আমরা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেছি পাইতেছি। অথচ আমেরিকার ভাশাও ইংরাজি, তবু তারা পার্লামেন্টারি ছিস্টেম লয় নাই!
ইনডিয়া-পাকিস্তানে মনার্ক নাই, কিন্তু আশলে মনার্ক থাকবে, শেইটা ধইরাই পার্লামেন্টারি ছিস্টেম পয়দা হইছে এবং মনার্ক না থাকায় এইগুলা ইনহেরেন্টলি খোড়া পার্লামেন্টারি ছিস্টেম!

ইনডিয়া বা বাংলাদেশ মনার্কের জাগাটা ফিলাপ করতে একজন বেহুদা পেছিডেন বানাইছে! ফর্মালি বিরিটেনের রানি/রাজার তেমন কোন খমতা নাই, কিন্তু খমতা জে আশলে কতটা, ঐটা ইনডিয়া বা বাংলাদেশের এখনকার পেছিডেনের খমতার লগে একটা তুলনা কইরা বুঝতে পারবেন।

কমনওয়েলথের শবগুলা রাশ্ট্রো লইয়াই একটা কম্পারেটিভ আলাপ দরকার, ঐ টাইম দিতে পারতেছি না আমি, শেই কারনেই আপনাদের দাওয়াত দিতেছি।

বিটিশ মনার্কের লগে বিটিস নাগরিকদের একটা রিশতা আছে, বহু অকেশনে তাগো লেনাদেনা হয়; তাগো হাতে কোন ফর্মাল পাওয়ার না থাকায় বিটিশ মনার্কের লগে নাগরিকদের তেমন কোন টেনশন হবারো কারন থাকে না। কিন্তু নাগরিকদের লগে ঐ রিশতার কারনে গভমেন্টের লগে মনার্কের একটা পাওয়ার ডিনামিক্স পয়দা হয়, জেইটা কখনো মেনিফেস্টেড হয় না, কিন্তু আছে, কখনো তেমন দরকার হইলে বিটিশ মনার্ক জদি জনতারে ডাকে, জনতা শাড়া দেবে; আবার বিটিশ মনার্কের লগে বেয়াদবি করলে ইলেকশনে হারবে চলতি গভমেন্ট; উল্টাদিকে, মনার্ক কোথাও বেহুদা নাক গলাইলে জনতার লগে তার আদবের রিশতাটা থাকবে না। Continue reading

আমরা হইতেছি ইউরোপিয়ান – উমবের্তো একো

[২০১২ সালে হল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ নাইমেগেনে (Nijmegen) উমবের্তো একো এই ভাষণ’টা দিছিলেন।]

১৬৭৮ আর ১৬৭৯ সালে, ইউরোপের দেশগুলা আর শহর-রাষ্ট্রের কয়েক ডজন ডেলিগেটদের নিয়া নাইমেগেন (Nijmegen) একটা সভার আয়োজন করছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল একটা সিরিজ অফ ওয়ারস যে আমাদের কন্টিনেন্টরে ছারখার কইরা ফেলছিল, সেইটা শেষ করা। তখন যেই সব যুদ্ধ চলতেছিল ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, স্পেন, ব্রান্ডেনবার্গ, সুইডেন, ডেনমার্ক, প্রিন্স-বিশপিক অফ মুনস্টার আর হলি রোমান এম্পায়ারার মধ্যে, সেইগুলা বন্ধ করার লাইগা অনেকগুলা ইন্টার-রিলেটেড চুক্তি হইছিল। যদিও এই চুক্তিগুলা পরে আর মানা হয় নাই, কিন্তু এইটা ছিল (ত্রিশ বছরের যুদ্ধের টেররের পরে) ডায়লগ আর নেগোশিয়েশনের ভিতর দিয়া শান্তি নিয়া আসার একটা ফার্স্ট চেষ্টা। এই কারণে এইটারে ইউরোপিয়ান সহযোগিতার ফার্স্ট উদাহারণ হিসাবে এইটারে দেখা যাইতে পারে আর বলা যাইতে পারে ইউরোপিয়ান হিস্ট্রিতে মূল একটা ঘটনা।

এই চুক্তিগুলা করার আর ১৯৪৫ সালের মধ্যে একশ পঞ্চাশ বছর পার হয়া গেছে, কিন্তু আমরা বলতে পারি নাইমেগেনে যেই ইউটোপিয়ার জন্ম হইছিল সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পরে সেইটা সত্যি হইতে পারছিল।

আমার জেনারেশনের লোকজনের কাছে সবসময় খুশির একটা ঘটনা (যেইখানে আমাদের ছেলে-মেয়ে আর নাতি-নাতনিদের খুবই স্বাভাবিক ঘটনা) যে আজকে, এইটা অসম্ভব (এমনকি, হাস্যকরও) ফ্রান্স আর জার্মানি, ইতালি আর গ্রেট ব্রিটেন, স্পেন আর নিচের দিকের দেশগুলার মধ্যে কোন সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা ভাবা। ইয়াং লোকজন – যদি তারা হিস্ট্রির স্টুডেন্ট না হয় – এইটা নিতেই পারবে না যে গত দুই হাজার বছর ধইরা এইরকম ঝগড়া-ঝাটিগুলাই ছিল নিয়ম। এমনকি অনেক সময় বয়স্ক লোকজনও এইটা নিয়া সচেতন না, খালি পাসপোর্ট ছাড়া ইউরোপিয়ান সীমানাগুলা ক্রস করার সময় আর টাকা যে চেইঞ্জ করতে হয় না, তখন এইটা ফিল করার কথা। কিন্তু এইটা মনে করার যোগ্য যে, আমাদের অনেক দিন আগের পূর্বপুরুষ না খালি না, আমাদের বাপেরাও যখন এই একই সীমানাগুলা পার হইতেন, হাতে বন্দুক নিয়া পার হইতেন।

১৯৪৫ সালের পর থিকা, অনেকটা এইটা খেয়াল না কইরাই, ইউরোপিয়ানরা ফিল করতে লাগলো যে, অরা খালি একই এলাকাতেই থাকে না, বরং অনেকগুলা অস্বীকার না করতে পারা ভাষার আর কালচারাল ডিফরেন্সের পরেও, একই কমিউনিটিতেই থাকে। আমি কোন নাইভ আইডিয়ালিস্ট না আর আমি ভালো কইরাই জানি যে, যদিও ইউরোপিয়ানরা একজন আরেকজনরে গুলি করতেছে না, তারপরেও এইখানে এমন অনেক ফর্মগুলাই আছে যেই বিবাদগুলা কম ভায়োলেন্ট না যা আমাদের দেশগুলারে আলাদা কইরা ফেলে – যেমন, এখনকার ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসটা, একটা ব্রাদারহুডের নতুন সেন্স তৈরি করতেছে না, যতোটা একটা মিচুয়াল অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতেছে। একটা ইউরোপিয়ান আইডেন্টিটির সেন্সটা নানান জাতির নাগরিকদের কাছে একইরকম না বা অবভিয়াসও না, কিন্তু এটলিস্ট একটু রেসপন্সিবল নাগরিক যারা, আর স্পেশালি একটু কালচারাড ইয়াং লোকজনেদের কাছে (যেমন ধরেন, Erasmus প্রোগ্রামে যেইসব স্টুডেন্টরা, যারা অন্য দেশের স্টুডেন্টদের লগে একসাথে থাকে আর যারা মাঝে-মধ্যে বিয়াও করে একজন আরেকজনরে, এইভাবে একটা নতুন বাই-লিঙ্গুয়াল জেনারেশন তৈরি করতেছে) ইউরোপিয়ান হওয়ার আইডিয়াটা আরো বেশি ব্যাপকভাবে আছে। Continue reading

অগ্নিবীণা – কাজী নজরুল ইসলাম

[কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার বই অগ্নিবীণা’র (১৯২২) বারোটা কবিতার তিনটা কবিতা এইখানে রাখা হইলো।]

প্রলয়োল্লাস

তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
ঐ নূতনের কেতন ওরে কাল- বোশেখীর ঝড়।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য পাগল
সিন্ধুপারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল।
মৃত্যু-গহন অন্ধ-কুপে
মহাকালের চন্ড-রূপে-
ধ্রুম-ধুপে
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর-
ওরে ঐ হাসছে ভয়ংকর।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঝামর তাহার কেশের দোলার ঝাপটা মেরে গগণ দোলায়
সর্ব্বনাশী জ্বালা-মুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়!
বিশ্বপাতার বক্ষ-কোলে
রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে
দোদুল দোলে!
অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর-
ওর ঐ স্তব্ধ চরাচর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন- কটায়,
দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঞ্জল তার ত্রস্ত জটায়।
বিন্দু তাহার নয়ন জলে
সপ্ত মহাসিন্ধু দলে কপোল-তলে
বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর’ পর-
হাঁকে ঐ “জয় প্রলয়ংকর!”
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

মাভৈঃ, মাভৈঃ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে।
জরায় মরা মুমুর্ষদের প্রান-লুকানো ঐ বিনাশে।
এবার মহা নিশার শেষে
আসবে উষা অরুণ হেসে করুণ বেশে
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু চাঁদের কর,
আলো তার ভরবে এবার ঘর!
তোরা সব জয়ধ্বনী কর!
তোরা সব জয়ধ্বনী কর!!

ঐ সে মহাকাল-সারথি রক্ত-তড়িত-চাবুক হানে,
রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন বজ্র-গানে ঝড়-তুফানে!
খুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায় নীল খিলানে!
গগন-তলের নীল খিলানে।
অন্ধ করার বন্ধ কূপে
দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে
পাষাণ স্তূপে!
এই তো রে তার আসার সময় ঐ রথ-ঘর্ঘর–
শোনা যায় ঐ রথ-ঘর্ঘর।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? –প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন– জীবন-হারা অ-সুন্দরে কর্‌তে ছেদন!
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় বয়েও আস্‌ছে হেসে–
মধুর হেসে!
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

ঐ ভাঙা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!–
বধূরা প্রদীপ তুলে ধর্‌!
কাল ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর!–
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর্!!

Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) পার্ট ২

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

পার্ট ১

[এই লিস্টিংয়ের ইন্ট্রো’টা পার্ট ১-এ ক্লিক করলে পাইবেন। ]

বাংলা সিনেমার গান নিয়ে কাজ করব এমন চিন্তা ছিল না আসলে। এসব গান তো শোনা হয়ই। কিন্তু অতটা সচেতনভাবে না আর কি। মানে, গানে কে কে অভিনয় করছে, কোন্ সিনেমার গান, বেশি হলে শিল্পীর নাম পর্যন্ত জানাজানি। গানের সুর ধরে হয়ত গানের প্রথম কলিটা মনে করি, গুনগুনাই। গানের কলি খেলতে গিয়েই এই গান এখনো চর্চায় আছে বলা চলে। গানের কলি হয়ত অনেকেই খেলে থাকবেন। আশেপাশে যেই গান আমরা শুনি সেখান থেকেই তো কলি টানা হয়। তো, বাংলা সিনেমা ছাড়া তো শৈশবে আর কোন সিনেমা দেখার ফুরসত হয় নাই আমাদের। রেডিওতেও বাজতো এসব গান। এখন যত গানই শুনি, ছোটবেলারগুলাই বারবার মনে আসে।

তো, তথ্যগুলা ইউটিউব ঘেঁটেই বের করছি মূলত। সেকারণে পুরা ব্যাপারটারে আমার গানের কলি খেলাই মনে হইছে। ফলে কিছু বলতে এসে একটা গান মাথায় আসলো, “মানুরে ও সুন্দর মানু, কী ছবি বানাইবা তুই আই ন বুঝি” ।😌

তাও লিস্ট বানাইতে গিয়ে মনে হইল বাংলা এমন অনেক গান আছে যেগুলা আগে শুনি নাই। যেমনঃ “নদের চাঁদ” সিনেমার একটা গান আছে এমন “ও পরানের খইলসা, দিনদুপুরে নদীর মাঝে ক্যামনে উজাইলা”। গানে সুচরিতা নৌকা বাইতেছে আর ফারুক জাল নিয়ে মাছ ধরতে আসছে। আর একে অপররে উত্তর করতেছে গানে গানে। নদীরে ঘিরে এই দৃশ্য যেমন একটা বাংলাদেশী ব্যাপার, এই গানগুলাও।

অনেক সিনেমাই ইউটিউবে নাই, ফলে অনেক গানেরও হদিস হয়ত মিলে নাই। আর কিছু গান আছে তথ্যগুলা এতটাই ছড়ানো ছিটানো, শিল্পীর নাম থাকলেও অনেকক্ষেত্রে গীতিকার আর সুরকারের নাম পাওয়া যায় নাই।

দেখতে দেখতে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম, বেশকিছু গান গাইতেছে নায়িকাই, নায়ক মূলত মুগ্ধ শ্রোতা। যেমনঃ “ও আমার রসিয়া বন্ধুরে তুমি কেন কোমরের বিছা হইলা না”… আবার হয়ত এমন অবস্থা, নায়ক উপস্থিত নাই, নায়িকা ওই সময়টারে গান দিয়ে বানতেছেন, “একা একা কেন ভালো লাগে না”, “বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত গেলাম”, এমন অনেক গান শুনে মনে হইলো গান ব্যাপারটাই যেন একটা মেয়েলী ব্যাপার, মেয়েরাই গান গাবে, যেইটা মুখে বলে বুঝাইতে পারে না গান গাইয়া বুঝাবে; অথচ গীতিকার হিসাবে এমনকি সুরকার হিসাবেও দেখলাম সবাই পুরুষ।…

রাবিয়া সাহিন হক
জানুয়ারি, ২০২২

১৯৬৬

১০১.
গানের নাম: ও বেউলা সুন্দরী
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতউল্লাহ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০২.
গানের নাম: নাচে মন ধিনা ধিনা
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতউল্লাহ, মাহমুদুন্নবী
লিরিকস: জহির রায়হান
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৩.
গানের নাম: হায় রে পিতলের কলসী তোরে লইয়া যামু যমুনায়
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতউল্লাহ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৪.
গানের নাম: মরি হায় রে হায়, দুঃখে পরান যায়
সিঙ্গার: আবদুল লতিফ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৫.
গানের নাম: প্রভু না না না
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতউল্লাহ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৬.
গানের নাম: কি সাপে দংশিলো লখাই রে
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতউল্লাহ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৭.
গানের নামঃ দ্বার খোলো দ্বার খোলো কমলি
সিঙ্গার: আবদুল লতিফ, শাহনাজ রহমতুল্লাহ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৮.
গানের নামঃ এই ভবসংসারে, জনম জনম ধরে
সিঙ্গার: আবদুল লতিফ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১০৯.
গানের নামঃ বাসর বান্ধিলাম, বান্ধিলাম লোহার বাসর ঘর
সিঙ্গার: আবদুল লতিফ, সহশিল্পীগণ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান

১১০.
গানের নামঃ সোনার লক্খিন টোপর পইরাছে, বেহুলা সতী হলুদ মাইখাছে
সিঙ্গার: আবদুল লতিফ ও সহশিল্পীগণ
লিরিকস:
মিউজিক: আলতাফ মাহমুদ
সিনেমার নাম: বেহুলা
ডিরেক্টর: জহির রায়হান
Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ৩)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

কিস্তি এক ।। কিস্তি দুই ।।

(ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই।)

পর্ব ৫: ঘুম ভেঙে দেখি শরীরজুড়ে রক্ত

যখন এ অংশটা লেখা শুরু করলাম সে দিনের (১৭ মে ২০২১) আলোচিত ঘটনা হলো প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে নথি চুরির অভিযোগ এনে শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রোজিনা কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে নড়েচড়ে বসার মতোই রিপোর্ট করেছিলেন। এর সঙ্গে বিষয়টিকে সম্পর্কিত করে দেখছেন সবাই।

২০২০ সালের মার্চের মাঝামাঝি। সার্জারির যখন কোনো ধরনের ওষুধ নিতে হচ্ছে না আর। কিন্তু আমার খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক হয় নাই। বাসে করে আসা যাওয়া করছি অফিসে। তখন দিনে দেশে করোনা ধরা পড়ছে। এর মধ্যে বাস থেকে নামার জন্য দরজার কাছে দাঁড়িয়েছি। সামনে একটা গাড়ি স্লো করায় বা কোনো কারণে বাস হঠাৎ ব্রেক করায় হ্যান্ডেল ধরা হাতে ভীষণ টান লাগল। সেটা গিয়ে টান পারল বুকের কাছাকাছি কোথাও। ভয়ে পেয়ে গেলাম। হালকা একটা ব্যথা কয়েকদিন ছিল।

এর কদিনের মধ্যে করোনাভাইরাস একটা বিভীষিকা হয়ে হাজির। সব জায়গায় আতঙ্ক আর আতঙ্ক। মার্চের মাঝামাঝিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে গেল। দেশজুড়ে লকডাউনের কথা শোনা যাচ্ছে। লকডাউন শব্দটা তখন প্রথম শোনা আমাদের। যেহেতু আমরা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন, আমাদের অফিসে না এসেও কাজ করা যায়। তাই এ নিয়ে অল্প বিস্তর আলোচনা হচ্ছিল। একদিন আমাদের ডেপুটি এডিটর মাহবুব মোর্শেদ ভাই বললেন, যেহেতু আপনি অসুস্থ, আপনাকে দিয়েই হোম অফিস শুরু হোক। লকডাউন শুরু হলে ২৪ মার্চ থেকে আমি হোম অফিস শুরু করলাম। তখন নতুন উপদ্রুব শুরু হলো। সন্ধ্যার দিকে জ্বর আসতে থাকে। একদিন সেলাই মিলিয়ে যাওয়া জায়গাটা কেমন যেন ফোলা ফোলা ও ভেতরটা স্বচ্ছ মনে হচ্ছিল। বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠলাম।

২৭ মার্চ শুক্রবার। সকাল ৬টার দিকে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলে চমকে গেলাম। চারদিকে রক্ত। চোখ বন্ধ করে ফেললাম। মনে হচ্ছিল, ভুল দেখেছি। এমন কিছু তো হওয়ার কথা না। কোথাও ব্যথা নাই, কিচ্ছু নাই। চোখ খুলে দেখবো এমন কিচ্ছু ঘটে নাই। আসলেই, চোখ খুলতে প্রথমে কিছু চোখে পড়ল না। তারপর ভয়ে ভয়ে গেঞ্জির বুকের কাছ থেকে নিচের দিকে চোখ নামালাম। পুরো গেঞ্জি রক্তে ভরা। তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম। গেঞ্জি খুলে দেখি সেলাইয়ের এক পাশে খুলে গেছে। বসার কারণে চাপ লাগতেই গলগল করে রক্ত আর পুজ বেরোতে শুরু করলো। গেঞ্জি চেপে আপার রুমের দিকে গেলাম। দেখি দুলাভাই নাই, মনিং ওয়াকে গেছেন। এ দিকে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছেও রক্ত-পুজ শেষ হচ্ছে না। এমন আতঙ্কিত অবস্থায় একবার সোফায় বসি, একবার হাঁটতে থাকি। কখনো মনে হয় এ বুঝি রক্ত পড়া বন্ধ হলো, এরপর দেখি আরেক দিক থেকে গলগল করে পড়ছে।

সাতটার দিকে দুলাভাই আসলেন। ওনাকে জানাতে বললেন, হাসপাতালে ফোন দিতে। আরও কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে ফোন দিলাম। তারা বলল, ডা. আকবর আহমেদ শুক্রবার রোগী দেখেন না। বললাম, খুব জরুরি। আমার সেলাইয়ের মুখ খুলে গিয়ে অনবরত রক্ত পড়ছে। তারা কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার দিল। ওই নাম্বারে ফোন করার পর ডাক্তারের নাম্বার দিল। ফোন দিতেই আকবর আহমেদ ধরলেন। বললেন, দশটার দিকে হাসপাতালে আসবেন। এক ঘণ্টা থাকবেন। এর মধ্যে যেন আসি।

এখন সমস্যা হলো গাড়ি। কড়াকাড়ি লকডাউন চলছে। আমার বাসা থেকে মেইন রোড গিয়ে বাস, সিএনজি বা উবার এসেও উঠতে হয়। কিন্তু ওখানে গিয়েও লাভ হবে না যতটুকু জানি, সড়কে কোনো গাড়ি চলছে না। দুলাভাই এদিক-ওদিক ফোন দিয়ে একটা লক্কর-ঝক্কর মার্কা কার জোগাড় করলেন। রংচটা, ভেতরে মশার আস্তানা। আসা-যাওয়া মিলিয়ে তিন হাজার টাকা দিতে হবে, ফেরার পর বকশিস দিতে হলো দুইশ টাকা! উবারে আসা-যাওয়া করলে অর্ধেক খরচ। বাংলাদেশে যা হয় আরকি! আপনার বিপদে সুযোগ নিতে চায় সবাই। এমনকি অনেক কাছের মানুষও। আপনাকে আরও রক্তাক্ত করবে, এটা হয়তো সব দেশেই হয়!

বাসায় তুলা শেষ হয়ে গেছে, দরকারের সময় যেমন জিনিসপত্র আপনি পাবেন না, অন্য সময় হুদায় গড়াগড়ি খাবে। তাই টিস্যু ভাঁজ করে ক্ষতের ওপর ধরে আছি। ওই জায়গাটার কথা ভাবলেই গা শিরশির করে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, একটু পর দেখতে পাবো এটা সত্যি নয়। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →