Main menu

এলভিস প্রেসলি

এলভিস প্রেসলির বায়োগ্রাফি নিয়া “Elvis” নামে একটা মুভি রিলিজ হইছে জুনে। মূলত এইটা একটা বায়োগ্রাফিক্যাল মিউজিক্যাল ড্রামা মুভি। এইটা পরিচালনা করছেন বাজ লুয়ারম্যান (Baz Luhrmann) । এইখানে এলভিস প্রেসলি ক্যারেক্টারে ছিলেন অস্টিন বাটলার( Austin Butler), কর্নেল টিম পার্কার ক্যারেক্টারে ছিলেন টম হ্যাংকস( Tom Hanks)। এই মুভিটা দেইখাই তারে নিয়া কিছু লেখার ইচ্ছা হইলো। মুভি থাইকা যা জানলাম এর বাইরেও আরো কিছু ঘাটাঘাটি কইরা লিখলাম এইটা।

এলভিস অ্যারন প্রেসলি যারে আমরা এলভিস প্রেসলি নামেই জানি। যিনি একই সাথে একজন আমেরিকান গায়ক ও অভিনেতা। তবে আমার মনে হয় গায়ক হিশাবেই তারে বেশি জানে লোকজন। দুনিয়ার বেস্ট সেলিং সলো আর্টিস্টের তালিকায় তিনি অন্যতম। এক বিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বেচা হইছে তার। তেত্রিশটার মতো মুভিতেও এক্টিং করছেন উনি।

” Elvis “ মুভিটার শুরুতেই দেখা যায় টম পার্কাররে। আসলে পুরা মুভিটার কাহিনী উনিই বলতেছিলেন। তো টম শুরুতে বলতেছিলেন যে মানুশ বলে যে এলভিসের মৃত্যুর জন্য টম দায়ী বাট আসলে উনি এর জন্য দায়ী নাহ। আসলে যেই এলভিসরে মানুশজন দেখছে অই এলভিসরে উনিই তৈরি করছেন। এইরকম কথাবার্তা দিয়া শুরু।

এলভিসের বাপ কুনু একটা কারণে জেলে যাওয়ার ফলে তেরো বছর বয়সে টেনেসির মেমফিস শহরে চইলা আসতে হয় তাদের ফ্যামিলিকে। মুভিতে এলভিসের স্টোরি এইখান থাইকাই শুরু। যে জায়গায় উনি বাইড়া উঠেন অইটা ছিলো ব্ল্যাকদের গরীব একটা নেইভারহুড। যেইখানে সবাই ব্ল্যাক ছিলো বলা যায়। ছোটবেলায় এলভিস অনেক কমিকস এইসব পড়তেন। আর নিজেরে সুপারহিরো ভাবতে পছন্দ করতেন। ভাবতেন যে সুপারহিরোর মতো গিয়া একদিন বাপরে উদ্ধার কইরা নিয়া আসবেন। আরেকটা জিনিশ হইলো এলভিসের যখন জন্ম হয় তখন তার আরেকটা জমজ ভাই হইছিলো যে অই সময় মারা যায়। তো তার মা বলতেন যে সে দুইটা পুরুষের ক্ষমতা নিয়া জন্মাইছে, কথাটা অনেকটা এইরকমই ছিলো।

তো ব্ল্যাক নেইভারহুডে থাইকাই ব্ল্যাকদের গান টান শুইনাই গানের প্রতি তার যে এট্রাকশন অইটা আরো বাড়ে। কাউন্টি মিউজিক আর পপ মিউজিকের প্রতি তার এট্রাকশন বাড়তে থাকে। এর বাইরেও রাইমস আর ব্লুজ জানরার গান গুলাও শিখতে শুরু কইরা দেন। ব্ল্যাক কমিউনিটিতে বাইড়া উঠার জন্য এলভিসের কথা বলায় মানে স্টাইলটা ব্ল্যাকদের মতো ছিলো। যেইটা মুভিতে খেয়াল করলেই বুঝা যায়। দারিদ্রতা এলভিসের পরিবারের নিত্যসঙ্গী ছিলো। ইয়ং বয়সে সে নাকি ট্রাকও চালাইছিলো কিছুদিন। কোম্পানিটার নাম ছিলো ক্রাউন ইলেকট্রিক, যেইখানে তার বাপও কাজ করতেন। এই জিনিশটা অবশ্য মুভিটায় ছিলো নাহ।

একটা সময় টম পার্কার এলভিসের দেখা পান আর বুঝতে পারেন যে এলভিস আসলে সুযোগ পাইলে অনেক বড় হইতে পারবেন। টম তখন কার্নিভাল ওয়ার্কার ছিলেন। তো এলভিসরে বলেন যে তারা দুইজনে মিইলা বড় কিছু করতে পারেন। এই জায়গায় এলভিস বলেন যে তার আসলে মনে হয় যে তিনি বড় কিছু হইতে পারবেন জীবনে। তো এই যে তার ড্রিম এইগুলা নিয়া একসময় তিনি আসলে পাবলিকলি বলছেনও। তিনি যা যা ড্রিম দেখছিলেন সবই ফুলফিল হইছে এইরকম বলছিলেন উনি। Continue reading

উইনস্টন চার্চিলের লেকচার: হাল ছাইড়ো না, নেভার, নেভার, নেভার (১৯৪১)

উইন্সটন চার্চিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন— দুই মেয়াদে, একবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে (১৯৪০-১৯৪৫), দ্বিতীয়বার শীতল যুদ্ধের সময়ে (১৯৫১-১৯৫৫)। চার্চিলের পলিটিকাল ক্যারিয়ার খুবই মিক্সড ন্যাচারের ছিল, একবার তিনি কনজারভেটিভে ছিলেন, আরেকবার তিনি লেবার পার্টিতে ছিলেন, পরে আবার কনজারভেটিভে ফেরত আসেন। একবার চ্যান্সেলরের হয়ে এক্সচেকারের ভূমিকা পালন করছেন, ফার্স্ট লর্ড অফ এডমিরালটি হিসাবে কাজ করছেন, আবার তার ‘ওয়াইল্ডারনেস পিরিয়ডে’ গভর্নমেন্টের অপজিশনে হাউজে বসতেন। চার্চিলের পলিটিকাল এক্সেপ্টেন্স সাধারণত বিচার করা হয় তার ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মনোভাব জাগায়ে তুলার ক্ষেত্রে (পজিটিভলি) এবং তার ইম্পেরিয়ালিস্ট মনোভাব বিশেষত তিনি ভারতবর্ষের সাম্রাজ্য কোনভাবেই ব্রিটেনের হাতছাড়া হওয়ার পক্ষে ছিলেন না (নেগেটিভলি)।

এই ধরণের বিচার-আচার হাস্যকর।

চার্চিলের পলিটিকাল ক্যারিয়ার বিবেচনা করার শুরুর মেইন পয়েন্ট হইতেছে চার্চিল একজন মনেপ্রাণে ব্রিটিশ ছিলেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরুই হইছে ব্রিটেনের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের মধ্যে থেইকা, অতএব তিনি কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে থেইকা চাইবেনই যেকোন মূল্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য টিকা থাকুক।

এই কনটেক্সটটা জরুরি যদি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তির পলিটিকাল স্পিচ আমরা রিড করতে যাই। পলিটিকাল স্পিচ আমার কাছে দুইধরণের হইতে পারে: ক্লিশে পলিটিকাল স্পিচ (যেইটা মূলত গভর্নমেন্টের অফিশিয়াল স্ক্রিপ্ট, ব্যক্তির পার্সোনাল অপিনিয়ন এইখানে উহ্য থাকে), পার্সোনাল-পলিটিকাল স্পিচ (ব্যক্তির পার্সোনাল ফিলিংস, প্যাশন যেইসকল স্পিচে গভীরভাবে কাজ করে)। খুব নিয়ন্ত্রিত এনভায়রনমেন্ট, একক নেতৃত্বের দেশে সাধারণত ক্লিশে পলিটিকাল স্পিচ চলে বেশি এইখানে নিজেদের মতামত যত উহ্য রাখা যায় তত সরকারপক্ষের জন্য ভালো। পার্সোনাল-পলিটিকাল স্পিচে ব্যক্তি যেকোনরকম পলিটিকাল বয়ানে নিজেকে গভীরভাবে ইনক্লুড করে। প্যাশন/আবেগ এইসমস্ত স্পিচের অন্যতম অনুষঙ্গ। এই কারণে, এই স্পিচগুলার অ্যাপিল জনমানুষের কাছে অত্যন্ত বেশি হয়।

চার্চিলের স্পিচগুলো মূলত পার্সোনাল-পলিটিকাল স্পিচ। এইখানে তার পাঁচটা স্পিচ সিলেক্ট করা হইছে। স্পিচগুলার বিশেষত্ব হইতেছে, সবগুলাই চার্চিলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেয়াদকালের সময়ে করা, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে। এবং এই স্পিচসমূহ থেকে তিনটা পয়েন্ট উল্লেখ করবার মতো। Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ১)

[মীর মোশারফ হোসেন (১৮৪৭ – ১৯১১) এর কাহিনি “বিষাদ-সিন্ধু” ১৮৮৫, ১৮৮৭ ও ১৮৯১ সালে তিনটা পার্টে ছাপা হয়, পরে ১৮৯১ সালে একসাথে ছাপা হয়। ১৯৩৯ সালে ছাপা-হওয়া একটা এডিশন ফলো করা কইরা একটা শর্ট-ভার্সন এইখানে হাজির করতেছি আমরা।]

উপক্রমণিকা

একদা প্রভু মােহাম্মদ প্রধান শিষ্যমণ্ডলী মধ্যে উপবেশন করিয়া ধর্ম্মোপদেশ প্রদান করিতেছিলেন, সেই সময়ে স্বর্গীয় প্রধান দূত “জেব্রাইল” আসিয়া তাহার নিকট পরম কারুণিক পরমেশ্বরের আদেশ-বাক্য কহিয়া অন্তর্ধান হইলেন। স্বর্গীয় সৌরভে চতুর্দিক আমােদিত হইল। প্রভু মােহাম্মদ ক্ষণকাল ম্লানমুখে নিস্তব্ধ হইয়া রহিলেন। শিষ্যগণ তাহার তাদৃশ অবস্থা দেখিয়া নিতান্তই ভয়াকুল হইলেন। কি কারণে প্রভু এরূপ চিন্তিত হইলেন, কেহই স্থির করিতে না পারিয়া সবিষাদ নয়নে তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। পবিত্র-বদনে মলিন ভাব দেখিয়া সকলের নেত্রই বাষ্প-সলিলে পরিপ্লুত হইল। কিন্তু কেহই জিজ্ঞাসা করিতে সাহসী হইলেন না।

প্রভু মােহাম্মদ শিষ্যগণের তাদৃশ অবস্থা দর্শনে মনের ভাব গােপন করিতে না পারিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “তােমরা হঠাৎ এরূপ দুঃখিত ও বিষাদিত হইয়া কঁদিতেছ কেন?”

শিষ্যগণ করজোড়ে বলিতে লাগিলেন, “প্রভুর অগােচর কি আছে? ঘনাগমে কিম্বা নিশাশেষে পূর্ণচন্দ্র হঠাৎ মলিন ভাব ধারণ করিলে তারা দলের জ্যোতিঃ তখন কোথায় থাকে?; আমরা আপনার চির আজ্ঞাবহ। অকস্মাৎ প্রভুর পবিত্র মুখের মলিন ভাব দেখিয়াই আমাদের আশঙ্কা জন্মিয়াছে। যতক্ষণ আপনার সহাস্য আস্যের ঈদৃশ বিসদৃশ ভাব, বিদ্যমান থাকিবে ততক্ষণ ততই আমাদের দুঃখবেগ পরিবদ্ধিত হইবে। আমরা বেশ বুঝিয়াছি, সামান্য বাত্যাঘাতে পৰ্বত কম্পিত হয় নাই। সামান্য বায়ু প্রবাহেও মহাসমুত্রে প্রবলতরঙ্গ উত্থিত হয় নাই। প্রভাে, অনুকম্পা প্রকাশে শীঘ্র ইহার হেতু ব্যক্ত করিয়া অনুমতি শিষ্যগণকে আশ্বস্ত করুন।”

প্রভু মােহাম্মদ নম্রভাবে কহিলেন, “তােমাদের মধ্যে কাহারও সন্তান আমার প্রাণাধিক প্রিয়তম হাসান-হােসেনের পরম শত্রু হইবে। হাসানকে বিষপান করাইয়া মারিবে এবং হােসেনকে অস্ত্রাঘাতে নিধন করিবে।”

এই কথা শুনিয়া শিষ্যগণ নিৰ্ব্বাক হইলেন। কাহারও মুখে একটিও কথা সরিল না। কণ্ঠ, রসনা ক্রমে শুষ্ক হইয়া আসিল। কিছুকাল পরে তাহারা বলিতে লাগিলেন—প্রভুর অবিদিত কিছুই নাই; কাহার সন্তানের দ্বারা এরূপ সাংঘাতিক কাৰ্য্য সংঘটিত হইবে, শুনিতে পাইলে তাহার প্রতিকারের উপায় করিতে পারি। যদি তাহা ব্যক্ত না করেন, তবে আমরা অদ্যই বিষ পান করিয়া আত্মবিসর্জন করিব। যদি তাহাতে পাপগ্রস্ত হইয়া নারকী হইতে হয়, তবে সকলেই অন্য হইতে আপন আপন পত্নীগণকে একেবারে পরিত্যাগ করিব। প্রাণ থাকিতে আর স্ত্রী-মুখ দেখিব না, স্ত্রীলােকের নামও করিব না।”

প্রভু মােহাম্মদ বলিলেন, “ভাই সকল! ঈশ্বরের নিয়ােজিত কার্য্যে বাধা দিতে এ জগতে কাহারও সাধ্য নাই, তাহার কলম রদ করিতে কাহারও ক্ষমতা নাই। তাহার আদেশ অলঙ্ঘনীয়। তবে তােমরা অবশ্যম্ভাবী ঘটনা শ্রবণ করিয়া কেন দুঃখিত থাকিবে? নিরপরাধিনী সহধর্ম্মণীগণের প্রতি শাস্ত্রের বহির্ভূত কাৰ্য্য করিয়া অবলাগণের মনে কেন ব্যথা দিবে? তাহাও ত মহাপাপ। তােমাদের কাহারও মনে দুঃখ হইবে বলিয়াই আমি তাহার মূল বৃত্তান্ত প্রকাশ করিতে ইতস্ততঃ করিতেছি। নিতান্ত পক্ষেই যদি শুনিতে বাসনা হইয়া থাকে, বলিতেছি, শ্রবণ কর: – তােমাদের মধ্যে প্রিয়তম মাবিয়ার এক পুত্র জন্মিবে। সেই পুত্র জগতে এজিদ নামে খ্যাত হইবে। সেই এজিদ হাসান হােসেনের পরম শত্রু হইয়া প্রাণ বধ করাইবে।” যদিও মাবিয়া এ পর্য্যন্ত বিবাহ করেন নাই, তথাচ সেই অসীম জগদ্বিধান জগদীশ্বরের আজ্ঞা লঙ্ঘন হইবার নহে, কখনই হইবে না। সেই অব্যক্ত সুকৌশলসম্পন্ন অদ্বিতীয় প্রভু-আদেশ কখনই ব্যর্থ হইবে না।” Continue reading

এডিটোরিয়াল: হজরত জলিলের উছিলায়…

হজরত মিশা সওদাগরের একটা ইন্টারভিউ দেখলাম। উনি পরান, হাওয়া, দিন-দ্য ডে, গলুই –এই ছিনামাগুলা লইয়া একটা আলাপ তুইলা কইতেছেন জে, হজরত জলিলের ছিনামায় ইন্ডাস্ট্রির লাভ নাই, উনি শৌখিন আর্টিশ। বরং পরান ইত্তাদিতে লাভ। হজরত জলিলকে উনি একটা ইস্টুডিও বানাবার বুদ্ধি-পরামিশ দিলেন।

হজরত মিশাকে লাইক করি আমি, জেমন করি হজরত ডিপজল এবং হজরত জলিলকে। এবং হজরত মিশা ওনার বুঝ মতো কথা কইছেন, কথাগুলা ভুল, কিন্তু বাংলাদেশের ছিনামার পোরতি ওনার দরদের ব্যাপারে কোন শন্দেহ নাই আমার। আমি বরং আমার মতো জারা বাইরের, আতেল-বয়াতি, জারা চিন্তা ভাবনা করার কাম করি, একটা দায়িত্ত লইছি, তাদের না পারাটা দেখতে পাই হজরত মিশার কথায়! না পারা মানে এই আমাদেরই দায়িত্ত হইলো, ঘটনাগুলার আছর ইতিহাশে কেমনে পড়ে শেইটা আর্টিশ এবং জনতার দরবারে হাজির কইরা তাদের দিশা দেওয়া! অনেকে এই কথাটারে দেমাগি ভাবতে পারেন খুব, কিন্তু ঘটনা তেমন না, ব্যাপারটা এমন ভাবতে পারেন: একজন জদি জামা বানাবার কাম করেন, আরেকজন জদি পিয়াজ কাটার কাম করেন, তাইলে ঐ দর্জির ১ কেজি পিয়াজ কাটতে কতো টাইম লাগবে, আর পিয়াজ কাটা লোকটার জামা বানাইতে? কাম পাল্টাইয়া একই মুন্শিয়ানা আশা করা উচিত হয় না!

তো, ঐগুলা আরো কই কই জেন কইছি, এইখানে বরং কইতেছি, হজরত মিশার কথার ঝামেলাটা কই!

শুরুতেই কইবো, কোরবানি গেলো ১ মাশ, কিন্তু এখনো জে আমরা ঢাকাই ছিনামা লইয়া আলাপ করতেছি, আমাদের টেবিলে একটা টপিক হিশাবে ঢাকাই ছিনামা আছে, এমন ঘটনা লাস্ট কবে দেখছেন, কত বছর আগে? আমার হুশ হবার পরে খুব মনে পড়ে না আমার! অন্তত ২০০০ শালের পরে আছে কিনা শন্দেহ আছে! এই জে ১ মাশ এইটারে টপিক বানাইয়া রাখায় ঢালিউডের লাভ হইছে কিনা? হইছে। আন্দাজ করি, এইটা হজরত মিশাও মানবেন! আমার বিচারে এই ঘটনার অনেকটা কেরেডিট দিতে হবে হজরত জলিলকে! তাইলে হজরত জলিলের দিন-দ্য ডে ইন্ডাস্ট্রির লাভ ঘটাইলো কিনা? Continue reading

বইয়ের লেখা: “মিডিয়া ও পলিটিক্স নিয়া কয়েকটা আলাপ”

[২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে, পুরান ঢাকায়, “বিএনপি কর্মী” হিসাবে সন্দেহ হওয়ার কারণে, ছাত্রলীগের কর্মী-নেতাদের হাতে, টিভি-ক্যামেরার সামনে, বিশ্বজিৎ দাস খুন হওয়ার সময় থিকা ২০২১ সালে ইন্ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদী’র বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে মুভমেন্টের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মিডিয়া, কালচার ও পলিটিক্স নিয়া লেখা কিছু জিনিস নিয়া ছাপা হইতেছে এই বই – “মিডিয়া ও পলিটিক্স নিয়া কয়েকটা আলাপ”।

এই বইয়ের তিনটা লেখা এইখানে রাখা হইলো। ]

হোয়াই বিশ্বজিৎ? (২০১২)

ওইদিন বিএনপি’র অবরোধে তো আরো ২/৩ জন মারা গেছেন! বিশ্বজিৎরে নিয়া এতো কথা, কবিতা, আলাপ-আলোচনা কেন? – এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিছেন কিনা আমার জানা নাই। আমার কাছে, বিশ্বজিৎ এর খুন হওয়াটা অবশ্যই সিগনিফিকেন্ট একটা ঘটনা, কারণ এই একটা মরার সিন আপনি বাংলাদেশে প্রথম টিভিতে দেখতে পাইতেছেন।

এইটা সিনেমার বানানো কোন সিন না, ইটস রিয়েল। কয়েকজন মানুষ চাপাতি দিয়া কোপাইয়া একজনরে মাইরা ফেলতেছে। ইমেজটারে আপনি আর আলাদা করতে পারতেছেন না। এইটা আপনারে চাইপা ধরছে; টিভিতে নায়কের ভঙ্গি ফলো কইরা আপনি কথা বলেন, নায়িকার প্রগলভতারে আপনি ট্রান্সমিট করেন ডেইলি লাইফে। এখন সন্দেহ হয়, এই যে মৃত্যুদৃশ্য সেও তো আপনার জীবনে চইলা আসতে পারে!

এই যে ইমেজের ফ্রাস্টেশন, এইটা একদিক দিয়া কবি-সাহিত্যিকদের আপ্লুত কইরা থাকতে পারে। যেমন, নূর হোসেনের ক্ষেত্রে তার ফটোগ্রাফ। এই ফটোগ্রাফ না থাকলে, নূর হোসেনরে নিয়া কবিতা লিখাটা টাফ হইতো, শামসুর রাহমানের এবং অন্যদের। কবিতাগুলা বা আলাপ-আলোচনাগুলা কেমন হইছে, এর চাইতে কেন পসিবল হয়া উঠছে, সেইটা নিয়াই বলতে চাইতেছি আমি। আই হ্যাভ স্ট্রং ডাউট, টিভিতে প্রচারিত হওয়া ছাড়া বিশ্বজিৎ এর খুনটা এতোটা ইনটেনস হইতে পারতো কিনা।

আলাপ-আলোচনায় তো অবশ্যই থাকতো, কারণ বিশ্বজিৎ এর অরাজনৈতিক পরিচয়। আমি আওয়ামী লীগ বিএনপি করি না, এরপরেও আমি মারা যাইতে পারি। এই চিন্তারও একটা বড় কন্ট্রিবিউশন আছে। সে যদি বিএনপি’র কর্মী হইতো বা আওয়ামীলীগে’র নিশ্চুপ সমর্থক, তার প্রতি এই যে ‘অরাজনৈতিক’ (এই শব্দ নিয়া আমারও সন্দেহ আছে) দরদ পলিটিক্যালিই থাকা সম্ভব হইতো না। এইক্ষেত্রে, হিন্দু-মুসলমান তেমন কোন টেনশন তৈরি করে না।

কিন্তু এই দুইটা সিগনিফিকেন্সরে বাদ দিলেও, এইটা তো একটা খুনের ঘটনা। দর্শক/রিডার হিসাবে টিভি-নিউজের এবং পত্রিকার-খবরের আপনার রোলটা কি? সবচে’ প্রথমে আপনি কি তারে ইগনোরই করতে চাইবেন? তারপর যখন পারবেন না তখন দোষী কে, তারে খুঁজতে যাইবেন? কাউরে হিরো বানানোর তাগিদটা খুব ভিতর থিকা ফিল করবেন, অনেক দেরিতে হইলেও কোন বিশ্লেষণে হয়তো কিছুটা রাজি হইতে পারবেন যে, এইটা আসলে কিলারস ইনস্টিংক্ট অথবা সমাজ-ব্যবস্থার দুর্বলতা।… Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →