Main menu

আপনি আসলে কে সেইটা ঠিক বুইঝা উঠতে পারার আগে আপনি লিখতে পারবেন না – সালমান রুশদি

This entry is part 18 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

সালমান রুশদির জন্ম বোম্বেতে ১৯৪৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনে। পড়ালেখা ওইখানে আর ইংল্যান্ড মিলায়ে, পরে ইংল্যান্ডেই লেখালেখির জীবনের বেশিরভাগ অংশ কাটান। ইদানীং রুশদি মূলত তার নিউইয়র্কের বাড়িতেই থাকেন, সেইখানেই এই ইন্টারভিউটা গত এক বছর ধইরা কয়েক দফায় নেয়া হয়। কাকতালীয়ভাবে, দ্বিতীয় দফার ইন্টারভিউটা নেয়া হইসিলো ২০০৫ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে, যা কিনা একইসাথে রুশদীর বিরুদ্ধে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ফতোয়ার ষোলতম বছরপূর্তির দিন। সেই ফতোয়ায় রুশদীরে সেটানিক ভার্সেস লেখার জন্য কাফের দাবি করা হয় এবং ইসলামী আইন মোতাবেক তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে, মোহাম্মেদ খাতামি, ইরানের প্রেসিডেন্ট এই ফতোয়া নাকচ করে, এবং রুশদীও ধারণা করেন বিপদ কাইটা গেসে। কিন্তু কট্টরপন্থী মুমিনেরা মনে করেন ফতোয়া নাকচ করা যায় না এবং রুশদীর ঠিকানা এখনও গোপন রাখা আছে।

যেই লোকরে ঘিরা এত ভয়ানক কাণ্ড ঘইটা গেলো, যারে এইভাবে প্রকাশ্যে ঘৃণা ও অপবাদ দেয়া হইসে, হুমকি ও তলব করা হইসে, যার কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হইসে, আবার যারে তুইলা ধরা হয় বাকস্বাধীনতার এক অনন্য আইডল হিসেবে, এরকম একটা মানুষের হিসাবে রুশদী খুবই সাবলীল আর ক্যান্ডিড—তিনি খুব কর্কশও না আবার ভিক্টিম মেন্টালিটিরও না। ক্লিন শেভ করা, জিন্স আর সোয়েটার পরা, তারে দেখতে অনেকটা রিচার্ড অ্যাভেডনের ১৯৯৫ সালের বিখ্যাত পোর্ট্রেটের সেই আসামীর মত দেখায় যে নিজের অভিযোক্তাদের দিকে তাকায়ে ছিল। “আমার ফ্যামিলি ওই ছবিটা সহ্যই করতে পারে না,” হাসতে হাসতে বলতেসিলো উনি। আর পরে যখন জিজ্ঞেস করা হইলো ছবিটা কোথায় রাখা, সে শয়তানি হাসি দিয়া বললো, “দেয়ালেই ঝুলানো।”

যখন সে লিখতে বসে, রুশদী বলেন, “তখন আমার জন্য দিনের বেলা নিজের রুম হইতে বের হওয়া বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা।” কিন্তু গতবছরের শেষেই উনি শালিমার দ্য ক্লাউন, উনার নয় নাম্বার উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি জমা দিসেন, এবং এখনও নতুন কোনো কাজে হাত দেন নাই। যদিও উনার দাবি এই উপন্যাসটা লিখতে গিয়া তার সব রসদ ফুরায়ে গেসে, তবু দেখা গেলো নিজের অতীত, লেখালেখি আর রাজনীতি নিয়া আলাপ করতে করতে যেন উনি জোশ ফিরা পাইতে লাগলেন। আলাপ করার সময়ও রুশদী সেই একই মানসিক কসরত জারি রাখেন যা তার ফিকশনে পাওয়া যায়—মূল কথায় ফিরা আসার আগে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা গজাইতে থাকে যা বিভিন্ন মহাদেশ আর ঐতিহাসিক সময়কালরে টোক্কা দিয়া চইলা আসে।

সেই ফতোয়ার ফলে রুশদীর নাম এখন যেকোনো জীবিত ঔপন্যাসিকের চেয়ে বেশি চেনাজানা। কিন্তু এইসব রাজনৈতিক আক্রমণে লেখক হিসেবে রুশদীর রেপুটেশন একটুও কমে নাই। ১৯৯৩ সালে তার মিডনাইটস চিল্ড্রেন বইটারে ‘বুকার অফ বুকার্স’ এওয়ার্ড দেয়া হয়, ২৫ বছর আগে এই বই পাবলিশ হওয়ার পর থেকে ম্যান বুকার প্রাইজ পাওয়া সকল বইগুলার মধ্যে এইটা শ্রেষ্ঠ হিসেবে। এবং বর্তমানে উনি পেন-আমেরিকান সেন্টারের প্রেসিডেন্ট। উপন্যাস ছাড়াও, উনি পাঁচ খণ্ড ননফিকশনের এবং একটা গল্পগ্রন্থের লেখক। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে উনি নিজের জন্য একটা প্যাডওয়ালা চেয়ার নিয়া বসছেন, হালকা কইরা তুষার পড়তেসে, কয়েক ঘর দূর হইতে একটা চুল্লি আকাশে কালো ধুঁয়ার কলাম আঁইকা দিসে। রুশদি এক গ্লাস পানি খাইলেন আর মূল আলাপ শুরুর আগে বউরে কী গিফট দেয়া যায় তা নিয়া একটু কথা বললেন।

জ্যাক লিভিংস, ২০০৫

ইন্টারভিউয়ার: আপনি যখন লেখেন, তখন কি আপনারে যারা পড়বে তাদের কথা চিন্তা কইরা লেখেন?

সালমান রুশদি: আমি ঠিক জানিনা। যখন বয়স আরেকটু কম ছিল, তখন বলতাম, না, আমি কেবল আমার লেখার সার্ভেন্ট।

ইন্টারভিউয়ার: এইটা তো বেশ আইডিয়ালিস্টিক।

রুশদি: অতিরিক্ত আইডিয়ালিস্টিক। ইদানীং আমার কাছে লেখার ক্ষেত্রে স্পষ্টতারেই বেটার গুণ মনে হয়, জটিলতার চাইতে। তার কারণ এখন সম্ভবত আমি কিছুটা বুঝি মানুষ একটা বই কেমনে পড়ে, এইটা আমি জাজ করতেসি আমার লেখা বইগুলা এখন পর্যন্ত মানুষ কেমনে পড়সে তার উপর বেস কইরা। বাজারের মর্জিমত লেখা বই অবশ্যই আমার পছন্দ না, তবে এখন একটা গল্প বলতে গেলে আমার লক্ষ্য থাকে যতটা সম্ভব স্পষ্টভাবে লেখা, এবং তার মাধ্যমে রিডারের সাথে এনগেজ করা। তবে এইটা আগেও মনে করতাম, মিডনাইটস চিল্ড্রেন লেখার সময়ও। একটা জিনিস অদ্ভূত লাগতো যে এনগেজিং স্টোরিটেলিং আর মহৎ সাহিত্য যেন আলাদা পথে চইলা গেসে। কিন্তু দুইটারে এমন আলাদা ভাবাটা আমার কাছে বেহুদা মনে হইসে। একটা গল্পের সিম্পল হইতে হবে তা না, ওয়ান-ডিমেনশনালও হইতে হবে না, কিন্তু গল্পটা যদি জটিল এবং বহুমাত্রিকও হয়, তবু তো আপনার গল্পটা বলার একটা স্পষ্ট ওয়ে খুঁজতে হবে, যাতে রিডার এনগেজ করতে পারে।

আর আস্তে আস্তে যেই একটা সাবজেক্ট আমার নিজস্ব জিনিস হইয়া দাঁড়াইসে তা হইলো, কিভাবে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার গল্প আসলে সবজায়গারই গল্প। কিছু মাত্রায় তা আমি আগে থিকাই জানতাম কারণ মুম্বাই, যেইখানে আমার বাইড়া ওঠা, সেই শহরে পশ্চিম পুরাপুরি পুবের সাথে মিইশা ছিল। আমার জীবনের নানান দুর্ঘটনা এখন আমারে এই ক্ষমতা দিসে যে আমি দুনিয়ার নানান জায়গার ঘটনারে আমার গল্পের অংশ বানায়া নিতে পারি, কখনো কখনো তারা শান্তিতে মেলে, বা কখনো তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাইগা থাকে—বা বেশিরভাগ সময় দুইটাই একসাথে ঘটে। এইসব গল্প লেখার একটা সমস্যা হইলো আপনি যদি সবজায়গার গল্প লিখতে বসেন, তাইলে শেষমেষ দেখা যাইতে পারে আপনি কোনো জায়গার গল্পই লিখতে পারেন নাই। যেইসব লেখকরা স্রেফ একটা জায়গারে কেন্দ্র কইরা লেখে তারা এই সমস্যাটা ফেস করে না। সেইসব লেখকরা অন্য কোনো প্রবলেম ফেস করে। কিন্তু ফকনার বা ওয়েল্টির মত লেখকদের যা আছে–দুনিয়ার বুকে একটুখানি জায়গা যা তারা এতটাই ভালোমত চেনে, এবং তাদের শিকড় ওই জায়গাটার এতই ভিতরে যে তারা সারাটা জীবন সেই জায়গা নিয়া লিখ্যা গেলেও তা ফুরাবে না–এই জিনিসটা আমার অনেক ভাল্লাগে, কিন্তু আমি এইভাবে লিখি না। Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ২)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

কিস্তি এক

পর্ব ৩: অপারেশন টেবিলের ঝাপসা দুনিয়া

মেজো খালু মারা গেলেন। অনেক দিন পর পরিবারে কেউ মারা গেলেন, যার খুব কাছ থেকে আমি ঘুরে এসেছি। উনার লাশ নেওয়া হলো নোয়াখালী। দুলাভাই সঙ্গে গেলেন। লাশটুকু দেখতেও আমার যাওয়া হলো না। আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

অসুখের শুরুটা এমন। তখন ‘কাঠবিড়ালি’ নামের একটি সিনেমা মুক্তি পাইছে। অফিসের ফাঁকে দুজন বন্ধুর সঙ্গে এক শনিবার দেখতে গেলাম। অফিসে ফিরে কিছুক্ষণ কাজ করলাম। সন্ধ্যার সময় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে একটা অনুষ্ঠানে গেলাম। প্রকাশিতব্য চার-পাঁচটা কবিতার বই নিয়ে আলোচনা, পরস্পরের উদ্যোগে। বের হওয়ার পর অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আড্ডা দিলাম, পায়ে অনেক ব্যথা হচ্ছিল। গাড়ির প্রচণ্ড জ্যাম আর পরদিন ছুটির দিন হওয়ায় তাড়া ছিল না তেমন, শুধু ক্ষুধা ছিল।

রবিবার গোসল করে দেখে আপা রাই সরিষার শাক ভাজছে। সাথে রুই মাছ ভাজা। শাকের গন্ধটা এত ভালো লাগলো, বললাম, ‘আজ অনেকগুলো ভাত খাবো’। সত্যি সত্যি এক-দেড় প্লেট খেয়ে ফেললাম। প্রতিক্রিয়া পেলাম দ্রুতই। দুপুরের পর থেকে ভয়ংকর পেটে ব্যথা। শাক যতক্ষণ পেটে ছিল ততক্ষণ ব্যথা আর অস্বস্তির মধ্য দিয়ে গেলাম। এত দিন হালকা জ্বর আর ব্যথা থাকলেও আবার ভীষণ জ্বরে পড়লাম।

এর মাঝে সার্জেন খোঁজাখুঁজি চলছিল। আল হামরা হাসপাতালের একজন সার্জেনের নাম পাইলাম। ডা. শাহ মোহাম্মদ ফাহিম খোঁজ নিয়ে বললেন, তিনি অভিজ্ঞ ও বেশ সুনাম আছে।

বাবা তখনো জানতে পারেন নাই কিছুই। আমার প্রতি আম্মা-বাবার যে আবেগ সে কারণে আমরা উনাদের কিছু বলতে পারি না। উনাকে বলা হলো, ডাক্তার কিছু ওষুধ দিছেন। শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে। ডাক্তার উনার সমস্যাও ঠিক ধরতে পারছেন কিনা বুঝতে পারছিলেন না। অনেকগুলো টেস্ট আর ওষুধের পরামর্শের পর বাড়ি ফিরে গেলেন। আমিও আবার অফিস যাওয়া শুরু করলাম। আমাদের ডেপুটি এডিটর মাহবুব মোর্শেদ ভাই বলছিলেন, ‘সুজন তাড়াতাড়ি অপারেশন করান। একজন মানুষ শরীরের মধ্যে পাথর নিয়ে ঘুরছে এটা ভাবতে কেমন লাগে?’ কিন্তু প্রতিদিন এত ক্লান্তি ভর করে যে, যাবো যাবো করে যাওয়া হয় না।

একদিন ফেসবুকে খেয়া মেজবার একটি পোস্ট দেখে মনে হলো, হাসপাতাল তো উনার বাড়ির কাছে। উনাকে নক দিতে বললেন, চলে আসেন ফার্মগেটে। একসঙ্গে হাসপাতালে যাই।

অফিস থেকে বের হলাম। ভাবলাম, ফার্মগেট এমন কী আর দুরত্ব। হলি ফ্যামিলি যাওয়ার মতো বোকামি করলাম আবার। বাংলামোটর থেকে বেশ দ্রুত আসার চেষ্টা করলাম। তারপরও ২০-২৫ মিনিট লাগলো। অসম্ভব ব্যথা হচ্ছিল সারা শরীরে। সেজান পয়েন্টের সামনে খেয়ার সঙ্গে দেখা। উনি নাকি আমাকে চিনতেই পারছেন না। ও হ্যাঁ, ততদিন আমার ওজন মোটামুটি ১০-১২ কেজি কমে গেছিল। অবশ্য ওজন আগে থেকেই কমছিল, কিন্তু কোনো কষ্ট ছাড়া ওজন কমা নিয়ে আসলেই খুশির ছিল না। শরীরের ভেতর পাথর জমছে, উল্টো দিকে এর প্রতিক্রিয়া ওজন না বেড়ে কমছে! একটু অদ্ভুতই তো! Continue reading

অন রাইটিং (লেখালেখি নিয়া) – রেমন্ড কার্ভার

(রেমন্ড কার্ভার হইলেন আমেরিকান শর্ট স্টোরি রাইটার। এই লেখাটা ‘RAYMOND CARVER COLLECTED STORIES’ বইটা থেকে নেওয়া। – সারোয়ার রাফি)

১৯৬০ এর মাঝামাঝি সময়ে আমি খুঁইজা পাইছিলাম যে, লম্বা ন্যারেটিভ ফিকশনে মনোযোগ দিতে আমার সমস্যা হইতেছে। কিছু সময়ের জন্যে পড়ার পাশাপাশি লেখার চেষ্টার ক্ষেত্রেও তীব্র অসুবিধা অনুভব করতেছিলাম। আমার মনোযোগ আমার থিকা দূরে সইরা যাইতেছিল; আমার মইধ্যে আর উপন্যাস লিখবার মতোন ধৈর্য ছিলো না। এখানে একটা গল্প জড়িত, আর এ ব্যাপারে এখানে কথা বলা বিরক্তিকরই খুব। কিন্তু এখন আমি জানি যে আমি কেন কবিতা এবং ছোটগল্পগুলা লিখতেছি। উইঠা পড়ো, বাইর হয়ে যাও। দেরি কইরো না। চালায়ে যাও। এইটা হইতে পারে বিশ বছরের শেষের দিককার সময়টাতে আমি কোনো মহান এম্বিশান হারায়ে ফেলছিলাম। যদি আমার তাই হয়, তবে আমার ধারণা এইটা ঘটাতে ভালোই হইছিলো। এম্বিশান ও সামান্য নসিব একজন লেখকের সামনে আগায়ে যাওয়ার জন্যে ভালো জিনিস। খুব এম্বিশান ও বাজে নসিব অথবা একেবারেই ভাগ্যহীন, যে কাউরে মাইরা ফেলতে পারে। সেখানে অবশ্য প্রতিভা থাকতে হইবে।

কিছু লেখকের বহু ট্যালেন্ট আছে; আমি এমন কোনো লেখকদের চিনি না যাদের এইটা নাই। কিন্তু একটা ইউনিক এবং সঠিক উপায়ে কোনো জিনিসরে দেখা, এবং দেখার জিনিসটারে প্রকাশ করতে সঠিক কনটেক্সট খুঁইজা বাহির করা হইলো অন্য ব্যাপার। গার্পের মতে পৃথিবীটা, অবশ্যই, জন এরভিংয়ের মতে পৃথিবীটা হইলো আজব এক জিনিস। ফ্ল্যানারি ও’কর্নারের আবার আরেকটা পৃথিবী, এবং এই তালিকায় অন্যদের মইধ্যে আছে উইলিয়াম ফকনার এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। এই অনুসারে আরো ডিফরেন্ট পৃথিবী হইলো শিভার, আপডাইক, সিঙ্গার, স্ট্যানলি এলকিন, এ্যান বিট্টি, সিনথিয়া ওজিক, ডোনাল্ড বার্থেলমে, ম্যারী রবিসন, উইলিয়াম কিটট্রেজ, ব্যারী হান্নাহ, উরসুলা কে. লিগুইনদের। প্রতিটা গ্রেট অথবা ভালো রাইটার তাদের নিজস্ব বর্ণনার মাধ্যমে পৃথিবীটারে তৈরি করেন।

স্টাইল নিয়া আমি কথা বলতে চাই, কিন্তু এইটা শুধু স্টাইলেই আটকায়া থাকবো না। এইটা হইলো রাইটারের সবকিছুতে নির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট সিগনেচার, যা কিনা সে লিইখা থাকে।

এইটা হইলো তার পৃথিবী এবং আর কারো না। এইটা হইলো এমন একটা বিষয় যার থেকে একজন রাইটার আরেকজনের থেকে আলাদা হইয়া থাকে। এইটা প্রতিভার বিষয় না। আমাদের চারপাশে এমন বহু লোক আছে। কিন্তু যে রাইটার নির্দিষ্ট কোনো জিনিসরে দেখার বিশেষ ক্ষমতা রাখে এবং এই দেখার প্রতি আর্টিস্টিক নজর দিতে পারে: এমন রাইটার সম্ভবত কিছু সময়ের জন্যে আমাদের চারপাশে থাকলেও থাকতে পারে।

ইসাক ডিনেসেন বলছিলেন যে, তিনি রোজ কোনো আশা এবং হতাশা ছাড়াই অল্প অল্প লিখেন। কোনোদিন আমি সেটারে থ্রি বাই ফাইভ কার্ডে লিইখা রাখব এবং আমার ডেস্কের পাশের দেয়ালে আটকায়ে দিবো। আমার দেয়ালে এখন কিছু লেখা থ্রি বাই ফাইভ কার্ড লাগানো আছে। এজরা পাউন্ড বলেছিলেন, “লেখালেখির একমাত্র মেইন মোরালিটি হইলো নির্ভুল বর্ণনা থাকা”। এইটা কোনভাবে সবকিছুরে বোঝায় না, কিন্তু যদি কোনো লেখকের মইধ্যে বর্ণনার স্পষ্টতা থাকে, সে আসলে সঠিক পথেই আছে।
Continue reading

হুমায়ুন অথবা সাহিত্য বিষয়ে একটা র‍্যান্ট

হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে প্রতি বছরই কিছু না কিছু আলাপ হয়। এইসকল আলাপ দেখে বুঝতে পারি ভদ্রলোকের জন্ম অথবা মৃত্যুদিন উপস্থিত।

এখন যে আলাপ দিবো, মোট তিনটা টপিক, তা আনরিলেটেবল লাগতে পারে এই ইস্যুতে, পরে ব্যাখ্যা দিচ্ছি সব কিছুর।

আমরা এমন একটা সময়ে বসবাস করছি, যখন মানুষ হাতে অল্প সময় পেলেই ফেসবুক বা ইন্সটা ব্রাউজ করে (যদিও একটা ছোটগল্প পড়তে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট, নিউ ইয়র্কারের একটা প্রবন্ধ পড়তে সময় লাগে ১০ মিনিট) । যদি এর থেকে বেশি সময় থাকে তার হাতে, ঘন্টা ২, তবে সে সিনেমা দেখে। যদি সারাদিন হাতে সময় থাকে, তাহলে সিরিজ।

মানুষ এমন একটা প্রানী যে তার আইডেন্টিটি, ইতিহাস, তার পারসোনাল অতীত, দুনিয়া ব্যাখ্যা- প্রায় সবই ন্যারেটিভে সাজায়ে চিন্তা করে – আ সিম্পল এন্ড সিঙ্গেল- কজ এন্ড ইফেক্ট। গল্প কেবল বিনোদন না, এটা কাইন্ড অফ প্রবৃত্তির মতো মানব প্রজাতির কাছে। ন্যারেটিভ ও গল্পের খিদা তার আছে, থাকবে; সে এখন এ খিদা সিনেমা দিয়েই মিটায়। ছাপাখানা জনপ্রিয় হওয়ার পর যেমন গল্প এক্সজিকিউশনের কথক ভার্সন আস্তে আস্তে পিছনে পরে গিয়েছিলো লেখ্য উপন্যাস থেকে, গল্পের ভিজুয়াল ভার্সন আসার পর এখন লেখ্য ভার্সনের সেইম অবস্থা হয়েছে।

এই অঞ্চলের একটা গড়পড়তা পাঠকের পাঠের বয়স শুরু হয় স্কুল থেকে, আর শেষ হয় মোটাদাগে ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে গিয়ে। এরপর যারা “পড়াশুনার” মধ্যে থাকে, এরা ননফিকশনে শিফট করে। হয়ত এজন্যই এখানকার, এই বাঙাল মুলকের, সকল সাহিত্য মুলত “ইয়াং এডাল্ড” জনরার সাহিত্য। টেনে টুনে “নিউ এডাল্ড”। সুনীল, সমরেশ বলি অথবা হুমায়ুন, হক।

গল্পের ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট, ক্যারেকটারেজেশন, পার্সপেক্টিভ, প্রধান সংকট, সাবজেক্ট – প্রায় সবই একজন ইয়াং এডাল্ডের সংকট, চিন্তন রিপ্রেজেন্ট করে। নারীকে রহস্যময় করে উপস্থাপন করাই বলি, সব উপন্যাসের সাবপ্লট প্রেম, বা প্রতিবাদ হিসেবে কয়েক দূর্নীতিবাজকে খুন করে হিমালয়ে গিয়ে গর্ভধারিণী হওয়ার কথা বলি – এগুলোর সব আবেদন মূলত তরুন পাঠক সেন্ট্রিক। একজন মধ্যবয়স্ক বা বয়স্কের যাপন ও চিন্তার সংকট সে রিপ্রেজেন্ট করে না, মুলত করতে পারে না। সাটলিটি আর কমপ্লেক্সিটি এই দুইটা এখানে দূর্ভিক্ষ লাগার মতো অনুপস্থিত।
Continue reading

শাহলাল ফকির – জসীম উদ্দীন [১৯৭৭]

[১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি থিকা ছাপানো কবি জসীম উদ্দীনের “মুর্শিদা গান” বই থিকা নেয়া হইছে, এই লেখাটা।]

শাহলালের বাড়ির ধারের এক হিন্দু ভদ্রলোক শাহলাল চরিত নামে একখানা পুস্তক প্রকাশ করেন। সেই পুস্তকের সামনের পাতাগুলি নাই। সুতরাং লেখকের নাম প্রকাশ করিতে পরিলাম না। খুব সম্ভব ১৯২৩ সালে কিংবা ১৯২৪ সালে এই পুস্তক ছাপা হইয়াছিল।

এই পুস্তকের সবগুলি বিবরণ বিশ্বাস করা যায় না। সাধারণ হিন্দু-ভক্তের দৃষ্টি দিয়া তিনি যাহার নিকট যাহা শুনিয়াছেন হয়তো তাহার উপর কিছু রং চড়াইয়া এই পুস্তকের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। সব ঘটনাকে সত্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করিয়া লন নাই।

এই পুস্তক অনুসারে শাহলালের পিতার নাম সেখ সিরাজউদ্দিন। পুত্র বড় হইলে তাহার পিতা শাহলালকে একদিন ভূঁইক্ষেতের তদারক করিতে বলিয়া অন্যত্র চলিয়া গেলেন। ইতিমধ্যে অপরের গরু আসিয়া ক্ষেতের সমস্ত ফসল খাইতে লাগিল। শাহলাল ভাবিলেন এই নিরীহ গো-জাতির মুখের গ্রাস যদি কাড়িয়া লই, তবে তাহাদের নিকট চিরঅপরাধী হইব। এই ভাবিয়া তিনি গরুগুলিকে কিছুই বলিলেন না। মুহূর্তমধ্যে সমস্ত ফসল গাভীগুলির পেটে চলিয়া গেল।

ইতিমধ্যে শাহলালের পিতা সিরাজউদ্দিন সাহেব নিজের ক্ষেতের ফসলের অবস্থা দেখিয়া মাথায় হাত দিয়া বসিলেন। তিনি শাহলালকে ভর্ৎসনা করিয়া বলিলেন, “হতভাগা, এখনি আমার গৃহ হইতে বাহির হইয়া যা।” অভিমানী পুত্র তখনই গৃহ হইতে বাহির হইয়া গেলেন। ঘুরিতে ঘুরিতে শাহলাল অপর একটি গ্রামে আসিয়া পৌছিলেন। একটি বৃক্ষতলে দাঁড়াইলেন। এমন সময় একটি গাভী আসিয়া তাঁহার সম্মুখে দাঁড়াইল। গাভীর মালিক গাভীটিকে নিজের গৃহে লইয়া যাইতে চাহেন, কিন্তু গাভী একপদও অগ্রসর হয় না। নিরুপায় হইয়া গৃহস্থ শাহলালের সাহায্য চাহিলেন। শাহলাল গাভীর রজ্জু ধরিয়া টানিবামাত্র গাভী চলিতে লাগিল। গৃহস্থ গাভী ও শাহলালকে সঙ্গে লইয়া গৃহে আসিলেন। এই গৃহস্থের নাম দাও সিদ্ধাই। শাহলাল চরিত্রের লেখক তাঁহাকে দাগুরাম সিদ্ধাই নাম দিয়া হিন্দু বলিয়া পরিচয় করাইয়াছেন। কিন্তু আমরা অন্যত্র শুনিয়াছি দাগু সিদ্ধাই জাতিতে মুসলমান ছিলেন। তাঁহার বংশধরেরা এখনও জীবিত আছেন। তাঁহারাও মুসলমান। পূর্বকালে বহু মুসলমানের বাংলা নাম প্রচলিত ছিল।

এইখানে থাকিয়া শাহলালের ধর্মজীবন আরম্ভ হইল। দাগু সিদ্ধাই একজন ভাবুক লোক ছিলেন। সারিন্দা বাজাইয়া ভাবগান করিতেন। সম্ভবত তাঁহার নিকট হইতে শাহলাল গুরুপরম্পরায় প্রাপ্ত এদেশের শাশ্বতকালের ভাববস্তুর উত্তরাধিকারী হন। শাহলাল চরিত লেখকের বর্ণনা অনুসারে দাগু সিদ্ধাইর নিকট হইতে শাহলাল মাসিক যাহা বেতন পাইতেন তাহা দরিদ্র পিতাকে পাঠাইয়া দিতেন। কিছুদিন পরে পিতা শাহলালের বিবাহের আয়োজন করিতে লাগিলেন। খোদার উপাসনায় জীবন কাটাইবেন, এই আদর্শ অন্তরে পোষণ করিয়া শাহলাল বিবাহে অমত প্রকাশ করেন। কিন্তু পিতা-মাতার নানা অনুরোধ-উপরোধে শাহলাল বিবাহে রাজি হইলেন। কাজীকান্দা নিবাসী সেখ রহিমউদ্দিন কাজীর কন্যা মেহেরউন্নিসা বিবির সঙ্গে তাঁহার শুভ বিবাহকার্য সম্পন্ন হইল।

শাহলাল চরিতের লেখকের মতে মেহেরউন্নিসা বিবি শাহলালের ধর্মকার্যে সঙ্গিনী ছিলেন । সাধারণ বাঙালি মেয়ের মতো তিনি অত্যন্ত পতিপরায়ণা ছিলেন। তবু শাহলাল এই মায়াপাশ ছিন্ন করিয়া ধর্মগুরু দাগু সিদ্ধাইয়ের গৃহে যাইয়া বাস করিতে লাগিলেন। তখনকার দিনে দাগু সিদ্ধাইয়ের ধর্মজীবনের খ্যাতি দূর-দূরান্তরে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। প্রতিদিন বহুলোক আসিয়া তাঁহার নিকট ধর্মকথা শ্রবণ করিতেন। দাগু সিদ্ধাইয়ের বাড়িতে বছরে বছরে মাঘী পূর্ণিমার দিনে এক বিরাট মেলা বসিত। এই সময় তিনি ধামাইল উৎসব পালন করিতেন। এই ধামাইলের বিষয়ে আমরা পরে বিস্তৃত আলোচনা করিব।

বহুকাল গুরুগৃহে থাকিয়া শাহলাল গুরুর নিকট দীক্ষামন্ত্র চহিলেন। গুরু তাহা কিছুতেই দিতে চাহিলেন না। তখন শাহলাল গুরুপত্নীর শরণাপন্ন হইলেন। গুরুপত্নীর অনুরোধেও দাগু সিদ্ধাইয়ের মন টলিল না। তখন শাহলাল ভাবিলেন যদি জীবনে সত্যের সন্ধান না পাইলাম তবে বাঁচিয়া থাকিয়া কি লাভ হইবে? ইহা ভাবিয়া শাহলাল গলায় দড়ি বাঁধিয়া আত্মহত্যা করিতে গেলেন। দাগু সিদ্ধাইয়ের স্ত্রী ইহা দেখিতে পাইয়া : শাহলালকে এই কার্য হইতে নিরস্ত করেন। তিনি শাহলালকে পরামর্শ দেন : “ওই যে গাছের উপরে একটি লাউলতায় লাউ ধরিয়াছে তুমি ওই লাউটি পাড়িতে যাইয়া ভূমিতে পড়িয়া মড়ার মতো শুইয়া থাক।”

শাহলাল তাহাই করিলেন। গুরুপত্নী তখন দাগু সিদ্ধাইকে যাইয়া বলিলেন, “দেখ, আমি শাহলালকে উচ্চ ডাল হইতে লাউ পাড়িতে বলিয়াছিলাম। সে সেখান হইতে পড়িয়া গিয়া মরণের অপেক্ষা করিতেছে। তাহার এই শেষ মুহূর্তে তাহার কর্ণে সত্য মন্ত্র দিয়া তাহার মুক্তির ব্যবস্থা কর।” গুরু তাঁহাকে ইষ্টমন্ত্র দান করিলেন।

ইহার কিছুদিন পরে মাত্র ৫৬ বৎসর বয়সে দাগু সিদ্ধাই ইহধাম পরিত্যাগ করেন। গুরুগৃহ হইতে শাহলাল নিজ আবাস নুরুল্লাপুরে ফিরিয়া আসিয়া গোপনে ধর্মসাধনা করিতে আরম্ভ করেন। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →