Main menu

মানুশ

This entry is part 7 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

ইছলামি ভাবুক-বয়াতি বা বহু মোছলমান ভাবুক বয়াতির একটা ভাবনা দেখি পেরায়ই জে, ইছলামকে লিবারালাইজ করার কিছু নাই, কেননা, তাতে শুরুতেই মাইনা নেওয়া হয় জে, ইছলাম ইনকমপ্লিট, এবং ইছলাম মোটেই তা না–জিন্দেগির তাবত ফয়ছালা/নিদান/দাওয়া ইছলামে আগেই হাজির আছে।

কেউ একজন মোছলমান না হইলে এনাদের ঐ দাবি না মানারই কথা, কিন্তু একজন মোছলমানের জন্ন ঐ দাবিটা ১০০% হক কথা, আলবত। কিন্তু বাস্তবে ঐ দাবির ফল কি হয়? ইছলামকে লিবারালাইজ করার পেরেশার এবং মোছলমান ভাবুক-বয়াতিদের ঐ দাবির দুশমনির বাস্তব ফল হইলো, লিবারালিজমের শকল ফিচারকে ডিনাই করা, লিবারালিজম আর ইছলাম–দুইটা খুবই উল্টা জিনিশ হইয়া পড়া!

এইখানে কইয়া নিতে হয় জে, লিবারালিজম জতো না দর্শনের টার্ম, তারচে বেশি পলিটিকেল টার্ম, মানে দর্শন আর পলিটিক্সের খুব ঘন রিশতা থাকার পরেও আমরা জেই অর্থে ডিছিপ্লিনগুলা ভাগ করি, করতে রাজি হই, একাডেমিক/দপ্তরি কামের ক্যাটেগরি হিশাবে; এই অর্থে লিবারালিজম আমার হিশাবে দর্শনের আরেকটা টার্মের পলিটিকেল মেনিফেশ্টেশন, শেইটা হইলো, হিউম্যানিজম। আজকে আমরা হিউম্যানিজমকেও অনেক বেশি পলিটিকেল টার্ম হিশাবেই দেখি, কিন্তু থিয়োলজির উল্টাদিকে ছাইন্টিফিক-রেশনাল ডিছকোর্ছের এরিয়ায় দর্শনের টার্ম হিশাবেই হিউম্যানিজমের আশল ছেন্টার। তাই এইখানে লিবারালিজম আর হিউম্যানিজম, দুইটা টার্মই এস্তেমাল করতেছি, আলাপের ফোকাছটা দর্শনে নাকি পলিটিক্সে বেশি করতে চাইতেছি, ছেরেফ শেই হিশাবে পড়তে কইবো টার্ম দুইটারে।

তো, ঐ দল দুইটা আমার হিশাবে ইছলাম আর লিবারালিজম, দুইটারই কতগুলা মর্মে নজর দেন না বা দেখতে পান না বা এড়াইয়া থাকেন!

ইছলাম আর খিরিস্টানিটি, দুইটাই আব্রাহামিক ধর্ম আর লিবারালিজমকে অনেকেই খিরিস্টানিটির ভিতর দিয়া পয়দা হওয়া বয়ান হিশাবে দ্যাখে। ওদিকে, লিবারালিজমের ভিতর থিকা তেমন কোন কনফেশন না থাকলেও ইছলামের ভিতর খিরিস্টানিটির ব্যাপারে একটা কনফেশন আছে। ইছলাম খিরিস্টানিটির পরের ধর্ম এবং দুইটা একই খোদার বন্দেগি করে, ইছলাম তাই, তার বয়ান মোতাবেক, নয়া জামানায় জেছাসের অধরা কাম পুরা করতে আইছে দুনিয়ায়। লিবারালিজম দুনিয়ায় ইছলাম জারি হবার অনেক পরের ঘটনা, এবং দুইটাই জদি খিরিস্টানিটির পরের পোজেক্ট হয়, খিরিস্টানিটির বয়ানের কন্টিনুশন হয়, তাইলে এই দুইয়ের, মানে ইছলাম আর লিবারালিজমের ভিতর কি কোন রিশতাই নাই!?

লিবারালিজম আমার হিশাবে খিরিস্টানিটির কন্টিনুশন না, বরং রিয়েকশন, দর্শনে খিরিস্টান থিয়োলজির জবাবে জেই ছাইন্টিফিক-রেশনাল ইশকুল হিশাবে জেই হিউম্যানিজম পয়দা হইলো, থিয়োলজির লগে গাটছড়া বান্ধা ফিউডালিজমের পোরতি শেই হিউম্যানিজমের পলিটিকেল জবাবের নাম লিবারালিজম এবং এই রিয়েকশনটা পয়দা হইতে ইছলামের জরুরত আছিলো খুবই! হিমালয়ের দখিনের এই ভুবনে জেমন বৈষ্ণব ধর্ম পয়দা হইতে ছুফি বয়ানের জরুরত আছিলো বা পরের রামমোহনের বেরাম্ম ধর্ম পয়দা হইতে খিরিস্টানিটির, লিবারালিজমের বেলায় তেমনি ইছলাম!

খেয়াল করলে দেখবেন, লিবারালিজম খিরিস্টানিটির গোড়ার জেই ভাবনার রিয়েকশন, ইছলামও শেই ভাবনায় নজর দিছে এবং দরকারি জবাবও বানাইছে! এবং খিরিস্টানিটির শেই ভাবনার নাম হইলো, মানুশ! খিরিস্টানিটি, ইছলাম আর হিউম্যানিজম (পলিটিকেল ডিছকোর্ছ হিশাবে লিবারালিজম), এই তিনটা বয়ান মানুশ বলতে খুবই জুদা জিনিশরে বোঝে; খিরিস্টানিটিতে অরিজিনাল ছিনের ভিতর দিয়া মানুশ মানে হইলো একটা পাপের ফল, মানুশ পাপি, এই দুনিয়ায় মানুশের শকল দুর্দশা-খারাপির (পানিশমেন্ট আশলে) গোড়ার কারন ঐ অরিজিনাল ছিন। হিউম্যানিজম মানুশকে ঐ অরিজিনাল ছিন থিকা আজাদ কইরা লিবারালিজম হইয়া উঠলো, ঐ আজাদির নামই লিবার্টি এবং ঐ কারনেই লিবারালিজমরে খিরিস্টানিটির রিয়েকশন কইলাম।

তো, অরিজিনাল ছিন থিকা আজাদ কইরা লিবারালিজম কই লইয়া গেল মানুশকে? লিবারালিজম কইলো, মানুশ পাপি না তো বটেই, মানুশ বাই ডিফল্ট ভালো, ছেরেফ ভালো না, মানুশ এমনকি জাস্ট বা ছহি, বুদ্ধিমান, মানুশের এলেমের বাইরে কিছু নাই এবং মানুশের মানুশ হওয়াটাই কাফি, আর কিছু দরকার নাই, মানুশ পারে, মানুশ তার নিজের ইতিহাশের কারিগর।

এই হিউম্যানিজম/লিবারালিজমের আগে ইছলামও খিরিস্টানিটির ঐ অরিজিনাল ছিনে নজর দিছে এবং মানুশের ব্যাপারে লিবারালিজম থিকা খুবই জুদা ডিছিশন পয়দা করছে ইছলাম। ইছলাম কইতেছে জে, মানুশ আশরাফুল মাকলুকাত– দুনিয়ার শকল এস্পেছিসের ভিতর মানুশ শবচে ভালো; তার মানে এই ভালোতা তুলনামুলক, অতুল ভালো না, একদম ছহি বা এবছলুট ভালো কইতেছে না ইছলাম। কারন কি? কারন মানুশ বুদ্ধিমান হইলেও শেই বুদ্ধি দিনদুনিয়ার শকল পর্দা ভেদ কইরা জাইতে পারে না, তার এলেম আছে, কিন্তু তা লিমিটেড, মানুশ আখেরে আরেকটা এস্পেছিস বা মাকলুকাতই, মস্ত জগতের তুলনায় অতি পুচকে! তাবত দুনিয়ার তুলনায় মানুশ এতোই পুচকে জে, মানুশ পয়দাও করতে পারে না, নিজের মরনও ঠেকাইতে পারে না। Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ১)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

পর্ব এক: শুরুর আগে

আর সব গল্পের মতো নিজের গল্পটাও দ্বিধা সমেতই বলতে এলাম। মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে ভাবি, আমি ও আমার চারপাশ দ্বিধার জাল মুক্তি থেকে কেন মুক্তি পায় না। যেন এক আবশ্যিক আবহ। এমনও মনে হয়, প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো বৃত্তে আবদ্ধ, একই অলি-গলিতে নিত্য যাতায়াত, কখনো কখনো পুনরাবৃত্তির ফাঁকে নতুন কিছু চোখে পড়ে। তা শুধু তার নিত্যদিনের বলয়েই না, তাকে নিয়ে আর যা যা ঘটে ও অন্যদের বোঝাপড়া বা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় তাও একই রকম। এর মানে কি এই যে— আমি আসলে ঠিক করে দিচ্ছি, বা আমরা এমন কিছু নিয়ে আবির্ভূত হই, যা ঠিক করে দেয় দুনিয়াটা আমার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করবে।

হয়তো ব্যাপারটা পুরোপুরি এমন নয়, আমার দেখার একটা ছাঁচ দুনিয়াটাকে আর অন্যভাবে দেখতে দেয় না। মাঝে মাঝে তো ভয় কাজ করে, যার কারণ আমরা সব দোষ নিজের কাঁধে নিয়ে ফেলি। কিছুদিন আগে তুমুল ঝড় হচ্ছিল বাইরে। আমরা সব দরোজা-জানালা বন্ধ করে বসে আছি। তখন একটা লাইন মনে হলো— সব কিছু উড়ে যাচ্ছে, শুধু দ্বিধা ছাড়া। আসলে আমার গল্প এটাই। মামুলি রোগ-শোকের ভেতর লড়ে যাওয়া, যার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে আটকে গেছে দ্বিধা।

এ লেখাটার কথা যখন ভাবছিলাম, তখন দুটো ঘটনা মনে পড়লো। প্রথমত, সেটা কারণ-অকারণে মনে পড়ে, ইন্টারনাল কোনো হারমোনি নিশ্চয় আছে। যখন স্কুলে পড়ি। স্কুলে যাওয়ার একটা রাস্তা ছিল শহীদ মিনারের পেছন দিক হয়ে, রাস্তাটা স্কুলের পেছনে এসেই মিলতো। কোনো একদিন বিকেলে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হয়তো ছুটির দিন ছিল। যখন লম্বা লম্বা একাশি গাছের ছায়া দীর্ঘ হয়ে পুবদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তীর্যকভাবে সারি সারি ইট বিছানো পথ। হঠাৎ মনে হলো, পেছন থেকে আমাকে কে যেন ডাকছে। ফিরে দেখে কেউ নেই। এ কণ্ঠস্বর আমাকে নানা সময় তাড়া করেছে। যদিও আজকাল আমি শুনি না। মাঝে একটা টুংটাং শব্দ শুনছি বলে মনে হয়। এর সঙ্গে শৈশবের সেই ঘটনার তুলনা চলে না। আর এত এত গিয়ার-গ্যাজেটের আশপাশে থাকতে হয়— কোত্থেকে কোন শব্দটা আসে বোঝা দায়। আচ্ছা, এসব কেন বলছি। আমার কেন যেন মনে হয় এই যে পথ চলা, নানান দুর্বিপাক, আমাকে হয়তো এমন কোনো শব্দের উৎসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যা হয়তো আমার আরও গভীর থেকেই ডাক। যেখানে নিজের দিকে তাকানোটা ঠিক আয়না দেখা নয়, অন্য কিছু।

অন্য ঘটনাটা হলো এই, যখন নাইন বা টেনে পড়ি। এক শিক্ষক বলছিলেন, আজ তোমাদের হাত দেখবো। সবার মাঝে কী যে মজা। যদিও পরে কারো কাছে ভাগ্য দেখাতে যাই নাই আর। ওই স্যার বলছিলেন, অনেকগুলো ঝামেলা আছে জীবনে। ইন্টার লাইফে একটা। এরপর বয়স যখন চল্লিশের কাছাকাছি হবে। ইন্টারটা বাজে কাটছিল অবশ্য। টাইফয়েডের ভুগে পরীক্ষায় ফেল। তারপর ভর্তি হওয়া নিয়ে নানান টানাপোড়ন। আর চল্লিশের কাছে? এটাই যে গল্প। যদিও আমার বন্ধু মো. আরিফ মুর্শেদ মিশু বলে, আমরা নিজেদের নিয়ে যা যা খারাপ কিছু ভাবি, তা ফলে যায়। হয়তো তাই। কারণ আমি চারপাশে এমন জগৎ দেখি। বিমর্ষ, রোগশোক; আর ব্যর্থতা। যাই হোক, এই গল্প শুধু আমার না। আমার বন্ধুদেরও গল্প। আমাকে নিয়ে পরিবারের লড়াইও। সমান্তরালে আমার এক বন্ধুর অসুস্থতার গল্প আসবে, যা হয়তো আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে। তবে শুরু হোক ব্যথার গল্প। Continue reading

আমি সেইভাবেই লিখছি, যেইভাবে আমি কথা কই… সাহিত্যিক ভাষায় না: ইসমত চুগতাই

ইসমত চুগতাইরে চিনছিলাম তার ‘লিহাফ’ বইটা দিয়া। যিনি আমারে বইটা দিছিলেন, তিনি চাইতেন আমি ইসমতরে শুধু মান্টোর সমসাময়িক কেউ হিসেবে না চিইনা আলাদা একজন লেখক হিসেবে চিনি। আলাদা একটা এনটিটি। সেই চেনার জার্নির জের ধইরাই এই ইন্টারভিউর কাছে আসা। উনি এইখানে অনেক কথার জবাব দিছেন নিজের মতো কইরা, আবার অনেক জায়গায় হয়তো ঘুরায়া ফিরায়া একই কথা কইছেন। সেই একই কথা কওয়াটা আমার কাছে তার একটা জেদ মনে হইছে। তার লেখাগুলার মতোই, তার আলাপের মাঝেও সেই জেদটা এড়ায় যাওন যায় না।

তিনি নিজেই নিজেরে বারবার বেমানান হিসাবে তুইলা ধরছেন। তিনি কখনো কোনো সংগঠনে টিকতে পারেন নাই কেন– সেইটার কারণ হিসাবেও তিনি তার অতি খোলামেলা হওয়ার স্বভাবটারে আগায় রাখছেন। ইসমত খোঁচা দিতে জানেন। তার লেখাতেও, ইন্টারভিউতেও। সেই খোঁচা দেয়ার জন্য সাহস দরকার হয়, আর সেই সাহস তার ছিল। তবু কেন তিনি লিহাফের পর থাইকা লেখায় আগের মতো খোলামেলা হইতে পিছপা হইছেন, সেইটা আমার মাথায় ঢোকে নাই। তাইলে কি তার সাহসেরও একটা পরিসীমা ছিল?

এই ইন্টারভিউর অনেক জায়গায় তারে কিছু কিছু বিষয়ে, বিশেষ কইরা সাহিত্যের দিকটায় পিউরিটান বইলা ভুল হইতে পারে। মনে হইতে পারে, তিনি বেশ কিছু লেখারে হালকা বা সস্তা বইলা উড়ায় দিতে চাইছেন। তবে পুরাটা পড়লে খেয়াল হয়, হয়তো তিনি সবসময় এক্সিলেন্সের দিকে ছুটতে চাইছেন। নিজের লেখার ক্ষেত্রেও, অন্যের লেখার পাঠক হিসাবেও।

তার নিজেরে নিয়া একটা অন্যরকম অহঙ্কার ছিল। কিন্তু অহঙ্কারটা তারে কখনো ‘বড় লেখক’ হইবার তকমাতে রাখে নাই তার নিজের কাছেই। তিনি বরং অন্যরকম কেউ হয়ে বেশি ভালো ছিলেন। লেখার সাবজেক্টের জন্য তিনি কল্পনার আশ্রয় কম নিছেন, বরং আশপাশ দেখার চোখটারে ঘষামাজা কইরা তুলছেন। চেনা গণ্ডি, চেনা মানুষগুলা বাইরের পরত ছাইড়া তার লেখায় ধরা দিছে। নিজের মায়ের কাছ থাইকা পাওয়া অনাদর তারে প্রথম বুঝাইছে, নারীর মা বা স্ত্রী হওয়া ছাড়া একটা আলাদা পরিচয় আছে, ভাবনার জগত আছে।

লেবেল দেয়া প্রোগ্রেসিভ রাইটারদের সাথে তার নিত্য ওঠাবসা ছিল, সেইটায় সন্দেহ নাই। তার লেখার ধরনেও সময়ের আগে থাকার, নারীর যৌনতারে নতুন লেন্সে এক্সপ্লোর করবার বিষয় থাকছে। অথচ তিনি প্রোগ্রেসিভ লেবাস আলাদা কইরা ধরার জন্য নিজের ব্যক্তিগত ধ্যানধারণারে অযথা একটা শেইপ দিতে চান নাই। আর তাই হয়তো সোজা বইলা দিতে পারছেন, সাহিত্যের চাইতে তার সংসার তার কাছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এইটায় ভুরু কোঁচকানোর মতো একটা বিষয় ঘটতে পারত, কিন্তু এইটাও ভাবতে হবে যে ইসমত চুগতাই রাখঢাক ভালোবাসতেন না। তিনি তার প্রায়োরিটি তার মনমর্জিমতো বাইছা নিতে জানতেন। লেখক হিসাবেও, ব্যক্তি হিসাবেও। এবং অবশ্যই, একজন নারী এবং নারীবাদী হিসাবেও।

অনিন্দিতা চৌধুরী

মাহফিল: আপনারে উর্দু সাহিত্যের গইড়া উঠার পিছনে একজন কারিগর মনে করা হয়। আপনার প্রথম দিকের কিছু লেখার কথা কি বলতে পারেন? সেইসাথে কীভাবে প্রথম দিকের গল্পগুলা উর্দু লেখার জগতে আপনারে বড়সড় একটা জায়গা কইরা দিল, সেটাও।

ইসমত: আমি এই গ্রেড দেয়ার সিস্টেমে বিশ্বাস করি না, কোনো জিনিসেই। আর ‘বড়সড় জায়গা’ বলতে এমনিতেও কী বুঝাইতে চাইতেছেন? আমি যখন লেখা শুরু করি, তখন একটা ঝোঁক ছিল– বিভিন্ন রোমান্টিক বিষয় নিয়া লেখা অথবা প্রগ্রেসিভ ধরনের লেখালেখির। তাই আমি যখন লেখা শুরু করলাম, লোকজন খুবই তব্দা খায়া গেল, কারণ আমি কোনো রাখঢাক ছাড়াই লেইখা ফেলতাম। শুরুর দিকে সবাই ভাবসে যে এগুলা আমার ভাই, মানে আজিম বেগ চুগতাইয়ের লেখা। তাদের ধারণা, আমার ভাইই ছদ্মনাম নিয়া লিখতেছে। এমনকি তার মাথায়ও চিন্তা আইল, “আমার নাম আর স্টাইল নিয়া কে লিখতেছে?” আমরা ভাইবোন বইলাই মনে হয় আমাদের স্টাইলটা এক রকম ছিল।

এছাড়াও আমি ঠিক আপনাগো ‘সাহিত্যিকভাবে’ লিখি নাই। আমি সেইভাবেই লিখছি, যেইভাবে আমি কথা কই। খুবই সহজ ভাষায়, সাহিত্যিক ভাষায় না। মুখের ভাষা আর লেখার ভাষার মধ্যের ফারাকটা তো বোঝেন। আমি ব্যাকরণের হিসাবে মোটামুটি ভুলভাল বাক্যেই লিখতাম, কারণ বলার সময় আমরা এমনেই বইলা থাকি। তাই আমি এভাবেই লেইখা যাইতাম। এমনকি জানেন, আমার উর্দুও বেশ কমজোর ছিল। কারণ আলিগড়ে আমি পড়াশোনা করছি ইংরেজিতে। ইতিহাস, ভূগোল, অঙ্ক– সবই ছিল ইংরেজিতে, তাই উর্দুরে ঠিক আমার মাতৃভাষা কওন যায় না। এই ভাষাতে লিখতে তাই আমারে বেশ বেগ পাইতেই হইছে। আমারে সবসময় ইংরেজিতেই লিখতে হইতো তাই উর্দুর দিকে নজর দেওনের জন্য খুব কম সময়ই পাইতাম আমি। তখন উর্দু অত ইম্পর্ট্যান্টও ছিল না। নিজেদের ভাষা হওয়ায়ই আমরা যেন এইটারে তেমন পাত্তা দেই নাই। তাই বলা যায়, আমার উর্দু ছিল বেশ ভুলে ভরা, কিন্তু তারপরও আমি লিখতে শুরু করলাম। ঠিক আমার ভাষাটা লোকের নজর কাড়ে নাই। নজর কাড়সে আমার কোনো ভণিতা ছাড়াই লেইখা ফেলার স্বভাবটা।

মাহফিল: তাইলে সেই স্বভাবটা নিয়াই কিছু বলেন।

ইসমত: এইটা আসছে আমার ফ্যামিলি থাইকা। আমরা সবাইই খুব সোজাসাপ্টা ধরনের ছিলাম– আমার আব্বা, ভাইয়েরা, সবাই। আমরা কখনো আলাদা কইরা বসতাম না যে নারীরা একদিকে আর পুরুষরা অন্যদিকে। আমার আব্বা খুবই প্রগ্রেসিভ ঘরানার মানুষ ছিলেন এবং তার মনও আছিল অনেক উদার। তিনি সবার লাইগা সমান শিক্ষায় বিশ্বাস রাখতেন। ভাইদের লগে আমারেও সমান সুযোগই দিছেন। ঘোড়দৌড় থাইকা শুরু কইরা, সবকিছুই।

মাহফিল: আপনারা কয় ভাইবোন আছিলেন?

ইসমত: সব মিলাইয়া দশজন। ছয় ভাই আর চার বোন। এর মাঝে আমি আছিলাম নয় নাম্বার, এরপরে আরেকটা ছোট ভাই। আমাদের পুরা ছুট দিয়া রাখা হইতো। প্রতি রবিবারে আমরা শ্যুট করতে যাইতাম, ঘোড়া চড়তে যাইতাম। এক এক কইরা সবই করছি। আমি কখনো নিজেরে কোনো পোলার চাইতে কম মনে করি নাই। আমি তাদের লগে গাছে চড়তাম, সব জায়গায় ঘুরতে যাইতাম। আমার মাঝে নিজেরে নিয়া কখনো কোনো ইনফিরিয়রিটি আছিল না। আমার কখনো মনে হয় নাই যে আমি নারী বইলা লাজুক বা চুপচাপ হইতে হইব। এইটার কারণ অবশ্যই আমার বাইড়া উঠাটা। এছাড়া আমরা যৌনতার আলাপটাও বেশ খোলামেলাভাবেই করতাম, এমনকি আমাদের বাড়িতে ‘সেক্স’ জিনিসটা কখনো ট্যাবু হইয়া উঠে নাই। আমরা এসব নিয়া আলাপ করতে পারতাম। তখনো কোনো কোনো জায়গায় প্রেগন্যান্সির বিষয়টা পর্যন্ত মনে করা হইত গোপন কোনো বিষয়। কেউ কেউ এইটা নিয়া আলাপ করতে লজ্জা পাইত। তবে আমাদের বাড়িতে আমাদের ভাবীদের প্রেগন্যান্সি নিয়া খোলামেলা আলাপ হইতো। আমরা জীবনের মূল বিষয়গুলা খুব সহজভাবেই জানতাম, কারণ এইগুলা নিয়া নরমালি আলাপ করা হইত। অবশ্য সেই সময়ে সেইটারে বেশ অদ্ভুত কাজ মনে করা হইত এবং আমাদের সবাইরে লোকে পাগল কইত। অদ্ভুত আর পাগল। Continue reading

দুধ খামারীর মার্সিডিজ ট্রাক

ফ্যাক্টরির শ্রমিকেরা যার যার গাড়ি চালিয়ে এসে ফ্যাক্টরির বাইরে পার্ক করে অসহযোগ আন্দলোনে যোগদান করলেন। উনারা ফ্যাকটরিতে অবস্থান করে সারাদিন কোনো কাজ করবেন না। গত কয়েকদিন ধরেই অচলাবস্থা চলতেছে। এর মধ্যে মালিকপক্ষ আমাদের মতো ২০ জন সিকিউরিটি পারসোনেল নিয়োগ দিছেন – আমাদের মূল উদ্দেশ্য – এই আন্দোনে ফ্যাক্টরির যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য প্রপার্টি যেন অক্ষত থাকে – সেইটা দেখা। শ্রমিকেরা তাদের আন্দোলন নিয়ে ব্যাস্ত আছেন – আমরা আমাদের ডিউটি নিয়ে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমস্যা নাই।

.
তো এই ঘটনা থেকে যেইদিকে চোখ ফিরাতে চাই সেইটা হলো – শ্রমিকদের পার্ক করে রাখা গাড়িগুলি। শ্রমিকেরা নিজেদের গাড়ি চালিয়ে ফ্যাকটরিতে কাজ করতে যাবেন – এইটা আমার দৃষ্টিতে অভাবনীয়। ২০০৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত মেলবোর্নে ছিলাম উচ্চতর পড়াশুনার জন্যে, আর পড়াশুনার ফাঁকে রাজ্য-সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন দেয়া সিকিউরিটি পার্সোনেল অথবা ‘ক্রাউড কন্ট্রোলার’ হিসাবে কাজ করতাম নিয়মিত । নাইট-ক্লাবে, ক্যাসিনোতে ডিউটি দিলে আমাদেরকেই লোকমুখে বলে ‘বাউন্সার’। পড়াশুনার পাশাপাশি মাঠে ঘাটে কাজ করার ফলে ঐ দেশের মানুষজন, হালচাল – এইসব কিছুটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ ঘটে।

.
হিসাব করে দেখলাম মেলবোর্নে (অথবা বলা যায় ভিক্টোরিয়া স্টেটে) সেই সময় যেই ন্যূনতম মজুরী বিদ্যমান ছিল সেই মজুরীতে যদি কোনো স্বামী স্ত্রী দুইজন মিলে কাজ করে থাকেন তাইলে সুন্দর ভাবে গাড়ি করে, বাড়ি করে, নাগরিক জীবনের অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে, বাচ্চাদেরকে স্কুলে পড়িয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন তাঁরা। গাড়ি হয়ত আগে আগে হবে যেহেতু গাড়ি সস্তা। বাড়ি সামান্য দেরি হতে পারে – হয়ত অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পাড়া-গুলিতে বাড়ি হবে – কিন্তু সেই অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পাড়াগুলি যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন আর সুন্দর। নাগরিক সুবিধা যুক্ত।

.
অন্য আরেক উদাহরণ:

.
এক বাঙালি ভদ্রলোক একটা প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে গেছিলেন অস্ট্রেলিয়াতেই অন্য আরেক শহরে। শহর না বলে গ্রাম বলা উচিৎ। উনার থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল গ্রামীয় এলাকায় একজন দুধ-খামারীর বাড়িতে। উনি মজা করে বলতেছিলেন – একদিন ভোর পাঁচটার সময় উঠে দেখেন যে বাড়ীর কর্তা, তার স্ত্রী আর পাঁচ বছর বয়েসী শিশু – তিনজন মিলে খামারের সবগুলি গরুর বাটে দুধ সংগ্রহের যন্ত্র স্থাপন করলেন। দুই-এক ঘণ্টার মধ্যে দুধ সংগ্রহ শেষ হলে পরে উনারা গ্যালন গ্যালন দুধ কন্টেইনারে ভরে উনাদের ট্রাকে উঠালেন, আর তারপর অন্যত্র ডেলিভারি দিতে নিয়ে গেলেন। তো, তাঁদের দুধ ডেলিভারির জন্যে এইরকমের দুই তিনটা ট্রাক আছে – যেগুলি হলো সব দামী দামী মডেলের। মার্সিডিজ, ভলভো ইত্যাদি -এইসব। দুধ খামারীর থাকবে মার্সিডিজ ট্রাক – এইটা আমাদের জন্য অকল্পনীয়।

.
এইছাড়াও – আমি নিজে নিজে কয়েক মাসের মধ্যে একটা তূলনা চিন্তা করলাম। দেখলাম, ধরা যাক ঢাকা শহরে একজন শ্রমিক যে পরিমাণ টাকা আয় করেন – হয়ত তিন থেকে ছয় মাসে, খরচের পরে অল্প অল্প করে জমালে উনি নিজের গ্রামের বাড়ি একবার ঘুরে আসতে পারবেন, বাসে বা লঞ্চে করে যাতায়াত করবেন। কিন্তু একইভাবে মেলবোর্ন শহরে যদি কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করে থাকেন, তাইলে সেই একই সময় – অর্থাৎ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে, একবার ঢাকা ঘুরে যাওয়ার মতো টাকা উনি জমাইতে পারবেন। কিন্তু উনার যাওয়া আসা হবে এরোপ্লেনে। অর্থাৎ দুই জায়গাতে বিষয়টা একই, দুইজনই শ্রমিক, কিন্তু এক জায়গাতে অর্থের যোগান অনেক বেশি।

.
ওই দেশের সরকার বা সমাজ, সমাজের নানা শ্রেণীর মধ্যে অর্থের সুচারু ডিস্ট্রিবিউশনের দিকে অনেক আগে থেকেই মনোযোগ দিছেন, এবং ক্রমান্বয়ে এতদিনে এসে সফলকাম হইছেন। শ্রম-নির্ভর মানুষদের রীতিমতো ভালোভাবে খেয়ে পরে থাকার ব্যবস্থা করে দিছেন।

.
এই কারণেই, মোটা দাগে হয়ত বলা যায়, শ্রমজীবিরা ঐ দেশে হয়ে উঠছেন মধ্যবিত্ত।

Continue reading

ছুপারহিউম্যান

মার্ভেল এভেন্জারর্স। হাল্ক, থর, আয়রনম্যান, এস্পাইডারম্যান, অ্যান্টম্যান, ওয়ান্ডার ওম্যান, বেলাক উইডো, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, বেলাক প্যানথার, অ্যাকোয়াম্যান, আরো অনেকে। ডিজনি, ইউনিভার্ছাল, ছনি। হলিউডে ছুপারহিউম্যান ক্যারেক্টার বহুত, কোম্পানিও কয়েকটা, তার ভিতর আবার একটা আরেকটারে কেনে, বেচে, কত কি কাহিনি!

জনরা হিশাবে এইগুলা অনেকেই লাইক করে না, বাচ্চাদের ছিনামা মনে করে অনেকে, অনেকে ধুম-ধারাক্কা মারামারিতে বিরক্ত।

কিন্তু জনরা ইত্তাদির বাইরে দুয়েকটা ব্যাপার একটু ভাবতে কইবো আমি। লগে কিছু তুলনার ভিতর দিয়াও কয়েকটা শম্ভাবনার ইশারা দিতে চাই!

অনেক ডিটেইল না পইড়াই আমার একটা আন্দাজ দিয়া শুরু করি! হলিউডের এই ঘটনাগুলার লগে দুইটা জিনিশের খুবই ঘন রিশতা দেখতে পাই আমি; একটা হইলো, গিরিক মিথোলজি এবং আরেকটা হইলো নিৎশের ছুপারহিউম্যান!

ইউরোপ অফিশিয়ালি খিরিস্টান হইলো ৩০০ শালের পরে, তার আগে ইউরোপের ধর্ম মানে গিরিক মিথোলজি; ইব্রাহিমি ধর্ম লইয়া ইহুদিরা অনেক আগেই হয়তো ইউরোপে গেছে, রোমানরাও জেরুজালেম দখল করছে অনেক আগেই, কিন্তু ইহুদি ধর্মটা অনেকটাই এথনিক মেম্বারশিপের মামলা, নাইলে ইউরোপ হয়তো খিরিস্টান হবার বদলে ইহুদি হইতো!

তো, খিরিস্টান হবার পরে জিউসরা বেকার হইয়া পড়লো, ধর্ম থিকা ছেরেফ মিথোলজি হইয়া থাকতে হইলো ইউরোপের প্যাগান ধর্মরে!

এদিকে, অনেকগুলা লোকাল ইউরোপিয়ান ভাশায় বাইবেল তরজমা হইতে থাকলো ১২/১৩শ শাল থিকা, ছাপাখানা গজাইলো, তার পরের ইউরোপে, রেনেছার পরে, ছাইন্স, লজিক, ফিলোজফির তুমুল জোয়ারে খিরিস্টানদের ভিতর পোটেস্ট্যান্ট তো হইছেই অনেকে, আরো বেশি ছড়াইছে হিউম্যানিজম। একটাই অভাব আছিলো, ধর্মের কছমোলজির হিউম্যানিস্ট অল্টারনেটিভ এবং শেইটার পাটাতন বানাইয়া দিলো ডারউইন। এই হিউম্যানিজমের আখেরি ফল হিশাবে ইতিহাশে ছুপারহিউম্যান আশবারই কথা! কেবল ছুপারহিউম্যানের নয়া আইডিয়া না, পুরানা মিথোলজির অনেকেও তাদের ডিভিনিটি বা আছমানি কুদরত হারাইয়া মানুশ হইয়া পড়লো! কিন্তু তাদের ফিচার তো মানুশের তুলনায় বড়ো, তাই তাদের ভিতর হিউম্যানিজম পাইয়া গেল ছুপারহিউম্যানের নজরকাড়া ছুরত! জেমন ধরতে পারেন একিলিছের কথা!

তবু হিউম্যানিজম মেটাফিজিকেল থাইকা জাইতেছিলো, ঐ মেটাফিজিক্স থিকা হিউম্যানিজমের শাচ্চা নাজাত ঘটে নিৎশের হাতে! নিৎশের মানুশেরা দুইটা ক্যাটেগরির, পুচকে মানুশ আর ছুপারহিউম্যান, নিৎশের কাছে ‘বিবেক’ হইলো পুচকে দুর্বলের হাতিয়ার, ছুপারহিউম্যানকে বন্দি কইরা রাখার পায়তারা, বিবেক মানুশকে মেটাফিজিকেল বানাইয়া রাখে এবং নিৎশে হইলেন পুচকে দুর্বলের ঐ হাতিয়ার থিকা মানুশের শাচ্চা নাজাত বা মুক্তির নবি! নেচারাল ছিলেকশনরে মানুশের বিবেকের হাত থিকা মুক্তি দিতে চাইছেন নিৎশে, দুনিয়ায় কেবল শেরা মানুশ পয়দা করতে চাইছেন, দুর্বলেরা নিৎশের কাছে বেহুদা আবর্জনা। ইউরোপে জেছাসকে রিপ্লেছ করতে চাইছেন নিৎশে, হিউম্যানিজম নামের ধর্মের নবি হইলেন নিৎশে, আর তার বদলা লইতে খিরিস্টান ইউরোপ লিবারালিজমের ছুরতের তলে লুকাইয়া নিৎশেরে পাগল বানাইয়া দিছে।

মার্ক্স আছিলেন আরেক হিউম্যানিস্ট, উনি নিৎশের উল্টা হইয়া ধর্মরে (ধর্মই নিৎশের বিচারে বিবেক) পাওয়ারফুলের হাতিয়ার হিশাবে দেখছেন, তাই মার্ক্সেও বিবেক বেহুদা জিনিশ (দেশি মার্ক্সিস্টদের পুরাই উল্টা!)। মার্ক্সে ছাইন্টিফিক পোছেস আছে একটা, ডায়ালেক্টিক্সের ভিতর দিয়া একটা কেয়ামত হবার কথা জানাইছেন উনি, শেই কেয়ামতের পরে দুনিয়ার ইতিহাশে বেহেস্ত কায়েম হবে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →