মানুশ
ইছলামি ভাবুক-বয়াতি বা বহু মোছলমান ভাবুক বয়াতির একটা ভাবনা দেখি পেরায়ই জে, ইছলামকে লিবারালাইজ করার কিছু নাই, কেননা, তাতে শুরুতেই মাইনা নেওয়া হয় জে, ইছলাম ইনকমপ্লিট, এবং ইছলাম মোটেই তা না–জিন্দেগির তাবত ফয়ছালা/নিদান/দাওয়া ইছলামে আগেই হাজির আছে।
কেউ একজন মোছলমান না হইলে এনাদের ঐ দাবি না মানারই কথা, কিন্তু একজন মোছলমানের জন্ন ঐ দাবিটা ১০০% হক কথা, আলবত। কিন্তু বাস্তবে ঐ দাবির ফল কি হয়? ইছলামকে লিবারালাইজ করার পেরেশার এবং মোছলমান ভাবুক-বয়াতিদের ঐ দাবির দুশমনির বাস্তব ফল হইলো, লিবারালিজমের শকল ফিচারকে ডিনাই করা, লিবারালিজম আর ইছলাম–দুইটা খুবই উল্টা জিনিশ হইয়া পড়া!
এইখানে কইয়া নিতে হয় জে, লিবারালিজম জতো না দর্শনের টার্ম, তারচে বেশি পলিটিকেল টার্ম, মানে দর্শন আর পলিটিক্সের খুব ঘন রিশতা থাকার পরেও আমরা জেই অর্থে ডিছিপ্লিনগুলা ভাগ করি, করতে রাজি হই, একাডেমিক/দপ্তরি কামের ক্যাটেগরি হিশাবে; এই অর্থে লিবারালিজম আমার হিশাবে দর্শনের আরেকটা টার্মের পলিটিকেল মেনিফেশ্টেশন, শেইটা হইলো, হিউম্যানিজম। আজকে আমরা হিউম্যানিজমকেও অনেক বেশি পলিটিকেল টার্ম হিশাবেই দেখি, কিন্তু থিয়োলজির উল্টাদিকে ছাইন্টিফিক-রেশনাল ডিছকোর্ছের এরিয়ায় দর্শনের টার্ম হিশাবেই হিউম্যানিজমের আশল ছেন্টার। তাই এইখানে লিবারালিজম আর হিউম্যানিজম, দুইটা টার্মই এস্তেমাল করতেছি, আলাপের ফোকাছটা দর্শনে নাকি পলিটিক্সে বেশি করতে চাইতেছি, ছেরেফ শেই হিশাবে পড়তে কইবো টার্ম দুইটারে।
তো, ঐ দল দুইটা আমার হিশাবে ইছলাম আর লিবারালিজম, দুইটারই কতগুলা মর্মে নজর দেন না বা দেখতে পান না বা এড়াইয়া থাকেন!
ইছলাম আর খিরিস্টানিটি, দুইটাই আব্রাহামিক ধর্ম আর লিবারালিজমকে অনেকেই খিরিস্টানিটির ভিতর দিয়া পয়দা হওয়া বয়ান হিশাবে দ্যাখে। ওদিকে, লিবারালিজমের ভিতর থিকা তেমন কোন কনফেশন না থাকলেও ইছলামের ভিতর খিরিস্টানিটির ব্যাপারে একটা কনফেশন আছে। ইছলাম খিরিস্টানিটির পরের ধর্ম এবং দুইটা একই খোদার বন্দেগি করে, ইছলাম তাই, তার বয়ান মোতাবেক, নয়া জামানায় জেছাসের অধরা কাম পুরা করতে আইছে দুনিয়ায়। লিবারালিজম দুনিয়ায় ইছলাম জারি হবার অনেক পরের ঘটনা, এবং দুইটাই জদি খিরিস্টানিটির পরের পোজেক্ট হয়, খিরিস্টানিটির বয়ানের কন্টিনুশন হয়, তাইলে এই দুইয়ের, মানে ইছলাম আর লিবারালিজমের ভিতর কি কোন রিশতাই নাই!?
লিবারালিজম আমার হিশাবে খিরিস্টানিটির কন্টিনুশন না, বরং রিয়েকশন, দর্শনে খিরিস্টান থিয়োলজির জবাবে জেই ছাইন্টিফিক-রেশনাল ইশকুল হিশাবে জেই হিউম্যানিজম পয়দা হইলো, থিয়োলজির লগে গাটছড়া বান্ধা ফিউডালিজমের পোরতি শেই হিউম্যানিজমের পলিটিকেল জবাবের নাম লিবারালিজম এবং এই রিয়েকশনটা পয়দা হইতে ইছলামের জরুরত আছিলো খুবই! হিমালয়ের দখিনের এই ভুবনে জেমন বৈষ্ণব ধর্ম পয়দা হইতে ছুফি বয়ানের জরুরত আছিলো বা পরের রামমোহনের বেরাম্ম ধর্ম পয়দা হইতে খিরিস্টানিটির, লিবারালিজমের বেলায় তেমনি ইছলাম!
খেয়াল করলে দেখবেন, লিবারালিজম খিরিস্টানিটির গোড়ার জেই ভাবনার রিয়েকশন, ইছলামও শেই ভাবনায় নজর দিছে এবং দরকারি জবাবও বানাইছে! এবং খিরিস্টানিটির শেই ভাবনার নাম হইলো, মানুশ! খিরিস্টানিটি, ইছলাম আর হিউম্যানিজম (পলিটিকেল ডিছকোর্ছ হিশাবে লিবারালিজম), এই তিনটা বয়ান মানুশ বলতে খুবই জুদা জিনিশরে বোঝে; খিরিস্টানিটিতে অরিজিনাল ছিনের ভিতর দিয়া মানুশ মানে হইলো একটা পাপের ফল, মানুশ পাপি, এই দুনিয়ায় মানুশের শকল দুর্দশা-খারাপির (পানিশমেন্ট আশলে) গোড়ার কারন ঐ অরিজিনাল ছিন। হিউম্যানিজম মানুশকে ঐ অরিজিনাল ছিন থিকা আজাদ কইরা লিবারালিজম হইয়া উঠলো, ঐ আজাদির নামই লিবার্টি এবং ঐ কারনেই লিবারালিজমরে খিরিস্টানিটির রিয়েকশন কইলাম।
তো, অরিজিনাল ছিন থিকা আজাদ কইরা লিবারালিজম কই লইয়া গেল মানুশকে? লিবারালিজম কইলো, মানুশ পাপি না তো বটেই, মানুশ বাই ডিফল্ট ভালো, ছেরেফ ভালো না, মানুশ এমনকি জাস্ট বা ছহি, বুদ্ধিমান, মানুশের এলেমের বাইরে কিছু নাই এবং মানুশের মানুশ হওয়াটাই কাফি, আর কিছু দরকার নাই, মানুশ পারে, মানুশ তার নিজের ইতিহাশের কারিগর।
এই হিউম্যানিজম/লিবারালিজমের আগে ইছলামও খিরিস্টানিটির ঐ অরিজিনাল ছিনে নজর দিছে এবং মানুশের ব্যাপারে লিবারালিজম থিকা খুবই জুদা ডিছিশন পয়দা করছে ইছলাম। ইছলাম কইতেছে জে, মানুশ আশরাফুল মাকলুকাত– দুনিয়ার শকল এস্পেছিসের ভিতর মানুশ শবচে ভালো; তার মানে এই ভালোতা তুলনামুলক, অতুল ভালো না, একদম ছহি বা এবছলুট ভালো কইতেছে না ইছলাম। কারন কি? কারন মানুশ বুদ্ধিমান হইলেও শেই বুদ্ধি দিনদুনিয়ার শকল পর্দা ভেদ কইরা জাইতে পারে না, তার এলেম আছে, কিন্তু তা লিমিটেড, মানুশ আখেরে আরেকটা এস্পেছিস বা মাকলুকাতই, মস্ত জগতের তুলনায় অতি পুচকে! তাবত দুনিয়ার তুলনায় মানুশ এতোই পুচকে জে, মানুশ পয়দাও করতে পারে না, নিজের মরনও ঠেকাইতে পারে না। Continue reading