Main menu

আমারে যত বাঁধা দিতাছে, আমি তত শার্প হইতাছি – আজম খান

আজম খানের (১৯৫০ – ২০১১) এই ইন্টারভিউটা নেয়া হইছিল ২০১১ সালের মার্চ মাসে। উনি মারা যান জুন মাসে। ইন্টারভিউটা দেশ টিভি’তে দেখানো হইছিল। ইউটিউবে কয়েকটা ভার্সন পাওয়া যায় এই ইন্টারভিউটার। আমাদের জন্য ট্রান্সক্রিপ্ট’টা করে দিছেন হুসাইন হানিফ।

কবির সুমন: আজম সাহেব, আমি তো কলকাতার লোক।

আজম খান: আরে সাহেব বইলেন না, আহা, ভাই বলেন!

কবির সুমন: আমি তো কলকাতার লোক। কলকাতায় আমরা কিন্তু আপনার নাম শুনেছিলাম, কিন্তু গান শোনার সুযোগ কলকাতায়… আমি বলছি, আমার আজকে তেষট্টি বছর বয়স। আমরা বোধহয় প্রায় সমবয়সী?

আজম খান: হ্যাঁ। আমারও বাষট্টি চলতাছে।

কবির সুমন: কিন্তু সেই সময় এতটা যোগাযোগ ছিল না। ফলে আমরা অনেকেই দুর্ভাগ্যবশত আমরা প্রায় কিছুই জানি না। অথচ আপনি অবিসংবাদিতভাবে রক সম্রাট নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গেও। আপনি এই যে এই রকসম্রাট নামটা আপনার কেমন লাগে?

আজম খান: আসলে সম্রাট গুরু এইসবের জন্য তো আর আমি সঙ্গীত করি নাই। আমাদের ফ্যামিলির ট্রেডিশনের মধ্যেই সঙ্গীতটা আছে। আমাদের আত্মীয়স্বজন মা বাপ ভাই বোন, সবাই গান বাজনা কম বেশি জানে। তো এইখানে আমার মেজভাই আলম খান, সুরকার, সঙ্গীত জগতের। আর আমি এই লাইনে মানে কিছু না জাইনা আর কি।

তা আমার ইচ্ছা ছিল যে, প্রথমে গণসঙ্গীত করতাম আর কি; স্কুলে লাইফে, শেষের দিকে, তখন নাইন টেনে পড়ি। তখন পাকিস্তান সরকার আইসা আমাদের ঠকায়, তখন বুঝতাম আর কি। এই বিপ্লবী মাইন্ডের একটু ছিলাম। গান বাজনা গণসঙ্গীত গাইতাম। এই করতে করতে যুদ্ধ লাগলো। যুদ্ধে চইলা গেলাম। ওইখানে ক্যাম্প লাইফে, আগরতলায়, মেলাঘর ক্যাম্পে…

কবির সুমন: আপনি মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন?

আজম খান: হ্যাঁ, আমি একজন সেকশন কমান্ডার। আমার ভাইগ্য ভালো আমি ফ্রন্টেও ফাইট করছি সরাসরি—সম্মুখযুদ্ধ, এবং গেরিলা স্টাইলে, ঢাকা, ঢাকার আশেপাশে অঞ্চল—সব জায়গায় ফাইট করছি।

কবির সুমন: অত অল্প বয়সে?

আজম খান: তখন আমার বয়স কত, পঞ্চাশ সালে জন্ম, নাইনটিন ফিফটিতে—সেভেনটি ওয়ান—একুশ পার হয়া বাইশে পড়ছি। তো যাইহোক তখন তো গণসঙ্গীত শালবনের, সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে ডিউটি কিছু থাকত না।

ভাব বুইঝা গ্রেনেড বক্স, থালা বাসন চামচ লয়া আমরা হইচই করতাম। আর ঢাকার ছেলে, একটু ফরোয়ার্ড বেশি ছিল, স্বাভাবিক শহরের। আমরাই প্রাধান্য নিতাম আর কি। ওস্তাদ, টস্তাদ, অনেক—গ্রামের ছেলেরা সব আইসা হাজির হয়া যাইতো। একদম ডেইলি এইটা সন্ধ্যার সময় বান্ধা থিয়েটার ছিল। আর সবাই খুব মজা পাইতো। এই করতে করতে ওইখানে একটা গণসঙ্গীত আসর করলাম। প্রায় পাঁচ ছয়টা লোক। আপনার, তখন ওই, আর্মির অফিসারের ওয়াইফরা শুদ্দা কানতাছে। এত সুন্দর প্রোগ্রাম হইছিল।

তখন ফ্রন্টে চইলা গেলাম। এইখানে ত্রিপুরা রাজ্যের দুইটা মিনিস্টার ছিল, ওনারা রেডিও, তারপরে পেপার, দুধ, চা, চিনি—এইসব সব সেকশন কইরা দিল খুশি হয়া। আমরা খাইতে পারলাম না, আমরা ফ্রন্টে যুদ্ধে চইলা গেলাম। আসলাম, বেতন পাইলাম, ৫০, ৭৫ টাকা। যুদ্ধ টুদ্ধ শেষ হইলো।

তখন ঢাকার মনে করেন যে, মানুষ সংখ্যা খুব কম। ছেলেমেয়েরা শখে শখে গান বাজনা নাটক টাটক করে। তো আমি তখন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ছেলেমেয়েদের যাতে ডিস্টার্ব না করে একটু দেইখা রাখতাম, শিল্পীগোষ্ঠিটারে—পরিচিত সব। এরা প্রথম তখন টেলিভিশন আমাদের একটাই ছিল, ডিএটি’তে সেভেনটি ওয়ানের শেষের দিকের কথা আরকি। ওরা একটা প্রোগ্রাম করল ছাব্বিশ জন ছেলে মেয়ে মিইলা। খুব খারাপ প্রোগ্রাম হইছে, একদম, মানে এমন ফল করছে এমন— তাদের মুখ কালো একদম। আমার খুব প্রেস্টিজে লাগলো। তো আমি একটু বন্ধুবান্ধব আড্ডায় ইয়েতে গণসঙ্গীত, তারপর বানায়া ছানায়া ফকিরা গান… (উনি হাতে ইশারা করে দোতারা বা গিটারের মতো কিছু বাজানোর ভঙ্গি করলেন)

কবির সুমন: আপনি কি গিটার বাজাতেন?

আজম খান: না, আমি কোনো যন্ত্র বাজাইতে জানি না। এইটা কথা বলতে গিয়া বলতাছি…

কবির সুমন: (সেইদিকে ঈঙ্গিত করে) না, এইটা করছেন দেখে মনে হলো।

আজম খান: না, বলতাছি আর কি … তখন মনে করেন যে সারা পৃথিবীতে বিটেলস, রোলিং স্টোন, শ্যাডোস, পপের একটা হাওয়া বইতাছে—আমাদের ঢাকা শহরেও বেশকিছু শহরকেন্দ্রিক, ঢাকা চিটাগাং এইসব জায়গাও পপের একটা বাতাস বইতাছে। কিছু ইংলিশ গান টান হয়, প্রোগ্রাম ট্রোগ্রাম হয়। তা আমি চিন্তা করলাম, আমাদের বাংলাদেশের গান করে পপ স্টাইলের জার্নিতে। এই গানগুলি আমি গিটার ড্রামসেট এইগুলি দিয়া করব। কিন্তু ওদের বলি নাই, আমি বলছি তোরা একটা প্রোগ্রাম নে, প্রোগ্রাম নিয়া আমাকে একটু জানাইস।

কবির সুমন: আচ্ছা এই গানগুলি কি আপনাদের তৈরি?

আজম খান: আমারই ম্যাক্সিমাম। তৈরি বললে হবে না, আমি কিন্তু কাগজে কলমে লিখি না। স্লিপ অফ টাং বাইর হয়া যায়, ওইটাই পরে টাইনা গান বানায়া ফেলি, সুর-টুর লাগায়।

কবির সুমন: আচ্ছা, কোথাও লিখছেন না?

আজম খান: না। এই যে আজকে গান লিখতে হবে চেয়ার টেবিল নিয়া বসলাম এইটা না। জার্নিতে থাকতে, রিকশায় একটা গান বের হয়া গেল। এইভাবে হইছে আর কি। যেমন গানের ভেতর একটা গানের কথা বলি: আমার একটা গান আছে খুব ফেমাস, বাস্তবধর্মী আর কি। রেললাইনে ওই বস্তিতে জন্মেছিল একটি ছেলে, মা তার কাঁদে, ছেলেটি মরে গেছে, হায়রে হায় বাংলাদেশ, হায়রে হায় বাংলাদেশ।

এই গানটা, আমি যুদ্ধের পরে যখন আমাদের এইখানে খুব সময়টা খারাপ যাচ্ছিল, মানে কী বলব আর কি—দুর্ভিক্ষ। খালাম্মারা দুধ আনতে যাইতাছে কাদা পাড়ায়া, চেয়ারম্যান অফিসে, দুধ পায় না ফেডো। এই রাস্তা স্টেশন থাইকা আরামবাগ, নটরডেম পর্যন্ত, কালো হয়া গেছে, গ্রামের মানুষ ঢাকা আইসা গেছে। ঢাকা আসলে বোধহয় আমরা কিছু বাঁচতে পারব। এরকম দুর্ভিক্ষ। কালো ছায়া, মানুষ মইরা যাইতাছে, লাশ দাফন করার মতো মানুষ নাই। মা বাচ্চারে ফালাই থুয়া ভাগতাছে। আমি প্রোগ্রাম ট্রোগ্রাম কইরা আসতাম, বড় বড় বাবরি দাড়ি, বুঝছেন, একটু ভাব আলাদা, তখন আইসা দেখতাম, ছোট ছোট বাচ্চারা মামা মামা করত, আমিও পয়সাগুলি সব বিলায়া দিতাম। তখন আমার কইলজা ফাইটা গান বাইর হইলো, রেললাইনের ওই বস্তিতে জন্মেছিল একটি ছেলে, মা তার কাঁদে, ছেলেটি মরে গেছে। এইভাবে গানগুলি তৈরি হইছে আমার আর কি। Continue reading

Poetry in prose: Bankim Chandra Chattopadhyay

Translated by Rawnaque Mirashdar

Majority of the short poems incorporated in this book had been published in Bangadarshan previously. One “Jole Phul” was published in Bhramar; and two other written during my early years, were published in subsequent times.

If there is any lack that Bangla Literature carries, no such shortage of lyrical poetries in our terrain. From the time of Bidyapati until now, our poets have been showering us with lyrics. In such a case, I apprehend reprinting these few lyrical verses would only lead to exasperation among the readers. There was no necessity for this dew to be dropped in such a vast ocean; and so was there no intention from my side; and maybe that was the reason behind not reprinting them all these years.

Then why did I get involved in such a brazen venture now? Once Bangadarshan received a letter mentioning not all poetries published in Bangadarshan have been reprinted yet, and the writer of the letter is willing enough to offer reprinting them. You may think one could rejoice in such mystery! Well, to me it was the calling to forge my own path to avoid any kind of future collision. Which brought about this small nuisance to my readers. Especially, there is no new sin in preaching the ones already preached. If I have been convicted before for reaching the public with my repositories of writing, and if I have been forgiven for such a crime, I believe another such crime can be forgiven one more time.

This anthology accommodates three prose pieces alongside poetry. If I am asked why, I will not be able to clarify this decision well. However, I doubt this tradition we have obeyed until now that poetry must only be written in the form of verses. I have faith that others, too, have realized verses are not the only form of poetry. Sometimes, prose outweighs metrical composition in proper situations. Depending on subject matter verse can be suitable for poetry; however, so many other matters demand the usage of non-rhythmic prose. Verses become meaningful only where the language falls into rhythm with the glory of sentiment willingly by itself. Otherwise, sporting metrics for the sake of becoming a poet is barely a comic. The accommodation of these three proses in a poetry book particularly serves this purpose to exemplify the justified usage of such language. Some may say, there is no poetry in prose – it cannot be called one. I will not refute that argument. I can only say, as much as my prose is devoid of poetry, so are my poems. Hence, there should not be any conflict to compare the two.

Whatever the take on my other poems, the two early poems added here cannot plead for any forgiveness. Those two hold no quality. They are bleak, oblique, and nonsensically childish. They first got publicized when I was in college. One of my professors described them as “enigma” due to their obscurity, not that he said something wrong. That first version cannot be found nowadays; even I myself have destroyed many of the copies. So now, some of my friends, became fondly curious to read my early poetry. These two poems are reprinted to their satisfaction.

Bankim Chandra Chattopadhyay
1878

Clouds.

I shall not shower rain. What pleasure shall it be bringing to me? Treasure in the rain is only for thee. And what does your pleasure necessitate for me?

Behold, don’t I endure enough suffering? This flaming strike that my mighty chest carries invariably, it pleases one’s eyes, and can burn down cities. I, the bearer of flames; who else than me?

Witness, how restless the wind keeps me making! With no sense of its course, the wind is gusting all free. I am water-replete, beyond the push of the wind!

Fear not, I shall be showering rain; the earth will be green. Revere me!

Fear not, if my thunder rumbles too deep! When I thud on a bellowing spree; trembling the leaves, springing the branches, when I thud on a rumbling spree, in Indra’s bosom swayed are the Mandar’s rosary beads, forest then trembles, and caverns howl in glee. Don’t you overhear my thunder, while the beasts are being killed, you will fear me.

Of course, I shall shower rain! Look how the freshly flowers are glancing heavenward, praying for a droplet to be dripped. Who other than me, will water their fair fragrant body?

Of course, I shall shower rain! The withered rivers still need drenching. When rivers brim with blessings and rush to the sea, who wouldn’t want to rain watching this staggering beauty?

Or I shall not shower rain. That sinful woman has sullied my name, saying “This merciless God no longer contains”. No, I shall not shower rain!

Look how this peasant blames me for water dripping through his weary ceiling! How else could he be plowing without rain? I, the bearer of rain, had given life to him. Son, I shall not shower rain. Continue reading

এডিটোরিয়াল: পয়লা বৈশাখ, ১৪২৯

১.
“Traditions could be invented, drawing on a supposed history and legitimizing authority.”
– Romila Thapar

ঢাকার কালচারাল মিডল-ক্লাস’রা কয়দিন আগেও যেইভাবে পান্তা-ইলিশ খাইয়া পহেলা বৈশাখের দিন ‘হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য’ পালন করতো, যেইটা শুরু হইছিল ১৯৮০’র দিকে। চৈত্র-সংক্রান্তির মেলা তো অনেক দিন থিকাই দেখতেছি আমরা, বা অন্য অনেক রিচুয়ালগুলাও ছিল, আছেও।

যদিও বলা হয়, ৭ম শতকে রাজা শশাঙ্কের আমলে এই সন গোণা শুরু হইছিল, কিন্তু দিল্লীর রাজা আকবর ১৫৮৪ সালে খাজনা আদায়ের লাইগা যে এই জিনিস শুরু করছিলেন, এইটা মোটামুটি কনফার্ম বইলা দাবি করেন, হিস্টোরিয়ান’রা।

এখনো ট্রাডিশনাল ব্যবসায়ীরা তাদের বাকির খাতা ক্লোজ করেন, দেনা-পাওনার হিসাব মিলান। ইয়ার এন্ডিংয়ের কাজকাম শেষ হয়। মিস্টি খাওয়া-খাওয়ি হইতো, হয়। তো, অকেশন’টা ছিল – খাজনা-আদায়, বাকি-আদায় করা (এইখানে ইকোনমি’র একটা আলাপও আছে, আমি মনে করি, ব্যবসা জিনিস’টারে যেমনে বাকি-নগদের বেসিসে আমরা দেখি, ঘটনা’টা এইরকম ছিল না, এই অঞ্চলে… যেইখানে ব্যাংকিং সিস্টেমটা অন্যরকমভাবে অপারেট করতো)।

আর এর ভিতর দিয়া জমি’র অধিকার এক বছরের লাইগা ফিরা পাওয়ার, বাকি’তে ব্যবসা করতে পারার রিলেশনটারে রিনিউ করার একটা ঘটনা হয়া উঠতো। এইসব কারণে অনেক লোক জমা হইতো একটা জায়গায়; গ্রামে-গঞ্জে মেলাটাও ছিল চৈত্র-সংক্রান্তির দিনে… হাটে, মোকামগুলাতে লোকজন জড়ো হইতো বইলা।

তো, বৈশাখ মাসে যে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না এবং জাটকা ধরা’টা ঠিক না – এই কথা বলার আগ পর্যন্ত ‘হাজার বছরের ঘটনা’ হয়া ছিল বা হইতে নিছিল, এই ‘পান্তা-ইলিশ’। (এখনো আছে মনেহয়।) এইটা যতোটা না ইতিহাস, তার চাইতে বেশি একটা ‘ইতিহাসের ধারণা’, এবং ঢাকা শহরের কালচারাল মিডল-ক্লাসের অথরিটিতে এইটা এস্টাবলিশড হইতেছিল।

তো, ব্যাপারটা এইরকম না যে, পহেলা বৈশাখ বইলা কিছু নাই, বা এইরকম কিছু পালন করা যাবে না। বরং এইটারে একটা ন্যাশনালিস্ট জায়গা থিকা ‘হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য’ বানাইতে চাওয়াটা হইতেছে ঘটনা। ‘সার্বজনীন’ ‘অসাম্প্রদায়িক’ এই টার্মগুলাও রিসেন্ট ফেনোমেনা। ১৯৬০-এর দিকে ছায়ানটের গান আর ১৯৮৯-এ চারুকলার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র ভিতর দিয়া এই ‘ধারণাগুলা’ চালু করা হইছে।

এখন এই ‘ঐতিহ্য’ আমাদের মিডল-ক্লাস আরবান লাইফে এমন একটা কমোডিটি (commodity)’তে পরিণত হইছে যেইটার উপরে বেইজ কইরা ব্যবসা-বাণিজ্য, মার্কেট এক্টিভিটি চালানো যাইতেছে। (এইটাও বাজে জিনিস না, কিন্তু) আমাদের আরবান লাইফে পহেলা বৈশাখের তেমন কোন রিলিভেন্স যেহেতু নাই, একটা ‘ঐতিহ্য’ বানায়া নিতে চাইতেছি আমরা ।

এই বানায়া নেয়াটা অবশ্যই বাজে কিছু না, কিন্তু কিভাবে বানাইতেছি, কোন জায়গা থিকা বানাইতেছি, সেইটা খেয়াল রাখাটা দরকার। কারণ, লাইফের সাথে ডিসকানেক্টেট কোনকিছু ‘ঐতিহ্য’ হিসাবে বেশিদিন টিইকা থাকতে পারে না। এই ‘পহেলা বৈশাখ’ও মার্কেট ইকোনমি’র কারণে হয়তো কন্টিনিউ হইতে থাকবে, বা অন্য কোনকিছুতেও কনর্ভাট হইতে থাকবে, কারণ কিছু ‘ন্যাশনাল কালচার’ আমাদের দরকার, ‘রিকশা পেইন্টিংয়ের’ মতো।…

কিন্তু যেইটারে আমরা কালচার বানায়া নিতেছি, সেইটা যতোটা না ‘ঐতিহাসিক’ কোন জিনিস, তার চাইতে অনেক বেশি ‘ইতিহাস-ধারণা’ এবং ‘অথরিটি’র চাপায়া দেয়া একটা ঘটনাও হইতে পারে, অনেক সময়।

/২০২১

২.
যে কোন কালচারাল ইভেন্ট আসলে কখনোই নন-পলিটিক্যাল জিনিস না।

কিন্তু পয়লা বৈশাখের দিনে সকালবেলায় ছায়ানটের গান-গাওয়ার ঘটনাটারে যেমনে পাকিস্তান আমলে আইয়ুব-সরকারের বিরোধিতা বা পতন ঘটানোর জিনিস হিসাবে হাইলাইট করা হয়, এইটা ঠিক না আসলে। অই সময়ের সরকার হয়তো একটু অপছন্দ করছিল, মতের মিল হয় নাই; এর বেশি কিছু এইখানে থাকার কথা না। কিন্তু পরে ব্যাপারটারে ফুলায়া-ফাঁপায়া, সিগনিফিকেন্ট কইরা তুলতে চাওয়া হইছে।

একইভাবে ১৯৮৯ সাল (?) থিকা শুরু হওয়া ঢাকার চারুকলার “মঙ্গল শোভাযাত্রা”র শুরুর দিকে “স্বৈরাচার-বিরোধী” একটা ক্লেইম ছিল। পরে যেইটা “সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী” হইছে। মানে, আমরা খালি আমোদ-ফূর্তিই করতেছি না, একটা পলিটিক্যাল অ্যাক্ট করতেছি – এই জিনিসটা যতোটা জোশ দিতে পারে, তারে বাদ দিলে এর সিগনিফিকেন্সটা কইমা আসে তো কিছুটা।

আমার কথা হইতেছে, এই কানেকশনগুলা আছে কি নাই – এইটার চাইতে পিপল এর লগে কেমনে কানেক্টেড হইতেছে, সেইটা খেয়াল করাটা বেটার হইতে পারে।

আমি দেখি যে, এইরকম চৈত্র-সংক্রান্তির মেলা (৩১শে চৈত্র), “বান্নি”, হালখাতা, নানান রকমের সেলিব্রেশন ছিল বা থাকার কথাই। তবে অইগুলা ছিল “গ্রামের মেলা” 🙂 কিন্তু ঢাকা অ্যাজ অ্যা মেট্রোপলিটন-সিটি, রাজধানী, সেলিব্রেশনের জায়গাটা মিসিংই ছিল এইখানে। মেইনলি অই কালচারাল নিড’রে স্যাটিসফাই করতে গিয়া ঢাকা-ভারসিটির ক্যাম্পাস বেইজড এই প্রোগ্রামগুলা শুরু হইছে, (ষাট-সত্তরের দশকের ইনিশিয়েটড হইলেও) আশির দশকে আইসা। বাংলাদেশের ‘শিক্ষিত’ মিডল-ক্লাসের কোন কালচারাল ইভেন্ট অইভাবে নাই।

রমনা-টিএসসি-চারুকলার পয়লা বৈশাখ হইতেছে শহুরে, শিক্ষিত, মিডল-ক্লাসের কালচারাল ইভেন্ট।*
Continue reading

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ (১৯১১ – ১৯৮৪) – খুশবন্ত সিং

কলেজে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ আমার বছর দুয়েকের বড় ছিলেন এবং আমার স্ত্রীর থেকে বছর পাঁচকের বড়। তিনি মাস্টার্সে পড়ছিলেন — লাহোরে, ইংরেজি এবং আরবীতে। যদিও ছাত্র ছিলেন তবুও ইতিমধ্যেই ‘লাহোর এস্থেটিক ক্লাবে’র মোহে পড়ে এদের সাথে জুড়ে গিয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রফেসর এ.এস.বোখারি (পাত্রাস), ইমতিয়াজ আলী তাজ, মুহাম্মদ দিন তাসির এবং সুফি তাবাসসুমের মতো মানুষজনও ছিল। উঠতি তরুন কবি হিসাবে তাঁর খ্যাতির কারণে এটা হয়েছিল।

ষোল বছর বয়স থেকেই ফয়েজ কবিতা লিখতে শুরু করেন। শিয়ালকোটের মারে কলেজের একটি মুশায়রায় (যেখান থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন), তার প্রথম প্রকাশ্যে কবিতা পাঠের আসরে একটি দ্বিপদী শুনিয়ে তিনি তার জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন:

হে সাকি,
ঠোট বন্ধ হয়ে গেছে তো কি, আমার চোখকে করাও পান
না চাইতেই যে সরাব আছে তাই না হয় হোক আজ দান।

কয়েক বছর পরে আমি ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসি এবং লাহোরে বাসা বানিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করি। তখন থেকে আবার ফয়েজের সাথে আমার যোগাযোগ হতে শুরু করে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশ অনুসরণ করে, ফয়েজ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং অফিসারের উর্দি পরতেন। এই সময়েই অ্যালিস— যার বড় বোন তাসিরকে বিয়ে করেন— হরকিরাত সিংকে (উনি পরে একজন জেনারেল পদে পদোন্নতি পান) বিয়ে করতে ভারতে আসেন। উনার সাথে অ্যালিস স্যান্ডহার্স্টে ক্যাডেট থাকাকালীন সময়ে বাগদান করেছিলেন। ততদিনে অবশ্য ভারতে হরকিরাত সিং এক শিখ মেয়েকে বিয়ে করে বসেছিলেন। অ্যালিসের হৃদয় ভেঙ্গে চুর চুর হয়ে যায়। প্রত্যাবর্তনের কালে, তিনি ফয়েজকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি কন্যা সন্তান হয়-সেলিমা এবং মুনিজা।

Continue reading

গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা

গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল (১৮৮৯ – ১৯৫৭) একজন স্প্যানিশ ভাষার কবি। ওনার সম্পর্কে আর কিছু না জেনেও আপনি ওনার কবিতাগুলা পড়ে আরাম পাইতে পারেন। কিন্তু জানার পরে দেখা যাবে আপনি ওনার ইমোশানের লগে আরো বেশি এটাচড হইতে পারতেছেন। প্রথমে আমার নিজেরও মনে হয় নাই যে তিনি কোন বাচ্চারে নিয়ে কবিতা লেখছেন, নরমালিই একটা প্রেমময় আকুলতা টের পাইছি, কিন্তু ঐটা এত বেশি টানলো আমারে পড়তে পড়তে দেখলাম, ওনি এ কবিতাগুলা ওনার সেই জাদুরে নিয়ে লেখছেন যে কখনো দুনিয়াতেই আসে নাই। এমনকি তিনি নিজেও ছিলেন সিঙ্গেল। তাঁর একসময়ের প্রেমিক যে তাঁরে খুব পছন্দ করতো,তার সুইসাইড করার পরেই মূলত গ্যাব্রিয়েলার কবিতায় মন দেন সিরিয়াসলি। তিনি তাঁর নিজের নামে প্রথমে লেখা শুরু করেন নাই। কারণ, ওনার ভিতরে চাকরী হারানোর ভয় কাজ করছিল। একজন নারীর সমাজে ইমোশনালী অপ্রকাশযোগ্য কথাগুলা ভিতর থেকে বের করে আনতে গিয়ে ওনি চাকরী হারানোর ভয় পান। তো, যেকোন নারীই আসলে তার লগে ইমোশনালি কানেক্টেড হতে পারবে, এমনকি পুরুষরাও।

তিনি জন্মান ১৮৮৯ সালে, চিলির এক গ্রামে, যেখানে নদীর চরে চাষ হতো আঙুরের। যেই গ্রামে তার বাবা ছিলেন একজন স্কুল মাস্টার আর তিনিও বাপের মতন স্কুলের টিচার হিসাবে যোগ দেন। এই স্কুলের বাচ্চাদের জন্য তিনি ছোট ছোট কবিতা লেখতেন পড়া বুঝানোর সুবিধার্থে। আর সে সময় ‘রুমেলা উরেথা’ নামে এক যুবকের প্রেমে পড়েন তিনি। কিন্তু তাদের বিয়ার আগেই সেই প্রেমিক সুইসাইড করেন। আর এই মর্মান্তিকতার পরেই ওনার প্রথম কবিতার সিরিজ পুরো ল্যাটিন আমেরিকায় বের হয়। তিনি ব্যক্তি পরিচয় ছাড়িয়ে বৈশ্বিক চরিত্র বনে যান। তার নাম ”Lucila Godoy Y Alcayaga’ হয়ে যায় ‘Gabriela Mistral’।

নিজের বাচ্চা না থাকা আর একজন নারী হিসাবে বাচ্চাদের নিয়ে এত দরদের কবিতা লেখার মাধ্যমে, তিনি একজন সিরিয়াস এডুকেটর হিসাবেই কাজ করতে থাকেন৷ তাঁর কাজের একনিষ্ঠতা তাঁরে সরকারের এডুকেশন সেক্টরের বড়পদে আসীন করে। তাঁর পয়লা বই ”Desolaction'(১৯২২) ‘Spanish Institute of Columbia University’University’ থেকে প্রকাশিত হয়। ওনার আরো কিছু বই ‘Ternura'(১৯২৪), ‘Lagar’ (১৯৫৪)। তিনি স্পেনিশে জাস্ট গ্যাব্রিয়েলা হিসাবেই পরিচিত হয়ে যান। তাঁর মাতৃভাষায় তিনি সবচাইতে জনপ্রিয়দের একজন হয়ে যান। USA বা ইংল্যান্ডের চাইতেও তাঁর কবিতা কন্টিনেন্টাল ইউরোপেই বেশি অনুবাদিত হয়। এমনকি সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও।

তার বেশিরভাগ কবিতাই ছোট। আর অন্যান্য স্পেনিশ কবিদের তুলনায় যথেষ্ট সরল ও স্পষ্টভাষায় লেখা।

তাঁর কবিতা মারাত্মকভাবে নারীসুলভ হওয়ায় একজন নারীর জন্যেই এটা অনুবাদ করা সহজ ইমোশনালী। পুরুষের জন্যে বরং কিছুটা অস্বস্তিকরই। এই অনুবাদটা আমি করছি ‘Indiana University Press’ থেকে বের হওয়া ‘ Langston Hughs’এর ইংরেজী অনুবাদ থেকে। তিনিও বলতেছেন, এটা ওনি ভার্সিটির তদবীরে করলেও কাজটা ওনার জন্যে পুরুষ হিসাবে কিছুটা অস্বস্থিদায়ক ছিল। শুধুমাত্র কবিতাগুলা ভালো লাগাতেই এই অনুবাদ করেন ওনি।

গ্যাব্রিয়েলার বেশিরভাগ কবিতাই শিশু, মাতৃত্ব এবং ভালোবাসা নিয়ে। এক্ষেত্রে আমার মনে আসতেছিল ওরিয়ানা ফাল্লাচির ‘হাত বাড়িয়ে দাও’ বইটা আর কানে বাজতেছিল ‘নয়নমনি’ সিনেমায় ফেরদৌসি রহমানের গাওয়া ‘এত সুন্দর হেরেম বাদশা’ গানটা, আর চোখে ভাসতেছিল রওশন জামিলের দরদমাখা মুখটা। কারণ বাস্তবের অভিজ্ঞতার বাইরে মনে দাগকাটার মতন করে সাহিত্যে শিশু, মাতৃত্ব এসব কেন্দ্রিক লেখা তেমন চোখে পড়ে নাই আমার। আর এই কাজে বন্ধু লাবিব ওয়াহিদেরও ভূমিকা আছে বেশ। তিনি গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের একটা কবিতার খসড়া করতে না বললে হয়তো আমি এ কাজে মনই দিতাম না। খসড়া করার পরে ওনিই আবিষ্কার করলেন একটা খটকা আছে, এই কবিতা ওনার তুলনায় আমার স্বরেই ঠিকাছে। আমারই অনুবাদগুলা করা উচিত। আমারে টানলো আসলে, এত মিষ্টি আর দরদী এই কবিতাগুলা। ফলে যতটুকু নিজের ভাষায় এদেরকে ধারণ করতে পারছি মূলভাব বজায়েই তরজমার চেষ্টা করছি। তারপরও ইংরেজী অনুবাদের চাইতে যদি স্পেনিশ থেকে সরাসরি তরজমা করতে পারতাম তাহলে হয়ত গ্যাব্রিয়েলাকে আরো অনেকটা পাইতাম মনে হয়।

গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল বেশ নামডাক করার পরে সরকারীভাবে নানাদেশে ঘুরতে থাকেন। এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করেন। ১৯৩১ সালে তিনি USA তে ”Spanish History and Civilization’ এর উপর ইন্সট্রাক্টর হিসেবে যোগ দেন Middle Burry and Burnard Colleges এ। এরপরে কূটনৈতিক পদে তিনি সাউথ আফ্রিকা ও ইউরোপেও কাজ করেন। তিনি ‘United Nations Subcommittee’ এর মেম্বার হিসাবেও ছিলেন। ম্যাক্সিকোতে জাতীয় অতিথি হিসেবে থাকেন দুই বছর। ১৯৫৩ তে তিনি USA যান আবার। সেখানেই Roslyn Harber এ তিনি মৃত্যু পর্যন্ত স্থায়ী হন। আর ১৯৫৭ সালেই তিনি মারা যান। এ খবর চিলি পৌঁছালে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনদিনের শোক পালন করা হয়।

তো, তিনি এমন একজন কবি যিনি যতটা না কবি তার চাইতে বেশি যেন একজন মা হয়ে আছেন কবিতায়। এটাই কবিতাগুলার সার্থকতা। বাকিটা আপনারাই বলবেন কবিতাগুলা পড়ার পরে। হ্যাপি রিডিং…

– রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

ঘুমপাড়ানি গান

কিনারে আসো
~
আমার মাংস থেকে উঠে আসা ছোট্ট লোমেরা
আমার এত ভিতর থেকে গজানো—
তারা ঠান্ডারে নিতে পারতেছে না
আমার কিনারে ঘুমাও, (সোনা)!

তিতির ঘুমায় যেমন সবুজ চাদরে
আর ভয় পায় ঘাউরা কুত্তারে:
কিন্তু আমার নাকডাকার ভয় তুমি নিয়ো না
আমার কিনারে ঘুমাও!

ঘাসের ফলাগুলা যেমন কাঁপতেছে ভীত জীবনে
আমার ব্রেস্টও—দলিত কইরো না গো,
ঘুমাও আমার কিনারে!

আমি—যে সব হারাইছি
ঘুমের চিন্তায় কাঁপতেছি এত—
আমার আজাত্তুন সরি যাইয়ো না
ঘুমাও আমার কিনারে!

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →