Main menu

চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী – মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮৬৬)

মাইকেল মধুসূদন দত্তরে (১৮২৪ – ১৮৭৩) বলা যাইতে পারে পয়লা সাকসেসফুল পোয়েট, কলোনিয়াল বাংলা-ভাষার। নাটক, প্রহসন লেখলেও উনার “মেঘনাথবধ কাব্য” এবং “চতুর্দ্দশপদী কবিতা” হইতেছে সবচে সিগনিফিকেন্ট ঘটনা। উনার আগে বাংলা-ভাষায় যারা কবিতা লেখছেন – ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২), এমনকি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও (১৮১২) কবিতাতে ইউরোপিয়ান, কলোনিয়াল চিন্তা ও ফর্মরে সেন্টার করতে পারেন (চাইছিলেনও কি!) নাই। সেইখানে মাইকেল মধুসূদন দত্ত-ই ফার্স্ট এক্সাম্পল।

এইটা বাদে বা এইটাসহ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতার আরো এটলিস্ট দুইটা সিগনিফেকন্স আছে। এক, উনি ‘আধুনিক’ বা কলোনিয়াল-বাংলাতে লেখছেন। যেইটা ধরেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রেস্কাইবড বাংলা, সংস্কৃত-বহুল, কইতে গেলে ঝঙ্কার উঠে, জিব্বায় টং কইরা উঠে, এইরকম।… মানে, মাইকেল মধুসূদন দত্তের আগে (এবং এমনকি পরেও) এই ঝঙ্কার খুববেশি পাইবেন না। এইটা উনার ভাষার একটা ইউনিক ফিচার। উনার কবিতা আধুনিক-কলোনিয়াল বাংলা-ভাষার একটা মেনিফেস্টেশন। যেই কারণে “অতি আদরের জিনিস” এবং এখনো কলেজ-ভারসিটিগুলার বাংলা-ডিপার্টমেন্টে উনার কবিতা পড়ানো হয়। ভাষা হিসাবে “আধুনিক” – এইটা মেজর একটা ক্লেইম উনার কবিতার।

সেকেন্ড হইতেছে, কবিতার ফর্ম। মধুসূদনের আগ পর্যন্ত বাংলা-কবিতা ছিল “গীতি-কবিতা” এবং এর পরেও তিরিশের দশকে আইসা ইউরোপিয়ান মডেলটা আইডিওলজিক্যালি বাংলা-কবিতার দখল নেয়ার আগ পর্যন্ত কবিদের গান লেখতে হইতো, গান বা গীতি-কবিতা না লেইখা কারো পক্ষে কবি হওয়াটা বেশ টাফ ছিল, মানে, তেমন কোন নজির মনে হয় নাই।… গান আর কবিতা – দুইটা আলাদা ঘটনা হইতে পারে নাই অইভাবে, বাংলা-ভাষায়। (কিছু ফারাক তো ছিলই, কিন্তু সেইটা জরুরি ছিল না।) কিন্তু মধুসূদনের কবিতা তো গান না-ই, বরং এর থিকা অনেক দূরের একটা ঘটনা। সুর কইরা তো অবশ্যই পড়া যায়, কিন্তু সেইটা হইতেছে “কবিতার ছন্দ”। সনেটের চাইতেও উনার বড় আবিষ্কার হইতেছে “অমিত্রাক্ষর ছন্দ”; করি, পড়ি, মরি… এইরকম মিল-দেয়াটা যেইখানে জরুরি না।… কিন্তু উনার এই ছন্দ “অলংকার” হিসাবেই রয়া গেছে, অনেক বেশি ফলো করা হইছে – এর উদাহারণ কমই।

তো, খালি ছন্দই না, কবি হিসাবে উনার লিগাসিও পরের বাংলা-কবিতাতে কমই। মানে, খেয়াল করলে দেখা যাবে, মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতা এক ধরণের “বিচ্যুতি”, বাংলা-কবিতার হিস্ট্রিক্যাল কনটেক্সটে। কিন্তু অই একসেপশনের কারণেই সেলিব্রেটেড – এইটা ভাবাটা কিছুটা ভুলই হবে। যদিও এইটাই ন্যারেটিভ হিসাবে চালু আছে। কিন্তু সোশিও-পলিটিক্যাল জায়গাগুলারে বাদ দিয়া পড়ার কারণে এইটা অনেক বেশি অবভিয়াস মনে হইতে থাকে আসলে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত অবশ্যই ‘বিদ্রোহী’ হইছেন, ট্রেডিশনাল বাংলা-কবিতার কনটেক্সটে, কিন্তু সেইটা হইছেন উনি ‘ইউরোপিয়ান’ ট্রেডিশনরে মান্য করার ভিতর দিয়া। কলকাতার বামুনদের দিয়া ‘ত্যাজ্য’ হওয়ার পরে এর চে বড় বামুনের পৈতা উনি পড়ছেন। এবং একসেপ্টেড হইছেন। এইটা খালি উনার কবি-জীবনের ঘটনাই না, কবিতার ব্যাপারেও ইরিলিভেন্ট না এতোটা। এট লিস্ট দেড়শ বছর পরে আইসা এইটা কিছুটা খেয়াল করতে পারা যাইতে পারে মনে হয়।…

৩.
বঙ্গভাষা

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;—
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;—
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে—
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥

১৬.
কবি

কে কবি— কবে কে মোরে? ঘটকালি করি,
শবদে শবদে বিয়া দেয় যেই জন,
সেই কি সে যম-দমী? তার শিরোপরি
শোভে কি অক্ষয় শোভা যশের রতন?
সেই কবি মোর মতে, কল্পনা সুন্দরী
যার মনঃ-কমলেতে পাতেন আসন,
অস্তগামি-ভানু-প্রভা-সদৃশ বিতরি
ভাবের সংসারে তার সুবর্ণ-কিরণ।
আনন্দ, আক্ষেপ ক্রোধ, যার আজ্ঞা মানে
অরণ্যে কুসুম ফোটে যার ইচ্ছা-বলে;
নন্দন-কানন হতে যে সুজন আনে
পারিজাত কুসুমের রম্য পরিমলে;
মরুভূমে— তুষ্ট হয়ে যাহার ধেয়ানে
বহে জলবতী নদী মৃদু কলকলে! Continue reading

ফিকশন হইলো ফ্রিডম – সুসান সনট্যাগ

This entry is part 16 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

সুসান সনট্যাগের জন্ম ১৯৩৩ সালের জানুয়ারিতে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে। লেখালিখি, ফিল্ম বানানো, থিয়েটার, পলিটিকাল অ্যাক্টিভিজম- সবকিছুই করছেন। বেশ ছোট থাকতেই উনার বাবা মারা গেছিলেন, মাও দূরে দূরেই থাকতেন। আনহ্যাপি চাইল্ডহুড পার করছেন বই পইড়া, নিজের ম্যাগাজিন বানায়া। পনের বছর বয়সে হাইস্কুল পাশ কইরা বার্কলিতে ঢুকেন, পরে শিকাগো ইউনিভার্সিটিতে চইলা আসেন। ওইখানে লিটারেচার পড়তে গিয়া উনি সেরা কয়েকজন টিচারের মেন্টরশিপ পান, উনি পরে যাদেরকে উনার ইনফ্লুয়েন্সও ধইরা নিছেন। ১৯৫১ সালে গ্র্যাজুয়েট করার পর হার্ভার্ডে লিটারেচার আর ফিলোসফিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করেন। এরপর কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, সারাহ লরেন্স কলেজ, হার্ভার্ডে উনি রিলিজিয়ন আর ফিলোসফি পড়াইছেন। প্রথম নভেল দা বেনেফ্যাক্টর (১৯৬৩) বের হওয়ার পর উনি পড়ানো ছাইড়া দেন, কারণ উনার কাছে একসাথে একাডেমিক লাইফ আর লেখালিখি চালানোটা বেমানান মনে হইছিল।

সনট্যাগের এসেগুলা মডার্ন কালচারের ম্যালা দিকগুলারে সিরিয়াস ফিলোসফিকালভাবে দেখে। পার্টিসান রিভিউতে পাবলিশড নোটস অন ক্যাম্প (১৯৬৪) এসেতে উনি আর্টকে নতুন ভাবে চিনাইছেন, আর্টের বিভিন্ন মিথরে ডিবাংক করছিলেন। এই লেখাটা দিয়া উনি আরো পরিচিত হইছিলেন, মাদমোজেল ম্যাগাজিনের মেরিট অ্যাওয়ার্ড পাইছিলেন। স্টাইলস অফ র‍্যাডিকাল উইল এ উনি পর্নোগ্রাফিকে লিটারেচারের আলাদা একটা ক্যাটেগরিতে ফেলার ইম্পর্ট্যান্স নিয়া লিখছেন। দা বেনেফ্যাক্টর এর আগে উনি পার্টিসান রিভিউ, নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস এর মত পিরিওডিকালের জন্য এসে লিখতেন, যেগুলা পরে এগেইনস্ট ইন্টারপ্রিটেশন (১৯৬৬) এ পাবলিশড হইছে। উনি এইটাতে বলছেন, “ক্রিটিসিজমের কাজ হইলো দেখানো যে আর্টটা আসলে কেমন। আর্টের পিছের মিনিং দেখানো ক্রিটিসিজমের কাজ না।” উনার পরের নভেল ডেথ কিট (১৯৬৭) এর পরে বেশ বড়সড় গ্যাপের পর ভলকানো লাভার (১৯৯২) আর ইন আমেরিকা (১৯৯৯) পাবলিশড হয়, দুইটাই হিস্টোরিকাল নভেল। এর মাঝে এসে লিইখা গেছেন, স্টাইলস অফ র‍্যাডিকাল উইল (১৯৬৯), অন ফটোগ্রাফি (১৯৭৭), আন্ডার দা সাইন অফ স্যাটার্ন (১৯৮০),ইলনেস অ্যাজ মেটাফোর (১৯৭৮)। ইলনেস অ্যাজ মেটাফোর লেখার সময় উনার ক্যান্সার ছিল, নিজের লাইফের এক্সপিরিয়েন্স আর এইডসের কথা এইটাতে উইঠা আসছে।

উনি ট্রাভেলিং কইরা বেড়াইতেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় দুই সপ্তাহ নর্থ ভিয়েতনামে থাকছিলেন। সেই এক্সপিরিয়েন্স নিয়া লিখছিলেন ট্রিপ টু হ্যানয় (১৯৬৯)। ইন্টারভিউ নেয়ার সময় বসনিয়া যুদ্ধ চলতেছিল, উনি সারায়েভোতে বারবার যাওয়া আসা করতেছিলেন, কন্ট্রিবিউট করতেছিলেন। সারায়েভোর সিজের সময় উনি ওইখানের একটা থিয়েটারে একটা নাটক নামাইছিলেন, যদিও সেই এরিয়াতে সাড়ে তিন বছর ধইরা কারেন্ট অফ করা ছিল, তাই মোমবাতি জ্বালায়া কাজ করতে হইছিল। উনারে সেইখানকার অনরারি সিটিজেনশিপ দেয়া হয় আর ২০১০ সালের দিকে সারায়েভোতে ন্যাশনাল থিয়েটার চত্বরের নাম উনার নাম অনুসারে রাখা হয়।

ক্রিটিসিজম আর ফিকশন লেখার পাশাপাশি নাটক আর ফিল্মেও উনি সমানভাবে ইন্টারেস্টেড ছিলেন। ’৬৭ সালের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে জুরর ছিলেন, নিজেও কয়েকটা ফিল্ম বানাইছেন- ডুয়েট ফর ক্যানিবালস (১৯৬৯), ব্রাদার কার্ল (১৯৭১), প্রমিজড ল্যান্ডস (১৯৭৪)। ন্যাশনাল বুক ক্রিটিক সার্কেল অ্যাওয়ার্ড, ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ, ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড, জেরুসালেম প্রাইজসহ বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড পাইছেন। সনট্যাগ ২০০৮ সালে ৭১ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান।

/রূপকথা নাওয়ার, ২০২২

Continue reading

মাইনোরিটি লইয়া রকম শাহের বয়ান

This entry is part 6 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

বাংলাদেশি হিন্দুর বেদনা

অন্নের বেদনা বুঝতে শবচে দরকারি জিনিশের নাম দরদ। কেবল বেদনা না, আরেকজনের শুখও আপনে বুঝতে পারবেন না দরদ ছাড়া। এবং দরদ আর ভালোবাশা দুই জিনিশ; নিজের বাছুর ভালোবাশেন আপনে, তার শুখ বা ব্যথা–দুইটাই বুঝবেন শহজে, তার হাশি বা ফুর্তি ভালো লাগে আপনার, কত কি করেন তার জন্ন, তার ভালো লাগার দরকারে!

কিন্তু দুনিয়ায় আপনে ভালোবাশতে পারবেন ছেরেফ ২/৪ জনরেই, বেশিরভাগ মানুশ বা আর শব মাকলুকাতেও আপনের ভালোবাশা নাই; তাই ছেরেফ ভালোবাশা দিয়া আর কারো শুখ বা বেদনা বুঝতে পারবেন না আপনে, এইটার জন্ন আপনের লাগবে দরদ। দরদ আর ভালোবাশার ফারাক বুঝতে আরেকটা ব্যাপার ভাবতে পারেন; ভালোবাশার মানুশটা বা কুত্তাটা বা গাছটা চোখের শামনে না থাকলেও, ৩ মাশ মোলাকাত না হইলেও মনে পড়তেছে, তার হালত চিন্তা কইরা উতলা হইতেছেন, বিচ্ছেদ নামের একটা মনপোড়া ঘেরান পাইতেছেন বুঝি, কিন্তু গরহাজিরে দরদ অতো উতলায় না, চোখের শামনে একটা এক্সিডেন্ট দেখলেন বইলাই ঠাং ভাংগা লোকটারে হাশপাতালে লইয়া গেলেন, মনে মনে হয়তো ভাবতেছেন, ক্যান জে এই দিকে আইছিলাম! মরাল ডিউটির বাইরেও তার বেদনা আপনের উপর আছড়াইয়া পড়তেছে ছাতিমের কাচা গুইয়া গন্ধের মতো!

তো, ভালোবাশা বেশ অটোমেটিক ঘটনা, পরানের ভিতর আগেই ঢুইকা আছে জেন! কিন্তু দরদের ছবক লাগে। চর্চার ভিতর দিয়া আপনে দরদ বাড়াইতে পারেন, আবার দরদ নাই কইরা দিয়া পুরাই নিঠুরিয়া এক শয়তান হইয়া উঠতে পারেন। ভাবেন, জেই মোলায়েম লোকটা পুলিশে ঢুকলো, ৩ বছর পরে শেই লোকটা রিম্যান্ডে পাইয়া একজনের নখ উপড়াইয়া ফেলতেছে, তার ফেমিলিরে হাতুড়ির ছবি পাঠাইয়া কইতেছে, পয়শা লইয়া আশো, নাইলে জয়েন্টে জয়েন্টে হাতুড়ি দিয়া বাড়ি দিবো–কেমন চর্চার ভিতর দিয়া এইখানে আইলো শে! তার ভালোবাশা কিন্তু কমে নাই, বউয়ের একাউন্টে টাকা রাখতেছে, মাইয়ার মুখে আব্বা ডাক শুনলে তার মন নাচে, ফোকলা মায়রে ভর্তা কইরা দিতেছে পান-শুপারি, আরেকটা ফেলাটে রাখছে আরেকটা মাইয়ারে, রিম্যান্ডের ঐ লোকটার নখ তার ফেমিলিরে পাঠাইয়া জেই টাকা পাইলো, ঐ টাকাতেই কোরবানির আগে নকল দাত বানাইয়া দেবে ঐ মাইয়ার বাপেরে! তার ভালোবাশা আরো বাড়ছে এই কয় বছরে, দরদ একদম শুন্ন হইয়া!

আমি নিজে খুব দরদি মানুশ আছিলাম না, কিন্তু গত ১০/১৫ বছরে আমি এইটা একটু একটু কইরা বাড়াইতে পারছি মনে হয়! বিবেক নামের মরাল দড়ি তো আছেই, তার বাইরেও দরদ নামের জিনিশটা আমি চর্চা করতে চাইছি। আমি তাই মাইনোরিটির বেদনা বুঝতে পারি মনে হয়!

কিন্তু কেবল দরদ না, মাইনোরিটির বেদনা বুঝতে পারার আরো কিছু রাস্তা আছে আমার! এই জিন্দেগিতে আমি জে কোন কালেকটিভে মাইনোরিটিই আছিলাম মনে হয়–নিজের ফেমিলি থিকা ভার্ছিটির র‍্যাগ, নিজের ডিপার্টমেন্ট-কেলাশ, হল, চাকরি–শবখানেই তো! মাইনোরিটির ফিচার জদি ভাবি ‘কমজোর’, তাইলে ছাত্রলিগ আর ছাত্রদলের শাশনে কাটাইছি কয়েক বছর, রুম থিকা বাইর কইরা দিতে চাইছে–এগুলার ভিতরে আছিলাম। এখন, এই তুমুল বাকশালে জয়েন করতে পারতাম, ওনাদের ডিজিটাল আর্মির ছিপাই হইতে পারতাম, হই নাই। ফেছবুকে আতলামি করি, বয়ান দেই, কেউ পাত্তা দেয় না, দুয়েকজন জারা পছন্দ করে, তারাও আমার ভাশা বা বানানে মহা বিরক্ত, জে কোন অর্থেই মাইনোরিটি আমি, কেবল ধর্ম আর জাতি বাদে! এই ধর্মের মেজরিটিও আশলে নামে, ধর্মে জারা মাইনোরিটি, তারা হয়তো মেজরিটি ভাবে বা ধর্মের মাইনোরিটি হিশাবে আমার বাড়িতে হামলা হবে না, কিন্তু ধর্ম বলতে আমি জা বুঝি, আমার ধর্মরে আমি জেমনে তাফছির করি, নিজের বয়ানে হাজির করি, তা আশলে কেবল মাইনোরিটি না, আমি একলাই হয়তো!

কিন্তু এইভাবে ভাবা হয়তো ঠিক হয় না, দুনিয়ার শবাই কোথাও না কোথাও মাইনোরিটি, অন্তত কমজোর অর্থে! বাংলাদেশে নিজেরে মাইনোরিটি কইয়া মাইনোরিটির বেদনার মাপে আমার বেদনারে দেখা ঠিক হবে না, তাদের বেদনারে পেরায়ই ছোট করা হবে তাতে!

তো, বাংলাদেশে মাইনোরিটি বলতে জাতি হিশাবে মাইনোরিটির আলাপ ততো নাই, কেবল ধর্মের মাইনোরিটিই বুঝায় লোকে, তাও আহমদিয়াদের না, এমনকি খিরিস্টানদেরো না, বৌদ্ধ না, কেবল হিন্দুরাই জেন মাইনোরিটি এই দেশে! এই ভুলভাল মানার পরেও কইতে হয় জে, হিন্দুদের উপর হামলা বাস্তব, হিন্দু হিশাবেই তারা জুলুমের শিকার হয় মাঝে মাঝে।

বাংলাদেশে কলিকাতাই ভাশা, এছথেটিক্স, বাংগালি জাতিবাদ, বাকশালি জুলুম জেমনি কমাইতে হবে আমাদের, তেমনি হিন্দুদের উপর জুলুমও কমাইতে হবে, জে কোন জুলুমই খারাপ, তাই হিন্দু হিশাবে জেই জুলুম, তাও শমানই খারাপ!

তো, হিন্দুদের উপর জুলুম কমাইতে কি কি করতে পারি আমরা? মেজরিটি ছেরেফ জুলুম না করলেই তো হয়! কিন্তু তা কি হইলো, মেজরিটি তো জুলুম করতেছে, অন্তত মেজরিটির নামে, মেজরিটির জিকির করতে করতে হিন্দুদের উপর হামলা করা জায়, জাইতেছে আরামে! দেশের শরকার, পুলিশের এই ব্যাপারে জা জা করা উচিত, তা করে না তারা, তাদের জুলুমের ভাগ আমরা শবাই পাইতেছি, তাই হিন্দুরাও পাইতেছে। এগুলা ঠেকাইতে পারতেছি না আমরা, বা হিন্দুরা। তবে শরকারি জুলুম হয়তো হিন্দুদের উপর তুলনামুলক কম, অন্তত এই বাকশালি হুকুমতে! ছেরেফ কোরোছফায়ার চিন্তা করেন, দেশে হিন্দু জদি হয় ১০%, কোরোছফায়ারের ভিকটিমদের ভিতর কি তাদের ১০% শেয়ার আছে? ঠিকঠাক হিশাব বাদেই আন্দাজ করতে পারি, নাই। ইনডিয়া হিন্দু রাশ্টো, বাকশালি হুকুমতে তাই ইনডিয়ান হাতিরেও ‘আপনি’ কইতে হয়, বাংলাদেশে হিন্দুর শার্থ দেখায় ইনডিয়া একটিভও থাকে হরদম! ইতিহাশের এই শর্তগুলা জেমনি একদম আমলে না নেওয়া ঠিক হবে না, তেমনি এমন কোন ঘটনার দোশ দেশের হিন্দুদের দেওয়াও ঠিক হবে না!

কিন্তু এইগুলা বাদে জদি ভাবতে চাই, মানে হরদম হাজির থাকার পরেও একটু মুলতবি রাইখা জদি ভাবতে রাজি হই দুয়েকটা পোশ্ন–দেশের হিন্দুরা কি কি করতে পারে তাদের উপর জুলুম কমাইতে–তা কি তারা করতেছে? কতটা করা শম্ভব আশলে, তাদের পক্ষে? ইনডিয়ার বদলে তারা জে বাংলাদেশের নাগরিক, এইটা কি একদমই নেগেটিভ তাদের জন্ন? বাংলাদেশটারে ইউজ কইরা তারা কি এমন কিছু করতে পারতো বা পারে জা ইনডিয়ায় পারতো না?

বাস্তবে জদি দেখেন, বাংলাদেশটারে ইউজ কইরা এই দেশের হিন্দুরা এখনি একটা ফায়দা হাছিল করে, অন্তত পোলা হিন্দুরা, ইনডিয়ার হিন্দু হইলে জেইটা পারতো না! ইনডিয়ায় ২০০৪ শালে ১৯৫৬ শালের আইনটারে হালনাগাদ করছে দেখলাম, তাতে হিন্দু মাইয়াদের মা-বাপের ওয়ারিশ বানানো হইছে, পোলা বাছুরের শমান ওয়ারিশ। কিন্তু বাংলাদেশের পোলা হিন্দুরা বাংলাদেশটারে ইউজ কইরা মাইয়া হিন্দুদের ঠকাইতে পারতেছে আরামে! Continue reading

বইয়ের লেখা: রিডিং সিনেমা ইন বাংলাদেশ

[এই লেখাগুলা মোস্টলি ২০১৩-১৬ সালের দিকে লেখা, ২০২০-২২ সালেরও কিছু লেখা আছে। লেখাগুলারে মুভি-রিভিউ হিসাবে পড়লে একটু মুশকিলই হইতে পারে। সিনেমাগুলা দেখতে গিয়া কিছু জিনিস মনে হইছে, যেইগুলা পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সের লগে রিলেট করা বা সিনেমারে তার টেকনিক্যালিটির জায়গা থিকা দেখার ঘটনাও না; বরং একটা সময়ে (২০১১ – ২০২১) ঢাকা শহরে বইসা কেমনে সিনেমা দেখা হইতো, সেইটার একটা উদাহারণ হিসাবেই দেখা যাইতে পারে। মানে, সিনেমা এইভাবে দেখতে হবে – এই সাজেশন হিসাবে দেখলে ঝামেলাই হবে। বরং সিনেমারে কেউ এইভাবে দেখছেন। এইরকম একটা ঘটনা।

আর এই বই পড়ার লাইগা এই সিনেমাগুলা দেখা থাকাটা মাস্ট না, তবে দেখা থাকলে কথাগুলারে রিলেট করতে তো সুবিধাই হবে। দেখা না থাকলেও আন্দাজ কইরা নিতে খুববেশি সমস্যা হওয়ার কথা না মনেহয়। তবে একটা জিনিস হইতেছে, ক্ল্যাসিক মুভি বা ভিজ্যুয়ালস খুববেশি নাই এইখানে, একটা সময়ের পপুলার সিনেমাই এইগুলা। যার ফলে অই জেনারেশনের আগের এবং পরের লোকজনের জিনিসগুলার লগে কানেক্ট করতে একটু ডিসট্যান্ট ফিল করার কথা। তবে, সিনেমা জিনিসটাও তো মনেহয় কম-বেশি এইরকমই, একটা সময়েরই ঘটনা।

তবে দেখাদেখির জায়গাতে হয়তো আরো অনেক ভ্যারিয়েশন থাকতো পারতো; বা আছে তো আসলে – অই এক্সপেক্টশনটা ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখাটা বেটার। মানে, আমি যা বলছি বা যেইটুক দেখছি, ঘটনাগুলা এইটুকই না, সবসময়।

জানুয়ারি, ২০২২]

রিডিং হিন্দি সিনেমা ইন বাংলাদেশ

এইটা মোটামুটি বেশ চোখে পড়ার মতো ঘটনা যে, বাংলাদেশে সবচে বেশি কনজিউম হয় হিন্দি সিনেমা। বাংলাদেশি বাংলা, কলকাতার বাংলা, হলিউডি ইংলিশ এবং অন্য ভাষার সিনেমা (মানে, আর্ট ফিল্ম আর কি, যেহেতু এক টিকেটে দুই-সিনেমার মতো হংকংয়ের সিনেমা ত আর দেখায় না এখন সিনেমাহলগুলা) – এইরকম কোন দেশে বানানো, সেইটার ক্যাটাগরি করলে হিন্দি-সিনেমাই বেশি দেখা হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে হিন্দি সিনেমার কনজামশন নিয়া তেমন কোন আলাপ দেখি নাই। (২০১৩ সালের কথা বলতেছি আমি।)

আমার দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা বা জানা-শোনার কমতি এইক্ষেত্রে প্রশংসার জিনিস হইতে পারে। কিন্তু ধরেন, সিনেমা নিয়া নানান ধরণের লেখা, অনুবাদ তো দেখছি; সিনেমা থিওরি, ক্লাসিক্যাল মুভিস, গ্রেট ডিরেক্টরস, ইন্টারভিউ, হলিউডের সিনেমার ইন্টারপ্রিটেশন, এমনকি স্ক্রিপ্টেরও অনুবাদ। মানে, সিনেমা নিয়া কোন আলাপ যে নাই – তা না; বরং ক্যাটাগরি হিসাবে পপুলার হিন্দি সিনেমা, বাংলাদেশে সিনেমার আলাপের ভিতর আসতে পারে না, এইটা আমার প্রথম অ্যাজাম্পশন।

কেন আসে না বা করা হয় না, সেইটা নিয়াও কিছু অনুমান করা সম্ভব। ১৯৮০র দশকে ভিসিপি যুগ থিকাই দেখছি, হিন্দিরে ইন্টেলেকচুয়ালি একটা ইনফিরিয়র ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে কনসিডার করা হয়। কারণ, আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল বেইস হইতেছে লিখিত সাহিত্য; রবীন্দ্রনাথ বাংলায় লিইখা নোবেল পাইছেন (হোক না একশ বছর আগের কথা), আবার উর্দুতে যা-ও ধরেন, মান্টো, ফয়েজ, ইকবাল… উনারা আছেন; হিন্দি’র ত সেই বেইজ-ই নাই; খুবই ফাঁপা একটা ভাষা এবং এর সিনেমাও খালি অহেতুক নাচ-গান, সুড়সুড়ি এবং হলিউডের নকল!

যদিও রিসেন্টলি ভ্যারিয়েশন বাড়ছে, হিন্দি সিনেমার; যেমন ধরেন, আমির খানের তারে জামিন পে‘র কথা ইউনির্ভাসিটির টিচারও তার ক্লাশের স্টুডেন্টদের রিকমেন্ড করেন দেখার জন্য, গ্যাংগস অফ ওয়াসিপুর অস্কারে যায়; এই কারণে কাহিনি-সংক্ষেপ লেখা হয় বিনোদন পাতায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে (মাঝে-মধ্যে, সবসময় না; যদি ইন্টেলেক্ট কোন উপাদান খুঁইজা পাওয়া যায়); তারপরও মোটামুটি হিন্দি সিনেমার মূল ট্রাডিশন একটা নেগেটিভ ফেনোমেনা হিসাবেই পারসিভড হওয়ার ঘটনা, বাংলাদেশে। কিন্তু এইরকম বাজে পারসেপশনের পরেও, গড়ে এমন কোন মধ্যবিত্ত মধ্যবয়স্ক (গড় বয়স ৭০ ধরলে, ৩৫ বছরের) মানুষ (পুরুষ এবং মহিলা) বাংলাদেশে পাওয়া সম্ভব না, যিনি সিনেমা দেখেন এবং শ’খানেক হিন্দি সিনেমা দেখেন নাই। এইটা অনেকটা হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ার মতো ঘটনা; এন্টারটেইনমেন্টের জন্য পড়া/দেখা, টাইম-পাস; কিন্তু ইন্টেলেকচুয়াল কোন ভ্যালু আসলে নাই!

অথচ এই টাইম পাস এর ভিতর দিয়া যে ভ্যালুস সে সার্ভ করে; সেইটা পাবলিক এসথেটিকসরে গ্রসলি নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে, বাংলাদেশে হিন্দি সিনেমারে ইগনোর করাটা কোন কাজের জিনিস বইলা মনে হয় না। কারণ এইটার একটা কনসিন্ডারেবল লেভেলে ইনফ্লুয়েন্স আছে আমাদের চিন্তা-ভাবনা এবং জীবন-যাপনে।

এইটা যে আছে সেইটা নিয়া কোন কথা বাড়াইয়া সম্ভবত কোন লাভ নাই। বরং কেন এবং কিভাবে আছে সেইটা নিয়া কথা বলা যাইতে পারে।

এর্পাট ফ্রম বড় পুঁজি এবং টেকনিক্যাল সুপিয়রিটি, হিন্দি সিনেমা ক্যান ক্রিয়েট লার্জার ইমেজ – এইটা একটা বড় দক্ষতা এবং এইটা মোটাদাগে তৈরি হয় রেদার দ্যান জীবন-ঘনিষ্ঠ হওয়ার চাইতে অবজেক্টিভ হিসাবে ইমেজের পারফেকশনের বাইছা নেয়াটার কারণে। সবক্ষেত্রে যে একজেক্টলি এইটাই ঘটে, তা না; কিন্তু এইভাবে ব্যাখ্যা করা যাইতে পারে একটা প্রবণতা হিসাবে, যা হিন্দি সিনেমারে মোটাদাগে অডিয়েন্সের কাছাকাছি নিয়া আসে। কারণ দর্শক নিজ’রে ইমেজ হিসাবে দেখতে চায় না; ইমেজরে নিজ হিসাবে পারসিভ করতে চায় আর বেশিরভাগ জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমাই একটা স্পেস রাখে যেইখানে ব্যর্থ প্রেমিক হিসাবেও আপনি নিজেরে মহান ভাবতে পারেন, সেই কমল হাসানের ‘সাগর’ থিকা শুরু কইরা সঞ্জয় দত্তের ‘সাজন’ পর্যন্ত। Continue reading

যারা জুলুমের বিরুদ্ধে ফাইট করতেছে তাদের মধ্যেকার থিওরেটিকাল ডিফারেন্সগুলা নিয়া মাথা ঘামানোটা হইতেছে একটা বিলাসিতা – নেলসন ম্যান্ডেলা

রিভোনিয়া ট্রায়ালে দেয়া নেলসন ম্যান্ডেলার জবানবন্দি

১৯৪৮ সালের ইলেকশনে আফ্রিকানার ন্যাশনালিজমের দল ন্যাশনাল পার্টি ক্ষমতায় আসে। পরে ১৯৬০ এ ন্যাশনাল পার্টির ডাকা গণভোটের মাধ্যমে সাউথ আফ্রিকা ব্রিটিশ সম্পর্ক ছিন্ন করে, রিপাবলিকের জন্ম হয়, মূলত আফ্রিকানার’দের ভোটেই এটা ঘটে। তখনও কোনো ইলেকশন বা গণভোটে নেটিভ তথা ব্ল্যাকদের ভোট দেয়ার সিস্টেম নাই। ব্ল্যাকদের কোনো পলিটিকাল রাইট-ই ছিল না।

ম্যান্ডেলার স্পিচটা পড়তে গেলে দেখবেন নেটিভদের “আফ্রিকান” বলতেছে। এই স্পিচ পড়তে গেলে বুঝার উপায় নাই যে, এই “আফ্রিকান” বলতে আসলে একটা জাতি না, বরং বেশ কয়েকটা জাতি আর ট্রাইব, আর এদের মধ্যে প্রচুর রেশারেশি-ও ছিল। ম্যান্ডেলার দল ছিল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি), যারা সব নেটিভ তথা ব্ল্যাকদের আফ্রিকান ন্যাশনালিজমের পতাকাতলে আনতে পারসিলো। আর এটা সম্ভব হইসিলো ন্যাশনাল পার্টির হোয়াইট সুপ্রিমেসি এবং জুলুমের কারণেই।

ন্যাশনাল পার্টি সাউথ আফ্রিকায় এপার্থেইড চালু করে। এপার্থেইড একটা আফ্রিকান্স ভাষার শব্দ, যার লিটারেল মিনিং এপার্ট-হুড বা সেপারেট-নেস। সাউথ আফ্রিকা এবং সাউথ ওয়েস্ট আফ্রিকা (বর্তমান নামিবিয়া)’তে কাস্ট সিস্টেম ধরনের ব্যাপার ছিল, যেখানে হোয়াইট’রা সবার উপরে, তারপর ইন্ডিয়ান এবং কালার্ড’রা, শেষে ব্ল্যাক আফ্রিকান’রা, আর এই হায়ারার্কির উপ্রে বেইজ কইরা আইন তৈয়ার হইতো, যেখানে নির্ধারণ কইরা দেয়া হইতো কার পলিটিকাল – ইকোনোমিকাল – সোশাল রাইট কদ্দূর, কাকে কোন রাইট থেকে এক্সক্লুড করা হবে, কে কার লগে বিয়েশাদি বা সেক্স করতে পারবে, এবং এমনকি কে কোথায় থাকতে পারবে, জমি কিনতে পারবে, কতটুক ফ্রি-লি মুভ করতে পারবে (একজন ব্ল্যাক কেবল তার নিজের জন্য নির্ধারিত জায়গায়, আর যেখানে তার হোয়াইট এমপ্লোয়ি তারে এমপ্লয় করসে সেখানে মুভ করতে পারতো, আর সেটাও এমপ্লোয়ির সাইন করা পাস বই ছাড়া না), আর এভাবেই মাইনরিটি হোয়াইট পপুলেশন গোটা সাউথ আফ্রিকায় নিজের কব্জা ধইরা রাখতে পারতো আর স্লেভারি উইঠা যাবার পরও ব্ল্যাক’দেরকে প্রকারান্তরে স্লেইভ-ই বানায়া রাখতো। তবে এপার্থেইড শব্দটা খালি সাউথ আফ্রিকার ক্ষেত্রে লিমিটেড থাকে নাই (আর এখন তো এপার্থেইড উইঠা গেসে ওখান থেইকা)। অন্যান্য দেশ, যেমন ইজরায়েলের ক্ষেত্রে অনেকসময় এই ওয়ার্ডটা ইউজ করা হয় এখন।

ন্যাশনাল পার্টি মূলত পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করসিলো। শান্তিপূর্ণ ওয়েতে প্রোটেস্টের রাস্তাগুলাও আইন কইরা বন্ধ কইরা দিতেছিলো। আর এএনসি-ও ক্রমশ ভায়োলেন্ট পলিসি এডপ্ট করতে থাকে। এইগুলার ডিটেইলস আপনেরা ম্যান্ডেলার স্পিচটাতে এবং ফাঁকে ফাঁকে অ্যাড করা টিকা’গুলাতে পাইবেন। আমি জাস্ট ব্যাকগ্রাউন্ডের কথাগুলা হালকা করে বইলা রাখতেছি, যাতে রিডারের কানেক্ট করতে সুবিধা হয়।

১৯৬৩ সালের ১১ জুলাই রিভোনিয়ার লিলিসলিফ ফার্মে আত্মগোপনে থাকা এএনসি’র বেশ কিছু নেতা এরেস্টেড হন। শুরু হয় রিভোনিয়া ট্রায়াল। নেলসন ম্যান্ডেলা নিজেও ১৯৬১ তে এখানে হাইডে ছিলেন। বাট রিভোনিয়া ট্রায়াল (যেই ট্রায়ালে তিনি এক নম্বর আসামী) শুরুর সময় তিনি অন্য মামলায় অলরেডি পাঁচ বছরের লাইগা দণ্ডপ্রাপ্ত। এটার ব্যাপারে স্পিচের শুরুতে ম্যান্ডেলা কথা কইছেন। যাই হোক, রিভোনিয়া ট্রায়ালে আসামীদের বিরুদ্ধে আনা চার্জগুলা ছিল – সাবোটাজ, গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া, কমিউনিজম কায়েমের নীলনকশা করা, বিদেশী টাকা লইয়া দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা, এইসব।

এখানে একটা ব্যাপার হইতেছে ন্যাশনাল পার্টি গভরমেন্টের উপর জাতিসংঘ সহ নানা আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তেছিলো, ম্যান্ডেলা সেটা জানতেন। ওনার স্পিচের দ্বারা উনি দুনিয়ার কাছেও নিজেদের সিচুয়েশন এবং পজিশন ক্লিয়ার করছেন নিপুণতার সহিত। আর, সাউথ আফ্রিকায় ডেমোক্রেসির ধারণা তৈরীতে এই স্পিচ খুবই ইম্পর্টেন্ট রোল প্লে করসে, এবং পৃথিবীর জন্য, আর বিশেষ কইরা বাংলাদেশের মতো অভাগা দেশগুলার মানুষের জন্য এই স্পিচ সিগনিফিকেন্ট। নেলসন ম্যান্ডেলা আর তার দল তাদের স্ট্রাগলে যে প্রজ্ঞার পরিচয় দিছেন, সেইটা থেইকা আমাদের ডেমোক্রেসির পক্ষের নেতাদের আর দল’দের শেখার আছে বইলা আমার মনে হয়।

লাবিব ওয়াহিদ
মে, ২০২২

আমি এই মামলার এক নম্বর আসামী।

আমার একটা ব্যাচেলর ডিগ্রী আছে আর্টসে, এবং জোহানেসবার্গে একজন এটর্নি হিসাবে কয়েক বছর আমি অলিভার ট্যাম্বোর সাথে পার্টনারশিপে কাজ করসি। অনুমতি বাদে দেশ ছাড়া এবং ১৯৬১ সালের মে মাসের স্ট্রাইকে অংশ নেয়ার জন্য মানুষকে খেপায়া তোলার অভিযোগে আমি অলরেডি পাঁচ বছরের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত একজন কয়েদি।

শুরুতে আমি যেটা বলতে চাই তা হইলো, রাষ্ট্রপক্ষ তার শুরুয়াতে যেই কথাটা বলসেন যে সাউথ আফ্রিকার সংগ্রাম বিদেশী শক্তি বা কমিউনিস্টদের থাবার নিচে আছে, এইটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। আমি যা করসি তা আমি করসি একইসাথে একজন ইন্ডিভিজুয়াল হিসাবে এবং আমার মানুষদের নেতা হিসাবেও, এবং আমি তা করসি সাউথ আফ্রিকায় আমার এক্সপেরিয়েন্সের কারণেই, আর আফ্রিকান ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রতি আমার গর্ববোধ থেকেই আমি তা করসি, কোনো আউটসাইডার কী বললো না বললো তার লাইগা আমি এসব করি নাই।

তরুণ বয়সে ট্র্যান্সকাই’তে আমার ট্রাইবের মুরুব্বিদের কাছে আমি পুরানা দিনের গল্প শুনতাম। এর মধ্যে অনেক গল্প ছিল সেইসব যুদ্ধের যা আমাদের পূর্বপুরুষেরা জন্মভূমি রক্ষার লাইগা করসিলেন। ডিঙ্গেন, বেমবাতা, হিনসা, মাকানা, স্কুংথি, ডেলেসাইল, মোশুশু, সেখুখুনি – এনাদের গুণগান করা হইতো গোটা আফ্রিকান জাতির গর্ব হিসাবে। আমার আশা ছিল এটাই যে আমার জাতির সেবা করার এবং তার স্বাধীনতার স্ট্রাগলে নিজের ক্ষুদ্র অবদানটা রাখতে পারার সুযোগ যেন জীবন আমারেও দেয়। এটাই আমারে মোটিভেটেড করসে সেই কাজগুলা করতে যেই কাজগুলার জন্য আমার নামে এই মামলা করা হইসে।

এই পর্যন্ত বলার পর, এখন আমার অবশ্যই ভায়োলেন্স প্রশ্নে কিছু কথা বলার দরকার আছে। এই কোর্টে এখন পর্যন্ত যা যা বলা হইসে, তার কিছু সত্য এবং কিছু অসত্য। তবে, সাবোটাজ’এর পরিকল্পনার সাথে আমি যুক্ত ছিলাম না – এই কথা আমি বলবো না। কোনো বেপরোয়া ভাব থেইকা বা ভায়োলেন্সের প্রতি কোনো ভালোলাগা থেইকা আমি সাবোটাজের প্ল্যানিং করতে যাই নাই। আমি এইটা করসি ঠান্ডা মাথায় এখানকার পলিটিকাল সিচুয়েশনের মূল্যায়ন করার মাধ্যমে, যে সিচুয়েশনটা তৈরী হইসে অনেক অনেক বছর ধইরা শাদা’দের হাতে আমার জনগণের উপর চালানো স্বৈরশাসন, জুলুম আর শোষণের কারণে।

আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্বীকার করি, আমি ‘উমখন্তো ওয়ে সিজওয়ে’র জন্মের সাথে যুক্তদের একজন, এবং ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে এরেস্ট হওয়ার আগে পর্যন্ত এই সংগঠনে আমার স্পেশাল ভূমিকা ছিল।

আমার জবানবন্দিতে আমি রাষ্ট্রপক্ষের উইটনেস’দের তৈয়ার করা কিছু মিথ্যা ধারণা শুধরাবো। অন্যান্য জিনিশের পাশাপাশি, আমি এইটা ক্লিয়ার করবো যে এভিডেন্স হিসাবে উপস্থাপন করা কিছু কিছু কাজ উমখন্তো’র দ্বারা ঘটে নাই, এবং ঘটতে পারে না। আমি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং উমখন্তো’র মধ্যেকার সম্পর্কের বিষয়েও বলবো, এবং এই দুই সংগঠনে আমি পার্সোনালি কী রোল প্লে করসি সেইটার ব্যাপারেও বলবো। এবং কমিউনিস্ট পার্টির কী ভূমিকা ছিল সেইটা নিয়াও বলবো। এই সব জিনিশ ঠিকমতো ব্যাখ্যা করার খাতিরে আমার প্রথমে ব্যাখ্যা করা লাগবে উমখন্তো কোন উদ্দেশ্যে যাত্রা করসে; এইসব উদ্দেশ্য পূরণ করার কোন কোন উপায় সে প্রেসক্রাইব করসে, এবং কেন এইসব উপায় চুজ করা হইসে। আমি আরো ব্যাখ্যা করবো কীভাবে আমি এইসব সংগঠনের কাজেকর্মে জড়িত হইলাম।

অভিযোগে উল্লেখ করা কিছু কিছু জিনিশ আমি ডিনাই করি, ওগুলা স্পষ্টভাবেই সংগঠনের পলিসির বিরোধী। আমার জানা নাই ঐসব কাজের পিছনে কোন জাস্টিফিকেশন আছে, তবে এইগুলার পিছে যে উমখন্তো’র অনুমোদন থাকতে পারে না সেইটা পরিষ্কার করার লাইগা আমি সংক্ষেপে এই সংগঠনের জন্ম আর তার পলিসির ব্যাপারে কিছু বলতে চাই।

আমি অলরেডি ব্যাপারটা মেনশন করসি যে, উমখন্তো’র জন্মের সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। আমি, এবং অন্য যারা এটার শুরুয়াত করসিলাম, তারা এইটা করসি দুই কারণে। এক, আমরা মনে করসি সরকারি পলিসিগত কারণেই আফ্রিকান জনগণের সামনে ভায়োলেন্স বাদে আর কোনো রাস্তা খোলা নাই, এবং, যদি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের ফিলিংসকে চালিত ও নিয়ন্ত্রিত না করা যায় তাইলে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়া পড়বে এবং দেশের ভিন্ন ভিন্ন জাতি-বর্ণের মধ্যে শত্রুতা আর তিক্ততার জন্ম হবে। দুই, আমরা বুঝতে পারসি যে ভায়োলেন্স বাদে আফ্রিকান জনগণের পক্ষে শাদা বামুনবাদ [White Supremacy] এর নীতি থেইকা মুক্তিলাভ করা সম্ভব না। এই নীতির বিরোধিতা করার যাবতীয় আইনসম্মত উপায়কেই বন্ধ করা হইসে নতুন আইনের মাধ্যমে, এবং আমাদেরকে এমন একটা অবস্থায় ফেলা হইসে যে – হয় চিরকাল নিচু হইয়াই থাকতে হবে, অথবা সরকারকে ডিফাই করতে হবে। আমরা ডিফাই করার পথকেই বাইছা নিসি। আমরা প্রথমে আইন অমান্য করসি এমন উপায়ে যা যেকোনো রকম ভায়োলেন্সকে এভয়েড করে; যখন এইটার বিরুদ্ধে আইনি-ব্যবস্থারে ইউজ করা হইলো, এবং যখন সরকার অপজিশনকে দমন করার জন্য শক্তির প্রয়োগ করতে লাগলো, শুধুমাত্র তখন আমরা ডিসাইড করলাম ভায়োলেন্স দিয়া ভায়োলেন্সের জবাব দেয়ার।

কিন্তু যেই ভায়োলেন্সের পথ আমরা চুজ করসি তা টেররিজম না। আমরা যারা উমখন্তো গঠন করসি তারা সবাই আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সদস্য ছিলাম, নন-ভায়োলেন্স আর আলোচনার মাধ্যমে পলিটিকাল সমস্যার সমাধান করতে চাওয়ার যেই লম্বা ঐতিহ্য এএনসি’র আছে তা আমাদের রক্তে হাজির ছিল। আমরা বিশ্বাস করি সাউথ আফ্রিকার মালিক এখানকার সবাই, কোনো একটা গ্রুপ এর মালিক না, তা শাদা হোক বা কালো। আমরা ইন্টার-রেশিয়াল যুদ্ধ চাই নাই কোনো, একদম শেষ পর্যন্ত আমরা এটারে এভয়েড করতে চাইসি। যদি আদালতের কোনো সন্দেহ থাকে এই ব্যাপারে, আমাদের সংগঠনের গোটা ইতিহাস ঘাঁটলেই প্রমাণ হবে আমি যা বলসি, এবং যা বলতে যাইতেসি উমখন্তো’র এডপ্ট করা কৌশলের ব্যাপারে। এ কারণে আমি, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ব্যাপারে প্রথমে কিছু বলতে চাই। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →