Main menu

এডিটোরিয়াল: হিরো আলম

ট্রিবিউট টু ইনডিয়া

রক মনু

জমুনার চর তো মরুই; বাংলাদেশের অনেকখানেই মরু হইয়া উঠতেছে, এগুলা আমরা বহু এনভায়রনমেন্টাল নিউজে পাইছি, হিরো আলোম বেপারটারে অন্ন লেভেলে লইয়া গেছেন, উনি জমুনার চরে আরবি গান গাইছেন, চরকে আরবের মরুর ব্যাকগেরাউন্ড বানাইয়া। রোজার মাশে উনি এইটা করলেন, ওনার ফ্যানদের ডিমান্ডে। নাইস।

নিউজে মনে হইলো, জমুনার চরকে মরু বানাবার বেপারটায় রিপোর্টারের হাশি পাইছে! কেন পায় হাশি! ছিনামার ছেট তো বানায়, মংগল গ্রহে ছবি হইলো, মার্শান, রিডলে স্কটের মনে হয়, ঐটা শুটিং কি মংগলে হইছিলো? টাইটানিক? গ্লাডিয়েটর? হিরো আলোম করলেই জেন বা হাশি পাইতে হবে!

তবে হিরো আলোম পোস্ট পোডাকশনে ‘ট্রিবিউট টু ইনডিয়া’ লেইখা দিলে হয়তো আরেকটু ভালো হইতো, এই আর কি…

 

হিরো আলমরে এক্টিভিস্ট হিসাবে দেখেন

জোবাইরুল হাসান আরিফ

হিরো আলমরে এক্টিভিস্ট হিসাবে দেখেনরে ভাই! তেনার এক্টিং ‘বাজে’ হইতে পারে, কিন্তু তিনি তেনার কালা চামড়া, বাইট্টা হাইট ও ছোটলোকি জবানে যেই ভিডিও বানাইতেছেন, তার লক্ষ্য মূলত কালচারাল। ফলে তাঁর আর্ট বা মিউজিকাল সেন্সরে ননসেন্স মনে হইতে পারে আপনার, কিন্তু তার এক্টিভিজমের গোড়া তো ওইটা না! যে যা না, তারে তা বানায়া জবাব দেবার ট্রাই করলে তো হবে না বইন! আপনাগো পোলামাইয়াদের ভিত্রে যেনারা ওইসব কোয়ালিফিকেশন লইয়া তাগো ‘আর্ট সেন্সে’ এক্টিং বা মিউজিকে আসতে চাইবে, তেনাদের রেফারেন্স বা গ্যাঞ্জাম কমাইতে আসছেন তিনি। তাহাদের কষ্ট কমাইতেই হিরো আলম এক্টিভিস্ট হইছেন। ভাবেন, আপনার অশিক্ষিত পোলামাইয়া কলোনিয়াল বাঙলা জানে না, স্কুলে যায় নাই বইলা আদবকায়দা জানা নাই, তারে নিয়া মকিং করতাছে লোকে! ওই সময়ে হিরো আলমের উপর চলে যাওয়া ঝড়ে আপনের সন্তান দুধেভাতে আর্ট কালচার করবে, এতোই বরকত পাবেন তার। মনোযোগ দিয়া দেখেন, মুখস্থ এনালিসিস দিয়েন না। আপনাগো পড়লে গুগলের সাজেশান মনে হয় লেখারে, কিন্তু আপনার লগে ফ্রেন্ডশিপ তো আপনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের লোক না বইলাই! রোবটে বন্ধুত্বেও আপত্তি নাই, কিন্তু আপনি আমার লিস্টে তো ভিন্ন কোঠায়!

Continue reading

অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা (লাস্ট পার্ট)

।। এক ।। দুই ।। তিন ।। চাইর ।। পাঁচ ।।

 

৭. সিনেমার ফিউচার

সিনেমা জিনিসটাই এখন পাল্টাইয়া যাইতেছে, টেকনোলজির কারণে, প্লাটফর্মের কারণে, ডিভাইসের কারণে। সিনেমা যখন শুরু হয়, তখন তো সিনেমা হল ছাড়া অন্য কোথাও দেখার উপায় ছিলো না; বা সিনেমা জিনিসটা বানানোই হইতো সিনেমা হলের কথা মনে রাইখা। পরে দেখার যেই যন্ত্রগুলা আছে, যেমন, টেলিভিশন, সেইখানেও দেখানো শুরু হইলো। ধীরে ধীরে ভিসিআর, ভিসিপি, সিডি ডিভিডি প্লেয়ার আসলো; এর পরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এখন মোবাইলেও দেখা যায় তো সিনেমা।

তার মানে এইটা না যে, সিনেমা বাতিল হয়া যাইতেছে, বরং এই জিনিসটা আরো ছড়ায়া পড়তেছে, নতুন নতুন ফর্মে অ্যাপিয়ারড হইতেছে। আমি খুব কনশাসলিই ফার্স্ট চ্যাপ্টারে ভিজ্যুয়ালসের কথা কইছি; যে, ভিজ্যুয়ালস থিকা সিনেমা আসছে, যখন আমরা ক্যামেরা দিয়া দৃশ্য বানাইতে শিখছি তখনই এর ভিতরে সাউন্ড, মিউজিক, স্টোরি দিয়া সিনেমা বানানোর একটা কোশিশ শুরু হইছে। এখন ডিভাইসের কারণে নানান রকমের ভিজ্যুয়ালের ডিমান্ড বাড়তেছে। তো, অইগুলাও কম-বেশি সিনেমাই। সিনেমা খালি সিনেমাহলে দেখাইতে হবে – এইরকম জায়গা থিকা সইরা আসতে পারাটারে সিনেমার ডেথ হিসাবে দেখা’টা ঠিক না আর কি।

খেয়াল কইরা দেখবেন, আমাদের আর্ট-কালচার সবসময় সোসাইটির লিভিং প্যাটার্ন, টেকনোলজি’র উপ্রে বেইজ কইরা বদলাইছে। একটা সময়, গল্প-কবিতা-কাহিনি ব্যাপারটা ছিল ওরাল, কে কতো সুন্দর কইরা বলতে পারেন, দরদ দিয়া গাইতে পারেন। দ্যান যখন প্রিন্টিং প্রেস আসছে ব্যাপারটা লেখার জায়গাতে আসছে, কারণ এইটা আরো ওয়াইডার রেঞ্জে থাকতে পারে; আপনার নিজেরে ফিজিক্যালি উপস্থিত থাকতে বা বাঁইচা থাকতে হইতেছে না। এর ফলে যেইটা হইলো, লিখিত যে কোন কিছুই আর্ট হওয়ার সম্ভাবনার ভিতরে চইলা আসতে থাকলো, আর ওরাল যে কোন কিছুই ফর্মের কারণে নন-আর্ট বা পারফর্মেটিভ আর্টের মধ্যে রিডিউসড হইতে লাগলো। যে কোন ধরণের রিপ্রডাকশন ক্যাপাবিলিটির বাইরে আর্টের জায়গাটা সীমিত হয়া আসতে শুরু করলো। কিন্তু এই জিনিসটাও তো চেইঞ্জ হবে, হইতেছে। যেমন ধরেন, গত ২০/৩০ বছর ধইরা যেহেতু রিটেন ফরম্যাট ছাড়াও অডিও-ভিডিও ধইরা রাখা এবং দেখার অপশন বাড়ছে, ওরাল জিনিসগুলাও চেইঞ্জ হইতেছে; গান খালি শোনার জিনিস না, দেখার ঘটনাও হয়া উঠছে। এইরকম চেইঞ্জগুলা হইছে, হইতেছে। পাবলিক ভিউয়িংয়ের জায়গায় প্রাইভেট ভিউ’র স্পেইস ক্রিয়েট হইতেছে, সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশনের জায়গায় প্লাটফর্মগুলা ক্রুশিয়াল হয়া উঠতেছে। থ্রি-ডি’র পরে ভিডিও গেইমসের মতন ইন্টার-এক্টিভ সিনেমাও হয়তো পাইতে থাকবো আমরা। মানে, প্রতি ৫০ বছরে না হইলেও ১০০ বছর পরেই ঘটনাগুলা একইরকম থাকার কথা না, যেহেতু টেনকোলজিক্যাল চেইঞ্জগুলা এখনো চলতেছে।…

তো, বাংলাদেশের সিনেমা এর বাইরের কিছু না, এই ট্রেন্ড ও টেনডেন্সিগুলার ভিতর দিয়াই যাবে এই ফর্মটাও। এখনো (ফেব্রুয়ারি ২০২১) অনলাইন প্লাটফর্মের জন্য (সিরিজ ছাড়া) কোন বাংলাদেশি সিনেমা রিলিজ না হইলেও, শুরু হওয়ার কথা। (টিভি’তে তো হইছেই, এর আগে।) অই ফরম্যাটের অডিয়েন্স এবং সিনেমার টেকনিকগুলাও কিছুটা আলাদা হওয়ার কথা। কিন্তু একই সাথে ‘বাংলাদেশি’ বইলা একটা কিছুর ডিমান্ড আগে যেমন ছিল, এখনো থাকার কথাই। মানে, কালচারের কিছু জিনিস আছে, সেইটা ভাষা দিয়া, ডাবিং দিয়া, সাবটাইটেল দিয়া ফুলফিল করা যাবে না আসলে। ব্যাপারটা এইরকম না যে, নায়িকাদের কোমরে একটু চর্বি লাগবে বা নায়কদের ম্যাচো হইতে হবে, বা কাহিনি ‘সামাজিক’ হইতে হবে; কিন্তু এইখানে কিছু জিনিস আছে যেইটা হলিউডের ইংলিশ সিনেমা, হিন্দি-সিনেমা বা ইউরোপিয়ান আর্ট-ফিল্মগুলা রেপ্লিকেট করতে পারা যায় না। মানে, সিনেমা দেইখা ভালো-লাগা আর বাংলাদেশি সিনেমা বইলা একটা কিছুরে দেখা – দুইটা আলাদা ঘটনা, অডিয়েন্সের দিক থিকা।

কিন্তু এমন না যে ‘হাজার বছর’ ধইরা ‘বাঙালি’ কালচার বইলা কোন কিছু ছিল বা চলতেই থাকবে; বরং একটা হিস্ট্রিক্যাল টাইমফ্রেমে এই কালচারাল সিগনেচারগুলারে খেয়াল করা যাইতেছে, আর একটা সময়ে গিয়া হয়তো খেয়াল করাও যাবে না, অন্য কোন জিনিসের সাথে মিইশা যাবে; আবার জাইগা উঠবে। মানে, যে কোন কালচার একটা টেম্পরারি ঘটনাই, হিস্ট্রি’র জায়গা থিকা দেখতে গেলে। তবে আমার ধারণা, একটা কালচারের ভিতরেও অনেকগুলা লেয়ার থাকে। ধরেন, ১৯০৫ সালে ‘বঙ্গভঙ্গ’র প্রস্তাবের আগে এইখানে ‘পুব বাংলা’ বইলা একটা ‘রিজিওনাল’ কালচার ছিল যেইটারে কলোনিয়াল কলকাতার একটা বাই-প্রডাক্ট হিসাবে ভাবা হইতো; যে কলকাতা যেহেতু ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার রাজধানী, অইটা হইতেছে সেন্টার; বাদবাকিগুলা ‘রিজিওনাল’। যদিও এইটা বাজে চিন্তাই – এইভাবে দেখার তরিকাটা; কারণ অতীতেরও তো অতীত আছে; ব্রিটিশদের দখল করার আগে ঢাকা ছিল বরং সেন্টার, যেইটারে ‘সোনার বাংলা’ বলার রেওয়াজ আছে। আবার, তারও পাস্ট আছে।… তো, কলোনিয়াল টাইমের কারণে, বিফোর ১৯৪৭, এই কালচার’টারে আমরা ‘বাংলাদেশি’ ভাবতে পারি নাই। যেই কারণে, বাংলাদেশি সিনেমা বইলা যদি কিছু থাকে, সেইটার শুরু এরপর থিকা হইছে; এর আগে, ইন্ডিয়ান সাব-কালচারের একটা জিনিস হিসাবে পারসিভড হইতে থাকতো। এখনো ইউরোপিয়ান অডিয়েন্সের কাছে ঘটনা তো এইরকমই; যেইরকমভাবে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলারে কম-বেশি একইরকম লাগে আমাদের কাছে।…

মানে, আমি বলতে চাইতেছি, আমরা যে বাংলাদেশি সিনেমা দেখতে চাই এইটা ন্যাশনালিস্টিক কোন ভয়ারিজম না, বরং ‘বাংলাদেশি’ যখন একটা আইডেন্টিটি হিসাবে রিলিভেন্ট থাকতেছে তখন এর একটা ম্যানিফেস্টশন বা ছাপ কালচারাল জিনিসগুলার মধ্যে থাকে। একটা কালচারের উপর বেইজ কইরাই একটা আইডেন্টিটি তৈরি হয় না খালি, একটা আইডেন্টিটি’র জায়গা থিকাও কালচার তৈরি করার একটা তাগিদ থাকে। বাংলাদেশি-গল্প, বাংলাদেশি-কবিতা বা বাংলাদেশি-মদের মতো বাংলাদেশি-সিনেমারও এই জায়গাটা আছে। ইন্ডিয়ান বাংলা দিয়া এই জিনিসটারে ধরা যাবে না বা রিপ্লেস করা যাবে না, যায়ও নাই। Continue reading

চাকুরী’র পরীক্ষা (বঙ্গদর্শন পত্রিকার আর্টিকেল, ১২৮৫ বাংলা)

বঙ্গদর্শন পত্রিকার সাত নাম্বার বছরে, ৮১ নাম্বার সংখ্যায়, বাংলা ১২৮৫ সালের পৌষ মাসে এই লেখাটা ছাপা হইছিল।  মানে, ১৪৩/১৪৪ বছর আগের লেখা এইটা।

এইখানে দুইটা জিনিসরে হাইলাইট করতে চাইতেছি আমরা। এক হইলো, অইকালেও “বিসিএস পরীক্ষা” ইর্ম্পটেন্ট একটা ঘটনা ছিল। পরীক্ষা কেমনে নেয়া হইতো, কেমনে নেয়া উচিত – এই নিয়া আলাপ। ফার্স্ট কথা হইতেছে, চাকরির জন্য পরীক্ষা নেয়া ভালো; জাত দেইখা, বংশ দেইখা, বাপ-মা দেইখা চাকরি দেয়ার চাইতে। কারণ চাকরি করতে গেলে কিছু জিনিস জানা লাগে যেইটা শিখতে পারার কিছু ব্যাপার আছে, সেইগুলা যেই ভাবেই হোক, যাচাই-বাছাই করতে পারাটা দরকার। আর সেই যাচাই-বাছাই যদি ভালো না হয়, ক্ষতি যতোটা না সরকারের, তার চে বেশি দেশের মানুশের।… এই কথাগুলা এখনো সত্যি।

সেকেন্ড জিনিস হইলো, এর ভাষা। এইটা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাষা। এরপরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষা, সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাও আমরা পার হয়া আসছি, গত ১০০/১৫০ বছরে। এই লেখা পড়া যায়, কিন্তু কেউ লেখতে পারার কথা না আর। ‘সাহিত্য’ করার লাইগা লেখা তো যায়-ই, কিন্তু খুব বেশি দরকার না পড়লে কেউ ইন্টারেস্টেড হয়া পড়ার কথা না। কারণ এইটা না যে, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ বা মুজতবা আলী মারা গেছেন, বরং সমাজের মানুশের কাজকাম, চলাফেরার লগে এর ডিসট্যান্স এতোটাই বাড়ছে যে, অনেক দূরের জিনিস লাগে। এইটা ভাষার হারায়া যাওয়া না, পুরান একটা ভঙ্গিমার বরং ধীরে ধীরে ইরিলিভেন্ট হয়া উঠার। একটা সময়ের ভাষা আরেকটা সময়ে গিয়া দূরের জিনিস হয়া উঠবেই, এই সাহিত্যের সমস্যা না, ভাষার সমস্যা না; বরং এইটাই ঘটে, ঘটতেছে, সবসময়।

তো, মাঝে-মধ্যে দূরের দেশে ঘুরতে যাইতে চাই তো আমরা; এইরকম ভাষার ভিতর ট্রাভেল করতে পারেন একটা, বিষয়ের ভিতরেও; যে, হায় হায়, তখনো বিসিএস নিয়া আর্টিকেল লিখতো বঙ্কিমচন্দ্ররা। 🙂 

…………………………

বিবাহ উপলক্ষে যেরূপ কুলপরিচয়ের প্রয়োজন হয়, পূৰ্ব্বে চাকুরী উপলক্ষেও সেইরূপ প্রয়োজন হইত। তৎকালে বিশ্বাস ছিল যে, কর্ম্মদক্ষতা কেবল সৎকুলেই সম্ভব, অসৎকুলে দুর্লভ। সে বিশ্বাসের বিশেষ হেতুও ছিল; তৎকালে শিক্ষা কুলগত ছিল, এক্ষণে আর তাহা নাই, এক্ষণে শিক্ষা সকলকুলেই সম্ভব, কার্যদক্ষতাও কাজেই সকল কুলেই পাওয়া যাইতে পারে। কাজেই কাৰ্যদক্ষ ব্যক্তি নির্ব্বাচন করা কিছু কঠিন হইয়াছে।

যোগ্য ব্যক্তিকে কার্য্যে নিযুক্ত করা যে অতি কঠিন তাহা সকলের সংস্কার নাই। সাধারণতঃ বিশ্বাস আছে যে, উপযুক্ত ব্যক্তিরাই কার্য্যে নিযুক্ত হইয়া থাকেন, কিন্তু যাহারা কিঞ্চিৎ বিশেষ জানেন, তাহাদের মত স্বতন্ত্র। এইজন্য ইংলণ্ড দেশের একজন প্রধান ব্যক্তি আপনাকে মন্ত্রিত্বপদে নিযুক্ত হইবার সন্তাবনা বুঝিয়া আপন কর্ত্তব্যকার্য্যের তালিকায় লিখিয়াছিলেন যে, আমি মন্ত্রী হইয়া কেবল যোগ্যলোককেই রাজকার্য্যে নিযুক্ত করিব। তিনি জানিতেন যে এইটি বড় সহজ নহে, ইহার নিমিত্ত বিশেষ প্রতিজ্ঞা আবশ্যক। অযোগ্য ব্যক্তির অনুরোধের জয়পতাকা তুলিয়া সর্ব্বদাই সর্ব্বত্র দাড়াইয়া থাকে, তাহাদের উল্লঙ্ঘন করা অতি কঠিন । এই জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে কার্য্যে নিযুক্ত করা হয় না।

ইদানীং বিজ্ঞরাজপুরুষেরা অনুরোধের মূলোচ্ছেদ করিবার নিমিত্ত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে সহজে নিরাকরণ করিবার নিমিত্ত এক উপায় উদ্ভাবন করিয়াছেন, তাহা পরীক্ষা। পরীক্ষা এক্ষণে সকল রাজ্যেই প্রচলিত হইয়া উঠিয়াছে। আমাদের দেশেও প্রায় ৩২ বৎসর হইল কতকাংশে আরম্ভ হইয়াছে।

পরীক্ষা দিয়া চাকুরী করা এক্ষণকার নিয়ম। যাহারা পরীক্ষা দিতে অসমর্থ অথচ চাকুরীর লোভ রাখে, কেবল তাহারাই পরীক্ষার বিদ্বেষী হওয়া সম্ভব। যদি আর কেহ ইহার বিদ্বেষী গান, তাহা হইলে হেতু অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

উমেদার ব্যতীত সত্যই অনেক লোকে এই নিয়মের বিরোধী দেখা যায়; তাহারা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন যে, উপযুক্ত কর্ম্মচারী নির্ব্বাচন করিতে গেলে পরীক্ষাই তাহার একমাত্র উপায়। অথচ আবার চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করেন, “ভাল! পূর্ব্বকালের ডেপুটি মাজিষ্ট্রেট অপেক্ষা এক্ষণকার ডেপুটি মাজিষ্ট্রেটরা অযোগ্য কেন? পূর্ব্বেও তাহাদের পরীক্ষা ছিল এক্ষণেও ত সেই পরীক্ষা আছে।” আবার বলেন “উকীলদের পরীক্ষা পূর্ব্বে ছিল এখনও আছে, তবে পূর্ব্বকালের উকীল অপেক্ষা এক্ষণকার উকীলেরা ভাল কেন?”

এ কথার প্রথমেই আপত্তি হইতে পারে যে, এক্ষণকার ডেপুটি মাজিষ্ট্রেটরা যে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য, অথবা এক্ষণকার উকীলেরা যে অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত তাহার প্রমাণ কি? প্রমাণ পুরাতন লোক, এই প্রস্তাবলেখক তাহার মধ্যে একজন। যাহারা উভয় সময়ের কর্ম্মচারী দেখিয়াছে, তাহাদের প্রমাণ গ্রহণ না করিলে আর প্রমাণ নাই। তাহাদের প্রমাণ যদি গ্রহণ করা যায়, তাহা হইলে স্বীকার করিতে হয় যে পরীক্ষাসত্ত্বেও এক্ষণকার ডেপুটি মাজিষ্ট্রেটগণ অযোগ্য। পরীক্ষা সত্ত্বেও যদি এরূপ হয় তবে পরীক্ষার প্রয়োজন? যোগ্যব্যক্তি নির্ব্বাচন করিবার নিমিত্ত পরীক্ষা যে একমাত্র উপায় অথবা বিশেষ উপায় তবে তাহা মিথ্যা হইল? অন্যদেশে পরীক্ষাদ্বারা যোগ্য লোক নির্ব্বাচন হইতেছে, অন্ততঃ কতকাংশে হইতেছে, কিন্তু আমাদের দেশে তাহার বিপরীত ফল কেন হয় তদন্ত করা আবশ্যক।

পূর্ব্বে যৎকালে আমাদের দেশে উপযুক্ত ব্যক্তি বড় পাওয়া যাইত না, তখন গবর্ণমেণ্ট উপযুক্ত লোক সংগ্রহ করিতে সক্ষম হইয়াছিলেন; আর এক্ষণে যোগ্যলোক বাঙ্গালার সর্বত্র শত শত পাওয়া যায়, অথচ যোগ্যলোক রাজকার্যে নিযুক্ত হয় না, ইহার হেতু কি? এই কথা লইয়া বাঙ্গালিরা মধ্যে মধ্যে গোপনে আন্দোলন করিয়া থাকেন। অনেকের বিশ্বাস জন্মিয়াছে যে, গবর্ণমেন্ট এক্ষণে ইচ্ছাপূৰ্ব্বক অনুপযুক্ত লােক নিযুক্ত করেন, তাহাদের মধ্যে কয়েক বৎসর অবধি একটা কথা রটিয়াছে যে ডিসরেলি সাহেব যখন ইংলণ্ডের রাজমন্ত্রিপদে নিযুক্ত ছিলেন,সেই সময় একবার তথায় কথা উপস্থিত হয় যে ইলংন্ড হইতে আর অধিক (covenanted servant) কবনান্টেড সারবান্ট পাঠাইবার প্ৰয়োজন নাই, এই সনদি সাহেবদের বেতনে ভারতবর্ষের অনর্থক অনেক অর্থব্যয় হইতেছে। বিশেষ ডেপুটি মাজিষ্ট্রেটদের মধ্যে যেরূপ উপযুক্ত ব্যক্তি দেখিতে পাওয়া যায়, এক্ষণে অনায়াসে অধিকাংশ কার্য তাহাদের উপর নির্ভর করা যাইতে পারে। ডিসরেলি সাহেব তাহাতে ভাবিলেন সনদি চাকরেরা বেতনদ্বারা ভারতের অনেক টাকা ইংলণ্ডে আনিতেছে, তাহাদের সংখ্যা কম হইলে ইংলণ্ডের অর্থাগম কম হইবে। অতএব এই আশঙ্কায় ডিসরেলি সাহেব গোপনে নিষেধ করেন যে, আর যেন বিশেষ উপযুক্ত বাঙ্গালিকে উচ্চপদ না দেওয়া হয়, তবে এখানে সেখানে দুই একটি ভাল লোককে কৰ্ম্ম দিলে ক্ষতি নাই বরং না দিলে নিন্দা হইবে। অনভিজ্ঞ বাঙ্গালিমহলে এরূপ অমূলক কথা রটিবে তাহার আর আশ্চর্য্য কি? নিত্য যাহা হয়, তাহার সামান্য ব্যতিক্রম দেখিলে যে বাঙ্গালিরা দেবতাদের দোষারোপ করে সে বাঙ্গালির লােক, নির্বাচন সম্বন্ধে সামান্য ব্যতিক্রম দেখিলে যে ডিসরেলি সাহেবকে বা ইংরেজরাজশাসনকে দোষারোপ করিবে ইহার আর আশ্চৰ্য্য কি? “যদি গোপন অনুমতি সম্বন্ধে তাহাদের এতদূর বিশ্বাস যে তাহারা অনায়াসে বলিয়া থাকেন “যদি গোপন নিষেধ না থাকিবে তবে ব্যবসাদারেরা বা জমীদারগণ যে শ্রেণীর লোকদের কুড়ি কি পচিশ টাকায় চাকর রাখেন এক্ষণে সেই শ্রেণীর লোকদের গবর্ণমেন্ট চারিশত পাঁচশত বেতন দিয়া কেন রাখিতেছেন।” আমরা স্বীকার করি ঐ শ্রেণীর লোক এক্ষণে ডেপুটি মাজিষ্ট্রেটের মধ্যে অনেক দেখা যায় বটে, কিন্তু তাহার হেতু গবর্ণমেন্টের কোন কুঅভিসন্ধি নহে, গবর্ণমেন্ট নিরপেক্ষ হইয়া কেবল পরীক্ষা দ্বারা সেই সকল লোক নিযুক্ত করিয়াছেন। যদি তাহাতে অনুপযুক্ত ব্যক্তি নিযুক্ত হইয়া থাকে তবে সে দোষ পরীক্ষার। তাহার পরিচয় সংক্ষেপে দেওয়া যাইতেছে। যোগ্য লোক নির্ব্বাচনের জন্য পরীক্ষাই সর্বোৎকৃষ্ট উপায় সন্দেহ নাই কিন্তু উপযোগী পরীক্ষা এপর্য্যন্ত উদ্ভাবিত হয় নাই। এই জন্য ভুল হইতেছে এবং অনেক দিন পর্য্যন্ত এই ভুল চলিবে। Continue reading

নাদিয়া জান্নাতের কবিতা

নাদিয়া জান্নাতের ১১টা কবিতা এইখানে আছে। উনার বা যে কারোরই কবিতা লেখার ভিতরে কয়েকটা ধরণ বা টোন থাকে আসলে। তো, এর মধ্যে একটা টোন’রে আমরা বাছাই করছি, এইখানে হাইলাইট করতে চাইতেছি। 

তো, এই উছিলায় কবিতার কোন জিনিসগুলারে আমরা আমলে নিতে চাইতেছি, সেইটা একটু বলা যাইতে পারে। পয়লা জিনিস হইলো, ভাষার রিজিডনেস আমাদের বাছাইয়ের প্রায়রিটি’র ভিতরে নাই; এমন না যে, খুব ‘আলগা’ একটা ভাব থাকতে হবে; বরং জড়তা দিয়া কিছু বলতে পারা’টা তো টাফ, বেশিরভাগ সময়ই কথা-বলা যায় না, তো অই ‘অই না-বলতে-পারা’রে কম গ্লোরিফাই করতে চাই আমরা। এইটা একটা জিনিস।

সেকেন্ড জিনিস হইলো, এর এগেনেস্টে কবিতা’রে ‘আঞ্চলিক’ বা ‘গ্রাম্য’ কইরা তুলতে হবে – এইটাও কোন ওয়ে-আউট হইতে পারে না। এর মাঝখানে বা এর বাইরে যেই চেষ্টাগুলা আছে কবিতাতে; সেই জায়গাগুলাতে আমরা নজর দিতে চাই। আপনাদেরকেও রিকোয়েস্ট করতে চাই যে, আপনার টেস্টের লগে মিলে বইলাই কোনকিছু কবিতা বইলা ধইরা নিয়েন না, টেস্টের জায়গাগুলারে বরং এক্সপান্ড করতে পারেন! এই কবিতাগুলার ভিতরে অইরকমের কোন জায়গারে এক্সপ্লোর করার একটা ব্যাপার মনেহয় আছে।

হাউএভার, এইসব কথা বাদ দিয়াও কবিতা পড়া যায় 🙂 পড়েন!

ই. হা.     
………………………….


অভাব

অভাবের গল্পে
উঠানের টগর গাছে ফুলের বদলে
শাদা শাদা ভাত ফুটে থাকে।

 

ঈদ

(১)
শুনেছি রমনা স্টেশনে শৈশবের ঈদ কেনাবেচা হয়।

(২)
ঈদ কিনতে গিয়ে আব্বা কবরে লুকায় গেলেন।
ঈদের সকালে আব্বারে খুঁজতে কই যাবো আমি? বাজারে?

 

ক্ষুধা

(১)
‘শামুক হৃদয় কামুক’
পেটে ক্ষুধা নিয়ে বকুল ফুল কল্পনা করা যায় না।
তবুও করতেছি।

(২)
শিস বাজাইতে বাজাইতে আপনি যাইতেছেন। আপনার হাতের মধ্যে সিঙ্গারা। আমি সিঙ্গারা খাইতে ভালোবাসি, কিন্তু কাইড়া নিয়ে খাওয়ারে অপছন্দ করি। আপনার সিঙ্গারা না নিয়ে যদি আপনারে কাইড়া নেই তাহলে আপনার বৌ কি মাইন্ড করবেন?

করলে করুক। আই ডোন্ট কেয়ার।

 

পোয়েট; দ্যা ব্লাডি মাদারচোদ

কবি’ শব্দের ভেতর তুমুল ছ্যাঁচড়ামি আছে। এইটা সো কল্ড ঘ্যানঘেনে বিষয় না, এইটা এমন যে— কাউকে দেখা মাত্রই মাদারচোদ শব্দ জিভের ডগায় এসে তালু স্পর্শ করার মতো।

 

ওভাররেটেড

আমারে তোমার দরকার নাই; তুমি বললা। তুমি বললা—
টাকা উড়াইড়া উইড খাবা, টাকা নাচাইয়া ঘরে আনবা পরিচর্যাময় বিবিধ গোপন

টাকা আর মানুশের নিঃসঙ্গকাল
ইমাজিন করলাম; দেখলাম—
টাকা ছিটায়া কিনে আনছো পাঙ্গাস:
কোটাবাছার মানুশ পাইছো মধ্যরাতে।

রান্না ভাতে
গরম ধোঁয়া;
কানের পাশে
ফিসফিসানি,
সঙ্গ সহ
পানের বাটা
সব তুমি পাইতেছ বুঝি!

পাওয়া পাওয়ির সময়টাতে হৃদয়টাকে কই রাখতেছ?

Continue reading

সাম্প্রদায়িকতার সেক্যুলার স্টাইলঃ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কিছু আন্দাজা

বাঙ্গালী এডুকেটেড ক্লাসের মইধ্যে জমিদারি এস্থেটিক লইয়া যে অবসেশন, তা কলকাতার এস্থেটিকের দিকে তাকাইলে আমরা বুঝতে পারি। জমিদারি লইয়া যে এইখানকার আতেলদের নস্টালজিয়া সেই কারণেই কলকাতা এইখানকার আর্ট কালচারের গোড়া হইতে পারছে। এইখানকার বেশিরভাগ জমিদার হিন্দু ছিলো বইলা, হিন্দুয়ানীর সাথে এইটারে কোইনসাইড করা যাইতেছে ঠিকই, কিন্তু এইটা আসলে কোইনসিডেন্সই। মূলত এই এস্থেটিকটা জমিদারি স্ট্যাটাসরে আপহোল্ড করার এস্থেটিক। সেইখানে হিন্দু এসপেক্ট আছে, মুসলিম এসপেক্ট আছে, কিন্তু আপহোল্ড হইতেছে জমিদারি স্ট্যাটাস। কলকাতার সুজিত সরকারের ছবি দেখলেও এইটা পরিষ্কার হয় যে কি স্ট্যাটাসরে উনি আপহোল্ড করতেছেন। উনার গুলাবো সিতাবো ছবিতে খেয়াল কইরা দেইখেন কিসের নস্টালজিয়া ওইখানে। জমিদার কন্যা ও কন্যার জামাই দুইজনই বুড়া হইয়া গেছে। আছে শুধু জমিদার বাড়িখান, ভাড়া দেওয়া। সেই বাড়ি ও জমি দখলে নিতে চায় আউটসাইডার (ও বাটপার) জামাই আর গরীব (ও বাটপার) ভাড়াটিয়ারা। শেষে অবশ্যই এই বাটপারদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। জমিদারির কিছুই ভাগে পায় না এরা। সুজিত সরকারের কলকাতাই ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনীর এই সেটআপ বুঝতে হেল্প করতে পারে আপনাদের। পিকু ছবিতেও কলকাতার যে আর্কিটেকচার উনি দেখাইছেন, জমিদারি আর্কিটেকচারই। এই জিনিস কলকাত্তাই ধারা হিসেবে বাংলাদেশেও ঢুকানো হইছে। এবং সেইটা হইছে সেই পাকিস্তান আমল হইতেই।

পুব বাংলায় টেনান্সি এক্ট পাশ হয় ১৯৫০ সালে। জমিদারি বন্ধ হয় তাতে। পাকিস্তান আমলে এইটা একটা বড় কাম ছিল। জমিদারি বেশিরভাগই ছিল হিন্দুদের হাতে। তবে মুসলমানেরাও কম ছিল না। কিন্তু ভুক্তভোগী প্রায় সবই ছিল লোয়ার কাস্ট হিন্দু, বর্গাদার মুসুলমানেরা। ফলে গণ মানুষ এই কামে খুশিই হইছিল। এইটারেও তারা তৎকালে পাকিস্তান আন্দোলনের একটা সুফল হিসাবেই বিবেচনা করতো। এরপরে ধীরে যখন বাঙ্গালী জাতিবাদী আন্দোলন দানা বাধতে থাকলো তখন এইখানকার আতেলেরা পাবলিকেরে ফুসলাইতে একটা বাজে কাম করলো। যেহেতু জমিদারিপ্রথা বাতিল পাকিস্তানি আমলের একটা বড় অর্জন ছিলো, এই আতেলেরা পাকিস্তানের এগেইনস্টে নেরেটিভ বানাইতে এই জমিদারি লইয়া শৈল্পিক সাংস্কৃতিক নষ্টালজিয়া শুরু করলো। এইটা বাজে কাম ছিল বিশেষ কইরা এই কারণে যে এইটা নেসেসারি ছিল না। মানে পাবলিক এইটা ছাড়াই পাকিস্তানের উপর এনাফ ক্ষেপা ছিল। এই জমিদারি নস্টালজিয়াই এইখানে রঠার পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখছে অধিক। মানে বাঙ্গালী কালচার বইলা যে জিনিস আইছে এই দেশে, তা মূলত জমিদারি এস্থেটিকই। রবীন্দ্রনাথের এস্থেটিকও খেয়াল করবেন আপনেরা নিশ্চই। তারপর ঢাকাই আর্টিশ-আতেলেরা যে কলকাতারে কেবলা করলো, তা তো মূলতই জমিদারি এস্থেটিকেরে কেবলা বানাইলো। কারণ পুব বাংলার অনেক জমিদারিরই হেড কোয়ার্টার ছিল কলকাতায়। তবে ব্যাপারটারে কেবলই হিন্দুয়ানী বা কলকাতাই ঘটনা হিসাবে দেখাটা অল্প দেখা। এর গোড়া আসলে জমিদারি এস্থেটিক, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। এইখানকার এডুকেশন সিষ্টেমেই এইটা ঢুকায় দেয়া হইছে।

এখনো বাংলাদেশের এডুকেটেড ক্লাস ঢাবির কথা কইতে সলিমুল্লাহর জমি দেওয়ার কথা কয়। অথচ তখন সকল জমিই তো জমিদারের। ভার্সিটি বানাইতে জমিদারের জমি তো লাগবেই। পাবলিকের এজেন্সি লইয়া কথা কইলে, তাতে জমিদাররে ক্রেডিট দেওয়া লাগে না। মানে যদি আপনে মানেন যে জমিদারি সিস্টেমেই ভেজাল আছে, তখন উনাদের জমির হিস্যারে তো আপনে রাইট হিসাবে দেখবেন, দয়া না। তার উপর স্যার সলিমুল্লাহর যে ভার্সিটি নিয়া তদবির তাও তো জমিদারি তদবির। মানে ওইসময়ে শিক্ষার যে হালত এইখানকার মুসলমানদের তাতে ভার্সিটির আগে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বেশি। তা তো হয়নাই। সেই পরিস্থিতিতে ভার্সিটি আসলে কাদের জন্য সেই আলাপও আসে। সলিমুল্লাহ খানের(জমিদার না) ভালো আর্গুমেন্ট আছে এই নিয়া। তো আমার মনে হয় আমাদের হায়ার এডুকেশনে সেই লিগেসি, আছর ভালো মতই আছে এখনো।

তো পাকিস্তান আমলের কথা কইতেছিলাম। মানে ওই আমলে জমিদারিরে রোমান্টিসাইজ করা আর্ট-কালচার বাংলাদেশ আমলেও ইনফিল্ট্রেট করতে দেখি আমরা। এমনকি আমাদের সবচে ট্যালেন্টেড আতেল ছফার উপন্যাস ওঙ্কার টা পড়েন আরেকবার। দেখেন কে হিরো আর কে ভিলেন। তালুকদারের পোলা হইল হিরো, তালুকদারি শেষ হওয়ার পর এই আলাভোলা শিক্ষিত পোলার জমিজমা নিয়া নেয় নব্য ধনী আবু নসর। তারপর নিজের ‘প্রতিবন্ধী’ মাইয়ারেও গছায় দেয় সেই পোলার লগে। ছফা বাঙ্গালী মুসুলমান ফ্যানবয় ছিলেন বইলা জমিদারদের রোমান্টিসাইজ করেন নাই হয়ত। কারণ তাতে কার্ড হিন্দু পক্ষে চইলা যাইতে পারে। কিন্তু তথাপি বিটিশদের অবদানের ব্যাপারে উনার কাতরতা লক্ষ্যণীয়। সুজিত সরকারও জমিদার দেখাইতে লখনৌয়ে গেছেন, পাছে কেউ বলতে না পারে কলকাতার হিন্দু বাঙ্গালী জমিদারদের নিয়া রোমান্টিসাইজ করতেছেন উনি। লেইমই একটু ব্যাপারগুলা।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →