Main menu

বই: “সবারে নমি আমি” কানন (বালা) দেবী (সিলেক্টেড অংশ)

[কানন (বালা) দেবী (১৯১৬ – ১৯৯২) হইতেছেন ইন্ডিয়ান ফিল্মের শুরু’র দিকের নায়িকা, কলকাতার। ১৯২৬ থিকা ১৯৪৯ পর্যন্ত মোটামুটি এক্টিভ ছিলেন, সিনেমায়। তখনকার ইন্ডিয়ার ফিল্ম-স্টুডিওগুলা কলকাতা-বেইজড ছিল। গায়িকা হিসাবেও উনার সুনাম ছিল অনেক। ১৯৭৩ সনে (বাংলা সন ১৩৮০) উনার অটোবায়োগ্রাফি “সবারে নমি আমি” ছাপা হয়। সন্ধ্যা সেন উনার বয়ানে এই বইটা লেখেন। অই বইটা থিকা কিছু অংশ ছাপাইতেছি আমরা এইখানে।]

………….

চুম্বন

জোর বরাত’ -এর একটা বেদনাদায়ক ঘটনা আজও আমার কাছে রহস্যাবৃতই রয়ে গেল।

একটা সিনের টেক হচ্ছিল। রিহার্সাল অনুযায়ী যথারীতি সংলাপ বলে গেলাম। সিনের শেষে হঠাৎ ছবির হিরো ইংরাজী ফিল্মের ঢঙে আমায় জড়িয়ে ধরে চুম্বন করলেন।…ঘটনার আকস্মিতায় হঠাৎ বিহ্বল হয়ে পড়লাম। সামলে উঠতে সময় লাগল। যখন প্রকৃতিস্থ হলাম, বিস্ময়, বেদনা, অপমান, অভিমান, নিজের অসহায় অবস্থার জন্য কষ্ট সব মিলিয়ে একটা নিষ্ফল কান্না যেন মাথা কুটতে লাগল। অল্প বয়স, তখন ভাব-প্রবণতাও প্রবল। তাছাড়া বাঙালী ঘরের মেয়ে, আবেগের এমন উগ্র প্রকাশে অভ্যস্ত নই। আর এ-কাজ ঘটল তাঁরই পরিচালনায় অভিভাবক ভেবে যাঁর .. ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। যাঁর দায়িত্বজ্ঞানের ওপর আমার এত শ্রদ্ধা, বিশ্বাস! যদি অভিনয়কে স্বাভাবিক করবার জন্য এই চুম্বনের প্রয়োজন, তবে আমাকে আগে থেকে বলে মনকে কেন প্রস্তুত করবার অবকাশ দিলেন না?

জ্যোতিষবাবুকেও আমি এ প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বললেন, “বললে তুমি রাজী হতে না। ইট ইজ অ্যান এপেরিমেন্ট, অত ‘টাচি হলে চলে? আর্টিস্টদের আরো স্পোর্টিং হতে হয়। সাধারণ মানুষ যা কল্পনায় আনতে পারে না, শিল্পীরা অনায়াসে তা পারে বলেই না তারা শিল্পী।” ইত্যাদি অনেক স্তোকবাক্য শোনালেন।

কিন্তু যাই বলুন আমার মনের ভার নামল না। নিজেকে বড় অপমানিত মনে হয়েছিল, আমি কি পরিচালকের হাতের ক্রীড়নক? নিজের মতামত, স্বাধীন সত্ত্বা কিছুই থাকবে না? ভেবেছি আর কেঁদেছি।

আজ ত নায়িকাদের সম্রাজ্ঞীর সম্মান। আমার এ সমস্যা এ-যুগে হাস্যকর। এখন ত নায়ক-নায়িকার একটিমাত্র ইচ্ছে বা সাজেশনই এ-লাইনে বেদবাক্য। এ আঘাত আজও ভুলিনি। তবে এর মধ্যেও ভাববার কথা আছে বৈকি।

এখন চলচ্চিত্রের অগ্রগতির স্বর্ণযুগ। তবুও বোম্বে ফিল্মে আলিঙ্গন ত আছেই অথবা চুম্বনের প্রায়-চালু অবস্থা। কিন্তু এই প্রগতিশীল যুগের বাংলা ছবিতে চুম্বনের অবতারণা করা যায় কিনা এ নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়নি। কিন্তু আজ থেকে সাঁইত্রিশ বছর আগে চলচ্চিত্রের শৈশবে, বাংলাদেশেরই এক পরিচালক চুম্বন-এর দৃশ্যের কথা ভেবেছিলেন এবং তাকে ছবিতে প্রয়োগ করার দুঃসাহসও হয়েছিল—এটা প্রোগ্রেসিভ মাইণ্ডের লক্ষণ নিশ্চয়। তাঁর সঙ্গে সমান তালে আমাদের মন পা ফেলতে না পারলেও, দুঃসাহসিক পরীক্ষার কৃতিত্ব তার প্রাপ্য নিশ্চয়ই। ভালমন্দর বিচার ত আপেক্ষিক।

যাই হোক, দৃশ্যে আমি অপ্রস্তুত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে নায়ককে দুহাতে ঠেলে দেওয়ার জন্য ছবিটি ঠিক পরিবেশনযোগ্য হয়নি এবং সেইজন্যই শেষ পর্যন্ত ঐ দৃশ্যটি এন জি হয়ে গিয়েছিল।

এই প্রসঙ্গে একটা মজার কথা আজও ভুলিনি। স্টুডিওতে যে বাবুর্চি বা বেয়ারার ওপর আমাদের খাওয়াবার ভার থাকত, আপাতদৃষ্টিতে খুব হাসিখুশি চেহারা। কি বদান্যতা। সবাইকে তাড়াতাড়ি খাওয়াবার সে কি ব্যগ্রতা! কিন্তু ব্যগ্রতার অন্তরালের কাহিনীটুকু আর কেউ জানত কিনা বলতে পারি না, তবে আমার অজানা ছিল না। ওর একটা অভ্যাস ছিল, একজনকে খাইয়ে পাঁচজনের হিসেব দেওয়া। উদ্বৃত্তাংশ যেত তারই ছাঁদায়। অন্য সবার ভাগ্যে কি জুটত জানি না। তবে লাঞ্চ বলতে আমার বরাদ্দ ছিল চায়ের প্লেটে দু’ স্লাইস পাউরুটি, দু-টুকরো আলু ও চার-টুকরো মাংস। ওপর থেকে পরিমাণের সত্যিই নির্দেশ দেওয়া ছিল কিনা বলতে পারি না। তবে আমার হাতে পৌছত ঐটুকু এবং তালিকায় থাকত আমার মত চারজনের উপযোগী ভোজ্যবস্তুর হিসেব।

নায়ক ও পরিচালক

তখনকার যুগের নায়িকাদের ত আজকের মত সাম্রাজ্ঞীর মর্যাদা ছিল না। অত্যন্ত আনন্দের কথা—আজকের যুগের নায়িকা সত্যিকারের শিল্পীর সম্মান পেয়ে থাকেন। তার ইচ্ছে অনিচ্ছেয় শুনেছি নায়ক নির্বাচন হয়ে থাকে। কিন্তু তখনকার দিনের নায়িকা নামেমাত্র নায়িকা, কার্যতঃ প্রযোজক, পরিচালক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত নায়কদের পর্যন্ত আজ্ঞাবাহিকা ছাড়া কিছুই ছিলেন না। মাঝে মাঝে মনে হোত আমি কি কলের পুতুল। নিজস্ব কোন সত্তা নেই? শুধু অন্যের জুলুম সহ্য করেই জীবনটা কাটাতে হবে। প্রযোজক, পরিচালকদের কথা ছেড়েই দিলাম। তারা তো সবারই প্রভু। কিন্তু অল্প বয়স ও অনভিজ্ঞতার কত সুযোগই না সবাই নিয়েছে। নিরুপায় অবস্থার জন্য গ্লানিভরা মুহূর্তের সে অসহ্য যন্ত্রণা কি ভোলার? Continue reading

কন্টেম্পরারি কয়েকটা বাংলাদেশি ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভ (সিনেমা, নাটক, ডকুমেন্টারি) নিয়া

অন ‘ডুব (No Bed of Roses)’

এই সিনেমাটারে নাটক মনে হওয়ার একটা বড় কারণ মেবি, মিউজিক। আমার কাছে মনে হইছে, নাটকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জিনিসটা মিসিং থাকে, থাকেই না প্রায়; কিন্তু সিনেমাতে সবসময় একটা মিউজিক বা সাউন্ড চলতেই থাকে। (বাংলা-সিনেমার ঢিসুম-ঢিসুম নিয়া লোকজন যতই হাসাহাসি করুক, অইটা ইম্পর্টেন্ট। সিনেমার সাউন্ডের ঘটনাটা।…) এইখানে যদিও সাইলেন্স দিয়া পেইন-টেইন বুঝাইতে চাইছে, অইটা হয় নাই আসলে, বরং নাটক-নাটক ব্যাপার হয়া গেছে। এইটা গ্রস একটা মিসটেক হইছে মনেহয়। সাইলেন্সটা তৈরি হয় নাই, বরং মিউজক’টা মিসিং হইছে।

আর এইটা তো বাপ আর মেয়ে’র সিনেমা আসলে! মানে, ‘বাংলা-সিনেমা’ হইলে নাম হইতে পারতো – “বাপ কেন প্রেমিক?” 🙂 কিন্তু এই জায়গা’টা থিকা দেখার ঘটনাই তো আসলে ঝামেলার। 🙁 মানে, এইরকম ক্রাইসিসের জায়গা থিকা জিনিসটারে ডিল করা যায় না। যার ফলে, কাহিনি’টা দাঁড়াইতে পারে নাই।

এইরকম আলাপ তো অনেকদিন থিকাই চালু আছে যে, ক্রিয়েটিভ কিছু হওয়ার লাইগা ইন্টেলেকচুয়াল হওয়ার তো দরকার নাই! যার ফলে, মনে হইতে পারে, আর্টের যেন ইন্টেলেকচুয়াল কোন ক্লেইম নাই! কিন্তু ঘটনা তো তা না, বরং আর্টের ইন্টেলেকচুয়াল এক্সপ্লোরেশনটা ডিফরেন্ট রকমের। তো, অইখানে সিনেমার এই কন্ট্রিবিউশনটা নেগেটিভ একটা ঘটনা আসলে।

থার্ড বা ইম্পর্টেন্ট জিনিস হইলো, সিনেমা’টা কার লাইগা বানাইতেছেন আপনি? – এইরকম ‘অডিয়েন্সের’ একটা ইমাজিনেশন থাকে। আমার কাছে মনে হইছে, এই সিনেমার এক্সপেক্টেড অডিয়েন্স হইতেছে ‘গ্লোবাল কালচারাল মিডল-ক্লাস’, বাংলাদেশে যে উনারা নাই তা না, একটা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়া উনারা আছেন।

এই টেনডেন্সিটা খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে পারবেন, আব্বাস কিরোস্তামির ‘ফ্রেঞ্চ সিনেমা’: সার্টিফাইড কপি, আর ‘জাপানিজ সিনেমা’: “লাইক সামওয়ান ইন লাভ” দিয়া। উনি ইরানি ডিরেক্টর কিন্তু যেই সিনেমা বানাইছেন অইগুলা ফ্রেঞ্চ আর জাপানিজ মুভিই আসলে। একইভাবে, বাংলাদেশেও ফ্রেঞ্চ সিনেমার অডিয়েন্স আছেন আসলে, জাপানিজও; যারা একটা ‘গ্লোবাল কালচারাল ক্লাস’-এ বিলিভ করেন। (এইটা আমার আবিষ্কার! 😎)

ছোট-খাট দুয়েক্টা জিনিস দিয়া এইটা টের পাওয়া যায়। যেমন ধরেন, ইরফান খান বা সিনেমাতে তার সেকেন্ড ওয়াইফ যে বাংলা বলেন, এইটা বাংলাদেশি হিসাবে আমাদের কানে লাগে তো; যদি বাংলাদেশের সিনেমাহলের কথা ভাবতেন ফারুকী, তাইলে হয়তো কাউরে দিয়া ডাবিং করায়া নিতেন। (এই কারণে সিনেমা খারাপ হইছে – তা না, অডিয়েন্সের জায়গাটা খেয়াল করার লাইগা বলতেছি।

তো, এই ‘গ্লোবাল কালচারাল ক্লাসের’ যে খালি একটা ‘ইন্টারন্যাশনাল’ টেস্টের ব্যাপার থাকতে হয় – তা না, লোকাল ফ্লেভারও লাগে। অইখানে ফারুকী দাফন-কাফনের জায়গাটা নিয়া ‘বাংলাদেশি’ সিগনেচার রাখছেন। একইসাথে গ্লোবালও হইছেন আসসালামু আলাইকুমের সাবটাইটেল’রে Greetings রাইখা।…

এইগুলা দোষের কিছু না অবশ্যই, কিন্তু এইভাবে লোকালাইজেশনের এফেক্ট দিয়া গ্লোবাল হওয়ার ঘটনা’টা মোস্টলি একটা আর্টিস্টিক ব্লাফের ঘটনাই হয়া উঠে আসলে। (এই জায়গাতে আইসা মনে হইলো, পিঁপড়াবিদ্যাও অই জায়গা থিকা ভাল্লাগে নাই আমার।)

তো, পুরুষ ‘প্রেমের ও বাৎসল্যের’ বেদনা যে নাই – তা না, কিন্তু এই জায়গাটারে ফারুকী কোন ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স বা কোন ইন্টেলেকচুয়াল জায়গা থিকা লোকেট করতে পারেন নাই আসলে। নতুন কোন চিন্তা ছাড়া জায়গাতে ফেইলওর হওয়ারই কথা, কিন্তু ফেইলওর’টাও খুববেশি যুইতের হয় নাই আর কি! 🙁

২.
পরিমিতবোধ’টা তো ভালো; কিন্তু যেই ভিউ-পয়েন্ট’টা থিকা স্টোরি’টা বলা হইছে, আমি অইটারেই নিতে পারি নাই। তবে যেই জায়গাটা নিয়া ডিল করতে চাইছে, অইটা ইন্টারেস্টিং। আর আমি যট্টুক বলছি, সিনেমাটা তো অট্টুকই না, এর বাইরে আরো ব্যাপার-স্যাপার তো আছেই।

Continue reading

ইনছাফের পুলছেরাত অথবা ওয়াকিং অন দ্য এজ অব জাস্টিস

This entry is part 3 of 18 in the series রকম শাহ'র বয়ান

মানুশের জনম কেমন ঘটনা? বাপ-মা, অন্তত এই ২ জন মানুশের জনমের মতো ঘটনাটা ঘটায়। তারা দুইজন তাইলে কি একটা কেরাইম করলো? একটা পাপ করলো? কেরাইম অথবা পাপ হইলে দুই জনের ভিতর কার ভাগ বড়ো?

এই পোশ্নগুলার ফয়ছালার আগেই পাপ আর কেরাইমের ভিতর ফারাক অথবা রিশতা একটু বিচার করা দরকার।

দুনিয়ার ধর্মগুলার ভিতর কেরাইম আর পাপের আইডিয়া আছে; ধর্মের ইজারাদার বইলা দাবি করা লোকেরা পেরায়ই পাপ আর কেরাইমের ভিতর ফারাক করতে রাজি হয় না, তারা জেই খোদার গোলাম, নিজেরাই শেই খোদা হিশাবে দাবি করে পেরায়ই, ধর্মরে ভালোবাশার নামে ধর্ম দখল কইরা নিজেদের খোদার শরিক হিশাবে হাজির করে দুনিয়ায়!

তাইলে ফারাকটা কই? কেরাইম অথবা পাপের আইডিয়ার গোড়ায় আছে হকের আইডিয়া; মানুশের কাছে/উপর অন্ন মানুশের (অন্ন মাকলুকাতের) হক আছে, তার লগে আছে খোদার হক। খোদার হক মারার নাম পাপ, আর (খোদার) বান্দার/মাকলুকাতের হক মারার নাম কেরাইম। এখন তাবত মাকলুকাতের জিম্মাদার জেহেতু খোদা, তাই মাকলুকাতের হক মারাও খোদার হকের উপর হামলা কতকটা; তাই কেরাইমগুলাও পাপ; কিন্তু খোদার হক মারলে মাকলুকাতের হক মারা হয় না! তাই মানুশের উপর খোদার হক আদায় করা না হইলে ছেরেফ পাপ হইলো, কেরাইম হইলো না!

এখন মানুশের উপর খোদার হক কি? খোদার হক ২ টা ধরা জাইতে পারে বা ১ টাই আখেরে–ইমান এবং/বা এবাদত। নামগুলা জুদা হইলেও ধর্মগুলার ভিতর বৌদ্ধ আর ছেকুলারিজম/ইভলুশনিজম বাদে ইমান আর এবাদতের আইডিয়া খুবই পোক্ত, ঐ দুইটায় একটু আলগা বটে। তাই এই দুই ধর্মে ঐ অর্থের পাপের আইডিয়া তেমন পাইতেছি না; বৌদ্ধ ধর্মে পাপ আর কেরাইম, দুইটা একলগে মনে হয় ‘পাপ’ হিশাবেই আছে, কিন্তু এই পাপের শাজা খুব নেচারাল– কোন খোদায়ি বিচার বাদেই আবারো দুখের জিন্দেগিতে ফেরত আশতে হওয়া। আর ছেকুলারিজম/ইভলুশনিজম নামের ধর্মে পাপের আইডিয়া থাকার উপায় নাই, এদের মরালিটির আইডিয়া খুবই ঝাপশা, তবে কেরাইমের কিলিয়ার আইডিয়া আছে মনে হয়, এবং এই আইডিয়ার গোড়া হইলো–শমাজ বানাবার চুক্তি না মানা, চুক্তি থিকা বাইরাইয়া জাওয়া।

বহু টাইপের শমাজের ভিতর বহু বহু ধর্মের হাজিরা থাকলেও কেরাইমের আইডিয়া মোটামুটি একই! শমাজ বানাবার চুক্তির ভিতর দিয়া জেমন কতগুলা হক পয়দা হয়, বেশিরভাগ ধর্মেও তেমনি মাকলুকাতের হক পাওয়া জাইতেছে এবং এই হকগুলা আদায় না করলে কেরাইম ঘটতেছে। বৌদ্ধ ধর্মে ‘পাপ’ এবং ‘শাজা’ খুব পার্ছোনাল হইলেও শমাজে জখন এই ধর্মটা ১ নাম্বার হয়, তখন কোন এক তরিকায় মরালিটি বানাইয়া লইতে হয়, লয়; চিনে জেমন মনে হয় কনফুছিয়াস থিকা মরালিটি লইয়া বৌদ্ধ ধর্ম শামাজিক হইয়া উঠতেছে।

তো, এই জে হকের আইডিয়া, এই হক মারার নাম কেরাইম এবং কারো হক মারা গেলে/হইলে তার ফয়ছালা করার নাম জাস্টিস ছিস্টেম বা ইনছাফ; তাইলে ইনছাফের মোকাম বা মনজিল হইলো ভিকটিম বা মজলুমকে খুশি করা, জুলুমের খতিপুরন, তার মাইরা দেওয়া হক আদায় কইরা দিয়া তারে খুশি করার ছিস্টেম। দুনিয়ার শকল জাস্টিস ছিস্টেমই তাই, মাকলুকাতের হকের তদারক করা, মাকলুকাতের উপর ছেরেফ খোদার হকের বা পাপের ফয়ছালা করা না।

পাপের ফয়ছালা বা মাকলুকাতের উপর খোদার হকের তদারক করতে জাবার নাম খোদার শরিক হইতে চাওয়া; তখন কিছু মাকলুকাত আর মাকলুকাত থাকতে চাইতেছে না, তখন তাগো কাছে অন্ন মানুশ/মাকলুকাতের হক ঝুকিতে পড়ার শম্ভাবনা, তারা বেশি পাওয়ারফুল হইয়া উঠতেছে, দুনিয়াবি জিস্টিস ছিস্টেমের আওতায় থাকতেছে না, খোদ জাস্টিস ছিস্টেম তাগো দখলে চইলা জাবার ঝুকি পয়দা হয় তখন!

এখন তাইলে শুরুর পোশ্নে ফেরত জাই; মানুশের জনম দেওয়া পাপ কিনা; জানি না আমরা, কোন ধর্ম অন্তত তেমনটা কইতেছে না, এমনকি বৌদ্ধ ধর্মও না। ধর্মগুলার এই বলাবলির বাইরে কিছু আছে কিনা, তা মানুশের চিন্তার আওতার বাইরে, তা খোদায়ি মামলা। বরং কেরাইম কিনা, শেই আলাপ করা জায়; এবং শেইটা ছোট্ট আলাপই, কেননা, জনম দেওয়াটা কেরাইম হিশাবে দেখাদেখি নাই দুনিয়ায়! তবে, কেউ কেউ পার্ছোনালি নিজের জনমকে বাপ-মায়ের কেরাইম হিশাবে দেখে, দেখতে পারে; কিন্তু শেইটা পোরমান করার উপায় নাই! কারন, কেরাইম হইতে হইলে তার হক মারতে হবে মা-বাপের; খোদ জনমের আগে শামাজিক/দুনিয়াবি অর্থে শে জেহেতু আছিলোই না, তাই তার হক বইলাও কিছু পাওয়া জাইতেছে না! আর একবার শে পয়দা/নাজিল হবার পরে তারে বাচাইয়া রাখাটাই বরং মা-বাপের কাছে তার হক! তবে শে জতোদিন নাবালক ততোদিন তারে পালার মানে হইলো আশলে মা-বাপ তারে কর্জ দিতেছে! শাবালক হবার পরে এই কর্জ আবার ফেরত দেবার কথা তার; ঐটা কর্জ হবার কারনেই পরে মাইয়া-পোলার কাছে মা-বাপের হক পয়দা হইতে পারলো। তবে একটা ভালো ছোসাইটি/শমাজ একটা ছিস্টেম খাড়া করায়, তারা একটা কমন ফান্ড বা বায়তুল মাল বানায়, জেইখান থিকা গরিব বা বুড়াদের মদদ দেয়; নাইলে মাইয়া-পোলার উপর অনেক অনেক চাপ পড়তে পারে, নিজেদের মাইয়া-পোলা পালার লগে লগে বাপ-মা’রে পালতে হওয়া বিরাট চাপ হইতে পারে অনেকের জন্নই।

শুরুতে ঐ জনম দেওয়া পাপ বা কেরাইম কিনা, শেই ফয়ছালার দরকার আছিলো। নাইলে জে কেউ তার উপর অন্নের হক মানতে নারাজ হইতে পারে! কইতে পারে জে, আমি কি কইছি জনম দিতে? আমারে জনম দিয়া আমার মা-বাপ জেই কেরাইম করলো, আমার মা-বাপের শোয়ার এন্তেজাম কইরা শমাজ জেই কেরাইম করলো, তাতে তাগো কাছে আমার বেশুমার হক পয়দা হয়, আমার শারা জিন্দেগি তাগো কাছে/উপর আমার হক আদায় করতে হবে শমাজ আর আমার মা-বাপের! তাই শুরুতেই দেখাইলাম জে, তেমন দাবি করার উপায় নাই এবং মানুশের উপর অন্নের হকই নর্মাল এবং শেইটা আদায় করতে হবে, নাইলে কেরাইম ঘটে!

ধর্মগুলায় দেখতেছি, খোদা মানুশকে ইনছাফ কায়েম করতে কইতেছে, মানে আপনার কাছে অন্ন মানুশের বা মাকলুকাতের জতো হক আছে, শেইগুলা আদায় করতে কইতেছে; মানুশের কাছে খোদার হকের জিম্মাদার খোদা নিজেই, মানুশকে তার জিম্মাদার বানায় নাই। বান্দার লগে খোদার রিশতা খুবই ডাইরেক, খুবই পার্ছোনাল; কোন কোন ধর্মে আমরা কতক ইজারাদার দেখি, চার্চ বা বামুন জেমন খোদার হকের জিম্মাদার হবার দাবি করে পেরায়ই; কিন্তু এইটা খোদ ধর্মের মর্মে ততো নাই! নাই জে, তার পোরমান হইলো, বেহেস্ত-দোজখের আইডিয়া, বান্দারে দোজখের/বিচারের ব্যাপারে হুশিয়ার করা, পোরতি বান্দার কাছে ছেজদা আদায় করতে চাইতেছে খোদা। খোদার আইডিয়া জদি খেয়াল করি আমরা, তার পরম পাওয়ার জদি আমলে লই তাইলে বুঝবো জে, খোদার জিম্মাদার লাগে না, তার ইচ্ছা মোতাবেক ঘটতে বাদ্ধ দুনিয়াদারি! Continue reading

মিডিয়ার আসলে কাজ হইতেছে সুন্দর রকমের ডিসটরশন তৈরি করা – জ বদ্রিয়া

This entry is part 10 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

[ এই ইন্টারভিউটা “ফরগেট ফুকো/ফরগেট বদ্রিয়া” নামের বইয়ে, ১৯৭৭ সালে পাবলিশড হইছিল। ]

লট্রিঞ্জার: আচ্ছা, কোন ফাঁপা নিয়ম পুরা করবার যে ধান্দা তা কি ধ্বংসাত্মক হইতে পারে?

বদ্রিয়া: একটা নিয়ম যখন আপনি দেন তখন কিন্তু সেইটা র‍্যান্ডম হইতে পারে, কিন্তু আইনের মতো নিয়মটারে আপনি সহজে ভাঙতে পারবেন না। আইন নিয়া আপনি যা খুশি তাই-ই করতে পারেন। আর নিয়মের ক্ষেত্রে যেইটা হয়— আপনি নিয়মটা হয় মানেন কিংবা মানেন না। আপনি যদি মানেন, তাহলে নিয়মটা আরও শক্ত হইলো। কিন্তু আপনি নিয়মটারে কমবেশি করতে পারবেন না। নিয়মটারে আংশিকভাবে মানা বা না মানা এই ক্ষেত্রে ইডিয়টের মতো কাজ হবে। যে কোন খেলার নিয়ম, এইটার মধ্যে যে একটা সেডাক্টিভ সিকুয়েন্স থাকে, একটা পুরা রিচুয়ালের মতো ফলো করা হয়। সিচুয়েশন একের পর এক আপনি পাল্টাইতে পারবেন, কিন্তু নিয়মের কোন পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু এইটা সিচুয়েশনের পর্দার আড়ালে থাকতেই পারে, কোন কিছু জানানোর বা বলার প্রয়োজন পড়ে না। যদি নিয়ম জানা যাইতো, সবকিছু আমাদের সামনে খোলাসা হইয়া যাইতো, এবং পুরাপুরি উল্টায়ে দেয়া সম্ভব হইতো। কার্যকারণ বা কোন র‍্যাশনাল সিকুয়েন্সের ভিতর দিয়া আপনার ক্রাইসিস তৈরি হয়। আর সেডাক্টিভ সিকুয়েন্সের ভিতরে এই ঘটনা যদি ঘটে তবে সেইটা বিপর্যয় আকারে তৈরি হয়।

লট্রিঞ্জার: অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো?

বদ্রিয়া: যে সকল ফর্ম যুক্তি-কারণের ছকে আটকানো যায় না, সেই সকল ফর্মের ফ্যাসিনেশনের একটা বড় ক্ষমতা থাকে। এই একই কারণে, যে কোন সিস্টেমে তারা ভয়াবহ হইয়া উঠতে পারে। কারণ, সেইগুলা আপনি আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। যে কোন মুহূর্তে যদি কোন ক্যাটাগরি কিংবা কোন ফর্ম নিজেরে রিপ্রেজেন্ট করা বন্ধ কইরা দেয়, সে রিপ্রেজেন্টেশনের কোন স্টেজেই আর প্রবেশ করতেছে না, কোন বড় লক্ষ্যকে সামনে রেখেও সে আর ফাংশন করতেছে না। এইটা নিজের কাছেই একটা দ্রুত কার্ভ টেনে ডাবল ব্যাক করে, যার ফলে তার পটেনশিয়ালও সর্বোচ্চ হইয়া যায়। আর বাদবাকি সবকিছুর আর কোন ওজন থাকে না। কবিতার ভাষায়, আমরা এইরকম সিকুয়েন্সগুলার সাথে পরিচিত যখন কবিতার বাক্য কোন নির্দিষ্টতা না রাইখা, একের পর এক এসে ভিড় করতে থাকে, এইসমস্ত বাক্যগুলা রচনার সময়ে যে কোন গভীর চিন্তা খেলা করে তা-ও না। ভাষারে সেডাকশনের অর্ডার হিসেবে বলা যায়— একটা মিউট্যান্ট অর্ডার (Mutant Order)।

আপনি যদি কন্টিনিউয়াস, প্রগ্রেসিভ আর লিনিয়ার অর্ডার মেইনটেইন করেন তাহলেও কিন্তু এইটা একটা রূপান্তরিত “সুপারস্ট্রাকচার”-এর উপর বেইজ কইরা দাঁড়ায়। কোন কবিতার মধ্যে যে শব্দ সেগুলোও অনেকটা এইরকম অর্ডারে ফাংশন করে। কোনরকম মিনিং না রাইখা একের পর এক শব্দগুলা আসে। একরকম আচ্ছন্নতার ভিতর দিয়া একটা শব্দ আরেকটা শব্দকে ডাকতে থাকে। এই একটা শব্দ আরেকটা শব্দকে যেভাবে টেনে আনে, এই টেনে আনার প্রক্রিয়াটা কিন্তু চিন্তা ছাড়া, মাথা না খাটায়েই আসে। খেয়াল রাখতে হবে, আমি ইর‍্যাশনালের কথা বলতেছি না। বরং এর এক ধরণের প্রয়োজনও আছে। এই ঘটনা কিন্তু যে কোনো ফ্যাক্টস, একশন কিংবা এক্সিস্টেনশিয়াল সিচুয়েশনে ঘটতে পারে।

লট্রিঞ্জার: এর ভিতর পবিত্র কোনকিছু নাই, কিন্তু রিচুয়াল আছে। ট্র্যাজেডি নাই, অথচ ট্র্যাজিক।

বদ্রিয়া: মহাবিশ্ব কোন পবিত্র কিছু না, যদিও এই সেডাকশনে একটা ট্র্যাজিক দিক আছে বলতে হবে। আপনি যদি গেইমের রুলসগুলা মেনে নেন, তাহলে ‌কিন্তু আপনি কখনোই জানবেন না এপিয়ারেন্সের মধ্যকার কানেকশানগুলা কোন জায়গায় গিয়া ঠেকবে? ওই যে ওই গল্পটা আছে না, এক মহিলাকে একটা লোক খুব ভালোবাসা, যত্ন দিয়া একটা প্রেমের চিঠি দিলো। মহিলাটা লোকটারে জিগেস করে, তার কোন অংশটা তারে সবচেয়ে বেশি সেডিউস করে? লোকটা মহিলাটারে কী জবাব দিবে? অবশ্যই তার চোখ। এবং পরের দিন সকালে লোকটা বাদামি রঙের খামে আরেকটা চিঠি পায়। খাম খুলে দেখে ভিতরে মহিলার চোখ। লোকটার উপর যেন একটা বজ্রপাত হইলো, ওইখানেই সে চুরমার হইয়া গেল। মহিলাটা নিজেরে দ্য আদারের (The Other) জায়গায় স্থাপন করে। মহিলাটা ছিলো লোকটার দ্য আদার, ডেস্টিনেশন। এখন মেটাফরটারে মহিলা লিটারেলি নিয়ে ফেলার কারণে সে সিম্বলিক অর্ডারটারেই নাই কইরা দিলো। সাবজেক্ট যে— সে নিজেরে নিজের ডিজায়ারের মধ্যে আবিষ্কার করলো। মহিলাটা নিজের একটা চোখ হারাইলো। আর লোকটা নিজের মুখ।

লট্রিঞ্জার: আপনি অন সেডাকশনে উইমেন অবজেক্টের ব্যাপারে আরেকটা মেটাফর লিটারেলি নিছিলেন। যদি আমি সেইটার লিটারেল এপিয়ারেন্স ধরি, অনেকটা এরকম মনে হইছিলো, ফেমিনিজম নিজের বিরুদ্ধেই দাঁড়ায়া আছে এবং এই ফেমিনিজমের ভিতরে অনেক রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবার মতো পটেনশিয়াল আছে।

বদ্রিয়া: আমি নারীকে ডিজায়ারের অভাব মনে করি। এখন এইটা রিয়েল নারীর ধারণার সাথে যায় কি যায় না তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নাই। এইটাই আমার ‘ফেমিনিনিটির’ কনসেপ্ট।

লট্রিঞ্জার: আপনি মেটামরফোসিসের কথা বলতেছিলেন, কিন্তু আপনি ফেমিনিন ফিগারের জায়গায় মোটামুটি ফিক্সড। জিনিসটা সারপ্রাইজিং না? আপনি যেন এই ফেমিনিন ফিগারের ক্ষেত্রে যে রোল সমস্তের পোলারিটি আছে, সেই ভাবনাতে এখনও নস্টালজিক।

বদ্রিয়া: কিন্তু, আমি এই রোলের পোলারিটিতে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে, ফেমিনিনিটি নন-পোলার (Non-polar)। মাস্কুলানিটিতে সেক্সের যেরকম আলাদা গুরুত্বপূর্ণ ফোকাল থাকে, ফেমিনিনিটিতে তা থাকে না। একজন নারী সেক্সের ফোকালে ফিক্সড কোন পজিশনে থাকে না। বরং সে নিজেরে বারবার ট্রান্সফর্ম করতে পারে।

লট্রিঞ্জার: তার মানে, নারী-হওয়ার মতো ঘটনা নারীর ভিতর যেমন ঘটতে পারে, পুরুষের ভিতরেও ঘটতে পারে।

বদ্রিয়া: অফকোর্স। ফেমিনিনিটি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে প্রকাশ পায়, সে নারী হোক বা পুরুষ হোক। কিন্তু নারী হইতেছে সেই অবজেক্ট যে ডিজায়ারের সকল কারিশমা, ঘটনা ঘটায়। ভালোবাসার যে ড্রামা তা সম্পূর্ণটা পুরুষের, কিন্তু যে চার্মটা তা মূলত পুরাপুরি নারীর।

লট্রিঞ্জার: ভালোবাসার কথাতে যখন আমরা আসছি- আপনি ইন্টারসাবজেক্টিভিটিকে (Inter subjectivity) এক ধরণের নিয়ত পরিবর্তনের ভিতর দিয়া চিন্তা করেন। আপনি আদারের মধ্যে যাওয়ার একটা প্যাসেজ খুঁজেন, কিন্তু এই আদারের তো কোন অস্তিত্বই নাই।

বদ্রিয়া: এইটা আসলে আদারনেসেরই প্রবলেম। এখনকার পৃথিবীতে একটা সেক্সের বিপরীতে গিয়ে যে আরেকজন আদার হইয়া উঠবে তার কোন দরকারই নাই। কিন্তু এই সিচুয়েশনটা কোন নার্সিসিজম না, নার্সিসিজমে একজন নিজের একাকিত্বেই নিজের একটা কনক্রিট ফর্ম তৈরি করতে থাকে, কিংবা এইটা কোন আদারনেসও না। বর্তমান সময়ে একজন নিজের গ্যালাক্সিতে ঘুরপাক খাইতে খাইতে নিজের ভার্চুয়ালিটি অর্জন করে। Continue reading

বাংলাদেশের অনলাইন সাহিত্য-ম্যাটেরিয়াল সামারি: জানুয়ারি – জুন, ২০২১

বাংলাদেশের সাহিত্য-আর্ট-কালচার নিয়া যেইসব ওয়েবসাইটের লেখা আমাদের চোখে পড়ছে, সেইখান থিকা কিছু লেখা রিকমেন্ড করতে চাইতেছি আমরা। আমাদের বিচার-বিবেচনায়, এই লেখাগুলা আপনারা পড়তে পারেন।

দুইটা পয়েন্ট কন্সিডার করার জন্য বলবো আমরা। এক হইতেছে, সব ওয়েবসাইট তো আমাদের পরিচিত না; যার ফলে বাংলাদেশে এই সময়ে অনলাইনে যা কিছু ছাপা হইছে, তার সবকিছু্‌ই আমাদের দেখার আওতার মধ্যে নাই। কিন্তু কম-বেশি যেইগুলা চালু আছে, একটা সার্কেলে লোকজন শেয়ার করে, কথা বলে, মোস্টলি ব্রাউজ কইরা দেখছি আমরা অই সাইটগুলা। তবে এর বাইরেও কিছু লেখা থাকতে পারে।

সেকেন্ড হইলো, ব্যাপারটা এইরকম না যে, এই লেখাগুলা আমরা ছাপাইতাম, বা লেখার কনটেন্ট বা আর্গুমেন্টগুলার সাথে আমরা একমত; বরং উল্টাটাই বেশি, এইসব বিষয়ে আমাদের ধারণা বা পজিশনগুলা আলাদা; কিন্তু আলাপের বিষয় হিসাবে ইম্পর্টেন্ট মনে করতেছি, যে, এইগুলা নিয়া কথা-বার্তা হইতে পারে।

তবে ‘ভালো’ লেখা তো আসলেই কম ছাপা হইছে, বা হইতেছে। এই কারণে না যে, ভালো রাইটার নাই, বরং আমাদের ধারণা, ‘ভালো লেখা’ বলতে যেই ধারণা চালু আছে, সেইটা মোস্টলি গল্প-কবিতা বা ক্রিয়েটিভ রাইটিংসের মধ্যেই আটকানো এখনো। আর সেইগুলারও মাপামাপি চলে এক ধরণের পুরানা আমলের সাহিত্য-টেস্ট দিয়া; যার ফলে খুব রিমার্কেবল ক্রিয়েটিভ রাইটিংস লেখা হওয়া বা না-হওয়ার বাইরে সেইগুলারে মার্ক করার জায়গাটাও প্রব্লেমেটিক হয়া থাকার কথা।

এভারেজ এবং মুখস্ত সাহিত্য-সমালোচনা’র বাইরে এনালাইটিক্যাল লেখাও পাই নাই তেমন। পলিটিক্স নিয়া কিছু বলা তো মোটামুটি হারাম! এর বাইরে কিছু তরজমা’র ঘটনা আছে। অইগুলা ‘অনুবাদ হয় নাই’ বইলা বাতিল করতে চাই নাই আমরা। আর সাবজেক্টের ভ্যারিয়েশনরেও প্রায়োরিটি দিতে চাইছি আমরা।

আমাদের ইচ্ছা আছে ফিউচারে, তিন মাস পরে পরে এইরকম সামারি করার। এবং পারলে আরেকটু ডিটেইল হওয়ার।

তো, তার আগে, এই লেখাগুলা দেখতে পারেন।

এডিটর, বাছবিচার।

………………

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →