Main menu

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৮)

১৬. মহাবিষ

মায়মুনার সহিত জায়েদার কথোপকথন হইতেছে। জায়েদা বলিতেছেন, “ঈশ্বর যাহাকে রক্ষা করেন, কিছুতেই তাহার মরণ নাই। মায়মুনা! হাসানের মরণ নাই! জায়েদারও আর সুখ নাই।”

মায়মুনা কহিল, “চেষ্টার অসাধ্য কিছুই নাই। হতাশ হও কেন? এই দেখ, এজিদ্ সকল কথা শুনিয়া এই ঔষধ পাঠাইয়া দিয়াছে। ইহাতে কিছুতেই নিস্তার নাই।” মায়মুনা আপন কটিদেশ হইতে একটি ক্ষুদ্র পুঁটুলি বাহির করিয়া জায়েদাকে দেখাইল।
জায়েদা জিজ্ঞাসা করিলেন, “ও কী?”
“মহাবিষ।”
“মহাবিষ কী?”
মায়মুনা উত্তর করিল, “এ সর্পবিষ নয়, অন্য কোন বিষও নয়, ইহার মূল্যও অধিক, দেখিতেও অতি উজ্জ্বল। আকার পরিবর্তনে অণুমাত্র পেটে পড়িলেই মানুষের পরমায়ু শেষ করে।” “কী প্রকারে খাওয়াইতে হয়?”
মায়মুনা কহিল, “খাদ্যসামগ্রীর সহিত মিশাইয়া দিতে পারিলেই হইল। পানিতে মিশাইয়া খাওয়াইতে পারিলে তো কথাই নাই।”
“এ তো বড় ভয়ানক বিষ! ছুঁইতেও যে ভয় হয়!”
“ছুইলে কিছু হয় না। হাতে করিয়া রগড়াইলেও কিছু হয় না। এ তো অন্য বিষ নয়, এ হীরক-চূর্ণ!”

মায়মুনা তখনই জায়েদার হাতে পুঁটুলি দিল। জায়েদা পুনরায় বলিতে লাগিলেন, “হাসনেবানু কিংবা জয়নাব, এই দুয়ের একজন না মিশাইলে আর কাহারো সাধ্য নাই।”

“অন্য আর একটি উপায় আছে।”
“কী উপায়?”
“ঐ সুরাহীর জলে।”
“কী প্রকারে? সেই সুরাহী যে প্রকারে সীলমোহর বাঁধা, তাহা খুলিতে সাধ্য কার?”
“খুলিতে হইবে কেন? সুরাহীর উপরে যে কাপড় বাঁধা আছে, ঐ কাপড়ের উপর এই গুঁড়া অতি অল্প পরিমাণে ঘষিয়া দিলেই আর কথা নাই। যেমন সুরাহী, তেমনি থাকিবে; যেমন শীলমোহর তেমনি থাকিবে, পানির রং বদল হইবে না, কেহ কোন প্রকারে সন্দেহও করিতে পারিবে না।”

মায়মুনা তখন জায়েদার গৃহেই থাকিল। জায়েদা গোপনে সন্ধান লইতে লাগিলেন-হাসানের নিকটে কে কে রহিয়াছে, কে কে যাইতেছে, কে কে আসিতেছে, কে কী করিতেছে! হাসানের চিন্তাতেই (জায়েদা ছাড়া) বাড়ির সকলেই মহা চিন্তিত ও মহাব্যস্ত।

জায়েদার চিন্তায় জায়েদা ব্যস্ত। জায়েদা কেবল সময় অনুসন্ধান করিতেছেন, সুযোগের পথ খুঁজিতেছেন! ক্রমে ক্রমে রাত্রি অধিক হইয়া আসিল। জায়েদা জাগিয়া ছিলেন বলিয়াই দেখিলেন যে, হাসনেবানু রওজা মোবারকের দিকে যাইতেছেন। গোপনে গোপনে তাঁহার পশ্চাতে পশ্চাতে যাইয়া আরো দেখিলেন যে, হাসনেবানু ঈশ্বরের উপাসনার্থ দণ্ডায়মান হইলেন। দেখিয়া আসিয়াই মায়মুনাকে বলিলেন, “মায়মুনা! যদি সুযোগ পাই, তবে এ-ই উপযুক্ত সময়।”

জায়েদা বিষের পুঁটুলি লইয়া চলিলেন। মায়মুনাও তাঁহার অজ্ঞাতসারে পাছে পাছে চলিল। অন্ধকার রজনী; চান্দ্রমাস রবিউল আউয়ালের প্রথম তারিখ। চন্দ্র উঠিয়াই অমনি অস্ত গিয়াছে;-ঘোর অন্ধকার! Continue reading

খাশ বাংলা: কি ও কেন?

[১৮.০২.২০২২ তারিখে একটা আলাপ হইছিল। সেই আলাপের একটা ট্রান্সক্রিশপন হইতেছে এই টেক্সট।]

সিফাত আহমেদ: খাশ বাংলার বাংলাদেশে আমরা, একটা স্পেস ক্রিয়েট হচ্ছে, কারণ এইটা তো মোস্ট নেচারাল থিংক, বাংলাদেশে, এইটা হবেই। আমরা করতে পারি আর যেই করতে পারুক, এইটা হবেই আর কি কিছুদিনের ভেতর। এই যে একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রসেসের ভেতর দিয়ে আলাপ আলোচনা ডিসকোর্সের ভিতর দিয়া এইটা হইতেছে, এইটা হইয়া যাওয়ার পর – এইটা সোসাইটিতে কোনো নেগেটিভ কনসিকুয়েন্স তৈরি হইতে পারে কিনা? পলিটিকসে, যেহেতু একটা ভাষা পলিটিকসের ভেতর দিয়া এইটা হইতেছে, পলিটিকসে এইটা থাকতেই পারে, সেই জায়গাগুলা কিভাবে ট্যাকল দেয়া যাইতে পারে? এইটা একটা আধিপত্য তৈরি করতে পারে কিনা, বাংলায় — যদি বলি আর কি, সেই জায়গাটা ট্যাকল দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা কি? অই জায়াগাটা কি আপনি ভাবছেন?

রক মনু: এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব, কিন্তু ইমরুলের ভাবনা কি? .

ইমরুল হাসান: এইটার বাইরে কনটেক্সটা নিয়া কথা আছে। ভাষার ব্যাপারে যে আলাপ-টালাপ হচ্ছে, বা যেভাবে হয়ে আসছে, এইখানে তো আসলে, বেইজলাইনে বিশাল একটা কনটেক্সট আছে। আমি ভাবতে গিয়া ওইটা নিয়া ভাবতেছিলাম। যে ওই কনটেক্সট কিভাবে তৈরি হচ্ছে, কিভাবে কোশ্চেন হচ্ছে বা কি রকম হইছে। এই ব্যাপারগুলি নিয়া ওইখানে হয়তো দুই-এক কথা এড করা যাইতে পারে।

ভাষা তো আসলে সবচেয়ে বেশি ইউজ হয় হচ্ছে কথা বলার বাইরে সাহিত্যের জায়গাটাতে। সাহিত্যের জায়গাটারে আমরা ভাষা বইলা দেখতে চাই আর কি। বা বড় কোনো সাহিত্যিক হচ্ছে ভাষাকে ডিকটেট করবেন এরকম একটা ধারণা আছে। তো যারা লেখালেখি করে তারা তো আসলে ভাষা নিয়া ডিল করে, ওইটা নিয়াই আসলে চিন্তা করা লাগে। তো যেইটা আসছিল আমার চিন্তাতে, লেখালেখির শুরুতে; আমরা তো ধরেই নিছি যে সাহিত্য ভাষাটা আছে, ওইটাই হচ্ছে নেচারাল, মোস্ট নেচারাল।

তো যখন এইটা নিয়া আমরা চিন্তা করতে গেছি তখন দেখতেছি যে, না, এইটা তো আসলে নেচারাল বলে যে জিনিস, ওইটা তো না। মানে কিছু চিন্তা করতে গেলে এইখানে তো আসলে হোচট খাইতে হচ্ছে। মানে জিনিসগুলি তো আসলে ভাষার ভেতরে আটানো যাইতেছে না। এইখানে যে একটা ব্যাকরণ সম্মত ভাষা বলে জিনিস আছে, এইটা যে খালি আমি ফিল করছি তা না। আমাদের সময়ে আমাদের আগেও অনেকে ফিল করছে। কিন্তু আমার ধারণা এইটা এইটিজ পর্যন্ত… ধরেন এক ধরণের ঝামেলা একটা হইছিল ত্রিশ চল্লিশের দিকে; তখনকার সময়ে তর্ক বিতর্কগুলির মধ্যে এইটা পাওয়া যাবে।

মুসলমান যারা ছিলেন উনারা দাবি করতেছিলেন যে মুসলমানরাও সাহিত্যের অংশ ভাষার অংশ, সুলতানি আমলেও ভাষা ছিল, দেন, যেইটা আসলে ব্রিটিশ আমলে প্রেসক্রাইবড যেইটা ফোর্ট উইলিয়ামের ভাষা ওইটাই যে আসলে বাংলা ভাষা ওইটার এগেইনেস্টে যারা ছিলেন উনারা আসলে একটা স্পেইস দাবি করতেছিলেন। ওই রকম একটা জায়গা থেকে ছিল। দেন, যখন ’৪৭ হইল পলিটিক্যালি, যখন ভাগ হইল তখন তো আসলে ইন্ডিয়াতেও প্রশ্ন উঠল যে ভাষা কোনটা হবে—হিন্দি হবে? পাকিস্তানের দাবি হইল যে আসলে উর্দু হবে, এইরকম।

তো তখন ইন্ডিয়ার যে সাউথ পার্টটা, ওরা কিন্তু এইটা মাইনা নেয় না। ওরা বলছিল যে যার যার রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হবে। মোটামুটি/ ভুলভাবে একটা সেটেল হইছিল। পাকিস্তানেও ওইভাবে স্যাটেল হইছে। কিন্তু যেইটা বাংলা ভাষা বইলা বলা হচ্ছিল সেইখানে আসলে ওই আমাদের মধ্যে সোসাইটির যে ভাষাটা, কমন পিপলের যে ভাষাটা ওইটা আসলে বাংলা ভাষা হিসাবে তৈরি হচ্ছিল না। ওইটার নড়চড়গুলি টের পাওয়া যাবে। মানে যেমন ধরেন সিনেমা হইলে সেইটা যাত্রা সিনেমা হয়ে যাচ্ছিল, গান হইলে সেইটা ফোক সং হয়ে যাচ্ছিল, কবিতা হইলে সেইটা লোকজ-ভাষার কবিতা হয়ে যাচ্ছিল। মানে ধরেন ডিফেরেন্সগুলি তখনও কিন্তু ছিল, কিন্তু আমাদের আসলে কলোনিয়াল হ্যাঙ-ওভারটা তখনও কাটে নাই। যেই জিনিস কাটতে তো আসলে সময় লাগে।

সিফাত: একটা মান ধইরা হিসাব করলে যেইটা হয় আর কি।

ইমরুল: হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো ওই জিনিসটা যাইতে যাইতে আমার ধারণা বাংলাদেশ যখন হইছে; এবং স্পেশালি বাংলাদেশ হওয়ার পরও না; আমার ধারণা পঁচাত্তর ছিয়াত্তরের পরে, আমরা বুঝতে পারছি যে না, বাংলাদেশ তো আসলে একটা আলাদা রাষ্ট্র, আলাদা একটা জায়গা। তো তখন ভাষার জায়গাগুলি আরও স্পষ্ট হয়া উঠছে, তর্ক-বির্তকের জায়গাগুলি। এই সেভেনটি সিক্স এইটিজে গিয়া আমার ধারণা এই জায়গাগুলি স্পষ্ট হইতে শুরু করছে এবং ওইটার লিগ্যাসি থেইকা আমরা আসলে লিখতে গিয়া সাহিত্য করতে গিয়া টের পাইছি যে না এইটা তো ঠিকঠাক না। এইখানে আরও কিছু ঘটনা আছে আর কি। যেইগুলি চিন্তা ভাবনা করা দরকার। এইটা হইছে আমার কাছে ভাষা নিয়া আলাপের কনটেক্সটা।

মনু: সিফাতের যে কোশ্চেনটা এইটা, আমি যেভাবে বুচ্ছি; সেটা হলো যে… আচ্ছা, একটা দিক হচ্ছে যে ধরেন যে জায়গাগুলি থেইকা আমরা ইয়ে করতেছি… মার্ক্সের হিস্ট্রিকাল পোগ্রেশনের যে আইডিয়া ওইটার একটা মোস্ট প্রোবাবলি একটা ছায়া আছে, মানে অটোমেটিক্যালি। সিফাত যেভাবে প্রস্তাবটা দিল, যে ঘটনাটা তো ঘটবে আসলে; মানে ধরেন, এইটা কোনো রকম জোর করা এইখানে তা না। এইটা আসলে ঘটবে, এইটাই ঘটার কথা।

ধরেন যে খাশ বাংলা, দুইটাই হচ্ছে ধরেন স্টান্ডার্ড বাংলা হইয়া ওঠার কথা। এইটা হচ্ছে যে খুবি, ওই মার্ক্সের পোগ্রেশনের আইডিয়া থেকে যে আগাইতে আগাইতে এইটা অই জায়গায় যাবে, যেইটা অবভিয়াস; ফলে ওইটা আসলে আমাদের উপরে ডিপেন্ডেড না। ওরকম একটা জায়গা।

তো, মার্ক্সের কথাটা আনলাম এই জন্য যে ধরেন রেভ্যুলেশনারি বা মার্ক্সিস্ট রেভ্যুলেশন করে এদের ব্যাপারে আসলে হচ্ছে যে বহু ক্রিটিক আছে। একটা বড় কোশ্চেন যেটা, সেটা হচ্ছে যে যখনি আপনি রিভল্ট করে ফেলছেন তারপরে আপনি কি করবেন?

তো, মানে খাশ বাংলার ব্যাপারেও কোশ্চেনটা আসলে কাইন্ড-অপ ওইরকম। যে ধরেন এইটা উইন করল। মানে হিস্টিরিতে তো উইন করবে, এইটা ধইরা নিয়া, যে উইন করল, তারপরে তার শাসনটা কেমন হবে? Continue reading

আমার বন্ধু নজরুল : তাঁর গান – কাজী মোতাহার হোসেন [লাস্ট পার্ট]

ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা ইংরেজী প্রবন্ধ Nazrul Islam : The singer and writer of songs  লেখার তরজমা এইটা। নজরুল-ভক্ত বিদেশী বন্ধুদের একটি মুশায়েরায় পড়বার জন্য তাঁর এক ছাত্রের অনুরোধে তিনি এই এসে লেখেন। লেখাটা নজরুল একাডেমী পত্রিকা ৪র্থ বর্ষ, ১ম (গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত ১৩৮১) সংখ্যায় ছাপানো হয়। তরজমা করছিলেন শাহাবুদ্দিন আহমদ।

কিস্তি ১

১৩.
কুমারী ফজিলাতুন্নেসার বিলাত গমন উপলক্ষে নজরুল “বর্ষা-বিদায়” নামক একটি কবিতা লেখেন। তাঁর বিখ্যাত প্রেমের কবিতাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। কিন্তু কবিতাটি এমন নৈর্ব্যক্তিকভাবে লেখা যে অধিকাংশ পাঠকের পক্ষে এর ব্যঙ্গার্থ কিংবা রূপকের রহস্যভেদ করা কঠিন। তাঁরা শুধু দেখবেন প্রকৃতি কিভাবে বর্ষা ঋতু থেকে শীত ঋতুতে রূপ পরিবর্তন করছে। অথবা অন্যভাবে বলা যায় যে তিনি তাঁর অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে চেতনাশ্রিত কল্পনায় এমনভাবে জারিত করে নিয়েছিলেন যা থেকে তিনি মুক্তোর মত এমন কতকগুলো কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনুভূতিকে বিশ্বচারিত্র্য দান করেছে। অসাধারণ ক্ষমতাবান কবি ছাড়া বক্তব্য বিষয়কে এমন অনিন্দ্যসুন্দর রূপকের আড়ালে ব্যক্ত করা অসম্ভব। আমি কবিতাটির নির্বাচিত কয়েকটি পংক্তি এখানে তুলে দিলাম :

ওগো বাদলের পরী।
যাবে কোন দূরে ঘাটে বাঁধা তব কেতকী পাতার তরী
ওগো ও ক্ষণিকা পূব অভিসার ফুরাল কি আজি তব?
পহিল ভাদরে পড়িয়াছে মনে কোন দেশ অভিনব?
তোমার কপোলে পরশ না পেয়ে পাণ্ডুর কেয়া রেণু,
তোমারে স্মরিয়া ভাদরের ভরা নদীতটে কাঁদে বেনু।

ওগো ও কাজল মেয়ে –
উদাস আকাশ ছল ছল চোখে তব মুখে আছে চেয়ে।
কাশফুল সম শুভ্র ধবল রাশ রাশ শ্বেত মেঘে
তোমার তরীর উড়িতেছে পাল উদাস বাতাস লেগে।
ওগো ও জলের দেশের কন্যা! তব ও বিদায় পথে
কাননে কাননে কদম কেশর ঝরিছে প্রভাত হতে ।

তুমি চলে যাবে দূরে –
ভাদরের নদী দু’কূল ছাপায়ে কাঁদে ছল ছল সুরে!
যাবে যবে দূর হিমগিরি শিরে, ওগো বাদলের পরী
ব্যথা করে বুক উঠিবে না কভু সেথা কাহাকেও স্মরি।
সেথা নাই জল, কঠিন তুষার নির্মম শুভ্রতা,—
কে জানে কী ভালো বিধূর ব্যথা – না মধুর পবিত্রতা।
সেথা রবে তুমি ধেয়ানমগ্না তাপসিনী অচপল,
তোমার আশায় কাঁদিবে ধরায় তেমনি “ফটিকজল”। Continue reading

আমার বন্ধু নজরুল : তাঁর গান – কাজী মোতাহার হোসেন [কিস্তি ১]

ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা ইংরেজী প্রবন্ধ Nazrul Islam : The singer and writer of songs  লেখার তরজমা এইটা। নজরুল-ভক্ত বিদেশী বন্ধুদের একটি মুশায়েরায় পড়বার জন্য তাঁর এক ছাত্রের অনুরোধে তিনি এই এসে লেখেন। লেখাটা নজরুল একাডেমী পত্রিকা ৪র্থ বর্ষ, ১ম (গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত ১৩৮১) সংখ্যায় ছাপানো হয়। তরজমা করছিলেন শাহাবুদ্দিন আহমদ।

১৯১৯ সালে হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলামের “বাউণ্ডেলের আত্ম-কাহিনী” মাসিক “সওগাতে” প্রকাশিত হয়। আমি তখন ঢাকা কলেজের ছাত্র। সেই তরুণ বয়সে আমার সাহিত্যজ্ঞান তখন কতটুকুই বা। একজন মুসলমানের, যাঁর আবার পদবী কাজী, বাংলা ভাষায় তাঁর দখল দেখে আমি রীতিমত উল্লসিত হয়ে উঠি । মনে মনে এই অদেখা বন্ধুটিকে আমার নিজের সম্প্রদায়ভুক্ত বলে অনুপ্রাণিত হলাম। তারপর ১৯২০ সাল থেকে “মোসলেম ভারত” পত্রিকায় একের পর এক তাঁর উদ্দীপনাময় কবিতাগুলি প্রকাশিত হতে লাগল । এই ঘটনা স্বপ্নের মত রোমাঞ্চকর বলে মনে হত আমার কাছে। ঐ কবিতাগুলির মধ্যে অনেকগুলোর প্রচলিত ধর্ম-নীতি বিরুদ্ধ কথাবার্তা যেমন আমি মেনে নিতে পারতাম না, তেমনি ধর্মাদর্শে সংরক্ষণশীল হয়েও সেগুলোকে যা-তা বলে উড়িয়েও দিতে পারতাম না । ফলে আমার আবেগ ও যুক্তির মধ্যে একটা তোলপাড় লেগে যেতো ।

বাংলা সাহিত্যাকাশের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটির সঙ্গে দেখা করতে আমি আগ্রহী হয়ে উঠলাম। শীগগীরই একটা সুযোগ এসে গেলো। আমার কলেজের সহপাঠী কাজী আকরম হোসেনের আত্মীয়-পরিবারের একটি মেয়ের সঙ্গে ১৯২০ সালের ১০ই অক্টোবর কলকাতায় আমার বিয়ে হয় । আমার শ্বশুর বাড়ী ছিল ১১ নং ওয়ালীউল্লাহ লেনে ওয়েলেসলি- -স্কোয়ারের পূর্ব দিকের গেটের দক্ষিণ কোণ বরাবর । তারিখটা ঠিক কবে এখন সঠিক মনে করতে পারছি না— তবে ১৯২০ কিংবা ২১-এর মধ্যে কোনো একদিন হবে। আকরম (আমার স্ত্রীর ইনসান মামু) ৩২ নং কলেজ স্ট্রীটে নজরুল ইসলামের সঙ্গে আমাকে দেখা করতে নিয়ে যান। তাঁর ঘরের সিঁড়িতে পৌছবার সরু গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নজরুল যে-ঘরে থাকেন সেই বাড়ীর দু’তলা থেকে আমরা তাঁর হাঃ হাঃ হাসির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। ঘরের মধ্যে ৬/৭ জন আগন্তুক পূর্বাহ্নেই উপস্থিত ছিলেন— কবি তাঁর স্বভাবগত প্রাণের উদ্বেল স্পর্শে সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রেখেছিলেন। ঘরে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দু’হাত বাড়িয়ে আমাদের দিকে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন। এবং আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস আমরা কাজী কি কৈবর্ত তা নিয়ে তিনি আদৌ মাথা ঘামান নি। কিন্তু আমরা দু’জনই প্রফেসর –একজন কলেজের, অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইংরেজীর, অন্যজন ফিজিক্সের (তখনকার দিনে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে-কোনো শিক্ষককে প্রফেসর বলা হত) শুনে তিনি সত্যিই খুশী হলেন। আমি লক্ষ করলাম যে প্রফেসরদের প্রতি বিশেষ করে মুসলমান প্রফেসরদের প্রতি তাঁর একটা অবিচল শ্রদ্ধা আছে— সে সময় যাঁদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য ছিল। বস্তুতঃ আমাদের এক কাপ করে চা এবং কয়েকটি সঙ্গীত দিয়ে আপ্যায়ন করা হ’ল । নিজেই হারমোনিয়াম বাজিয়ে নজরুল গান করলেন । অপূর্ব নিখুঁত ভঙ্গিতে তিনি হারমোনিয়াম বাজাচ্ছিলেন; এবং সেইকালে যখন বাঙালী মুসলমান সমাজে সঙ্গীত হারাম না হলেও মকরুহ্ ছিল ।

২.
প্রায় প্রতি বৎসর গ্রীষ্ম কিংবা হেমন্তের ছুটিতে সস্ত্রীক অথবা একা— যদি আমার স্ত্রী কলকাতায় থাকতেন কলকাতায় যেতাম। গেলেই “বিদ্রোহী” কবির সঙ্গে দেখা করাটা আমার যেন ফরজ ছিল। প্রতিদান স্বরূপ কবিও আমার শ্বশুর বাড়ীতে আমাদের দর্শন দিতেন। শীগগীরই আমি আবিষ্কার করলাম কবি একজন সুদক্ষ হস্ত রেখাবিদ। একবার ওয়ালিউল্লাহ লেনে (তালতলায়) তিনি আমার এবং আমার শ্যালকদের হাত দেখলেন। আমার বারো বছরের দ্বিতীয় শ্যালক খলিলুর রহমানের হাত দেখে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন। যে সে বিদেশে যাবে । আমার নয় বছরের ৩য় শ্যালক সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে, অতি অল্পকালের মধ্যে সে অনেক অনেক দূরে যাত্রা করবে, কোথায় তা কেউ জানে না। ঘটনা অবিকল তাই হয়েছিল। পরবর্তীকালে খলিলুর রহমান উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যাণ্ডে যায়, এবং লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ডিগ্রীসহ বি.এ. পাশ করে ও পি. এইচ. ডি লাভ করে এবং ভারত ও পাকিস্তান সমেত অন্যান্য আরও অনেক দেশে ইউনেস্কোর এডুকেশন অফিসার হিসাবে চাকরি করে । আর আমার তৃতীয় শ্যালক বদরুল আলম এমন এক দুশ্চিকিৎস্য রোগে আক্রান্ত হয় যে কোনো ডাক্তার, কবিরাজ কিংবা হেকিম সে-রোগ নির্ণয় করতে পারেন না। সুতরাং বছর তিনিকের মধ্যে সে এমন এক অজানা দেশে চলে যায় কোন পথিক যেখান থেকে আর ফিরে আসে না। আর আমার সম্পর্কে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে আমার ভাগ্যে সমুদ্র যাত্রা ঘটবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আমার ভাগ্যে প্রভূত সম্মান জুটবে। আমি অবশ্যই বলতে পারি না যে তেমন সৌভাগ্য আমার হয় নি। Continue reading

সিনস অফ সিনেমা (পার্ট টু)

ফার্স্ট পার্ট

সিনস অফ সিনেমা ৮


খলনায়ক (১৯৯৩)
গান: চোলি কে পিছে কেয়া হ্যায়
লিরিকস: আনন্দ বকশী, মিউজিক: লক্ষীকান্ত পেয়ারেলাল, সিঙ্গার: অলকা ইয়াগনিক, ইলা অরুন
স্ক্রিন প্রেজেন্স: মাধুরী দীক্ষিত, নীনা গুপ্তা, সঞ্জয় দত্ত

হিন্দি-সিনেমার কথা ভাবতেছিলাম, অইখানে কিন্তু কোন ফ্রেম বা ভিজ্যুয়াল প্রমিনেন্ট না তেমন। (কিছু জিনিস তো আছেই, কম-বেশি; যেমন কালারফুল বা রং-চং’য়া জিনিস, ড্রিমি-ড্রিমি ভাব ফুটায়া তোলা। নয়ার জিনিসটা নাই-ই তেমন, বা প্রমিনেন্ট না।) বরং গান, নাচ আর ডায়ালগের কথা মনে আসে আগে। মানে, এইগুলা সিনেমার বাইরের জিনিস না, বরং এইসব জিনিস দিয়াই ভিজ্যুয়ালটা তৈরি হইতেছে, হিন্দি-সিনেমাতে। এর কারণ হইতেছে, সিনেমা জিনিসটা হলিউডে তৈরি হওয়ার পরে সারা দুনিয়াতে ছড়ায় নাই, দুনিয়ার নানান দেশে লোকাল কালচারের লগে এক ধরণের মিল-মিশ বা কন্ট্রাডিকশনের ভিতর দিয়া একটা ফর্ম হিসাবে তৈরি হইছে। (একেক দেশের গল্প-কবিতা যেমন কম-বেশি আলাদা, সিনেমাও অইরকম। জাতীয়তাবাদী কারণে আলাদা না, কালচারের কারণেই একটু ডিফরেন্ট না হয়া উপায় নাই।)

হিন্দি-সিনেমা বা মুম্বাইয়ের সিনেমার জায়গাটা কালচার হিসাবে আসছে (ফলো করছে একভাবে) বাঈজী-বাড়ি এবং কুঠি থিকা। (বাংলাদেশের সিনেমার ব্যাপারে এইরকম ‘যাত্রা’র রিলিভেন্স পাইবেন। মানে, এইখানে আরো বড় একটা আলাপ তো আছেই যে, যে কোন আর্ট ফর্মরে যেইরকম লিনিয়ার কইরা দেখতে চাই আমরা ঘটনা তো অইরকম না, কখনোই।…) যেই কারণে হিন্দি-সিনেমার শুরু’র দিক থিকাই নায়িকারা মেইন এট্রাকশন ছিলেন, ডমিনেন্টও ছিলেন। ১৯২০-৩০’র দিকে অনেক নারী মিউজিশিয়ান পাইবেন, এমনকি ফিল্ম-ডিরেক্টরও। কিন্তু পরের দিকে উনারা আর থাকতে পারেন নাই, শুরুর দিকে ব্রিফ একটা পিরিয়ডে ডমিনেন্স ছিল উনাদের।

সিনেমা এমনিতেই একটা এডাল্ট আর্ট, আর অই বাঈজী-ঘরানার জায়গা থিকাই অনেক দিন পর্যন্ত সমাজে ‘খারাপ’ একটা জিনিস হিসাবে পারসিভড হইতো।… তো এইসব জায়গা থিকা হিন্দি-সিনেমার ঘটনা হইতেছিল, গান আর নাচ। লাখ লাখ না হইলেও হাজার হাজার গান এইরকম আছে যেইখানে নায়িকা হালকা ইরোটিক ড্যান্স দিতেছে। অডিয়েন্সরে এন্টারটেইন করতেছে। যেইটা পরে আইটেম সং হিসাবে কনভার্ট হইছে।

মানে, অন-স্ক্রিন রিয়ালিটিতে ফিমেইল ডমিনেন্স হিন্দি-সিনেমাতে সবসময় ছিল। নায়ক বরং সবসময় একটা সাইড-রোলই। নায়ক’রা দেখবেন অনেক বুড়া বয়স পর্যন্ত হিট থাকে ইয়াং নায়িকাদের ওড়না ধইরাই। রাজকাপুর এইটা শুরু করছিলেন এবং উনার নাতনিদের বয়সী নায়িকাদের লগে সিনেমা কইরা নায়ক হিসাবে টিইকা থাকার ট্রাই করছেন।…

তো, ক্যাটাগরি’টা বা পয়েন্ট’টারে নিতে পারলে পরে একটা সিন’রে বাছাই করাটা সহজই আসলে। আমি যেই বয়সে সিনেমা দেখা শুরু করছি, ১৯৯০’র দিকে, তখন মাধুরী দীক্ষিতই ঘটনা, এই কারণে আমার চয়েস হইতেছে – চোলি কে পিছে কেয়া হ্যায়

নীনাগুপ্তাও অনেক স্টানিং এইখানে। আর এই ড্যান্স আর হাসি তো মাধুরী’র সিগনেচার হয়া গেছিল পরে। পরের ২০ বছরে এইরকম নাচ উনি নাচছেন (দেবদাস, আজা নাচলে…)।

আমার ধারণা, এইখানে আরো ১০/১২টা গানের নাম ইজিলি নেয়া যাবে। জিনাত আমানের দম মারো দম, শোলে’তে হেলেনে’র মেহবুবা ও মেহবুবা, [ওহ, আর ডি বর্মন!], বোম্বে সিনেমায় সোনালি বান্দ্রের হাম্মা [এ.আর. রহমানের আরো কিছু আছে] বিপাশা বসু’র বিড়ি জ্বালাইলে, ক্যাটরিনা’র শিলা কি জাওয়ানি, সানি লিওনের বেবি ডল… লিটারারি হাজার হাজার জিনিস আছে এইখানে। এমন কোন হিন্দি-সিনেমা পাওয়াটা রেয়ার হবে যেইখানে গান হিট হইছে, কিন্তু সিনেমা হিট হইতে পারে নাই! এইটা হইতেছে হিন্দি-সিনেমার ট্রেজার। গিফট টু দ্য ওয়ার্ল্ড সিনেমা।
Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →