[১৮.০২.২০২২ তারিখে একটা আলাপ হইছিল। সেই আলাপের একটা ট্রান্সক্রিশপন হইতেছে এই টেক্সট।]
সিফাত আহমেদ: খাশ বাংলার বাংলাদেশে আমরা, একটা স্পেস ক্রিয়েট হচ্ছে, কারণ এইটা তো মোস্ট নেচারাল থিংক, বাংলাদেশে, এইটা হবেই। আমরা করতে পারি আর যেই করতে পারুক, এইটা হবেই আর কি কিছুদিনের ভেতর। এই যে একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রসেসের ভেতর দিয়ে আলাপ আলোচনা ডিসকোর্সের ভিতর দিয়া এইটা হইতেছে, এইটা হইয়া যাওয়ার পর – এইটা সোসাইটিতে কোনো নেগেটিভ কনসিকুয়েন্স তৈরি হইতে পারে কিনা? পলিটিকসে, যেহেতু একটা ভাষা পলিটিকসের ভেতর দিয়া এইটা হইতেছে, পলিটিকসে এইটা থাকতেই পারে, সেই জায়গাগুলা কিভাবে ট্যাকল দেয়া যাইতে পারে? এইটা একটা আধিপত্য তৈরি করতে পারে কিনা, বাংলায় — যদি বলি আর কি, সেই জায়গাটা ট্যাকল দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা কি? অই জায়াগাটা কি আপনি ভাবছেন?
রক মনু: এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব, কিন্তু ইমরুলের ভাবনা কি? .
ইমরুল হাসান: এইটার বাইরে কনটেক্সটা নিয়া কথা আছে। ভাষার ব্যাপারে যে আলাপ-টালাপ হচ্ছে, বা যেভাবে হয়ে আসছে, এইখানে তো আসলে, বেইজলাইনে বিশাল একটা কনটেক্সট আছে। আমি ভাবতে গিয়া ওইটা নিয়া ভাবতেছিলাম। যে ওই কনটেক্সট কিভাবে তৈরি হচ্ছে, কিভাবে কোশ্চেন হচ্ছে বা কি রকম হইছে। এই ব্যাপারগুলি নিয়া ওইখানে হয়তো দুই-এক কথা এড করা যাইতে পারে।
ভাষা তো আসলে সবচেয়ে বেশি ইউজ হয় হচ্ছে কথা বলার বাইরে সাহিত্যের জায়গাটাতে। সাহিত্যের জায়গাটারে আমরা ভাষা বইলা দেখতে চাই আর কি। বা বড় কোনো সাহিত্যিক হচ্ছে ভাষাকে ডিকটেট করবেন এরকম একটা ধারণা আছে। তো যারা লেখালেখি করে তারা তো আসলে ভাষা নিয়া ডিল করে, ওইটা নিয়াই আসলে চিন্তা করা লাগে। তো যেইটা আসছিল আমার চিন্তাতে, লেখালেখির শুরুতে; আমরা তো ধরেই নিছি যে সাহিত্য ভাষাটা আছে, ওইটাই হচ্ছে নেচারাল, মোস্ট নেচারাল।
তো যখন এইটা নিয়া আমরা চিন্তা করতে গেছি তখন দেখতেছি যে, না, এইটা তো আসলে নেচারাল বলে যে জিনিস, ওইটা তো না। মানে কিছু চিন্তা করতে গেলে এইখানে তো আসলে হোচট খাইতে হচ্ছে। মানে জিনিসগুলি তো আসলে ভাষার ভেতরে আটানো যাইতেছে না। এইখানে যে একটা ব্যাকরণ সম্মত ভাষা বলে জিনিস আছে, এইটা যে খালি আমি ফিল করছি তা না। আমাদের সময়ে আমাদের আগেও অনেকে ফিল করছে। কিন্তু আমার ধারণা এইটা এইটিজ পর্যন্ত… ধরেন এক ধরণের ঝামেলা একটা হইছিল ত্রিশ চল্লিশের দিকে; তখনকার সময়ে তর্ক বিতর্কগুলির মধ্যে এইটা পাওয়া যাবে।
মুসলমান যারা ছিলেন উনারা দাবি করতেছিলেন যে মুসলমানরাও সাহিত্যের অংশ ভাষার অংশ, সুলতানি আমলেও ভাষা ছিল, দেন, যেইটা আসলে ব্রিটিশ আমলে প্রেসক্রাইবড যেইটা ফোর্ট উইলিয়ামের ভাষা ওইটাই যে আসলে বাংলা ভাষা ওইটার এগেইনেস্টে যারা ছিলেন উনারা আসলে একটা স্পেইস দাবি করতেছিলেন। ওই রকম একটা জায়গা থেকে ছিল। দেন, যখন ’৪৭ হইল পলিটিক্যালি, যখন ভাগ হইল তখন তো আসলে ইন্ডিয়াতেও প্রশ্ন উঠল যে ভাষা কোনটা হবে—হিন্দি হবে? পাকিস্তানের দাবি হইল যে আসলে উর্দু হবে, এইরকম।
তো তখন ইন্ডিয়ার যে সাউথ পার্টটা, ওরা কিন্তু এইটা মাইনা নেয় না। ওরা বলছিল যে যার যার রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হবে। মোটামুটি/ ভুলভাবে একটা সেটেল হইছিল। পাকিস্তানেও ওইভাবে স্যাটেল হইছে। কিন্তু যেইটা বাংলা ভাষা বইলা বলা হচ্ছিল সেইখানে আসলে ওই আমাদের মধ্যে সোসাইটির যে ভাষাটা, কমন পিপলের যে ভাষাটা ওইটা আসলে বাংলা ভাষা হিসাবে তৈরি হচ্ছিল না। ওইটার নড়চড়গুলি টের পাওয়া যাবে। মানে যেমন ধরেন সিনেমা হইলে সেইটা যাত্রা সিনেমা হয়ে যাচ্ছিল, গান হইলে সেইটা ফোক সং হয়ে যাচ্ছিল, কবিতা হইলে সেইটা লোকজ-ভাষার কবিতা হয়ে যাচ্ছিল। মানে ধরেন ডিফেরেন্সগুলি তখনও কিন্তু ছিল, কিন্তু আমাদের আসলে কলোনিয়াল হ্যাঙ-ওভারটা তখনও কাটে নাই। যেই জিনিস কাটতে তো আসলে সময় লাগে।
সিফাত: একটা মান ধইরা হিসাব করলে যেইটা হয় আর কি।
ইমরুল: হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো ওই জিনিসটা যাইতে যাইতে আমার ধারণা বাংলাদেশ যখন হইছে; এবং স্পেশালি বাংলাদেশ হওয়ার পরও না; আমার ধারণা পঁচাত্তর ছিয়াত্তরের পরে, আমরা বুঝতে পারছি যে না, বাংলাদেশ তো আসলে একটা আলাদা রাষ্ট্র, আলাদা একটা জায়গা। তো তখন ভাষার জায়গাগুলি আরও স্পষ্ট হয়া উঠছে, তর্ক-বির্তকের জায়গাগুলি। এই সেভেনটি সিক্স এইটিজে গিয়া আমার ধারণা এই জায়গাগুলি স্পষ্ট হইতে শুরু করছে এবং ওইটার লিগ্যাসি থেইকা আমরা আসলে লিখতে গিয়া সাহিত্য করতে গিয়া টের পাইছি যে না এইটা তো ঠিকঠাক না। এইখানে আরও কিছু ঘটনা আছে আর কি। যেইগুলি চিন্তা ভাবনা করা দরকার। এইটা হইছে আমার কাছে ভাষা নিয়া আলাপের কনটেক্সটা।
মনু: সিফাতের যে কোশ্চেনটা এইটা, আমি যেভাবে বুচ্ছি; সেটা হলো যে… আচ্ছা, একটা দিক হচ্ছে যে ধরেন যে জায়গাগুলি থেইকা আমরা ইয়ে করতেছি… মার্ক্সের হিস্ট্রিকাল পোগ্রেশনের যে আইডিয়া ওইটার একটা মোস্ট প্রোবাবলি একটা ছায়া আছে, মানে অটোমেটিক্যালি। সিফাত যেভাবে প্রস্তাবটা দিল, যে ঘটনাটা তো ঘটবে আসলে; মানে ধরেন, এইটা কোনো রকম জোর করা এইখানে তা না। এইটা আসলে ঘটবে, এইটাই ঘটার কথা।
ধরেন যে খাশ বাংলা, দুইটাই হচ্ছে ধরেন স্টান্ডার্ড বাংলা হইয়া ওঠার কথা। এইটা হচ্ছে যে খুবি, ওই মার্ক্সের পোগ্রেশনের আইডিয়া থেকে যে আগাইতে আগাইতে এইটা অই জায়গায় যাবে, যেইটা অবভিয়াস; ফলে ওইটা আসলে আমাদের উপরে ডিপেন্ডেড না। ওরকম একটা জায়গা।
তো, মার্ক্সের কথাটা আনলাম এই জন্য যে ধরেন রেভ্যুলেশনারি বা মার্ক্সিস্ট রেভ্যুলেশন করে এদের ব্যাপারে আসলে হচ্ছে যে বহু ক্রিটিক আছে। একটা বড় কোশ্চেন যেটা, সেটা হচ্ছে যে যখনি আপনি রিভল্ট করে ফেলছেন তারপরে আপনি কি করবেন?
তো, মানে খাশ বাংলার ব্যাপারেও কোশ্চেনটা আসলে কাইন্ড-অপ ওইরকম। যে ধরেন এইটা উইন করল। মানে হিস্টিরিতে তো উইন করবে, এইটা ধইরা নিয়া, যে উইন করল, তারপরে তার শাসনটা কেমন হবে? Continue reading →