আমার বন্ধু নজরুল : তাঁর গান – কাজী মোতাহার হোসেন [লাস্ট পার্ট]
…
ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা ইংরেজী প্রবন্ধ Nazrul Islam : The singer and writer of songs লেখার তরজমা এইটা। নজরুল-ভক্ত বিদেশী বন্ধুদের একটি মুশায়েরায় পড়বার জন্য তাঁর এক ছাত্রের অনুরোধে তিনি এই এসে লেখেন। লেখাটা নজরুল একাডেমী পত্রিকা ৪র্থ বর্ষ, ১ম (গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত ১৩৮১) সংখ্যায় ছাপানো হয়। তরজমা করছিলেন শাহাবুদ্দিন আহমদ।
…
…
১৩.
কুমারী ফজিলাতুন্নেসার বিলাত গমন উপলক্ষে নজরুল “বর্ষা-বিদায়” নামক একটি কবিতা লেখেন। তাঁর বিখ্যাত প্রেমের কবিতাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। কিন্তু কবিতাটি এমন নৈর্ব্যক্তিকভাবে লেখা যে অধিকাংশ পাঠকের পক্ষে এর ব্যঙ্গার্থ কিংবা রূপকের রহস্যভেদ করা কঠিন। তাঁরা শুধু দেখবেন প্রকৃতি কিভাবে বর্ষা ঋতু থেকে শীত ঋতুতে রূপ পরিবর্তন করছে। অথবা অন্যভাবে বলা যায় যে তিনি তাঁর অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে চেতনাশ্রিত কল্পনায় এমনভাবে জারিত করে নিয়েছিলেন যা থেকে তিনি মুক্তোর মত এমন কতকগুলো কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনুভূতিকে বিশ্বচারিত্র্য দান করেছে। অসাধারণ ক্ষমতাবান কবি ছাড়া বক্তব্য বিষয়কে এমন অনিন্দ্যসুন্দর রূপকের আড়ালে ব্যক্ত করা অসম্ভব। আমি কবিতাটির নির্বাচিত কয়েকটি পংক্তি এখানে তুলে দিলাম :
ওগো বাদলের পরী।
যাবে কোন দূরে ঘাটে বাঁধা তব কেতকী পাতার তরী
ওগো ও ক্ষণিকা পূব অভিসার ফুরাল কি আজি তব?
পহিল ভাদরে পড়িয়াছে মনে কোন দেশ অভিনব?
তোমার কপোলে পরশ না পেয়ে পাণ্ডুর কেয়া রেণু,
তোমারে স্মরিয়া ভাদরের ভরা নদীতটে কাঁদে বেনু।
ওগো ও কাজল মেয়ে –
উদাস আকাশ ছল ছল চোখে তব মুখে আছে চেয়ে।
কাশফুল সম শুভ্র ধবল রাশ রাশ শ্বেত মেঘে
তোমার তরীর উড়িতেছে পাল উদাস বাতাস লেগে।
ওগো ও জলের দেশের কন্যা! তব ও বিদায় পথে
কাননে কাননে কদম কেশর ঝরিছে প্রভাত হতে ।
তুমি চলে যাবে দূরে –
ভাদরের নদী দু’কূল ছাপায়ে কাঁদে ছল ছল সুরে!
যাবে যবে দূর হিমগিরি শিরে, ওগো বাদলের পরী
ব্যথা করে বুক উঠিবে না কভু সেথা কাহাকেও স্মরি।
সেথা নাই জল, কঠিন তুষার নির্মম শুভ্রতা,—
কে জানে কী ভালো বিধূর ব্যথা – না মধুর পবিত্রতা।
সেথা রবে তুমি ধেয়ানমগ্না তাপসিনী অচপল,
তোমার আশায় কাঁদিবে ধরায় তেমনি “ফটিকজল”। Continue reading