Main menu

অসুখের দিন (কিস্তি ৭)

This entry is part 7 of 8 in the series অসুখের দিন

[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।। কিস্তি ৪ ।। কিস্তি ৫ ।। কিস্তি ৬ ।।

পর্ব ১৩: ‘সুস্থ হয়ে গেছি’ বিশ্বাস হতে চাইল না

সব মিলিয়ে দেড়-দুই মিনিট কথা। ডা. মোহাম্মদ আলী কম্পিউটার স্ক্রিনের ওপারে। আমি আশ্বস্ত হতে পারছিলাম না। কিন্তু উনি খুবই নিশ্চিত, আমার কোনো সমস্যা নাই। আমি আসলে কী চাইছিলাম, জানি না। মানে, খুবই তো খুশি হওয়ার কথা। তারপরও উনার চেম্বার থেকে যখন হলাম, মনে হলো, হ্যাঁ এটা তো দারুণ একটা ব্যাপার। নিজেকে স্বাধীন মানুষ মনে হতে লাগল। এ মুহূর্তে যা যা করতে চাই, তার জন্য প্রস্তুত।

নিচে নেমে রিকশা নিলাম। অফিসে যাবো। এত দ্রুত ডাক্তারকে পেয়ে গেছি যে, অফিসের গাড়ি ধরার জন্য যথেষ্ট সময় আছে। যেতে যেতে ফোনে রাশেদ আর মিশুকে জানালাম খুশির খবরটা। ওরা বেশ খুশি। তারপর বাড়িতে ফোন করলাম। ডা. মহসিন শুনেও খুশি। যদিও উনি আগে থেকে এমন কথায় বলছেন।

‘আমি পুরোপুরি সুস্থ’ মিশ্র একটা অনুভূতি। ঠিকঠাক, ভালো আছি বা সমস্যা নাই; বিষয়টা বিশ্বাস হতে চায় না। এত এত জটিলতার ভেতর দিয়ে আসার পর মনে হয় না যে, এত সহজে ব্যাপারটার নিস্পত্তি হবে। কিন্তু একটা বিষয় সময়ে তো একটা ঘটনা ঘটে। যার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি বা না থাকি। সেখানে আগের অভিজ্ঞতা কখনো মেনে নিতে বাধা দেয়। পেছনে তাকালে অনেক লম্বা পথ মনে হলেও, হুট করে মনে হয়, জীবনটা অল্প দিনের। যেন এই অসুখও দুদিনের আগে। ফলে সমাধানটা বিশ্বাস হয় না। অবিশ্বাস্য হলেও, এমন কথা শুনে কেমন যেন খারাপও লাগছিল।

একটা অভ্যাস, বা রোগ, যেন আমার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। তাকে বিসর্জন দিতে খারাপ লাগছিল। আরেকটা যুক্তি হলো, এই অসুখ আমাকে জীবনের চ্যালেঞ্জ থেকে মুক্তি দিয়েছে। অজুহাত হিসেবে কাজ করেছে আমার অলস, সাহসহীন জীবনে। এখন তো একজন স্বাভাবিক মানুষের মতো সবকিছুর মুখোমুখি হতে হবে। মাত্র দেড় বছরেই সবকিছু এভাবে বদলে গেল। জীবন তো নিছক যাপনের অভ্যাস নয়, উত্থান-পতন, নানা বাঁক আছে। শুধু এটা নয় যে, আমরা সুস্থ বা স্বাভাবিক থাকলেই নিজের ইচ্ছাগুলোকে কাজে লাগাতে পারি। আসলে তা নয়, আমরা অস্বাভাবিক একটা শর্ত, যেটা আমি না চাইলেও বর্তমান।

হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম, আমরা একটা খুশির খবর পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সেটা এপ্রিল-মে মাস থেকে। যদিও সার্জারি সম্পর্কিত একটা অনিশ্চয়তা ছিল। আমরা এই কয় মাসে নানান টেস্ট করালাম। মোটামুটি সব স্বাভাবিক। আমার স্ত্রীকে একটা ইঞ্জেকশন নিতে হলো। ওষুধপত্র বাবদ বেশ খরচ হয়ে যাচ্ছিল। মনে আছে, ঈদুল আজহায় আমরা হোম অফিসে ছিলাম। ঈদের দিন পড়েছিল ইঞ্জেকশনের ডেট। দুই ঘণ্টা আরেকজনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসি। আমাদের ভাগ্য হলো, নেক্সট পরীক্ষায় ইঞ্জেকশনের ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ডাক্তার আমাদের আশ্বস্ত করলেন। এ দিকে বউয়ের ট্রেনিং শেষ হয়ে আসলো। উনি ১৪ আগস্ট চলে গেলেন। পরদিন ১৫ আগস্টের প্রোগ্রাম থাকার কথা স্কুলে।

আমরা একদিন-দুইদিন করে অপেক্ষা করছিলাম সুখবরের জন্য। বিশেষ করে ওনার তর সইছিল না। যাক, কয়েকদিনের মধ্যে জানা গেল, রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদের সবার মাঝে খুশির রেশ ছড়ায়া গেল। মনে হলো, এত এত কষ্ট, টেনশনের পর এটা একটা উপহার। সুদিনের আভাস। আমি যখন অসুখের গল্পটা বলার পরিকল্পনা করছিলাম, তখন এ ধরনের একটা সমাপ্তি খুঁজছিলাম। কিন্তু কে জানে এমন একটা সমাপ্তিতে পৌঁছাতে গেলে কতটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শুধু তা-ই নয়, আমার অসুখের দিন এখানে শেষ নয়। Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৭)

প্রবাহ ১৩. আমার স্বামী আর আমি – আমার প্রাণের প্রাণ – কলিজার টুকরা

মায়মুনা ইমাম হাসানের অন্তঃপুরে প্রায়ই যাতায়াত করিত। হাসনেবানুর নিকট তাহার আদর ছিল না। হাসনেবানুকে দেখিলেই সে ভয়ে জড়সড় হইত। নিতান্ত আবশ্যক না হইলে জয়নাবের নিকটে আর যাইতও না। জায়েদার সঙ্গে বেশি আলাপ, বেশি কথা, বেশি কান্না। মায়মুনাকে পাইলেই জায়েদা মনের কপাট খুলিয়া বসিতেন। জায়েদা ভাবিয়াছিলেন, মদিনার মধ্যে যদি কেহ তাঁহাকে ভালবাসে, তবে সে মায়মুনা। তাঁহার অন্তরের দুঃখে যদি কেহ দুঃখিত হয়, তবে সে মায়মুনা। দুটা মুখের কথা কহিয়া সান্ত্বনা করিবার যদি কেহ থাকে, তবে সে মায়মুনা। কোনরূপ উপকারের আশা থাকিলেও সেই মায়মুনা। মায়মুনাকে দেখিয়াই ব্যস্তভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মায়মুনা! এ কয়েকদিন দেখি নাই কেন?”

মায়মুনা উত্তর করিল, “তোমার কাজ না করিয়া কেবল যাওয়া আসায় লাভ কি? আমি তোমার উপকার করিবই করিব। আমি ভুলি নাই।”

জায়েদা কহিলেন, “পাগলের মত একদিন কী বলিয়াছিলাম, তুমি তাই মনে করিয়া রাখিয়াছ; যাক্ ও-কথা যাক্ ও-কথা তুমি আর কখনো মনে করিয়ো না; কোন চেষ্টা করিয়ো না। কৌশলে স্বামী বশ, মন্ত্রের গুণ স্বামীর মন ফিরান, মন্ত্রে ভালবাসা, ঔষধের গুণে স্বামী বশে আনা,-এ সকল বড় লজ্জার কথা। সকলই অদৃষ্টের লেখা।”

ব্যঙ্গচ্ছলে মায়মুনা জিজ্ঞাসা করিল, “তবে কী আপস্ হইয়াছে, না ভাগ-বণ্টন-বিলি-ব্যবস্থা করিয়া ভাগাভাগী করিয়া লইয়াছ?”

জায়েদা উত্তর করিলেন, “ভাগ-বণ্টন করি নাই, আপসও করি নাই; মিটমাটও করি নাই, এ জীবনে তাহা হইবে না, জায়েদা বাঁচিয়া থাকিতে স্বামী ভাগ করিয়া লইবেও না। যাহাদের স্বামী, যাহাদের ঘরকন্না, তাহারাই থাকুক, তাহারাই সুখভোগ করুক। জায়েদা আজিও যে ভিখারিণী, কালিও সেই ভিখারিণী।”

মায়মুনা কহিল, “এত উদাস হইও না। যাহা কর, বুদ্ধি স্থির করিয়া আগুপাছু বিবেচনা করিয়া করিয়ো। শুনিতে পাই, জয়নাবকেই তিনি বেশি ভালবাসেন; কিন্তু কই? আমি তো তাহার কিছুই দেখিতে পাই না; বরং দেখিতে পাই, তোমার প্রতিই তাঁহার টান অধিক।”

ঈষৎ হাস্য করিয়া জায়েদা কহিলেন, “তুমি কি বুঝিবে? প্রকাশ্যে কিছু ইতরবিশেষ দেখিতে পাও না, তাহা ঠিক। ভিতরে যে কি আছে তাহা কে বুঝিবে? বিশেষত ইহারা ইমাম। প্রকাশ্যে সকল স্ত্রীকে সমান দেখেন। কিন্তু দেখাও অনেক প্রকার আছে। এখন তিনি কথা কহেন, কিন্তু পূর্বেকার সে স্বর নাই, সে মিষ্টতাও নাই। ভালবাসেন, কিন্তু তাহাতে রস নাই। আদর করেন, কিন্তু সে আদরে মন গলে না, বরং বিরক্তিই জন্মে। ঘরের কথা, মনের কথা, কে বুঝিবে বল দেখি? এখন শীঘ্র শীঘ্র মরণ হইলে আমি নিস্তার পাই।”

কাঁদিয়া কাঁদিয়া মায়মুনা বলিতে লাগিলেন, “জায়েদা! তুমি কেন মরিতে চাও? তুমি মনে করিলে কী-না করিতে পার? মনে করিলেই তুমি রাজরাণী, মনে না করিলেই ভিখারিণী।” জায়েদা জিজ্ঞাসা করিলেন, “মনে করিলেই যদি মনের দুঃখ যায় তবে জগতে কে না মনে করে?” মায়মুনা উত্তর করিল, “আমি তো আর দশ টাকা লাভের জন্য তোমার মনোমত কথা বলিতেছি না। যাহা বলি, মন ঠিক করিয়া একবার মনে কর দেখি, তোমার মনের দুঃখ কোথায় থাকে?” জায়েদা কহিলেন, “তোমার কোন্ কথাটা আমি মনের সহিত শুনি নাই, মায়মুনা? তুমি আমার পরম হিতৈষিণী। যাহা বলিবে, তাহার অন্যথা কিছুতেই করিব না।” মায়মুনা কহিল, “যদি মনে না লাগে, তবে করিয়ো না। কিন্তু মন হইতে কখনোই মুখে আনিতে পারিবে না। ধর্ম সাক্ষী করিয়া আমার নিকট প্রতিজ্ঞা কর, এখনি বলিতেছি।” জায়েদা কহিলেন, “প্রতিজ্ঞা আর কি, তোমারই মাথায় হাত দিয়া বলিতেছি, যাহা বলিবে, তাহাই করিব; সে কথা কাহারো নিকট ভাঙ্গব না।”

উত্তম সুযোগ পাইয়া মায়মুনা অতি মৃদু স্বরে অনেক মনের কথা বলিল! জায়েদা ভয়ে থতমত খাইয়া বলিলেন, “শেষের কার্যটি জায়েদা প্রাণ থাকিতে হইবে না। আমার স্বামী আর আমি-আমার প্রাণের প্রাণ-কলিজার টুকরা আর আমি-”

শেষ কথাটি শেষ করিতে না দিয়াই মায়মুনা কহিল, “যে রাজরাণী জয়নাব হইত, সেই রাজরাণী-আবার প্রথমেই সহস্র স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার। সকলই সুখের জন্য। জগতে যদি চিরকালই দুঃখের বোঝা মাথায় করিয়া বহিতে হয়, তবে মনুষ্যকুলে জন্মলাভে কী ফল? আমার কথা কয়েকটি বড় মূল্যবান। ইহার এক-একটি করিয়া সফল করিতে না পারিলে, পরিশ্রম ও যত্ন সকলই বৃথা। এক-একটি কার্যের এমনি ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে একের অভাবে অন্যটি সাধিত হইতে পারে না। আজি আমি আর বেশি কিছু বলিব না।” এই বলিয়া মায়মুনা জায়েদার নিকট হইতে বিদায় লইল। Continue reading

আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ (সিলেক্টেড পার্ট ৪)

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।। পার্ট ৩ ।।

।। চাকুরী ও বিয়ে ॥

দু’বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা অর্জন করলাম। বাংলা সরকারের কৃষি দফতরে একটা পাকা চাকুরী খালি হল, দরখাস্ত করলাম। চাকুরীটা হয়ে গেল। ডি. পি. আই অফিসের অস্থায়ী চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে পাকা চাকুরীতে ঢুকলাম। আমার উর্ধ্বতন, কৃষি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়েস্টার্ন সার্কেল, তিনি একদিন বললেন, “আচ্ছা, আপনার নাম কি সেই, আজকাল যার রেকর্ডে খুব নাম শুনি… সেইই?” আমি অতি বিনয়ে বললাম, “আজ্ঞে হ্যাঁ।” তার নাম যদুনাথ সরকার। তিনি হেড এসিস্টেন্টকে ডেকে বললেন, “দেখুন, একে কোনও জটিল কাজ দেবেন না। অফিসে এসে নাম দস্তখত করে যেখানে খুশী সেখানে যাবেন, বিশেষ করে দুপুরে যদি রেকর্ড করবার জন্য রিহার্সেলে যেতে চান কক্ষণো বাধা দেবেন না। আমার বিভাগে এমন লোক পেয়েছি এতেআমাদের সৌভাগ্য।” বলা বাহুল্য বৃদ্ধ হেড এ্যাসিস্টান্ট ধর্মদাস-বাবু এ নিয়মের কোন ব্যতিক্রম করেন নি। আমি তাই এই দুজনের কাছেই কৃতজ্ঞ। এঁদের কাছে বাঁধাধরা নিয়মে চাকুরী করতে গেলে সত্যিই আমি আমার সংগীতসাধনার পথে নির্বিবাদে এগুতে পারতাম না।

গ্রামোফোন কেম্পানীতে একদিন কাজিদার ঘরে হরিদাস, মুণাল আর কে কে বসে গল্প হচ্ছিল। এমন সময় আমি গেলাম। জানি না কি. ব্যাপার, হঠাৎ কাজিদা বলে উঠলেন তাদের উদ্দেশ করে, “দেখ তোমাদের কাছে একট। কথ বলি। আব্বাস আমার ছোট ভাই। দিন দিন গানে চমৎকার নাম করছে। যদি তোমরা কেউ একে কোনদিন খারাপ পথে নিয়ে যাও তাহলে তোমাদের জ্যান্ত রাখব না।” বলাই বাহুল্য কাজিদার একথা সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল।

একদিনকার একট ঘটনা বলি। কবি শৈলেন রায় আমার বাল্যবন্ধু। অভিনেতা দুর্গাদাসবাবু ভারী রসিক লোক, শৈলেন ও আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। প্রায়ই আমাদের দুজনকে বলতেন, “একদিন হোক না একপাত্র! দোষ কি?” আমি একদিন বললাম, “আপনার হাতে হাতখড়ি হওয়া মানে তে৷ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে খবর বলা। তিনি হেসে বলতেন, “আরে না না, কাকপক্ষীও জানতে পারবে না।” শৈলেন বলত, “তা দুর্গাদা’ আমাদের সজীব লিভারের ওপর আপনার এত হিংসা কেন?” নাঃ ডাল আর গলে না। দুর্গাদাসবাবুকে অনেকের কাছে বলতে শুনেছি, “বাবা, এরা কাদায় বাস করে কিন্তু কাদা গায়ে মাখে না।”

গ্রামাফোন কোম্পানীর রিহার্সেল রুমটা ছিল তখন অতি জঘন্য জায়গায় । ১৬০নং আপার চিৎপুর রোড, বিষ্ণুভবন। তার আশে-পাশের বহুদূরে ভদ্রলোকের বাস ছিল না। এ দুষিত আবহাওয়ায় নিজেকে বীচিষে রাখা কতদিন সম্ভবপর হবে এই নিয়ে দস্তুরমত চিন্তিত হয়ে পড়লাম। অকস্মাৎ একদিন মনস্থির করে ফেললাম। বাবাকে ‘জানিয়ে দিলাম, আমি বিয়ে করতে রাজী।

হল্দিবাড়ীতে আমার দোস্ত মশারফ হোসেনের কাছে বাবা চিঠি দিলেন। আমার জীবনের অন্তরংগতম বাল্যবন্ধু আমার দোস্ত মশারফ হোসেন। কুচবিহার জেন্কিন্স স্কুলে যখন সিস্কথ ক্লাশে ভর্তি হই, তখনই তার সাথে আমার প্রথম বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। একই হোস্টেলে থাকি। তারা তিনভাই বিরাট সম্পত্তির মালিক – আশৈশব পিতৃহীন। সম্পত্তি তাদের কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে। এর বড় ভাইয়ের সাথে ছিল আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুত্ব–তাই আমাদের দু’জনের মাঝেও গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। হোষ্টেলের সবাই বললে, বাঃ এরা দুটিতে বেশ মিল। দোস্তালি পাতাও। তাই দু’জন দু’জনকে দোস্ত বলে ডাকতাম। আমার দোস্ত এখন রংপুর ধাপে বাস করছেন।

দোস্ত আমাকে চিঠি দিল, তার ওখানে গেলাম, রংপুর জেলার ডোমার গিয়ে মেয়ে দেখলাম। দশ বার দিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেল।

তখন সমাজের অবস্থা কি ছিল বলতে গিয়ে বিয়ের দিনের একটা ঘটনা বলতেই হচ্ছে। যেদিন মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম সেদিন হবু শ্বশুরবাড়ীতে কী গানের ঘটা। হারমোনিয়াম বাজিয়ে কত গানই গেয়েছিলাম। পাড়ার লোক সেদিন আসর জমিয়েছিল।

বিয়ের দিন কলকাতা থেকে বন্ধুবান্ধব এসেছে। বিয়ের পর রাতে তকরীম আহমদ যেই সেতারে একটু টুংটাং শব্দ তুলেছে অমনি উঠেছে প্রতিবাদ। না, একি মুসলমানের বিয়ে-বাড়ী. গান-বাজনা সামাজিক প্রচলন নেই ইত্যাদি! বন্ধুদের এই অবমাননায় আমি গণ্ডগোলের ফাঁকে আঁধার রাতে শ্বশুরবাড়ী থেকে চলে গিয়ে রাত কাটিয়েছি দূরে এক হাই স্কুলের টেবিলে। রাতে ভীষণ ঝড় উঠেছিল। সমাজের এই রূঢ় আচরণে আমার বুকে ও উঠেছিল সেদিন সাত-সাগরের ঢেউ!

সারা রাত বর কোথায় বর কোথায় করে খুঁজেছিল সবাই। আমাকে পায়নি। বিয়ে-বাড়ীতে এ নিয়ে উঠেছিল মহা আলোড়ন। ভাগ্যিস বিয়ে পড়ানো আগেই হয়ে গিয়েছিল – কাজেই সবাই মনে করেছিল, পাখীকে শিকল পরানো হয়েছে, আরতো উড়তে পারবে না, খাঁচায় আসতেই হবে ফিরে।

সারারাত বাইরের ঝড় আর মনের ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে ভোরের দিকে টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছি। প্রাতঃভ্রমণরত দু’একজন শ্বশুরবাড়ীর লোক আমাকে এ অবস্থায় আবিষ্কার করে শেষ পর্যন্ত নিয়ে আসেন মানভঞ্জনের পালার দৃশ্যে অবতীর্ণ হবার জন্য ।

পরবর্তীকালে অবশ্যি শ্বশুরবাড়ীতে যতবারই গিয়েছি গানের জন্য বাধা তে দূরের কথা ষে ক’দিন থাকতাম গলার অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে ঠেকত যে দস্তরমত পনের-বিশ দিন গলাকে বিশ্রাম দিতে হত। Continue reading

অন লিব্রেলিজম

১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়ার হ্যাম্পটনে একটা ইংলিশ জাহাজ ভিড়ে যার নাম ছিল হোয়াইট লায়ন। ছোট এই জাহাজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব হচ্ছে এই জাহাজে করেই ২৫/৩০ জন আফ্রিকান দাস প্রথম আমেরিকার মাতিতে পা রাখে।

১৬৪৯ সালে যখন অলিভারের ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে ব্রিটিশরা গৃহযুদ্ধ বাধানোর অপরাধে রাজা প্রথম চার্লসের মাথা কেটে নিতে ব্যস্ত, আমেরিকা তখনো গভীরভাবে একটা পশ্চাৎপদ, পিউরিটান হিস্টিরিয়া দ্বারা আক্রান্ত কতোগুলো সেটলমেন্টের সমষ্টি।

১৬৯২/৩ তে ম্যাসাচুসেটসে “উইচ”/ডাইনী হিস্টিরিয়ায় ২০০ জন নারীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অথচ ইউরোপিয়ান আইনের ইতিহাসে ল্যান্ডমার্ক আইন, গ্লোরিয়াস রেভুলিউশনের ফলাফল, ইংলিশ বিল অফ রাইটস ইংলিশ পার্লামেন্টে পাশ হয় ১৬৮৯ সালে। এই বিল অফ রাইটসের ভাষা এবং দর্শন ১০১ বছর পর প্রভাবিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ১০ সংশোধনীগুলোকে, যেগুলোকেও কালেক্টিভলি বিল অফ রাইটস বলা হয়।

ফিলাডেলফিয়াতে আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদাররা যখন ১৭৮৭ সালে কন্সটিটিউশনাল কনভেনশনে একত্রিত হন, তখন আমেরিকান জনগণ সম্পর্কে তাদের কোন ডিলিউসন ছিল না। তারা জানতেন ইউরোপের তুলনায় শিক্ষাদীক্ষা, সংস্কৃতি, অপরাধ প্রবণতা, গোত্রগত ঘৃণা তথা সমাজে হারমনি নষ্ট করার মত সকল উপাদান আমেরিকায় অনেকগুন বেশী আছে।

ফেডারেলিস্ট পেপার্সের ৮৫ টি নিবন্ধে অ্যালেক্সান্ডার হ্যামিলটন, জেমস ম্যাডিসন এবং জন জে যেই যুক্তিগুলো দিয়েছেন সেইখানে ক্লাসিকাল লিব্রেলিজমের ভিত্তিগুলো এবং তাদের বাস্তব প্রেক্ষাপটের আলোচনা পাওয়া যায়। একটি বিষয় সেখানে বার বার উঠে এসেছে, সেটি হচ্ছে মেজরিটারিয়ান ইম্পালস এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্কের সীমা।

ক্লাসিকাল লিব্রেলিজম সাধারণত চেষ্টা করে নাগরিকরা কেমন ধরনের মানুষ সেই সম্পর্কে সর্বনিম্ন অনুমান করতে। আমেরিকান সেটলমেন্টের ভায়োলেন্ট, গনহিস্টিরিয়ার প্রাদুর্ভাব, মব ভায়োলেন্স, সামারি ট্রায়াল, স্লেভারি, ইত্যাদির বাস্তব উদাহরণের পাশে বসে জেমস ম্যাডিসন বা বেঞ্জামিন ফ্র্যাংলিনের পক্ষে রিপাবলিকের মিডিয়ান নাগরিক সম্পর্কে খুব বেশী ভালো ধারনা করা সম্ভব ছিল না।

এই কারনেই তারা বেশী সময় ব্যয় করেছেন কিভাবে গভার্নমেন্টে ফ্রিকশন, কম্পিটিশন, সাংঘর্ষিক ইনসেন্টিভ ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কারন মানুষের কর্মকান্ডের যেই ইনহেরেন্ট ভ্যারিয়েশন আছে, আনপ্রেডিক্টিবিলিটি আছে সেইটা তারা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। দশজন আপাত ভালো মানুষও একসাথে হয়ে নির্মম কাজ করে ফেলতে পারে এই সত্যের ব্যাপারে তারা সংবেদনশীল ছিলেন। তাই তাদের কনস্টিটিউশনাল স্ট্রাকচারের মূলনীতি হচ্ছে কিভাবে একধরনের ক্ষমতা আরেকধরনের ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইনসেন্টিভ তৈরি হয়।

এর মাধ্যমে কিছুটা হয়ত এক্সিডেন্টালি তারা মানব বিহেভিয়ারের যেই দিকটিতে আলোকপাত করেছিলেন সেইটা এই কালে এসে আমরা বলি গেইম থিওরি, গেইম থিওরি ফর্মালি জন ন্যাশ দ্বারা আবিষ্কারের ১৬০ বছর আগে। Continue reading

একটা নভেলে যদি লিটেরারি ট্রুথ থাকে ওইটার আর কিছু লাগে না – এলেনা ফেরান্তে

This entry is part 19 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

কারো নাম শুনলে উনার চেহারাটা মাথায় ভাসা নরমাল, কিন্তু এলেনা ফেরান্তের কেসে এই জিনিস হবে না, কারণ আজ পর্যন্ত উনি ‘এলেনা ফেরান্তে’ হয়া তেমন কারো সামনে আসেন নাই। নামটাও আসল না, কিন্তু মানুষ এই নামেই উনাকে ইটালির গ্রেটেস্ট রাইটারদের একজন হিসাবে চিনে। উনার জন্ম নেপলসের এক দর্জি পরিবারে। ক্লাসিকাল লিটারেচার নিয়া বেশ জানাশোনার জন্য ক্রিটিকরা ধইরা নিছেন উনি লিটারেচার নিয়া পড়াশোনা করছেন।

ফেরান্তে উনার লেখার স্টাইলে এক ধরণের ট্রুথ ইউজ করেন, যেটারে উনি লিটারেরি ট্রুথ বলেন। উনার লেখা বেশ ডিটেইল্ড, অথেন্টিক ফিল করায়। ক্রিটিকরা উনার এই ট্রুথ ব্যাপারটা বেশ পছন্দ করেন, প্রেইজ করেন। মানুষের মনের জটিলতার ডিপ আন্ডারস্ট্যান্ডিং নিয়া মানুষের সম্পর্কগুলা, প্রতিদিনের স্ট্রাগল আর আনন্দগুলা আনসেন্সর্ড অবস্থায় উনার লেখায় দেখা যায়। উনার চরিত্রগুলার কমপ্লেক্স সম্পর্ক আর সাইকোলজিকাল অবস্থা বেশ ইমোশনালি পাওয়ারফুল থাকে, বিশেষ কইরা নারীদের মধ্যের সম্পর্কগুলা এম্প্যাথি নিয়া বেশ অথেন্টিকভাবে দেখান। উনার কাজের মধ্যে ফেমিনিস্ট থিম, ফিমেল এক্সপেরিয়েন্স নিয়া আলাপও দেখা যায়। প্যাট্রিয়ার্কাল সোসাইটি নারীদের কেমনে মার্জিনালাইজ কইরা রাখছে, দমায়া রাখছে এই আলাপ উইঠা আসে। উনার কারেক্টাররা স্ট্রাগল করে, নিজেদের জীবন নিজের কন্ট্রোলে নেয়, দুনিয়ায় নিজের জায়গা বের কইরা নেয়। আবার উনার লেখা মোরালওয়ালা বা উপদেশমার্কাও না। উনার প্রত্যেক কারেক্টার একেকজন রিয়েল মানুষের মত, প্রত্যেকের খারাপ দিক আছে, চাওয়াপাওয়া আছে, কন্ট্রাডিকশন আছে।

উনার প্রথম নভেল ট্রাবলিং লাভ ১৯৯২ সালে পাবলিশড হইছিল। নিয়াপলিটান নভেলস বের হওয়ার পর উনি ইন্টারন্যাশনালি পরিচিতি পান। এই সিরিজের চারটা নভেল (মাই ব্রিলিয়ান্ট ফ্রেন্ড, দা স্টোরি অফ আ নিউ নেম, দোজ হু লিভ এন্ড দোজ হু স্টে, আর দা স্টোরি অফ দা লস্ট চাইল্ড) এলেনা আর লিলা নামের দুইজনকে নিয়া লিখা, যারা ৫০ এর দশকে নেপলসের একটা গরিব পাড়ায় বড় হইতেছিল। নেপলসের একটা কালারফুল, ক্লিয়ার পোর্ট্রেয়াল, ফিমেল ফ্রেন্ডশিপ, ৫০ এর দশক থেকে বর্তমান ইটালির সোশাল আর পলিটিকাল চেঞ্জগুলার একটা স্ট্রং বর্ণনার জন্য নিয়াপলিটান নভেলগুলার ভালো নাম হইছে। এই নভেলগুলা চল্লিশটারও বেশি ভাষায় অনুবাদ করা হইছে, বিক্রি হইছে লাখ-লাখ কপি।

নিয়াপলিটান নভেলস ছাড়াও উনি আরো কয়েকটা নভেল লিখছেন। দা ডেইজ অফ এবান্ডনমেন্ট (২০০২), দা লস্ট ডটার (২০০৬), দা লায়িং লাইফ অফ এডাল্টস (২০২০) ছাড়াও ফ্রান্তুম্যাগলিয়া: আ রাইটারস জার্নি (২০০৩) নামে একটা নন-ফিকশনও লিখছেন। এছাড়াও ইটালিয়ান নিউজপেপার লা রিপাবলিকাতে উনি রেগুলারলি কলাম লিখেন। ফিকশনগুলার মত উনার নন ফিকশনও একই থিমে থাকে, যেমন কন্টেম্পোরারি ইটালিতে নারীর স্ট্রাগল, বা সোশাল আর পলিটিকাল চেইঞ্জের কারণে ইন্ডিভিজুয়াল বা কমিউনিটির উপর কী চাপ আসে। ফিমেল ফ্রেন্ডশিপের জটিলতা, ইটালির সোশাল ক্লাস, পলিটিকাল বা কালচারাল চেইঞ্জের ব্যাপার প্রায়ই উনার লেখাতে দেখা যায়। ইটালির সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস আওয়ার্ড স্ট্রেগা প্রাইজসহ অনেক আওয়ার্ডই পাইছেন, ম্যান বুকার প্রাইজের জন্য ২০১৬ সালে শর্টলিস্টেডও হইছিলেন। এত সাক্সেসের পরেও ফেরান্তে সবসময়ই এনোনিমাস থাকতে চান। উনি চান উনার কাজ দিয়া উনাকে জাজ করা হোক, পার্সোনাল লাইফ আর কাজ নিজের নিজের জায়গায় থাকুক।

রূপকথা নাওয়ার
মে, ২০২৩

….

স্যান্ড্রো আর স্যান্ড্রা ফেরির নেয়া ইন্টারভিউ

গত দশ বছরে এলেনা ফেরান্তের ইংলিশে অনুবাদ করা নভেলগুলা-ট্রাবলিং লাভ, দা ডেইজ অফ এবান্ডনমেন্ট, দা লস্ট ডটার, আর নিয়াপলিটান নভেলস টেট্রালজির প্রথম তিনটা বই- নিজের দেশ ইটালির বাইরে উনার একটা শক্ত ফ্যানবেজ বানায়া দিছে। এই সিরিজের চার নাম্বার বইটা, দা স্টোরি অফ দা লস্ট চাইল্ড ইংলিশেই লেখা হবে, বের হবে এই ফল সিজনে। ইদানীং ফেরান্তেরে উনার জেনারেশনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট ইটালিয়ান রাইটার হিসাবে শুনতে পাওয়া বেশ কমন ব্যাপার, যদিও উনার প্রথম নভেল ট্রাবলিং লাভ (১৯৯২) বের হওয়ার পর থেকে উনি কড়াভাবে নিজের প্রাইভেসি মেইনটেইন কইরা চলছেন, এমনকি পাবলিকেও আসেন না। (এলেনা ফেরান্তে একটা বানানো নাম।) আজকের আগে উনি কখনো ফোনে বা সামনাসামনি কোন ইন্টারভিউ দিতে রাজি হন নাই।

স্যান্ড্রো আর স্যান্ড্রা ফেরি – উনার ইন্টারভিউয়াররা (যারা উনার পাবলিশারও), আর তাদের মেয়ে ইভা বলতেছেন কেমনে ফেরান্তের ইন্টারভিউটা নেয়া হইছে: Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →