Main menu

আমার শিল্পী জীবনের কথা – আব্বাসউদ্দীন আহমদ (সিলেক্টেড পার্ট ৪)

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।। পার্ট ৩ ।।

।। চাকুরী ও বিয়ে ॥

দু’বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা অর্জন করলাম। বাংলা সরকারের কৃষি দফতরে একটা পাকা চাকুরী খালি হল, দরখাস্ত করলাম। চাকুরীটা হয়ে গেল। ডি. পি. আই অফিসের অস্থায়ী চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে পাকা চাকুরীতে ঢুকলাম। আমার উর্ধ্বতন, কৃষি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়েস্টার্ন সার্কেল, তিনি একদিন বললেন, “আচ্ছা, আপনার নাম কি সেই, আজকাল যার রেকর্ডে খুব নাম শুনি… সেইই?” আমি অতি বিনয়ে বললাম, “আজ্ঞে হ্যাঁ।” তার নাম যদুনাথ সরকার। তিনি হেড এসিস্টেন্টকে ডেকে বললেন, “দেখুন, একে কোনও জটিল কাজ দেবেন না। অফিসে এসে নাম দস্তখত করে যেখানে খুশী সেখানে যাবেন, বিশেষ করে দুপুরে যদি রেকর্ড করবার জন্য রিহার্সেলে যেতে চান কক্ষণো বাধা দেবেন না। আমার বিভাগে এমন লোক পেয়েছি এতেআমাদের সৌভাগ্য।” বলা বাহুল্য বৃদ্ধ হেড এ্যাসিস্টান্ট ধর্মদাস-বাবু এ নিয়মের কোন ব্যতিক্রম করেন নি। আমি তাই এই দুজনের কাছেই কৃতজ্ঞ। এঁদের কাছে বাঁধাধরা নিয়মে চাকুরী করতে গেলে সত্যিই আমি আমার সংগীতসাধনার পথে নির্বিবাদে এগুতে পারতাম না।

গ্রামোফোন কেম্পানীতে একদিন কাজিদার ঘরে হরিদাস, মুণাল আর কে কে বসে গল্প হচ্ছিল। এমন সময় আমি গেলাম। জানি না কি. ব্যাপার, হঠাৎ কাজিদা বলে উঠলেন তাদের উদ্দেশ করে, “দেখ তোমাদের কাছে একট। কথ বলি। আব্বাস আমার ছোট ভাই। দিন দিন গানে চমৎকার নাম করছে। যদি তোমরা কেউ একে কোনদিন খারাপ পথে নিয়ে যাও তাহলে তোমাদের জ্যান্ত রাখব না।” বলাই বাহুল্য কাজিদার একথা সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল।

একদিনকার একট ঘটনা বলি। কবি শৈলেন রায় আমার বাল্যবন্ধু। অভিনেতা দুর্গাদাসবাবু ভারী রসিক লোক, শৈলেন ও আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। প্রায়ই আমাদের দুজনকে বলতেন, “একদিন হোক না একপাত্র! দোষ কি?” আমি একদিন বললাম, “আপনার হাতে হাতখড়ি হওয়া মানে তে৷ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে খবর বলা। তিনি হেসে বলতেন, “আরে না না, কাকপক্ষীও জানতে পারবে না।” শৈলেন বলত, “তা দুর্গাদা’ আমাদের সজীব লিভারের ওপর আপনার এত হিংসা কেন?” নাঃ ডাল আর গলে না। দুর্গাদাসবাবুকে অনেকের কাছে বলতে শুনেছি, “বাবা, এরা কাদায় বাস করে কিন্তু কাদা গায়ে মাখে না।”

গ্রামাফোন কোম্পানীর রিহার্সেল রুমটা ছিল তখন অতি জঘন্য জায়গায় । ১৬০নং আপার চিৎপুর রোড, বিষ্ণুভবন। তার আশে-পাশের বহুদূরে ভদ্রলোকের বাস ছিল না। এ দুষিত আবহাওয়ায় নিজেকে বীচিষে রাখা কতদিন সম্ভবপর হবে এই নিয়ে দস্তুরমত চিন্তিত হয়ে পড়লাম। অকস্মাৎ একদিন মনস্থির করে ফেললাম। বাবাকে ‘জানিয়ে দিলাম, আমি বিয়ে করতে রাজী।

হল্দিবাড়ীতে আমার দোস্ত মশারফ হোসেনের কাছে বাবা চিঠি দিলেন। আমার জীবনের অন্তরংগতম বাল্যবন্ধু আমার দোস্ত মশারফ হোসেন। কুচবিহার জেন্কিন্স স্কুলে যখন সিস্কথ ক্লাশে ভর্তি হই, তখনই তার সাথে আমার প্রথম বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। একই হোস্টেলে থাকি। তারা তিনভাই বিরাট সম্পত্তির মালিক – আশৈশব পিতৃহীন। সম্পত্তি তাদের কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে। এর বড় ভাইয়ের সাথে ছিল আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুত্ব–তাই আমাদের দু’জনের মাঝেও গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। হোষ্টেলের সবাই বললে, বাঃ এরা দুটিতে বেশ মিল। দোস্তালি পাতাও। তাই দু’জন দু’জনকে দোস্ত বলে ডাকতাম। আমার দোস্ত এখন রংপুর ধাপে বাস করছেন।

দোস্ত আমাকে চিঠি দিল, তার ওখানে গেলাম, রংপুর জেলার ডোমার গিয়ে মেয়ে দেখলাম। দশ বার দিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেল।

তখন সমাজের অবস্থা কি ছিল বলতে গিয়ে বিয়ের দিনের একটা ঘটনা বলতেই হচ্ছে। যেদিন মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম সেদিন হবু শ্বশুরবাড়ীতে কী গানের ঘটা। হারমোনিয়াম বাজিয়ে কত গানই গেয়েছিলাম। পাড়ার লোক সেদিন আসর জমিয়েছিল।

বিয়ের দিন কলকাতা থেকে বন্ধুবান্ধব এসেছে। বিয়ের পর রাতে তকরীম আহমদ যেই সেতারে একটু টুংটাং শব্দ তুলেছে অমনি উঠেছে প্রতিবাদ। না, একি মুসলমানের বিয়ে-বাড়ী. গান-বাজনা সামাজিক প্রচলন নেই ইত্যাদি! বন্ধুদের এই অবমাননায় আমি গণ্ডগোলের ফাঁকে আঁধার রাতে শ্বশুরবাড়ী থেকে চলে গিয়ে রাত কাটিয়েছি দূরে এক হাই স্কুলের টেবিলে। রাতে ভীষণ ঝড় উঠেছিল। সমাজের এই রূঢ় আচরণে আমার বুকে ও উঠেছিল সেদিন সাত-সাগরের ঢেউ!

সারা রাত বর কোথায় বর কোথায় করে খুঁজেছিল সবাই। আমাকে পায়নি। বিয়ে-বাড়ীতে এ নিয়ে উঠেছিল মহা আলোড়ন। ভাগ্যিস বিয়ে পড়ানো আগেই হয়ে গিয়েছিল – কাজেই সবাই মনে করেছিল, পাখীকে শিকল পরানো হয়েছে, আরতো উড়তে পারবে না, খাঁচায় আসতেই হবে ফিরে।

সারারাত বাইরের ঝড় আর মনের ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে ভোরের দিকে টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছি। প্রাতঃভ্রমণরত দু’একজন শ্বশুরবাড়ীর লোক আমাকে এ অবস্থায় আবিষ্কার করে শেষ পর্যন্ত নিয়ে আসেন মানভঞ্জনের পালার দৃশ্যে অবতীর্ণ হবার জন্য ।

পরবর্তীকালে অবশ্যি শ্বশুরবাড়ীতে যতবারই গিয়েছি গানের জন্য বাধা তে দূরের কথা ষে ক’দিন থাকতাম গলার অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে ঠেকত যে দস্তরমত পনের-বিশ দিন গলাকে বিশ্রাম দিতে হত। Continue reading

অন লিব্রেলিজম

১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়ার হ্যাম্পটনে একটা ইংলিশ জাহাজ ভিড়ে যার নাম ছিল হোয়াইট লায়ন। ছোট এই জাহাজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব হচ্ছে এই জাহাজে করেই ২৫/৩০ জন আফ্রিকান দাস প্রথম আমেরিকার মাতিতে পা রাখে।

১৬৪৯ সালে যখন অলিভারের ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে ব্রিটিশরা গৃহযুদ্ধ বাধানোর অপরাধে রাজা প্রথম চার্লসের মাথা কেটে নিতে ব্যস্ত, আমেরিকা তখনো গভীরভাবে একটা পশ্চাৎপদ, পিউরিটান হিস্টিরিয়া দ্বারা আক্রান্ত কতোগুলো সেটলমেন্টের সমষ্টি।

১৬৯২/৩ তে ম্যাসাচুসেটসে “উইচ”/ডাইনী হিস্টিরিয়ায় ২০০ জন নারীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অথচ ইউরোপিয়ান আইনের ইতিহাসে ল্যান্ডমার্ক আইন, গ্লোরিয়াস রেভুলিউশনের ফলাফল, ইংলিশ বিল অফ রাইটস ইংলিশ পার্লামেন্টে পাশ হয় ১৬৮৯ সালে। এই বিল অফ রাইটসের ভাষা এবং দর্শন ১০১ বছর পর প্রভাবিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ১০ সংশোধনীগুলোকে, যেগুলোকেও কালেক্টিভলি বিল অফ রাইটস বলা হয়।

ফিলাডেলফিয়াতে আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদাররা যখন ১৭৮৭ সালে কন্সটিটিউশনাল কনভেনশনে একত্রিত হন, তখন আমেরিকান জনগণ সম্পর্কে তাদের কোন ডিলিউসন ছিল না। তারা জানতেন ইউরোপের তুলনায় শিক্ষাদীক্ষা, সংস্কৃতি, অপরাধ প্রবণতা, গোত্রগত ঘৃণা তথা সমাজে হারমনি নষ্ট করার মত সকল উপাদান আমেরিকায় অনেকগুন বেশী আছে।

ফেডারেলিস্ট পেপার্সের ৮৫ টি নিবন্ধে অ্যালেক্সান্ডার হ্যামিলটন, জেমস ম্যাডিসন এবং জন জে যেই যুক্তিগুলো দিয়েছেন সেইখানে ক্লাসিকাল লিব্রেলিজমের ভিত্তিগুলো এবং তাদের বাস্তব প্রেক্ষাপটের আলোচনা পাওয়া যায়। একটি বিষয় সেখানে বার বার উঠে এসেছে, সেটি হচ্ছে মেজরিটারিয়ান ইম্পালস এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্কের সীমা।

ক্লাসিকাল লিব্রেলিজম সাধারণত চেষ্টা করে নাগরিকরা কেমন ধরনের মানুষ সেই সম্পর্কে সর্বনিম্ন অনুমান করতে। আমেরিকান সেটলমেন্টের ভায়োলেন্ট, গনহিস্টিরিয়ার প্রাদুর্ভাব, মব ভায়োলেন্স, সামারি ট্রায়াল, স্লেভারি, ইত্যাদির বাস্তব উদাহরণের পাশে বসে জেমস ম্যাডিসন বা বেঞ্জামিন ফ্র্যাংলিনের পক্ষে রিপাবলিকের মিডিয়ান নাগরিক সম্পর্কে খুব বেশী ভালো ধারনা করা সম্ভব ছিল না।

এই কারনেই তারা বেশী সময় ব্যয় করেছেন কিভাবে গভার্নমেন্টে ফ্রিকশন, কম্পিটিশন, সাংঘর্ষিক ইনসেন্টিভ ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কারন মানুষের কর্মকান্ডের যেই ইনহেরেন্ট ভ্যারিয়েশন আছে, আনপ্রেডিক্টিবিলিটি আছে সেইটা তারা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। দশজন আপাত ভালো মানুষও একসাথে হয়ে নির্মম কাজ করে ফেলতে পারে এই সত্যের ব্যাপারে তারা সংবেদনশীল ছিলেন। তাই তাদের কনস্টিটিউশনাল স্ট্রাকচারের মূলনীতি হচ্ছে কিভাবে একধরনের ক্ষমতা আরেকধরনের ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইনসেন্টিভ তৈরি হয়।

এর মাধ্যমে কিছুটা হয়ত এক্সিডেন্টালি তারা মানব বিহেভিয়ারের যেই দিকটিতে আলোকপাত করেছিলেন সেইটা এই কালে এসে আমরা বলি গেইম থিওরি, গেইম থিওরি ফর্মালি জন ন্যাশ দ্বারা আবিষ্কারের ১৬০ বছর আগে। Continue reading

একটা নভেলে যদি লিটেরারি ট্রুথ থাকে ওইটার আর কিছু লাগে না – এলেনা ফেরান্তে

This entry is part 19 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

কারো নাম শুনলে উনার চেহারাটা মাথায় ভাসা নরমাল, কিন্তু এলেনা ফেরান্তের কেসে এই জিনিস হবে না, কারণ আজ পর্যন্ত উনি ‘এলেনা ফেরান্তে’ হয়া তেমন কারো সামনে আসেন নাই। নামটাও আসল না, কিন্তু মানুষ এই নামেই উনাকে ইটালির গ্রেটেস্ট রাইটারদের একজন হিসাবে চিনে। উনার জন্ম নেপলসের এক দর্জি পরিবারে। ক্লাসিকাল লিটারেচার নিয়া বেশ জানাশোনার জন্য ক্রিটিকরা ধইরা নিছেন উনি লিটারেচার নিয়া পড়াশোনা করছেন।

ফেরান্তে উনার লেখার স্টাইলে এক ধরণের ট্রুথ ইউজ করেন, যেটারে উনি লিটারেরি ট্রুথ বলেন। উনার লেখা বেশ ডিটেইল্ড, অথেন্টিক ফিল করায়। ক্রিটিকরা উনার এই ট্রুথ ব্যাপারটা বেশ পছন্দ করেন, প্রেইজ করেন। মানুষের মনের জটিলতার ডিপ আন্ডারস্ট্যান্ডিং নিয়া মানুষের সম্পর্কগুলা, প্রতিদিনের স্ট্রাগল আর আনন্দগুলা আনসেন্সর্ড অবস্থায় উনার লেখায় দেখা যায়। উনার চরিত্রগুলার কমপ্লেক্স সম্পর্ক আর সাইকোলজিকাল অবস্থা বেশ ইমোশনালি পাওয়ারফুল থাকে, বিশেষ কইরা নারীদের মধ্যের সম্পর্কগুলা এম্প্যাথি নিয়া বেশ অথেন্টিকভাবে দেখান। উনার কাজের মধ্যে ফেমিনিস্ট থিম, ফিমেল এক্সপেরিয়েন্স নিয়া আলাপও দেখা যায়। প্যাট্রিয়ার্কাল সোসাইটি নারীদের কেমনে মার্জিনালাইজ কইরা রাখছে, দমায়া রাখছে এই আলাপ উইঠা আসে। উনার কারেক্টাররা স্ট্রাগল করে, নিজেদের জীবন নিজের কন্ট্রোলে নেয়, দুনিয়ায় নিজের জায়গা বের কইরা নেয়। আবার উনার লেখা মোরালওয়ালা বা উপদেশমার্কাও না। উনার প্রত্যেক কারেক্টার একেকজন রিয়েল মানুষের মত, প্রত্যেকের খারাপ দিক আছে, চাওয়াপাওয়া আছে, কন্ট্রাডিকশন আছে।

উনার প্রথম নভেল ট্রাবলিং লাভ ১৯৯২ সালে পাবলিশড হইছিল। নিয়াপলিটান নভেলস বের হওয়ার পর উনি ইন্টারন্যাশনালি পরিচিতি পান। এই সিরিজের চারটা নভেল (মাই ব্রিলিয়ান্ট ফ্রেন্ড, দা স্টোরি অফ আ নিউ নেম, দোজ হু লিভ এন্ড দোজ হু স্টে, আর দা স্টোরি অফ দা লস্ট চাইল্ড) এলেনা আর লিলা নামের দুইজনকে নিয়া লিখা, যারা ৫০ এর দশকে নেপলসের একটা গরিব পাড়ায় বড় হইতেছিল। নেপলসের একটা কালারফুল, ক্লিয়ার পোর্ট্রেয়াল, ফিমেল ফ্রেন্ডশিপ, ৫০ এর দশক থেকে বর্তমান ইটালির সোশাল আর পলিটিকাল চেঞ্জগুলার একটা স্ট্রং বর্ণনার জন্য নিয়াপলিটান নভেলগুলার ভালো নাম হইছে। এই নভেলগুলা চল্লিশটারও বেশি ভাষায় অনুবাদ করা হইছে, বিক্রি হইছে লাখ-লাখ কপি।

নিয়াপলিটান নভেলস ছাড়াও উনি আরো কয়েকটা নভেল লিখছেন। দা ডেইজ অফ এবান্ডনমেন্ট (২০০২), দা লস্ট ডটার (২০০৬), দা লায়িং লাইফ অফ এডাল্টস (২০২০) ছাড়াও ফ্রান্তুম্যাগলিয়া: আ রাইটারস জার্নি (২০০৩) নামে একটা নন-ফিকশনও লিখছেন। এছাড়াও ইটালিয়ান নিউজপেপার লা রিপাবলিকাতে উনি রেগুলারলি কলাম লিখেন। ফিকশনগুলার মত উনার নন ফিকশনও একই থিমে থাকে, যেমন কন্টেম্পোরারি ইটালিতে নারীর স্ট্রাগল, বা সোশাল আর পলিটিকাল চেইঞ্জের কারণে ইন্ডিভিজুয়াল বা কমিউনিটির উপর কী চাপ আসে। ফিমেল ফ্রেন্ডশিপের জটিলতা, ইটালির সোশাল ক্লাস, পলিটিকাল বা কালচারাল চেইঞ্জের ব্যাপার প্রায়ই উনার লেখাতে দেখা যায়। ইটালির সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস আওয়ার্ড স্ট্রেগা প্রাইজসহ অনেক আওয়ার্ডই পাইছেন, ম্যান বুকার প্রাইজের জন্য ২০১৬ সালে শর্টলিস্টেডও হইছিলেন। এত সাক্সেসের পরেও ফেরান্তে সবসময়ই এনোনিমাস থাকতে চান। উনি চান উনার কাজ দিয়া উনাকে জাজ করা হোক, পার্সোনাল লাইফ আর কাজ নিজের নিজের জায়গায় থাকুক।

রূপকথা নাওয়ার
মে, ২০২৩

….

স্যান্ড্রো আর স্যান্ড্রা ফেরির নেয়া ইন্টারভিউ

গত দশ বছরে এলেনা ফেরান্তের ইংলিশে অনুবাদ করা নভেলগুলা-ট্রাবলিং লাভ, দা ডেইজ অফ এবান্ডনমেন্ট, দা লস্ট ডটার, আর নিয়াপলিটান নভেলস টেট্রালজির প্রথম তিনটা বই- নিজের দেশ ইটালির বাইরে উনার একটা শক্ত ফ্যানবেজ বানায়া দিছে। এই সিরিজের চার নাম্বার বইটা, দা স্টোরি অফ দা লস্ট চাইল্ড ইংলিশেই লেখা হবে, বের হবে এই ফল সিজনে। ইদানীং ফেরান্তেরে উনার জেনারেশনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট ইটালিয়ান রাইটার হিসাবে শুনতে পাওয়া বেশ কমন ব্যাপার, যদিও উনার প্রথম নভেল ট্রাবলিং লাভ (১৯৯২) বের হওয়ার পর থেকে উনি কড়াভাবে নিজের প্রাইভেসি মেইনটেইন কইরা চলছেন, এমনকি পাবলিকেও আসেন না। (এলেনা ফেরান্তে একটা বানানো নাম।) আজকের আগে উনি কখনো ফোনে বা সামনাসামনি কোন ইন্টারভিউ দিতে রাজি হন নাই।

স্যান্ড্রো আর স্যান্ড্রা ফেরি – উনার ইন্টারভিউয়াররা (যারা উনার পাবলিশারও), আর তাদের মেয়ে ইভা বলতেছেন কেমনে ফেরান্তের ইন্টারভিউটা নেয়া হইছে: Continue reading

যে শিক্ষার ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে তার দ্বারা জাতীয় জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবার ক্ষমতা লাভ করা যাবে না – মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা (১৯৭০)

মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা ১৯৭০ সালে ঢাকা ভার্সিটির কনভোকেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে এই ভাষণটা দিতেছিলেন। ১৯৪৮ থিকা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত কনভোকেশন লেকচারে উনিই একমাত্র লোক, যিনি বাংলায় ভাষণ দিছিলেন। ভাষণটা ১৯৮৯ সালে ঢাকা ভার্সিটি থিকা ছাপানো “The Convocation Speeches volume 2” বই থিকা নেয়া হইছে।

 

জনাব উপ-চ্যান্সেলার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষয়িত্রীবর্গ, স্নেহাস্পদ ছাত্র ও ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ভদ্রমহিলা ও সুধীমন্ডলী,

আজ আপনাদের সমাবর্তন উৎসবে আমাকে আহবান করে অত্যন্ত আনন্দ দিয়েছেন ও তার জন্য আমি নিরতিশয় কৃতজ্ঞ। দেশের এই বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অল্প কিছুদিন পূর্বে যে উন্মত্ততার আস্ফালন দেখে ছিলাম তাতে সারা দেশের বুদ্ধিজীবীসমাজ প্রমাদ গুণেছিলেন। ভীতির রাজত্ব এমন প্রবলভাবে শিক্ষায়তনগুলিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে আজ এই সমাবর্তন উৎসবে সম্মিলিত সম্প্রদায়ের সামনে দাঁড়িয়ে এখনও ভয় হয়, অতীতের সেই যুগের সত্যই অবসান ঘটল কিনা, আবার আশার নুতন আলোকশিখার যে কিরণমালা নৈরাশ্যের কুহেলিকা ভেদ করে আসছে, তা সত্যি স্থিতিশীল হয়ে দেশকে প্লাবিত করবে কিনা। তবে ভরসা এইটুকু যে বর্তমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার, আমার ছাত্রোপম, উপ-চ্যান্সলার সাহেব যে আদর্শে উদ্বুদ্ধ, সে আদর্শের অনুসরণ করা হলে দেশে আবার জ্ঞানের নুতন আলোক প্রবাহ চতুর্দিকে বিকিরিত হবে। আজ তারই ইঙ্গিত পাচ্ছি। শক্তিশালী শাদ্দাদের অশুভ শক্তিও এককালে ধ্বংস হয়েছে। তবে নুতন পরিস্থিতির মধ্যে পুরাতনের ছোঁয়াচ থেকে যায়, এই নিদারুণ সত্যকে মনে রেখে বর্তমানে অগ্রসর হতে হবে। আমারা আশা আছে বর্তমানের চিন্তাধারা অবাধ প্রবাহ নুতন আশার সূর্যের পথে অবহেলার কুহেলা স্থায়ী হবে না, সে কথার আশ্বাস জনাব চ্যান্সেলার সাহেবের সেদিনের বাণী বহন করছে, তার জন্যও তাঁকে জানাই অভিনন্দন। তার আশ্বাস সফল হোক, দেশে আবার হাসি ও আনন্দের উৎস প্রখর দীপ্তি দিয়ে ভবিষৎকে উজ্জ্বল ও আনন্দময় করে তুলুক, আজ আমি এই প্রার্থনাই করি।

মানুষের চিন্তাধারাকে এখানে শৃঙ্খলিত করবার চেষ্টা চলেছিল দীর্ঘকাল ধরে। একনায়কভিত্তিক শাসনের এইটাই সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক; পরমতসহিঞ্চুতা এতে একেবারেই আসে না, তার ফলে যারা স্বাধীন চিন্তা করতে সমর্থ তারা শাসকদের অত্যাচারে নিপীড়িত হয়ে তাদের কবল থেকে সরে পড়েছে, যারা তা পারে নি তারা সেই নায়কের সন্তুষ্টির জন্য তাঁর চিন্তাকে রূপ দিবার চেষ্টায় অনর্থ সৃষ্টি করেছে। এমতাবস্থায় আমরা চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অনেককেই হারিয়েছি। পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন এবং তাতে স্থিতিশীলতা না এলে তাঁদের মত স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের ফিরে পাবার আশা অল্পই কাজেই এখানে যে নুতন চিন্তাধারা বিকাশ ঘটেছে তার স্থিতিশীলতা নিশ্চয়তা পাওয়া দরকার। এ বিষয়ে উপ-চ্যান্সেলার সাহেবকে কিছু বলবার প্রয়োজন নেই, তিনি এ বিষয়টি নিজেই ভালভাবে উপলব্ধি করেছেন। আমি কেবলমাত্র এর প্রয়োজনের কথাটিই প্রাথমিক প্রয়োজনের ইঙ্গিতরূপে উল্লেখ করলাম।

আমরা আজ এক রাজনৈতিক জীবনের সন্ধিক্ষণে উপস্থিত। সারা দেশে সকলের মধ্যেই বিপুল চাঞ্চল্য প্রকটিত হয়ে উঠেছে। সামরিক প্রভাবজনিত দেশের পরিস্থিতি এখনও বদলায়নি। কোনো দেশেই সামরিক শাসনের অধীনে সাফল্য অর্জন করতে পারে না, কারণ সামরিক শক্তি দেশের শাসন পরিচালনার জন্য নহে। তাদের প্রয়োজন দেশরক্ষার জন্য এবং তাদের শিক্ষা ও প্রস্তুতি ঐ উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। তাই সামরিক শাসন কিংবা ঐ গোত্রীয় একনায়কত্ব দেশে দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বহুবিধ দুর্নীতি দেশরক্ষাসহ বিভিন্ন বিভাগে অনুপ্রবেশ করে, দেশের দুরবস্থার অবধি থাকে না। তাই দল ও মত নির্বিশেষে সকলের ঐকান্তিক চেষ্টা চালান দরকার, যাতে সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত হতে পারে।

আমাদের দেশে শিক্ষার সংস্কার যে প্রয়োজন সে কথার স্বীকৃতি প্রত্যেকেই দিয়েছে। দেশের লোক যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা শিক্ষা ক্ষেত্রে চেয়েছিল তারা তা আজও পায় নি। যে শিক্ষার ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে তার দ্বারা জাতীয় জীবনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনবার ক্ষমতা লাভ করা যাবে না। নুতন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সারা দেশ উন্মুখ হয়ে আছে, কিন্তু সে পরিবর্তনের পরিকল্পনা এখনও প্রস্তুত হ’ল না। বিশ্বের ইতিহাস আলোচনায় এ সম্বন্ধে কতকগুলি মৌলিক ব্যবহার কথা মনে উদয় হয়। যেসকল দেশ আজ শিল্প ও বিজ্ঞানে উন্নত তাদের সকলের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করে পরিশেষের স্তর পর্যন্ত শিক্ষার বাহন মাতৃভাষায় রেখেছে। আমরা আশা করেছিলাম বিভাগোত্তর দেশে এ বিষয় আমরা সর্বাগ্রাগামী হয়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও যাবতীয় অন্য বিষয়ে শিক্ষা ত্বরান্বিত করতে পারব। অবিভক্ত বাংলায় এর প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পাদিত হয়েছে ১৯৩৯ সালে, এবং আমি নিজে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেছি বাংলার মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষা শেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে তারা উত্তমতর ভাবে বিজ্ঞানের শিক্ষা উন্নততর মানে গ্রহণ করতে সমর্থ হয়। ১৯৩৯শের পর প্রায় এক দশক অতীত হলে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। আজ এই ২২ বৎসর ধরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষিত ছাত্রদল নূতন শক্তি ও সামথ্য নিয়ে যদি এগিয়ে আসত তবে তারা নিশ্চিতভাবে দেশের নেতৃত্বের ভার সুযোগ্য হস্তে গ্রহণ করতে পারত। Continue reading

সোলায়মান কবীর ঋষি

এক. 

শিল্পী সোলায়মান কবীর ঋষির জন্মদিন আজকে। তিনি মারা গেছেন কয়েকবছর হইল। যিনি ইতমধ্যে মৃত, তার জন্মের দিনটি পালন করা এক উদ্ভট আনন্দের ব্যাপার। আমার সেই আনন্দ এখন হচ্ছে।

আমি পরবর্তীতে ঋষি ভাইয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়া একটু ভাবছি। আমার মনে হইছে নিয়মিত কড়া নেশাপাতি করার খারাপ অভ্যাসটাই তারে খায়া দিছিলো।

বাকি সব ঠিকই ছিল।

অনেকেই বলেন, বাংলাদেশে চিত্রকলা চর্চার যে প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা, সেইখানে ঋষি অত্যন্ত বেমানান। আরো দশজন ‘স্বাভাবিক-শিল্পী’র সাথে একযোগে সমাজের সামনে উপস্থিত হওয়াটা কোনোভাবেই তাকে দিয়ে হইত না।

কিন্তু আমি এরকম মনে করি না। বরং যারা এইভাবে চিন্তা করে, তারা নন-ক্রিয়েটিভ সিস্টেমের কাছে অসচেতনে হইলেও মাথা বিক্রি কইরা দিছেন বলে আমি মনে করি। শিল্পকর্মের সাথে সমাজের সম্পর্ক নির্মাণের পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রেও শিল্পী ক্রিয়েটিভ হইতে পারেন। একই মূখস্থ ব্যবস্থায় ঘটনা না ঘটাইলে কিছুই হবে না, এমন চিন্তা মূলত একটা শিল্পমারা রাজনৈতিক চিন্তা। প্রতিষ্ঠানগুলিও চায় আমরা এমন মরা-মরা হতাশ চিন্তাই করি।

ঋষিভাই এমনভাবে ভাবতেন না। তিনি স্বচ্ছন্দে ইম্প্রোভাইজ করতেন। ইডিওলজিকাল কোনো চরমপন্থাও তার ছিল না। আমি পরবর্তীতে তার অনেক কাজের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছি বইলা মনে করি।

আমি তাঁকে মিস করি।

২৬/০৪/২০২৩

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →