(বাংলা-ক্লাসিক) বিশ্বনবী – গোলাম মোস্তফা [শর্ট ভার্সন।] পার্ট ১
কবি গোলাম মোস্তফার (১৮৯৭ – ১৯৬৪) এই বইটা ফার্স্ট ছাপা হয় ১৯৪২ সালে। এরপরে বইটার অনেকগুলা পাবলিকেশন্স থিকা অনেকগুলা এডিশনই ছাপা হইছে। ১৯৫৬ সালে ছাপানো ভার্সন ফলো করা হইছে এইখানে।
গোলাম মোস্তফার লেখা কোন অংশ এইখানে বদলানো হয় নাই; বরং কিছু অংশ স্কিপ করা হইতেছে, যেইটা বাদ দিলে বা উহ্য রাখলেও একটা কমপ্লিট টেক্সট হিসাবে পড়তে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। এমনিতে পুরা বই যদি কেউ পড়তে চান, ই-বুক, পিডিএফ এবং ছাপানো-বই হিসাবে তো অনেক জায়গাতেই এভেইলেবল আছে।
তো, শর্ট-ভার্সনটাও পড়তে পারেন।
…
নতুন ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা
‘বিশ্বনবী’র নতুন ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা লিখিতে বসিয়া আজ শুধু বারে বারে আল্লাতালার করুণার কথাই মনে পড়িতেছে। কোন পুস্তকের আটটি সংস্করণের ভূমিকা লিখিবার সৌভাগ্য খুব কম লেখকের ভাগ্যেই ঘটিয়া থাকে।
এই সংস্করণের আগাগোড়া এবার আমি দেখিয়া দিয়াছি, স্থানে স্থানে কিছু কিছ সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়াছি। কিছ কিছু নতুন তথ্যও সংযোজিত হইয়াছে।
গতবার পুস্তকের জ্যাকেট না দেওয়ায় অনেকেই ক্ষুন্ন হইয়াছিলেন। এবার সে অভাব পূর্ণ করা হইল। মুদ্রণ-পারিপাট্যও পূর্বাপেক্ষা এবার উন্নত হইয়াছে।
বিশ্বনবীর অনেক স্থানে কোরান শরীফের আয়াত উদ্ধৃত করা হইয়াছে। মূল আরবী আয়াত না দিয়া শুধু বাংলা তর্জমা দিয়াছি। সেই সব তর্জমার কোন কোন স্থানে আল্লা সম্বন্ধে ‘আমরা’ (বহুবচন) ব্যবহৃত হইয়াছে। যেমন :
“এবং যে কেহ এই দুনিয়ার পুরস্কার চায়, তাহাকে আমরা তাহাই দেই এবং যে কেহই পরকালের পুরস্কার চায়, তাহাকেও আমরা তাহাই দেই। আমরা কৃতজ্ঞদিগকে পুরুস্কৃত করিব।” – (৩:১৪৫)
এখানে আল্লার পরিবর্তে ‘আমরা’ শব্দের ব্যবহার দেখিয়া অনেক পাঠকের মনেই প্রশ্ন জাগে। তাঁহারা ভাবেন : আল্লা এক, অদ্বিতীয় ও লা-শরীক; কাজেই তাঁহার সম্বন্ধে ‘আমরা’ (বহুবচন) ব্যবহার করা যাইতে পারে না। তাই অনেকের ধারণা ইহা তর্জমার ভুল। কিন্তু তর্জমায় কোন ভুল হয় নাই। তজমা ঠিকই আছে। অন্য একটি গূঢ় কারণে ‘আমি’ স্থলে ‘আমরা’ লিখিতে হইয়াছে। আরবী ভাষায় সম্মানীয় ব্যক্তিদিগের বেলায় বহুবচন ব্যবহৃত হয়। ইহাকে সম্মানার্থে বহুবচন বলে। অন্যান্য ভাষাতেও এ বাক্-রীতি প্রচলিত আছে। কোন রাজকীয় ঘোষণায় সম্রাট, সম্রাজ্ঞী বা রাষ্ট্রপতি উত্তম পুরুষের বহুবচন (আমরা) ব্যবহার করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রের (Queen’s Proclamation) উল্লেখ করা যাইতে পারে। সেখানে ‘We’ (আমরা) ব্যবহৃত হইয়াছে। বলা বাহুল্য, এই রীতি কোরান শরীফের নিজস্ব। আল্লা নিজেই এই বাচন-ভঙ্গী শিক্ষা দিয়াছেন। ‘আমি’ না বলিয়া ‘আমরা’ বলিয়াছেন। কাজেই তর্জমার ভুল হইয়াছে—পাঠক যেন সেরূপ মনে না করেন। মূলে বহুবচন আছে বলিয়াই তর্জমাতেও বহুবচন আসিয়াছে। উপরের আয়াতের ইংরাজী তর্জমাতেও ‘We’ শব্দ আছে :
“And whoever desires the reward of this world We will give him of it and whoever desires the reward of the hereafter, We will give him of it, and We will reward the grateful.” – Moulana Muhammad Ali
আল্লামা ইউসুফ আলি একই রীতি অনুসরণ করিয়াছেন। উপরোক্ত আয়াতের অনুবাদে তিনি লিখিতেছেন: “If any do desire a reward in this life, We shall give it to him….”.
বস্তুতঃ অনুবাদ ঠিক রাখিতে হইলে মূলের সহিত তাহার মিল রাখিতেই হইবে। বলা বাহুল্য, এই কারণেই বাংলা তর্জমায় আল্লার স্থানে বহুবচন ব্যবহার করা হইয়াছে। Continue reading