Main menu

(বাংলা-ক্লাসিক) বিশ্বনবী – গোলাম মোস্তফা [শর্ট ভার্সন।] পার্ট ১

কবি গোলাম মোস্তফার (১৮৯৭ – ১৯৬৪) এই বইটা ফার্স্ট ছাপা হয় ১৯৪২ সালে। এরপরে বইটার অনেকগুলা পাবলিকেশন্স থিকা অনেকগুলা এডিশনই ছাপা হইছে। ১৯৫৬ সালে ছাপানো ভার্সন ফলো করা হইছে এইখানে।

গোলাম মোস্তফার লেখা কোন অংশ এইখানে বদলানো হয় নাই; বরং কিছু অংশ স্কিপ করা হইতেছে, যেইটা বাদ দিলে বা উহ্য রাখলেও একটা কমপ্লিট টেক্সট হিসাবে পড়তে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। এমনিতে পুরা বই যদি কেউ পড়তে চান, ই-বুক, পিডিএফ এবং ছাপানো-বই হিসাবে তো অনেক জায়গাতেই এভেইলেবল আছে।  

তো, শর্ট-ভার্সনটাও পড়তে পারেন।

নতুন ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা

‘বিশ্বনবী’র নতুন ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা লিখিতে বসিয়া আজ শুধু বারে বারে আল্লাতালার করুণার কথাই মনে পড়িতেছে। কোন পুস্তকের আটটি সংস্করণের ভূমিকা লিখিবার সৌভাগ্য খুব কম লেখকের ভাগ্যেই ঘটিয়া থাকে।

এই সংস্করণের আগাগোড়া এবার আমি দেখিয়া দিয়াছি, স্থানে স্থানে কিছু কিছ সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়াছি। কিছ কিছু নতুন তথ্যও সংযোজিত হইয়াছে।

গতবার পুস্তকের জ্যাকেট না দেওয়ায় অনেকেই ক্ষুন্ন হইয়াছিলেন। এবার সে অভাব পূর্ণ করা হইল। মুদ্রণ-পারিপাট্যও পূর্বাপেক্ষা এবার উন্নত হইয়াছে।

বিশ্বনবীর অনেক স্থানে কোরান শরীফের আয়াত উদ্ধৃত করা হইয়াছে। মূল আরবী আয়াত না দিয়া শুধু বাংলা তর্জমা দিয়াছি। সেই সব তর্জমার কোন কোন স্থানে আল্লা সম্বন্ধে ‘আমরা’ (বহুবচন) ব্যবহৃত হইয়াছে। যেমন :

“এবং যে কেহ এই দুনিয়ার পুরস্কার চায়, তাহাকে আমরা তাহাই দেই এবং যে কেহই পরকালের পুরস্কার চায়, তাহাকেও আমরা তাহাই দেই। আমরা কৃতজ্ঞদিগকে পুরুস্কৃত করিব।” – (৩:১৪৫)

এখানে আল্লার পরিবর্তে ‘আমরা’ শব্দের ব্যবহার দেখিয়া অনেক পাঠকের মনেই প্রশ্ন জাগে। তাঁহারা ভাবেন : আল্লা এক, অদ্বিতীয় ও লা-শরীক; কাজেই তাঁহার সম্বন্ধে ‘আমরা’ (বহুবচন) ব্যবহার করা যাইতে পারে না। তাই অনেকের ধারণা ইহা তর্জমার ভুল। কিন্তু তর্জমায় কোন ভুল হয় নাই। তজমা ঠিকই আছে। অন্য একটি গূঢ় কারণে ‘আমি’ স্থলে ‘আমরা’ লিখিতে হইয়াছে। আরবী ভাষায় সম্মানীয় ব্যক্তিদিগের বেলায় বহুবচন ব্যবহৃত হয়। ইহাকে সম্মানার্থে বহুবচন বলে। অন্যান্য ভাষাতেও এ বাক্-রীতি প্রচলিত আছে। কোন রাজকীয় ঘোষণায় সম্রাট, সম্রাজ্ঞী বা রাষ্ট্রপতি উত্তম পুরুষের বহুবচন (আমরা) ব্যবহার করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রের (Queen’s Proclamation) উল্লেখ করা যাইতে পারে। সেখানে ‘We’ (আমরা) ব্যবহৃত হইয়াছে। বলা বাহুল্য, এই রীতি কোরান শরীফের নিজস্ব। আল্লা নিজেই এই বাচন-ভঙ্গী শিক্ষা দিয়াছেন। ‘আমি’ না বলিয়া ‘আমরা’ বলিয়াছেন। কাজেই তর্জমার ভুল হইয়াছে—পাঠক যেন সেরূপ মনে না করেন। মূলে বহুবচন আছে বলিয়াই তর্জমাতেও বহুবচন আসিয়াছে। উপরের আয়াতের ইংরাজী তর্জমাতেও ‘We’ শব্দ আছে :

“And whoever desires the reward of this world We will give him of it and whoever desires the reward of the hereafter, We will give him of it, and We will reward the grateful.” – Moulana Muhammad Ali

আল্লামা ইউসুফ আলি একই রীতি অনুসরণ করিয়াছেন। উপরোক্ত আয়াতের অনুবাদে তিনি লিখিতেছেন: “If any do desire a reward in this life, We shall give it to him….”.

বস্তুতঃ অনুবাদ ঠিক রাখিতে হইলে মূলের সহিত তাহার মিল রাখিতেই হইবে। বলা বাহুল্য, এই কারণেই বাংলা তর্জমায় আল্লার স্থানে বহুবচন ব্যবহার করা হইয়াছে। Continue reading

ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী সাহেবের মৃত্যু – শাহেদ আলী

[পোস্টের হেডলাইন দেইখা অনেকেই একটু কনফিউজড হইতে পারেন। এই হেডলাইনটা হইতেছে ফিকশন রাইটার শাহেদ আলী’র অটোবায়োগ্রাফি “জীবন কথা” বইয়ের একটা চেপ্টারের নাম। উনি ১৯৫৪ সালের ইলেকশনে সুনামগঞ্জের আসনে খেলাফতে রব্বানী পার্টি থিকা এমপি হিসাবে ইলেক্টেড হইছিলেন। অই ইলেকশনে রব্বানী পার্টির একমাত্র কেন্ডিডেট উনি, যিনি ইলেকশনে জিতছিলেন। মুসলিম লীগ থিকা বাইর হয়া আইসা আবুল হাশিম রব্বানী পার্টি তৈরি করছিলেন। যুক্তফ্রন্টের সাথে জোট বাইন্ধা ইলেকশন করতে চাইছিলেন, কিন্তু যুক্তফ্রন্টের অন্য শরিকরা তাদেরকে নিতে রাজি হয় নাই। তখন রব্বানী পার্টি ১০টা সিটে কেন্ডিডেট দিছিল। অই ১০ জন থিকা শাহেদ আলী ইলেকশনে জিতছিলেন। কিন্তু উনি এরপরে বেশিদিন এক্টিভ রাজনীতিতে থাকেন নাই। মাস্টারির পেশাতে ফেরত গেছিলেন।

আর যেই শাহেদ আলী’র মারা যাওয়ার কথা উনি লেখছেন, তার পরিচয় লেখাটা পড়লেই জানতে পারবেন। ]

১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে তখন আতাউর রহমান খান প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা হলেও স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই শেরেবাংলা এ কে এম ফজলুল হকের কৃষকশ্রমিক পার্টির। স্পিকার ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও সুসাহিত্যিক আবদুল হাকিম সাহেব । প্রগাঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন লোকটি। তিনি তাঁর স্বাধীনমতো পরিষদ পরিচালনা করতেন। ক্ষমতাসীন পার্টির ইচ্ছেমতো কাজ করতেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবদুল হাকিম সাহেবকে নিয়ে খুব অসুবিধায় পড়ল। তারা তাদের মনের মতো করে তাদের পরিষদ চালাতে পারছিল না।

ডেপুটি স্পিকার কুমিল্লার জনাব শাহেদ আলী পাটোয়ারীও কৃষক শ্রমিক পার্টির সদস্য। কৃষক শ্রমিক পার্টির আমলেই তাঁরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। জনাব শাহেদ আলী আইনজীবী ছিলেন। তিনি একটু নরম ও সরল মেজাজের লোক ছিলেন।

আওয়ামী লীগ তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করতে চায়। স্পিকারের স্বাধীনতা তারা মানে না। তারা চায় যে স্পিকার তাদের ইচ্ছে ও হুকুমমতো কাজ করবে। কিন্তু আবদুল হাকিম কারও হুকুম শোনার লোক নন। তিনি কবি, সাহিত্যিক ও আইনজীবী। তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান, তাঁর কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করুক, তা তিনি চান না। নীতি ও কঠোর ন্যায়বিচারের পক্ষপাতী। কে খুশি হলো আর কে নাখোশ হলো—এই নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি কার্যকর করার জন্য উদ্‌গ্রীব, কিন্তু অ্যাসেম্বলির ভেতরে স্পিকার আবদুল হাকিমের অনমনীয় দৃঢ়তার জন্য তারা অসহায় বোধ করছে। এই সময় স্পিকার আবদুল হাকিমের জন্য আমেরিকা থেকে দুই মাসের জন্য দাওয়াত আসে। সেই দাওয়াত পেয়ে আবদুল হাকিম সাহেব চলে গেলেন আমেরিকায়। ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারী স্পিকারের দায়িত্ব পালন করতে লাগলেন। Continue reading

শুটিং এন এলিফেন্ট (১৯৩৬) – জর্জ অরওয়েল

নিচু বার্মার মোলমেন অঞ্চলে বহু মানুষই আমারে দেখতে পারতো না। আমি ছিলাম ওই শহরের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার। ফলে একপ্রকার দিশাহীন, ছোটখাটো ইউরোপবিরোধী ঘৃণা আইসা আমার উপর পড়তো। কারো মধ্যেই দাঙ্গা বাঁধানোর সাহস ছিল না, কিন্তু একজন ইউরোপীয় মহিলা যদি একা একা বাজারের মধ্য দিয়া হাঁইটা যায় তাইলে লোকে নির্ঘাত তার জামার উপরে পানের পিক মারবে। পুলিশ অফিসার হিসেবে তাদের এই এলোপাথাড়ি ঘৃণার এক রেগুলার নিশানা ছিলাম আমি। যখনই তারা চিপা পাইত, আমার উপর তাদের ক্ষোভ ঝাইড়া নিত। একবার এক ফটকা বার্মিজ বেটা ফুটবল মাঠে আমারে ল্যাং মাইরা ফালায়া দিসিল, আর রেফারি তা দেইখাও দেখে নাই। আশেপাশের জনতা তাতে হাইসা একসের হইসিল। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে। একটা সময় আমার দিকে ঘৃণার নজর নিয়া তাকায়ে থাকা এতগুলা হলুদ জুয়ান বেটাদের মুখ, আমার থিকা নিরাপদ দূরত্বে গিয়াই লোকের আমার দিকে ছুইড়া দেয়া গালিগালাজ, এগুলা আমারে কাবু কইরা ফেললো। সবচেয়ে বিচ্ছিরি ছিল জুয়ান বৌদ্ধ সন্ন্যাসিগুলা। এদের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার, আর রাস্তার চিপায় দাঁড়ায়া ইউরোপিয়ানদের প্যারা দেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ ছিল না মনে হয়।

এইসব আমার জন্য নেয়া কঠিন হইয়া পড়তেসিল। কারণ ততদিনে আমি মনে মনে ঠিক কইরা ফেলসি যে ইমপেরিয়ালিজম একটা জঘন্য জিনিস এবং যত তাত্তাড়ি সম্ভব আমার এই চাকরি ছাইড়া ভাগা দরকার। তত্ত্বে এবং গোপনে আমি ছিলাম এই বার্মিজদেরই পক্ষে, এবং তাদের ব্রিটিশ জালিমদের বিপক্ষে। এবং আমার এই চাকরির কথা যদি বলি, ওইটারে আমি এত ঘিন্না করতাম যে বইলা বুঝাইতে পারবো না। এরকম চাকরিতে সরকারের আসল নোংরামিগুলা সবচাইতে কাছ থিকা দেখা যায়। জেলখানার ছোট্ট ময়লা খাঁচাগুলায় জড়োসড়ো হইয়া পচতে থাকা কয়েদি, তাদের ফ্যাকাশে, ডরানো মুখ, বাঁশ দিয়া পিটানো কয়েদিদের দাগপড়া পাছা—এইসব কিছু আমার মধ্যে এমন এক অপরাধবোধের জন্ম দিসিল যা আর আমি নিতে পারতেসিলাম না। কিন্তু কোনোকিছুই আমি ঠিক করতে পারতেসিলাম না। তখন আমার বয়স কম ছিল এবং পড়াশুনাও তেমন ছিল না। তারউপর সবকিছু আমারে ভাবতে হইত এক ভয়াবহ নিরবতার মধ্যে যা এই অঞ্চলের প্রত্যেকটা ব্রিটিশের উপর চাপায়া দেয়া হইত। আমি এমনকি জানতামও না যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মারা যাইতেসে, এই সাম্রাজ্যের বদলে যারা আসবে তাদের কথা তো আরো না। আমি শুধু জানতাম আমি আমার সরকারের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ক্ষোভ আর এইখানের ছোট্ট বদমাইশগুলা যারা আমার চাকরি আরো কঠিন বানায়া তুলতেসে তাদের প্রতি ঘেন্নার মধ্যে ফাঁইসা গেসি। আমার মনের এক অংশ ভাবতো ব্রিটিশ রাজের এই জুলুম কখনোই শেষ হবে না, যুগের পর যুগ ধইরা মানুষরে দমায়া রাখা হবে। আর আরেক অংশে মনে হইত দুনিয়ার সবচাইতে আনন্দের ব্যাপার হবে যদি ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসিটার ভুড়ির মধ্যে একটা বেয়োনেট ঢুকায়া দিতে পারি। ইমপেরিয়ালিজম এরকম উদ্ভট চিন্তার জন্ম দেয়। যেকোনো এংলো-ইন্ডিয়ান অফিশিয়ালরে জিগায়া দেখতে পারেন, যদি তারে অফ ডিউটি পান।

এরমধ্যে একদিন এমন এক ঘটনা ঘটলো যা অদ্ভূতরকমের স্পষ্টতা আইনা দিসিল। ঘটনাটা খুবই ছোট, কিন্তু এর ফলে ইমপেরিয়ালিজম নিয়া, এই কলোনিয়াল সরকারের সত্যিকারের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আমার ধারণা আগের চাইতে আরো ক্লিয়ার হইসিল। এক ভোরে আরেক অঞ্চলের এক সাব-ইন্সপেক্টর আমারে ফোন দিয়া জানাইল ওইখানে একটা হাতি বাজারে ঢুইকা সব তছনছ কইরা ফেলতেসিল, তো আমি যেন আইসা একটু দেখি ঘটনা কী। এমন সময়ে কী করা উচিত তা আমিও জানতাম না, কিন্তু এই ঘটনা সামনাসামনি দেখা দরকার মনে কইরা একটা ঘোড়ার পিঠে চইড়া আমি রওনা দিলাম। সাথে আমার রাইফেলটাও নিলাম, একটা পুরান .৪৪ উইনচেস্টার যা দিয়া হাতি মারা মোটেও সম্ভব না। কিন্তু ভাবলাম প্রয়োজন পড়লে গুলির শব্দে হাতিটারে ভয় দেখাইতে পারব। পথে বার্মিজ লোকেরা একটু পরপর আমারে থামায়া বলতে লাগলো হাতিটার কারবার সম্পর্কে। হাতিটা জংলি ছিল না, বরং একটা পোষা হাতিই ছুইটা পাগল হইয়া গেসিল। এরে চেইন দিয়া আটকায়া রাখা হইসিল কিন্তু গতরাতে সে ছুইটা যায়। হাতিটার মাহুত ছিল একমাত্র লোক যে এই দশায় তারে শান্ত করতে পারতো, কিন্তু বেটা তখনও ছিল বারো ঘণ্টা দূরের পথে। আর হাতিটা সকালবেলা শহরের মধ্যে ঢুইকা পড়লো। সাধারণ বার্মিজ জনগণের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না, ফলে তারা এই বিশাল জন্তুর সামনে বেশ অসহায় হয়া পড়সিল। ততক্ষণে হাতিটা একজনের বাঁশের ঘর ভাইঙ্গা ফেলসিল, একটা গরু মাইরা ফেলসিল এবং কতগুলা ফলের দোকানে ঢুইকা সব সাবাড় কইরা ফেলসিল। এছাড়াও পথে তার একটা ময়লার ভ্যানের সাথে মোলাকাত হয়, এবং যখন ভ্যানওয়ালা নাইমা দৌড় লাগায় তখন সে ভ্যানটা উপুড় কইরা তার উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালায়। Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৮)

১৬. মহাবিষ

মায়মুনার সহিত জায়েদার কথোপকথন হইতেছে। জায়েদা বলিতেছেন, “ঈশ্বর যাহাকে রক্ষা করেন, কিছুতেই তাহার মরণ নাই। মায়মুনা! হাসানের মরণ নাই! জায়েদারও আর সুখ নাই।”

মায়মুনা কহিল, “চেষ্টার অসাধ্য কিছুই নাই। হতাশ হও কেন? এই দেখ, এজিদ্ সকল কথা শুনিয়া এই ঔষধ পাঠাইয়া দিয়াছে। ইহাতে কিছুতেই নিস্তার নাই।” মায়মুনা আপন কটিদেশ হইতে একটি ক্ষুদ্র পুঁটুলি বাহির করিয়া জায়েদাকে দেখাইল।
জায়েদা জিজ্ঞাসা করিলেন, “ও কী?”
“মহাবিষ।”
“মহাবিষ কী?”
মায়মুনা উত্তর করিল, “এ সর্পবিষ নয়, অন্য কোন বিষও নয়, ইহার মূল্যও অধিক, দেখিতেও অতি উজ্জ্বল। আকার পরিবর্তনে অণুমাত্র পেটে পড়িলেই মানুষের পরমায়ু শেষ করে।” “কী প্রকারে খাওয়াইতে হয়?”
মায়মুনা কহিল, “খাদ্যসামগ্রীর সহিত মিশাইয়া দিতে পারিলেই হইল। পানিতে মিশাইয়া খাওয়াইতে পারিলে তো কথাই নাই।”
“এ তো বড় ভয়ানক বিষ! ছুঁইতেও যে ভয় হয়!”
“ছুইলে কিছু হয় না। হাতে করিয়া রগড়াইলেও কিছু হয় না। এ তো অন্য বিষ নয়, এ হীরক-চূর্ণ!”

মায়মুনা তখনই জায়েদার হাতে পুঁটুলি দিল। জায়েদা পুনরায় বলিতে লাগিলেন, “হাসনেবানু কিংবা জয়নাব, এই দুয়ের একজন না মিশাইলে আর কাহারো সাধ্য নাই।”

“অন্য আর একটি উপায় আছে।”
“কী উপায়?”
“ঐ সুরাহীর জলে।”
“কী প্রকারে? সেই সুরাহী যে প্রকারে সীলমোহর বাঁধা, তাহা খুলিতে সাধ্য কার?”
“খুলিতে হইবে কেন? সুরাহীর উপরে যে কাপড় বাঁধা আছে, ঐ কাপড়ের উপর এই গুঁড়া অতি অল্প পরিমাণে ঘষিয়া দিলেই আর কথা নাই। যেমন সুরাহী, তেমনি থাকিবে; যেমন শীলমোহর তেমনি থাকিবে, পানির রং বদল হইবে না, কেহ কোন প্রকারে সন্দেহও করিতে পারিবে না।”

মায়মুনা তখন জায়েদার গৃহেই থাকিল। জায়েদা গোপনে সন্ধান লইতে লাগিলেন-হাসানের নিকটে কে কে রহিয়াছে, কে কে যাইতেছে, কে কে আসিতেছে, কে কী করিতেছে! হাসানের চিন্তাতেই (জায়েদা ছাড়া) বাড়ির সকলেই মহা চিন্তিত ও মহাব্যস্ত।

জায়েদার চিন্তায় জায়েদা ব্যস্ত। জায়েদা কেবল সময় অনুসন্ধান করিতেছেন, সুযোগের পথ খুঁজিতেছেন! ক্রমে ক্রমে রাত্রি অধিক হইয়া আসিল। জায়েদা জাগিয়া ছিলেন বলিয়াই দেখিলেন যে, হাসনেবানু রওজা মোবারকের দিকে যাইতেছেন। গোপনে গোপনে তাঁহার পশ্চাতে পশ্চাতে যাইয়া আরো দেখিলেন যে, হাসনেবানু ঈশ্বরের উপাসনার্থ দণ্ডায়মান হইলেন। দেখিয়া আসিয়াই মায়মুনাকে বলিলেন, “মায়মুনা! যদি সুযোগ পাই, তবে এ-ই উপযুক্ত সময়।”

জায়েদা বিষের পুঁটুলি লইয়া চলিলেন। মায়মুনাও তাঁহার অজ্ঞাতসারে পাছে পাছে চলিল। অন্ধকার রজনী; চান্দ্রমাস রবিউল আউয়ালের প্রথম তারিখ। চন্দ্র উঠিয়াই অমনি অস্ত গিয়াছে;-ঘোর অন্ধকার! Continue reading

খাশ বাংলা: কি ও কেন?

[১৮.০২.২০২২ তারিখে একটা আলাপ হইছিল। সেই আলাপের একটা ট্রান্সক্রিশপন হইতেছে এই টেক্সট।]

সিফাত আহমেদ: খাশ বাংলার বাংলাদেশে আমরা, একটা স্পেস ক্রিয়েট হচ্ছে, কারণ এইটা তো মোস্ট নেচারাল থিংক, বাংলাদেশে, এইটা হবেই। আমরা করতে পারি আর যেই করতে পারুক, এইটা হবেই আর কি কিছুদিনের ভেতর। এই যে একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রসেসের ভেতর দিয়ে আলাপ আলোচনা ডিসকোর্সের ভিতর দিয়া এইটা হইতেছে, এইটা হইয়া যাওয়ার পর – এইটা সোসাইটিতে কোনো নেগেটিভ কনসিকুয়েন্স তৈরি হইতে পারে কিনা? পলিটিকসে, যেহেতু একটা ভাষা পলিটিকসের ভেতর দিয়া এইটা হইতেছে, পলিটিকসে এইটা থাকতেই পারে, সেই জায়গাগুলা কিভাবে ট্যাকল দেয়া যাইতে পারে? এইটা একটা আধিপত্য তৈরি করতে পারে কিনা, বাংলায় — যদি বলি আর কি, সেই জায়গাটা ট্যাকল দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার চিন্তা কি? অই জায়াগাটা কি আপনি ভাবছেন?

রক মনু: এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব, কিন্তু ইমরুলের ভাবনা কি? .

ইমরুল হাসান: এইটার বাইরে কনটেক্সটা নিয়া কথা আছে। ভাষার ব্যাপারে যে আলাপ-টালাপ হচ্ছে, বা যেভাবে হয়ে আসছে, এইখানে তো আসলে, বেইজলাইনে বিশাল একটা কনটেক্সট আছে। আমি ভাবতে গিয়া ওইটা নিয়া ভাবতেছিলাম। যে ওই কনটেক্সট কিভাবে তৈরি হচ্ছে, কিভাবে কোশ্চেন হচ্ছে বা কি রকম হইছে। এই ব্যাপারগুলি নিয়া ওইখানে হয়তো দুই-এক কথা এড করা যাইতে পারে।

ভাষা তো আসলে সবচেয়ে বেশি ইউজ হয় হচ্ছে কথা বলার বাইরে সাহিত্যের জায়গাটাতে। সাহিত্যের জায়গাটারে আমরা ভাষা বইলা দেখতে চাই আর কি। বা বড় কোনো সাহিত্যিক হচ্ছে ভাষাকে ডিকটেট করবেন এরকম একটা ধারণা আছে। তো যারা লেখালেখি করে তারা তো আসলে ভাষা নিয়া ডিল করে, ওইটা নিয়াই আসলে চিন্তা করা লাগে। তো যেইটা আসছিল আমার চিন্তাতে, লেখালেখির শুরুতে; আমরা তো ধরেই নিছি যে সাহিত্য ভাষাটা আছে, ওইটাই হচ্ছে নেচারাল, মোস্ট নেচারাল।

তো যখন এইটা নিয়া আমরা চিন্তা করতে গেছি তখন দেখতেছি যে, না, এইটা তো আসলে নেচারাল বলে যে জিনিস, ওইটা তো না। মানে কিছু চিন্তা করতে গেলে এইখানে তো আসলে হোচট খাইতে হচ্ছে। মানে জিনিসগুলি তো আসলে ভাষার ভেতরে আটানো যাইতেছে না। এইখানে যে একটা ব্যাকরণ সম্মত ভাষা বলে জিনিস আছে, এইটা যে খালি আমি ফিল করছি তা না। আমাদের সময়ে আমাদের আগেও অনেকে ফিল করছে। কিন্তু আমার ধারণা এইটা এইটিজ পর্যন্ত… ধরেন এক ধরণের ঝামেলা একটা হইছিল ত্রিশ চল্লিশের দিকে; তখনকার সময়ে তর্ক বিতর্কগুলির মধ্যে এইটা পাওয়া যাবে।

মুসলমান যারা ছিলেন উনারা দাবি করতেছিলেন যে মুসলমানরাও সাহিত্যের অংশ ভাষার অংশ, সুলতানি আমলেও ভাষা ছিল, দেন, যেইটা আসলে ব্রিটিশ আমলে প্রেসক্রাইবড যেইটা ফোর্ট উইলিয়ামের ভাষা ওইটাই যে আসলে বাংলা ভাষা ওইটার এগেইনেস্টে যারা ছিলেন উনারা আসলে একটা স্পেইস দাবি করতেছিলেন। ওই রকম একটা জায়গা থেকে ছিল। দেন, যখন ’৪৭ হইল পলিটিক্যালি, যখন ভাগ হইল তখন তো আসলে ইন্ডিয়াতেও প্রশ্ন উঠল যে ভাষা কোনটা হবে—হিন্দি হবে? পাকিস্তানের দাবি হইল যে আসলে উর্দু হবে, এইরকম।

তো তখন ইন্ডিয়ার যে সাউথ পার্টটা, ওরা কিন্তু এইটা মাইনা নেয় না। ওরা বলছিল যে যার যার রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হবে। মোটামুটি/ ভুলভাবে একটা সেটেল হইছিল। পাকিস্তানেও ওইভাবে স্যাটেল হইছে। কিন্তু যেইটা বাংলা ভাষা বইলা বলা হচ্ছিল সেইখানে আসলে ওই আমাদের মধ্যে সোসাইটির যে ভাষাটা, কমন পিপলের যে ভাষাটা ওইটা আসলে বাংলা ভাষা হিসাবে তৈরি হচ্ছিল না। ওইটার নড়চড়গুলি টের পাওয়া যাবে। মানে যেমন ধরেন সিনেমা হইলে সেইটা যাত্রা সিনেমা হয়ে যাচ্ছিল, গান হইলে সেইটা ফোক সং হয়ে যাচ্ছিল, কবিতা হইলে সেইটা লোকজ-ভাষার কবিতা হয়ে যাচ্ছিল। মানে ধরেন ডিফেরেন্সগুলি তখনও কিন্তু ছিল, কিন্তু আমাদের আসলে কলোনিয়াল হ্যাঙ-ওভারটা তখনও কাটে নাই। যেই জিনিস কাটতে তো আসলে সময় লাগে।

সিফাত: একটা মান ধইরা হিসাব করলে যেইটা হয় আর কি।

ইমরুল: হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো ওই জিনিসটা যাইতে যাইতে আমার ধারণা বাংলাদেশ যখন হইছে; এবং স্পেশালি বাংলাদেশ হওয়ার পরও না; আমার ধারণা পঁচাত্তর ছিয়াত্তরের পরে, আমরা বুঝতে পারছি যে না, বাংলাদেশ তো আসলে একটা আলাদা রাষ্ট্র, আলাদা একটা জায়গা। তো তখন ভাষার জায়গাগুলি আরও স্পষ্ট হয়া উঠছে, তর্ক-বির্তকের জায়গাগুলি। এই সেভেনটি সিক্স এইটিজে গিয়া আমার ধারণা এই জায়গাগুলি স্পষ্ট হইতে শুরু করছে এবং ওইটার লিগ্যাসি থেইকা আমরা আসলে লিখতে গিয়া সাহিত্য করতে গিয়া টের পাইছি যে না এইটা তো ঠিকঠাক না। এইখানে আরও কিছু ঘটনা আছে আর কি। যেইগুলি চিন্তা ভাবনা করা দরকার। এইটা হইছে আমার কাছে ভাষা নিয়া আলাপের কনটেক্সটা।

মনু: সিফাতের যে কোশ্চেনটা এইটা, আমি যেভাবে বুচ্ছি; সেটা হলো যে… আচ্ছা, একটা দিক হচ্ছে যে ধরেন যে জায়গাগুলি থেইকা আমরা ইয়ে করতেছি… মার্ক্সের হিস্ট্রিকাল পোগ্রেশনের যে আইডিয়া ওইটার একটা মোস্ট প্রোবাবলি একটা ছায়া আছে, মানে অটোমেটিক্যালি। সিফাত যেভাবে প্রস্তাবটা দিল, যে ঘটনাটা তো ঘটবে আসলে; মানে ধরেন, এইটা কোনো রকম জোর করা এইখানে তা না। এইটা আসলে ঘটবে, এইটাই ঘটার কথা।

ধরেন যে খাশ বাংলা, দুইটাই হচ্ছে ধরেন স্টান্ডার্ড বাংলা হইয়া ওঠার কথা। এইটা হচ্ছে যে খুবি, ওই মার্ক্সের পোগ্রেশনের আইডিয়া থেকে যে আগাইতে আগাইতে এইটা অই জায়গায় যাবে, যেইটা অবভিয়াস; ফলে ওইটা আসলে আমাদের উপরে ডিপেন্ডেড না। ওরকম একটা জায়গা।

তো, মার্ক্সের কথাটা আনলাম এই জন্য যে ধরেন রেভ্যুলেশনারি বা মার্ক্সিস্ট রেভ্যুলেশন করে এদের ব্যাপারে আসলে হচ্ছে যে বহু ক্রিটিক আছে। একটা বড় কোশ্চেন যেটা, সেটা হচ্ছে যে যখনি আপনি রিভল্ট করে ফেলছেন তারপরে আপনি কি করবেন?

তো, মানে খাশ বাংলার ব্যাপারেও কোশ্চেনটা আসলে কাইন্ড-অপ ওইরকম। যে ধরেন এইটা উইন করল। মানে হিস্টিরিতে তো উইন করবে, এইটা ধইরা নিয়া, যে উইন করল, তারপরে তার শাসনটা কেমন হবে? Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →