Main menu

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৩)

এক ।। দুই ।।

প্রবাহ ৫: জয়নাবের জবাব

পতিবিয়োগে নারীজাতিকে চারি মাস দশ দিন বৈধব্যব্রত প্রতিপালন করিতে হয়। জয়নাব শাস্ত্রসঙ্গত বৈধব্য অবস্থায় দিনযামিনী যাপন করিতেছেন। এত মলিনভাব, তথাচ তাঁহার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও রূপমাধুর্যে মানুষমাত্রেই বিমোহিত।

মোস্‌লেম যথাসময়ে জয়নাবের ভবনে উপস্থিত হইলেন। জয়নাব পিতার বর্তমানে ও দেশীয় প্রথানুসারে এবং শাস্ত্রসঙ্গত স্বাধীনভাবেই মোস্‌লেমের সহিত কথা কহিতে লাগিলেন। তাঁহার পিতা অদূরে দণ্ডায়মান থাকিয়া উভয়ের কথোপকথন আকর্ষণ করিতে লাগিলেন।

মোস্‌লেম বলিলেন, “যে উদ্দেশ্যে আমি দৌত্য কর্মে নিযুক্ত হইয়া আসিয়াছি, একে একে নিবেদন করি, শ্রবণ করুন। যদিও আপনার বৈধব্যব্রত আজ পর্যন্ত শেষ হয় নাই, কিন্তু প্রস্তাবে অধর্ম নাই। আমাদের দামেস্কাধিপতি হজরত মাবিয়ার বিষয় আপনার অবিদিত কিছুই নাই; তাঁহার রাজ-ঐশ্বর্য সকলই আপনি জ্ঞাত আছেন, সেই দামেস্কাধিপতির একমাত্র পুত্র এজিদের বিবাহ পয়গাম লইয়া আমি আপনার নিকট আসিয়াছি। যিনি এজিদ্কে স্বামিত্বে বরণ করিবেন, তিনিই দামেস্করাজ্যের পাটরাণী হইবেন।

পথে আসিতে আসিতে প্রভু মোহাম্মদের প্রিয় পারিষদ আক্কাস আমাকে কহিলেন, তিনিও আপনার প্রার্থী। ঈশ্বর তাঁহাকে সৃষ্টি করিয়া পুরুষ জাতির সৌন্দর্যের অতুল আদর্শ দেখাইয়াছেন। তিনি অতুল বিভবের অধীশ্বর। তিনিও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন।

অধিকন্তু প্রভু মোহাম্মদের কন্যা বিবি ফাতেমার গর্ভজাত হজরত আলীর ঔরস-সম্ভূত-পুত্র মদিনাধিপতি হজরত হাসানও আপনার প্রার্থী কিন্তু এজিদের ন্যায় তাঁহার ঐশ্বর্য সম্পদ নাই, সৈন্য সামন্ত নাই, উজ্জ্বল রাজপ্রাসাদও নাই। এই সকল বিষয়ে সম্ভ্রমসম্পদশালী এজিদের সহিত কোন অংশেই তাঁহার তুলনা হয় না। তাঁহার দ্বারা ইহকালের সুখ সম্ভোগের কোন আশাই নাই, অথচ সেই হাসান আপনার প্রার্থী। এই আমার শেষ কথা। বিন্দুমাত্রও আমি গোপন করিলাম না-কিছুমাত্র অত্যুক্তি করিলাম না। এক্ষণে আপনার যেরূপ অভিরুচি।”

আদ্যোপান্ত সমস্ত শ্রবণ করিয়া জয়নাব অতি মৃদুস্বরে সুমধুর সম্ভাষণে বলিলেন, “আজ পর্যন্ত আমার বৈধব্যব্রত সম্পন্ন হয় নাই। ব্রতাবসানে অবশ্যই আমি স্বামী গ্রহণ করিব। কিন্তু এ সময় যে বিষয়ে আলোচনা করিলেও আমার মনে মহা কষ্টের উদ্রেক হয়। … ঈশ্বর যে উদ্দেশ্যে আমাকে সৃজন করিয়াছেন, সে উদ্দেশ্যের গুহ্য কারণ কেবল তিনিই জানেন। আমি তাঁহার যে উদ্দেশ্য সিদ্ধির উপকরণ, তাহা আমার জানিবার বা বুঝিবার ক্ষমতা নাই। আমি ক্ষুদ্র জীব, আমি কেন-অনেকে আপন আপন মূল্যের পরিমাণ বুঝিতে অক্ষম। …জীবন কয় দিনের? জীবনের আশা কী? এই চক্ষু মুদ্রিত হইলেই সকল আশা-ভরসা ফুরাইয়া যাইবে। …স্থূল কথা, বিষয়বিভব, রাজপ্রাসাদ এবং রাজভোগের লোভী আমি নহি। সে লোভ এ জীবনে কখনোই হইবে না। মনের কথা আজ অকপটে আপনার নিকট বলিলাম।”

মোস্‌লেম কহিলেন, “ইহাতে তো আপনার মনোগত ভাব স্পষ্ট বুঝিতে পারিলাম না?”

“ইহা অপেক্ষা স্পষ্ট আর কি হইতে পারে? প্রভু হজরত মোহাম্মদের দৌহিত্র, তিনি যখন জয়নাবকে চাহিয়াছেন, তখন জয়নাবের স্বর্গসুখ ইহকালেই সমাগত। পাপীর পাপের প্রায়শ্চিত্ত কোথায় না আছে? কিন্তু সাধু পুরুষের পদাশ্রিত হইতে পারিলে পরকালের মুক্তিপথের পাপকণ্টক বিদূরিত হইয়া স্বর্গের দ্বার পরিষ্কার থাকিবে। … আমার বৈধব্যব্রত পূর্ণ হইলেই প্রভু হাসান যে সময়ে আমাকে দাসীত্বে গ্রহণ করিবেন, আমি মনের আনন্দে সেই সময়েই সেই পবিত্র চরণে আত্মসমর্পণ করিব।” Continue reading

হলি স্পাইডার

সাঈদ হেনাঈ যারে “The Beast of Mashhad” – ও বলা হয় সে বিলিভ করতো যে প্রস্টিটিউটরা হইলো গিয়া “Waste of Blood”. এই বিশ্বাস থাইকা সে ১৬ জন প্রস্টিটিউটরে খুন করে ২০০০-২০০১ এর সময়কালে। সে মনে করতো যে এইটা তার হলি ডিউটি এই হলি সিটি থাইকা প্রস্টিটিউটদের রিমুভ করা। যখন তার ক্রাইমটা মানুশের সামনে আসে অনেক রিলিজিয়াস মানুশের কাছেই সে একজন হিরোও বইনা যায়।

সাঈদ হেনাঈ এর কাহিনী নিয়া ডেনিশ-ইরানিয়ান ডিরেক্টার আলী আব্বাসী “Holy Spider” মুভিটা বানাইছেন। অক্টোবর ২৮, ২০২২ এ রিলিজ হইছে মুভিটা। যেইটাতে জার্নালিস্টের ক্যারেক্টারে এক্টিং কইরা জাহরা আমির-ইব্রাহিমি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেস্ট এক্ট্রেসের অ্যাওয়ার্ড জিইতা নিছেন। এছাড়াও আরো বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডের নমিনেশনেও আছে দেখলাম এইটা।

স্টোরিটা ইরানের সেকেন্ড লার্জেস্ট সিটি মাশাদের হইলেও এইটার শুটিং হইছে জর্ডানে। কারণ ইরান থাইকা পারমিশন পায় নাই মুভিটা। ইভেন ইরানিয়ান মিনিস্টার অফ কালচার ইসলামিক গাইডেন্স মোহাম্মদ মেহদি ইসমাঈলি এইটাও বলছেন যে এই মুভিতে যারা এক্টিং করছেন তাদের পানিশমেন্ট দেয়া হইবো। যদিও লিগ্যাল ডিসিশান নেয়া হয় নাই বাট উনি বলছেন যে এইটায় আসলে মুসলিমদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধরে ইনসাল্ট করা হইছে।

মুভিটা শুরু হয় একটা প্রস্টিটিউটের খুন দিয়া। এই প্রস্টিটিউটদের খুন হওয়ার বিষয় নিয়া ইনভেস্টিগেট করতেই বলা যায় মাশাদে আসে জার্নালিস্ট রাহিমি। সে যখন হোটেলে চেক ইন করতে যায় তারে রুম দিতে চায় নাহ কারণ সে একলা একটা মাইয়া মানুশ বইলা। দেন সে বলে যে তার রিজারভেশন আছে এবং তার জার্নালিস্ট আইডিও দেখায়। পরে তারে রুম দেয়। তারে ডেস্ক ক্লার্ক তখন একটা কথা বলে যে তার স্কার্ফ তার চুল ঠিক মতো ঢাকে নাই, অনেক চুল দেখা যাইতেছে। মোরালিটি পুলিশ এইটা দেখলে প্রবলেম হইতে পারে। তখন ছিলো ২০০১ সাল আর এখন ২০২২, কিন্তু ইরানের এই বিষয়গুলা চেইঞ্জ হয় নাই আজ অব্দি। যেইটা রিসেন্ট মাশা আমিনির ডেথের দিকে তাকাইলেই স্পষ্ট দেখা যায়। মাশারেও স্কার্ফ ঠিক মতো না পরার কারণেই ইরানের মোরালিটি পুলিশের হাতে মরতে হইছিলো। এই রিসেন্ট ইভেন্টটারেই আসলে পোরট্রে করছে এই সিনটা।

সাঈদ একজন কন্সট্রাকশন ওয়ার্কার ছিলো, সে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভেটেরানও ছিলো। বউ, টিনেজ একটা ছেলে, আর দুইটা ছোট মেয়ে নিয়া তার সংসার। রাতের সময় সে তার বাইক নিয়া বাইর হইয়া যাইতো রাস্তায় থাকা প্রস্টিটিউটদের নিজের বাসায় নিয়া আসতো। খুব সম্ভবত যখন তার বউ বাচ্চা বাসায় থাকতো নাহ। ভিক্টিমদের স্কার্ফ দিয়া তাদের গলায় ফাঁস দিয়া তাদের মারতো। মারার পরে লাশ কাপড় দিয়া প্যাঁচায়া বাইরে ফালাইয়া আসতো। এইভাবে ধইরা নিয়া মারার কারণে অইসময় নিউজপেপারে যে নিউজ হইতো সেইখানে তারে স্পাইডার কিলার বলা হইতো। এইভাবে সে ১৬-জন প্রস্টিটিউটরে খুন করে। Continue reading

বই থেকে: টিয়াদুর – ইচক দুয়েন্দে

This entry is part 13 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

[ইচক দুয়েন্দের লেখা ‘টিয়াদুর’ বইটা ছাপা হইছে বাংলা ১৪২৮ সনে। বইয়ে ৪৩টা অধ্যায় আছে। বই থিকা ২৭ নাম্বার চ্যাপ্টারটা আমরা এইখানে ছাপাইতেছি।]

অধ্যায় ২৭

চিঙ্ক দাপ্রি

 

আজ ভোরে চিঙ্ক দাপ্রি’র ঘুম ভাঙে স্বপ্নে দুই জোড়া গরুর বাছুর দেখে। এক জোড়া বাছুর ধূসর-সাদারঙা, আরেক জোড়া খয়েরি-গোলাপিরঙা। সবগুলি বাছুরই চিকন, গাছের মোটা পাতার মতন। বাছুর দুটো চিকন হওয়ায় সে একটু উদ্বিগ্ন । নইলে স্বপ্নটা ভাল ।

ভাল স্বপ্নের পরে আজ সকালে পরীর মেলার পথে চিঙ্ক দাপ্রির দেখা হয় জ্ঞানী মামা হিদ্র পুনের সাথে। চিঙ্ক দাপ্রি মামাকে জানায় নিজ গ্রাম চকবিরহী ছেড়ে সে চলে যাচ্ছে চিরতরে । এখন থেকে থাকবে শ্বশুরালয়ে। বিদায় বেলায় সে তার মামা হিদ্র পুনের কাছে উপদেশ চায়। জ্ঞানী মামা বলেন:

তুমার কথা তুমার জবান তুমার দুশমন
ভাবিয়া চিন্তিয়া কথা বলিবা
কথা দিলে কথা রাখিবা
ভালবাসিবা মাটি গাছপালা পশুপকি।।

পরীর মেলায় শাক বিক্রির সাফল্যের জন্য সে তার মামার উপদেশকে ধন্যবাদ দেয়। চিঙ্ক দাপ্রির মাথায় তার মামার বলা কথাগুলো বারবার গুঞ্জন করে।

চিঙ্ক দাপ্রি উড়ে চলে। পরীর মেলা শেষ। একটা মেঠো পথে নামে সে। কিছুদূর যাবার পর এক বিশাল পুকুর, থামে সেখানে। বসে, পানি খায়। তার থলেতে দশ টাকার নোট। সে বের করে। তাকায়। কতো ছবি। কতো লিখা। চোখ ফাটিয়ে খুঁটিয়ে সে দেখে। মুগ্ধ বিস্ময়াবিষ্ট। ভাবে দশ টাকা ভেঙে কড়ি নিলে পাওয়া যাবে কতো কড়ি? হাজার হাজার কড়ি। লাখলাখ কড়ি। সেই কড়িগুলো রাখতে লেগে যাবে একটা দুটো ঘর।

এক বছর আগে চিঙ্ক দাপ্রি’র নজরি চন্মন হয়েছে। নজরি চন্মনের পর কনের বাড়িতে গত এগার মাসে এগার রাত কাটিয়েছে। শীঘ্রই চিঙ্ক দাপ্রি সন্তান আশা করছে। তার বিশ্বাস কন্যা সন্তান হবে। চিঙ্ক দাপ্রি’র মনে হয় সে পেয়ে গেছে সাত রাজার ধন। এখন পেতে যাচ্ছে রাজকন্যা।

আজ সন্ধ্যায় চিঙ্ক দাপ্রি’র বিয়ের অনুষ্ঠান।

চিঙ্ক দাপ্রি উড়ে যায় রসুনদিঘির হাটে। হাট সেদিন জমে নাই। সব মানুষ গেছে পরীর মেলায়। দোকানিরা চিঙ্ক দাপ্রিকে পেয়ে উল্লাস করে। সে মিঠেকাঁকন গ্রামের জামাই। তাই সে তাদেরও জামাই। হাটের কোনো দোকানি তার দশ টাকার নোট ভাঙাতে পারে না। তাতে তার কেনাকাটা থামে না। তার সর্বমোট খরচ হয় চার আনা। যা পরে দিলেই চলবে।

নদী বারনয় পার হবার সময় মাঝি হাইলে জব্বার বলে, “খবর কিছু জানেন নাকি ভাইজান? পেরকাণ্ড একখান বাজ পড়ে পরীর মেলা পুড়ে হল খাক?’

হতভম্ব চিঙ্ক দাপ্রি নিরুত্তর থাকে। মাঝি হাইলে জব্বার বলে চলে, ‘এই দুনিয়ায় এক কিছিমের মানুষ আছে, যারা ঘরে থাকিয়াও ঘরের খপর রাখে না। তারা কী করিয়া মেলায় গিয়া মেলার খপর রাখবে?’

চিঙ্ক দাপ্রি অনেকক্ষণ মেলা ছেড়ে এসেছে। এর মধ্যে সে অনেক বাজ পড়ার শব্দ শুনেছে। পরীর মেলা বড় জায়গা। সেখানে পড়তে পারে বড় বাজ। করতে পারে বড় খাক। তখন চিঙ্ক দাপ্রি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। পরীর মেলার দয়ালু রূপবান কন্যাটি পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে কল্পনা করে।

ঘাটে নামতেই বৃদ্ধ সুনজ সুপ্তি তাকে সংবর্ধনা জানান। তিনি চিঙ্ক দাপ্রি’র কাছে দেড়শত বিঘা জমি বিক্রয় করতে চান। জোনাকির বিলে একশ বিঘা জমি, এক ফসলি, হিদাদিঘার ধান বোনা আছে। ফালগুন মাসে নৌকায় গিয়ে শীষ কেটে আনলেই হবে, পাওয়া যাবে হাজার মণ ধান। সে ধান পেয়ে যাবে চিঙ্ক দাপ্রি।

তারপর ঐ জমিতে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে লাঙল দিয়ে শক্ত পলিমাটিতে আঁখর তুলে বুনতে হবে ধান। বাকি পঞ্চাশ বিঘা জমির কিছুটা দুফসলি, কিছুটা তিন ফসলি। সেখানে করতে পারবে আউশ ও আমন ধান, আর মশুর মুগ জব বুট ও সরিষার মতো রবিশস্য। না তার পুকুর নেই। জমি আছে, খুঁড়ে নিতে কতক্ষণ! ছেলেমেয়ে সব মারা গেছে ওলাওঠায়। বলতে গেলে তাদের গোটা পাড়াটাই ওলাওঠায় গেছে উচ্ছন্নে। তার বউ আছে। তবে অচল। হাতপুড়িয়ে তাকেই করতে হয় রান্না। জমির খাজনা বাকি পড়েছে সাতবছর। সুদটুদ দিয়ে হবে তিন কী চার টাকা। নিলামে উঠল বলে। খাজনা দিতে হবে চিঙ্ক দাপ্রিকে অবিলম্বে। জমির দাম হিসেবে সে চায় পাঁচ টাকা। তাড়া নেই, প্রতি মাসে বারটা করে  কড়ি দিয়ে পরিশোধ করলেই চলবে। মামা হিদ্র পুনের কাছ থেকে পাওয়া উপহার ৩৬টি কড়ির মধ্য থেকে ১২টি দিয়ে প্রথম কিস্তি পরিশোধ করে জমিটা কিনে নেয় চিঙ্ক দাপ্রি। পারের নৌকার মাঝি হাইলে জব্বার এই ক্রয়বিক্রয়ের সাক্ষী হয়। Continue reading

অন সিনেমা

ভাল/ খারাপ এবং সিনেমা এই দুইটার কনস্ট্রাকশন আপনার কাছে কেমন, তার ওপর নির্ভর করতেছে কোনটাকে আপনি ভাল বা খারাপ সিনেমা বলবেন। ন্যায় অন্যায়ের ব্যাপারে অনেক কনজার্ভেটিভ সেন্স মেনে নিলেও, ভাল বা খারাপের ক্ষেত্রে আমি পোস্ট মডার্নই। নয়তো নিজের ছেলে অপরাধী হলে বাপ/ মা ফাঁসি চাইতে পারে, ছেলের লাশ নাও দেখতে পারে। এই রকম বয়কটমূলক প্যাসিভ ভায়োলেন্স এবং ক্রুয়াল ইনহিউম্যান সোসাইটি আমি এক্সপেক্ট করি না।

ভাল সিনেমা কিন্তু আমার ভাল লাগে নাই-এই রকম একটা সিনেমার পোস্টমর্টেম করি। তাহলে বুঝতে সুবিধা হয়।

ডেমিয়েন শিজেলের অস্কার পাওয়া সিনেমা ‘হুইপল্যাশ’। সিনেমায় এন্ড্রু নামের একটা ছেলে ড্রামার হইতে চায়। তার নিজের আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। শিক্ষক মহাশয় তাকে জবরদস্তি ট্রেনিং-এর মাধ্যমে খুব ভাল ড্রামার বানায়া ফেলে।
তার লিমিটকে পুশ করে। ততক্ষণ ড্রাম বাজাইতে থাকে,যতক্ষণ না হাত কেটে রক্ত বের হয়।

এই সিনেমাটা হইতেছে আর্ট এবং মানুষ নিয়ে একটা সিনেমা।

এই সিনেমাটা ভাল কেন বলতেছি?

পরিচালক যা বলতে চাইছেন, তা শতভাগ পরিষ্কার। নিট এন্ড ক্লিন। কোন ভণিতা নাই। ক্যামেরা, অভিনয় এবং স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে তা ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। একটা থ্রিলার ভাইব আছে।

ফ্ল-লেস সিনেমা। এইটা অবশ্যই একটা ভাল সিনেমার বৈশিষ্ট্য। আপনার এক্সপ্রেশনটা অডিয়েন্স বুঝতে পারতেছে কিনা। কানেক্ট করতে পারতেছেন কিনা। নাজি পার্টির পক্ষেও যদি সিনেমা বানান, তাকে মিনিমাম সিনেমার স্ট্যান্ডার্ড দিতে হবে। অডিয়েন্স যেন দেখতে পারে। তার নিচের সিনেমাগুলা সিনেমাই না। এভেঞ্জার দেখাইতে হলে অন্তত ফাইটিং সিন এবং সিজিআই তো ভাল থাকতে হবে।

আমার কেন খারাপ লাগছে?

খারাপ লাগছে এই কারণে যে, এইখানে মানুষকে দেখা হইছে ইকোনমিক টুলসের সেন্সে। মানুষ হইতেছে রিসোর্স৷ সুতরাং রিসোর্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। দুই শতক জমিতে দুই মণ ধান আপনার উৎপাদন করতেই হবে। কিন্তু মানুষ তো জমি না। মানুষ কৃষক।

ক্যাপিটালিস্ট সাইকোলজির মেজর প্রবলেমটা হচ্ছে মানুষকে চেয়ার টেবিলের মত ইউটিলিটির মত দেখা। আপনাকে একটা অবজেক্টে রিডিউস করা হয়। হয় আপনার পটেনশিয়াল পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে, নয়তো আপনাকে মাল্টিপারপাস হইতে হবে। Continue reading

মিডিয়া-রিডিং: আ রিভিউ অফ এ প্রেস ব্রিফিং(যেই সকল কারণে ফারদিনের দোস্তদের ব্রিফিংটা ঠিকঠাক)

যেইভাবে এই ব্রিফিংটা হ্যান্ডেল করছে ফারদিনের দোস্তরা সেইটা… ঠিকঠাক।

কি কি কারণে?

১. উনারা রিয়েলি বলতে পারছেন কি কি জিনিস তাদেরকে দেখানো হইছে এবং কি কি আর্গুমেন্ট শো করা হইছে। যেইটা ডিবি বা রেবেরাও গতদিন বলছে। কিন্তু রিসিভিং এন্ডে যারা ছিল তাদের পার্সপেক্টিভটা পাওয়ায় একটা ফুল পিকচার পাওয়া গেছে। এইটা এখন প্রপারলি পাবলিক স্পেসে গেছে। পাবলিক স্পেকুলেশনের জন্য ওপেন হইছে। দ্যাটস এ গুড থিং। নতুন কোন দিশা, ইনসাইট এইসব স্পেকুলেশনের ভেতর থিকা বের হয়ে আসতে পারে(নয়েজও থাকবে প্রচুর, ওয়াকিবহাল মহলের কাম ওগুলি ফিল্টার করা)।

২. উনারা ডাউটের স্পেস রাখছেন, পয়েন্ট আউট করছেন উনাদের জানার পরিধির ভিতর থেকে যেইসব কোশ্চেন আসা সম্ভব কেবলমাত্র সেগুলির আন্সারই উনারা পাইছেন। এর বাইরে যে আরও আননোটিসড ইস্যু থাকতে পারে এই স্পেস উনারা রাখছেন।

৩. এই ইস্যুতে পরবর্তীতে পোগ্রাম দেয়ার ব্যাপারে ওপেন এন্ডেড থাকতে পারছেন। জানাইছেন ফেমিলির যে কোন স্টেপের ব্যাপারে তাদের সাপোর্ট জারি থাকবে।

৪. জার্নালিষ্টদের মৃদু হেকলিং সত্ত্বেও উনাদের মুখ দিয়া ‘সন্তুষ্ট’ ওয়ার্ডটা বের করা গেল না। এইটা ইম্পর্টেন্ট। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →