Main menu

রাষ্ট্রভাষা ও পূর্বপাকিস্তানের ভাষা-সমস্যা: কাজী মোতাহার হোসেন (১৯৪৭)

[কাজী মোতাহার হোসেনের এই লেখাটা ছাপা হইছিল “তমুদ্দন মজলিসের” “রাষ্ট্রভাষা কি বাংলা হইবে? – নাকি উর্দু” বুকলেটে, ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। পরে মাসিক সওগাত পত্রিকাতেও ছাপা হইছিল। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে – সেইটা নিয়া কথা-বার্তা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের আগেই হইতেছিল। এই লেখাটা অই তর্ক-বিতর্কের একটা অংশ।]

কোনো দেশের লোকে যে ভাষায় কথা বলে, সেইটিই সে দেশের স্বাভাবিক ভাষা। প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে আবার বাংলাদেশের ভাষা সম্বন্ধে সমস্যা ওঠে কি করে? সত্য সত্য এইটেই মজার কথা—যা স্বাভাবিক, তা অনেক সময় জটিল বুদ্ধি দিয়ে সহজে বোঝা যায় না। একটু পরিষ্কার করে বলবার চেষ্টা করছি।

ধরে নেওয়া যাক, কোনো দেশের শতকরা ৯৯ জন বাংলা ভাষায়, আর বাকি শতকরা ১ জন মাত্র ইংরেজী, উর্দু, হিন্দী প্রভৃতি ভাষায় কথা বলে। আরও মনে করা যাক, এই শেষোক্ত ব্যক্তিরা বাণিজ্যসূত্রে বা শাসক হিসাবে সে দেশে গিয়ে প্রতিষ্ঠাবান হয়েছে এবং অল্প শিক্ষিত বা অল্প বিত্তশালীদের উপর প্রভুত্ব চালাচ্ছে। তাই এরা সে দেশের লোকের প্রতি ও তার ভাষার প্রতি স্বভাবতই অশ্রদ্ধাবান। সে দেশের ভাষা শিক্ষা করে তাদের সঙ্গে কাই-কারবার করা এরা অনাবশ্যক শক্তিক্ষয় বলে মনে করে, আর তাতে এদের আত্মসম্মানেও আঘাত করে বৈকি! অবশ্য, বিজিত জাতি বা শোষিত অধমর্ণের আত্মসম্মান থাকে না, আর তা শোভাও পায় না। বিশেষত বিজেতা বা উত্তমর্ণের ভাষা শিক্ষা করে তাদের সঙ্গে দহরম মহরম রাখতে পারলে তাদের সন্তুষ্টি সাধন করা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে জীবিকা অর্জনের পথও প্রশস্ত হয়। আর একটা প্রধান কথা, এইভাবে দেশের আপামর সাধারণের সঙ্গে নিজেদের বিরাট পার্থক্য সংরক্ষণ ও স্মরণ করে যথেষ্ট মর্যাদা অনুভব করা যায়। বিজেতা উত্তমর্ণের অনুগৃহীত এই সৌভাগ্যবানেরাই দেশের নেতা এবং জনগণের নামে সমুদয় সুবিধা ভোগের অধিকারী। বর্তমানের সমাজ ব্যবস্থায় ইহা স্বাভাবিক, কারণ মূঢ়-মূকদের বঞ্চিত করায় ভয়ের কারণ নেই বরং না করা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় মাত্র।

এই হলো মোটামুটি বাংলাদেশের এবং বিশেষ করে বর্তমান পূর্ব-পাকিস্তানের ভাষাসমস্যার মানসিক পটভূমি।

পাঠান রাজত্বে রাজভাষা ছিল পোস্তু, আর মোগল আমলে ফার্সী। মোগল-পাঠানেরা বিদেশী হলেও এদেশকেই জন্মভূমি-রূপে গ্রহণ করেছিলেন এবং দেশের অবস্থা জানবার জন্য দেশীয় ভাষাকে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে পাঠানরাজদের পৃষ্ঠপোষকতায় রামায়ণ ও মহাভারত বাংলাভাষায় অনূদিত হয়, তা-ছাড়া ভাগবত এবং পুরাণাদিও রচিত হয়। এর আগে বাংলা ভাষা নিতান্ত অপুষ্ট ছিল, এবং ভাষা জনসাধারণের ভাষা বলে পণ্ডিতদের কাছে অশ্রদ্ধেয় ছিল। তখনকার পণ্ডিতেরা কৃত্রিম সংস্কৃত ভাষার আবরণে নিজেদের শুচিতা ও শ্রেষ্ঠতা রক্ষা করতেন। রাজসুলভ উদারতার সঙ্গে গৌড়ের পাঠান সুবাদারগণ পণ্ডিতদের বিরুদ্ধাচরণ অগ্রাহ্য করত সাধারণ লোকের সুবিধার জন্য (এবং হয়তো সঙ্গে সঙ্গে নিজেদেরও গল্প-পিপাসা নিবৃত্ত করবার জন্য) এই সকল পুরাণ ও রামায়ণ-মহাভারত রচনা করান। বলা বাহুল্য দেশীয় কালচারের ধারা রক্ষা করবার পক্ষে এবং দেশবাসীর নৈতিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য এই সব পুস্তকের তুলনা নাই। কতকটা এই কারণেই আজ ভারতবর্ষের সামান্যতম কৃষকরাও এক একজন দার্শনিক বলে পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের বিস্ময় উৎপাদন করেছে। বাস্তবিক দেশবাসীর ভাষা বৈদেশিক শাসকের উৎসাহ পেয়েছিল বলেই বাঙালীরা আত্মস্থ ছিল এবং ইসলামী সভ্যতার থেকে অনেক উৎকৃষ্ট বিষয় গ্রহণ করে নিজেদের জীবন ও সভ্যতাকে পুষ্টতর করতে পেরেছিল। অন্যদিকে, মুসলমান শাসকগণ এবং জনসাধারণও হিন্দু ঐতিহ্যের সংস্পর্শে এসে কাল অনুযায়ী ইসলামের নব নব বিকাশ সাধন করে কার্যক্ষেত্রে স্বাভাবিক ধর্ম ইসলামের উদারতা ও সর্বোপযোগিতাই প্রমাণিত করেছে। Continue reading

পাকিস্তান : রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য – ফররুখ আহমদ [সওগাত, সেপ্টেম্বর – অক্টোবর, ১৯৪৭ ]

[এইরকম কথা-বার্তা তো চালু আছে যে, ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চের পাবলিক মিটিংয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে উর্দু’র ঘোষণা দিলে* রাষ্ট্রভাষা নিয়া তর্ক-বির্তক শুরু হয়। কিন্তু এইটা পুরাপুরি সত্যি কথা না। ১৯৪৭ সালের জুন-জুলাই থিকা এই আলাপ শুরু হইছিল পত্র-পত্রিকায়। তো, অই সময়ের, শুরুর দিকের একটা লেখা হইতেছে ফররুখ আহমদের। ছাপা হইছিল কলকাতার মাসিক সওগাত পত্রিকার বাংলা ১৩৫৪ সনের আশ্বিন সংখ্যায়।

কাছাকাছি সময়েই ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (জুলাই ও নভেম্বর, ১৯৪৭) এবং তমদ্দুন মজলিসের “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা নাকি উর্দু?” বুকলেটে (১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭) কাজী মোতাহার হোসেন এবং আবুল মনসুর আহমদ এই নিয়া লেখেন। ড. মুহাম্মদ এনামুল হক এবং মাওলানা আকরাম খাঁ-ও লেখছেন ১৯৪৮ সালের মার্চের এই পাবলিক ঘোষণার আগে। এবং এরপরেও অনেক ঘটনা ঘটছে ১৯৫২ সালের আগ পর্যন্ত। সওগাত পত্রিকা ঢাকা থিকা ছাপানো শুরু হওয়ার পরে উনারে উর্দু-র পক্ষেও ওকালতি করেন, বাংলা’র পক্ষেও লেখা ছাপান।

মানে, হিস্ট্রি’টা একটা দিনের ঘটনা না। কিভাবে অই জায়গাটাতে গিয়া রিচ করছে – অই জায়গাগুলা আমাদের সামনে না-থাকার কারণে ২১ শে ফেব্রুয়ারি’রে খুবই ড্রামাটিক মনে হইতে থাকে। এবং হিস্ট্রিকাল লাইনটা মিসিং থাকে। তো, অই সময়ের কিছু লেখা আমরা বাছবিচারে আপলোড করবো ধীরে ধীরে। এইখানে ফররুখ আহমদের লেখাটা থাকলো। ]

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে এ নিয়ে যথেষ্ট বাদানুবাদ চলছে। আর সবচাইতে আশার কথা এই যে, আলোচনা হয়েছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, জনগণ ও ছাত্রসমাজ অকুণ্ঠভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং এটা দৃঢ়ভাবেই আশা করা যায় যে, পাকিস্তানের জনগণের বৃহৎ অংশের মতানুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নির্বাচিত হবে।

যদি তাই হয়, তাহলে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে বাংলা ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে। কেন হবে এ নিয়ে পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। কিন্তু একটা কারণে আমাকে বাধ্য হয়ে দুএকটি কথা প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে।

পাকিস্তানের, অন্তত পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা যে বাংলা হবে এ কথা সর্ববাদীসম্মত হলেও আমাদের এই পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকজন তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তি বাংলা ভাষার বিপক্ষে এমন অবাচীন মত প্রকাশ করেছেন যা নিতান্তই লজ্জাজনক। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় রূপায়িত করলে ইসলামী ঐতিহ্যের সর্বনাশ হবে এই তাঁদের অভিমত।

কী কুৎসিত পরাজয়ী মনোবৃত্তি এর পিছনে কাজ করছে এ কথা ভেবে আমি বিস্মিত হয়েছি। যে মনোবৃত্তির ফলে প্রায় দুশো বছর বাংলা ভাষায় ইসলামের প্রবেশ প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেই অন্ধ মনোবৃত্তি নিয়েই আবার আমরা ইসলামকে গলা টিপে মারার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছি। দুঃখের বিষয় সন্দেহ নাই। কিন্তু আরো দুঃখের কথা এই যে, পূর্ব পাকিস্তানে এমন মানুষ আছেন (সংখ্যায় যত অল্পই হোক না কেন) যাঁরা একমাত্র মানসিক দুর্বলতার জন্যই মাতৃভাষাকে মাতৃভাষার মাধ্যমে অস্বীকার করে ইসলামী ঐতিহ্যের মহান দায়িত্ব অপর একটি প্রাদেশিক ভাষার কিঞ্চিৎ-পরিপুষ্ট ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন। Continue reading

অসুখের দিন (কিস্তি ৬)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।। কিস্তি ৪ ।। কিস্তি ৫ ।।

পর্ব ১১: কান্না সামলে আম্মাকে বললাম, ভালো আছি

একদিন হোম অফিস শেষে বের হলাম। সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ইউনিভার্সিটির ছোট বিল্লাহর বাসায় গেলাম আমি আর মিশু। মূলত মিশুকেই দাওয়াত করছিল তারা। খাবার-দাবারের অনেক আয়োজন। আমি পোলাও-মাংস বাদ দিয়ে সামান্য মাছ দিয়ে সাদা ভাত খাইলাম। মাছের টেস্টটা একটু অন্যরকম। সম্ভবত বিশেষ কোনো মশলা ইউজ করছে, যা আমি আগে খাই নাই বা খেয়াল করি নাই। ওই বাসায় ঘণ্টা দেড়েকের মতো ছিলাম।

তখন সাতটা নাগাদ বাজে। গাড়িতে উঠার পর গল্প করতে করতে এগোচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, ব্যথাটা আস্তে আস্তে ফিরছে। সেদিন খুব কষ্ট পাইছিলাম। মিশু বকা দিচ্ছিলো ডাক্তার না দেখানোর জন্য। আমি অবশ্য এর আগে থেকে ট্রাই করছিলাম, সেদিন জানলাম আমার সার্জন আকবর আহমেদ এখনো ছুটিতে। রাতভর যন্ত্রণায় কাতরালাম। নিশো ভাইয়ের দেওয়া একটা ঔষুধ খাওয়ার পাশাপাশি পিঠে মালিশও করলাম। কী একটা অবস্থা!

ও আচ্ছা দারাশিকোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। একদিন মেসেজে জানালেন, পরদিন সন্ধ্যার দিকে ওনার গলব্লাডার সার্জারি। ল্যাপারস্কপি হবে। আসরের নামাজের পর হাজির হলাম মধ্যমমানের একটা হাসপাতালে। তবে উনার সার্জনের নিয়মিত চেম্বার পাশের গ্যালাক্সি স্পেশালাইজড হাসপাতালে।

দারাশিকো ভাইয়ের সার্জারি যথাসময়ে শুরু হলো। একটা বিষয়ে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম সেদিন। ছোট একটা ওয়েটিং রুম ছিল রোগী ভর্তি। বাচ্চা আছে, নারীরাও আছে। একটু পর হয়তো প্রশাবের রাস্তা থেকে পাথর ও টিউব খোলার জন্য তাদের কারো কারো ডাক পড়বে। যেমন; একজন জিজ্ঞাসা করছেন, টিউব খুলতে যন্ত্রণা হবে কিনা। দারাশিকো ভাইয়ের কাছ থেকে যা শুনছিলাম, সেখান থেকে আশ্বস্ত করলাম। যদিও অল্প সময়ের জন্য একটা তীক্ষ্ণ ব্যথার কথা বলছিলেন। তখন লোকটা হাসতে হাসতে বললেন, কম বা বেশি ব্যথা একটা আপনাকে পাইতেই হবে। এই হাসি একই সঙ্গে দুঃখ ও ঠাট্টার। কার সঙ্গে ঠাট্টা? সেখানে একজন এসে বললেন, দারাশিকোর সঙ্গে কে আছেন? বললাম, আমি। ওই লোক জানালেন, একটু পর অপারেশন হবে। সেখানে থাকা টিভিতে দেখাবে।

লোকজন এক আগে বলছিল, ওপরে থাকা ছোট টিভিতে অপারেশন দেখাবে। কিন্তু বিষয়টা আমার বিশ্বাস হয় নাই। অপারেশন ছোট বা বড় যাই হোক, প্রাইভেসি বলে একটা বিষয় আছে। এ ছাড়া অপারেশনের জন্য অপেক্ষারত বা ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে বসে আসে। অবশ্য কারো মাঝে অস্বস্তি দেখা গেল না। সবাই মনোযোগ দিয়ে পিত্তথলি কাটার দৃশ্যটা দেখছিল। আমার সহ্য হচ্ছিল না, উঠে গিয়ে দরোজার কাছে দাঁড়ালাম। চোখে পানি চলে আসলো। বেশিক্ষণ লাগলোও না।

একটু পর ডাক্তার এসে বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রোগীর সঙ্গে কে আছেন? মানে রোগী নামটাও দেখে নেয়ার টাইম নাই। তার হাতে একটা ছোট একটা বাটিতে পিত্তথলির পুরোটাই। হায়! আমারটা একদম গলে গেছিলো। ডাক্তার ছুরি দিয়ে কেটে ফেললেন। ভেতর থেকে ছোট একটা পাথর বের হলো। এর কিছুক্ষণ পর পিত্তথলিটা একটা বৈয়ামে করে একজন নিয়ে এলো। ভাবির বড় ভাই সেটা নিয়ে গেল অন্য এক হাসপাতালে, বায়োপসি করাতে। বয়োপসি বিষয়টার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। পরে, জেনেছিলাম সংক্রমণের ধরন বা অন্য কোনো ঝুঁকি আছে কিনা জানতে এ পরীক্ষা। এ পরীক্ষা না করায়নি বলে পরে এক চিকিৎসক আমাকে দুই কথা শুনিয়েছিলেন। Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) লাস্ট পার্ট

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

আগের পার্টগুলা:

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।। পার্ট ৩ ।। পার্ট ৪ ।। পার্ট ৫ ।।

১৯৭৩

৫০১.
গানের নাম: মন চায় তোর মনডারে গামছা দিয়া বান্ধি
সিঙ্গার: আবিদা সুলতানা, সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া
মিউজিক: ধীর আলী মনসুর
সিনেমার নাম: দস্যু রাণী
ডিরেক্টর: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া

৫০২.
গানের নাম: দুনিয়া দুইদিনেরই ভেবে কি আর হবে
সিঙ্গার: আঞ্জুমান আরা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া
মিউজিক: ধীর আলী মনসুর
সিনেমার নাম: দস্যু রাণী
ডিরেক্টর: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া

৫০৩.
গানের নাম: চেয়ো না অমন করে
সিঙ্গার: সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: মুস্তাফিজুর রহমান
মিউজিক: সুবল দাস
সিনেমার নাম: দুরন্ত দুর্বার
ডিরেক্টর: মহিউদ্দিন

৫০৪.
গানের নাম: তুমি আমার শিল্পী মনের স্বপ্ন দিয়ে সৃষ্টি
সিঙ্গার: মাহমুদুননবী ও সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রণব রায়
মিউজিক: আজাদ রহমান
সিনেমার নাম: প্রিয়তমা
ডিরেক্টর: অশোক ঘোষ

৫০৫.
গানের নাম: রাগে মুখ কালো কেন
সিঙ্গার: খন্দকার ফারুক আহমেদ
লিরিকস: সৈয়দ শামসুল হক
মিউজিক: ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান
সিনেমার নাম: পলাতক
ডিরেক্টর: রূপকার

৫০৬.
গানের নাম: পায়ে পায়ে নামে শান্ত গোধূলি
সিঙ্গার: সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: আলম খান
সিনেমার নাম: খেলাঘর
ডিরেক্টর: আবদুল জব্বার খাঁ

৫০৭.
গানের নাম: যায় যায় রাত একা একা বসে
সিঙ্গার: মাহমুদুন্নবী
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: আলম খান
সিনেমার নাম: খেলাঘর
ডিরেক্টর: আবদুল জব্বার খাঁ

৫০৮.
গানের নাম: তুমি চেয়েছিলে ওগো জানতে
সিঙ্গার: আবিদা সুলতানা
লিরিকস: খান আতাউর রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: আবার তোরা মানুষ হ
ডিরেক্টর: খান আতাউর রহমান

৫০৯.
গানের নাম: এক নদী রক্ত পেরিয়ে
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতুল্লা
লিরিকস: খান আতাউর রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: আবার তোরা মানুষ হ
ডিরেক্টর: খান আতাউর রহমান

৫১০.
গানের নাম: এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে
সিঙ্গার: নিলুফার ইয়াসমিন ও আব্দুল জব্বার
লিরিকস: কাজী আজিজ আহমেদ
মিউজিক: খন্দকার নূরুল আলম
সিনেমার নাম: জীবন তৃষ্ণা
ডিরেক্টর: এইচ. আকবর
Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৪)

এক ।। দুই ।। তিন ।।

….

প্রবাহ ৮: মাবিয়ার পত্র

মাবিয়া পীড়িত; এক্ষণে নিজবলে আর উঠিবার শক্তি নাই। এজিদের মুখ দেখিবেন না প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন। দামেস্করাজ্য যাঁহাদের পৈতৃক রাজ্য, তাঁহাদিগকে দিয়া যাইবেন, মনে মনে স্থির করিয়া হাসান-হোসেনকে আনিবার জন্য কাসেদ্ পাঠাইয়াছিলেন। তাঁহারা এ পর্যন্ত আসিতেছেন না, সেজন্য মহাব্যস্ত ও চিন্তিত। প্রধান উজির হামান্‌কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “হাসান-হোসেনের এত দিন না-আসিবার কারণ কী?”

হামান্ উত্তর করিলেন, “কাসেদ্ যদি নির্বিঘ্নে মদিনায় যাইয়া থাকে, তবে হাসান-হোসেনের না-আসিবার কারণ আমার বুদ্ধিতে আসিতেছে না। আপনার পীড়ার সংবাদ পাইয়া তাঁহারা যে নিশ্চিন্তভাবে রহিয়াছেন, ইহা কখনোই বিশ্বাস্য নহে। আমার নিশ্চয়ই বোধ হইতেছে, কাসেদের কোন অমঙ্গল ঘটিয়া থাকিবে।”

এজিদ্ সেই রাত্রি হইতে আর মাবিয়ার সম্মুখে যাইতেন না। গুপ্তভাবে অর্থাৎ মাবিয়ার দৃষ্টির অগোচরে কোন স্থানে প্রচ্ছন্ন থাকিয়া তাঁহার প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখিতেন। হামানের সঙ্গে যে কথা কহিতেছেন, তাহাও তিনি তাঁহার নির্দিষ্ট স্থানে থাকিয়া সমুদয় শুনিতেছেন। মাবিয়া ক্ষণকাল পরে আবার মৃদুস্বরে বলিতে লাগিলেন, “এ রাজ্যে মঙ্গলের আর সম্ভাবনা নাই। তাহা যাহাই হউক, আমার চিরবিশ্বাসী বহুদর্শী মোস্‌লেমকেই পুনরায় মদিনায় পাঠাও। আর হাসান-হোসেনের নিকট আমার পক্ষ হইতে একখানি প্রার্থনাপত্র লিখিয়া মোস্‌লেমের সঙ্গে দাও। তাহাতে লিখিয়া দিও যে, আমার বাঁচিবার আশা নাই। পাপময় জগৎ পরিত্যাগের পূর্বে আপনাদের উভয় ভ্রাতাকে একবার স্বচক্ষে দেখিতে ইচ্ছা করি। আরো একটি কথা আমি স্থির সঙ্কল্পে মনস্থ করিয়াছি-আপনাদের এই পৈতৃক দামেস্করাজ্য আপনাদিগকে প্রত্যর্পণ করিব, আমার আর রাখিবার সাধ্য নাই। হামান! মোস্‌লেমকে বিশেষ সাবধানে মদিনায় পাঠাইও। নানা প্রকারের সন্দেহ আমার মনে উপস্থিত ও উদয় হইয়াছে। (এজিদ্ এই মাত্র শুনিয়া হামানের অদৃশ্যে তথা হইতে অতি ত্রস্তে প্রস্থান করিলেন।) এত গোপনে মোস্‌লেমকে পাঠাইবে যে, তাহার সন্ধান আর একটি প্রাণীও না জানিতে পারে।” হামান বিদায় হইলেন এবং রাজাদেশ প্রতিপালন করিয়া তখনি মোস্‌লেমকে মদিনায় পাঠাইলেন।

ইমামভক্ত মোস্‌লেম ঊর্ধ্বশ্বাসে মদিনাভিমুখে চলিলেন। ক্রমে রাজধানী ছাড়িয়া তিনি একটি প্রশস্ত বালুকাময় প্রান্তরের মধ্য দিয়া যাইতেছেন। মোস্‌লেম দেখিলেন তাঁহার দণি পার্শ্বস্থ স্তূপাকারের আড়াল হইতে চারিজন অস্ত্রধারী পুরুষ বেগে আসিয়া তাঁহাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। ঐ আক্রমণকারীদিগের মুখ বস্ত্র দ্বারা এরূপে আবৃত যে, তাহাদের স্বরূপ, রূপ ও আকৃতি কিছুই দেখা যাইতেছে না।

মোস্‌লেম জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, “তোমরা কে? কেনই বা আমার গমনে বাধা দিতেছ?” Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →