অসুখের দিন (কিস্তি ৬)
[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]
কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।। কিস্তি ৪ ।। কিস্তি ৫ ।।
…
পর্ব ১১: কান্না সামলে আম্মাকে বললাম, ভালো আছি
একদিন হোম অফিস শেষে বের হলাম। সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ইউনিভার্সিটির ছোট বিল্লাহর বাসায় গেলাম আমি আর মিশু। মূলত মিশুকেই দাওয়াত করছিল তারা। খাবার-দাবারের অনেক আয়োজন। আমি পোলাও-মাংস বাদ দিয়ে সামান্য মাছ দিয়ে সাদা ভাত খাইলাম। মাছের টেস্টটা একটু অন্যরকম। সম্ভবত বিশেষ কোনো মশলা ইউজ করছে, যা আমি আগে খাই নাই বা খেয়াল করি নাই। ওই বাসায় ঘণ্টা দেড়েকের মতো ছিলাম।
তখন সাতটা নাগাদ বাজে। গাড়িতে উঠার পর গল্প করতে করতে এগোচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, ব্যথাটা আস্তে আস্তে ফিরছে। সেদিন খুব কষ্ট পাইছিলাম। মিশু বকা দিচ্ছিলো ডাক্তার না দেখানোর জন্য। আমি অবশ্য এর আগে থেকে ট্রাই করছিলাম, সেদিন জানলাম আমার সার্জন আকবর আহমেদ এখনো ছুটিতে। রাতভর যন্ত্রণায় কাতরালাম। নিশো ভাইয়ের দেওয়া একটা ঔষুধ খাওয়ার পাশাপাশি পিঠে মালিশও করলাম। কী একটা অবস্থা!
ও আচ্ছা দারাশিকোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। একদিন মেসেজে জানালেন, পরদিন সন্ধ্যার দিকে ওনার গলব্লাডার সার্জারি। ল্যাপারস্কপি হবে। আসরের নামাজের পর হাজির হলাম মধ্যমমানের একটা হাসপাতালে। তবে উনার সার্জনের নিয়মিত চেম্বার পাশের গ্যালাক্সি স্পেশালাইজড হাসপাতালে।
দারাশিকো ভাইয়ের সার্জারি যথাসময়ে শুরু হলো। একটা বিষয়ে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম সেদিন। ছোট একটা ওয়েটিং রুম ছিল রোগী ভর্তি। বাচ্চা আছে, নারীরাও আছে। একটু পর হয়তো প্রশাবের রাস্তা থেকে পাথর ও টিউব খোলার জন্য তাদের কারো কারো ডাক পড়বে। যেমন; একজন জিজ্ঞাসা করছেন, টিউব খুলতে যন্ত্রণা হবে কিনা। দারাশিকো ভাইয়ের কাছ থেকে যা শুনছিলাম, সেখান থেকে আশ্বস্ত করলাম। যদিও অল্প সময়ের জন্য একটা তীক্ষ্ণ ব্যথার কথা বলছিলেন। তখন লোকটা হাসতে হাসতে বললেন, কম বা বেশি ব্যথা একটা আপনাকে পাইতেই হবে। এই হাসি একই সঙ্গে দুঃখ ও ঠাট্টার। কার সঙ্গে ঠাট্টা? সেখানে একজন এসে বললেন, দারাশিকোর সঙ্গে কে আছেন? বললাম, আমি। ওই লোক জানালেন, একটু পর অপারেশন হবে। সেখানে থাকা টিভিতে দেখাবে।
লোকজন এক আগে বলছিল, ওপরে থাকা ছোট টিভিতে অপারেশন দেখাবে। কিন্তু বিষয়টা আমার বিশ্বাস হয় নাই। অপারেশন ছোট বা বড় যাই হোক, প্রাইভেসি বলে একটা বিষয় আছে। এ ছাড়া অপারেশনের জন্য অপেক্ষারত বা ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে বসে আসে। অবশ্য কারো মাঝে অস্বস্তি দেখা গেল না। সবাই মনোযোগ দিয়ে পিত্তথলি কাটার দৃশ্যটা দেখছিল। আমার সহ্য হচ্ছিল না, উঠে গিয়ে দরোজার কাছে দাঁড়ালাম। চোখে পানি চলে আসলো। বেশিক্ষণ লাগলোও না।
একটু পর ডাক্তার এসে বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রোগীর সঙ্গে কে আছেন? মানে রোগী নামটাও দেখে নেয়ার টাইম নাই। তার হাতে একটা ছোট একটা বাটিতে পিত্তথলির পুরোটাই। হায়! আমারটা একদম গলে গেছিলো। ডাক্তার ছুরি দিয়ে কেটে ফেললেন। ভেতর থেকে ছোট একটা পাথর বের হলো। এর কিছুক্ষণ পর পিত্তথলিটা একটা বৈয়ামে করে একজন নিয়ে এলো। ভাবির বড় ভাই সেটা নিয়ে গেল অন্য এক হাসপাতালে, বায়োপসি করাতে। বয়োপসি বিষয়টার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। পরে, জেনেছিলাম সংক্রমণের ধরন বা অন্য কোনো ঝুঁকি আছে কিনা জানতে এ পরীক্ষা। এ পরীক্ষা না করায়নি বলে পরে এক চিকিৎসক আমাকে দুই কথা শুনিয়েছিলেন। Continue reading