Main menu

অসুখের দিন (কিস্তি ৬)

This entry is part [part not set] of 8 in the series অসুখের দিন

[ব্যর্থ এক সার্জারি নিয়ে ভোগান্তির কাহিনি এটা। যার মূল পর্ব শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, এখনো চলমান। এখন একটা সিনেমাটিক ক্লাইমেক্সে দাঁড়ায়া আছে। তবে সেই গল্পে দুর্ধর্ষ কোনো অ্যাখ্যান নাই, বিরাট কোনো বাঁক-বদল নাই। অনেক বিরক্তিকর দীর্ঘশ্বাস আছে। কিন্তু এ গল্প আমার খুবই কাছের, আমার বর্তমান। আমার স্বজনদের জন্য পরীক্ষার, আমাকে ভালোবাসার। সেই গল্পটা আমার বন্ধুদের জানাতে চাই, অন্তত এক অধ্যায়ের সমাপ্তির আগে আগে। … অবশ্য পুরো গল্পটা এভাবে শেয়ার করা সম্ভব কিনা আমার জানা নাই। এখন পর্যন্ত সব হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নাম বদলে দেওয়া।]

কিস্তি ১ ।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।। কিস্তি ৪ ।। কিস্তি ৫ ।।

পর্ব ১১: কান্না সামলে আম্মাকে বললাম, ভালো আছি

একদিন হোম অফিস শেষে বের হলাম। সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ইউনিভার্সিটির ছোট বিল্লাহর বাসায় গেলাম আমি আর মিশু। মূলত মিশুকেই দাওয়াত করছিল তারা। খাবার-দাবারের অনেক আয়োজন। আমি পোলাও-মাংস বাদ দিয়ে সামান্য মাছ দিয়ে সাদা ভাত খাইলাম। মাছের টেস্টটা একটু অন্যরকম। সম্ভবত বিশেষ কোনো মশলা ইউজ করছে, যা আমি আগে খাই নাই বা খেয়াল করি নাই। ওই বাসায় ঘণ্টা দেড়েকের মতো ছিলাম।

তখন সাতটা নাগাদ বাজে। গাড়িতে উঠার পর গল্প করতে করতে এগোচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, ব্যথাটা আস্তে আস্তে ফিরছে। সেদিন খুব কষ্ট পাইছিলাম। মিশু বকা দিচ্ছিলো ডাক্তার না দেখানোর জন্য। আমি অবশ্য এর আগে থেকে ট্রাই করছিলাম, সেদিন জানলাম আমার সার্জন আকবর আহমেদ এখনো ছুটিতে। রাতভর যন্ত্রণায় কাতরালাম। নিশো ভাইয়ের দেওয়া একটা ঔষুধ খাওয়ার পাশাপাশি পিঠে মালিশও করলাম। কী একটা অবস্থা!

ও আচ্ছা দারাশিকোর কথা ভুলে গেলে চলবে না। একদিন মেসেজে জানালেন, পরদিন সন্ধ্যার দিকে ওনার গলব্লাডার সার্জারি। ল্যাপারস্কপি হবে। আসরের নামাজের পর হাজির হলাম মধ্যমমানের একটা হাসপাতালে। তবে উনার সার্জনের নিয়মিত চেম্বার পাশের গ্যালাক্সি স্পেশালাইজড হাসপাতালে।

দারাশিকো ভাইয়ের সার্জারি যথাসময়ে শুরু হলো। একটা বিষয়ে খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম সেদিন। ছোট একটা ওয়েটিং রুম ছিল রোগী ভর্তি। বাচ্চা আছে, নারীরাও আছে। একটু পর হয়তো প্রশাবের রাস্তা থেকে পাথর ও টিউব খোলার জন্য তাদের কারো কারো ডাক পড়বে। যেমন; একজন জিজ্ঞাসা করছেন, টিউব খুলতে যন্ত্রণা হবে কিনা। দারাশিকো ভাইয়ের কাছ থেকে যা শুনছিলাম, সেখান থেকে আশ্বস্ত করলাম। যদিও অল্প সময়ের জন্য একটা তীক্ষ্ণ ব্যথার কথা বলছিলেন। তখন লোকটা হাসতে হাসতে বললেন, কম বা বেশি ব্যথা একটা আপনাকে পাইতেই হবে। এই হাসি একই সঙ্গে দুঃখ ও ঠাট্টার। কার সঙ্গে ঠাট্টা? সেখানে একজন এসে বললেন, দারাশিকোর সঙ্গে কে আছেন? বললাম, আমি। ওই লোক জানালেন, একটু পর অপারেশন হবে। সেখানে থাকা টিভিতে দেখাবে।

লোকজন এক আগে বলছিল, ওপরে থাকা ছোট টিভিতে অপারেশন দেখাবে। কিন্তু বিষয়টা আমার বিশ্বাস হয় নাই। অপারেশন ছোট বা বড় যাই হোক, প্রাইভেসি বলে একটা বিষয় আছে। এ ছাড়া অপারেশনের জন্য অপেক্ষারত বা ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে বসে আসে। অবশ্য কারো মাঝে অস্বস্তি দেখা গেল না। সবাই মনোযোগ দিয়ে পিত্তথলি কাটার দৃশ্যটা দেখছিল। আমার সহ্য হচ্ছিল না, উঠে গিয়ে দরোজার কাছে দাঁড়ালাম। চোখে পানি চলে আসলো। বেশিক্ষণ লাগলোও না।

একটু পর ডাক্তার এসে বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রোগীর সঙ্গে কে আছেন? মানে রোগী নামটাও দেখে নেয়ার টাইম নাই। তার হাতে একটা ছোট একটা বাটিতে পিত্তথলির পুরোটাই। হায়! আমারটা একদম গলে গেছিলো। ডাক্তার ছুরি দিয়ে কেটে ফেললেন। ভেতর থেকে ছোট একটা পাথর বের হলো। এর কিছুক্ষণ পর পিত্তথলিটা একটা বৈয়ামে করে একজন নিয়ে এলো। ভাবির বড় ভাই সেটা নিয়ে গেল অন্য এক হাসপাতালে, বায়োপসি করাতে। বয়োপসি বিষয়টার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। পরে, জেনেছিলাম সংক্রমণের ধরন বা অন্য কোনো ঝুঁকি আছে কিনা জানতে এ পরীক্ষা। এ পরীক্ষা না করায়নি বলে পরে এক চিকিৎসক আমাকে দুই কথা শুনিয়েছিলেন। Continue reading

লিস্টিং: বাংলাদেশি সিনেমার গান (১৯৫৬ – ১৯৭৫) লাস্ট পার্ট

This entry is part [part not set] of 6 in the series বাংলাদেশি সিনেমার গান

আগের পার্টগুলা:

পার্ট ১ ।। পার্ট ২ ।। পার্ট ৩ ।। পার্ট ৪ ।। পার্ট ৫ ।।

১৯৭৩

৫০১.
গানের নাম: মন চায় তোর মনডারে গামছা দিয়া বান্ধি
সিঙ্গার: আবিদা সুলতানা, সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া
মিউজিক: ধীর আলী মনসুর
সিনেমার নাম: দস্যু রাণী
ডিরেক্টর: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া

৫০২.
গানের নাম: দুনিয়া দুইদিনেরই ভেবে কি আর হবে
সিঙ্গার: আঞ্জুমান আরা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া
মিউজিক: ধীর আলী মনসুর
সিনেমার নাম: দস্যু রাণী
ডিরেক্টর: সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়া

৫০৩.
গানের নাম: চেয়ো না অমন করে
সিঙ্গার: সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: মুস্তাফিজুর রহমান
মিউজিক: সুবল দাস
সিনেমার নাম: দুরন্ত দুর্বার
ডিরেক্টর: মহিউদ্দিন

৫০৪.
গানের নাম: তুমি আমার শিল্পী মনের স্বপ্ন দিয়ে সৃষ্টি
সিঙ্গার: মাহমুদুননবী ও সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রণব রায়
মিউজিক: আজাদ রহমান
সিনেমার নাম: প্রিয়তমা
ডিরেক্টর: অশোক ঘোষ

৫০৫.
গানের নাম: রাগে মুখ কালো কেন
সিঙ্গার: খন্দকার ফারুক আহমেদ
লিরিকস: সৈয়দ শামসুল হক
মিউজিক: ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান
সিনেমার নাম: পলাতক
ডিরেক্টর: রূপকার

৫০৬.
গানের নাম: পায়ে পায়ে নামে শান্ত গোধূলি
সিঙ্গার: সাবিনা ইয়াসমিন
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: আলম খান
সিনেমার নাম: খেলাঘর
ডিরেক্টর: আবদুল জব্বার খাঁ

৫০৭.
গানের নাম: যায় যায় রাত একা একা বসে
সিঙ্গার: মাহমুদুন্নবী
লিরিকস: গাজী মাজহারুল আনোয়ার
মিউজিক: আলম খান
সিনেমার নাম: খেলাঘর
ডিরেক্টর: আবদুল জব্বার খাঁ

৫০৮.
গানের নাম: তুমি চেয়েছিলে ওগো জানতে
সিঙ্গার: আবিদা সুলতানা
লিরিকস: খান আতাউর রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: আবার তোরা মানুষ হ
ডিরেক্টর: খান আতাউর রহমান

৫০৯.
গানের নাম: এক নদী রক্ত পেরিয়ে
সিঙ্গার: শাহনাজ রহমতুল্লা
লিরিকস: খান আতাউর রহমান
মিউজিক: খান আতাউর রহমান
সিনেমার নাম: আবার তোরা মানুষ হ
ডিরেক্টর: খান আতাউর রহমান

৫১০.
গানের নাম: এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে
সিঙ্গার: নিলুফার ইয়াসমিন ও আব্দুল জব্বার
লিরিকস: কাজী আজিজ আহমেদ
মিউজিক: খন্দকার নূরুল আলম
সিনেমার নাম: জীবন তৃষ্ণা
ডিরেক্টর: এইচ. আকবর
Continue reading

ফিকশন: বিষাদ সিন্ধু [শর্ট ভার্সন]- মীর মোশারফ হোসেন (পার্ট ৪)

এক ।। দুই ।। তিন ।।

….

প্রবাহ ৮: মাবিয়ার পত্র

মাবিয়া পীড়িত; এক্ষণে নিজবলে আর উঠিবার শক্তি নাই। এজিদের মুখ দেখিবেন না প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন। দামেস্করাজ্য যাঁহাদের পৈতৃক রাজ্য, তাঁহাদিগকে দিয়া যাইবেন, মনে মনে স্থির করিয়া হাসান-হোসেনকে আনিবার জন্য কাসেদ্ পাঠাইয়াছিলেন। তাঁহারা এ পর্যন্ত আসিতেছেন না, সেজন্য মহাব্যস্ত ও চিন্তিত। প্রধান উজির হামান্‌কে জিজ্ঞাসা করিলেন, “হাসান-হোসেনের এত দিন না-আসিবার কারণ কী?”

হামান্ উত্তর করিলেন, “কাসেদ্ যদি নির্বিঘ্নে মদিনায় যাইয়া থাকে, তবে হাসান-হোসেনের না-আসিবার কারণ আমার বুদ্ধিতে আসিতেছে না। আপনার পীড়ার সংবাদ পাইয়া তাঁহারা যে নিশ্চিন্তভাবে রহিয়াছেন, ইহা কখনোই বিশ্বাস্য নহে। আমার নিশ্চয়ই বোধ হইতেছে, কাসেদের কোন অমঙ্গল ঘটিয়া থাকিবে।”

এজিদ্ সেই রাত্রি হইতে আর মাবিয়ার সম্মুখে যাইতেন না। গুপ্তভাবে অর্থাৎ মাবিয়ার দৃষ্টির অগোচরে কোন স্থানে প্রচ্ছন্ন থাকিয়া তাঁহার প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখিতেন। হামানের সঙ্গে যে কথা কহিতেছেন, তাহাও তিনি তাঁহার নির্দিষ্ট স্থানে থাকিয়া সমুদয় শুনিতেছেন। মাবিয়া ক্ষণকাল পরে আবার মৃদুস্বরে বলিতে লাগিলেন, “এ রাজ্যে মঙ্গলের আর সম্ভাবনা নাই। তাহা যাহাই হউক, আমার চিরবিশ্বাসী বহুদর্শী মোস্‌লেমকেই পুনরায় মদিনায় পাঠাও। আর হাসান-হোসেনের নিকট আমার পক্ষ হইতে একখানি প্রার্থনাপত্র লিখিয়া মোস্‌লেমের সঙ্গে দাও। তাহাতে লিখিয়া দিও যে, আমার বাঁচিবার আশা নাই। পাপময় জগৎ পরিত্যাগের পূর্বে আপনাদের উভয় ভ্রাতাকে একবার স্বচক্ষে দেখিতে ইচ্ছা করি। আরো একটি কথা আমি স্থির সঙ্কল্পে মনস্থ করিয়াছি-আপনাদের এই পৈতৃক দামেস্করাজ্য আপনাদিগকে প্রত্যর্পণ করিব, আমার আর রাখিবার সাধ্য নাই। হামান! মোস্‌লেমকে বিশেষ সাবধানে মদিনায় পাঠাইও। নানা প্রকারের সন্দেহ আমার মনে উপস্থিত ও উদয় হইয়াছে। (এজিদ্ এই মাত্র শুনিয়া হামানের অদৃশ্যে তথা হইতে অতি ত্রস্তে প্রস্থান করিলেন।) এত গোপনে মোস্‌লেমকে পাঠাইবে যে, তাহার সন্ধান আর একটি প্রাণীও না জানিতে পারে।” হামান বিদায় হইলেন এবং রাজাদেশ প্রতিপালন করিয়া তখনি মোস্‌লেমকে মদিনায় পাঠাইলেন।

ইমামভক্ত মোস্‌লেম ঊর্ধ্বশ্বাসে মদিনাভিমুখে চলিলেন। ক্রমে রাজধানী ছাড়িয়া তিনি একটি প্রশস্ত বালুকাময় প্রান্তরের মধ্য দিয়া যাইতেছেন। মোস্‌লেম দেখিলেন তাঁহার দণি পার্শ্বস্থ স্তূপাকারের আড়াল হইতে চারিজন অস্ত্রধারী পুরুষ বেগে আসিয়া তাঁহাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। ঐ আক্রমণকারীদিগের মুখ বস্ত্র দ্বারা এরূপে আবৃত যে, তাহাদের স্বরূপ, রূপ ও আকৃতি কিছুই দেখা যাইতেছে না।

মোস্‌লেম জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, “তোমরা কে? কেনই বা আমার গমনে বাধা দিতেছ?” Continue reading

জাকির হোসেনের কবিতা

ছায়াহরিণ

আমি ভালোবাসি ছায়াহরিণ
কোথাও কি যাইতে পারে সে কল্পনার বাহিরে?
আমার আপোন বাস্তবতায়
বসন্তের পাতা দিবো তারে চিবাইতে
তোমার কানের দুলের মতো নড়ে যে পাতা,

সে কি পারবে?
যেমন পারবে না সে হারায়া ফেলতে আমারে
যদি না হই উদাস আমি!

নিজেরে হারাইতে দিবো আমি
তবু
দিবো না তোমারে অন্য কারো কল্পনায়
অন্যের সিংহ সময়ে।

আমার কল্পনার ছায়াহরিণ
তুমি থাকো
আমি একদিন ঘাস হবো।

 

পরাণের গহীন ভিতর

তোমারে ছাইড়া আসার পরে
কি যে আনন্দ লাগতেসিলো আমার!
মনে হইতেসিলো- একটা ফ্রিডমের বাচ্চা পয়দা করছি আমি,
তোমারে ভুইলা থাকলেই বাচ্চাটা বড় হইবো আমার!
কয়েকজোড়া কইতর কিনছি আমি
নিজেরে ট্রিট দেয়ার উসিলায়।

ইদানীং
তোমারে মনে পরে অনেক
তোমার কথা ভাবি আমি
যেভাবে মাটির নিচে পলাতক ব্যাং ভাবে বর্ষা
ধানকাটা খেতের কথা ভাবে চড়ুই!

কি আশ্চর্য!
তোমারে মন দিয়া যেদিন ভাবতে থাকি
ওইদিন একটা কইরা কইতর হারায়া যায় আমার,
আগে ক্যানো বল্লা না তুমি
ওই কইতরগুলাও তুমি আছিলা?

 

ঘুঙ্গুর

অনেকভাবেই হারায়া যাইতে পারো তুমি
সুন্দর হয়; যদি
ঘুঙ্গুর পরো পায়ে।
Continue reading

এস এম সুলতানের রেডিও ইন্টারভিউ: আমি আমার নিজের মাস্টারিকে কোনোদিন গ্রাহ্য করি না

[এস এম সুলতানের এই অডিও ইন্টারভিউটা কয়েকটা ফেসবুক পেইজে এভেইলেবল। অডিও থিকা ট্রান্সক্রিপ্ট করছেন হুসাইন হানিফ।]

আশরাফুল আলম: এস এম সুলতান দীর্ঘদিন ধরে চিত্রশিল্পের চর্চা করে আসছেন। তার সাথে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আপনার জন্ম কোথায়?

এস এম সুলতান: জন্ম নড়াইল, যশোর ডিস্ট্রিক্ট।

আলম: আপনার কি মনে পড়ে কত সালে আপনার জন্ম?

সুলতান: টুয়েন্টি ফোর।

আলম: আপনি ছোটবেলায় কেমন করে কীভাবে ছবি আঁকার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন?

সুলতান: এই চোখ দুটোই অপরাধী। সে সুন্দর জগতকে দেখতে চেয়েছিল চোখ ভরে।

আলম: কিন্তু সুন্দর জগতকে তো আমিও দেখি, আমি কিন্তু চিত্রশিল্পী না।

সুলতান: আপনার দেখার মূলে এবং দৃষ্টিতে আর চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিতে অনেক ব্যবধান আছে।

আলম: ছোটবেলায় সেই দৃষ্টিটা জন্মেছিল আপনার চোখে?

সুলতান: চিত্রশিল্পী হয়েই জন্ম নিয়েছিলাম।

আলম: আপনি কি তখন থেকেই ছবি আঁকতেন, ছোটবেলা থেকেই?

সুলতান: ইট ওয়াজ মাই হবি ফ্রম মাই চাইল্ডহুড।

আলম: আচ্ছা তখন আপনি কীভাবে ছবি আঁকতেন?

সুলতান: বিশেষ করে আমার দেশের গাছপালা, জীবজন্তু, মানুষের ছবি।

আলম: ছবি আঁকতে গেলে যে ড্রয়িংয়ের জ্ঞান কিংবা…

সুলতান: এইটা আমি বিশ্বাস করি না যে ওই সময়ের ব্যাপারগুলো গাইড করে, প্রত্যেক শিশুর মধ্যে এইটা বাই-বার্থ। এর কোনো টিচার হয় না। শিল্পীর কোনো টিচার হওয়া উচিত না।

আলম: ‍আচ্ছা, জন্মগতসূত্রে এটা আপনি পেয়েছেন।

সুলতান: আমি শুধু না, প্রত্যেকেই পেয়ে থাকে।

আলম: আপনি পরবর্তী পর্যায়ে আর কি কি ভাবে ছবি আঁকার চর্চা করেছিলেন? একাডেমিক শিক্ষাগত যে ব্যাপারটা সে সম্পর্কে…

সুলতান: সে সম্পর্কে পরবর্তীতে নলেজ হলো। আমি চান্স পেলাম। যে হয়তোবা বেটার এডুকেশন পাব জীবনে, গরীবের ছেলে। আর ইচ্ছা ছিল ওরকম। তো পেলাম, সেই সুযোগ পেলাম, ক্যালকাটা গভর্মেন্ট আর্ট কলেজে ভর্তি হবার। সেখান থেকে কিছুটা আমি শিখেছি যেটা খুব ফর্মালিটিজ, টু মাচ একুরেসি, পার্সপেক্টিভের নলেজ

আলম: এইসব ব্যাপার আপনি সেখানকার আর্ট কলেজ থেকে শেখেন। আপনি কত সালে পড়তেন সেখানে?

সুলতান: নাইনটিন ফোর্টি থ্রিতে।

আলম: ১৯৪৩ সালে পড়তেন। আপনি যখন একটা ছবি আঁকার জন্য কিংবা, মোটামুটিভাবে, আপনার সামগ্রিক ছবির কথাই বলছি আমি, যখন বিষয়বস্তু নির্বাচন করেন, এর পেছনে কোনো বিশেষ দৃষ্টিকোণ থাকে কিনা আপনার?

সুলতান: আমার মাস্টারি থাকে না। আমি আমার নিজের মাস্টারিকে কোনোদিন গ্রাহ্য করি না। সেটা থাকে, যদি আমার এমন কোনো ছবি আমার দেশের কাজে লাগে, কিংবা দেশভিত্তিক চিন্তাটা আমার মধ্যে… এইরূপ চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছি, জাস্ট আফটার লিবারেশন। আমার ঠিক, কোনো ছবির মাস্টারি এখন আর নেই। চেষ্টা করলেও হয়তোবা সেটা পারব না।

আলম: আপনি আপনার চিত্রে কী ধরণের জীবন এবং কোন দৃষ্টিকোণ থেকে সেই জীবনকে আপনি আপনার চিত্রশিল্পে বিধৃত করতে প্রয়াসী?

সুলতান: কোন দৃষ্টিকোণ থেকে? তাকে ডিমোরালাইজ দেখতে চাইনি, তাকে ডিজেনারেটেড দেখতে চাইনি, তাকে ব্যাংকরাপ্ট দেখতে চাইনি, তাকে অন্ধ হতে দেখতে চাইনি। তাকে দেখতে চেয়েছি বেটার হিউম্যান, বেটার হিউলিয়েশন, বেটার প্রসেডিওর, বেটার আন্ডারস্ট্যান্ডিং, বেটার হরাইজন। আমি সেইভাবে সেটাকে ভেবেছি। ওকে আমি গরীব ভাবিনি কোনোদিন। ওকে ভিক্ষাপাত্র হাতে কোনোদিন আমি দেখিনি। আর ও দুর্বলও নয়। সেইজন্য মাসলসগুলো মোটা করেছি। ওটা আমি চেয়েছি আমার মাতৃভূমিকে এরকম বলিষ্ঠ দেখতে। এবং এইটা তার আসল রূপ। যদি খেতে পায়, আর যদি খুব নিজের একটু সুস্থতা অনুভব করে, দেশের লোক বড় সাফার করছে, তাহলে ওরা এরকম মোটাতাজা হয়ে ওঠবে। Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →